Logo
শিরোনাম

ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


শুরু হয়েছে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অগ্রিম টিকিটে ট্রেনযাত্রা। তবে, প্রথম দিনেই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিলম্ব ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা।


 কাঙ্ক্ষিত ট্রেন পেতে যাত্রীদের এক থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। আর স্টেশন থেকে বলা হচ্ছে, ঈদের সময় এই বিলম্ব স্বাভাবিক।



আজ বুধবার (১২ জুন) কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সকালে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে সিলেটগামী পারাবাত এক্সপ্রেসের ছাড়ার কথা ছিল ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে। 


সেই ট্রেন ২ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা কিশোরগঞ্জের এগারো সিন্ধু প্রভাতীর। ট্রেনটি ৯টা ২৫ মিনিটে স্টেশন ছাড়ে। 


এ ছাড়া ৮টা ১৫ মিনিটের মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়েছে বেলা ১১টার কিছু পর।



ঈদ উপলক্ষে পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্ধু প্রভাতীর টিকিট কেটেছিলেন রফিকুল ইসলাম। ছেলে-মেয়ে ও মাকে নিয়ে কমলাপুর স্টেশনে যান ট্রেন ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় আগেই। তবে দুই ঘণ্টা পার হলেও ট্রেন কমলাপুর ছাড়েনি।


রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনের জন্য যদি অপেক্ষা করতেই হয়। তাহলে আর স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যাওয়া হলো কোথায়? আগে ট্রেনের টিকিট কেটেই কী লাভ হলো? সেই দুর্ভোগই পোহাতে হচ্ছে। গরমে ছেলে-মেয়ে আর মা কষ্ট পাচ্ছেন।’


মোহনগঞ্জগামী সালমা আক্তারও জানালেন ট্রেনযাত্রার ভোগান্তির কথা। তিনি বলেন, ‘স্টেশনে খুব একটা ভিড় নেই। ঈদের প্রথম ট্রেন। এরপরও কেন এমন শিডিউল বিপর্যয়।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এর চেয়ে বাসে যাওয়াই ভালো ছিল।’


তবে কমলাপুরের স্টেশন মাস্টারের দাবি, অধিকাংশ ট্রেন সময় অনুযায়ী ছেড়েছে। স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, ঈদের এ সময়টায় একঘণ্টা বা তারও বেশি দেরি স্বাভাবিক হিসেবেই দেখতে হবে।


 তবে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে যেন ট্রেন সময়মতো ছেড়ে যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



আরও খবর



রামগড়ে যুব মহিলা লীগের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

শাহেদ হোসেন রানা, রামগড়(খাগড়াছড়ি)

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (৬ই জুলাই) দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা শেষে কেক কাটা হয়। এরআগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুব মহিলা লীগের নেতৃত্বীরা।

এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রামগড়  উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কার্বারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আলম আলমগীর, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমা আহসান নীলা, ৪নং পৌর ওর্য়াড় কাউন্সিলর আহসান উল্ল্যাহ, ৩নং পৌর ওর্য়াড় কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়া শীল পিংকি, সাংগঠনিক সম্পাদক বন্ধনা নাথ সহ যুব মহিলা আওয়ামী লীগের সকল নেতৃত্বীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



ফয়সালের শ্বশুর-শাশুড়ির নামে ১৮টি ব্যাংক হিসাব

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস রিপোর্ট: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে ১৮টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ কোটি টাকা জমা হওয়া এবং পরে তার বড় অংশ উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে। 


আদালতে জমা দেওয়া দুদকের নথি থেকে জানা যায়, ফয়সালের শ্বশুরের নাম আহম্মেদ আলী। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। তার শাশুড়ি মমতাজ বেগম পেশায় গৃহিণী।


দুদক বলছে, শ্বশুর ও শাশুড়ির নামের ব্যাংক হিসাবে যে অর্থ লেনদেন হয়েছে, তা ফয়সালেরই অপরাধলব্ধ আয়। ফয়সাল ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিজের ও স্ত্রীর নামে রাখার পাশাপাশি স্বজনদের নামেও রেখেছেন।


