Logo
শিরোনাম
বহুল পরিচিত পাঁচ তরিকার বিবরণ

চিশতিয়া তরিকা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম , সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :

চিশতিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম সুলতানুল হিন্দ খাজায়ে খাজেগান গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মঈন উদ্দীন হাসান চিশতী সানজরী রহ.। কাদেরিয়া ও চিশতিয়া এই উভয় তরিকারই উদ্ভব ঘটিয়াছে হযরত আলী রা. হইতে। চিশতিয়া তরিকার শাজারা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সা. হইতে শুরু করিয়া হযরত আলী রা. হইতে হযরত খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী রহ. খেলাফত প্রাপ্তির সপ্তদশ খলিফা।

হযরত খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী রহ. শরিয়তের সকল বিধি নিষেধ পালনের প্রতি সর্বদা সজাগ থাকিতেন। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন ভাবেই শরিয়তের কোন ব্যত্যয় তিনি সহ্য করিতেন না। তিনি ভক্ত-অনুসারীদিগকে শরিয়তে পাবন্দ থাকিবার জন্য কঠোর নির্দেশ দিতেন। এমন কি চিশতিয়া তরিকার অনুসারীগণ যেন কখনও শরিয়তের বরখেলাপ না করিতে পারে, সেই জন্য আহলে চিশতের পরিপালনীয় একটি অজিফা রচনা করিয়া হযরত খাজা কুতুব উদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহ.কে প্রদান করিয়াছিলেন; যাহা হযরত কাকী রহ.-এর স্ব-রচিত দলিলুল আরেফীনগ্রন্থের অষ্টম অধ্যায়ে বিধৃত হইয়াছে।

আহলে চিশতের জন্য প্রদত্ত এই অজিফা দান কালে তিনি বলেন, “বুজুর্গানে দ্বীন হইতে আমি যে অজিফা লাভ করিয়াছি, তাহা পালনে সুদৃঢ় রহিয়াছি। মনে রাখিও, রাসূল সা. বলিয়াছেন: তারিকুল বিরদি মালউন অর্থাৎ অজিফা ত্যাগকারী অভিশপ্ত।

একই ভাবে তিনি তাহাদিগকে সূফী দর্শনের গূঢ় রহস্য পূর্ণ বিষয় গুলি সম্পর্কেও দীক্ষা প্রদান করিতেন। চিশতিয়া তরিকায় নিজকে জানিবার বা দেহ তত্ত্বের তালিম গ্রহণের বিশেষ গুরুত্ব রহিয়াছে। এই তালিমের চূড়ান্ত পর্য্যায়ে উন্নীত না হওয়া পর্য্যন্ত কেহ এই তরিকায় কামালিয়ত অর্জন করিতে পারে না বা তাহার পক্ষে সূফী-দরবেশ পর্য্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। দেহ তত্ত্বের প্রধান সাধনা হইল আনাসির-এ-খামসা বা পঞ্চভূত (পঞ্চ উপাদান)। এই সাধনার গুরু হযরত মুহাম্মদ সা.। তাঁহার নিকট হইতে হযরত আলী রা., হযরত আলী রা. হইতে হযরত হাসান বসরী রহ. এই তালিম লাভ করেন। সিনা-ব-সিনা চলিয়া আসা এই তালিম হযরত ওসমান হারুনী রহ.ও লাভ করেন। এই তালিম গুলি লিপিবদ্ধ ছিল না। হযরত খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী রহ. তালিম গুলি সু-শৃঙ্খল ভাবে সাজাইয়া গুছাইয়া লিপিবদ্ধ করেন।

চিশতিয়া তরিকা মতে আব, আতশ, খাক, বাদ ও নূর যথাক্রমে পানি, আগুন, মাটি, বায়ু এবং নূরকে আনাসির-এ-খামসা বা পঞ্চ উপাদান নামে অভিহিত করা হয়। সমুদয় সৃষ্টি জগতের মূল উৎস এই পঞ্চ উপাদান। সমুদয় জড় বস্তু ও প্রাণী দেহে আনাসিরে আরবায়াবা চার উপাদান যেমন পানি, আগুন, মাটি ও বায়ুর সংমিশ্রণ ঘটিয়াছে। আর চার উপাদানের মূলে রহিয়াছে নূর বা এক জ্যোতির্ম্ময় সত্তা। প্রত্যেক উপাদানে রহিয়াছে পাঁচটি গুণ বা সিফাত।

উহা আবার তিন শ্রেণীতে বিভক্ত। যথা:

