Logo
শিরোনাম

ঢাকায় থাকলো না প্লট ভিত্তিক আবাসন পদ্ধতি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ সেপ্টেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :   নগর এলাকায় জায়গার স্বল্পতা থাকায় অপেক্ষাকৃত কম জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্লকভিত্তিক উন্নয়ন জরুরি। 

নতুন পরিকল্পনার উদ্দেশ্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান রেখে অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট প্লট একত্রীকরণ। এর ফলে বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট ইমারত নির্মাণ করা যাবে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ খরচও কমে যাবে। 

তাছাড়া যত্রতত্র নগরাঞ্চল সম্প্রসারণ কমিয়ে আনা এবং শহরের নিচু জমি ও কৃষিজমির সুরক্ষা করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

ড্যাপের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্বের অনুপাতে সেখানকার নাগরিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ঢাকাকে একটি উন্নত বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা। 

২০৩৫ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত এলাকাজুড়ে পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তুলে আরও ২.৬ কোটি লোকের বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যও রয়েছে ড্যাপের।

ঢাকার সবচেয়ে জনবহুল এলাকা যেমন লালবাগ, বংশাল, সবুজবাগ এবং গেন্ডারিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করেছে ড্যাপ। এই এলাকাগুলোতে প্রতি একরে ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাস করে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ।

কেন্দ্রীয় ঢাকায় প্রতি একরে ২০০ জন এবং পুরান ঢাকার এলাকায় প্রতি একরে ২৫০ জনের ঘনত্ব বজায় রাখতে চায় ড্যাপ।

আবাসন খাতের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, প্লট হাউজিং স্কিমের পরিবর্তে ব্লক-ভিত্তিক ব্যবস্থা করা আবাসন খাতকে হুমকির মুখে ফেলবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে ড্যাপের ঢাকায় ভবন নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়ন না করার জন্য অনুরোধ করেছিল রিহ্যাব। তারা আশঙ্কায় করেছিল, এ পরিকল্পনা আবাসন খাতের ২৬৯টি সহযোগী শিল্পকেও প্রভাবিত করবে।

এ সময় ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম রিয়েলটরদের দাবিকে 'সম্পূর্ণ অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেন।

তিনি সেসময় বলেন, "আমরা ২০৩৫ সালের ঢাকার ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে পরিকল্পনাটি তৈরি করেছি যাতে কোনো এলাকা অতিরিক্ত জনবহুল না হয়। পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা মিশ্র ভূমি ব্যবহারের জন্য কিছু নিয়ম-কানুন প্রস্তাব করেছি।"

ড্যাপ ২০১৬-২০৩৫ এ যা আছে

প্রকল্প এলাকাকে ছয়টি স্বতন্ত্র প্রধান অঞ্চলে এবং ৭৫টি উপ-অঞ্চলে বিভক্ত করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকাসহ কৃষি, প্রাতিষ্ঠানিক, জলাশয়, বনাঞ্চল, উন্মুক্ত স্থান, যোগাযোগ, বন্যা প্রবাহ ইত্যাদি এলাকাসমূহ পরিকল্পনায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজউকের ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৬০ শতাংশ শহরাঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ড্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ২২৮ কিলোমিটার আন্তঃআঞ্চলিক সংযোগ সড়ক রয়েছে, যা বাড়িয়ে ২৯১ কিলোমিটার করা হবে। এছাড়া সংগ্রাহক সড়কটিকে ১২০০ কিলোমিটার প্রসারিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পাশাপাশি, শহরে ২০২ কিলোমিটার সাইকেল লেন এবং ৫৭৪ কিলোমিটার জলপথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ড্যাপে বুড়িগঙ্গা নদীকে ঘিরে একটি সাংস্কৃতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে সংরক্ষণ করে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করার পরামর্শও রয়েছে পরিকল্পনায়।

ঢাকার চারদিকে মোট ১৩টি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এবং ২টি ট্রাক টার্মিনালের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

জনমানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী বিদ্যমান রাসায়নিক গুদামসমূহ পর্যায়ক্রমে স্থানন্তরের সুপারিশ করা হয়েছে পরিকল্পনায়।

 


