Logo
শিরোনাম

ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

ঢাকার বাতাসের মান আজ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে ১৩২ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শহরটির স্থান তৃতীয়।

১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে বাতাসের মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়, ৩০০ থেকে ৪০০ একিউআই স্কোরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ভারতের দিল্লি ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসা যথাক্রমে ১৭৬ ও ১৭০ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা।

সূত্র : ইউএনবি


আরও খবর



তারল্য সংকট ব্যাংক ঋণে

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image



বিডি টু ডে  রিপোর্ট:


সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, উচ্চ সুদহার এবং তারল্যসংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের ঋণ বিতরণে। পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকায় চলতি বছরের এপ্রিলে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আগের মাসের তুলনায় কমেছে। 


এপ্রিলে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৯.৯০ শতাংশ, যা বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তার আগে মার্চে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৪৯ শতাংশ।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ১০ শতাংশ। সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের নিচে নেমে এসেছে। 


আর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.৬২ শতাংশ। এরপর টানা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে।



একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ঋণ বিতরণ বেড়েছিল। কিন্তু ঈদের পরেই এপ্রিলে এসে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে। আর অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন করে ব্যবসা সম্প্রসারণে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। 


আবার গত বছরের জুলাইয়ের পরই ঋণের সুদহার বেড়েছে অনেক বেশি। জুনের পর সর্বোচ্চ সুদহারের সীমা ৯ শতাংশ তুলে দেওয়ার পরই তা ক্রমান্বয়ে বেড়ে ১৪ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সে জন্য ব্যবসায়ীরা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদহারকেও বিবেচনায় নিয়ে কম ঋণ নিচ্ছেন। আবার অনেক ব্যাংক নগদ টাকার সংকটে ঋণ বন্ধ রেখেছে। 


এজন্য ঋণের প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে কমছে। এছাড়া ধারাবাহিকভাবে ডলারের রেট বাড়ছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানি করার ক্ষেত্রে নানা হিসাব করছেন; যার কারণে ঋণের প্রবৃদ্ধি হ্রাসে একটা প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.২৮ শতাংশ। এই ঋণ বিতরণের হার কমে মে মাসে দাঁড়ায় ১১.১১ শতাংশ। জুন মাসে প্রবৃদ্ধির হার কমে হয় ১০.৪০ শতাংশ এবং জুলাই মাসে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯.২৮ শতাংশ। 


আগস্টে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৭৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ছিল ৯.৬৯ শতাংশ। তবে অক্টোবরে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ১০.০৯ শতাংশ হয়। পরে নভেম্বরে কমে তা হয় ৯.৯০ শতাংশ। ডিসেম্বরে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০.১৩ শতাংশে। 


এরপর আবার কমতে শুরু করে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৯.৯৫ শতাংশ এবং ৯.৯৬ শতাংশে। কিন্তু মার্চে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি। 


মার্চে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৪৯ শতাংশ। তার পরের মাস এপ্রিলে আবার কমে তা এক ডিজিটের ঘরে নেমে আসে। এ মাসে ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৯.৯০ শতাংশ।


আরও খবর



রোহিঙ্গাদের অনিরাপদ স্থানে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অবস্থান দৃঢ়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image

  ডিজিটাল ডেস্ক:


রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনিরাপদ স্থানে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অবস্থান দৃঢ় বলে জানিয়েছেন সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডোজারিক। 


তিনি বলেন, শরণার্থীদের জোর করে 'নিরাপদ নয়' এমন জায়গায় ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছি।


রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করা আইনি প্রতিষ্ঠান গার্নিকা থার্টিসেভেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।



স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ মে) প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা আর কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিবে না। কর্তৃপক্ষ কি নতুন করে শরণার্থী নিতে সম্মত হয়েছে? 


ভারত জোরপূর্বক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধ্য করছে বলে সম্প্রতি গার্নিকা থার্টিসেভেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যে অভিযোগ দায়ের করেছে, সে বিষয়ে জাতিসংঘের মন্তব্য কী?


