Logo
শিরোনাম

২৯ নভেম্বর নারায়ণনারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী গণহত্যা দিবস

প্রকাশিত:Monday ২৮ November ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ


আজ ২৯ নভেম্বর বক্তাবলী গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীতে নিরস্ত্র ১৩৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। একই সঙ্গে গানপাউডার ছিটিয়ে পুড়িয়ে দেয় ২২টি গ্রাম। বক্তাবলী পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। স্বজন হারানোর ব্যথা ও কষ্ট নিয়েও শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতি বছরই পালিত হয় এই দিবসটি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জ বাসীর দাবি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি সহ গণ কবরগুলোকে বদ্ধভূমি হিসেবে চিহ্নিত করে তা রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি উদ্যোগ নেয়া হোক। সরকারি সূযোগ সুবিধার আওতায় নেয়া হউক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে । 

বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল বক্তাবলী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জায়গাটি নিরাপদ হিসেবে বেছে নেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা। এখানে ঘাঁটি বানিয়ে চলে প্রশিক্ষণের কাজ। এখান থেকেই বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় অভিযান। গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। রাজাকাররা এ খবর পৌঁছে দেয় হানাদার বাহিনীর কাছে। ১৯৭১ সালের এই দিন ভোরে হানাদার বাহিনী ঘিরে ফেলে বক্তাবলী। মুক্তিযোদ্ধারাও গড়ে তোলেন প্রতিরোধ। চার ঘণ্টা চলে সম্মুখযুদ্ধ। একপর্যায়ে হানাদার বাহিনী বক্তাবলী পরগনার ২২টি গ্রামের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। নদীর পারে সারী বেঁধে বেঁধে দাড় করিয়ে ব্রাস ফায়ারসহ বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

দিনটি স্মরণ করে আজও আঁতকে ওঠে প্রতক্ষদর্শী পরিবার গুলো। তাদের আক্ষেপ যুদ্ধ পরবর্তি বঙ্গবন্ধু মুজিব সরকারের সময় তারা আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছেন। এর পর আর কোন সরকারই তাদের খবর রাখেননি। 

গণহত্যার শিকার শহীদদের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি ১৩৯ জনকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নিয়ে দুঃস্থদের আর্থিক সহযোগীতা দেয়া হউক। তাদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তিযোদ্ধা কোঠার সুযোগ সুবিধা দেয়া হউক। 

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসে ২৯ নভেম্বর দিনটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বেদনাবিধুর । স্বাধীনতাযুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একসঙ্গে এত মানুষ হত্যার ঘটনা দ্বিতীয়টি আর নেই। পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র ১৭ দিন আগে ঘটে বক্তাবলীর হৃদয় বিদারক এ হত্যাযজ্ঞ। নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি শহীদদের পরিবার গুলোকে যথাযোগ্য মর্যাদাসহ সরকারি যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা তা থেকে বঞ্চিত বক্তাবলী বাসী। 

সংসদ সদস্য একেএম শামীম বলেছেন, পাক হানাদার বাহিনীর হাতে ১৩৯ জন গণহত্যার শিকার হয়েছে।  শহীদ মুক্তিযুদ্ধা স্বীকৃতি ও তাদের পরিবারদের যথাযথ মর্যাদা দেয়ার জন্য জাতীয় সংসদ, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে। 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা এখানকার গণকবর গুলোকে বদ্ধ ভূমী স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করবে। যাতে ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে নবম প্রজন্ম। 

এদিকে দিনটি স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে আজ। সকালে বক্তাবলী কানাই নগর বিদ্যালয় সংলগ্ন শহীদদের স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, স্মরণ সভা ও  দোয়ামাহফিলের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হবে। 


আরও খবর



পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে---প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:Sunday ২৯ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

বাংলাদেশ পুলিশকে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার আগে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন জনগণের ভূমিকা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮ তম বিসিএস''পুলিশ''ক্যাডার শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলে বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ২০৪১ইং সালের বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। গড়ে তোলা হবে, স্মার্ট সেবা, স্মার্ট শহর, স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশ কেও স্মার্ট পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে।


