Logo
শিরোনাম

আত্রাইয়ে চুলার ধোঁয়াকে কেন্দ্র করে হামলায় যুবক নিহত

প্রকাশিত:বুধবার ২৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :

নওগাঁর আত্রাইেেয় চুলার ধোঁয়াকে কেন্দ্র করে হামলায় আলমগীর হোসেন (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার ব্রজপুর খন্দকার পাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর ওই গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে। এঘটনায় থানাপুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। 

নিহতরে স্ত্রী নাজমা আক্তার বলেন,মাস খানেক আগে প্রতিবেশি আব্দুল জব্বারের ছেলে আক্তার হোসেনের দেয়াল সংলগ্ন স্থানে ভাত রান্নার চুলা নির্মান করে রান্নাবান্না করে আসছিলেন।ওই চুলার ধোঁয়া আক্তারের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছে এবং চালের টিন নষ্ট হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে গ্রামের কয়েক জনের মাধ্যমে রান্নার চুলা বন্ধ করতে বলে। আমরা অল্প দিনের মধ্যে চুলা অপসারণ করে নিবো বলে তাদেরকে জানিয়েছিলাম। এর পরও মঙ্গলবার সকাল অনুমান সাড়ে ৯টায় আলমগীর হোসেন খাবার খেয়ে বাড়ী থেকে পাশের্^ সিংসাড়া মোড়ে নিজ দোকানে যাচ্ছিলেন। এসময় প্রতিবেশি আক্তার ও তার পরিবারের লোকজনসহ কয়েকজন আলমগীরের রাস্তা অবরোধ করে মারপিট করতে থাকে। এসময় আলমগীরের লোকজন দেখতে পেয়ে ছুটে গেলে আক্তার ও তার লোকজন পালিয়ে যায়। আলমগীরকে উদ্ধার করে আত্রাই সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আলমগীরকে মৃতু ঘোষনা করেন। ঘটনার পর থেকে আক্তার ও তার লোকজন পলাতক রয়েছে।

আত্রাই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন,নিহত আলমগীরের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।


আরও খবর



মোরেলগঞ্জে প্রতিবন্ধীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির যাচাই চুড়ান্ত

প্রকাশিত:বুধবার ২৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে খাউলিয়া ইউনিয়নে হালনাগাদ প্রতিবন্ধীর তালিকা যাচাই-বাছাই ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বাদ পড়া নতুন তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে।

  বুধবার বেলা ১২টায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সুবিধাভোগীদের উপস্থিতিতে এ যাচাই-বাছাই করা হয়।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার মো. নাসির উদ্দিন, সমাজ সেবা অফিসার গৌতম কুমার বিশ্বাস, ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান, সংবাদিক গনেশ পাল, ইউপি সদস্য মো. আলমঙ্গীর হোসেন, মো. কামরুজ্জামান, মশিউর রহমান, মো. মহিদুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য জাহানারা বেগম, নাছিমা বেগম, শাহিনুর বেগমসহ স্থানীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে খাউলিয়া ইউনিয়নে যাচাই শেষে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় ৭৫ জন প্রতিবন্ধী নতুন তালিকায় অন্তভূক্ত হয়েছে।

ওই ইউনিয়নে ৭৪৬ জন প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগী মাসে ৭৫০ টাকা করে ভাতা পাবে। এ ছাড়াও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মৃত্যুজনিত ও বিভিন্ন কারনে তালিকা থেকে বাদ পড়া ২৩০ জনকে যাচাই-বাছাই করে সুবিধার আওতায় এসেছে। এ ইউনিয়নে মোট ২৬৯৯ জন সুবিধাভোগী পাচ্ছেন ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 


আরও খবর



দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি বিএনপি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার ঃ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন দেশের মানুষ কোন বিপদে নেই,প্রকৃতপক্ষে বিএনপিকে নিয়েই দেশের মানুষ বিপদে আছে। 

