Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন
লালমনিরহাটে গাছে বেধে মারপিটে

আহত করার অপরাধে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১০ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

 নিজস্ব প্রতিনিধি লালমনিরহাট ঃ

লালমনিরহাটের আমিনুল(২৫) নামের এক মানসিক কিশোরকে গাছে বেধে বেধড়ক মারপিটে গুরুতর আহত করার ভিডিও একাত্তর টিভিতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রচারের পর বৃহস্পতিবার বিকেরে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ। 


মানসিক ভারসাম্যহীন আমিনুলকে সদর উপজেলার দুরারকুঠী বাজারে ৯ নভেম্বর  সকাল সোয়া ১০টার দিকে তাকে গাছে বেধে বেধড়ক মারপিটের ঘটনাটি ঘটে।নিমিশেই তা ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়।

প্রতক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের পুর্ব দৈলজোর গ্রামের নুর ইসলামের পুত্র আমিনুল দীর্ঘ দিন ধরেই স্থানীয় দুরারকুঠী বাজারে অহেতুক সময় কাটানো সহ ঘোরা ফেরা করে আসছিল।ছিল না তার স্বাভাবিক জীবন যাপন কিংবা ক্ষুধার অনুভুতিও।কখনো সে ওই বাজারের বারান্দা কিংবা গভীর রাতে বাড়ি ফিরতো।এঅবস্থায় আকর্ষিক অনাকাঙ্খিত ঘটনাটিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন এলাকার মানুষ।

এদিকে আমিনুলের মা বৃহস্পতিবার বিকেলে লালমনিরহাট সদর থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে ১টি মামলা দায়ের করেন।পরে থানা পুলিশ ওই মামলায় ইসমাইল হোসেন(৬৩)ও মনজুকে (৪০)গ্রেফতার দেখিয়ে লালমনিরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে প্রেরন করেন।বিজ্ঞা আদালত তাদের জামিন না মন্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এরশাদ আলম জানান,মানসিক কিশোরকে গাছে বেধে মারপিটের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।তিনি আরো জানান,মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরের মা মমেনা বেগমের দায়ের করা মামলায় এজাহার নামীয় আসামী ও ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। 

মানসিক ভারসাম্যহীন আমিনুলের মা অভিযোগ করে বলেন,পাগল হলেও আমার আদরের সন্তানকে যারা নির্যাতন করেছে আল্লাহতাআলা তাদের ভাল করবে না এবং আমি এর ন্যায় বিচার চাই।


আরও খবর

তিন মাস পর কারামুক্ত মির্জা আব্বাস

সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তে অনেক রোহিঙ্গা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মিয়ানমারে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে যাতে রোহিঙ্গারা ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে নাফ নদীতে সর্বোচ্চ সতর্ক পাহারায় রয়েছে বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। টেকনাফের দমদমিয়ায় নাফ নদী ও শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তে উন্নতমানের স্পিডবোট দিয়ে জালিয়ার দ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের-২ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, নাফ নদী অতিক্রম করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কোনো লোকজন যাতে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। টেকনাফের সীমান্ত পয়েন্টে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বাহিনীর সাথে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের কারণে দেশটির রোহিঙ্গারা নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করছে। তবে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের মাঝি আবু বক্কর বলেন, মিয়ানমারের সাগরের তীরে হাজার হাজার রোহিঙ্গার অবস্থান দেখা গেছে। কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা দেখা যায়। সেসব নৌকায় করে এই পারে ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। কিন্তু বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের ভয়ে তারা অনুপ্রবেশ করতে পারছে না।

স্থানীয় জেলে কবির আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের এলাকায় আরাকান আর্মি ঢুকে পড়েছে। এতে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তাদের অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। তাই কয়েক হাজার রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বিলে, সাগরের তীরে আশ্রয় নিয়েছে। তারা যেকোনো মুহূর্তে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করবে কি না জানি না। রাতের বেলায় তারা শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে পারে। তবে তাদের ঠেকিয়ে রাখছে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।

এদিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে টেকনাফ সীমান্তের হ্নীলা, সাবরাং ও সেন্টমার্টিনের নাফ নদীর বিপরীতে মিয়ানমার সীমান্তে। প্রতিদিনই এসব এলাকায় গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

মিয়ানমারের মংডুর সিকদার পাড়ার রোহিঙ্গা সেলিম বলেন, আমাদের তিনটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাণে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে চরে আশ্রয় নিয়েছি। সাগরে বাংলাদেশের বাহিনী বেশি থাকায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করব সেখানে ঢোকার। না হলে বাঁচতে পারব না।

