Logo
শিরোনাম

গজারিয়ার বাউসিয়া চর কুমারিয়া গ্রাম থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

 গজারিয়া প্রতিনিধিঃ 

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর কুমারিয়া গ্রামে আগের দিন সন্ধ্যায় ইমাম নিয়ে বিতর্কের পরের দিন সকালে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা রহস্যের সৃষ্টি করেছে সাধারণ মানুষদের মনে। স্বজনরা বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে সঠিক তদন্তপূর্বক দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

নিহতের নাম বাহাদুল্লাহ মোল্লা (৫০)। সে চর কুমারিয়া গ্রামের জলিল মোল্লার ছেলে। সে স্থানীয় চর কুমারিয়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

 নিহতের ভাই শহীদুল্লাহ জানান,   আমার ভাই বাহাদুল্লাহ  স্থানীয় চর কুমারিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত প্রায় ১৫দিন ধরে মসজিদের বর্তমান ইমামকে রাখা না রাখার ব্যাপারে মুসলিরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েন। কিছু মুসল্লি বর্তমান ইমামকে বিদায় করে দেওয়ার পক্ষে আর কিছু মুসুল্লি তাকে রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমামকে রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। এদিকে সর্বশেষ গতকাল ( শনিবার) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। 

গতকাল শনিবার  রাত ১০ ঘটিকার সময় আমার ভাই বাহাদুল্লা রাতের খাবার খেয়ে  চা দোকানে সময়   ব্যয় করে। তারপরে তিনি আর বাসায় ফিরেননি, দীর্ঘ সময় তার খোঁজখবর না পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরবর্তীতে  ( রবিবার) সকালে প্রতিবেশী সুরুজ মিয়ার আম বাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় লোকজন। পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত বাহাদুল্লার পরিবার এবং ভাই শহীদুল্লাহ সহ মহল্লাবাসীর ধারণা    এই ঘটনার জের ধরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে ।

এদিকে নিহতের স্ত্রী ফারজানা বেগম বলেন, তার স্বামীর আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ নেই। তাদের অনেক সুখের সংসার ছিল। তার স্বামীকে  পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই ঘটনাই দোষীদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।

নিহতের মা খবিরন নেছা তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে দাবি করে বলেন,যাদের সাথে তার ঝামেলা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই কে হত্যাকারী তা জানা যাবে। 

 প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসীদের প্রশ্ন ক্ষুদ্র একটি রশি দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে না ।  

গজারিয়া থানা এসআই সেকান্দার আলী বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করি। বিষয়টি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি ময়নাতদন্তের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর আগে কোন মন্তব্য করতে চাই না।


আরও খবর



৩০ নভেম্বর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যেকোনো দিন প্রকাশ হতে পারে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব–কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার ১৭ নভেম্বর এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা যায়, শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে এই তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন ফল প্রকাশের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন সময় দেবেন, সেদিন ফল প্রকাশিত হবে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেয় ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ, পরবর্তীতে সিলেটসহ দেশের কিছু এলাকায় বন্যার কারণে দুই দফায় পেছানো হয় পরীক্ষা।



আরও খবর

আগামীকাল এসএসসি সমমানের ফল

রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২

ঢাবির ৫৩তম সমাবর্তন আজ

শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২




মা হলেন বিশাপা বসু

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বলিউড পাড়ায় বইছে সুসংবাদের বাতাস। আলিয়া-রণবীরের কন্যা সন্তান জন্মের ঠিক ছয় দিনের মাথায় এবার কন্যা সন্তানের বাবা-মা হলেন বলিউডের আরেক সুপারস্টার দম্পতি করণ সিংহ -বিশাপা বসু।

১২ নভেম্বর মুম্বাইয়ের খারের হিন্দুজা হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা বসু।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে বিপাশা-করণ দম্পতি জানান, তাদের ঘরে নতুন অতিথি আসছে। বিপাশা বসু এরপর বিভিন্ন ফটোশুটের মাধ্যমে ভক্তদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করেন। বিপাশা বসু ৪৩ বছরে মা হয়েছেন এই খবরে ভীষণ আনন্দিত তার ভক্তরা।

বিপাশার মা হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা প্রিয় তারকাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপাশার বেবি বাম্পের ছবি রীতিমতো ভাইরাল হয়।

এ ছবি নিয়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা হয়। কিন্তু বিপাশা ও করণ ভক্তরা এটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন।