তিনি আজ এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে একথা বলেন। 

জনগণ মনে করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি হচ্ছে বিএনপি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র বিএনপির হাতে নিরাপদ নয়, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ঘোচানোর জন্য  কখন কি ঘটিয়ে বসে তা নিয়ে জনগণ দুশ্চিন্তায় আছে।

দেশ নাকি গভীর সংকটে আছে, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন সংকটে দেশ নয়,গভীর সংকটে আছে বিএনপি, সংকটে তাদের পরাশ্রয়ী রাজনীতি।  

বিএনপি প্রতিদিন আন্দোলনের হুমকি দেয় কিন্তু তাদের আন্দোলনের নেতা কে সেটাই তারা জানে না, এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুজনেই দন্ডপ্রাপ্ত, একজন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করায় দন্ডপ্রাপ্ত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মহানুভবতায় ঘরে বসে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন আর একজন রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে কাপুরুষের মত বিদেশে পালিয়েছে এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। 

ওবায়দুল কাদের বলেন নিরাপদ দুরত্বে থেকে নিজে বিলাসী জীবন-যাপন করছে আর নেতাকর্মীদের চাঙা করতে দূর থেকে শব্দ বোমা ছুঁড়ছে, স্বপ্ন দেখছে ক্ষমতার ময়ূর সিংহাসনের।

দেশের জনগণ আর পিছনে ফিরে যেতে চায় না, বিএনপি তাদের দুর্নীতির বরপুত্র, হাওয়া ভবনের স্রস্টা, দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমানকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলে  মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। 

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন দেশে বর্তমানে গণতন্ত্রের কোন সংকট নেই,সংকট বিএনপির মনস্তত্ত্বে।

বিএনপি সবসময় তাদের বক্তব্যে কৃত্রিম সংকটের গন্ধ পায়,তারা স্বাধীনতা গেল বলে হা-হুতাশের রাজনীতি করে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন বিএনপিকে এই সংকট থেকে উত্তরণে অপরাজনীতির কৌশল পরিহার করতে হবে। 

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশা প্রকাশ করে বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে বিএনপি  সঠিক পথে ফিরে আসলেই তা হবে দেশের রাজনীতির জন্য সহায়ক।


আরও খবর



মা হলেন বিশাপা বসু

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বলিউড পাড়ায় বইছে সুসংবাদের বাতাস। আলিয়া-রণবীরের কন্যা সন্তান জন্মের ঠিক ছয় দিনের মাথায় এবার কন্যা সন্তানের বাবা-মা হলেন বলিউডের আরেক সুপারস্টার দম্পতি করণ সিংহ -বিশাপা বসু।

১২ নভেম্বর মুম্বাইয়ের খারের হিন্দুজা হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা বসু।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে বিপাশা-করণ দম্পতি জানান, তাদের ঘরে নতুন অতিথি আসছে। বিপাশা বসু এরপর বিভিন্ন ফটোশুটের মাধ্যমে ভক্তদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করেন। বিপাশা বসু ৪৩ বছরে মা হয়েছেন এই খবরে ভীষণ আনন্দিত তার ভক্তরা।

বিপাশার মা হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা প্রিয় তারকাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপাশার বেবি বাম্পের ছবি রীতিমতো ভাইরাল হয়।

এ ছবি নিয়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা হয়। কিন্তু বিপাশা ও করণ ভক্তরা এটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন।

বিপাশা বসু ও করণ সিং গ্রোভার বলিউডের অন্যতম আলোচিত দম্পতি। তাদের ব্যক্তিজীবন নিয়েও সিনমোপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ রয়েছে। ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল মুম্বাইয়ে সাত পাকে বাঁধা পড়েন দুই তারকা।


আরও খবর

মঞ্চ মাতালেন নোরা ফাতেহি

শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২




প্রধানমন্ত্রীর উপহার-সোলার প্যানেল-দুর্গম পার্বত্যঞ্চলকে আলোকিত করেছে

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

-মো. রেজুয়ান খান :

