Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

২৪ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৪৯ কোটি ডলার

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

নভেম্বরের প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৪৯ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। দৈনিক এসেছে গড়ে ৬ কোটি ২২ লাখ মার্কিন ডলার করে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মাসের ২৪ দিনে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৩৪ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১০ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

অক্টোবর মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৯৭ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পরের মাস আগস্টে রেমিট্যান্স আসে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

 


আরও খবর

চড়া দাম অধিকাংশ পণ্যের

শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আড়াই বছর করে প্রধানমন্ত্রী’ শর্তে পাকিস্তানে গঠিত হতে পারে সরকার

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

পাকিস্তানে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয়। এদিন ২৬৬ আসনের মধ্যে ২৬৫ আসনে নির্বাচন করেন শত শত প্রার্থী। নির্বাচন শেষে দেখা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৯৬টি আসন পেয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৫টি আসন পেয়েছে নওয়াজ শরীফের পিএমএল-এন। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৫৪টি আসন পেয়েছে বিলাওয়াল ভু্ট্টোর পিপিপি।

তবে ইমরান খানের দল সর্বোচ্চ আসন পেলেও; তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা খুব একটা বেশি নেই। কারণ নওয়াজের পিএমএল-এন এবং বিলাওয়াল ভু্ট্টোর পিপিপি জোট সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই দুই দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তানকে বাঁচাতে দুই দলই সম্মত হয়েছে।

এরমধ্যে পাক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, পিপিপি এবং পিএমএল-এনের নেতারা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ক্ষমতা ভাগাভাগির কথা ভাবছেন। এর অংশ হিসেবে সংবিধান অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের জন্য তারা সরকার গঠন করবেন। এই পাঁচ বছরের মধ্যে আড়াই বছর করে পিএমএল-এন এবং পিপিপির প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

এবারের নির্বাচনের আগে ধারণা করা হয়েছিল, নওয়াজ শরীফের দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেই চিন্তা থেকে চার বছর পর তাকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনে সেনাবাহিনী। কিন্তু সেটি আর হয়নি।

এরপর যখন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়া শুরু করে তখন নওয়াজ শরীফ জানান তারা জোট গঠন করে সরকার গঠন করবেন। এরই অংশ হিসেবে পিপিপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তারা। তবে পিপিপির কাছ থেকে শর্ত দেওয়া হয়; জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসতে চাইলে বিলাওয়াল ভুট্টোকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। কিন্তু নওয়াজের দল এই শর্ত মেনে নেয়নি। পিপিপিকেও যখন বশে আনা যাচ্ছে না; তখন ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে দুই দল।

সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, ২০১৩ সালে বেলুচিস্তানে প্রাদেশিক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল পার্টির (এনপি) সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেছিলেন নওয়াজ শরীফ। সেবার এমনই আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী পদটি ভাগ করে নিয়েছিল দুই দল।

প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়াও পিপিপি এবং পিএমএল-এন অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিষদ আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

 


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪




বাংলাদেশে আরো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বিগ্ন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মিয়ানমারে আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। এতে শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি ভোর থেকে আরাকান প্রদেশের বুচিডংয়ে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মিয়ানমারের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটছে। দেশটির সেনাবাহিনীর হামলার মুখে অসহায় এসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশেও প্রবেশের চেষ্টা করছে।

খবরে আরও জানা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আরাকান আর্মির সদস্যরা ফুমালি গ্রামে আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে সেনাবাহিনীর ঘাঁটি থেকে আর্টিলারি গানসহ ভারী অস্ত্রের গোলা বর্ষণ করে। এতে শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া হামলার পর থেকে সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে রাখাইন রাজ্যের রামব্রী টাউনশিপে চলমান সংঘর্ষে মিয়ানমার বিমান বাহিনীর বোমারু বিমান বার বার শহরে উড়ছে। বিভিন্ন অবস্থানে গোলাবর্ষণ করছে।

সংবাদমাধ্যম ইরাবতী বলছে, গত বুধবার রাখাইনের একটি শহর নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় আরাকান আর্মি। এরপর আশপাশের গ্রামে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।

ইরাবতী আরও বলছে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত ৪১ জন রোহিঙ্গাকে মংডু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসা করার মতো অর্থও তাদের কাছে নেই। এরই মধ্যে হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় (আরআরআরসি) সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরুর পর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে প্রত্যাবাসনে ৮ লাখ ৮২ হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা দিয়েছিল। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে মাত্র ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা চূড়ান্ত করে তা বাংলাদেশের কাছে ফেরত পাঠিয়েছিল মিয়ানমার।

তবে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প ও ভাসানচর মিলিয়ে দেশে বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

 

 

 


আরও খবর



নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মোঃ সিনান তালুকদার নোবিপ্রবি প্রতিনিধি :