দুদক আরও বলছে, ফয়সাল ও তার ১১ স্বজনের নামে ১৯টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৮৭টি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে। তার শ্বশুর-শাশুড়ির ব্যাংক হিসাবে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে।


দুদক আদালতে জানিয়েছে, ফয়সাল তার অপরাধলব্ধ আয় লুকানোর জন্য স্বজনদের নামে ৭০০টির মতো ব্যাংক হিসাব খুলেছিলেন। এর মধ্যে ৮৭টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে দুদক।


জানা গেছে, ফয়সাল ২০০৫ সালে বিসিএস (কর) ক্যাডারে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে এনবিআরের আয়কর বিভাগের প্রথম সচিব (ট্যাক্সেস লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।


ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছর ফয়সালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে গত বৃহস্পতিবার ফয়সাল ও তার আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পদের বিবরণী আদালতের কাছে তুলে ধরে সংস্থাটি।


দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফয়সাল ও তার স্ত্রীর নামে থাকা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে ৫ কাঠার দুটি প্লট, শ্বশুরের নামে থাকা ঢাকার রমনা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট, খিলগাঁওয়ে শাশুড়ির নামে ১০ কাঠার প্লট জব্দ এবং ৮৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন।


দুদকের নথিতে ফয়সাল, তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন, ফয়সালের ভাই কাজী খালিদ হাসান, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্যালক আফতাব আলী, খালাশাশুড়ি মাহমুদা হাসান, মামাশ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিন, আত্মীয় খন্দকার হাফিজুর রহমান, ফারহানা আফরোজ ও রওশন আরা খাতুনের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


আদালতে জমা দেওয়া দুদকের তথ্য বলছে, ফয়সালের নামে ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা জমা হয়। ফয়সালের স্ত্রী আফসানা জেসমিনের পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে জমা হয় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।



 ফয়সালের শ্বশুর আহম্মেদ আলীর আটটি ব্যাংক হিসাবে জমা হয় ১১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তার নামের আটটি ব্যাংক হিসাবের দুটি ২০০৭ ও ২০১০ সালে খোলা। বাকিগুলো খোলা হয় ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। 



ফয়সালের শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে ১০টি ব্যাংক হিসাবে ৭ কোটি টাকা জমা হয়। তার নামের ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে একটি ২০০৯ সালে খোলা হয়। বাকিগুলো খোলা হয়েছে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। 


ফয়সালের শ্যালক আফতাব আলীর ৬টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জমার তথ্য পেয়েছে দুদক।


বিভিন্ন সময়ে এসব টাকা জমা হয়েছে। পরে তার বড় অংশ তুলে নেওয়া হয়েছে। জমা ও উত্তোলনের পর ফয়সাল, তার স্ত্রী, শ্বশুর ও তার স্বজনদের ১৯টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। তাদের নামে রয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র।



আরও খবর



গত বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে সব ধরনের মসলার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে ডেস্ক:

দুয়ারে কড়া নারছে ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ মানেই ত্যাগের সঙ্গে তৃপ্তি করে খাওয়াদাওয়াও। আর সব মজার খাবারের পেছনে লুকিয়ে থাকে মসলার গোপন সব মিশ্রণ। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে বাড়তি প্রায় সব ধরনের মসলার দাম।



রাজধানীর কাওরানবাজার ও শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত বছরে ঈদের সময়ের তুলনায় এবার প্রায় সব ধরনের মসলার দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিনের ব্যবধানেও দাম বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ দামের দিক থেকে শতক ছুঁইছুঁই। সঙ্গে আদা-রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারও গরম।



ক্রেতারা বলছেন, প্রকারভেদে বিভিন্ন মসলার দাম গত কোরবানির ঈদের চেয়ে এবার ৫ থেকে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। গত বছরের তুলনায় মসলাটির দর দ্বিগুণের কাছাকাছি। মানভেদে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা। গত বছর দর ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।


প্রতিকেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা। গত বছর কোরবানির ঈদের আগে জিরা কেনা গেছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। প্রতি কেজি লবঙ্গের দাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। যা গত বছর ছিল দেড় হাজার টাকার মতো।



