Logo
শিরোনাম

বৃহস্পতিবার থেকে মিলবে ৩০ টাকা কেজি চাল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩০ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  সারাদেশে ওএমএস কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ডিলারের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৩৬৩টি কেন্দ্রে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হবে। 

ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও পেঁয়াজের সঙ্গে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডে মিলবে ১০ কেজি চাল। ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে মাসে একবার এই চাল নেওয়া যাবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, টিসিবি কার্ডধারীরা ওএমএস এর মতো ন্যায্যমূল্যে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল পাবেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ওএমএস কার্যক্রমে টিসিবি কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাল দেওয়া হবে। এছাড়াও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ের ৫০ লাখ ১০ হাজার ৫০৯টি প্রান্তিক পরিবারকে প্রতিকেজি ১৫ টাকা দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

টিসিবি সূত্র জানায়, দেশব্যাপী কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে টিসিবির পণ্যসামগ্রী ভর্তুকি মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় ডিলারের কাছ থেকে একজন ক্রেতা প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা দরে দুই লিটার কিনতে পারছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬৫ টাকা দরে দুই কেজি, চিনি ৫৫ টাকা দরে দুই কেজি ও প্রতিকেজি পেঁয়াজ ২০ টাকা দরে পাঁচ কেজি কিনতে পারছেন। চাল বিক্রি শুরু হলে ১০ কেজি চাল কিনতে পারবেন।

এই চাল টিসিবির ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি হবে না। কারণ, চাল খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় বিক্রি হয়। তাই টিসিবির কার্ডধারীকে চাল কিনতে ওএমএস ডিলারদের কাছে যেতে হবে। ওএমএস ডিলাররাই চাল বিক্রি করবে।

টিসিবির দৈনিক বাজার পণ্য মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চাল সর্বোচ্চ ১৫.৩১ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার তেল ১৪ শতাংশ, মসুর ডাল ২.৩৮ শতাংশ, পেঁয়াজ ১৩.৩৩ শতাংশ ও প্রতি কেজি চিনি ৯.৮৮ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।


আরও খবর

কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২




নওগাঁয় পটাশ সারের দাম বেশি নেওয়ায় জরিমানা

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


নওগাঁয় পটাশ সারের দাম বেশি নেওয়ায় এক সার ব্যবসায়ীর ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেছে

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসময় আরো ৪ টি প্রতিষ্ঠান কে জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন।

সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযানিক কর্মকর্তা "জাতীয় ভোক্তা অধিকার" নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শামীম হোসেন জানান,

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মহোদয়ের অর্পিত ক্ষমতাবলে, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শামীম হোসেন এবং নওগাঁ জেলার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জনাব চিন্ময় প্রামানিক নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার টি এন্ড টি রোড এলাকায়  যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। যৌথ অভিযানকালে পটাশ সারের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করায় সততা স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, সংরক্ষণ , নোংরা কাগজে খাবার পরিবেশন এবং খাবারে আয়োডিন বিহীন লবণ  ব্যবহারের অপরাধে ভাই বোন হোটেল কে ৫শ' টাকা এবং মুন্নী চাঁদনী হোটেল কে ১ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। এসময় অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ বিক্রয়ের অপরাধে হান্নান স্টোর কে ৫ হাজার টাকা এবং মন্ডল স্টোর কে ১০ হাজার টাকা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। 

অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক জনাব আনিছুর রহমান  এবং ধামইরহাট থানা পুলিশের একটি চৌকষ টিম  সহযোগীতা করেন। 

জনস্বার্থে আগামীতেও এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান অভিযানিক কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন।


আরও খবর



বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না

প্রকাশিত:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই বিএনপির সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন চলছে। তবে বিষয়টিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেছেন, জনগণ উন্নতি ও শান্তির জন্য পরিবর্তন চায়। জাতীয় পার্টিই দিতে পারে সেই শান্তি। অবশ্যই তা বিএনপি নয়। বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না।

পাঁচ মাস চিকিৎসার পর (২৭ নভেম্বর) দুপুরে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