গত ২২ফেব্রুয়ারি হয়ে গেলো নোবিপ্রবির সিএসটিই বিভাগের এলামনাই এসোসিয়েশন এর নতুন কমিটি গঠনের কাজ।

এতে সভাপতি হয়েছেন আদনান আহমেদ হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আব্দুল আহাদ। সাধারণ সম্পাদক জানান,

"আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সকলের মতামত এবং পরামর্শের মাধ্যমে এসোসিয়েশনটি পরিচালন, এবং একটি স্মার্ট এসোসিয়েশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

এছাড়াও তিনি জানান, ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকবৃন্দ, পূর্ব এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা, বর্তমান শিক্ষার্থীদের দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে এন্ট্রি পয়েন্টে সহযোগিতা করা, এলুমনাইদের পরিচিতি বাড়ানো, এসোসিয়েশনটির ব্রান্ডিং করা, ডিজিটালাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (ওয়েবসাইট, ইমেইল, ইত্যাদি) বাস্তবায়ন করা, এলুমনাই সদস্য বাড়ানো, বার্ষিক মিটআপ এবং নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি করা ইত্যাদিতে  কাজ করে যাবে এই এলামনাই এসোসিয়েশন।

উল্লেখ্য,সিএসটিই হলো  প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগ এবং বর্তমানে এর ১৮তম ব্যাচ চলছে।


আরও খবর



অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

অবৈধ মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা, তারা দেশের শত্রু বলে উল্লেখ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রাধানগরে শীবনদীর উপরে ১৯২ মিটার দীর্ঘ নবনির্মিত সেতুর চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অবৈধ মজুতকারীরা বিএনপির দোসর উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চায়-বেকায়দায় ফেলতে চায়।আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে।আপনারা যে ভোট দিয়েছেন তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনের দুই দিন আগে হটাৎ করে অসৎ ব্যবসায়ীরা চালের দাম ৮/১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। তারা মনে করেছিলো অন্য কেউ খাদ্যমন্ত্রী হলে বুঝতে বুঝতে একমাস পার হয়ে যাবে। যখন তারা দেখেছে মন্ত্রী সাধন মজুমদার হয়েছে তখন তারা বেকায়দায় পড়েছে আমাদেরও বেকায়দায় ফেলেছে।চালের বাজার ঠিক রাখতে জেলায় জেলায় বৈঠক করতে হয়েছে। মজুত বিরোধী অভিযানও চালাতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন খাদ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সে চেতনার পক্ষে রায় দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। নিজেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার লোক দাবী করে তিনি বলেন,আমি যেখানে মন্দির করেছি তার পাশে মসজিদও তৈরি করেছি।আমি মানবের সেবা করি-মানব ধর্ম করি।


আরও খবর



তাবলীগের দুই গ্রুপকে নিয়ে অস্বস্তিতে প্রশাসন

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

 নানা মহলের জোর প্রচেষ্টার পরও আজো ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি দ্বীন প্রচারে ঐতিহ্যবাহী অরাজনৈতিক সংগঠন তাবলিগ জামাত। ফলে চতুর্থবারের মতো এবারো দুই গ্রুপ আলাদা ইজতেমার আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগামী শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাদ ফজর থেকে শুরু হচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশের তাবলিগ মুরব্বি মাওলানা জোবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা। আগামী রোববার আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে তাদের ইজতেমা সমাপ্ত হবে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ভারতের মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপ্রৌত্র মাওলানা সাদ কান্ধলভী অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা। তবে সাদ অনুসারীরা এবারের বিশ্ব ইজতেমাকে তাদের ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমা এবং হেফাজতে ইসলামের এটি চতুর্থ বিশ্ব ইজতেমা বলে দাবি করছেন।

এ দিকে দ্বীন (ধর্ম) প্রচারের বৃহত্তর এ সংগঠনের চলমান বিরোধ নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে দেশের প্রশাসন। ইতঃপূর্বে বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় একটি মসজিদের ভেতর সাদপন্থী একটি জামাতের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা। মাওলানা সাদপন্থীরা নিজেদের তাবলিগের মূল ধারার অনুসারী এবং মাওলানা জোবায়েরপন্থীদের বাংলাদেশের ইসলামিক রাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম নিয়ন্ত্রিত বলে দাবি করে থাকেন। অপর দিকে মাওলানা জোবায়ের পন্থীরা মাওলানা সাদ কান্ধলভীর কিছু বিতর্কিত বক্তব্য এবং তাবলিগে তার একক নেতৃত্ব বা আমিরত্বকে অস্বীকার করে তাকে (সাদ) তাবলিগের উসুল বা মূল ধারা থেকে খারিজ বলে দাবি করে থাকেন।