প্রশ্নের জবাবে স্টিফেন ডোজারিক আরও বলেন, এটুকু বলতে পারি, শরণার্থীদের জোর করে 'নিরাপদ নয়' এমন জায়গায় ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছি। শরণার্থীদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে স্বেচ্ছায় ঘরে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।



তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্পষ্টতই একটি বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত উদার আশ্রয়দাতা হয়ে উঠছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের স্থানীয় সম্প্রদায় অত্যন্ত উদার। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেখানে আমাদের মানবিক কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।


আরও খবর



ভারতে নির্বাচন ঘিরে গুজবের ছড়াছড়ি, ফলাফলের অপেক্ষায় জনগণ

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image



সিনিয়র প্রতিবেদক:


ভারতের জাতীয় নির্বাচন শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল। ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই নির্বাচন ছিল অন্য যেকোনো বারের তুলনায় অন্যরকম। 


ঘাত-প্রতিঘাত, সংঘাতের তথ্যও ছড়িয়েছিল বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে, অনলাইন, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া গুজব ছিল অন্য যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত। 


এ সবকিছু ছাপিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে দেশটির জনগণ। আগামীকাল মঙ্গলবার জানা যাবে, ভারতের নতুন ভাগ্য নির্মাতার নাম। খবর এএফপির।


ফরাসি সংবাদ সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের নির্বাচন হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই নির্বাচন ঘিরে অনলাইনে অনেক মিথ্যা সংবাদ, তাৎক্ষণিক বার্তা, বিকৃত ভিডিও ও মনগড়া ক্যাপশনের পাশাপাশি অসংগতিপূর্ণ ছবি পোস্ট করা হয়।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইন্ডিয়া হেট ল্যাব সংস্থাটি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং গুজব নিয়ে গবেষণা করে থাকে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ফ্যাক্ট চেকাররা ছয় সপ্তাহ ধরে সাত ধাপের ভোটদানের প্রক্রিয়াতে ৪০টিরও বেশি নির্বাচন সম্পর্কিত গুজব রটানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা রাজনৈতিক বিভাজনকে বাড়িয়ে তোলে। 



সংস্থাটির রকিব হামিদ নায়েক জানান, ভারতের এই নির্বাচনে নজিরবিহীন গুজব ছড়াতে দেখা গেছে। এমনকি, এসবের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে উসকে দেওয়ার মতো ষড়যন্ত্রও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। 


নির্বাচন ঘিরে মিথ্যা ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করা হয়েছে বলে জানানো হয়। বলা হয়, ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বলিউড তারকারা বিরোধী দলগুলোকে সমর্থন করছে এবং একজন ব্যক্তি একাধিক ভোট প্রদান করছে। তবে, তা মিথ্যা।



ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভারতের ২০ কোটিরও বেশি সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও ভয় ও বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য সমালোচনার মুখে পড়ে।



 ভিডিওগুলোতে বেশিরভাগ মোদির নিজের বলা উসকানিমূলক বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। যেখানে বলা হয়, বিরোধীদলগুলো, বিশেষ করে কংগ্রেস মুসলমানদের পক্ষে ভারতের সম্পদ বিতরণ করার পরিকল্পনা করছে।



ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের রকিব হামিদ নায়েক বলেন, এই ধরনের পোস্টের উদ্দেশ হলো—ধর্মীয় ভিত্তিতে ভোটারদের মেরুকরণ করা এবং মুসলমানদের প্রতি অন্যদের ভয় ও শত্রুতা সৃষ্টি করা। 


ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে জয় লাভের জন্য ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানোর কৌশল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কেবল দুর্বলই করেনি, সমাজে বিভাজন ও ঘৃণার বিপজ্জনক বীজও বপন করছে।


নির্বাচনে প্রথম থেকে রাজনৈতিক প্রচারণায় গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর পিছনে প্রধান লক্ষ্য ছিলেন বিরোধী কংগ্রেস দলের নেতা রাহুল গান্ধী। তার বক্তব্য, ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হতো অসম্পূর্ণ বা অপ্রাসঙ্গিক উপায়ে। 



আবার অনেক লেখায় দেখা যায়, রাহুল গান্ধী জনগণকে মোদিকে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, যা ছিল মিথ্যা তথ্য ও গুজব।গুজবের আরও কিছু উদাহরণের মধ্যে ছিল ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ভারতের সদ্ভাব হওয়া।


