Logo
শিরোনাম

বকশীগঞ্জ হাসপাতাল নামেই ৫০ শয্যা,বাস্তবের চিত্র ভিন্ন

প্রকাশিত:Saturday ০৩ December ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

মাসুদ উল হাসান,জামালপুর ঃ

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে দীর্ঘ সাত বছর আগে। হাসপাতালটির বেড সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সেবার মান। পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে উন্নতি হয়নি চিকিৎসা সেবার। ৫০ শয্যাতো দুরের কথা ৩১ শয্যার লোকবলের সংকটই কাটেনি এখনো। তাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। ছোটখাটো সমস্যার জন্যও যেতে হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা মানহীন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দারুন ভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। 

জানা যায়,বকশীগঞ্জ উপজেলার তিনলাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। এছাড়াও ভৌগলিক কারনে প্রতিবেশী শ্রীবরদী উপজেলা,রাজিবপুর-রৌমারী ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ৪-৫ টি ইউনিয়নের মানুষ বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫-৬ শ রোগী এই হাসাপতালে চিকিৎসা সেবার জন্য আসে। প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৭ জন। দরিদ্র পীড়িত এ অঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি ৫০ শয্যা এ হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রম। দেওয়া হয়নি ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি। বাড়ানো হয়নি সুযোগ-সুবিধা। ৩১ শয্যার হাসপাতালে যে জনবল ও যন্ত্রপাতি থাকার কথা, সেটিও নেই। ফলে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা জুরুরী রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জনবল সঙ্কট,প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম না থাকায় এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইনডোর চালু করতে যে জনবল ও সাজ-সরঞ্জাম প্রয়োজন তার কোনটাই এখানে নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালে আসার অধিকাংশ রোগীকে রেফার করা হয় ময়মনসিংহ কিংবা ঢাকায়। ফলে চিকিৎসার ব্যয় বহনে অপারগ রোগীদের বিনা চিকিৎসায় মরতে হচ্ছে। বহির্বিভাগে রোগীদের আসা-যাওয়া আর পরামর্শ নেয়াই হলো নামে মাত্র ৫০ শয্যা এ হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,৫০ শয্যার জন্য শুধু প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ২৬ জন। ২৬টি পদের মধ্যে ১৯ টি পদই শূন্য। জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (নাক, কান, গলা),জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন),জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু),এ্যানেসথেসিয়া,এ্যান্সেথেটিক্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারন রোগীরা। এছাড়াও ইনডোর মেডিকেল অফিসার,প্যাথলজিষ্ট,নার্সিং সুপারভাইজার ১জন,সিনিয়র স্টাফ নার্স ৭ জন, মিডওয়াইফ ৩জন,মেডিকেল টেকনিক্যাল ল্যাব ১ জন, ফার্মাসিষ্ট, প্রধান সহকারী,হিসাব রক্ষক, কার্ডিওগ্রাফার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ১জন, ইমার্জেন্সী এটেনডেন্ট, ল্যাবরেটরী এটেনডেন্ট ১ জন, ওটি বয় ১ জনের পদ শূন্য রয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন যাবত বিকল হয়ে পড়ে আছে। সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় জুরুরী প্রয়োজনে রোগীদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত কয়েকগুন বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে হয় গন্ত্যব্যের হাসপাতালে। অপারেশন থিয়েটার রুম থাকলেও নেই মেশিনপত্র। ছোট খাটো কোন অপারেশনের জন্য যেতে হয় জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে। আল্ট্রা মেশিন থাকলেও তার ব্যবহার হয়নি কোনদিন। ইসিজি মেশিন রয়েছে তবে জরুরী প্রয়োজনে বেশিরভাগ সময়ই থাকে বিকল। জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্ধ না পাওয়ায় উদ্বোধনের ৭ বছরেও ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রমই চালু হয়নি। এতে আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র পীড়িত এ  এলাকার মানুষ। 

