Logo
শিরোনাম
মন্ত্রী পরিষদের নির্দেশ অমান্য

গজারিয়ায় পাউবো থ্রি-এঙ্গেলের কারসাজিতে খাল উদ্ধার হচ্ছে না।

প্রকাশিত:Sunday ০৪ December ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

মুহাম্মদ মাসুম খান: মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার মেঘনা ও ফুলদী নদীর তীরে থ্রিএঙ্গেল শীপ ইয়ার্ড কোম্পানী বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত একটি কোম্পানী।

২০১০ সালে এই কোম্পানি নয়ানগর মৌজায়  জমি কেনার নাম করে প্রান্তিক শ্রেনীর জনগনের কৃষিজ জমি,বিল, হাওড়,খাস জমি, খাল এবং নদী দখল শুরু করে।

শুরু থেকেই এই কোম্পানীর কৃষিজ জমি, খাস জমি এবং খাল দখলের বিরুদ্ধে এলাকার জনগন বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন করেছে, স্থানীয় এবং  প্রায় সব জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এই কোম্পানির অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

একাত্তর,ইন্ডিপেন্ডেটস টিভি সহ বেশ কয়েকটি টেলিভিশনে বিশদ প্রতিবেদন হয়েছে।  থ্রিএঙ্গেলের নানা অনিয়ম অপকর্মের কারনে তার আইপিও বাতিল করেছিল বিসিইসি। ২০১৯ সালে জাতীয় নদী কমিশন থ্রিএঙ্গেলকে মুন্সীগঞ্জ জেলার ১ নম্বর নদী দখলদার কোম্পানী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

২০২০ সালে হাইকোর্টে কোম্পানির বিরুদ্ধে রিট করা হয় যে রিট পিটিশন নম্বরঃ 8768 of 2020। রিটে বলা হয় সংশ্লিষ্ঠ ১২ কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে নোটিশ দেয়া হয় যে,কেন  থ্রিএঙ্গেলের নদী,খাল,কৃষিজ জমি এবং খাস জমি দখলের বিরুদ্ধে একশন না নেয়া এবং এসব বন্দ না করা তাদের ব্যর্থতা বলে গন্য হবে না এবং আইনগত  ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না?

নোটিশে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল। ফলে সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময় থ্রিএঙ্গেলকে অবৈধ স্থাপনা বন্ধে চিঠি প্রদান ওতদন্ত করেন। কিন্তু থ্রিএঙ্গেল কোম্পানি এসবের কোন তোয়াক্কা না করে তাদের স্থাপনা চালিয়ে যায়। পরবর্তিতে সাংবাদিক,শিক্ষক,আইনজীবী এবং পরিবেশ  সচেতন বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের সম্বনয়ে নদী-খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলা হয়।

তারা সামাজিক যোগাযোগের  মাধ্যমে থ্রিএঙ্গেলের নদী-খাল ও কৃষিজ জমি দখলের বিষয়টির ভয়াবহ পরিনতি সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করে তুলেন। নখাপরক এর সভাপতি বিশিষ্ঠ আলোকচিত্র সাংবাদিক, গবেষক সাহাদাত পারভেজের তোলা একটি ছবি দিয়ে,"মেঘনা-ফুলদীর বুকে কারখান " শীর্ষক একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়  দেশ রুপান্তর পত্রিকায় ২৮ জুলাই ২০২১ সালে।

পরবর্তিতে ২ আগস্ট মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়কে চিঠি দেয় তদন্ত করার জন্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন তদন্ত করে। ২০ অক্টোবর প্রশাসন নদী, খাল ও সরকারের খাসজমি দখলের অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে প্রতিবেদন জমা দেয়।