আরও খবর

ই-টিকেটিংয়ে কমেছে ভাড়ার নৈরাজ্য

মঙ্গলবার ২৯ নভেম্বর ২০২২

ই-টিকেটিংয়ে বন্ধ অতিরিক্ত ভাড়া

শুক্রবার ২৫ নভেম্বর ২০২২




গ্যাস থাকবেনা টানা সাত দিন

প্রকাশিত:শনিবার ০৫ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

সঞ্চালন লাইন মেরামত কাজের জন্য ঢাকার কিছু অংশ নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি এলাকায় এবং মুন্সীগঞ্জে  টানা এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন বা বন্ধ থাকতে পারে। বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি শনিবার এক জরুরি নোটিসে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।

রোববার (৬ নভেম্বর) থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলের ৩০ ইঞ্চি পাইপের মেরামত কাজের জন্য এই পরিস্থিতি বিরাজ করবে।

তিতাসের বার্তায় বলা হয়, ‘জিটিসিএল কর্তৃক আগামী ০৬ নভেম্বর রোববার থেকে ১২ নভেম্বর শনিবার পর্যন্ত বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ ৩০ ইঞ্চি ব্যাস, ৬০ কি.মি. দীর্ঘ উচ্চচাপ বিশিষ্ট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে ইন্টেলিজেন্ট পিগিং করা হবে। এর ফলে এই সময়ের মধ্যে তিতাস গ্যাসের অধিভূক্ত ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ অংশের আংশিক এলাকা, জিঞ্জিরা, কেরানীগঞ্জ, মেঘনাঘাট, সোনারগাঁও, হরিপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফতুল্লা ও মুন্সীগঞ্জ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন ঘটবে। কোথাও কোথাও স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে।’

নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপনন বিভাগের ডিজিএম মামুনুর রশীদ জানান, ‘জিটিসিএলের সঞ্চালন লাইন পরিষ্কার করা হবে। এর ফলে গ্যাসের চাপ কিছুটা হলেও কমে গেছে। পাইপের ভেতর থেকে মরিচা পরিষ্কার করার পরে গ্যাসের চাপ বাড়বে।


আরও খবর



বিজিবি সদস্যর গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৮ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


বিজিবি'র এক সদস্যর গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার।

জয়পুরহাটে এক বিজিবি সদস্যের ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়ে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিজিবি’র পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  

নিহত বিজিবি সদস্য নেপাল দাস (৩৫), জয়পুরহাট ২০ বিজিবির সিপাহী। সে ফরিদপুর জেলার মধুখালি মেঘচামী এলাকার নারায়ণ দাসের ছেলে।

জেলার গোয়েন্দা বিভাগ সূত্র জানায়, হত বৃহস্পতিবার ১৭ নভেম্বর রাতে বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ পাঁচবিবি বিশেষ ক্যাম্পে দায়িত্বরত সদস্য নেপাল দাস গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন বিজিবি’র অন্যান্য সদস্যরা। পরে তাকে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সিপাহী নেপালকে মৃত ঘোষণা করেন। 

শুক্রবার ১৮ নভেম্বর সকালে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সরদার রাশেদ মোবারক সাংবাদিকদের জানান, নেপাল দাসের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃতদেহের ডান পিঠ ও হাতে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

এবিষয়ে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জয়পুরহাট থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ময়না তদন্ত শেষে বিজিবি’র পাহাড়ায় নেপালের মৃতদেহ রাতেই ফরিদপুরে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। 

এর বেশী কোন তথ্যই দিতে নারাজ বিজিবি বা পুলিশ প্রশাসন। তার শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সদর থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলেও পুলিশ সুত্র জানায়।


আরও খবর



হেমন্তের প্রাণ নবান্ন উৎসব আজ

প্রকাশিত:বুধবার ১৬ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শুরু হয়েছে নতুন ফসল ঘরে তোলার মাস অগ্রহায়ণ। হেমন্তের প্রাণ নবান্ন উৎসবে, এবারো নানা আয়োজন শিল্পকলা একাডেমিতে। গান, নাচ আর কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে গ্রাম বাংলার নতুন ফসল ঘরে তোলার সংস্কৃতি।

এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে, এই শ্লোগানে, সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় উৎসব। বাঁশির সুরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাঙালির ঐতিহ্য আর শিকড় সন্ধানে কৃষকের ধানকাটা ও ফসল ঘরে তোলার এই উৎসব প্রতি বছর উদযাপন করে জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ। অনুষ্ঠানে নবান্ন কথন ছাড়াও থাকছে দলীয় নৃত্য, আবৃত্তি, সম্মেলক গান, রবীন্দ্র সঙ্গীত, লালন গীতি, আদিবাসী গান এবং নজরুল সঙ্গীতের পরিবেশনা। এছাড়াও রয়েছে নতুন ধানের খই, মুড়ি-মুড়কি ও পিঠা-পুলির আয়োজন।