১. আহাদিয়াত : এই স্তরে মহিমান্বিত আল্লাহ আপনাতেই বিদ্যমান এবং অতি সূক্ষ্মাতি সূক্ষ্ম দরিয়া রূপে রহিয়াছেন। এই পর্য্যায়ে তিনি একক ও অদ্বৈত।

২. ওয়াহিদাত : এই স্তরে তিনি তাঁহার ইরাদা বা আকাক্সক্ষা বা এশক (প্রেম) হইতে নূরে মুহাম্মদী সা. সৃষ্টি করেন।

৩. ওয়াহেদিয়াত : এই স্তরে নূরে মুহাম্মদী সা. হইতে তিনি নিজেকে বিশ্ব চরাচর সৃষ্টির সঙ্গে আহমদরূপে প্রকাশ করেন। এই কারণেই কুরআনের পূর্বে সকল ধর্ম্ম গ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ সা.কে আহমদউল্লেখ করা হইয়াছে।

হযরত সুরেশ্বরী রহ. তাঁহার রচিত আধ্যাত্মিক ঊর্দু গ্রন্থ সিররেহক্ক জামেনূর”- লেখকের ভূমিকায় লিখেছেন আহাদএবং আহমাদএর মধ্যে মীমএর পার্থক্য কেবল হামদ্ ও নাতের জন্য।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য পংক্তিতে সেই সুরই ধ্বনিত হইয়াছে এই ভাবে

আহমদের ঐ মীমের পর্দা উঠিয়ে দেখ মন
আহাদ সেথায় বিরাজ করে হেরে গুণীজন ॥

যে চিনতে পারে রয় না ঘরে হয় সে উদাসী
সে সকল ত্যাজি ভজে শুধু নবীজীর চরণ ॥

এই তালিমকে মান আরাফা নাফসাহুএর তালিমও বলা হয়। এই তালিম রপ্ত না করা পর্যন্ত কেহই প্রকৃত সূফী বা চিশতিয়া তরিকার পীর হইবার যোগ্য নহে।

চিশতিয়া তরিকায় সামা প্রচলিত রহিয়াছে। মাঝে মাঝে এই তরিকা পন্থীগণ সামার অনুষ্ঠান করেন। ইহাতে তাহারা জজবার হালতে পৌঁছেন। সামার দ্বারা আল্লাহর প্রেম বর্ধিত হয়। তাই চিশতিয়া তরিকার মাশায়েখগণ সামাকে রুহানী গেজা বা আত্মার খোরাকবলেন।

একই ভাবে চিশতিয়া তরিকায়ও কালেমা তাইয়্যেবা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহযথা : লাম, আলিফ, আলিফ, লাম, হা, আলিফ, লাম, আলিফ, আলিফ, লাম, লাম, হা নোক্তা বিহীন এই বারোটি বর্ণের খাস তালিমের বিধান রহিয়াছে। এই তরিকার প্রধান দুইটি উপ তরিকা হইল: প্রধান খলিফা সুলতানুল মাশায়েখ হযরত নিজাম উদ্দিন রা.-এর নামানুসারে নিজামিয়াও অন্যতম খলিফা হযরত মখদুম আলী কালিয়ারী রা.-এর নামানুসারে সাবেরিয়াপৃথিবীতে অদ্যাবধি রহিয়াছে।


আরও খবর



ছাগলকাণ্ডের সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস রিপোর্ট:

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। 

অবৈধভাবে আমদানি নিষিদ্ধ আমেরিকান ব্রাহামা জাতের গরু চোরাচালান, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে তা কোটি টাকা দাম হাঁকিয়ে বিক্রির বিষয়ে সোমবার (১ জুলাই) দুদকের একটি দল অভিযান চালায় সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে।



 অভিযান চলাকালে জব্দ করা হয় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নথিপত্র।


অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এসময় কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পরিচালক ডা. মনিরুল ইসলামের সাথে কথা বলেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা।


দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০২১ সালে ১৮টি আমেরিকান ব্রাহামা জাতের গরু বাংলাদেশে এনে তোলপাড় সৃষ্টি করেন ইমরান। 



আমদানি নিষিদ্ধ থাকায় ব্রাহমা জাতের গরু বাজেয়াপ্ত করে ঢাকা কাস্টমস। গরুগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে রাখা হয়। পরে রহস্যজনকভাবে গরুগুলো চলে যায় ইমরানের সাদিক অ্যাগ্রোতে।


কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পরিচালক ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, ব্রাহমা জাতের গরুগুলো আমদানি নিষিদ্ধ হলেও ফ্রিজিয়ান জাত বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এনেছিলেন সাদিক অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. ইমরান হোসেন।



পরে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মাংস বিক্রির শর্তে ব্রাহমা জাতের সেই গরুগুলোকেই কৌশলে নিলামে তুলে নিয়ে যান সাদিক অ্যাগ্রোতে। নিলামে বিক্রি হওয়া গরুগুলো জবাই করে সেই মাংস ঈদুল ফিতরের সময় সুলভ মূল্যে বিক্রির কথা থাকলেও তা করেনি সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরান হোসেন। 



পরিবর্তে কমদামি গরুর মাংস বিক্রি করে ব্রাহামা জাতের সেই গরুগুলো উচ্চ বংশের গরু বলে কোটি টাকা দাম হাঁকিয়ে আলোচনায় আসে সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরান। একইভাবে যশোর থেকে সংগ্রহ করা একটি ছাগলের ১৫ লাখ টাকা দাম হাঁকিয়ে ১২ লাখ টাকায় বিক্রিকাণ্ড থেকে বের হয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ড. মতিউর রহমানের গোপন রাখা স্ত্রী ও সন্তানদের পরিচয়। পরে একে একে বের হয়ে আসে তার সম্পদের পাহাড়।




এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নীতিমালার আলোকে যেসব গরুর জাত পালনের অনুমতি আছে সেখানে ব্রাহামা জাতের কোনো অনুমোদন নেই। ফলে এই জাত পালনের কোনো অনুমোদন আমরা দেইনি।



 কিন্তু অবৈধভাবে আনা ব্রাহামা গরুগুলো ছিল প্রজনন অনুপযোগী। ফলে নিয়ম অনুসারে এসব প্রজনন অনুপযোগী গরু খামারিদের সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি। 



কিন্তু ইমরান কৌশলে এসব গরু নিজের নামে নিয়ে নিয়েছেন। আবার এসব গরুর মাংস বিক্রি না করে কোরবানির পশু হিসেবে বাজারেও বিক্রি করেছেন।



আরও খবর



ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image


বিডি টুডে রিপোর্ট:



ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 


আজ শনিবার (২২ জুন) ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে তাকে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। খবর এএনআইয়ের।



অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দুই নেতা উভয় দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, রাজ্যের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ও কীর্তি বর্ধন সিং উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার বিকেলে দ্বিপাক্ষিক সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে গেলেন তিনি। গত ৯ জুন মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।



শেখ হাসিনা ও মোদির মধ্যে আজ ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক হবে এবং এরপর প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া দুই নেতা উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের উপস্থিত থাকবেন।



এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হায়দরাবাদ হাউসে নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। 


সন্ধ্যায় তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।



আরও খবর

সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির আভাস

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




দেশব্যাপী বিতর্কের মুখে ভারতে নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর, দিল্লিতে প্রথম মামলা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডিজিটাল ডেস্ক :


ব্রিটিশ আমলের ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ধারা বদলে তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন আগেই পাশ হয়েছিল।



 সোমবার (১ জুলাই) থেকে তা চালু হয়েছে দেশটিতে। অবশ্য চালু করার আগে এই আইনগুলো নিয়ে আরো বেশি আলোচনা-পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়েছেন বিরোধীরা। খবর ডয়চে ভেলে ও ইন্ডিয়া টুডের।



নতুন যে তিনটি আইন চালু হলো সেগুলো হলো- ভারতীয় নয়া সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম। এর আগে এই ধারাগুলো ছিল ব্রিটিশদের তৈরি তিনটি আইনে।



 ইন্ডিয়ান পেনাল কোড (আইপিসি), কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর এবং দ্য ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট। ব্রিটিশ আমলের এই তিনটি আইন বাতিল করে নতুন এই তিনটি আইন চালু করা হলো।



বস্তুত, এই তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই আইন নিয়ে বলেছেন, এর ফলে ভারতে ফৌজদারি বিচারের গতি আগের চেয়ে অনেকটাই দ্রুত হবে।



নতুন আইনগুলো পুরোনো আইনের থেকেই তৈরি করা। কিন্তু তাতে বেশ কিছু বদল আনা হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, প্রথম শুনানির ৬০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করতে হবে।



 বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সাজা ঘোষণা করতে হবে। অর্থাৎ, বিচারপ্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক দ্রুত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে নতুন আইনে। 