গত বছর দারুচিনি ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। এ বছর কেজিতে গুনতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬২০ টাকা। প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে তেজপাতার দর। প্রতি কেজি তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। যা গত বছর একই সময়ে দর ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।


এছাড়া হলুদের গুঁড়া ৫০০-৬০০ টাকা, কালোজিরা ৩৫০-৪০০ টাকা, আদা ২৪০-২৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০-১৬০ টাকা ও পেঁয়াজ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


মসলা ক্রেতারা জানান, কোরবানিতে মসলার চাহিদা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি থাকে। সেই চাহিদা পুঁজি করে প্রতিটি বাজারে ব্যবসায়ীরা মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়িয়েছে।


ক্ষুদ্র বিক্রেতারা বলছেন, মহাজনরা মসলার দাম বৃদ্ধি করায় আমরা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। তাই এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম।


তবে দাম বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশিরভাগ মসলার দাম কম বলে দাবি করেন বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বেশিরভাগ এলাচ আসে ভারত থেকে। সেখানে এবার গরমের কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। তাছাড়া ডলারের দাম বেশি। এসব কারণে দাম বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ২০, ৫০, ১০০ টাকা করে মসলা বিক্রি করেন, সে জন্য তারা দর কিছুটা বেশি নিচ্ছেন।


ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মসলার দর বাড়ার তথ্য মিলেছে। দাম বাড়ার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, ডলার সমস্যা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করেন ব্যবসায়ীরা।


 তবে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধিতে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


আরও খবর



অন্যের এনআইডি দিয়ে ট্রেনের টিকেট অগ্রীম কেটে নিয়েছে কালোবাজারিরা!

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডে ডিজিটাল ডেস্ক:


ঈদের সময় কালোবাজারি করতে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে টিকিট কেটেছিল একটি চক্র। এরপর সেই টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে তারা।


শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশনের প্লাটফর্মে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর।  



তিনি বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৩ এমন দুটি চক্রের ১২ জনকে আটক করেছে। এরমধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বেসরকারি ট্রেনের বিক্রয় প্রতিনিধিও রয়েছেন। এসব কালোবাজারিরা আগামী ১০ দিনের প্রায় ৫০০ টিকিট কেটে রেখেছেন।’


সোহেল ও আরিফুল নামে দুইটি চক্র ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা থেকে কালোবাজারি পরিচালনা করতেন বলেও জানান তিনি।  


ফিরোজ কবীর জানান, গতকাল রাতে তারা অভিযান পরিচালনা করেন। ঢাকা থেকে ১০ জনকে আটক করেন। আর দুইজনকে ঠাকুরগাঁও থেকে আটক করা হয়েছে। 


ফিরোজ কবীর বলেন, ‘আমরা গত রাতে অভিযান শুরু করি। এটি চলমান অভিযান ছিল। এটা দুই থেকে তিন ধাপে পরিচালনা করা হয়। ঢাকার কমলাপুর ও আশেপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ 


তিনি বলেন, ‘এখানে দুই ধরনের চক্র রয়েছে। এক ধরনের চক্র অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হলে তা ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে কেটে রাখতো। পরে ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে। সফটকপি পাঠিয়ে দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে টাকা বুঝে নেয়।’  


তিনি বলেন, ‘এমন চক্রের দুজনকে মৌচাক মোড়ের আশেপাশের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। এদের একজনের নাম মানিক ও আরেকজনের নাম বকুল। এদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি মানিক মূলত সোহেল নামে একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থানকারী আবু, রায়হান ও আনিস নামে আরও একজনের সঙ্গে কালোবাজারি ব্যবসায় আসে। 


তাদের থেকে আগামী ১০ দিনের টিকিট পাওয়া যায়। এগুলোর হার্ডকপি ও সফট কপি রয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেসের টিকিটের দাম তিন হাজার টাকা করে বিক্রি করছে।’