সাইবার ক্রাইম রোধে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। মানুষ ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে। তবে এর ভালো দিক যেমন আছে, তেমনি অনেক খারাপ দিকও রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী সাইবার ক্রাইম সহ জালিয়াতি, জঙ্গিবাদ বাড়ছে। এসব প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ বাহিনীর জাতীয় জরুরি সেবা (৯৯৯) দেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মানুষ এ নম্বরে কল করে দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। বিপদে তারা পুলিশের তাৎক্ষণিক সেবা পাচ্ছেন। ফলে তাদের পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে। নারী নির্যাতন রোধ ও সন্ত্রাস দমনেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে এ সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার টানা ৩ মেয়াদে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে সরকার। বিশ্বে বাংলাদেশ এর ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। তবে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে একটি গোষ্ঠী উঠে পড়ে লেগে আছে। তারা হত্যা, লুটপাট, অগ্নি-সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। তবে পুলিশ বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে অগ্নি-সন্ত্রাস, বোমাবাজ, জঙ্গিবাদে জড়িতদের প্রতিহতে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের সময়ও পুলিশ বাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে থেকে সেবা করেছে বা দিয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিকে যখন তার পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনরাও দাফন করছিলো না, তখনও পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গিয়েছিলো। 


আরও খবর



প্লাস্টিকের প্লেট-চামচ নিষিদ্ধ করল ইংল্যান্ড

প্রকাশিত:Tuesday ১০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

যুক্তরাজ্যে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে এবার ইংল্যান্ডে একবার ব্যবহারযোগ্য খাবারের প্লেট-চামচ-কাঁটাচামচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী থেরেসে কফি।

মন্ত্রীর এ ঘোষণার মাধ্যমে প্রায় পুরো যুক্তরাজ্যেই প্লাস্টিকের প্লেট-চামচ নিষিদ্ধ হলো। কারণ স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে আগেই এসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখন কেবল বাকি আছে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড।

এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন বাড়তে থাকা প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির পরিবেশকর্মীরাও এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে প্রতি বছর গড়ে ১১০ কোটি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের প্লেট এবং ৪০০ কোটি চামচ-কাঁটাচামচ ব্যবহৃত হয়; এবং মাথাপিছু হিসেবে এক একজন ইংল্যান্ডবাসী প্রতি বছর ব্যবহার করেন অন্তত ১৮টি প্লেট এবং ৩৭টি চামচ-কাঁটা চামচ।


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার লক্ষ্যে চারঘাটে যুবলীগের প্রস্ততি সভা

প্রকাশিত:Sunday ১৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি: আগামী ২৯ জানুয়ারী  রাজশাহী ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার জনসভা সফল করার লক্ষ্যে চারঘাট আওয়ামী যুবলীগ শাখার আয়োজনে প্রস্ততি সভা ও প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকেলে চারঘাট ফরহাত আলাউদ্দিন মডেল স্কুল প্রাঙ্গনে উপজেলা যুবলীগ শাখার সাধারন সম্পাদক নাজমুল আলম এর সঞ্চালনায় চারঘাট যুবলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে এই প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ। এসময় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা যুবলীগের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারন সম্পাদক আলী আজম সেন্টু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফকরুল ইসলাম, সহসভাপতি জেলা যুবলীগ হাসান মাহাম্মদ ফয়সাল, মোজাহিদ হোসেন মানিক, জেলা যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক হোসেন মিলন, জেলা যুবলীগ সদস্য মোক্তার হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বিল্পবসহ স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।     

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার লক্ষ্যে অত্র বিদ্যালয় থেকে একটি প্রচার মিছিল চারঘাট বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন এবং যোগদান ও জনসভা সফল করার জন্য সকলকে আহবান জানান।



আরও খবর



ধামরাইয়ে বাসের ধাক্কায় চিতাবাঘ নিহত

প্রকাশিত:Monday ১৬ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

মাহবুবুল আলম রিপন, স্টাফ রিপোর্টার :


ঢাকার ধামরাইয়ে বাথুলী বাস স্ট্যান্ডে দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছে এক চিতাবাঘ। রোববার ১৫ (জানুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের  ধামরাইয়ের বাথুলী বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী। মানুষের ধারণা সুন্দরবন থেকে ঢাকার ধামরাইয়ে আমতা ইউনিয়নের  বাউখন্ড এলাকায় জিন্দাপী কালু-গাজীর দরাগাহে দরশন দিতে  এ বাঘটি এসেছে অথবা পাচারকালে বণ্যপ্রাণী পাচারকারি চক্রের হেফাজত থেকে চিতাবাঘটি পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিবছরই ঢাকার ধামরাইয়ে ২-৪টি বাঘ আটক কিংবা মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। জনশ্রুতি রয়েছে উপজেলার আমতা  ইউনিয়নের বাউখন্ড এলাকায় ইতিহাসখ্যাত জিন্দাপীর কালু-গাজীর দরগাহে তাদের ভক্ত সুন্দর বনের বাঘ জিয়ারত করতে আসে। আর ফিরে যাওয়ার পথে হয় তাদের মৃত্যু ঘটে না হয় জনতার হাতে আটক হয়।

এলাকাবাসী জানান,রোববার দিনগত রাত অনুমান সাড়ে ৮টার দিকে বাঘটি বাথুলী বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে ঢাকা-আরি মহাসড়কের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্তে পার হচ্ছিল। ঠিক এসময় দ্রুতগতিসম্পন্ন ঢাকা-গামী একটি ঘাতক বাসের ধাক্কায় ওই চিতা বাঘটি মহাসড়কের ওপর পড়ে যায় এবং গুরুতর আহত হয়। মহাসড়কের দু’পাশ থেকেই থেমে যায় সবধরণের যান ও পরিবহণ। মানুষজন দ্রুত ওই বাঘটি রাস্তার পাশে নিয়ে সেবাযত্ন  করেন বাঁচানোর জন্য। কিন্ত শেষ পর্যন্ত ওই বাঘটিকে বাঁচানো গেলনা। বাঘটি এক দীর্ঘ্য নিস্বাস ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। বাঘ হিংস্র  প্রাণী হলেও তার প্রতি মানুষের মমত্ববোধের একটুও  কমতি ছিলনা। আর এসময় বাঘটিও মানুষের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে দু’চোখের পানি ফেলছিল। আর এদৃশ্য অবলোকন করে মানুষের দু’চোখেও নেমে এসেছিল ছলছল পানি।

মোঃ আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন,বাঘটির মারা যাওয়ার করুণ দৃশ্য আমি আামর নিজ চোখে দেখেছি এবং তাকে বাঁচানোর জন্য সবধরণের চেষ্টাও করেছি। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম বাঘ। আমার বুকের ধন নয়নের মণি আমার ছেলেও কিছুদিন আগে এ মহাসড়কের শ্রীরামপুর এলাকায় দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মারা যায়। আজও আমি সে দৃশ্য ভুলতে পারিনি। তাই আমি এলাকার মানুষের সহায়তায় ওই বাঘটি বাঁচানোর চেষ্টা করি। আমার ছেলে আমাকে যেন দূর  থেকে বলছিল বাবা তুমি ওই বাঘটিকে বাঁচাও তাহলে আমার আত্মাও শান্তি পাবে।

ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ ফজলুর রহমান সবুজ বলেন,আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে শুনে আসছি প্রতিবছরই নাকি জিন্দাপীর কালু-গাজীর দরগাহে বাঘভক্তরা দরশন দিতে আসে। আর প্রতিবছরই জনতার হাতে ধরা পড়ে অথবা মৃত্যবরণ করে এবাঘ। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাঘটি আলাউদ্দিনের সহায়তায় আমরা এলাকাবাসী বাঁচানোর সবধরণের চেষ্টা করেও সফল হইনি। শেষ পর্যন্ত বাঘটি মারা যায়। এলাকাবাসী বাঘটি মাটিচাপা দিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


আরও খবর



নওগাঁয় বোরো ধান চাষের শুরুতেই বিদ্যুতের লোড শেডিং, দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা

প্রকাশিত:Thursday ০২ February 2০২3 | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

নওগাঁয় চলতি ইরি বোরো ধান চাষের ভরা মৌসুমের শুরুতেই বিদ্যুতের ঘনঘন লোড শেডিংএ দেখা দিয়েছে। ফলে ইরি বোরো ধান চাষের জমিতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মাঝে। সার-তেলের সংকট না থাকলেও ধানের চারা এক চতুর্থাংশ নষ্ট এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করায় ধান উৎপাদনে বাড়তি খরচ হচ্ছে বলেও দাবি ধান চাষি কৃষকদের। চৈত্র মাসে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় বর্তমান সময়ের দেড়গুণ। সে সময় চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না হওয়ায় অধিকাংশ জমিতে পানি সেচ এর অভাবে ধান চাষের জমি শুকে ফেটে যায়। ইতি মধ্যেই ধানের জন্য দেশের মধ্যে বিক্ষাত এজেলায় কৃষি পরামর্শের পাশাপাশি ধান উৎপাদন সঠিক রাখতে নওগাঁয় বিদ্যুতের বিশেষ বরাদ্দের বাদি জানানো হয়েছে। 

নওগাঁ গ্রিড (বিদ্যুৎ) বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি বোরো মৌসুমের শুরুতে জেলায় ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার পরিবর্তে ৮০ মেগাওয়াটের নিচে সরবরাহ থাকছে। যার ফলে আগের চেয়ে বর্তমানে লোডশেডিং এর পরিমাণ বেড়ে গেছে।

চৈত্র মাসে নওগাঁ জেলায় প্রায় দেড়শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হয়। 

নওগাঁর বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধান উৎপাদনে দেশের অন্যতম জেলা নওগাঁয় পুরোদমে শুরু হয়েছে ইরি বোরো চাষ। সার-তেলের সংকট না থাকলেও ইরি বোরো চাষের শুরুতেই দেখা দিয়েছে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং। 

এই লোডশেডিং এর মাত্রা বেড়ে যায় প্রতি বছরের চৈত্র মাসে। সে সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় বর্তমান সময়ের দেড়গুণ। চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না হওয়ায় চৈত্র মাসে সেচ দেওয়া সম্ভব হয় না অনেক বোরো ধান চাষের জমিতে। সে সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় ঘনঘন লোডশেডিংএ সেচের অভাবে ধানের জমি ফেটে যায়। এতে তূলনা মূলক ফেটে যাওয়া জমিতে ফলন কম হয়। 

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া ও খোর্দ্দনারায়নপুর গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন মন্ডল, শাহ আলম, নজরুল ইসলাম বাবু সহ জেলা সদর উপজেলার শৈলগাছী বাজার এলাকায় কথা হয় কৃষক আমজাদ হোসেন, করিম হোসেন, আবুল কালাম সহ আরো কযেক জন কৃষকের সাথে। কৃষকরা জানান, গত কয়েক দিনের ঠান্ডায় এক চতুর্থাংশ ইরি বোরো ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ধানের চারা বাজার থেকে কিনে প্রতি বিঘায় প্রায় ২ হাজার টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। এসময় কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ করেন কয়েক জন কৃষক।

নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের মাঠে কৃষক মেহেদী হাসান জানান, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম সরকারি ভাবে বৃদ্ধি করায় গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় এ বছর সেচের দাম ৫শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা বেড়ে দিয়েছে নলকূপের মালিকরা। এ ছাড়াও কিটনাশকের দাম বৃদ্ধি, জমি চাষ,  লাগানো, নিরানী সহ শ্রমিকের মূল্যও বেড়েছে। একারনে গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রতি বিঘায় ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা ধান উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। প্রতি মণ বোরো ধান ১৫শ’ টাকা থেকে ১৬শ’ টাকায় বিক্রি না হলে লোকসান গুণতে হবে বলেও মনে করছেন কৃষকরা।  

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন জানান, নওগাঁ জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইত্যে মধ্যেই প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ (রোপন) সম্পন্ন করেছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কৃষি পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আবু হোসেন আরো জানান, প্রয়োজন মত লোকবল না থাকায় কোথাও অসুবিধা হতে পারে। তবে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারিদের সেল ফোন ও তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্যে বলা হয়েছে কৃষকদের। 

বাংলাদেশ কৃষক সমিতি নওগাঁ জেলা শাখার সহ-সভাপতি মহসিন রেজা জানান, একে তো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করায় বোরো ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। আবার সেচ নির্ভর বোরো ধান বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো বেশি হলে সেক্ষেত্রে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেল দিয়ে ইরি বোরো চাষের জমিতে পানি সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এতে আরো বেড়ে যাবে কৃষকদের উৎপাদন খরচ।

ইরি বোরো উৎপাদন মৌসুমে নওগাঁয় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার দাবি জানান এই কৃষক নেতা।  

নওগাঁ গ্রিড (বিদ্যুৎ ) বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী সুলতান বায়জিত জানান, বর্তমানে নওগাঁয় ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সেখানে ৭৫ মেগাওয়াট থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, এজন্য মাঝে মাঝে লোডশেডিং চলছে জানিয়ে অতিদ্রুত চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পেলে এসমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাব্যাক্ত করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, চৈত্র মাসে প্রায় দেড়শ’ ১শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হয়। ইত্যে মধ্যেই সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

 


আরও খবর