Logo
শিরোনাম

আমিরাতে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

মো নূরুল্লাহ  খান, আরব আমিরাত থেকে 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমায় বিশ্বের সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয় । রবিবার  আবুধাবি মদিনা জায়েদ লুলু হাইপার মার্কেটের উপরে বলরুমে এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং দোয়া পাঠ করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। এই পূন্য অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন-সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট  ব্যবসায়ী বাবু-বিকাশ বড়ুয়া ও প্রকৌশলী  বাবু-সুকুমার বড়ুয়া সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন ভদন্ত শ্রীমৎ সুমেধানন্দ মহাথেরো। অনুষ্ঠান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুমিত্তানন্দ থেরো।

এই মহতি অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার ও ভাবনা কেন্দ্রের বিহার অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাপ্রিয় থের ভান্তে মহোদয় ।পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন বাবু অনুওর বড়ুয়া,প্রধান ধর্ম দেশনা করেন শীলমিত্র থেরো মহোদয়। এতে স্বাগত ভাষণ প্রধান করেন বিশিষ্ট সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী আশিস বড়ুয়া। আরও বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী সুপায়ন বড়ুয়া, অনুওর বড়ুয়া, সঞ্জীব বড়ুয়া,ছোট্টন বড়ুয়া সহ আরও অনেকে। উক্ত অনুষ্ঠানে আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে উপাসক-উপাসিকা উপস্থিত এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। বাংলাদেশ থেকে আগত  অতিথিরা বলেন এই প্রবাসে ধর্মকে পরিচালিত করার জন্য যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠানে গৌতম বুদ্ধদেবের জীবনী নিয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের পরিশেষে আমিরাতের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও বিশ্ববাসীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করা হয়।


আরও খবর



নারীর সাথে উলঙ্গ ভিডিও করে মুক্তিপণ আদায়, ৪ জন আটক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ


নওগাঁয় নারীর সাথে উলঙ্গ ছবি তুলে আদায় করতো মুক্তিপণ, র‌্যাবের অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার, মুক্তিপণ আদায় চক্রের মূলহোতা সহ ৪ জন আটক।

সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব-৫, সিপিসি-৩, জয়পুরহাট কাম্প থেকে প্রতিবেদককে জানানো হয়, 

নওগাঁয় একটি অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে নওগাঁ শহরের একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে নারীর সাথে উলঙ্গ ছবি তুলে ও ভিডিও ধারণ করে মুক্তিপণ দাবি ও আদায় করতো। সম্পতি একজন কে আটক করে রেখে মুক্তিপণ আদায়কালে র‌্যাব-৫, সিপিসি-৩, জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোঃ  মোস্তফা জামান, আর্টিলারি ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ রানা এর নেতৃত্বে বুধবার দিনগত রাতে নওগাঁ জেলা সদর থানাধীন পাটালিরমোড়ে অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম কে উদ্ধার সহ মুক্তিপণ নেওয়া ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২ টি বাঁশের লাঠি ও ৫ টি মোবাইলসহ অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা মোঃ দুলাল হোসেন (৩৮), পিতা-মোঃ আব্দুর রহিম, স্থায়ী সাং- হাট নওগাঁ ফকিরপাড়া, বর্তমান সাং-আর্জি নওগাঁ পাটালি মোড়, মোঃ ইমরান হোসেন ওরফে হিরা (৩৬), পিতা-মোঃ লুৎফর রহমান, সাং-আর্জি নওগাঁ পাটালিমোড়, মোঃ হুজুর আলী (৪০), পিতা-মৃত তাহের আলী, সাং-কাঠ খইর, সর্ব থানা-নওগাঁ সদর, নওগাঁ ও মোঃ মেহেদী হাসান ওরফে রনি (২০), পিতা-মোঃ আক্তারুল জামান, স্থায়ী সাং-বাঘের আওয়াত, থানা-মাহাদেবপুর, বর্তমান সাং-হাট নওগাঁ, থানা- নওগাঁ সদর, সর্ব জেলা-নওগাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত ৪ জন অপহরণকারী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে অপহরণকারী মূলহোতা মোঃ দুলাল হোসেন এর ভাড়া বাসায় আটকে রেখে বিভিন্ন নারীর সাথে উলঙ্গ ছবি তুলে মুক্তিপণ দাবি ও আদায় করতো। এই সিন্ডিকেটের সদস্য সংখ্যা ৮/১০ জন যার নেতৃত্বে রয়েছে মূলহোতা দুলাল হোসেন। বুধবার ১৬ নভেম্বর সকাল ১১ টারদিকে ভিকটিম মোঃ আব্দুস সামাদকে জমির কাগজ দেখানোর নাম করে চক্রের মূলহোতা মোঃ দুলাল হোসেন (৩৮) ও হুজুর আলী ওরফে ভুনা (৫০) দুলালের বাসায় ডেকে নেয়। এরপর ভিকটিমকে এক নারীর সাথে উলঙ্গ ছবি তুলে ও ভিডিও ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনের কাছে বিলিয়ে দেওয়ার নাম করে তার কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এরপর মুক্তিপণ হিসেবে ভিকটিম তার পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে ৭৫,০০০ টাকা নিয়ে অপহরণকারীদের প্রদান করেন। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা আরোও ৭৫,০০০ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে মুক্তি প্রদান করবে না মর্মে দুলালের বাসায় আটকে রাখেন।  গোপন সোর্সের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার তথ্য প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের একটি চৌকস অপারেশন দল অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিমকে উদ্ধার সহ চক্রের মূলহোতা সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেন। 

