Logo
শিরোনাম

দিল্লিতে আমাদের নামও পরিবর্তন করতে হয়েছিল' -শেখ রেহানা

প্রকাশিত:Tuesday ১৩ September ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

সেই সময়ে আমাদের পরিবার...

সকাল বেলায় আব্বা বাইরে থেকে মর্নিং ওয়াক করে আসতেন। আমাদের ৩২ নম্বরের যে বারান্দাটা আমরা ওখানে, আব্বা ইজি চেয়ারে আর সব মোড়ায়। টোস্ট বিস্কুট চা নিয়ে আমরা সবাই খবরের কাগজ পড়ে যার যার স্কুল-কলেজে যেতাম। এই জিনিসটা আমরা ওই যে একটা পরিবেশের মধ্যে বড় হওয়া। ওখান থেকে আর বের হইনি। কামাল ভাইয়ের সবচেয়ে প্রিয় ছিলাম আমি। মায়েরও। শেকড়টা আমরা ভুলব না। আমাদের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া। আমি যে একটা গ্রামের মেয়ে সেটি বলতে খুব গর্ববোধ করি।


গণভবন প্রসঙ্গ...

গণভবনটাও আমাদের অনেক স্মৃতির। আমরা থাকিনি এখানে। আমরা কোনো ভাইবোনই সেখানে থাকতে চাইনি। জানি না থাকলে অন্যদিক থেকে ভালো হতো কী খারাপ হতো। মা থাকতে চাননি ৩২ নম্বরের বাড়ি রেখে। কামাল ভাই থাকবে না। আপা থাকবে না। আমি না। জামাল, রাসেল না। আব্বা বলতেন যে, তোমরা থাকবে না। তাহলে আমি কেন শুধু এখানে থাকব?

দাদার নাতবউ...

আমার দাদার খুব শখ ছিল নাতির বউ দেখবে। কামাল ভাই তখন যুদ্ধ থেকে এলেন। আমরা খুকী আপার ভক্ত ছিলাম। মেঝো ভাইয়ের রুমে বিশাল একটা ছবি ছিল স্পোর্টসের। ওরা একসঙ্গে প্র্যাকটিস করত। মাকে বললাম। মা বলল, হ্যাঁ, ঘরের বউ খেলবে লোকে কী বলবে। তো মা চুপচাপ। আমরা কয়েক ভাইবোন তাকে বললাম, মা এত ভালো একটা বউ। তুমি যার কাছ থেকেই নাও, এ মেয়ে কিন্তু পাবে না। মা বলল, কামাল কী বলে। কামাল যদি বলে তাহলে আমি রাজি। বললাম, তবে মা। বিয়ের পর কিন্তু খেলতে দিতে হবে। তখন বলতে পারবে না, ঘরের বউ খেলতে পারবে না। বলছে না, বলব না।

বেলজিয়াম-জার্মানি...


মাকে বললাম- মা, আপা (জার্মানি) যাবে জয় পুতুলকে নিয়ে কষ্ট হবে। আমি গেলে একটু সাহায্য হবে। মা আব্বাকে বলল, ঠিক আছে ও যাক হাসুর সঙ্গে। ক'দিন পর চলে আসবে। এই আমাদের যাওয়া। ১৪ আগস্ট রাতে ক্যান্ডল লাইট ডিনার। ব্রাসেলসে এই বয়সে ক্যান্ডল লাইট ডিনার। মেয়েরা সব আমার বয়সী, আমরা খুব হাসাহাসি গল্প। দুলাভাই এসে আমাদের খুব বকলেন। যে কান্না আছে। এত হাসি। বললাম, আপনি ঘুমাতে পারেন না। উনি যত বকে আমরা তত হাসি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মানুষের যে পরিবর্তন। ক্যান্ডল লাইট ডিনার থেকে আমাদের বের করে দেয় এ রকম অবস্থা।

আপা ভাবছে আমি জানি না। আমি ভাবছি আপা জানে না। জানি তো দু'জনেই। বাংলাদেশে বাঙালিরা আমার বাবাকে মারবে, এটা তো ধারণারও বাইরে ছিল। ৩২ নম্বরে হৈচৈ, একটা পলিটিক্যাল বাড়ি। টুঙ্গিপাড়ায় ওই আমাদের দাদাবাড়ি আর সেখানে ছোট্ট একটা বাসার মধ্যে দুইটি রুম। ওখানে গিয়ে তো দুই বোন একটা কিসের মধ্যে পড়লাম আমরা। কিচ্ছু বুঝি না। কিচ্ছু করি না। কী খাব। কই যাব। আল্লাহর একটা রহম আমাদের ওপর যে, আমাদের পাগল বানিয়ে রাস্তায় ফেলেনি। আপা কান্নাকাটি করে এই পাশে, আমি ওই পাশে। দুটি বাচ্চা জয়-পুতুলই ছিল আমাদের সান্ত্বনা।


দিল্লিতে...


আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম যে, একটা সাইকেলের ওপর চারটা গ্যাস সিলিন্ডার। একটা মোটরসাইকেলের ওপর সামনে একটা বাচ্চা, হাসবেন্ড-ওয়াইফ, আরেকটা বাচ্চা। তারপর ব্রিফকেস একটা। জানালা দিয়ে ওই বসে বসে দেখতাম। আরেকটা কথা কখনও বলিনি। ৪০ বছর হয়ে গেছে, এখন বলা যায়। দিল্লি থাকাকালীন আমাদের নামও পরিবর্তন করতে হয়েছে। মিস্টার তালুকদার, মিসেস তালুকদার, মিস তালুকদার আশপাশে যেন কেউ না জানে। আমি বলি, এটা কী ব্যাপার। দেশ ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, বাপ-মা ছাড়া। আবার নামও বদলাব? দরকার নাই আমি থাকব না এখানে। কিন্তু তখন উপায় নাই তো। সবসময় রাগ-অভিমান আর হুট করে কোনোকিছু করা যায় না। মানে দিন কাটে না, রাত কাটে না। আমার খোকা চাচা লন্ডন থেকে চিঠি লিখতেন। চিঠি আসতে লাগত এক সপ্তাহ। আমরা দুটি বোন জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম পোস্টম্যান কখন আসবে। চাচার চিঠিগুলো পড়ব।

আপা লিখতেন বসে বসে। আজকে চিনি অতটুকু, বিস্কুট অতটুকু, সুজি অতটুক। ওপর পাশেই আমার লেখা। আল্লাহ তুমি কেন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছো জানি না। কিন্তু এই খুনিদের ধরব, বিচার করব ইনশাল্লাহ। তারিখ দিয়ে লেখা। তো আপা সেদিন আমাদের দেখালেন। এই দেখো।

মা-আপা...


বাংলাদেশের জনগণ যেখানে যে আছে। নির্যাতিত-নিপীড়িত দুঃখী মানুষ। তারা তো বঙ্গবন্ধুকে, তার অভাবটাকে দেখতে পাচ্ছে। আমরা বাবা হিসেবে পাচ্ছি। আমাদের তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে মা চলে যাওয়াতে। আপা (হাসিনা) ইউনিভার্সিটিতে যাবেন, কোন শাড়ি পরবেন- সেটা মা রেডি করে দিত। এসে খাবার ফাঁকি দিয়ে ঘুম। আমি শুধু চিন্তা করি, মাকে যদি বলতে পারতাম যে, মা তোমার হাসু এখন আর আলসেখানায় থাকে না। মাকে না বলা পর্যন্ত আমাদের শান্তি নেই। এখন আমার মনে হয় দৌড় দিয়ে যদি বনানীতে গিয়ে মাকে একটা চিঠি লিখে পাঠাতে পারতাম বা আব্বাকে পাঠাতে পারতাম। এগুলো খুব অনুভব করি।


-শেখ রেহানা

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা


আরও খবর



রাণীনগর-আত্রাইয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ

প্রকাশিত:Tuesday ১০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :


নওগাঁর রাণীনগর এবং আত্রাই উপজেলায় অসহায় শীতার্ত ভিক্ষুকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সকালে ও বিকেলে পৃথক পৃথকভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের আয়োজনে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। 

এদিন সকালে গ্রামীণ ব্যাংক নওগাঁর রাণীনগর কাশিমপুর শাখার আয়োজনে অসহায় শীতার্ত ও (ভিক্ষুক) সদস্যদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া একইদিন বিকেলে আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী গ্রামীণ ব্যাংক শাখার আয়োজনে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। উভয় বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংক নওগাঁর জোনাল অফিসার মো: আবুল বাশার। অন্যদের মধ্যে নওগাঁর জোনাল অডিট অফিসার নারায়ন চন্দ্র মন্ডল,এরিয়া ম্যানেজার এসএম মহিউদ্দিন আহমেদ,কাশিমপুর শাখা ব্যবস্থাপক শরীফ আব্দুল্লাহ আল-সিদ্দিকী ও মনিয়ারী শাখা ব্যবস্থাপক মো: মসলেম উদ্দীনসহ উভয় শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



প্রশ্নফাঁসে ১০ বছর কারাদণ্ডের আইন পাস

প্রকাশিত:Tuesday ১৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন-২০২৩ বিল’জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে কোনো পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন-২০২৩ বিল’পাস হয়। এছাড়া ভুয়া পরিচয়ে অংশ নিলে ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদ একটি বিল পাস হয়েছে।

আইনে সরকারি চাকরির পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধ ও তার সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার্থী না হয়েও নিজেকে পরীক্ষার্থী হিসেবে হাজির করলে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে বা অন্য কোনো ব্যক্তির নামে বা কোনো কল্পিত নামে পরীক্ষায় অংশ নিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

এর আগে বিলটির ওপর আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো হয় এবং সংশোধনীগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। তবে জাতীয় পার্টির এমপি ফখরুল ইমামের একটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