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ভাটি কলকীহারা গ্রামের মালেকা বেগম,আলম মিয়া, কামালপুর এলাকার মর্জিনা খাতুন সহ বেশ কয়েকজন রোগী জানান,এই হাসপাতালে সময়মত ডাক্তার পাওয়া যায়না। তাছাড়া সব ওষুধ এখানে পাওয়া যায় না। বেশির ভাগই বাইরে থেকে কিনতে হয়। 

বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ লায়ন বলেন, নামেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল। এই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। জরুরী বিভাগে থাকা ওয়ার্ড বয় ও ঝাড়–দাররা ফোন করলে ডাক্তার আসে। ততক্ষনে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। আবার ডাক্তার এলেও ততটা দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে রেফার করেন সদর হাসপাতালে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বাধ্য হয়ে দ্বিগুন বাড়তি ভাড়া দিয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে রোগীকে নিয়ে যেতে হয়। ৫০ শয্যার সকল কার্যক্রম চালু করতে সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি’র সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। 

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, চিকিৎসকসহ জনবল সঙ্কট এবং অন্যান্য সমস্যা থাকলেও আমরা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনবল সঙ্কটসহ নানা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই এর সমাধান হবে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল থাকায় ভাড়াটে একটি অ্যাম্বুলেন্স জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


আরও খবর



পরকীয়ার জেরে ২ শিশুকে খুন, ২জনের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন

প্রকাশিত:Tuesday ৩১ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

‌কুমিল্লা ব্যুরো :

কুমিল্লায় পরকীয়ার জেরে দুই শিশুকে হত্যার দায়ে এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১২ টায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক রোজিনা খানম এ রায় দেন। কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লাজৈর গ্রামের মোঃ বাবুল হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারকে (২৮)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় একই গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগমকে(৪৩)। দণ্ডপ্রাপ্তরা সর্ম্পকে চাচি শাশুড়ি এবং ভাতিজা বউ।

পুলিশ কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই নারী এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক ১৬জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে রায় শুনে এজলাসেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন দণ্ডপ্রাপ্তরা। তাদের হুশ ফেরাতে কোর্ট পুলিশ সদস্যদের নাস্তানাবুদ অবস্থা হয়ে দাঁড়ায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি নুরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল লাজৈর গ্রামের প্রবাসী মো. বাবুল হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (২৮) পরকীয়ার আসক্ত ছিলেন। এ ঘটনা দেখে ফেলায় প্রথমে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে আরাফাত (৬) কে খুন করেন। ঠিক ওই সময় খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় কিছুক্ষণ পর শাহ আলমের ছেলে জসিম (৭)কেও ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে লাশ খালে ডুবিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ইয়ামিন আক্তারকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ইয়াছমিন আক্তারকে সহযোগীতা করে মামলার দ্বিতীয় আসামী মাজেদা বেগম। ঘটনার পর মাজেদা বেগম আত্মগোপন করে। গত বছর র‌্যাব ১১মাজেদা বেগমকে  চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার দুর্গম একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় ওই বছরের ২১ এপ্রিল মুরাদনগর থানায় ইয়াসমিনকে ১ নম্বর এবং মাজেদা বেগমকে ২ নম্বর ও অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে নিহত আরাফাতের পিতা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


আরও খবর



উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে নওগাঁর সড়কগুলোর দৃশ্যপট

প্রকাশিত:Friday ২৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পাল্টে গেছে নওগাঁর সড়ক মহাসড়ক গুলোর চিত্র। ২০০৯ ইং সাল থেকে ২০২২ ইং সাল পর্যন্ত নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিনে ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো নওগাঁর নজিপুর-ধামইরহাট-জয়পুরহাট সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, নওগাঁ-বদলগাছী-পত্নীতলা সড়ক উন্নয়ন এবং মহাদেবপুর ও বদলগাছী ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মহাদেবপুর এবং বদলগাছী সেতু নির্মাণ, পত্নীতলা-সাপাহার-পোরশা-রহনপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, পিএমপি প্রোগ্রামের আওতায় আত্রাই সিংড়া সড়ক, মান্দা-বাঘমারা-আত্রাই সড়কে আহসানগঞ্জ সেতু নির্মাণ প্রমুখ। যার মোট বরাদ্দ ছিলো ৯৩১০৫.২৪ লাখ টাকা। 