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে র‍্যাব।


আরও খবর



১০ বছরে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ধর্ষণ

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

বাংলাদেশে ১০ বছরে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, এরমধ্যে ২ হাজারের বেশি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ। সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৬২৭টি ধর্ষণ হয়েছে ২০২০ সালে। সে বছর দেশে করোনা মহামারি শুরু হয়। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময় দেশে ৯ হাজার ৬৫৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ২ হাজার ৩৭৯টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে দেশে যে পরিমাণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সে তুলনায় মামলা হয়েছে অনেক কম।

২০১৯ সালে ধর্ষণ হয়েছে ১ হাজার ৪১৩টি এবং এরমধ্যে মামলা হয়েছে ৯৯৯টি। ২০২০ সালে ধর্ষণ হয়েছে ১ হাজার ৬২৭টি এবং মামলা হয়েছে ১ হাজার ১৪০টি। ২০২১ সালে ১ হাজার ৩২১টি ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৯১৬টি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭৩৪টি ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৫০৩টি। গত ১০ বছরে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৭২ জনকে এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ১০৩ জন।

আসক সূত্রে জানা গেছে, তারা মূলত ৯টি জাতীয় দৈনিক ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এর বাইরেও সংবাদে প্রকাশ হয়নি এমন ধর্ষণের ঘটনাও তাদের তথ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের  অধ্যাপক ড. রাশেদা রওনক খান বলেন, ধর্ষণের সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক আছে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে একজন পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় তার শক্তি প্রদর্শনের চিন্তা। তাছাড়া বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এসব কিছুর সঙ্গেও ধর্ষণের সম্পর্ক রয়েছে। যখন দেশে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, তখনই তা নিয়ে আলোচনা হয়। এর বাইরে কোনো আলোচনা হয় না। মানুষের নৈতিক শিক্ষারও অভাব রয়েছে। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ায় অনেকেই ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আনতে চান না জানিয়ে রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, ধর্ষণের কোনো ঘটনা প্রকাশ পেলে উল্টো ভুক্তভোগীকেই সমাজ দোষীর চোখে দেখে এবং তাকেই কটুকথা শোনায়। অনেক সময় তার ওপরই দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং ধর্ষককে নিরপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দুটি প্রবৃত্তি থাকে। তার মধ্যে একটি হলো পাশবিক প্রবৃত্তি। যারা ধর্ষণ করেন, তারা এই পাশবিক প্রবৃত্তি দ্বারা চালিত হন। এটিকে কোনোভাবেই মানসিক সমস্যা বলার সুযোগ নেই। করোনার সময় ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে এই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, করোনার সময় মানুষ ঘরের মধ্যে এক ধরনের বন্দিজীবন কাটানোর ফলে সামাজিক কর্মকা- খুব কম হয়েছে। সামাজিক সম্পর্ক মানুষ চালিয়ে যেতে পারছিল না। এতে করে মানুষের মধ্যে এক ধরনের একঘেয়েমি তৈরি হয়। তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করে; যা মানুষকে নানা অপরাধের দিকে প্ররোচিত করে। তাছাড়া বিভিন্ন দুর্যোগের সময় এ ধরনের অপরাধ বেড়ে যায়।