১৯৭৭ সালে প্রণীত বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন এ আইন প্রণীত হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্ডিন্যান্সের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন এমনভাবে বহাল থাকবে, যেন এটি নতুন আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একজন সভাপতি এবং ছয় থেকে সর্বোচ্চ ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে। কমিশন প্রজাতন্ত্রের জনবল নিয়োগের উদ্দেশে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান সাপেক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি ও শর্তাবলি নির্ধারণ করতে পারবে।

বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে পরীক্ষার জন্য প্রণীত কোনো প্রশ্ন সংবলিত কাগজ বা তথ্য, পরীক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছে বলে মিথ্যা ধারণাদায়ক কোনো প্রশ্ন সংবলিত কাগজ বা তথ্য অথবা পরীক্ষার জন্য প্রণীত প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে বলে বিবেচিত হওয়ার অভিপ্রায়ে কোনো প্রশ্ন সংবলিত কাগজ বা তথ্য যেকোনো উপায়ে ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণ করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। এ অপরাধ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হবে।


আরও খবর



ধামরাইয়ে শেখ কামাল

আন্তঃ স্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:Friday ২৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

মাহবুবুল আলম রিপন :

ঢাকার ধামরাইয়ে শেখ কামাল আন্তঃ স্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা (২০২৩) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার সময় কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ধামরাই উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ঢাকা (২০) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজির আহমেদ এমপি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ এনামুল হক আইয়ুব,ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাইশাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজ উদ্দিন সিরাজ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহানা জেসমিন মুক্তা, ধামরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আশরাফী,ধামরাই উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মোঃ জামিল হোসেন, কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



মানবপাচার বেড়েছে বাংলাদেশে

প্রকাশিত:Tuesday ২৪ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আর টাইফুনের আঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইনে মানবপাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, মানবপাচারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ। আর এই বিষয়ে প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে, কারণ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষকে শোষণ করছে।

ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচারের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য আরেকটি বড় কারণ ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ। আফ্রিকার দেশ ঘানায় খরা এবং বন্যা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে হ্যারিকেনের আঘাত ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও অনেক মানুষকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করেছে।

সংস্থাটি বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন মানবপাচারের ঝুঁকি ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি করছে।’গ্লোবাল ট্রাফিকিং অন পারসন রিপোর্ট-২০২২ শীর্ষক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মাদকবিষয়ক এই সংস্থা বলেছে, মানবপাচারের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পদ্ধতিগত বৈশ্বিক বিশ্লেষণের ঘাটতি থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় পর্যায়ের গবেষণায় মানবপাচারের মূল কারণ হিসেবে আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৪১টি দেশের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মানবপাচারবিষয়ক এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে ইউএনওডিসি। প্রতিবেদন তৈরিতে বিভিন্ন দেশের আদালতের মানবপাচার সংক্রান্ত ৮০০টি মামলার বিশ্লেষণকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ফ্যাবরিজিও স্যারিকা বলেছেন, একবার নিজেদের জীবিকা নির্বাহের বন্দোবস্ত থেকে উৎখাত হলে লোকজন তাদের সম্প্রদায় থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। আর এসব লোকজনই মানবপাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হন।

কেবল ২০২১ সালেই জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ। একই সময়ে আরও অসংখ্য মানুষ তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সব অঞ্চল ক্রমবর্ধমান হারে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ অভিবাসনের পথে শোষণের উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সংঘাতের কারণে পাচারের শিকার বেশিরভাগ মানুষই আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। একই সঙ্গে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ দেশটি ছেড়ে পালিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য আরেকটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

ইউএনওডিসির মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিভাগের প্রধান ইলিয়াস চ্যাটজিস ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘যুদ্ধ এবং অস্থিতিশীলতার কারণে মানবপাচার মোকাবিলা করাই এখন চ্যালেঞ্জ।’ তিনি বলেন, ইউক্রেনের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা এবং ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ।


আরও খবর



আফগানিস্তানে তুষারপাতে মৃত্যু বেড়ে ১২৪

প্রকাশিত:Wednesday ২৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

গত ১৫ দিনে আফগানিস্তানে ভয়াবহ শীতকালীন তুষারপাত ও তীব্র ঠান্ডায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক'শ ২৪ জনে।

টানা ১৫ দিনের তীব্র ঠান্ডায় আরো প্রায় ৭০ হাজার গাবাদিপশু মারা গেছে। চলমান পরিস্থিতিতেও সরকারি নির্দেশে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ আব্বাস আখুন্দ। তিনি বলেন, ভারি তুষারপাতের কারণে আফগানিস্তানের অনেক এলাকা সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের উদ্ধারে ওইসব অঞ্চলে সামরিক হেলিকপ্টার পাঠানো হলেও বেশিরভাগ পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। আগামী ১০ দিনে আবহাওয়ার উন্নতি অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়বে বলে আশা করছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।


আরও খবর