বাংলাদেশের ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গ কি.মি. প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ জুড়ে তিন পার্বত্য জেলা অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার এই তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন এবং এর অধিবাসীদের ভাগ্যোন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মনোভাব এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে একই বন্ধনে আবদ্ধ করতে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছিলেন। এরপর থেকেই সরকার অব্যাহতভাবে পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়ন সহায়ক পরিবেশ এবং ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মানুষের দিকটি বিশেষ বিবেচনায় রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকার চল্লিশ হাজার পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেম এবং বিভিন্ন পাড়াকেন্দ্র, স্টুডেন্টস হোস্টেল, অনাথ আশ্রমগুলোতে ২ হাজার ৫০০টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ ও স্থাপনের কাজ চলছে। সোলার প্যানেল হতে উৎপাদিত বিদ্যুতের মাধ্যমে পাহাড়ি দুর্গম এলাকাগুলো বিদুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। যার ফলে তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান পূর্বের তুলনায় অধিকাংশক্ষেত্রে আধুনিক ও ইতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে।


দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে গ্রীড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছানো অত্যন্ত দুষ্কর ও ব্যয়বহুল। তাই এসব এলাকায় এ যাবৎকাল আলো ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা প্রক্রিয়ার একমাত্র উৎস ছিলো কেরোসিন বাতি বা ডিজেল জেনারেটর, যা ছিল ব্যয়বহুল। অস্বচ্ছল মানুষের কাছে বিদ্যুতের আলো পাওয়া ছিল সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। সরকার এসব প্রান্তিক অস্বচ্ছল মানুষের জন্য বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যাবলীর অধিকাংশই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ জীবনমানের পরিবর্তনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পার্বত্য অঞ্চলের সকল উন্নয়ন কাজে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রশংসা ও সাফল্যের দাবি রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সোলার ফটোভোল্টাইক সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে পেরেছে। ফটোভোল্টাইক সোলার প্যানেল সরাসরি সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুত তৈরি করে। এটা শক্তির সোর্স হিসেবে সূর্যের আলোকে শোষণ করে। ফটোভোল্টাইক (পিভি) মডিউল হলো একটি প্যাকেজযুক্ত বিভিন্ন ভোল্টেজ এবং ওয়াটেজেজে পাওয়া ফটোভোল্টাইক সৌর কোষগুলোর সংযুক্ত সমাবেশ।

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ অপরিহার্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণ। জাতীয় গ্রীড হতে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। আগামি দুই যুগের মধ্যেও পার্বত্য তিন জেলার দুর্গম অঞ্চলে জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। তাই সরকার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম ও সোলার কমিউনিটি সিস্টেম বিতরণ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ তিনটি পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলার দুর্গম স্থানসমূহে বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য সোলার হোম সিস্টেম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়াকেন্দ্র, স্টুডেন্টস হোস্টেল, অনাথ আশ্রম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার কমিউনিটি সিস্টেম চালু করেছে। 

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষজন পাহাড়ের উপর যুগ যুগ ধরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাসে অভ্যস্ত। প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকায় সেখানকার অধিবাসীরা ছোটো ছোটো গ্রামে পাড়া গড়ে তুলে বসবাস করে আসছে। প্রতিটি পাড়ায় ২০ থেকে ১০০ পরিবার বাস করে। সরকারের দেওয়া মৌলসেবাগুলো সহজলভ্য ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগণের কাছে সহজেই পৌঁছে যায়। তবে পাহাড়ের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষগুলোর কাছে এসব সেবা অনেক সময় পৌঁছানো দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাই সরকার পার্বত্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত দরিদ্র জনসাধারণের মাঝে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ এবং কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অফ গ্রীডে ফটোভোল্টাইক সিস্টেমে বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা নিয়েছে।  