আরও খবর



যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

 যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট শেষে এখন চলছে গণনা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উচ্চ কক্ষ সিনেটে এগিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ফলাফলে এগিয়ে রিপাবলিকান দল।

সংবাদমাধ্যম সিএনএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ২১৮টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে বাইডেনের ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে ১৭০ টি আসন। আর ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১৯৩ টি আসন। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে কমপক্ষে ২১৮টি আসনে জয় পেতে হবে। অন্যদিকে উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্রেটরা পেয়েছে ৪৮টি আর রিপাবলিকান দল পেয়েছে ৪৭ টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ১০০টি আসনের মধ্যে কমপক্ষে ৫১টি আসনে জয় পেতে হবে।  


আরও খবর

স্পেনে ইউক্রেন দূতাবাসে বোমা বিস্ফোরণ

বৃহস্পতিবার ০১ ডিসেম্বর ২০২২




জনবল সংকটে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


প্রায় ২৮ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসাস্থল নওগাঁ সদর ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতাল। এ হাসপাতালে প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১ হাজার ৭শ’ জন ও ইনডোরে আরও ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। নওগাঁর ১১ উপজেলা ছাড়াও পাশের বগুড়া জেলার আদমদীঘি ও জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকেও লোকজন আসেন এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তু আশানুরুপ সেবা না পাওয়ায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

এ জেলার মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় হাসপাতাল টি। তবে আগের ১০০ শয্যা হাসাপাতালের যে জনবল সেটা দিয়েই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে এখনো। এতে করে রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। আর উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালে উপ-পরিচালক, শিশু, মেডিসিন, সার্জারি, ফরেনসিক, চক্ষু, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজি ইমেজিং, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, গাইনি এ্যান্ড অবস, নাক-কান-গলা, প্যাথলজি, নিউরোসার্জারি, নেফ্রোলজি, ও মেডিকেল অফিসারসহ মোট ৪৫ চিকিৎসকের মধ্যে আছেন মাত্র ৩২ জন। ৮৬ জনের মধ্যে নার্স রয়েছেন ৭৮ জন। বর্তমানে ১৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে আউটডোর ও ইনডোরে সেবা দেয়া হচ্ছে। 

প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬/১৭শ’ এবং ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

এছাড়াও ১০০ শয্যার জন্য মঞ্জুরি করা পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, চক্ষু, অর্থোপেডিকস ও রেডিওলজি ইমেজিং, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি এ্যান্ড অবস, মানসিক, প্যাথলজি ও নেফ্রোলজি, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার চক্ষু, রেডিওলজিস্ট এবং ইনডোর মেডিকেল অফিসার কার্ডিওলজি ও মেডিসিন প্রতি পদে একটি করে শূন্য রয়েছে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ১৭৬ মঞ্জুরি পদের বিপরীতে জনবল আছে ১২১ জন।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, র্দীঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক সেবা প্রত্যাশীরা বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বেড না পেয়ে মেঝে এমনকি বারান্দায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছেন। অন্যদিকে, রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের দায়িত্বরতরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে রোগীদের ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি বাড়তি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।

ইনডোরে রোগী দেখার পর ডাক্তার আউটডোরে গিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন। এতে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার চিকিৎসক না থাকায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদেরও।

নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে পায়ের চিকিৎসা করাতে এসেছেন রমজান আলী। তার সঙ্গে আসা মেয়ে নিলুফা খাতুন বলেন, অর্থোপেডিক ডাক্তারের কক্ষের সামনে এতই ভিড় বাবাকে যে পাশে কোথাও বসিয়ে রাখবো সেই ব্যবস্থাও নেই। ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাবাকে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছি। অন্যকোনো দিন আবার আসবো আর না হয় রাজশাহীতে নিয়ে যাবো।

একই অবস্থা মেডিসিন বিভাগের সামনেও, দীর্ঘ লাইনে প্রায় ৫০-৬০ জনের মত সেবাপ্রত্যাশী দাঁড়িয়ে আছেন। আমেনা বেগম নামে এক সেবা প্রত্যাশী বলেন, দুইদিন হলো ঘুরে গেলাম। সেই সকাল ১০টায় এসেছি এখন ১২টা বেজে গেল। কিন্তু এখনও ডাক্তারের কাছে যেতেই পারলাম না। অনেকে বাধ্য হয়ে ফিরে গেছে। আমি চলে যাবো। আর কিছুক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আমি আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়বো। একসাথে তিন -চারটি কক্ষে যদি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা রোগী দেখতেন, তাহলে এতো ভোগান্তি পোহাতে হতো না।

হাসপাতালের নতুন ভবনের সার্জারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে মেঝেতে ও বাড়ান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কামরুল হোসেন নামে একজন বলেন, আমার ভাইকে ভর্তি করা হয়েছে। বেড সংকট তাই মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। কি আর করার, বাধ্য হয়েই এসেছি সরকারি হাসপাতালে।

রেনুকা বেগম নামে এক রোগী বলেন, বেড নাই তাই বারান্দা থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা পাওয়াতো আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু চিকিৎসাটাও ভালো ভাবে পাই না আমরা। বারান্দায় এভাবে থাকা যে কতটা কষ্টের, তা বুঝাবো কি করে? টাকা খরচ করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়েই এখানে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মিলাদুল ইসলাম এসে ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ দেয়া হয়েছে। আর বেশি ভাগ ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হয়েছে।

নওগাঁ নাগরিক কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট এ.কে.এম ফজলে রাব্বী বকু জানান, ২৮ লাখ মানুষের ভরসা নওগাঁ সদর হাসপাতাল। চিকিৎসক সংকটের কারণে যদি কেউ সময়মত সেবা না নিতে পারে তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক কি আর হতে পারে। হাসপাতালে যদি সেবার মান ভালো না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে সেবা নিতে? চিকিৎসক সংকটসহ হাসপাতালের সার্বিক সমস্যা দূর করে যেন সেবার মান বৃদ্ধি করা হয় সেই দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, ২৫০ শয্যা বলা হলেও ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তাও এখানে নেই। এতে করে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬শ' জন ও ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেবার মান বৃদ্ধির জন্য চাহিদা পত্রের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি চাহিদা গুলোর অনুমোদন পেলে ডাক্তার, সেবিকা, ওষুধ ও অবকাঠামো সহ সার্বিকভাবে সেবার মান আরো ভালো হবে বলে জানান তিনি।


আরও খবর



মোরেলগঞ্জে শেখ রাসেল শিশু পার্ক শুভ উদ্ধোধন করেন জেলা প্রশাসক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শিশু বিনোদনের শেখ রাসেল শিশু পার্কের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্ধোধন করেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

মোরেলগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বারইখালী পুরাতন জেল খানা মাঠ চত্বরে ‘শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভীক’ এ ¯্রােগানকে সামনে রেখে শেখ রাসেল শিশু পার্কের উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার মেয়র এ্যাড. মনিরুল হক তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম।

এর পরে আব্দুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কাব হলি-ডে ২০২২ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। উপজেলা স্কাউট সভাপতি নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. শাহ-ই আলম বাচ্চু, ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা খানম। আলোচনা করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিহাদ হাসান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আকাশ বৈরাগী।