আরও খবর



নওগাঁয় মোটরসাইকেল খাদে পড়ে এক যুবক নিহত দু' যুবক আহত

প্রকাশিত:শনিবার ০৫ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ


নওগাঁয় মোটরসাইকেল খাদে পড়ে মানিক কুমার (২০) নামে একজন যুবক নিহত হয়েছেন। একই দূর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী আরো দু' জন আহত হয়েছেন।

এসড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত ৮টারদিকে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের রাণীনগর উপজেলার গোনা খানপাড়া এলাকায়।

নিহত মানিক কুমার আত্রাই উপজেলার সুবর্নকুন্ড গ্রামের লঘুনাথ চন্দ্রের ছেলে। আর আহত শীবেন হালদার (২৩) একই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের শিখিল হালদারের ছেলে ও গুপি (১৯) সুবর্নকুন্ড গ্রামের খোকার ছেলে।

নিহত ও আহতের সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম রেজা জানান, একটি মোটরসাইকেলে মদ্যপ অবস্থায় ৩ জন বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে আত্রাইয়ের দিকে যাচ্ছিল। এমতবাস্থায় আঞ্চলিক মহাসড়কের রাণীনগর উপজেলার গোনা খানপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী মানিক, শীবেন ও গুপি গুরুত্বর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের ৩ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানের তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে রেফার্ট করা হয়। সেখানেও তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকের কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১১টারদিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মানিককে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত শীবেন ও গুপি রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রীর উপহার-সোলার প্যানেল-দুর্গম পার্বত্যঞ্চলকে আলোকিত করেছে

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

-মো. রেজুয়ান খান :

বাংলাদেশের ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গ কি.মি. প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ জুড়ে তিন পার্বত্য জেলা অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার এই তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন এবং এর অধিবাসীদের ভাগ্যোন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মনোভাব এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে একই বন্ধনে আবদ্ধ করতে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছিলেন। এরপর থেকেই সরকার অব্যাহতভাবে পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়ন সহায়ক পরিবেশ এবং ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মানুষের দিকটি বিশেষ বিবেচনায় রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকার চল্লিশ হাজার পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেম এবং বিভিন্ন পাড়াকেন্দ্র, স্টুডেন্টস হোস্টেল, অনাথ আশ্রমগুলোতে ২ হাজার ৫০০টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ ও স্থাপনের কাজ চলছে। সোলার প্যানেল হতে উৎপাদিত বিদ্যুতের মাধ্যমে পাহাড়ি দুর্গম এলাকাগুলো বিদুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। যার ফলে তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান পূর্বের তুলনায় অধিকাংশক্ষেত্রে আধুনিক ও ইতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে।


দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে গ্রীড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছানো অত্যন্ত দুষ্কর ও ব্যয়বহুল। তাই এসব এলাকায় এ যাবৎকাল আলো ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা প্রক্রিয়ার একমাত্র উৎস ছিলো কেরোসিন বাতি বা ডিজেল জেনারেটর, যা ছিল ব্যয়বহুল। অস্বচ্ছল মানুষের কাছে বিদ্যুতের আলো পাওয়া ছিল সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। সরকার এসব প্রান্তিক অস্বচ্ছল মানুষের জন্য বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যাবলীর অধিকাংশই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ জীবনমানের পরিবর্তনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পার্বত্য অঞ্চলের সকল উন্নয়ন কাজে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রশংসা ও সাফল্যের দাবি রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সোলার ফটোভোল্টাইক সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে পেরেছে। ফটোভোল্টাইক সোলার প্যানেল সরাসরি সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুত তৈরি করে। এটা শক্তির সোর্স হিসেবে সূর্যের আলোকে শোষণ করে। ফটোভোল্টাইক (পিভি) মডিউল হলো একটি প্যাকেজযুক্ত বিভিন্ন ভোল্টেজ এবং ওয়াটেজেজে পাওয়া ফটোভোল্টাইক সৌর কোষগুলোর সংযুক্ত সমাবেশ।

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ অপরিহার্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণ। জাতীয় গ্রীড হতে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। আগামি দুই যুগের মধ্যেও পার্বত্য তিন জেলার দুর্গম অঞ্চলে জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। তাই সরকার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম ও সোলার কমিউনিটি সিস্টেম বিতরণ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ তিনটি পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলার দুর্গম স্থানসমূহে বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য সোলার হোম সিস্টেম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়াকেন্দ্র, স্টুডেন্টস হোস্টেল, অনাথ আশ্রম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার কমিউনিটি সিস্টেম চালু করেছে। 

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষজন পাহাড়ের উপর যুগ যুগ ধরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাসে অভ্যস্ত। প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকায় সেখানকার অধিবাসীরা ছোটো ছোটো গ্রামে পাড়া গড়ে তুলে বসবাস করে আসছে। প্রতিটি পাড়ায় ২০ থেকে ১০০ পরিবার বাস করে। সরকারের দেওয়া মৌলসেবাগুলো সহজলভ্য ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগণের কাছে সহজেই পৌঁছে যায়। তবে পাহাড়ের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষগুলোর কাছে এসব সেবা অনেক সময় পৌঁছানো দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাই সরকার পার্বত্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত দরিদ্র জনসাধারণের মাঝে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ এবং কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অফ গ্রীডে ফটোভোল্টাইক সিস্টেমে বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা নিয়েছে।  

ফটোভোল্টাইক সোলার সিস্টেমে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪০ হাজার উপকারভোগী পরিবারকে বাছাই করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গম এলাকার ২ হাজার ৫০০টি ফটোভোল্টাইক কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে পাড়া কেন্দ্র, স্টুডেন্ট হোস্টেল, অনাথ আশ্রম কেন্দ্র, এতিমখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদানের কাজও শুরু করেছে সরকার। সরকারের এ প্রকল্পের শিরোনাম ‌‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (দ্বিতীয় পর্যায়) নামকরণ করা হয়। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে মোট ২১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদের মধ্যে বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ৮৯০ টি পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেম এবং ২ হাজার ৮১৪টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়া কেন্দ্র, দুর্গম এলাকার স্টুডেন্ট হোস্টেল, অনাথ আশ্রম কেন্দ্র, এতিমখানাগুলোতে বিতরণ ও স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে ১ দশমিক ৮০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার রাঙ্গামাটি জেলায় বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ৬৩৯টি যার মধ্যে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারের সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৩টি। ইতোমধ্যে সোলার হোম সিস্টেমের আওতায় রাঙ্গামাটি জেলার ৩ হাজার ৬৪৩টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ৪৫৪টি যার মধ্যে ১৬ হাজার ১০৭টি বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারকে উপকারভোগী পরিবার হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে ৩ হাজার ১০৭টি উপকারভোগী পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বান্দরবান জেলার দুর্গম এলাকার বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ১ হাজার ৮৮১টি। যার মধ্যে বিদ্যুৎ সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত পরিবারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৬০টি। ইতোমধ্যে বান্দরবান জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪ হাজার ৩৬০টি পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেমের আওতায় বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।


গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকা রেমাক্রী ইউনিয়নে ‘পার্বত্য চট্টগামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ-২য় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সোলার প্যানেল সিস্টেমের বিদ্যুৎ সরঞ্জাম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১ হাজার ৩২৭টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। শুধু তাই না সরঞ্জামগুলো স্থাপনের জন্য প্রত্যেককে সোলার প্যানেল সিস্টেম ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব উপকরণ বিতরণ করেন। প্রতিটি সোলার প্যানেল থেকে উপকারভোগীরা ১০০ ওয়াট পিক আওয়ার বিদ্যুৎ পাবেন। সোলার প্যানেল সরঞ্জামগুলোর মাধ্যমে ৪টি এলইডি বাল্ব, ১টি সিলিং ফ্যান, ১টি টিভি, ১টি চার্জ কন্ট্রোলার চালানো যাবে। যা সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উপকারভোগীরা কমপক্ষে ২০ বছর পর্যন্ত সৌর বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলো বিদ্যুতায়নের জন্য সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হলো সবচেয়ে ভালো উপায়, নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব। পার্বত্য জনপদে সোলার প্যানেল বিতরণ ও স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পার্বত্যঞ্চলকে আলোকিত করেছেন। উন্নত ও সমৃদ্ধশালী পার্বত্য অঞ্চল গড়ার মানসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।


লেখক: তথ্য ও জনসংযোগ অফিসার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।


আরও খবর