ফিরোজ কবীর বলেন, ‘মানিক ও বকুলের মাধ্যমে আনিস ও রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায়হান একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে। সেখানে ভুয়া সিম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনেকগুলো টিকিট কেটে নেন। 


এদের বড় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। সেখানে চাহিদা ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়।’ 


তিনি বলেন, ‘রায়হান ও আনিস টিকিট পাঠাতেন সোহেল ও মানিকের কাছে৷ আর মানিক ও বকুল ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতেন।’  


এই সিও জানান, ‘কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারী করেন আরিফুল ইসলাম। তিনিও একটি চক্র চালান। 


বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারী হলেও তার থেকে সরকারি ট্রেনের টিকিট পাওয়া গেছে। তিনি অনেকদিন ধরেই এগুলো করে আসছিলেন।’


আরও খবর



যশোর থেকে কিনে বিদেশী বলে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চেয়েছিল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস রিপোর্ট: ছাগলকাণ্ডের সেই ১৫ লাখ টাকার ছাগল নিয়ে দেশব্যাপী তুলকালাম হয়ে গেলেও আলোচিত সেই ছাগলটি দেশীয় জাতের। 

তথ্য বলছে, ওই ছাগলটি যশোরের একটি বাজার থেকে মাস দুয়েক আগে ১ লাখ টাকায় আনা হয়। তবে ঈদ সামনে রেখে সেটি বিদেশি ব্রিটল জাতের ছাগল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করেন মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন।

এরপর এর দাম নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা, যেটি ক্রয় করেন আলোচিত এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরপুত্র মুশফিকুর রহমান ইফাত। তবে ইফাত ১ লাখ টাকা অগ্রীম দিয়েও ছাগলটি নেননি বলে জানা গেছে, কিন্তু এ ছাগলের সঠিক বিক্রয়মূল্য কত তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সাদেক এগ্রোর ইনচার্জ মো. শরীফও যশোর থেকে ছাগল আনার এ তথ্য স্বীকার করেছেন।

চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন আর নানা চমকের কারণে বারবার আলোচনায় আসা ‘সাদিক এগ্রো’ এবং এর মালিক মোহাম্মদ ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে গরু চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ নানাভাবে গ্রাহকদেরকে ঠকানোর অভিযোগ উঠেছে। মিথ্যা বলে অতিরিক্ত মূল্য ধরা এবং দেশি গরু-ছাগল বিদেশি বলে বিক্রি করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

একটি জাতীয় পত্রিকার অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালানের রুট নিয়ন্ত্রণ করেন মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন। থাইল্যান্ড থেকে উন্নত জাতের গরু মিয়ানমার হয়ে উখিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন ইমরান।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, থাইল্যান্ড থেকে আসা গরু উখিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এরপর সেগুলো দীর্ঘদিন রাখা হয় উখিয়ার গহিন জঙ্গলে তৈরি করা গোপন ডেরায়। এরপর উখিয়া থেকে সুযোগ মতো গরু এনে রাখা হয় নরসিংদীর শেখ ক্যাটল ফার্মে।

২০২১ সালে অবৈধভাবে নিয়ে ১৮টি ব্রাহমা জাতের গরু ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় সাদেক এগ্রো দায়ী থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে গরুগুলো বাজেয়াপ্ত করে সরকার। সেগুলো রাখা হয় সাভারের সরকারি ডেইরি ফার্মে।

জানা গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে কমদামে মাংস বিক্রির জন্য প্রতি বছর সাভারের ফার্ম থেকে কিছু গরু সরবরাহ করা হয়। সুচতুর ইমরান প্রভাব খাটিয়ে ব্রাহমা জাতের গরুগুলো সেই তালিকাভুক্ত করান। এর পর নিজের ফার্মের দেশীয় জাতের গরুর সঙ্গে বদল করে ১৭টি ব্রাহমা নিয়ে আসেন।

তারা জানান, মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটিয়ে গরু বদলের ব্যবস্থা করেন ইমরান। এই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ করায় সে সময় কয়েকজন কর্মকর্তাকে হুমকিও দেওয়া হয়।


আরও খবর