এরপর ১৬ নভেম্বর দেশ রুপান্তর, ডেইলি স্টার সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায়" দেখল না ‘অন্ধ’ প্রশাসন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে মন্ত্রিপরিষদ ফের তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। তার প্রেক্ষিতে ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখে কমিটি সরেজমিন গিয়ে দুটি খাল ভরাটের সত্যতা পায় এবং সাংবাদিক,কৃষক এবং জনতার সামনে স্বিকার করেন যে থ্রিএঙ্গেল কোম্পানি দুটি খাল দখল করেছে তবে নদী দখল হয়নি। যদিও নদী কমিশন, জেলা প্রশাসন ২০১৯ সালে থ্রিএঙ্গেলকে ১নম্বর নদী দখলদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিলেন। 

তবে পরিবেশকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে করা কমিটির বিরোধিতা করেছেন। তারা ফুলদী ও মেঘনা নদী দখলমুক্ত করতে দ্রুত একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের যুক্তি, যেখান দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হয় সেটাই নদী। সরকারের রেকর্ডপত্রে কী আছে, তা বিবেচ্য নয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান সরকারের উপসচিব মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, ‘নয়ানগর মৌজায় দুটি খাল থ্রিএঙ্গেল মেরিন দখল করেছে। এ দুটি খাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে উদ্ধার করা হবে।’ পরবর্তীতে থ্রিএঙ্গেলের দখলকৃত জায়গায় জেলা প্রশাসন সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেয় যাতে লিখা হয়" এই জমির মালিক জেলা প্রশাসন" 

কিন্তু অদ্যাবধি কেন ৩০০ বছরের পুরানো জীবন্ত খাল দুটি উদ্ধার করার কোন উদ্যোগ নেয়া হয় নি। মুন্সিগঞ্জ উপ বিভাগ,পানি উন্নয়ন বোর্ডের  প্রকৌশলী রাকিব এবং কতিপয় কর্মকর্তা থ্রিএঙ্গেলের সাথে কারসাজি করে এই খনন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছেন বলে গোপন সূত্র থেকে জানা যায়।

এদিকে এলাকায় ভুক্তভোগী কৃষক জমি হারিয়ে নিস্ব হওয়াসহ,খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকার জীব বৈচিত্র মারাত্মক ভাবে নষ্ট হচ্ছে, কৃষিক সংস্কৃতি বিলীন হয়ে যাচ্ছে,ফুলদী নদীর মুখ সরু হয়ে গেছে,ফুলদী নদীর নাব্যতা কমে গেছে। ফলশ্রুতিতে পুরো গজারিয়া উপজেলার সকল  খালগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিনতির দিকে এগুচ্ছে সুজলা সুফলা ফুলদী এবং মেঘনা নদীর জল ধারায় সিক্ত গজারিয়া উপজেলা।

উল্লেখ্য বর্তমান সরকার নদী-খাল রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর। অতিসম্প্রতি ঢাকার মুহাম্মদ্দপুরে বসিলা খাল সহ সারাদেশ ব্যাপী দখলকৃত অনেক  নদী-খাল উদ্ধার করা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে থ্রিএঙ্গেলের দখলকৃত  গজারিয়ার ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বোরোচক, কুমোরিয়া খাল দুটি কেন উদ্ধার হবে না? শান্তিপ্রিয় নিরীহ  এলাকাবাসীর মধ্যে থ্রিএঙ্গেলের বিরুদ্ধে  চরম ক্ষোভ জমে উঠছে ক্রমশ।

নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এলাকার পরিবেশ বাচাতে সচেতন মানুষের নেতৃত্বে আপামর জনগন  যে কোন সময় কঠোর আন্দোলন দিতে বাধ্য হবে।


আরও খবর



জেলেদের আয়ের সবটাই যাচ্ছে দশমিনার দাদন ব্যবসায়ীদের পকেটে

প্রকাশিত:Monday ০৯ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Thursday ০২ February 2০২3 |
Image

নাঈম হােসেন দশমিনা পটুয়াখালী :


পটুাখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গর তীরবর্তী গ্রামগুলোর জেলেরা হতদরিদ্র। জীবিকার প্রয়োজনে দাদন ব্যবসায়ীদের লাল খাতায় লিখিয়ে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় তাঁদের। জেলেদের কষ্টের আয়ের প্রায় সবটাই চলে যায় দাদন ব্যবসায়ীদের পকেটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর বাঁশবাড়িয়া বগী খালগোড়া, বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট, আমবাড়িয়া, হাজিরহাট তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অবস্থিত। গোলখালী, সৈয়দ জাফর, কাঁলারানী, আউলিয়াপুর, পাতারচর পাগলাবাজার, সেন্টার বাজার, পাগলা বাজার, বউ বাজার, শাহজালাল বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীরে অবস্থিত। দয়াময়ী খালের পাশে রণগোপালদী হাট, সুতাবাড়িয়া খালের পাশে আলীপুর হাট ও দশমিনা সদর বাজারে রয়েছে শতাধিক মাছের গদি। গদি মালিকরা সাধারণ জেলেদের দাদন দিয়ে থাকে।

মানতা জেলে হজু, বাদশা, হামেলা, স্থানীয় জেলে নজরুল, ইব্রাহিম ও আনোয়ার জানায়, জেলেরা যে পরিমাণ টাকা দাদন নেন, প্রতিদিন সেই টাকার ১৫ শতাংশ দাদন ব্যবসায়ীদের দিতে হয়। পাশাপাশি জেলেদের নিজ নিজ দাদন ব্যবসায়ীর গদিতে (আরতে) এনে মৌখিক নিলামে মাছ বিক্রি করতে হয়। আর নিলামে ওঠার আগেই জেলেদের মজুত মাছের এক-দশমাংশ গদিদার সরিয়ে রাখেন। সরিয়ে ফেলা মাছ পরে আবার নিলামে তুলে বিক্রি করা হয়। আর সবটাই লিখে রাখা হয় লাল খাতায়। একবার এক গদি থেকে দাদন নিয়ে কোন জেলে পরিশোধ করতে পানেনি নিজ আয়ে। এক গদির দেনা মিটাতে পাত পাততে হয় আরেক গদিতে। 

চরবোরহান গ্রামের বশার মাঝি বলেন, গদিতে প্রথমে মাছ, এরপর নগদ টাকা কেটে নেন। এভাবে মাছ বিক্রির অর্ধেক টাকা তাঁদের পকেটে চলে যায়। এ কারণে দিনরাত পরিশ্রম করেও আমাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে।

বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট বাজারের গদি মালিক মিরা খাঁ জানায়, গদি থেকে দাদন নিয়ে জালের সাভার করে নদীতে মাছ ধরেন। জেলেদের জালের সাভার করতে অনেক টাকার দরকার হয়। জেলেরা এত টাকা জোগার করে জালের সাভার করতে পারেনা বলে দাদন নিতে বাধ্য হয়। 

সেন্টার বাজার গদি মালিক মোঃ ফরহাদ খলিফা জানায়, জেলেরা আমাদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে মাছ ধরেন। আমরা কাউকে জোর করে দাদনের টাকা দিই না। জেলেরা গরিব। নিজেদের প্রয়োজনে আমাদের কাছে এসে তাঁরা টাকা নেন। সারা দেশের মতো একই নিয়মে আমরা জেলেদের কাছ থেকে মাছ ও টাকা আদায় করি।’

এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেও জেলেদের দাদন ব্যবসা থেকে দূরে রাখতে পারিনি। সরকারিভাবে জেলেদের জন্য সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করা হলে হয়তো দাদন ব্যবসা বন্ধ হবে।


আরও খবর



অবসরে ‘অযোগ্য’ রেফারি লাহোজ

প্রকাশিত:Saturday ০৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

ইয়াশফি রহমান :বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি শেষে লিওনেল মেসি তাকে রীতিমতো ‘অযোগ্য’ বলে বসেছিলেন। সেই রেফারি ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন এবার।

আর্জেন্টিনার সেই ম্যাচে লাহোজ ১৮টি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন। মেসিসহ ওইদিন হলুদ কার্ড দেখেন মার্কোস আকুনইয়া ও গনজালো মন্তিয়েল। যে কারণে দুই ফুলব্যাককে সেমিফাইনালে পায়নি আর্জেন্টিনা।