আর ১৭২১৫৫.৭৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো হচ্ছে নওগাঁ সড়ক বিভাগাধীন ১টি আঞ্চলিক ও ২টি মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরন প্রকল্পের আওতায় বদলগাছী-পাহাড়পুর-জহয়পুরহাট সড়ক উন্নয়নের কাজ, নওগাঁ-আত্রাই-নাটোর মহাসড়কের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ, পিএমপি প্রোগ্রামের আওতায় এনায়েতপুর-মহাদেবপুর-পাটাকাটাহাট-মান্দা সড়কের উন্নয়ন কাজ, নওহাটামোড় চৌমাসিয়া, আব্দুল জলিল পার্ক এবং বশিপুর মোড়ে ইন্টারসেকশন নির্মাণ কাজ, পত্নীতলা-সাপাহার-পোরশা-রহনপুর সড়কের ওভারলেকরণ উন্নয়নের কাজ ও নওগাঁ সড়ক বিভাগাধীন ৩টি আঞ্চলিক ও ৩টি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ কাজ। 

নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের অধীনে পুরো দেশের সঙ্গে নওগাঁর সড়ক ব্যবস্থায় আধুনিকতা ও উন্নয়নের যে ছোঁয়া স্পর্শ করেছে তা বিগত সময়ের কোন সরকারের আমলেই করা হয়নি। বিশেষ করে আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীর উপর নির্মিত সেতু, নওগাঁ থেকে রাজশাহী যাওয়ার মহাসড়ক নতুন করে করে নির্মাণ, ঐতিহাসিক পাহাড়পুর মহাসড়কটি নতুন করে নির্মাণ ও বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে থাকা নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজ নতুন করে শুরু করাসহ সবগুলো প্রকল্পই নওগাঁকে দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে নতুন করে আধুনিকমানের উন্নয়নের মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যার ফলে পুরো নওগাঁর লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। এই সব নতুন করে নির্মাণ হওয়া সড়কের আশেপাশের অঞ্চলের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বদলে গেছে। এই সড়কগুলোকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের যার কারণে এই সব অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাপনেও এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। 

তিনি আরো জানান, আমরা চেস্টা করেছি সরকারের গৃহিত মিশন ও ভিশনকে শতভাগ সফল করতে এই প্রকল্পগুলোকে যথাযথ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার। তবে বিশেষ কিছু কারণে অনেক প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা না গেলেও সেগুলোও আমরা যথাযথ পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে শেষ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে প্রবেশের লক্ষ্যে নওগাঁ সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সব সময় সকল প্রকল্পগুলোকে সঠিক সময়ে ও সঠিক তদারকির মাধ্যমে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে চেস্টা অব্যাহত রেখেছি। আগামীতেও নওগাঁর সড়ক বিভাগের এমন কর্মতৎপড়তা অব্যাহত থাকবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদি। 

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের কোন বিকল্প নেই। এমন কোন খাত নেই যেখানে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া স্পর্শ করেনি। বিগত জোট সরকারের আমলে এই অঞ্চলে সর্বহারা নামক সন্ত্রাসীরা দিনে-দুপুরে মানুষকে গলা কেটে হত্যা করতো। যার কারণে পুরো দেশসহ বিশ্বের কাছে নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯সালে সরকার গঠনের পরই এই রক্তাক্ত জনপদে বইতে শুরু করে শান্তি সুবাতাস। প্রধানমন্ত্রী কঠোর হাতে সর্বহারা ও জেএমবিকে দমন করেন। 