ফটোভোল্টাইক সোলার সিস্টেমে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪০ হাজার উপকারভোগী পরিবারকে বাছাই করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গম এলাকার ২ হাজার ৫০০টি ফটোভোল্টাইক কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে পাড়া কেন্দ্র, স্টুডেন্ট হোস্টেল, অনাথ আশ্রম কেন্দ্র, এতিমখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদানের কাজও শুরু করেছে সরকার। সরকারের এ প্রকল্পের শিরোনাম ‌‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (দ্বিতীয় পর্যায়) নামকরণ করা হয়। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে মোট ২১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদের মধ্যে বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ৮৯০ টি পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেম এবং ২ হাজার ৮১৪টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়া কেন্দ্র, দুর্গম এলাকার স্টুডেন্ট হোস্টেল, অনাথ আশ্রম কেন্দ্র, এতিমখানাগুলোতে বিতরণ ও স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে ১ দশমিক ৮০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার রাঙ্গামাটি জেলায় বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ৬৩৯টি যার মধ্যে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারের সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৩টি। ইতোমধ্যে সোলার হোম সিস্টেমের আওতায় রাঙ্গামাটি জেলার ৩ হাজার ৬৪৩টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ৪৫৪টি যার মধ্যে ১৬ হাজার ১০৭টি বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারকে উপকারভোগী পরিবার হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে ৩ হাজার ১০৭টি উপকারভোগী পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বান্দরবান জেলার দুর্গম এলাকার বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ১ হাজার ৮৮১টি। যার মধ্যে বিদ্যুৎ সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত পরিবারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৬০টি। ইতোমধ্যে বান্দরবান জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪ হাজার ৩৬০টি পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেমের আওতায় বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।


গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকা রেমাক্রী ইউনিয়নে ‘পার্বত্য চট্টগামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ-২য় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সোলার প্যানেল সিস্টেমের বিদ্যুৎ সরঞ্জাম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১ হাজার ৩২৭টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। শুধু তাই না সরঞ্জামগুলো স্থাপনের জন্য প্রত্যেককে সোলার প্যানেল সিস্টেম ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব উপকরণ বিতরণ করেন। প্রতিটি সোলার প্যানেল থেকে উপকারভোগীরা ১০০ ওয়াট পিক আওয়ার বিদ্যুৎ পাবেন। সোলার প্যানেল সরঞ্জামগুলোর মাধ্যমে ৪টি এলইডি বাল্ব, ১টি সিলিং ফ্যান, ১টি টিভি, ১টি চার্জ কন্ট্রোলার চালানো যাবে। যা সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উপকারভোগীরা কমপক্ষে ২০ বছর পর্যন্ত সৌর বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলো বিদ্যুতায়নের জন্য সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হলো সবচেয়ে ভালো উপায়, নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব। পার্বত্য জনপদে সোলার প্যানেল বিতরণ ও স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পার্বত্যঞ্চলকে আলোকিত করেছেন। উন্নত ও সমৃদ্ধশালী পার্বত্য অঞ্চল গড়ার মানসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।


লেখক: তথ্য ও জনসংযোগ অফিসার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।


আরও খবর



নারায়ণগঞ্জে এসি বিস্ফোরণে আহত পাঁচ

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বসতবাড়িতে এসি বিস্ফোরণে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

সোমবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে গায়ক এস এ শামীম চৌধুরীর বসতবাড়ির একটি রুমে গান রেকর্ডিংয়ের সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ সময় এস এ শামীম, ছেলে বাবন , ছেলের বন্ধু মাহিন ও এস এ শামীমের নাতি রাজসহ আরও একজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ বাবন ও মাহিনকে প্রথমে শহরের খানপুর পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

এস এ শামীমের বড় ছেলে সাজু বলেন, আমাদের বাড়িতে গান রেকর্ডিংয়ের জন্য একটি রুম করেছেন আমার বাবা। সেই রুমে দুপুর ১টার সময় বিকট শব্দ হয়। তখন কাছে গিয়ে দেখি ওই রুমের ভেতর আমার ছোট ভাই বাবন ও তার বন্ধু মাহিন চিৎকার করছে। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। তাদের দুজনেরই বুক ও পিঠের কিছু অংশ দগ্ধ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণে রুমের দরজা, জানালা ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সেইসঙ্গে এসির ইনডোরের যন্ত্রাংশ ও আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


আরও খবর