জোবায়েরপন্থীরা শূরায়ে নেজামের (মাসোয়ারা বোর্ড) ভিত্তিতে তাবলিগ জামাতের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিশ্বাসী। ফলে তারা আলমে শূরা (বিশ্ব পরামর্শসভা) দ্বারা পরিচালিত বলে দাবি করেন। জোবায়েরপন্থীদের এমন দাবিকে স্ববিরোধী উল্লেখ করে সাদ অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে যুক্ত হাজী মনির বলেন, তারাও (জোবায়েরপন্থীরা) যখন তাবলিগের কাজে জামাত নিয়ে বের হন, তখনো তো একজনকে আমির নিযুক্ত করেন। অথচ তারা আমির মানেন না এমন কথা বলা ভণ্ডামি ও ইসলামবিরোধী। কারণ পবিত্র কুরআনেই আমিরের প্রতি আনুগত্যের কথা বলা আছে। নবী রাসূল ও খোলাফায়ে রাশিদীনের আমলেও আমির ছিলেন এবং সবাই আমিরের আনুগত্য করতেন।

এ দিকে তাবলিগ জামাতের এই দ্বিধাবিভক্তির কারণে সাধারণ অনুসারীরাও কারা হকপন্থী তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন। তবে সাধারণ অনুসারীদের প্রত্যাশা, দুই গ্রুপ আবারো এক হয়ে আগের মতো একসাথে ইজতেমার আয়োজন করে তাবলিগের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। সাধারণ অনুসারীরা দ্বিধাবিভক্তিতে বিশ্বাস না করায় তারা উভয় গ্রুপের ইজতেমায় শরিক হয়ে থাকেন। অপর দিকে সরকারসহ সব মহলই তাবলিগ জামাতকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চায়।

তাবলিগের ঐক্য অক্ষুণ্য থাক এটাই আমরা চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গত ২২ জানুয়ারি টঙ্গীতে ইজতেমার প্রস্তুতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত ফলো-আপ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেন,
বিশ্ব ইজতেমা আমাদের কাছে একটা গর্বের বিষয় ছিল। সারা পৃথিবীতেই আমাদের এই ইজতেমাটা সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল, সারা বিশ্ব থেকে লোক আসত। এই ইজতেমা বাংলাদেশের একটা ঐতিহ্য। বাংলাদেশে একটা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এই ইজতেমার মাধ্যমে। এই জিনিসটা অক্ষুণ্য থাক এটাই আমরা চাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের বিরোধ মিটানোর জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। অনেক পানি গড়িয়েছে। আমরা বহু জায়গায় আপনাদের (তাবলিগ মুরব্বিদেরকে) পাঠিয়েছি। কিন্তু আপনাদের মনোভাবটা পরিবর্তন হয় নাই। সেজন্য আমরা কষ্ট পেয়েছি।

উত্তরায় মসজিদের ভেতর অপ্রীতিকর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, মসজিদে আল্লাহর ঘরে গিয়েও আপনারা দখল বেদখল করেন, আমাদের লজ্জায় মাথা হেড হয়ে যায়। আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট থাকবে আপনারা এই কর্মটা থেকে বিরত থাকবেন। সবাই মিলেমিশে থাকবেন। আমাদের সেই শিক্ষাটাই দিবেন, আল্লাহর দাওয়াতের কথাটা আমাদের যেভাবে শিক্ষাটা দিচ্ছেন। আমাদের মিলেমিশে থাকার শিক্ষাটাও আপনারা দিবেন। তিনি বলেন, উত্তরায় যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে এবং বিভিন্ন জায়গাও এই ঘটনাগুলো ঘটে। আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করব আপনারা এই ঘটনাগুলো ঘটাবেন না। মিলেমিশ চলতে পারার জন্যই আপনাদের আবার রিকোয়েস্ট করব।

 

তিনি বলেন, আমরা মনে করি আপনারা যদি আবার এক প্লেটে একসাথে ওয়াসিফ-জুবায়ের সাব খেতে পারতেন। আমরা যদি এটি দেখে যেতে পারতাম তাহলে আমরা খুব খুশি হতাম। সভায় এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মপ্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করে বলেন, আপনি নেতৃত্ব দেন এই দুই গ্রুপ জুবায়ের সাব ও ওয়াসিফ সাবকে মিলিয়ে দিতে পারেন কিনা। এক টেবিলে এক প্লেটে খাওয়ায়ে দিতে পারেন কিনা। তাহলে আমরা আপনাদের অনেক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানাব।