সেই ম্যাচে ফাউলের বাঁশিও বারবারই বাজিয়েছেন লাহোজ। যে কারণে ম্যাচের গতিতে বাঁধা এসেছে বারবার। সে কারণে মেসি ম্যাচ শেষে কোনো রকম রাখঢাক ছাড়াই তাকে ‘অযোগ্য’ বলে দিয়েছিলেন।

বলেছিলেন, ‘ফিফার এই বিষয়ে ভাবা উচিত। আপনি এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন রেফারিকে দায়িত্ব দিতে পারেন না। তিনি যোগ্য নন। ম্যাচের আগেই আমরা ভয় পেয়েছিলাম। কারণ আমরা জানতাম, তার স্বভাব কেমন!’

তাকে নিয়ে বিতর্ক সেখানেই থামেনি। সম্প্রতি লা লিগায় বার্সেলোনা খেলতে নেমেছিল এস্পানিয়লের বিরুদ্ধে। মেসির পুরনো ক্লাবের খেলাতেও দেখা গিয়েছিল মাতেউর কার্ডের মেলা। খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কার্ড দেখিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। হলুদ, লাল কিছুই বাদ যায়নি। এমনকি বাদ যাননি দলের কোচও। বার বার তাঁর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গিয়েছিল ফুটবলারদের। বার্সা ও এস্পানিয়ল মিলিয়ে মোট ১২জনকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন মাতেউ। বার্সার জর্ডি আলবা ও এস্প্যানিয়লের ভিনিসিয়াস সুজাকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি। এস্পানিয়লের আর এক জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন মাতেউ। কিন্তু ভারের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদল করেছিলেন তিনি। বার্সার কোচ জাভি ও রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলার রাফিনহাকেও হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন তিনি।

নিজের পরের ম্যাচে কোপা দেল রেতেও দেখা মিলেছে তার কার্ডের মেলার। লিনারেস দেপোর্তিভোর বিপক্ষে সেভিয়ার ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেই ম্যাচের ১৫ মিনিটেই সেভিয়ার আর্জেন্টাইন কোচ হোর্হে সাম্পাওলিকে লাল কার্ড দেখিয়ে বসেন তিনি।

লাহোজের বিরুদ্ধে অভিযোগটা বার্সা ও এস্প্যানিয়লের ম্যাচ শেষেই এসেছিল। অভিযোগটা করেছিলেন দুই ক্লাবের ফুটবলাররা। তা আমলে নিয়ে লা লিগা ও কোপা দেল রের ম্যাচে তাকে দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্পেনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

তার পরেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লাহোজ। জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক গাস্তন এদুল। 


আরও খবর



নওগাঁ শহর যানজট নিরসন ও রাস্তাঘাট সংস্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:Tuesday ২৪ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

নওগাঁ শহর যানজট নিরসন ও রাস্তাঘাট সংস্কারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নওগাঁ জেলা সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। 

মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত দাবি তুলে ধরেন সংগঠটি। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজী জিয়াউর রহমান বাবলু বলেন, নওগাঁ শহরের প্রধান সড়ক সহ পৌর এলাকায় যানজট ইদানিংকালে অসহনীয় প্রকট আকার ধারণ করেছে। যার শিকার হতে হচ্ছে শহরবাসীকে। নওগাঁ শহরের ভিতরে ব্যাটারি চালিত রিকশা ভ্যান যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো নামানোর ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরে যানজট লেগে থাকে। এর ফলে সাধারণ পথচারী যেমন ঝামেলা পোহাতে বাধ্য হচ্ছে, তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যও।

লিখিত বক্তব্য তিনি আরও বলেন, শহরের আরও একটি সমস্যা রাস্তাঘাট। শহরের প্রাণকেন্দ্র ব্যবসা প্রধান এলাকার ভিতরে পুরাতন সোনালী ব্যাংক রোড, সুপারি পট্টি, কাপড় পট্টি, তুলাপট্টি, ইসলামপুর রোড, চুড়ি পট্টি, কাঁজা বাজার, মুরগি বাজার এবং মাছ বাজার সহ বেশকিছু রাস্তা একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটের এমন অবস্থা খুবই কষ্টদায়ক। বছরের পর বছর একই অবস্থা যেন নওগাঁ বাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের উদাসীনতা ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শহরবাসী হতবাক। বছরের পর বছর একই অবস্থা যেন নওগাঁ বাসি নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

কাজী জিয়াউর রহমান বাবলু বলেন, ব্যবসায়ী হিসেবে আমাদেরকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কখনো কখনো পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে যা কাম্য নয়। মাঝে মধ্যেই আমাদেরকে ভ্যাট, আয়করসহ বিভিন্ন ধরনের (ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য) জরিমানা সমস্যায় পড়তে হয়। অথচ সমস্যা গুলো যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। 

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম সহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



আরও খবর



দেড় মাসে ঠাণ্ডাজনিত রোগে ৭৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:Wednesday ১১ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : গত দেড় মাসে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশুসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও তিনজন ডায়রিয়ায় মারা গেছেন। নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে জানুয়ারির ৯ তারিখ পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী চট্টগ্রামে। এ বিভাগে ১৪ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ হাজার রোগী এ রোগে ভুগছেন।

ময়মনসিংহে তিন হাজার ৫৮২ জন, রাজশাহীতে এক হাজার ৮৩৬ জন, রংপুরে এক হাজার ৪৭২ জন, খুলনায় ছয় হাজার ৬১৭ জন, বরিশালে তিন হাজার ৩২১ জন ও সিলেট বিভাগে দুই হাজার ৮৬৬ জন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে মারা যাওয়া ৭৩ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এ বিভাগে মারা গেছেন ৪৯ জন। এছাড়া ময়মনসিংহে ২০ জন, খুলনায় দুজন ও বরিশালে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি বিভাগগুলোতে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ দুই লাখ ২৮ হাজার ৫২১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ১৪ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি সময়ের মধ্যে কেউ মারা যাননি। তবে চট্টগ্রাম বিভাগে এসময়ে ডায়রিয়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিভাগটিতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার।


আরও খবর



বর্ষসেরা কোচ হলেন লিওনেল স্কালোনি

প্রকাশিত:Tuesday ১০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

ইয়াশফি রহমান :বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনিকে এবার বর্ষসেরা কোচের সম্মানে ভূষিত করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান বিভাগ (আইএফএফএইচএস)। আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি এখানে টেক্কা দিয়েছেন ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশ্যম ও মরক্কোর ওয়ালিদ রেগরাগুইকে।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আইএফএফএইচএস স্কালোনি সম্পর্কে লিখেছে, ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর স্কালোনির দল জিতেছে ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপ।

আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে তার চুক্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই চুক্তিতে সই করবেন বলেও জানিয়েছেন স্কালোনি। আপাতত ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে স্কালোনির। অর্থাৎ, চার বছর পরে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দেখা যাবে স্কালোনিকে।

আইএফএফএইচএস এর জরিপে সেরা কোচের তালিকায় যারা ছিলেন তারা হলেন- ১. লিওনেল স্কালোনি- ২৪০ পয়েন্ট, ২. দিদিয়ের দেশ্যম- ৪৫ পয়েন্ট, ৩. ওয়ালিদ রেগরাগুই- ৩০ পয়েন্ট, ৪. জ্লাত্‍কো দালিচ- ২০ পয়েন্ট, ৫. হাজিমে মরিয়াসু- ১৫ পয়েন্ট, ৬. লুইস ফন গাল ও গ্রেগ বারহাল্টার- ১০ পয়েন্ট, ৭. হার্ভে রেনার্ড, তিতে ও পাওলো বেন্তো- ৫ পয়েন্ট।


আরও খবর