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তবে বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকা নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ২২কিমি কালীগঞ্জ সড়কের নতুন পাকাকরণের কাজ ও আত্রাই নদীর উপর নির্মাণ করা আত্রাই সেতু আধুনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই দুই উপজেলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট পাল্টে দিয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একাডেমিক ভবনগুলো এলাকার মানুষদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অগ্রনি ভূমিকা রাখছে। তাই দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, গৃহিত মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামীতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের কোন বিকল্প নেই। 


আরও খবর



কমছে আয়, বাড়ছে ব্যয়

প্রকাশিত:Saturday ০৪ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :করোনায় কমছে মানুষের আয়-রোজগার। আর এর বিপরীতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। অবশ্য এই চিত্র আমাদের জন্য অতি পুরনো। তবে চলমান করোনার কারণে এই হ্রাস বৃদ্ধির মাত্রা বেড়েছে অনেকটাই। জানা গেছে, সম্প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে সাত ভাগ। বিশেষ করে মোটা ও মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশী।

দেশের আশিভাগ মানুষ নিত্যদিন যে ৩৭ টি পণ্য ব্যবহার করে, এগুলোর মূল্য বৃদ্ধির ফলে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়েছে। কঠিন হয়ে ওঠেছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। দেশের জনসংখ্যা প্রধানত দরিদ্র, মধ্যবিত্ত আর ধনী এই তিন ভাগে বিভক্ত। সবার আয় সমান নয়, ব্যয় করার ইচ্ছা ও সামর্থ্যও সবার সমান নয়। সাধারণ মানুষ তার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনৈতিক সামর্থ্য দ্বারা; আর ধনীরা তাদের সামর্থ্য দ্বারা ইচ্ছা তৈরি করে।

বাংলাদেশে মূলত কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই বেশী। জরিপের তথ্য হচ্ছে, দেশে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৮২ লাখ। আর মোট শ্রমশক্তির ৮৮ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ছয় কোটি শ্রমজীবীই আবার অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। যাদের চাকরি আয় কোন কিছুতেই স্থায়িত্ব নেই। এর মধ্যে কৃষিকাজে যুক্ত দুই কোটি ৮০ লাখের মতো।

 দেশের অর্থনৈতিক বিবেচনায় দশ শতাংশের মতো মানুষ আছে, যারা ধনী বা উচ্চবিত্ত। যাদের হাতে আছে দেশের মোট আয়ের ৪৬ শতাংশ। আর উচ্চ মধ্যবিত্ত ১৩ শতাংশের হাতে আয়ের সাড়ে ২১ শতাংশ, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৩৭ শতাংশের হাতে ২৬ শতাংশ আয় এবং ৪০ শতাংশ দরিদ্রের হাতে আছে আয়ের মাত্র সাত দশমিক ৬৩ শতাংশ। বিশেষ করে এই ৪০ শতাংশ দরিদ্রের অবস্থা এখন খুবই করুণ। অন্য সবার মতো এই শ্রেণীর মানুষের আয় কমে গেছে। বেড়েছে ব্যয়। আর এই অবস্থায় প্রথম সংকোচন আসে খাদ্যে। সুষম খাদ্য তো দূরের কথা, অনেক সময় কোন খাদ্যই জোগাড় করতে পারছেনা তারা। যে কারণে তাদের মধ্যে বাড়ে অপুষ্টি। যার বিরূপ প্রভাব পড়ে নারী ও শিশুর জীবনে। অথচ পুষ্টির অভাব থাকলে শিশুদের মেধার বিকাশ হয় না। আর চলতি করোনাকালে মানুষের শরীরে যথাযথ পুষ্টির যোগান দেয়া জরুরি।

পুষ্টিহীন শরীরে করোনা সহজে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু এই পুষ্টির যোগান দেয়ার পেছনে দুটি প্রতিবন্ধকতা। একটা হলো পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অপরটি আয় কমে যাওয়া। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে পারিবারিক ব্যয় ও দুশ্চিন্তা বৃদ্ধিপায়। বিশেষত চাল, ডাল, চিনি, শিশু খাদ্য, ওষুধ, পরিবহণ ভাড়া ইত্যাদি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করা হয় সিন্ডিকেট করে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়ে দরিদ্র মানুষের ওপর।