মন্ত্রী এ সময় বলেন, আমি জুবায়ের গ্রুপকে একটু পরিষ্কার করে বলতে চাই, আপনারা কিন্তু প্রথম আসছেন। প্রতিবারই আপনাদের দাবি অনুযায়ী প্রথমবার মাঠটা আপনাদের দেয়া হয়। সেই দাবি রক্ষা করে আপনাদের যেভাবে সম্মান দেয়া হয়েছে ঠিক সেই সম্মানের সাথে তাদের (সাদপন্থীকে) মাঠটা বুঝিয়ে দিবেন। যাতে কোনো রকম ভাঙচুর না হয়, তারা যেন কোনো ক্লেইম না করেন। এটা আপনাদের কাছে আমার রিকোয়েস্ট থাকবে। তিনি বলেন, আমরা গতবারও শুনেছি কিছু ভাঙচুরও হয়েছে, কিছু জিনিস খোয়া গিয়েছে। আরো নানান ধরনের কথাবার্তা শুনছি। আমরা চাই আপনারা সুন্দরভাবে তাদের মাঠটা বুঝিয়ে দিবেন।

তাবলিগের দুই গ্রুপের কর্মকাণ্ডে আমি লজ্জিত , মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী :
একই সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন,
আপনাদের কর্মকাণ্ডে আমি নিজেই খুব লজ্জা পাচ্ছি। আমরা মানুষকে বুঝাই, শিখাই যাতে এরকম না হয়। আমাদের যদি আরেকজন ভুল ধরেন এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব লজ্জিত। আমি তাবলিগের সাথে সম্পৃক্ত হিসেবে প্রত্যাশা করি, আমাদের আচার-আচরণে এরকম ভুল আর হবে না। তিনি বলেন, দশটা মতভেদ হতেই পারে, দশজন উগ্র হতে পারে তাতে অসুবিধা কী? আমাদেরও তো হয়। তাই বলে একজন যাওয়ার সময় একটা কিছু ভেঙে যাবে বা এমন কিছু আচরণ করে যাবে যা আরেকজনের কাছে কষ্টদায়ক হয়।

 

আমরা চাই না তাবলিগের এই বিভেদটা আগামী দিনের জন্য থাকুক , ধর্মপ্রতিমন্ত্রী :
একই সভায় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক বলেন,
তাবলিগ জামাতকে সারা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, সহযোগিতা করে। আজকে দুটি গ্রুপ হওয়ার কারণে অনেক অসঙ্গতিপূর্ণ কাজকর্ম হচ্ছে, যা সত্যিকারে আমাদের খুব কষ্ট লাগে, বিবেকে বাধা দেয়। আমরা আল্লাহকে রাজিখুশি করার জন্য দ্বীনের কাজ করি। অথচ সেখানে আমাদের মধ্যে বিভেদ অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, আমরা চাই না এই বিভেদটা আগামী দিনের জন্য থাকুক। আপনাদের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা চাই আপনাদের ঐকমত্য পোষণকল্পে আগামীতে এই বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামীতে কোথাও কোনো রকম ত্রুটিবিচ্যুতি এক তিল পরিমাণও যাতে পরিলক্ষিত না হয় উভয় পক্ষের কাছে বিনয়ের সাথে অনুরোধ থাকবে।

আপনাদের নিয়ে আমরা অস্বস্তিতে থাকি , পুলিশ প্রধান : একই সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন তাবলিগ জামাতকে উদ্দেশ করে বলেন, একটা সময় ছিল আপনারা বলতেন আপনাদের সাহায্যের দরকার নাই। আপনারাই সব ব্যবস্থা করতেন। আমরা তখন খুব স্বস্তিতে থাকতাম এবং তবলিগ জামাতকে সাহায্য করা আমরা একটা ইবাদত মনে করেছি। এখন যে অবস্থা হয়েছে তাতে আপনাদের নিয়ে আমরা অস্বস্তিতে থাকি। আপনারা দুইজন একসাথে বসেন না এমন একটা অবস্থা হয়েছে। তিনি বলেন, এই জিনিসগুলো যাতে আর না হয়, আমরা একটা চমৎকার পরিবেশ দেখতে চাই। যৌথভাবে আপনারা আবারো তবলিগ জামাতের আয়োজন করবেন। একটি সুন্দর পরিবেশ হবে এমন আগামীর আশায় রইলাম।

আইজিপি আরো বলেন, ইতঃপূর্বে যে সব সিদ্ধান্ত হয়েছে তা পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ রেখে সবাই বাস্তবায়ন করব। গতবারও শুনেছি এক পক্ষ যখন আরেক পক্ষকে মাঠ বুঝিয়ে দেয় তখন ভেঙে দেয়। আমরা আদব-লেহাজ-তমিজ আপনাদের কাছ থেকে শিখব। তাবলিগে যারা আছেন আপনাদের কাছ থেকে আমরা শিখেছি। এখন আপনাদের মাঝে এসব কী হচ্ছে? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিখবে? এটা আপনাদের কাছে একটা নিবেদন থাকবে। আমরা আপনাদের কাছ থেকে যে জিসিনগুলো শিখি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের শিশুদের আমরা তা শিখাই। এখন আমরা কী শিখব আপনারা আজ আমাদেরকে বলে যাবেন।


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