Logo
শিরোনাম

১০ কোটি টাকা চেয়ে আদালতে সেই জজ মিয়া

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানো আসামি জজ মিয়া ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে এবার হাইকোর্টে রিট করেছেন। গত (১২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে তার আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এ বিষয়ে রিট করার অনুমতি নেন।

এর আগে ১১ আগস্ট জজ মিয়ার পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও আইনজীবী মোহাম্মদ কাউছার স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১১ জন বরাবরে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ দেন। আরো যাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন- ঢাকার জেলা প্রশাসক, মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ওসি, পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), তৎকালীন আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, তৎকালীন এএসপি আব্দুর রশিদ, তৎকালীন এএসপি মুনশি আতিকুর রহমান এবং তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন।

নোটিশে ওই ঘটনার জন্য জড়িত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। যাদের দায় পাওয়া যাবে তাদের কাছ থেকে ওই ক্ষতিপূরণ আদায় করে জজ মিয়াকে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি লুৎফুজ্জামান বাবরসহ জড়িত ব্যক্তিদের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আইনগত পদক্ষেপের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। নোটিশে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় হাইকোর্টের রিট করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। তবে নোটিশে কোনো সাড়া না পেয়ে এবার হাইকোর্টে রিট করছেন জজ মিয়া।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে দলের নেতাকর্মীসহ ২২ জন নিহত হন।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




আওয়ামী লীগ অবৈধ সরকার.....রিজভী

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী  বলেছেন, আওয়ামী লীগ অবৈধ সরকার বলেই টিকে থাকার জন্য বন্দুক ব্যবহার করে। বিএনপি মিছিল করলেই গুলি করা হয়। শেখ হাসিনা যা বলে তার উল্টো হয়। বিকেলে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনা এবং জ্বালানি তেলসহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি ও নিত্য প্রয়োজনী পন্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা  বলেন। 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আমন্ত্রন জানায় এবং তাদের মন্ত্রীরা বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হবে না বলে জানায় কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ঘটে। শেখ হাসিনা যা বলেন তার উল্টো হয়। তারা মানুষের কথা বলার অধিকার, মিছিল করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে । তারা গুলি চালাতে দিধাবোধ করে না। গত দেড়মাসে কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। 

প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের যে শাওনকে হত্যা করা হয়েছে তা ছবিতে দেখা গেছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তার চাইনিজ রাইফেলের গুলিতে মারা গেছে। কিন্ত পুলিশ ভিন্ন কথা বলছে বরং বিএনপির লোকজনের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশকে বলবো সরকারের লেজুর বৃত্তি করে কোন লাভ নেই। 

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার একটা আয়না ঘর আছে। সে আয়না ঘর সাজের জন্য নয়। সেখানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যতিন করা হয়। শেখ হাসিনার আয়না ঘর এখন আতঙ্কের নাম। 


আরও খবর



ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন

প্রকাশিত:সোমবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন--সিএএ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নরেন্দ্র মোদী সরকারের তৈরি এ আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলাগুলো করা হয়েছিল।

শুনানি হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত ও বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাটের এজলাসে। সুপ্রিম কোর্টের ১৫টি বেঞ্চে মোট ২২৮টি জনস্বার্থ মামলার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতির এজলাসেই হবে ২০৫টির শুনানি, যার মধ্যে ১৮৯টি মামলা সিএএর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করা হয়েছিল। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যদি ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতের নাগরিকত্ব চায়, তাহলে তাদের তা দেওয়া হবে। 


আরও খবর

জাতিসংঘে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

জাতিসংঘের ভূমিকায় হতাশ মালয়েশিয়া

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে.. প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত এবং সময়োপযোগী প্রচেষ্টা কোভিড-১৯ মহামারি থেকে বহু জীবন বাঁচিয়ে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে পারে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সফলভাবে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করেছে এবং অনেক জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনা করে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে, মহামারির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যাবে। তবে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত এবং সময়োপযোগী প্রচেষ্টা সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে পারে।

এই সম্মেলন সর্বশেষ গবেষণার তথ্য ও কৌশল শেয়ার করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করবে এবং ব্যথা, ব্যথার ওষুধ, মূল্যায়নের সরঞ্জাম এবং ব্যথা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য একটি ফোরাম গঠনে সহায়তা করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টস ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ানস-বিএসএ-সিসিপিপিকে অভিনন্দন জানান এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৫টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১১৬টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। গত এক দশকে সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বেসরকারি খাতে দেশে প্রচুর সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে ৩০টি বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




হিমালয় জয় বাংলার মেয়েদের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০22 | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

আজ তো বিশেষণ দেওয়ারই দিন। হিমালয়ঘেঁষা নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছে বাংলার মেয়েরা। স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নিয়েছেন সাবিনারা।