এ সময় একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হিন্দু মন্দিরের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দাবি করা হয় মন্দিরটি ধ্বংসের জন্য রাহুল গান্ধী দায়ী, যা মূলত পাকিস্তানের একটি মন্দিরের ছবি ছিল।



আরও খবর



শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি ছাড়ার বার্তা দিলেন ফখরুল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

মাজহারুল ইসলাম মাসুম / সদরুল আইন:


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন—এমন বার্তা তিনি দিয়েছেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে।


 লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকেও তার অভিপ্রায়ের কথা জানিয়েছেন বলে একটি সূত্র  নিশ্চিত করেছে। তবে তারেক জিয়া তাকে এখনই রাজনীতি না ছাড়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও সেই সূত্রটি জানিয়েছে। 


উল্লেখ্য যে, এখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। ২৮ অক্টোবরের বিএনপির তাণ্ডবের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময়ে তিনি সাড়ে তিন মাসেরও বেশি জেলে ছিলেন। জেলে থাকাকালীন সময় তার বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে বলে তার পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


 বিশেষ করে তার হার্টের যে পুরনো সমস্যা তা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। সিঙ্গাপুরে যে চিকিৎসককে মির্জা ফখরুল দেখিয়েছেন বা যাকে তিনি নিয়মিত দেখান, তিনি তাকে এখন বেশি করে বিশ্রাম নেওয়া, চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা এবং কোন রকম স্ট্রেস না নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে পারিবারিকভাবে তার ওপর চাপ এসেছে যে রাজনীতির চাপ কমিয়ে ফেলার জন্য।



বিএনপির মহাসচিব হিসেবে শুধু নয়, বিএনপির এখন তিনিই প্রধান সার্বক্ষণিক নেতা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেয়ে ফিরোজা অবস্থান করছেন। তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে না। 


অন্যদিকে তারেক জিয়া লন্ডনে পলাতক। তিনিও একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা সহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত। এরকম বাস্তবতায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর দল পরিচালনার দায়িত্ব এসেছে এবং তিনি সার্বক্ষণিকভাবে দলের জন্য কাজ করছেন। তাই তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে বলে তার বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে।


 বিশেষ করে সাড়ে তিন মাস কারা জীবনের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শরীরে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে বলেও তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যাগুলো ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করেছে। আর এ কারণে তার দীর্ঘমেয়াদি বিশ্রাম প্রয়োজন বলেও চিকিৎসকরা তাকে পরামর্শ দিচ্ছেন।


 সবকিছু মিলিয়ে রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে ভাবে সক্রিয় ছিল, তেমনটি তার পক্ষে সক্রিয় থাকা আর সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 


চিকিৎসকের সাথে পরামর্শের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় বিএনপির অন্তত দু জন নেতাকে জানিয়েছেন যে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ডাক্তার তাকে দীর্ঘ বিশ্রামের কথা বলেছেন। এই অবস্থায় মহাসচিবের দায়িত্ব তার পক্ষে পালন করা কতটুকু সম্ভব, সেই নিয়ে তিনি নিজেই সন্দিহান। 


তবে বিএনপি রাজনীতি থেকে তিনি দূরে যাবেন না। বিএনপির সঙ্গেই তার রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকবে। 



একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। এই দলের জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত এমন বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হল যে তিনি দলের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের মতো শারীরিক অবস্থায় নেই। 


উল্লেখ্য যে, বিএনপির একাধিক নেতা এখন শারীরিক ভাবে অসুস্থ এবং দায়িত্ব পালনে অক্ষম। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রোগ শোকের সঙ্গে লড়াই করছেন। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন না। 


বিএনপির আরেক নেতা জমির উদ্দিন সরকার বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকেও দলের কর্মকাণ্ডে খুব একটা দেখা যায় না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াও দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। 


এই অবস্থায় ফখরুলও যদি অসুস্থ হয়ে রাজনীতির থেকে দূরে যান তাহলে কিএনপির হাল ধরবে কে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।



আরও খবর



স্ত্রীর মর্যাদা দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার কাছে ছাত্রলীগ নেত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

