Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম চলতি মাসে বাড়বে নাকি কমবে তা জানা যাবে আজ (রবিবার)। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রান্না ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এ এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করবে।

বিইআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৌদি আরামকোর ঘোষিত সেপ্টেম্বরের জন্য সৌদি সিপি অনুযায়ী ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ অ্যানার্জি অ্যান্ড রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে প্রতি মাসে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।

খাত সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী জানান, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে। এখন এলসি খুলতে বেশি অর্থ লাগছে। এছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেশি লাগছে। সবমিলিয়ে এখন এলপিজির মূল্য বেশি পড়ছে। আগস্টের দামে বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতি এলপিজি সিলিন্ডারে ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তাই সেপ্টেম্বরে দাম বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।


আরও খবর



যুদ্ধের দুই বছরেও আশা ছাড়েনি ইউক্রেন

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পেরিয়ে গেলো, কিন্তু সহসাই এ যুদ্ধ থামবে এমন কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। না ইউক্রেন না রাশিয়া, না তাদের কোনো মিত্র, কারও পক্ষ থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো চিহ্ন নেই। তবুও আশা ছাড়েনি ইউক্রেন।

ক্রিভি রিহ শব্দের বাংলা অনুবাদ আঁকাবাঁকা শিং, কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে বলেন, বিশাল হৃদয় ও আত্মা। যুদ্ধে চূর্ণবিচূর্ণ এই শিল্প শহরটি যেন তাঁর চরিত্রের আদলে গড়া। এই শহরের এন্থিল নামক এলাকার সরু গলিতেই বেড়ে ওঠেছেন তিনি। কিন্তু যখন আপনি তার বিশাল দেহটির সামনে দাঁড়াবেন, তখন আপনার মনে হবে এখানে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের নেতৃত্ব দেওয়া জেলেনস্কি একজন ভিন্ন মাত্রার মানুষ।

শহরটিতে জেলেনস্কির বাবা-মায়ের বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে থাকা ভিতা বলেন, আমি চাই এই যুদ্ধ শেষ হোক। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সে একজন সাধারণ ভালো মানুষ, যিনি মানুষের জন্য লড়াই করছেন। আর আমি চাই এই যুদ্ধ শেষ হোক, সাইরেনগুলো যেন বন্ধ হয়ে যায়।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশা অবশ্য সুদূর পরাহত। কিছু কিছু এলাকায় ইউক্রেনের এগিয়ে থাকা এবং বাড়ন্ত রুশ আধিপত্যই এখন চোখে পড়ছে। তবে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি প্রতিনিধিদের বলেন, কেউ আমাকে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, এই কথা জিজ্ঞেস করবেন না। তার পরিবর্তে বলবেন, পুতিন এখনও কেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছেন।

এর মাধ্যমে তিনি যারা অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠাতে দেরি করছেন, তাদের মনে করিয়ে দিলেন, এগুলো ইউক্রেনের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। ইতোমধ্যে তিনি রাজধানী কিয়েভ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, আমার দরকার গোলাবারুদ, ঘুরে বেড়ানো নয়।

ইউক্রেনের একজন মুদি দোকানি ভ্যালেরি বলেন, আমি কোনো রাজনীতিবিদ নই, তাই আমরা জিজ্ঞেস করতে পারি না, কবে যুদ্ধ শেষ হবে? আমাদের অবশ্যই লড়াই করতে হবে। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না, লোকজন খুব ক্ষেপে আছে।


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪




হারভেস্টার মেশিন নিয়ে অনিয়ম,কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সরকারের বরাদ্দকৃত হারভেস্টার মেশিন নিয়ে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়ার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রোববার সকালে শহরের দৈনিক সুনামকণ্ঠের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগি কৃষক বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের রফিক মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কৃষক রফিক মিয়ার ভাতিজা শরিফ আহমদ বলেন, আমাদের পরিবার আর্থিকভাবে তেমন স্বাবলম্বী না হওয়ায় ২০২১-২২ অর্থবছরে আমি সরকারের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৭০% ভতুর্কী মূল্যে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে একটি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের জন্য আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণে রফিক মিয়ার নামে একটি হারভেস্টার মেশিন অনুমোদন হয়, এরই প্রেক্ষিতে কৃষি অফিস কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে জানতে পারি বরাদ্দকৃত কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনটি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্র্তীতে এ বিষয়টি নিয়ে আমি বা আমার পরিবার কোন কথা না বললেও গেল বছরের ২৬ ও ২৮ নভেম্বর রফিক ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ০১৭১২-৭৪০৫৮৮ এই থেকে একটি ফোন আসে, যেটি রিসিভ করেন রফিক মিয়ার স্ত্রী, এসময় ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তি আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনটি বর্তমানে কি অবস্থায় আছে এবং কোথায় আছে সেটি জানতে চান।

তিনি আরও জনান, এসময় রফিক মিয়ার স্ত্রী ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তিটিকে আমাদের নামে কোন হারভেস্টার মেশিন পাইনি জানালে তিনি আমাদের জানান ২০২১-২২ অর্থ বছরে আমার নামে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৭০% ভতুর্কী মূল্যে একটি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন প্রদান করা হয়েছে এবং এটি নাকি আমরা গ্রহণ করেছি বলেও জানানো হয়। এই খবর শোনার পর বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়ার কাছে গেলে তিনি এটির কোন উত্তরই দিতে পারেননি এবং ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান কৃষি অফিস থেকেই আমার নামে একটি মেশিন বিক্রি দেখানো হয়েছে বলে জানান।  পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্তের জন্য ইউএনও বরাবর আমরা অভিযোগ করি এবং ইউএনও এটি তদন্তের জন্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাাঠালে এটির কি তদন্ত হয় আমরা জানতে পারেনি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেয়া অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য লোভ দেখান কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া। এতে সফল না হয়ে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে একটি লেখাযুক্ত কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন এবং কৃষক রফিক মিয়াকে প্রাণ নাশেরও হুমকি দেন। তাছাড়া রফিক মিয়ার শ্যালক শফিউল আলম আমার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তদবির করলে তাকেও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করে যাচ্ছেন উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া ও প্রভাবশালী একটি মহল। এছাড়া গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়ে গিয়ে আমাদের একটি পুরোনো হারভেস্টার মেশিন দেখিয়ে বলেন এটি নাকি আমাদের কিন্তু ওই ভাঙা পুরোনো মেশনটি আমরা গ্রহন করিনি।  

এ ব্যাপারে রফিক মিয়ার শ্যালক শফিউল আলম বলেন, আমি আমার দুলাভাইয়ের মেশিনটির বিষয় জানতে উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে গেলে তিনি প্রথমে জানান এটি বাতিল হয়ে গেছে পরে জানতে পারি এটি নাকি আমার দুলাভাইয়ের নামেই এসেছিলো তবে কৃষি অফিসার এটি আমাদের হস্তান্তর করেননি। আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া বলেন, আমার উপর আনা অভিযোগগুলো মিথ্যে, রফিক মিয়ার নামে বরাদ্দকৃত হারভেস্টার মেশিনটি উপজেলায় অফিসেই আছে তারা এটি নিচ্ছেন না এছাড়া এর বেশি কিছু আমি আপনাদের বলতে পারব না।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, আমি ছুটিতে আছি, ছুটি থেকে এসে সবকিছুর সমাধাণ করে দিব।


আরও খবর



নওগাঁয় এক নারীর গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন,সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর মহাদেবপুরে বাড়ির বাথরুমের ভেতর থেকে নার্গিস বেগম নিপুন (৪৩) নামের এক নারীর গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে মহাদেবপুর থানা পুলিশ। নিহত নার্গিস বেগম মহাদেবপুর উপজেলার চক দৌলত গ্রামের মৃত নাসির উদ্দীন এর মেয়ে ও মহাদেবপুর উপজেলা সদরের মৃত আনোয়ার হোসেন সোনারের স্ত্রী ছিলেন। সে দীর্ঘদিন থেকে সদরের মডেল স্কুল মোড়ে মায়ের বাসায় মায়ের সাথে থাকতেন।

নিহতের মা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭ টার দিকে বাসার ভিতরেই বাথরুমে যায় নিপুন। ফিরতে অনেক দেরী হওয়ায় তার মা মেরিনা বেওয়া বাথরুমে গিয়ে মেয়ের গলাকাটা মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় তিনি কোরআন শরীফ পড়ছিলেন বলে ও জানান তিনি। 

তিনি আরো জানান, তার মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। তার মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা আলীমের কাছে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। এর আগেও সে দু' বার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। মঙ্গলবার সকালে রান্নাঘর থেকে বটি নিয়ে এসে সে নিজেই নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে এমনটি তার ধারণা করছেন তিনি। মাস তিনেক আগে স্বামীর সাথে ডির্ভোস হয় নার্গিসের। ডির্ভোসের মাস দেড়েক পর ওই স্বামীর মৃত্যু হলে সে আরো বেশি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। 

মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।


আরও খবর



মার্চ থেকেই বাড়তে পারে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

রোকসানা মনোয়ার :  মার্চ মাসে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম আরেক দফায় বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। এ দফায় বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে গ্যাসের দাম বাড়বে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহের ক্ষেত্রে; আবাসিক, বাণিজ্যিক বা শিল্প খাতে নয়। এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে খরচের ভারে কাবু সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে এর প্রভাব পড়বে সব খাতেই। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে আরও বাড়তি চাপ পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের হাতে এ মূহূর্তে দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ ক্রয় আর বিক্রয়ের মধ্যে ব্যবধান বেশি হওয়ায় ব্যাপক ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। সেই ভর্তুকি কমাতেই এ সিদ্ধান্ত। সরকারের তরফে তাই একে দাম বৃদ্ধি না বলে বলা হচ্ছে দাম সমন্বয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যে কয়লা আমদানি করতে হয় সেই কয়লার দাম এক সময় ছিল প্রতি টন ৭০ ডলার। সেটা এখন ১৩০ ডলার দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া আগে ডলারের রেট ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। অথচ এখন রেট ১২০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। এদিকে আগে যে পরিমাণ কয়লা আমদানি করা হতো, এখনো সেই একই পরিমাণ কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে। যার কারণে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করতে হবে। মার্চের মধ্যেই এ সমন্বয় হবে বলে তিনি মনে করছেন। আর গ্যাসের ক্ষেত্রে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহকৃত অংশের দাম সমন্বয় করা হবে বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুতের ৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ, যে কোনো দিন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এবারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) পাশ কাটিয়ে নির্বাহী আদেশে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন করে দাম বাড়ানো হলে তা হবে গত ১৪ বছরে ১৩তম দফায় গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন করে দাম নির্ধারণ করা হলে সেটা মার্চের প্রথম সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন হবে।

সর্বশেষ গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ৫ শতাংশ খুচরা এবং পাইকারি পর্যায়ে ৮ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এক বছরে মাত্র ১৮ দিন আগে ১২ জানুয়ারি খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এ ছাড়া এক দফা বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। এর আগে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর পাইকারি বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। সে সময় বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বাড়ানো হয়। ইউনিট প্রতি ৫ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। যা ২০২২ সালের বিল ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যকর করা হয়।

সর্বশেষ দুই দফায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ, পাইকারি বিদ্যুতের দাম ফিডার ভেদে সাড়ে ছয় থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এরই মধ্যে ১৭ জানুয়ারি শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ থেকে ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত। দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রচ- চাপ তৈরি করছে।

সাধারণ মানুষ কিভাবে বর্ধিত বিদ্যুৎ বিলের চাপ সামলাবে? এমন প্রশ্নে বিদ্যুৎ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সরকারের কাছে বিকল্প কোনো উপায় নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিক্রির মধ্যে ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলো লোকসান করছে গত কয়েক মাস ধরে। বিদ্যুৎ ক্রয় এবং বিক্রয়ের মধ্যে ব্যবধান বেশি হওয়ায় লোকসান বাড়ছে অনেক বেশি।

বিদ্যুৎ বিভাগের এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের শুধুু অবকাঠামো আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সব ধরনের উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কয়লা, গ্যাস, জ্বালানি  তেল সবই আমদানিনির্ভর। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে করোনাকাল থেকে। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে চরম অস্থিতিশীল জ্বালানির বাজার। বেশি দামে জ্বালানি  পণ্য আমদানি করতে হয়েছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার পতন বড় বেশি লোকসানে ফেলেছে। আমদানি ব্যয় লাগামহীন বেড়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আইএমএফ-এর ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রেও পরার্মশ রয়েছে, ভর্তুকি তুলে দেওয়ার।

ওই কর্মকর্তা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ বছর গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ডলার সংকটে চাহিদা অনুযায়ী তেল, গ্যাস, কয়লা আমদানি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম ১৪ টাকা। সেটা অন্তত আরও ২০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। তবে দেশে গ্যাসের যে সরবরাহ ও চাহিদা তার ৬০ শতাংশই ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে। তবে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না পেট্রোবাংলা।

এদিকে একাধিক বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে লোকসানে বিদ্যুৎ বিক্রি করায় প্রতিমাসে শত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এর একজন জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, বাল্ক পর্যায়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় প্রতিমাসে ১০০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে কোম্পানিটিকে। শুধু ডিপিডিসি নয়, সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাই লোকসানে আছে বলে জানা যায় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে।

গত বছরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৩৫, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৮৫ পয়সা এবং ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীর ৬ টাকা ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারীর ৬ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৯৫ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৬ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের ওপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ১২ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ২৬ পয়সা করা হয়েছে।

আবাসিক গ্রাহক ছাড়াও বেড়েছিল সব ধরনের বিদ্যুতের দাম। এর মধ্যে কৃষি, ধর্মীয়, দাতব্য, হাসপাতাল, রাস্তার বাতি, পানির পাম্প, ক্ষুদ্রশিল্প, শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। শুধু বিদ্যুতের দাম নয় সরকারের নির্বাহী আদেশে এক দফা বাড়িয়েছে গ্যাসের দামও। গত বছরই তিন দফায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ানো হয়েছিল প্রায় ১৬ শতাংশ, পাইকারি বিদ্যুতের দাম ফিডার ভেদে সাড়ে ছয় থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছর ১৭ জানুয়ারি শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ থেকে ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত।


আরও খবর



দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

বিশ্বে দিন দিন বেড়েই চলছে বায়ুদূষণ। অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণও। রবিবার শহরটির বাতাস খুব অস্বাস্থ্যকার অবস্থায় রয়েছে।

এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ২৫৭ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা, যা খুব অস্বাস্থ্যকার হিসেবে বিবেচিত।

এ ছাড়া ২১৮ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা শহর। ২১৭ স্কোর নিয়ে দেশটির রাজধানী দিল্লি রয়েছে তৃতীয় স্থানে। আর চতুর্থ অবস্থানে থাকা চীনের উহান শহরের স্কোর ১৯৬ এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোর শহরের স্কোর ১৯২।


আরও খবর