চোটে থাকা সত্ত্বেও শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচে স্বপ্নার ওপর ভরসা রেখেছিলেন বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে শুরুর একাদশে মাঠে নামিয়েছেন স্বপ্নাকে। তবে দুর্ভাগ্য স্বপ্নার। ইনজুরির কারণে ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যে দলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে উঠিয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে মাঠে নামান কোচ। তার এই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে মাত্র ৪ মিনিট সময় নেন শামসুন্নাহার।

শামসুন্নাহার-কৃষ্ণার দারুণ ফিনিশারে নেপালের জালে ৩ গোল দিয়ে ছিনিয়ে আনলেন শিরোপা। এই জয়টা তাদেরই প্রাপ্য। সাফের এই ঐতিহাসিক জয়কে কোনোভাবেই আর অবিশ্বাস্য বলা চলে না। নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে ১৫ হাজার দর্শককে স্তব্ধ করে, তাদের সাক্ষী রেখে শামসুন্নাহার-কৃষ্ণারা সেখানকার আকাশে-বাতাসে লিখে দিয়ে এলেন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নারী ফুটবল দল আমরাই।

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই আক্রমণে যায় বাংলার মেয়েরা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে মারিয়া মান্ডার জোরালো শট আটকে দেন নেপাল গোলরক্ষক। ফিরতি শটে সিরাত জাহান স্বপ্না চেষ্টা করলেও লক্ষ্যভেদ হয়নি।

ম্যাচের ১০ মিনিটে গর্জে ওঠা দশরথ স্টেডিয়ামে নীরবতা নামিয়ে আনেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। চোট পাওয়া স্বপ্নার জায়গায় মাঠে নেমে মনিকা চাকমার ক্রস থেকে ডান পায়ের দারুণ ভলিতে গোল করেন তিনি। এই টুর্নামেন্টের প্রথমবারের মতো গোল হজম করে স্বাগতিক নেপাল।

পিছিয়ে পড়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উইং ধরে বেশ ক’বার আক্রমণে উঠেছিল নেপাল। এদিন গোলরক্ষক রুপনা চাকমা ও ডিফেন্ডারদের কঠিন পরীক্ষাই নিয়েছেন নেপালি ফরওয়ার্ডরা। তবে বিপদ হতে দেননি তারা। ৩৫ মিনিটের মাথায় নেপালের আনিতা বাসনেতের দারুণ এক ফ্রিকিক দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে রুপনা ঠেকিয়ে দিলে কর্নার পায় নেপাল।

সেই কর্নার থেকে জটলার মধ্য দিয়ে লক্ষ্যভেদের চেষ্টা করেও ব্যর্থ নেপাল। গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন। ঝিমিয়ে পড়া দশরথ স্টেডিয়াম আবারও জেগে ওঠে তখন। তবে ৪২ মিনিটে কৃষ্ণা রানীর বাঁ-পায়ের দারুণ এক ফিনিশিংয়ে আবারও নীরবতা নেমে আসে গ্যালারিতে। নেপালি ডিফেন্ডারদের ভুলকে কাজে লাগিয়ে অধিনায়ক সাবিনার বল বাড়ান ডি-বক্সে। সেখান থেকে বাঁম পায়ের দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কৃষ্ণা। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ।

টানা আক্রমণের ফল নেপাল পেয়েছে ম্যাচের ৭০ মিনিটে। আনমার্কড অবস্থায় থাকা আনিতার জোরালো শটে প্রথম গোলের দেখা পায় নেপাল কিন্তু সেটা কেবল ব্যবধানই কমায়।

ঘুরে দাঁড়াতে প্রত্যয়ী নেপালের জালে তৃতীয় গোলটা দেন কৃষ্ণা। কাউন্টার অ্যাটাকে ম্যাচের ৭৭ মিনিটে মনিকার বাড়ানো থ্রু ঠাণ্ডা মাথার দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই কৃষ্ণা। ৩-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন সাবিনারা।



আরও খবর

বিশ্বকাপ নিশ্চিত নারী ক্রিকেট দলের

শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

মুকুট নিয়ে আজ ফিরছে বাঘিনীরা

বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২




ঢাকায় বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার : আগে ঢাকার মতো প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা পৃথিবীর কোথাও ছিল না। কিন্তু এরই মধ্যে সেই নিষ্কাশন ব্যবস্থা মরে গেছে। ভরাট করা হয়েছে জলাশয়, পুকুর ও খালবিল। ফলে রাজধানী শহরটি মারাত্মকভাবে বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় আছে।

এতে এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছেন দেড় কোটি মানুষ, যা দেশের জনসংখ্যার ৯ শতাংশ। প্লাবনভূমি ও নদী তীরে বসতি এবং অবকাঠামো বেড়ে যাওয়ায় এ ঝুঁকি আরো বাড়ছে। ফলে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বন্যার ভয়াবহতা সামনের দিনগুলোতে আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

 ( বাংলাদেশের নদী এলাকায় মানব উপস্থিতি ও বন্যার ঝুঁকির গতিবিধি ) বিভিন্ন সময়ের উপগ্রহের ছবির একটি মূল্যায়ন’ শিরোনামের গবেষণা করে জিওকার্টো ইন্টারন্যাশনাল। যা একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশ পেয়েছে। নিবন্ধটির গবেষকদের একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে আট কোটি ৭০ লাখ (প্রায় পৌনে ৯ কোটি) মানুষ সরাসরি বন্যাকবলিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এসব মানুষ বাস করছেন দেশের ছোট-বড় নদীগুলোর দুই কিলোমিটারের মধ্যে। এ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে মানুষের জন্য বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। যেমন, নদীর ১-২ কিলোমিটার তীরবর্তী বনাঞ্চল ৯১.৯৮ শতাংশ সংকুচিত হয়ে গেছে। তৃণভূমি ৬ শতাংশ ও অনুর্বর ভূমি কমেছে ২৭.৯২ শতাংশ। এ ছাড়াও প্লাবনভূমি আর নদী অববাহিকায় বসতি ও স্থাপনা নির্মাণ বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি।

এদিকে, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্থ অবজারভেটরির এক প্রতিবেদন বলছে, ১৯৮৮ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৫৭ লাখ। কিন্তু ২০২২ সালে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ২০ লাখে। জনসংখ্যার এই ব্যাপক বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি এখন ঢাকা। যে কারণে এখানকার বহু মানুষকে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাস করতে হচ্ছে।

ন্যাচার সাময়িকীর এক বিশ্লেষণ বলছে, ঢাকার চারপাশেই নদী। দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা, পশ্চিমে তুরাগ, উত্তরে টঙ্গীখাল ও পূর্বে বালু নদী। ২০০০ সাল থেকে বুড়িগঙ্গা ও বালু নদীর তীরে জনবসতি বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের বন্যায় ডুবে গিয়েছিল ঢাকা। এতে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। আর ১৯৯৮ সালের বন্যায় মারা যান ৯০০ জন। প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা রাতের ছবির পিক্সেলের আলো বিশ্লেষণ করে দেশের কোথায় কোথায় মানুষের বসতি গড়ে উঠেছে, সে সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। ছবিতে কোথাও কোথাও আলোর উজ্জ্বলতা বেড়েছে।

আলোর উজ্জ্বলতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গবেষক দলের নেতা ও অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের নগর কিংবা গ্রামীণ অঞ্চলে আলো থাকে। যেসব অঞ্চলে শিল্পকারখানা আছে, সেখানেও আলো থাকে। নাসার বিশেষায়িত একটি উপগ্রহ আছে, যেটা কেবল রাত্রিকালীন আলোর তথ্য চিত্রায়ন করে। অর্থাৎ কোথায় আলো কমেছে কিংবা কোথায় বেড়েছে, তা ধারণ করতে পারে এ উপগ্রহ। এ রকম উপগ্রহ দিয়ে ১৯৯২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরের ডেটা নিয়েছি আমরা। কিন্তু এ গবেষণায় ২০০০-২০১৮ সালের তথ্য ব্যবহার করেছি।

বন্যার ঝুঁকি কেন বেড়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়ে এই গবেষক আরো বলেন, প্লাবনভূমি কমে গেলে বন্যার পানি কোথায় যাবে? তখন তা মানুষের বসতবাড়ি থেকে শুরু করে অবকাঠামোগুলো ডুবিয়ে দেবে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গবেষণা অনুসারে ঢাকা সবচেয়ে বেশি বন্যার ঝুঁকিতে। কারণ রাজধানীর জনসংখ্যার বড় একটি অংশ নদীর পাশে বসবাস করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক, পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, আগে পানি যেখানে ওঠার কথা উঠত, এখনো যেখানে ওঠার কথা সেখানে ওঠে। কিন্তু পানি যেখানে ওঠার কথা, এখন সেখানে মানুষ থাকে। কাজেই মানুষ থাকে বলে তাদের ক্ষতি হচ্ছে। আগে ঢাকার শ্যামলী পর্যন্ত পানি আসত, কল্যাণপুরে পানি আসত। এখন মানুষ থাকতে চাইলে পানি আটকাতে হবে। আর পানিকে আটকানো হয়েছে। আর ভিতরে যাতে পানি থাকতে না পারে, সে জন্য পাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করতে চাইলে পানি সরিয়ে দিতে হবে। কাজেই পানিকে দোষ দিয়ে কিছু হবে না, পানির কাজ পানি করবেই।


আরও খবর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন বাজেট ঘোষণা

মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০22

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে

সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২