বিডি ডেস্ক রিপোর্ট :



সামাজিকভাবে বিয়ের স্বীকৃতি ও স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করতে গিয়ে ছাত্রলীগের  কেন্দ্রীয় কমিটির এক সহসভাপতির কাছে মারধরের শিকার হয়েছেন এক তরুণী।



 তার ভাষ্য, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের ওই নেতা তাকে বিয়ে করেছেন এবং জোর করে গর্ভপাত ঘটিয়েছেন। অভিযোগকারী তরুণী ইডেন কলেজের ছাত্রলীগ নেত্রী। তবে বন্ধুত্বের বাইরে অন্য কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে শাহাদাত বলছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই ভিত্তিহীন।


 বন্ধুত্বের বাইরে তাদের আর কোনো সম্পর্ক ছিল না; বরং অনেক দিন ধরে তাকেই মানহানিসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।


জানা গেছে, শাহাদাতের প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৪ মে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে লিখিত অভিযোগ করেন ওই তরুণী। এতে বলা হয়, ফুয়াদ হোসেন শাহাদাতের সঙ্গে তার ১০ বছরের সম্পর্ক। 


এই দীর্ঘ সময়ে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নানা ধরনের অন্যায়ের বিষয়ে তিনি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অবহিত করেন। ওবায়দুল কাদের বিষয়টি মীমাংসার জন্য ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেন। সে অনুযায়ী গত ৫ এপ্রিল মীমাংসার সময় নির্ধারণ করা হয়।


কিন্তু এর দুদিন আগে পারিবারিকভাবে সমাধানের কথা বলে শাহাদাত তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, বাসায় যাওয়ার পর সমাধানের পরিবর্তে শাহাদাত তাকে এলোপাতাড়ি লাথি মারে এবং গুরুতর জখম করে। 


নিরুপায় হয়ে তিনি ৯৯৯-এ কল করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। সেখান থেকে বেরিয়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফকে বিষয়টি জানান। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।


অভিযোগপত্রে ওই তরুণী বলেন, ‘আমি সামাজিকভাবে স্বীকৃতি চাওয়ার পর থেকেই শাহাদাত আমার পরিবারের সবার নামে মামলা দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। এমনকি আমাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি প্রদান ও আমার মান-সম্মান যাতে না থাকে, সেই ব্যবস্থা করার হুমকি দেয়।


 তাই তার এসব কার্যকলাপে আমি আতঙ্কিত। ২০১৬ সালে মুসলিম আইন অনুসারে আমাদের বিয়ে হয় এবং সব ডকুমেন্ট নিজের কাছে আটকে রাখে। পরে তা অস্বীকার করে।’


বিষয়টি নিয়ে গত ২৬ মে হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী। এতে বলা হয়, ‘ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত আমার স্বামী। তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয় ২০১৬ সালে। পারিবারিক কলহের পর সে গত ১৮ মে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং মিথ্যা মামলা দেবে বলে হুমকি প্রদান করেছে।’ 


 গত বছরের ৩ নভেম্বর একই থানায় ওই তরুণীর বিরুদ্ধে ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।


চলতি বছরের এপ্রিলে শাহবাগ থানায় করা আরেকটি জিডিতে তিনি (ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত) উল্লেখ করেন, গত ৩ এপ্রিল ওই তরুণী হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল দিয়ে শাহাদাতকে বলেন, তার (তরুণী) কথা যদি শাহাদাত না শোনেন এবং কথামতো যদি কাজ না করেন, তাহলে তিনি তার কণ্ঠ নকল করে এআই বা অ্যাপের মাধ্যমে অপ্রীতিকর মন্তব্য ছোট ছোট অডিও ক্লিপ বানিয়ে সবার কাছে পাঠাবেন। 


কণ্ঠ ক্লোন করে এসব ক্লিপ বানানো হবে গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে নিয়ে, যাতে প্রয়োগ করা হবে খারাপ ও অশ্লীল শব্দ।’


সার্বিক বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, ‘গত ২৪ মে এ বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে সাংগঠনিক ব্যস্ততা থাকায় এ নিয়ে কাজ করতে পারিনি। শিগগির আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং তদন্তসাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


আরও খবর