রওশন এরশাদ বলেন, বিএনপির সময়ে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের নেতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং আমি ও আমার সন্তানসহ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী জেল খেটেছেন। তখন আমাদের জনসভাও করতে দেওয়া হয়নি। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক জনসভায় হামলা চালানো হয়। সেই দিনগুলো আমরা ভুলবো কী করে? তাছাড়া আমরা তাদের শাসনামলে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপতৎপরতা দেখেছি।

পার্টির ঐক্যের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বলেন, আমি আবারও বলছি, পার্টিকে বিভক্ত করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং আমি জাতীয় পার্টির সব সদস্যকে খোলা মনে আহ্বান জানিয়েছি- যারা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নাজিউর রহমান, কাজী জাফর আহমদের সঙ্গে চলে গেছেন এবং নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন, তাদের ফিরে আসার জন্য। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির কঠিন ও প্রতিকূল সময়ে যারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদেরকে আমাদের অবশ্যই যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে।

তিনি বলেন, আগেও বলেছি, আজও বলছি- আমি সব সময়ই জাতীয় পার্টির ঐক্য চাই। আপনারা সবাই জানেন আমার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আমি দেখেছি গত ৩২ বছরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

তিনি বলেন, এসব ভুল বোঝাবুঝির জন্য এবং পার্টিকে দুর্বল করতে কিছু ষড়যন্ত্র হতে পারে। যেমনটি আমরা ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০১৪ সালে দেখেছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবো এবং ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী জাতীয় পার্টি গড়ে তুলবো।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে রওশন বলেন, মনে রাখবেন রংপুর জাতীয় পার্টি প্রাণ। এটা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি। তাই আসনটি যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। জাতীয় পার্টির প্রতীক ‘লাঙল’ নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হবে এমন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবো, ইনশাআল্লাহ। এজন্য সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি আস্থা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বজায় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দুর্নীতি, অর্থনীতিতে অব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো কিছু ক্রটি রয়েছে। আমি নিশ্চিত যে, প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে অবগত আছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো এই বিষয়গুলোকে আরও ভালোভাবে সমাধান করতে এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের আরও বেশি আন্তরিক ও সক্রিয় হতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনীতি বিশেষ করে ইউক্রেনের যুদ্ধ গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। তাই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত এবং সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।


আরও খবর



শিশুদের মাঝে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া পরিদর্শন করলেন

নারায়ণগঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দান বাংলাদেশে এক শ মিলিয়ন মার্ক অতিক্রম করেছে। মহামারী মোকাবেলায় ইউএস-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের এই মাইল ফলক চিহ্নিত করতে রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বুধবার সকালে কালেক্টরেট প্রিপারেটরি স্কুলে টিকাদান সাইটে নারায়ণগঞ্জের মেয়রের সাথে যোগ দেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রসংশা করে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

আর নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র বলেন, শুধু স্কুলের শিশুরা নয়, বাইরে থেকে এসেও শিশুরা টিকা নিচ্ছে। আর যারা বাদ পড়বে আমরা তাদেরকে এনেও টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করব।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগীতায় ব্রাক আয়োজিত এই কর্মসূচি পালন করা হয়।  তার আগে রাষ্ট্রদূত পিটার সংশ্লিষ্ট সাথে এক মত বিনিময় সভায় অংশ নেন। সবশেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এসময় রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা সেলিনা হায়াৎ আইভী ও  জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ। 


আরও খবর

ই-টিকেটিংয়ে বন্ধ অতিরিক্ত ভাড়া

শুক্রবার ২৫ নভেম্বর ২০২২




রাণীনগরে গভীর নলকূপের ট্রান্সফরমার চুরি

প্রকাশিত:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :

নওগাঁর রাণীনগরে একটি গভীর নলকূপের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের সলিয়া দক্ষিন মাঠ থেকে এই চুরির ঘটনা ঘটে।এঘটনায় শনিবার দুপুরে রাণীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা বেগম বলেন,বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপের অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তার স্বামী জনাব আলী মন্ডল। চলতি আমন মৌসুমে ধানের জমিতে পানি সেচ দেয়ার জন্য গভীর নলকূপ চালু রাখা হয়। হঠাৎ করেই শনিবার সকালে নলকূপে গিয়ে- দেখতে পান নলকূপের তিনটি ট্রান্সফরমার চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে। যার ক্ষতির পরিমান প্রায় তিন লক্ষ টাকা হতে পারে বলে জানান তিনি।

রাণীনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চোরাই ট্রান্সফরমার উদ্ধার ও চোর চক্রকে ধরতে অনুসন্ধান চলছে।


আরও খবর



কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৫ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ভয়ংকর স্বাস্থ্য বিধ্বংসী রূপ নিচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হলেও থামছে না, বরং এর অপব্যবহার বেড়েই চলেছে।অ্যান্টিবায়োটিক, জীবনদায়ী ওষুধ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। মূলত এটি এক ধরনের অণুজীবনাশী পদার্থ; যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু অযৌক্তিক ব্যবহারে ওষুধটি দেশে অকার্যকর হয়ে পড়ছে । চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের অসচেতনতা, অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশে ক্রমেই তা কার্যকারিতা হারাচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি এখন শিশুদের শরীরেও এটি অকার্যকর হয়ে পড়ছে। দুটি আলাদা গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ শিশুর মধ্যে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। ৭০ শতাংশ নিউমোনিয়া রোগীর শরীরে কার্যকারিতা হারিয়েছে চার ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না, এমন রোগীর সংখ্যা ৭ শতাংশ।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সেবনের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। করোনাকালে এই সমস্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এর আগে গত নভেম্বরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজির যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিরাময়ে কাজে আসছে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং এর অকার্যকারিতা উভয়ই রোগীর জন্য অশুভ। বয়স্ক ও শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর বিষয়টিকে অশনিসংকেত বলে মনে করেন গবেষকরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শরীরে সেই ওষুধের প্রতি রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ তৈরি হয়। তখন সৈই ওষুধ আর কাজ করতে চায় না। কারণ শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়া তখন ওষুধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অথচ ব্যাকটেরিয়াজনিত কিছু রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক অপরিহার্য। কিন্তু আগে থেকে এটি কার্যকারিতা হারালে মৃত্যু ছাড়া তখন কোনো গতি থাকবে না। উল্লেখ্য, দেশে প্রায় আড়াই লাখের মতো ওষুধের দোকান আছে। এর মধ্যে এক লাখ বা তারও বেশি অননুমোদিত। প্রতিদিন জ্বর, সর্দি, কাশি, শরীর ব্যথা, আমাশয় আক্রান্ত কয়েক লাখ মানুষ ওষুধের দোকানদার, অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তির পরামর্শে অথবা নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক কিনে সেবন করেন। বেশির ভাগই ব্যবহারে কোনো নীতিমালা মানেন না। এভাবে অনিরাপদ ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিককে অকার্যকর করে তুলছে। এতে করে ভবিষ্যতে কেউই নিরাপদ থাকবে না। অর্থাৎ রোগী, দোকানদার এবং চিকিৎসক সবাই অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারনোর ক্ষেত্রে সবিশেষ ভূমিকা রাখছে।

আমাদের এখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারাচ্ছে। অবশ্য অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ার বা জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই সমস্যাটি নিয়ে আলোচন হচ্ছে, গণমাধ্যমে খবর বের হচ্ছে। তবে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ে না। এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকমতো কাজ না করায় রোগীকে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে, রোগীকে হাসপাতালে বেশি দিন থাকতে হচ্ছে। রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। সংগত কারণে এন্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। আর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। এই সচেতনতা দরকার নীতিনির্ধারকদের, স্বাস্থ্য ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের, হাসপাতাল ব্যবস্থাপকদের, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের, ব্যবস্থাপত্র যারা লেখেন, সেই চিকিৎসকদের, ওষুধের দোকানদারদের, সর্বোপরি সাধারণ মানুষের।


আরও খবর

জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহ কমছে

শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২