তিনি বলেন, হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারছে। আমাদের কয়েকটি গ্রাম থেকে গোলাগুলি হচ্ছে। গ্রামগুলো হচ্ছে মংডু কাদিরবিল, নুরুল্যাহ পাড়া, বাগগুনা, নর বাইন্যা, থানাশো। এসব এলাকা থেকে রোহিঙ্গা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জলসীমাজুড়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক স্পিড বোট দিয়ে টহল দেয়া হয়। কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ঢুকতে দেয়া হবে না।


আরও খবর



রানে ফিরেছেন সাকিব

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

চলমান বিপিএলে প্রথম পাঁচ ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি সাকিব আল হাসান। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের চেনা রূপে ফিরেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। রংপুর রাইডার্সের হয়ে নিজেদের শেষ চার ম্যাচে ১৯৬ রান করেছেন এই টাইগার অলরাউন্ডার।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৩৯ বলে ৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। এরপর সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের ব্যাটিং সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন রংপুরের কোচ সোহেল ইসলাম।

তিনি বলেন, সাকিবের পারফরম্যান্স তো আপনারা সবাই দেখছেন। আলাদা করে কিছু বলার নেই। ফিরে আশার লড়াইয়ের সময় আমরা সবাই মিলে সাহায্য করেছি। দল মালিকরাও ব্যাক করেছে। সাথে যারা কোচিং স্টাফ প্লেয়ার ছিল সবাই ছিল।

চোখের সঙ্গে ফিটনেসেরও সমস্যা ছিল সাকিবের এমনটা জানিয়েছেন রংপুরের কোচ। তিনি বলেন, শুধু যে চোখের সমস্যা ছিল তা না ফিটনেস লেভেলেও আপ টু দ্য মার্ক ছিল না। এটার জন্য আসলে সময় দরকার ছিল। আমরা সেই সময়টা বের করার চেষ্টা করেছি। সে যেন আসলে ওই সময়টা মানসিকভাবে ডাউন না হয়ে যায়। আমরা জানতাম সাকিব যদি ফিট হয়ে যায় তাহলে পারফরম্যান্সের যে পুরনো ঝলকটা আছে, সেটা সে দেখাতে পারবে।

সাকিব ছাড়াও ব্যাটিং ও বোলিংয়ে আলো ছড়াচ্ছেন আরেক অলরাউন্ডার শেখ মাহেদী। এই তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে সোহেল বলেন, তাকে যখন যেখানে নামানো হচ্ছে তার সেই দায়িত্ব বেশ ভালোভাবে পালন করছে। মেহেদী তো আমি বলব না যে শুধু বোলার। ব্যাটিংয়েও তার পারফরম্যান্সটা ভালো। দলে এখন জায়গা আছে তাকে উপরে খেলানোর। এটা অবশ্যই দলের জন্য ভালো।


আরও খবর

মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে মোস্তাফিজ

রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




মিয়ানমারের ১১৭ সেনার বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে পেরে না উঠে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির আরও ১১ জন সদস্য। এ নিয়ে দেশ ছেড়ে সীমান্তের এপারে আশ্রয় নেওয়া বিজিপি সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াল ১১৭ জনে।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত দেশটির বর্ডার গার্ড পুলিশের ১১৭ জন সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিজিবি সদস্যরা তাদের সবাইকে নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমার ইস্যুতে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী ও বিজিবিকে (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর আইনমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় চলমান অস্থিরতার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে বলে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, জান্তা সামরিক বাহিনীর আরও বেশ কয়েকটি ঘাঁটি দখল করেছে আরাকান আর্মিসহ জাতিগত স্বাধীনতাকামীরা। এছাড়া গত চারদিনে তাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে দেশটির অন্তত ৬২ জন সেনা। জান্তার বিরুদ্ধে মিয়ানমারজুড়ে হামলা জোরদার করেছে সশস্ত্র এই জাতিগত স্বাধীনতাকামীরা।

গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জান্তার রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর এ সংঘাত বেড়ে যায়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে।


আরও খবর



ভাষা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের প্রতিবাদে সভা

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

আজ ৩ ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে পূর্ব বঙ্গজুড়ে (বর্তমান বাংলাদেশ) ভাষা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের প্রতিবাদে কমিটি অব অ্যাকশন ঢাকায় আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ সভা ডাকে। তবে ১৯৪৭ সাল থেকেই বাঙালি ছাত্র ও নেতাদের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও দাওয়াতে বাংলা ভাষাকে সরকারি মর্যাদা দেওয়ার দাবি তোলা হয়। এভাবে বাংলা ভাষার দাবি পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ১৯৪৮ সালের প্রথমদিকে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এর সূচনা হলেও ক্রমেই এটি রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। দুই পর্বে বিভক্ত এ আন্দোলন ১৯৪৮ সালে অনেকটা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং শুধু বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম হলেও ১৯৫২ সালের আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে। শুধু শিক্ষিত শ্রেণি নয় বরং পুরো বাঙালি জাতির মধ্যে এর প্রভাব পড়ে। এ পর্যায়ে শুধু ভাষার বৈষম্য নয়, আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাঙালির প্রতি বৈষম্য পরিস্ফূটিত করে। এর ফলে ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে একক রাজনৈতিক মঞ্চে নিয়ে আসে এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতন করে তোলে।

এভাবে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি, উদার দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা, সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে নতুন পরিমন্ডলে নিয়ে যায়। বাঙালি জাতির পরবর্তীকালে সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলনে প্রেরণা আসে ভাষা আন্দোলন থেকে। ভাষা আন্দোলনের শিক্ষাই বাঙালি জাতিকে স্বাধিকার আন্দোলনে দীক্ষিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র সংগ্রামে প্রেরণা জোগায়। সুতরাং বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের ফলেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে, প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের মতো বহু ভাষাভাষী রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির জন্য একটি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রয়োজনীয়তা প্রথম থেকেই শাসকগোষ্ঠী অনুভব করেন। পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলা থেকে শুরু করে প্রভাবশালীদের বড় অংশ ছিলেন উত্তর ভারত থেকে আগত উর্দুভাষী। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান থেকে শুরু করে পাকিস্তানের উচ্চ পদবিধারীরা ছিলেন উর্দুভাষী মোহাজের। জিন্নাহ ও তার উত্তরসূরি লিয়াকত আলীর মন্ত্রিসভাকে তাই মোহাজের মন্ত্রিসভা বলা হতো।

এক হিসাবে দেখা যায়, ১৯৪৭-৫৮ পর্যন্ত পাকিস্তানের ২৭ জন গভর্নর জেনারেল/প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, প্রাদেশিক গভর্নর ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১৮ জন ছিলেন মোহাজের। এদের আবার অধিকাংশের ভাষা ছিল উর্দু। যে কারণে প্রথমে থেকেই শ্রেণি স্বার্থে তারা উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলেন। এমনকি নাজিমুদ্দিন যিনি পূর্ববাংলার উচ্চপদে আসীন হয়েছিলেন তিনি ছিলেন উর্দুভাষী। স্বভাবতই তারা ও পশ্চিম পাকিস্তানি জনগোষ্ঠী রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সর্বত্র নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখার জন্য এ ভাষাকে বেছে নেয়। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বহু দিন থেকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে উর্দুকে চর্চা করায় তারা উর্দুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনি। মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ও প্রভাবশালী অংশ পশ্চিম পাকিস্তানি হওয়ায় তারা সবাই এ ভাষার পক্ষে ছিলেন। তবে পূর্ব বাংলায় এর প্রতিবাদ ওঠে। কারণ পূর্ব বাংলায় কখনোই উর্দু চর্চা হয়নি। বাঙালিরা গণতন্ত্র, জনসংখ্যাধিক্য ইত্যাদি কারণে ৫৬ ভাগ বাংলাভাষীদের ভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা দাবি করেছে।

 তথ্যসূত্র : ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ।


আরও খবর

ভাষার মাসের প্রথম দিনে নওগাঁয় বর্ণমালা মিছিল

বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রোজার আগে পেঁয়াজ-চিনি আমদানি নিয়ে আলোচনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

রমজানের আগে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ এবং এক লাখ টন চিনি আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভারতের রাজ্যসভার লিডার অভ দ্য হাউস এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযুষ গয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

তিনি বলেন, ভারত থেকে যে পণ্যগুলো আমদানি করি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। রমজানের আগে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ এবং এক লাখ টন চিনি যাতে আমরা আমদানি করতে পারি সেটি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। অন্যান্য বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত সরকার জোরালোভাবে আমাদের পাশে ছিল, যে কারণে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযুষ গয়াল বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। অবশ্যই ভাই হিসেবে ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। আমাদের সরকারের সবাই এ বিষয়ে গভীরভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।


আরও খবর

বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীর অভিবাসন বেড়েছে

শুক্রবার ১২ জানুয়ারী ২০২৪