নতুন বছরের শুরু হয়েছিল বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বাড়তি দাম কার্যকরের মধ্য দিয়ে। দিন যত যাচ্ছে মুরগি,ডিম,ডাল,কাঁচা মরিচের দাম ততই বাড়ছে,যা সংসারের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, মাঠে শ্রমজীবি খেটে খাওয়া মানুষের।

সব মিলিয়ে সাধারণ জনগনের নাভিশ্বাস বেড়েই চলছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর কারনে। সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের মতো সেবামূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুইদিকের চাপে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত।


চিনি,তৈল ও ইত্যাদি দাম বেড়েছিল তা কমানোর কোsনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এবং সরকার অনেক পণ্যের দাম নির্ধারণ করেছে তা-ও অনেক সময় মানা হচ্ছে না। মুল বাজারের থেকে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে গেলে দাম আরও বেশি দিতে হয়।

 

 


আরও খবর



নওগাঁয় বড় ভাইয়ের কোদালের আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু'র অভিযোগ

প্রকাশিত:Tuesday ১৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :


নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার গুমারদহ এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাই ফজলুর রহমানের (৫৫) এর কোদালের হাতলের আঘাতে আহত ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (৫২) এর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার ৭ দিন পর  সোমবার ১৬ জানুয়ারি রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে ।  সংবাদ পেয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার পুলিশ নিহত নজরুল ইসলামের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। তবে মঙ্গলবার বিকেল সারে চারটায় সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।  

গত ১০ জানুয়ারি নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের গুমারদহ গ্রামের মাঠে তাদের পারিবারিক একটি জমিতে বোরো ধান লাগানোর জন্যে জমি তৈরী করার সময় এই মারপিটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।  নিহত নজরুল ইসলাম গুমারদহ গ্রামের  মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। 

নিহতের স্বজন, স্থানীয়রা জানায়, নজরুল ইসলামেরা দুই ভাই ও দুই বোন। তাদের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা না হওয়ায় নজরুল ইসলাম ও তার বড় ভাই ফজলুর রহমানের মধ্যে মাঝে মাঝেই বিরোধ লেগে থাকতো। গত ১০ জানুয়ারি ফজলুর রহমান গ্রামের মাঠে একটি জমিতে বোরো ধান লাগানোর জন্য আইল দিতে যান। এ সময় নজরুল তাকে বাধা দিতে যান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ফজলুর রহমানের হাতে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে নজরুলকে বেশ কয়েকটি আঘাত করেন। এতে নজরুল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

শৈলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ফজলুর ও নজরুল দুই ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দু'জনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ৫/৬ দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ফজলুর তার ছোট ভাইকে কোদালের হাতল দিয়ে মারধর করেন। এতে নজরুল গুরুতর আহত হন। সোমবার রাতে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে লাশ গ্রামের বাড়িতে আসার পর পুলিশ খবর পেয়ে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ থানায় নিয়ে যায়।  

নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি ফয়সাল জানান, খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার পূর্বক ময়না তদন্তের জন্যে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারন জানাযাবে।


আরও খবর



বকশীগঞ্জে শেখ কামাল

আন্তঃস্কুল-মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:Tuesday ২৪ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

জামালপুর প্রতিনিধি :

বকশীগঞ্জে শেখ কামাল আন্তঃ স্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার  বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আয়োজনে নুর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলা বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।  প্রতিযোগিতা শেষে  পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 

মঙ্গলবার  সকালে এন.এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উ‌ত্তোল‌নের মধ্যদিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। 

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনমুন জাহান লিজার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতাউর রাব্বী,উপ‌জেলা স্বাস্থ্য ও প‌রিবার প‌রিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ আ‌জিজুল হক,বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ স‌মি‌তির ডি‌জিএম জয় প্রকাশ নন্দী,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সা‌রোয়ার আলম,এন.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুমুল হক সিদ্দিকীসহ  উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, অ্যাথলেটিকস উদযাপন কমিটির সদস্যবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর