Logo
শিরোনাম

বিকেলে বাসায় ফিরতে পারেন খালেদা জিয়া

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:


রাজধানীর একটি হাসপাতালে ১২ দিন ধরে চিকিৎসা নেয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিকেলে বাসায় ফেরার কথা রয়েছে। 



মঙ্গলবার (০২ জুলাই) বিএনপি সূত্রে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি বাসায় ফিরতে পারেন বলেও জানানো হয়।


রোববার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ম্যাডামের হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হয়েছে।  হৃদরোগের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। 



হার্টে ব্লক ছিল, একটা স্টেনটিংও করা ছিল। সব কিছু পর্যালোচনা করে মেডিকেল বোর্ড ম্যাডামের হার্টে পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পেসমেকার স্থাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।



শুক্রবার (২১ জুন) গভীর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। তারপর তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।


মেডিকেল বোর্ড কয়েক দফা বৈঠকে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হার্টে পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিনসহ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠকে বসে খালেদা জিয়ার সবশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেন।



৭৯ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।


আরও খবর



অন্যের এনআইডি দিয়ে ট্রেনের টিকেট অগ্রীম কেটে নিয়েছে কালোবাজারিরা!

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডে ডিজিটাল ডেস্ক:


ঈদের সময় কালোবাজারি করতে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে টিকিট কেটেছিল একটি চক্র। এরপর সেই টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে তারা।


শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশনের প্লাটফর্মে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর।  



তিনি বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৩ এমন দুটি চক্রের ১২ জনকে আটক করেছে। এরমধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বেসরকারি ট্রেনের বিক্রয় প্রতিনিধিও রয়েছেন। এসব কালোবাজারিরা আগামী ১০ দিনের প্রায় ৫০০ টিকিট কেটে রেখেছেন।’


সোহেল ও আরিফুল নামে দুইটি চক্র ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা থেকে কালোবাজারি পরিচালনা করতেন বলেও জানান তিনি।  


ফিরোজ কবীর জানান, গতকাল রাতে তারা অভিযান পরিচালনা করেন। ঢাকা থেকে ১০ জনকে আটক করেন। আর দুইজনকে ঠাকুরগাঁও থেকে আটক করা হয়েছে। 


ফিরোজ কবীর বলেন, ‘আমরা গত রাতে অভিযান শুরু করি। এটি চলমান অভিযান ছিল। এটা দুই থেকে তিন ধাপে পরিচালনা করা হয়। ঢাকার কমলাপুর ও আশেপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ 


তিনি বলেন, ‘এখানে দুই ধরনের চক্র রয়েছে। এক ধরনের চক্র অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হলে তা ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে কেটে রাখতো। পরে ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে। সফটকপি পাঠিয়ে দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে টাকা বুঝে নেয়।’  


তিনি বলেন, ‘এমন চক্রের দুজনকে মৌচাক মোড়ের আশেপাশের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। এদের একজনের নাম মানিক ও আরেকজনের নাম বকুল। এদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি মানিক মূলত সোহেল নামে একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থানকারী আবু, রায়হান ও আনিস নামে আরও একজনের সঙ্গে কালোবাজারি ব্যবসায় আসে। 


তাদের থেকে আগামী ১০ দিনের টিকিট পাওয়া যায়। এগুলোর হার্ডকপি ও সফট কপি রয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেসের টিকিটের দাম তিন হাজার টাকা করে বিক্রি করছে।’


ফিরোজ কবীর বলেন, ‘মানিক ও বকুলের মাধ্যমে আনিস ও রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায়হান একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে। সেখানে ভুয়া সিম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনেকগুলো টিকিট কেটে নেন। 


এদের বড় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। সেখানে চাহিদা ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়।’ 


তিনি বলেন, ‘রায়হান ও আনিস টিকিট পাঠাতেন সোহেল ও মানিকের কাছে৷ আর মানিক ও বকুল ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতেন।’  


এই সিও জানান, ‘কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারী করেন আরিফুল ইসলাম। তিনিও একটি চক্র চালান। 


বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারী হলেও তার থেকে সরকারি ট্রেনের টিকিট পাওয়া গেছে। তিনি অনেকদিন ধরেই এগুলো করে আসছিলেন।’


আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি কমার ইঙ্গিত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকাল মিলিয়ে মোট ২০ দিনের ছুটি চলছে। গত ১৩ জুন শুরু হওয়া এই ছুটি আগামী ২ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেই ছুটি এক সপ্তাহ কমানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

শিক্ষা প্রশাসন সূত্র বলছে, ঈদের ছুটি শেষে অফিস খুলবে বুধবার (১৯ জুন)। প্রথম কর্মদিবস বা দ্বিতীয় কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (২০ জুন) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ছুটি সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনার কারণ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হলো, নতুন কারিকুলামে চলতি বছরের বেশ গ্যাপ রয়েছে। শীত ও অতিগরমের কারণে এবার ১৫ দিনের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেই ক্ষতি পোষাতে গ্রীষ্মের ছুটি কাটছাঁট করা হতে পারে। পাঠদানের কর্মদিবস বছরব্যাপী কমেছে। এছাড়া ঈদের পর শনিবারের বন্ধ পুনর্বহাল রাখার কারণে কর্মদিবস কমে যাবে। তাই গ্রীষ্মের ছুটির এক সপ্তাহ কমতে পারে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর সৈয়দ জাফর আলী বলেন, গ্রীষ্মের ছুটি কমানোর বিষয়ে একটি প্রস্তাব রয়েছে। এখন কী করবে, সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

তার বক্তব্য, বাংলাদেশে আবহাওয়ার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় জুন-জুলাই মাসে অতি গরম থাকে। এই সময় ছুটি দেওয়া না দেওয়া সমান কথা। আমার প্রস্তাব হলো গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করে তা শীতের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা।

২০২৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করা হয়। সে বছরে ছুটি বাতিলের যুক্তি ছিল, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর আগে নির্বাচনী ডামাডোল শুরু হবে। সেই কারণে ছুটি বাতিল করা হয়।

গত বছর শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটি ছিল। বাতিল করা গ্রীষ্মকালীন ছুটি পরে শীতকালীন ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।


আরও খবর



গত বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে সব ধরনের মসলার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে ডেস্ক:

দুয়ারে কড়া নারছে ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ মানেই ত্যাগের সঙ্গে তৃপ্তি করে খাওয়াদাওয়াও। আর সব মজার খাবারের পেছনে লুকিয়ে থাকে মসলার গোপন সব মিশ্রণ। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে বাড়তি প্রায় সব ধরনের মসলার দাম।



রাজধানীর কাওরানবাজার ও শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত বছরে ঈদের সময়ের তুলনায় এবার প্রায় সব ধরনের মসলার দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিনের ব্যবধানেও দাম বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ দামের দিক থেকে শতক ছুঁইছুঁই। সঙ্গে আদা-রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারও গরম।



ক্রেতারা বলছেন, প্রকারভেদে বিভিন্ন মসলার দাম গত কোরবানির ঈদের চেয়ে এবার ৫ থেকে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। গত বছরের তুলনায় মসলাটির দর দ্বিগুণের কাছাকাছি। মানভেদে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা। গত বছর দর ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।


প্রতিকেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা। গত বছর কোরবানির ঈদের আগে জিরা কেনা গেছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। প্রতি কেজি লবঙ্গের দাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। যা গত বছর ছিল দেড় হাজার টাকার মতো।



গত বছর দারুচিনি ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। এ বছর কেজিতে গুনতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬২০ টাকা। প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে তেজপাতার দর। প্রতি কেজি তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। যা গত বছর একই সময়ে দর ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।


এছাড়া হলুদের গুঁড়া ৫০০-৬০০ টাকা, কালোজিরা ৩৫০-৪০০ টাকা, আদা ২৪০-২৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০-১৬০ টাকা ও পেঁয়াজ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


মসলা ক্রেতারা জানান, কোরবানিতে মসলার চাহিদা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি থাকে। সেই চাহিদা পুঁজি করে প্রতিটি বাজারে ব্যবসায়ীরা মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়িয়েছে।


ক্ষুদ্র বিক্রেতারা বলছেন, মহাজনরা মসলার দাম বৃদ্ধি করায় আমরা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। তাই এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম।


তবে দাম বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশিরভাগ মসলার দাম কম বলে দাবি করেন বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বেশিরভাগ এলাচ আসে ভারত থেকে। সেখানে এবার গরমের কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। তাছাড়া ডলারের দাম বেশি। এসব কারণে দাম বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ২০, ৫০, ১০০ টাকা করে মসলা বিক্রি করেন, সে জন্য তারা দর কিছুটা বেশি নিচ্ছেন।


ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মসলার দর বাড়ার তথ্য মিলেছে। দাম বাড়ার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, ডলার সমস্যা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করেন ব্যবসায়ীরা।


 তবে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধিতে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




চশমার লেন্স কেনো গুরুত্বপূর্ণ আপনার সুস্থ ও সুন্দর দৃষ্টির জন্য

চশমা ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন না করলে হতে পারে বিপদ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

ডক্টর মোঃ মিজানুর রহমান , পিএইচডি , দৃষ্টি বিজ্ঞান :

চোখ আমাদের শরীরের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চোখের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীকে দেখতে পাই এবং এর সাহায্যে আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলি সম্পন্ন করি। কিন্তু যদি দৃষ্টি সমস্যায় ভুগি, তখন আমাদের জীবনে বড় সমস্যা দেখা দেয়। এই দৃষ্টি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চশমার লেন্স ব্যবহৃত হয়। বর্তমান যুগে চশমা আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, কম্পিউটার কাজ, মোবাইল ব্যবহার, এমনকি সাধারণ দৈনন্দিন জীবনের কাজেও চশমার প্রয়োজন হয়। কমবেশি অনেকেই দৃষ্টির সমস্যার কারণে কিংবা সুরক্ষার জন্য চশমা ব্যবহার করে থাকেন, , আবার কেউ কেউ সূর্য থেকে রক্ষা পেতে সানগ্লাস ব্যবহার করেন। । কিন্তু আমরা কি জানি, ছোট থেকে বড়, অনেকেই চোখের সমস্যা সমাধানে চশমা ব্যবহার করেন। তবে, চশমা ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন না করলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ।

আসুন, জেনে নেই চশমা ব্যবহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।

প্রথমেই, চশমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পাওয়ারের চশমা নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। অপ্রয়োজনীয় বা ভুল পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চশমা নির্বাচন করা উচিত।

দ্বিতীয়ত, চশমা পরিষ্কার রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত চশমা পরিষ্কার না করলে ময়লা জমে যায় এবং তা চোখের সংক্রমণের কারণ হতে পারে। পরিষ্কার করার জন্য মৃদু সাবান ও পানি ব্যবহার করা উত্তম। এছাড়া, সফট কাপড় দিয়ে চশমা মুছতে হবে যাতে লেন্সে কোনো দাগ না পড়ে।

তৃতীয়ত, চশমা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও জরুরি। চশমা ব্যবহারের পর এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যেন তা ভেঙ্গে না যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চশমার জন্য নির্ধারিত বাক্সে সংরক্ষণ করা উত্তম।

চতুর্থত, চশমার ফ্রেম এবং লেন্স নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। যদি ফ্রেমে কোনো সমস্যা দেখা দেয় অথবা লেন্সে দাগ পড়ে, তবে তা দ্রুত ঠিক করিয়ে নেওয়া উচিত। নতুবা, দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হতে পারে।

সবশেষে, দীর্ঘ সময় ধরে চশমা ব্যবহার করলে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে অনেক সময় কাটান, তাদের প্রতি ২০ মিনিট পর পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তু দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এই নিয়ম মেনে চললে চোখের ওপর চাপ কমে এবং চোখের ক্লান্তি দূর হয়।

চশমার লেন্স দৃষ্টি সংশোধনের মূল উপাদান। একটি ভালো মানের লেন্স না থাকলে দৃষ্টির স্পষ্টতা কমে যেতে পারে এবং চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। নিম্নমানের লেন্স ব্যবহার করলে চোখে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে, যেমন:

চোখের ক্লান্তি

মাথাব্যথা

দৃষ্টির অস্বচ্ছতা

চশমার লেন্সের গুরুত্ব

চশমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর লেন্স। লেন্সের গুণগত মান এবং সঠিক ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে আপনার দৃষ্টিশক্তি। নিম্নমানের বা ক্ষতিগ্রস্ত লেন্স ব্যবহার করলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি স্থায়ীভাবে চোখের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই উচ্চ মানের এবং আপনার চোখের জন্য উপযোগী লেন্স নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চশমার লেন্স শুধু আপনার দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে না, এটি আপনার চোখকে সুরক্ষাও প্রদান করে। ভালো মানের লেন্স নির্বাচন করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়:

সঠিক লেন্স নির্বাচন করুন: চশমার লেন্সের ক্ষমতা আপনার চোখের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক করা উচিত। সঠিক ক্ষমতার লেন্স ব্যবহার না করলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চশমার লেন্স পরিবর্তন করা উচিত।

ঠিকমতো ফিটিং করান: চশমার ফ্রেম যদি ঠিকমতো ফিট না হয় তাহলে তা আপনার চোখ এবং কানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এটি মাথাব্যথা, চোখের যন্ত্রণা এবং অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই চশমা কিনে নেয়ার সময় ফিটিং ভালোভাবে চেক করে নিন।

স্পষ্ট দৃষ্টি: উচ্চমানের লেন্স স্পষ্ট এবং পরিষ্কার দৃষ্টি প্রদান করে, যা আপনার দৈনন্দিন কাজকে সহজ করে।

রশ্মি প্রতিরোধক: অনেক লেন্সে বিশেষ প্রলেপ থাকে যা ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি প্রতিরোধ করে। এটি আপনার চোখকে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

স্ক্র্যাচ প্রতিরোধক: ভালো মানের লেন্স স্ক্র্যাচ প্রতিরোধক হয়, যা লেন্সের স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমায়।

কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারে আরাম: ব্লু লাইট প্রতিরোধক লেন্স কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারকালে চোখের চাপ কমায় এবং আরামদায়ক দৃষ্টি প্রদান করে।

চশমার লেন্স নির্বাচন করার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

চোখের পরীক্ষা:নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করানো উচিত যাতে আপনার দৃষ্টির পরিবর্তন সম্পর্কে জানা যায় এবং সেই অনুযায়ী লেন্স পরিবর্তন করা যায়।

লেন্সের প্রকার: আপনার দৃষ্টির সমস্যা অনুযায়ী কনকাভ, কনভেক্স, বা সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স বেছে নিন।

লেন্সের প্রলেপ:অ্যান্টি-রিফ্লেকটিভ বা অ্যান্টি-স্ক্র্যাচ প্রলেপযুক্ত লেন্স নির্বাচন করুন যাতে লেন্স দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দৃষ্টির স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

বিভিন্ন প্রকারের চশমার লেন্স :

চশমার লেন্স বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। মূলত, দুটি প্রধান প্রকারের লেন্স ব্যবহৃত হয়: একক দৃষ্টি লেন্স এবং বহুমুখী দৃষ্টি লেন্স।

একক দৃষ্টি লেন্স: এই লেন্সগুলো শুধুমাত্র এক ধরনের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সমাধান করতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মায়োপিয়া (দূর দৃষ্টি সমস্যা) বা হাইপারমেট্রোপিয়া (নিকট দৃষ্টি সমস্যা) সমাধানে একক দৃষ্টি লেন্স ব্যবহার করা হয়।

বহুমুখী দৃষ্টি লেন্স: এই লেন্সগুলো বিভিন্ন দূরত্বে দৃষ্টি সমস্যা সমাধান করতে ব্যবহৃত হয়। প্রেসবাইওপিয়া (বয়সজনিত দৃষ্টি সমস্যা) সমাধানে এই লেন্সগুলো অত্যন্ত কার্যকরী।

সঠিক লেন্স নির্বাচন 

চশমার লেন্স নির্বাচন করার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

অপটোমেট্রিস্টের পরামর্শ: আপনার চোখের পরীক্ষা করে একজন বিশেষজ্ঞ অপটোমেট্রিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী লেন্স নির্বাচন করুন।

মানসম্মত লেন্স: সর্বদা মানসম্পন্ন লেন্স ব্যবহার করুন যা আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ফ্রেমের আরাম: এমন ফ্রেম নির্বাচন করুন যা আরামদায়ক এবং আপনার মুখের সাথে মানানসই।

চশমার লেন্সের আধুনিক প্রযুক্তি :

বর্তমানে চশমার লেন্সে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। ব্লু লাইট ফিল্টার লেন্স, ফটো ক্রোমেটিক লেন্স, অ্যান্টি-রিফ্লেকটিভ লেন্স ইত্যাদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখা যায় এবং চোখের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।

ভালো লেন্স নির্বাচন করার কিছু টিপস :

চিকিৎসকের পরামর্শ: চশমার লেন্স কেনার আগে অবশ্যই একজন চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক চোখ পরীক্ষা করে সঠিক লেন্সের পরামর্শ দেবেন।

গুণগত মান: লেন্সের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া খুবই জরুরি। ভালো মানের লেন্স চোখের জন্য নিরাপদ এবং আরামদায়ক।

অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং: আজকাল অনেক লেন্সেই অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং থাকে, যা গ্লেয়ার কমায় এবং দৃষ্টি পরিষ্কার করে।

ইউভি প্রোটেকশন: সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করার জন্য লেন্সে ইউভি প্রোটেকশন থাকা উচিত।

যদি চশমার লেন্স ঠিকমতো না হয় তাহলে চোখের কিছু সমস্যা হতে পারে যেমন:

দৃষ্টিশক্তির কমতি: চশমা ঠিকমতো না থাকলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে। এটি বিশেষত দূরদৃষ্টি বা কাছদৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রকাশযুক্ত হয়।

অস্বচ্ছ দৃষ্টি: চশমা যদি মধ্যে মধ্যে সাফ না থাকে বা মন্দ হয়ে যায়, তবে দৃষ্টি অস্বচ্ছ হয়ে যেতে পারে।

চোখের অবশ্যতা: অন্ধকার বা মন্দ আলোয় সঠিকভাবে দেখা যাবে না।

চোখের অস্থিরতা: চশমা সঠিকভাবে না হলে চোখের অস্থিরতা অনুভব হতে পারে, যা দৃষ্টিশক্তিতে ভার তুলে দেয়।

পরামর্শ

নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করান এবং চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লেন্স পরিবর্তন করুন।

চশমা ব্যবহারে কোনো অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চশমা ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং শিশুদের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দিন।

চশমার লেন্স শুধু দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে না, বরং চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই, সঠিক লেন্স নির্বাচন এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো আমাদের সকলের জন্যই জরুরি। সুস্থ ও সুন্দর দৃষ্টি উপভোগ করতে ভালো মানের লেন্স ব্যবহার করা উচিত। চশমা আপনার দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সঠিকভাবে চশমা ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত যত্ন নিলে আপনি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে পারেন। তাই চশমার সঠিক ব্যবহারে সতর্ক থাকুন এবং আপনার চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করুন।

লেখক : অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ম্যানেজমেন্ট এন্ড সাইন্স ইউনিভার্সিটি , মালয়শিয়া


আরও খবর



এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দুঃসংবাদ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস বাংলা:



অবসরের ছয় মাসের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অবসরভাতা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।



 তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরভাতা ও কল্যাণভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব সমাধানে সরকার আন্তরিক রয়েছে।



গতকাল বুধবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোসা. তাহমিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।



স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোসা. তাহমিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ খাতে পর্যাপ্ত অর্থ সংস্থান না থাকায় মূলত বেশি সময় লাগছে এবং সমস্যা তৈরি হচ্ছে।


অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা বিবেচনায় ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরের বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের অনুকূলে ৩০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।


তাই এখন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকসহ সব শিক্ষকদের অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসরভাতা দেয়া সম্ভব নয়।


এদিকে, ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৬৮টি। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৮৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।


আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নওফেল বলেন, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এমপিওভুক্ত মাদরাসা ৮ হাজার ৩১৪টি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত মাদরাসা ১৬ হাজার ১৭৯টি, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ৬ হাজার ৮৮৯টি, দাখিল ও আলিম মাদরাসা ৯ হাজার ২৯০টি, এমপিওভুক্ত দাখিল মাদরাসা ৮ হাজার ২২৯টি এবং এমপিওভুক্ত আলিম মাদরাসা ৮৫টি।


আরও খবর