নতুন আইন অনুযায়ী, দেশের যে কোনো প্রান্তে বসে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা যাবে। অর্থাৎ, যে অঞ্চলে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, কেবল সেই অঞ্চলের থানায় গিয়েই এফআইআর করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম আর থাকল না। 



যে কোনো পুলিশ স্টেশন যে কোনো অঞ্চলের এফআইআর নিতে বাধ্য থাকবে। পাশাপাশি অনলাইনেও অভিযোগ নথিভুক্ত করা যাবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সমন পাঠানো যাবে।


নতুন আইনে বলা হয়েছে, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ক্রাইম সিন বা অপরাধ যেখানে সংঘটিত হয়েছে সেই জায়গার ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। বস্তুত, ক্রাইম সিনের ভিডিওগ্রাফি এখনো হয়। কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয়। নতুন আইনে তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


সাত বছরের বেশি সাজা হতে পারে যে অপরাধে, তেমন ঘটনায় ফরেনসিক দলকে ক্রাইম সিনে যেতেই হবে। গণপ্রহার, গণধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের মতো অপরাধের ক্ষেত্রেও ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে যেতে হবে।


এর ফলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তৈরি হয় জাতীয় ফরেনসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই মুহূর্তে ভারতে ৯টি রাজ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ১৬টি রাজ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হবে।



কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, নতুন আইন খুব দ্রুত চালু করা হচ্ছে। এই আইনগুলো নিয়ে আরো বেশি আলোচনা হওয়ার প্রয়োজন ছিল। এর সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়েও আলোচনা করা দরকার ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও একই কথা বলেছেন। তার বক্তব্য, ‘এই আইনগুলো নিয়ে আরো বেশি পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল।’


তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় নতুন আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি একটি অভূতপূর্ব সময়। ভারতে দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে ফৌজদারি আইন। সেই আইনের ঐতিহাসিক সংস্কার হলো।


এদিকে নতুন এই আইনের অধীনে দিল্লিতে ইতিমধ্যে একটি মামলাও নথিভুক্ত হয়েছে। দিল্লির কমলা মার্কেট থানায় এ মামলা নথিভুক্ত হয়। এক জন হকারের বিরুদ্ধে রাস্তা আটকে ব্যবসা করার অভিযোগে এ মামলা হয়।


আরও খবর



নওগাঁয় পুকুরের পানিতে ডুবে ৩ বছর বয়সী যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

নওগাঁয় পুকুরের পানিতে ডুবে ৩ বছর বয়সী লক্ষণ ও রাম নামের আপন দুই যমজ ভাইয়ের মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২ টারদিকে নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার পশ্চিম চকভবানী গ্রামে পুকুরের পানিতে পড়ে জমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক এমৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু লক্ষণ ও রাম ঐ গ্রামের সুজিত ওরাওঁ এর যমজ সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালের খাবার খেয়ে জমজ দুই ভাই বাড়ির পাশে খেলতে থাকে। খেলার কোন এক পর্যায়ে সবার অগোচরে দুই ভাই বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে পড়ে ডুবে যায়। শিশুদের দেখতে না পেয়ে তাদের খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে শিশু দুটি জমজ দু' ভাইয়ের লাশ পুকুরের পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায় তারা। যমজ দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামইরহাট থানায় অফিসার ইনচার্জ বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন , দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে গিয়েই তারা পানিতে ডুবে মারা গেছে।


আরও খবর



গোপন বিয়ের খবর ফাঁস, প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন ববি

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিনোদন ডেস্ক:


‘নির্মাতাকে পিটিয়েছেন নায়িকা’ এমন খবর এখনও তাজা দেশের শোবিজাঙ্গনে। 



এর মধ্যেই ফাঁস হলো সেই নায়িকা ইয়ামিন হক ববির গোপন বিয়ের খবর। তবে বিষয়টিকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন তিনি।



গণমাধ্যমকে ববি বলেন, এগুলো পুরোপুরি মিথ্যা সংবাদ। আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য কেউ এগুলো ছড়াচ্ছে। সবাইকে আহ্বান করবো, এসব গুজবে কান না দেওয়ার জন্য।


এর আগে জানা যায়, গোপনে বিয়ে করেছেন আলোচিত এই নায়িকা। বরের নাম আবুল বাশার। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী।



 ঈদের সপ্তাহখানেক আগে একটি শুটিংয়ে ববি তার বরকে নিয়ে হাজির হলে, ঘনিষ্ঠজনরা প্রথম তার বিয়ের খবরটি জানতে পারেন।


আরও খবর