Logo
শিরোনাম

আব্দুল আলীমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বাংলা লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আব্দুল আলীমের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। লোকসংগীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন আব্দুল আলীম।

পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, দেহতত্ত্ব, মুর্শিদি ও ইসলামী গানের শিল্পী হিসেবে আজও তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার গাওয়া জনিপ্রয় গানের মধ্যে রয়েছে-এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া, সর্বনাশা পদ্মা নদী, হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, পরের জায়গা পরের জমি, সব সখিরে পার করিতে নেব আনা আনা। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’ থেকে শুরু তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।


আরও খবর

মঞ্চ মাতালেন নোরা ফাতেহি

শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২




দলিল লেখক সমিতির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিস এর দলিল লেখক সমিতির বিরুদ্ধে প্রতিদিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। সমিতির নামে সিন্ডিকেট তৈরি করে জমির ক্রেতা বিক্রেতাদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। তাদের এ অনৈতিক কাজ বছরের পর বছর চলে আসলেও এর কোন সুরাহার উদ্যোগ নেয়নি কেউ।

অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি লাইসেন্সধারি দলিল লেখকরা দলিলের প্রতি পৃষ্ঠা লেখার জন্য নির্ধারিত হারে ফি পাবেন। কিন্তু যে কোন লেখকই দলিল লেখুক না কেন প্রতিটি দলিলের জন্য সমিতির নামে "অতিরিক্ত" ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা না দিলে সে দলিল রেজিষ্ট্রি হয়না। এজন্য প্রতিটি দলিলের শেষ পাতায় সমিতির চাঁদা পরিশোধের একটি "সাংকেতিক চিহ্ন ও ব্যবহার করা হয়। এভাবেই সমিতির নামে আদায় করা কোটি টাকা সমিতির সদস্যদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হয়। অনেক দলিল লেখক কোন দলিল না লিখেও প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা ঘরে বসেই পেয়ে যান। এছাড়াও বছর শেষে সমিতির সদস্যদের নিয়ে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে কক্সবাজার ভ্রমণে দু' সপ্তাহের ট্যুর দেয়া হয়।

মহাদেবপুর উপজেলা সদরের মৃত তাহের আলী মন্ডলের ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজাদ রহমান অভিযোগ করেন যে, তারা মোট ২৯ জন গত ১৮ অক্টোবর মহাদেবপুর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে মোট ৭টি দলিলে ৩ একর ২৭ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করেন। জমির মালিকের কাছ থেকে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় সে জমি কিনেন। কিন্তু মহাদেবপুর মৌজার জমির সরকারি দাম বেশি নির্ধারণ করা থাকায় দলিল করতে হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার। ঐ টাকার উপর সরকারি ট্যাক্স, ভ্যাট দিয়েছেন ১৯ লাখ ৩ হাজার ৬০ টাকা। দলিল লেখা প্রভৃতির খরচ দিয়েছেন ৪৫ হাজার টাকা। এরপরও সমিতির নামে চাঁদা দিতে হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সমিতির চাঁদা পরিশোধ না করা পর্যন্ত দলিল রেজিষ্ট্রি হবেনা বলে জানালে তারা সে টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। পরে জানতে পারেন, চাঁদা নেয়া সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনী এর পরই আজাদ রহমান এব্যাপারে বৃহস্পতিবার ২৭ অক্টোবর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। 

বিষয়টি জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাদেবপুর দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে ঐ ৭টি দলিলের লেখক নুরুল ইসলাম সমিতির নামে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের কথা শিকার করে জানান, সমিতির নিয়মানুযায়ী তিনি টাকা গ্রহণ করে সমিতিতে জমা দিয়েছেন। এত বেশি টাকা চাঁদা নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি দলিলের জন্য চাঁদার নির্ধারিত রেট রয়েছে। তবে উপজেলার ১০ ইউপি চেয়ারম্যান, বড় কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাংবাদিকদের জন্য কিছুটা ছাড় দেয়া হয়।

তবে সরকারি দলের প্রথম সারির একজন নেতা জানান, তিনি সহ দু'জন নেতা ঐ ৭টি দলিলের জন্য দাবি করা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদার পরিমাণ কিছু কমানোর অনুরোধ জানালেও সমিতির নেতারা তা মানেন নি।

জানতে চাইলে মহাদেবপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কাওসার আলী ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন এবিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়া হয়েছে কিনা তা অফিসে গিয়ে কাগজপত্র দেখার পর বলতে পারবেন বলে জানান।

উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার আব্দুর রশিদ মন্ডল জানান, তিনি মূলত আত্রাই উপজেলার দায়িত্বে রয়েছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রতি সপ্তাহে দু' দিন মঙ্গলবার ও বুধবার মহাদেবপুরে অফিস করেন। সমিতির নামে চাঁদা নেয়া হয় কিনা তা তিনি জানেন না বলে জানান।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসান লিখিত অভিযোগ পাবার কথা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি দু:খজনক। এরকম চাঁদাবাজি হয়ে থাকলে অবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।


আরও খবর



বাড়তি চালের দাম

প্রকাশিত:রবিবার ২০ নভেম্বর ২০22 | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার : পাইকারি ও খুচরা বাজারসহ কোথাও চালের ঘাটতি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক আছে, দুর্ভিক্ষ হওয়ারও কোনো আশঙ্কা নেই এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে বাড়ছে চালের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকটের খবরে হঠাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল ক্রয়, করপোরেট কোম্পানিগুলোর বাজার থেকে চাল ক্রয় এবং উৎপাদন খরচ বেশি এই তিন অজুহাতে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।

এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৬৫ থেকে ৭২ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকা, মাঝারি মানের বিআর আটাশ চাল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা, মোটা চাল স্বর্ণা ৪৬ টাকা এবং হাইব্রিড ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। পাইকারি বাজারে চিকন চাল প্রতি কেজি মিনিকেট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। ৫০ কেজির বস্তা ৩৪০০ থেকে ৩৫৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে মানভেদে বিক্রি হয়েছিল ৬২ থেকে ৬৯ টাকা আর বস্তা ৩০০০ থেকে ৩৪০০ টাকা। নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৩ থেকে ৭৫ টাকা আর ৫০ কেজির বস্তা ৩২৫০ থেকে ৩৭৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৬০ থেকে ৭২ টাকা, বস্তা ৩০০০ থেকে ৩১০০ টাকা। মাঝারি মানের প্রতি কেজি বিআর ২৮ নম্বর প্রতি কেজি চাল ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা আর বস্তা ২৭৫০ থেকে ২৮৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫৫ থেকে ৫৫ টাকা, বস্তা ২৭০০ থেকে ২৭৫০ টাকা। মোটা চাল প্রতি কেজি স্বর্ণা মানভেদে ৫০ থেকে ৫২ টাকা আর বস্তা ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, বস্তা ২৩৫০ থেকে ২৪০০ টাকা। হাইব্রিড ধানের চাল বা সবচেয়ে মোটা চালের দাম কেজিতে ৪৬ টাকা আর বস্তা ২৩০০ টাকা, যা আগে ছিল ৪১ টাকা কেজি, বস্তা ২০৫০ টাকায় বিক্রি হতো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বাজারে বর্তমানে যেসব চাল সরবরাহ রয়েছে, তা বোরো মৌসুমের। বোরোর শেষ পর্যায় ও আমনও উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বাজারে নতুন চাল আসছে। তারপরও দাম বাড়ছে হুজুগে। আগামী বছর সংকট হতে পারে সেই খবরে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল কিনছে। আমনে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে ধানের দাম বেশি। এছাড়া করপোরেট কোম্পানিগুলো বাজার থেকে চাল কিনে নিচ্ছে এবং সরকারও এ বছর ধান ও চালের দাম বেশি নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা মানা হচ্ছে না কোথাও। কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে মজুদ করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা পরে বেশি দামে মিলমালিকদের কাছে বিক্রি করছেন। এজন্য মৌসুমি ব্যবসায়ী কমানো, করপোরেট কোম্পানিগুলোর সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা, সংকটের খবর নিয়ে সবাইকে আরো সচেতন করতে প্রচার বাড়ানো এবং সরকারের মনিটরিং বাড়ানোর পরামর্শ ব্যবসায়ীদের।

সরকার এ বছর ধানের দাম বাড়িয়েছে ফলে সাধারণ কৃষক তো বেশি দামে ধান বিক্রি করছে। যদিও তাদেরও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এছাড়া বড় বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো বেশি চাল কিনে নিচ্ছে। তারপর তারা আরো বেশি দামে প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছর সংকট হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে মানুষ হুজুগে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। এজন্য করপোরেট কোম্পানিগুলোকে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান নিতে হবে, সরকারের মনিটরিং বাড়াতে হবে।

 দেশের কিছু জেলায় আগাম জাতীয় আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আমন ধানের দাম বেশি ফলে চালেরও দাম বেশি। আগামী বছর বিশ্বে এবং দেশে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা থেকে অনেকেই বেশি পরিমাণে চাল কিনে রাখছেন বলে জানা গেছে। মানুষের মধ্যে যে ভয় কাজ করছে, সেটা দূর করতে প্রচার বাড়াতে হবে, নতুন ধান যখন ওঠে তখন কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী বা অসাধু ব্যবসায়ী দেখা যায়, তাদের কমাতে হবে এবং সরকারের আরো নজরদারি বাড়াতে হবে। তাহলে বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সারা বছরে মোট চালের চাহিদা ৩ কোটি ৬০ লাখ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টন। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে মোট চাল আমদানি হয় ১০ লাখ ৬৭ হাজার টন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল মজুদ রয়েছে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮৮ টন এবং ধান ১১ হাজার ৬৩২ টন।


আরও খবর



আঘাত মানুষকে কষ্ট দেয় না মানুষকে বদলে দেয়

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ঃ

আঘাত মানুষকে কষ্ট দেয় না মানুষকে বদলে দেয়। কথাটা অদ্ভুত মনে হলেও সত্য। যেটাকে আমরা আপাত দৃষ্টিতে নেতিবাচক শব্দ হিসেবে দেখি সেটার ইতিবাচক শক্তি নেতিবাচক শক্তির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা যা দেখি তা ভাবি না।

আবার আমরা যা ভাবি তা দেখি না। আঘাতটাও ঠিক এমন একটা বিষয়। যেটাকে দেখা যায় না, ভাবা যায় না কিন্তু সেটা এসে আবার দেখা ও ভাবনার দরজায় এসে কড়া নেড়ে কিছু বলে যেতে চায়। সেটা হয়তো অনেক কঠিন, অনেক বাস্তব তারপরও সেটাতে উপসংহার টানাটা ঠিক নয়। না শব্দটাকে প্রথম দেখাতে নেতিবাচক মনে হতে পারে। কিন্তু না শব্দটার মধ্যে ইতিবাচকতার প্রভাব এতটাই বেশি যে সেটাকে কোনো গন্ডির মধ্যে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। তারপরও হ্যা বলাটা যতটা সহজ না বলাটা ততটাই কঠিন। আঘাতকে যখন আমরা না বলি তখন আঘাতটা চিৎকার করে জানিয়ে দেয় সে কতটা মহামূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। অনেকটা রহস্য হয়তো আঘাতে থাকে, অনেক আধো আলোয় আবছা ছায়াও হয়তো তাতে থেকে যায়, তবু কিছু অব্যক্ত সুর সেখানে দোতারা বাজায়। যেমন কবি শঙ্খ ঘোষ বলছেন 

হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়

সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয়

এ কথা খুব সহজ, কিন্ত কে না জানে

সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয়...

পৃথিবীতে কোনো কিছুই সহজ নয়। সহজ কথাটাও অনেক কঠিন। অনেকটা শক্ত পাথরের মতো। অনেকটা কাচ দিয়ে কাটা অসহায় হীরার মতো। যা  বুকটার টুটি চেপে ধরে আঘাতে আহত মানুষের মানুষটাকে জাপটে ধরে। আঘাতের পর আঘাত তখন মানুষকে মানুষ হয়ে উঠবার প্রেরণা যোগায়। তখন  আঘাত যতটা কঠিন বলে মনে হয় আঘাতের উল্টো পিঠটা ঠিক ততটাই  সহজ হয়ে উঠে। আঘাত পেয়ে মানুষের চোখের জল যখন মাটিতে গড়িয়ে পড়ে তখন কঠিন পাহাড়ের আঘাতের বোঝাটা হালকা হয়। হালকা মানুষের হালকা মনে তখন অনেক নতুন পথের স্বপ্ন তৈরী হয়। একটা ক্ষুধায় কাতর মানুষ যখন একমুঠো ভাতের জন্য মানুষের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয় তখন সে আঘাত প্রতিঘাত হয়ে তাকে বেঁচে থাকবার পথ দেখায়। সে পথটা হয়তো অনেক কঠিন কিন্তু সে পথকে জয় করা অসম্ভব কিছু নয়। একটা ক্ষুধার্ত  মানুষই পারে খাদ্যের মূল্য বুঝতে। সেই বোধটা  তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়, সেটার অভাব পূরণের পথটা খুঁজতে সে মুখিয়ে উঠে । তার ক্ষুধার জ্বালা থেকে তৈরী হয় নতুন ফসলের  উৎসব। নতুন চিন্তার উৎসব। যে আঘাত যত বড় সে আঘাতের শক্তি তত জোরালো।

প্রফুল্ল রায়ের থ্রিলার উপন্যাস আঘাত। যে উপন্যাসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে নানা ঘাত প্রতিঘাত এবং লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। মানুষের জীবনে আঘাতটাও তেমনি থ্রিলার উপন্যাসের মতো। যা হেটে হেটে যায় তবে শেষটা কি হবে হয়তো তা কেউ জানে না। কেউ কেওই বলেন অস্ত্রের আঘাত শুকিয়ে যায় কিন্তু কথার আঘাত শুকায় না। না শুকানোই ভালো। কারণ একটা তরতাজা আঘাত মানুষকে হয়তো সাময়িক কষ্ট দেয়। তবে সেই কষ্ট একদিন মানুষকে বাস্তবতা শিখিয়ে দিয়ে খাঁটি সোনা বানায়।

আমরা মানুষ। খুব সাধারণ হয়তোবা। একটু আঘাতের ধাক্কা খেয়ে ভাবি, আঘাত এলে আমরা ভেঙে পড়ব। হারিয়ে যাব। কিছুই আর থাকবে না। এটা আসলে আমাদের ভাবনা কিন্তু ভাবনাটা যদি জেদ হয়ে ইতিবাচক মনটাকে জাগিয়ে তোলে তখন আঘাত ভেঙে ভেঙে ইতিহাস গড়ে। সে ইতিহাসের পথ মাড়িয়ে মানুষ হেটে যায় বিজয়ের পথে। স্বপ্নের পথে। যে স্বপ্নটা স্বপ্ন নয়, স্বপ্নের চেয়ে আরো বড় কিছু। যা প্রতিদিনের ছোট ছোট আঘাতে মানুষকে মানুষ বানায়। তখন মানুষ স্বপ্নের পিছনে ছোটে না, স্বপ্ন মানুষের পিছনে ছোটে। 

গ্রামের  রাস্তা পেরিয়ে আঘাত শহরের রাস্তায় নামুক।  এরপর শহরের পর শহরে তারাবাতির উজ্জ্বল আলোয় আঘাত প্রত্যাখ্যাত হয়ে মহাবিশ্বের কোথাও এসে মহাবিস্ময় তৈরী করুক। কপালে ভাঁজ পড়া মানুষের কপলাটা প্রচণ্ড আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে ভাগ্যের চাকাটা ঘুরিয়ে ফেলুক চোখের পলকে। যেমন বদলে চলেছে আঘাতে বদলে যাওয়া মানুষের দিনপঞ্চি আর ঘড়ির কাটা। আঘাত থেকে শিক্ষা নিতে হয়, নিজেকে কংক্রিটের মতো ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হয়। ভাঙা গড়া, উত্থান পতন, ঘাত প্রতিঘাত থাকুক না কেন, সময়ের কাছে সেটাই মানুষ শিখুক যেটায় আঘাত আছে। ফুলের যেমন কাটা আছে।


আরও খবর



শিশুর হাতে মোবাইল নয়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের বোঝার ক্ষমতা থাকে না কোনটি ভালো, কোনটি খারাপ। তাই যেসব শিশু মোবাইলে আসক্ত, তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।শিশুরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে অজান্তেই অনেক অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

বয়সী ছেলে-মেয়েদের বোঝার ক্ষমতা থাকে না কোনটি ভালো, কোনটি খারাপ। তাই যেসব শিশু মোবাইলে আসক্ত, তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। তারা হঠাৎ মোবাইল ফোন আসক্তি কমাতে পারবে না। জন্য তাদেরকে দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা এটি ব্যবহার করতে দেয়া যায়, তবে একটানা আধা ঘণ্টার বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বেশি বেশি প্রচার করতে হবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক কোনো অ্যাবিউজ করলে তা ধরা যায়, ধরা পড়লে বিচার হবে। এটি প্রচার করতে পারলে শিশুদের ইন্টারনেট তথা সাইবার অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে সাবেক তথ্য কমিশনার দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কোনটিতে লাইক, কমেন্ট দেয়া যাবে, তার জন্য সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সাইবার অপরাধ দমনে সচেতনতার বিকল্প নেই।


আরও খবর

জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহ কমছে

শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২




নওগাঁয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রকাশিত:শনিবার ০৫ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ


নওগাঁয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরের দায়ের করা মামলায় মোস্তফা কামাল সরকার ওরফে রিভেন মাস্টার নামে জামাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার পূর্ব মধ্যরাতে নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার চককালু গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সকালে এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ কৌতুহল নিয়ে ছুটে যায় ঐ বাড়িতে। পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফতাব উদ্দিন, থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজীসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর পূর্বে জয়পুরহাট সদরের বাঁশকাটা গ্রামের আবু বক্করের মেয়ে রেশমা খাতুনকে (৩০) বিয়ে করে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আবুল কালাম সরকারের ছেলে শিশু দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও আলমপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোস্তফা কামাল সরকার ওরফে রিভেন (৪০)। বিয়ের পর এক সন্তানের জননী রেশমাকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়শ মারপিট করে আসছিলেন স্বামী মোস্তফা কামাল রিভেন। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১ টারদিকে রেশমা খাতুন স্ট্রোক করেছে বলে রেশমার বাবার বাড়িতে খবর দিলে শ্বশুর আবু বক্কর দ্রুত মেয়ের বাড়ি এসে তাকে মৃত দেখতে পান এবং গৃহবধুর মাথায় ও মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে জামাই মোস্তফা কামাল সরকার ওরফে রিভেনকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে জামাই মোস্তফা জানায়, তার স্ত্রী আত্নহত্যা করেছে। কিন্তু তাতেও শ্বশুর আবু বক্কর বিশ্বাস করতে না পেরে থানায় মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে স্বামী মোস্তফা কামালকে গ্রেফতার করেন।

মৃত গৃহবধুর ভাইয়ের স্ত্রী আসমা খাতুন জানান, ৪ লাখ টাকা যৌতুক চুক্তিতে বিয়ের পরেই ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আবারও টাকার জন্য তার ননদকে মার-ধর করতো বলে আমার ননদ রেশমা প্রায়ই আমার কাছে বলতো।

এদিকে সাড়ে ৪ বছরের শিশুও জন্মদাতা বাবাকে বিশ্বাস করতে পারছে না, খুনের জন্য দায়ি করছে বাবাকেই। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে খুন হওয়া গৃহবধু রেশমার বাবা আবু বক্কর বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ধামইরহাট থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজী জানান, বাদী কর্তৃক খুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসামীকে গ্রেফতার করে ঐ দিনই বিকেলে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত পূর্বক প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান ওসি।


আরও খবর