বিপাশা বসু ও করণ সিং গ্রোভার বলিউডের অন্যতম আলোচিত দম্পতি। তাদের ব্যক্তিজীবন নিয়েও সিনমোপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ রয়েছে। ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল মুম্বাইয়ে সাত পাকে বাঁধা পড়েন দুই তারকা।


আরও খবর

মঞ্চ মাতালেন নোরা ফাতেহি

শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২




মোরেলগঞ্জে ডিসি, ইউএনও এসিল্যান্ডসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি স-মিলের মালিকানাধীন জমি নিয়ে জেলা বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৪ জনকে বিবাদী করে বুধবার মামলা দায়ের করেছেন মিল মালিক আবুল বাশার শেখ ( মামলা নং-দেওয়ানি ৩৮৮/২০২২)। 

এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মোরেলগঞ্জ ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে। বিজ্ঞ আদালত বিবাদীগনকে আগামী ২১ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য আদেশ প্রদান করেছেন। 

  মামলার বিবরনে জানাগেছে, উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের মঙ্গলেরহাট এলাকার “জনতা রাইস এন্ড স-মিল” মালিক মো. আবুল বাশার শেখ পুটিখালী মৌজার এসএ ৩৫৩ খতিয়ানে ১৪৫১, ১৪৫২ ও ১৪৫৩ দাগের বিআরএস ৩৪৫২ দাগের ০.৫২ একর জমি গত ১৫.১০.২০১২ ইং তারিখে ৫৭৭১ নং দলিলে ইসাহাক আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছেন। জমির এক অংশে তিনি স-মিল স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। 

গত ১৩ নভেম্বের উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে জমির মালিক এ মামলার বাদী আবুল বাশারের অনুপস্থিততে জমিতে লাল নিশান টানিয়ে দেন এবং তার স-মিলটি সরিয়ে নেয়ার জন্য বলেন। কারণ হিসেবে বলেন, 'তার স’মিলটি চরের সরকারি জমিতে স্থাপিত'।

 পরের দিন জমির মালিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে স্বাক্ষাৎ করে জানা, তার জমি সিএস রেকর্ডীয় দাগে রয়েছে। যা বিআরএস ৩৪৫২ দাগে পূর্বের মালিক ইসাহাক আলী হাওলাদারের নামে ৭৯৩ নং খতিয়ানে রেকর্ড হয়। 

এক পর্যায়ে আবুল বাসার তার ক্রয়কৃত জমি পরিমাপ করে সঠিক সিমানা নির্ধারনের জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তা সে বিষয় কর্নপাত না করে স-মিলটি সরিয়ে নিতে বলেন এবং বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। 

এতে নিরুপায়  হয়ে জমির মালিক আবুল বাশার শেখ বাগেরহাট বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ারকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদী গনের বিরুদ্ধে তফসিল বর্নিত জমিতে মামলা চলাকালিন কেন অস্থায়ী ও অর্ন্তবর্তীকালীন নিশেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করা হবে না তা অত্র নোটিশ প্রাপ্তির ২১ দিনের মধ্যে বিবাদী পক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য আদেশ প্রদান করেন। 

এ সর্ম্পকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুটিখালী মঙ্গলেরহাট এলাকায় এসএ রেকর্ড অনুযায়ী উক্ত স-মিলের জমিতে পূর্বে খাল ছিলো। খালটি ভরাট করে বে-দখল করে নিয়েছে, খালের জমি কখনও মালিকানাধীন হতে পারে না।  বিআরএস রেকর্ড কারো নামে হয়ে থাকলে তা কর্তন করা হবে। 


আরও খবর



রাণীনগর-আত্রাই থানা পুলিশের অভিযানে ৬জন মাদক কারবারী-জুয়ারী আটক

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

 কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :

নওগাঁর রাণীনগর এবং আত্রাই থানাপুলিশ পৃথক পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে ৩জন মাদক কারবারী ও ৩জন জুয়ারীসহ ৬জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে দুইজনের নিট থেকে মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাণীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সেলিম রেজা বলেন,মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পূর্ব বালুভরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় পূর্ব বালুভরা গ্রামের আক্কাছ আলীর ছেলে মুঞ্জ প্রামানিক (৪৮) ও আফজাল মন্ডলের ছেলে ইউনুছ মন্ডল (৪৫) কে ৯০গ্রাম গাঁজা আটক করা হয়। রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া একই রাতে মাদক মামলায় আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামী খট্রেশ্বর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপর দিকে আত্রাই থানাপুলিশ মঙ্গলবার সন্ধায় উপজেলার জাত আমরুল গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘোষপাড়া গ্রামের মিন্টু খামারু (৩২),জাত আমরুল গ্রামের নজরুল ইসলাম (৫০) ও সুজন (৪০) কে আটক করেছে। তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলা হচ্ছিল জানিয়ে থানার ওসি তারেকুর রহমান সরকার বলেন রাতেই আটককৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা রুজু করে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আরও খবর



জনবল সংকটে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


প্রায় ২৮ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসাস্থল নওগাঁ সদর ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতাল। এ হাসপাতালে প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১ হাজার ৭শ’ জন ও ইনডোরে আরও ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। নওগাঁর ১১ উপজেলা ছাড়াও পাশের বগুড়া জেলার আদমদীঘি ও জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকেও লোকজন আসেন এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তু আশানুরুপ সেবা না পাওয়ায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

এ জেলার মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় হাসপাতাল টি। তবে আগের ১০০ শয্যা হাসাপাতালের যে জনবল সেটা দিয়েই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে এখনো। এতে করে রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। আর উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালে উপ-পরিচালক, শিশু, মেডিসিন, সার্জারি, ফরেনসিক, চক্ষু, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজি ইমেজিং, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, গাইনি এ্যান্ড অবস, নাক-কান-গলা, প্যাথলজি, নিউরোসার্জারি, নেফ্রোলজি, ও মেডিকেল অফিসারসহ মোট ৪৫ চিকিৎসকের মধ্যে আছেন মাত্র ৩২ জন। ৮৬ জনের মধ্যে নার্স রয়েছেন ৭৮ জন। বর্তমানে ১৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে আউটডোর ও ইনডোরে সেবা দেয়া হচ্ছে। 

প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬/১৭শ’ এবং ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

এছাড়াও ১০০ শয্যার জন্য মঞ্জুরি করা পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, চক্ষু, অর্থোপেডিকস ও রেডিওলজি ইমেজিং, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি এ্যান্ড অবস, মানসিক, প্যাথলজি ও নেফ্রোলজি, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার চক্ষু, রেডিওলজিস্ট এবং ইনডোর মেডিকেল অফিসার কার্ডিওলজি ও মেডিসিন প্রতি পদে একটি করে শূন্য রয়েছে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ১৭৬ মঞ্জুরি পদের বিপরীতে জনবল আছে ১২১ জন।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, র্দীঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক সেবা প্রত্যাশীরা বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বেড না পেয়ে মেঝে এমনকি বারান্দায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছেন। অন্যদিকে, রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের দায়িত্বরতরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে রোগীদের ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি বাড়তি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।

ইনডোরে রোগী দেখার পর ডাক্তার আউটডোরে গিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন। এতে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার চিকিৎসক না থাকায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদেরও।

নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে পায়ের চিকিৎসা করাতে এসেছেন রমজান আলী। তার সঙ্গে আসা মেয়ে নিলুফা খাতুন বলেন, অর্থোপেডিক ডাক্তারের কক্ষের সামনে এতই ভিড় বাবাকে যে পাশে কোথাও বসিয়ে রাখবো সেই ব্যবস্থাও নেই। ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাবাকে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছি। অন্যকোনো দিন আবার আসবো আর না হয় রাজশাহীতে নিয়ে যাবো।

একই অবস্থা মেডিসিন বিভাগের সামনেও, দীর্ঘ লাইনে প্রায় ৫০-৬০ জনের মত সেবাপ্রত্যাশী দাঁড়িয়ে আছেন। আমেনা বেগম নামে এক সেবা প্রত্যাশী বলেন, দুইদিন হলো ঘুরে গেলাম। সেই সকাল ১০টায় এসেছি এখন ১২টা বেজে গেল। কিন্তু এখনও ডাক্তারের কাছে যেতেই পারলাম না। অনেকে বাধ্য হয়ে ফিরে গেছে। আমি চলে যাবো। আর কিছুক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আমি আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়বো। একসাথে তিন -চারটি কক্ষে যদি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা রোগী দেখতেন, তাহলে এতো ভোগান্তি পোহাতে হতো না।

হাসপাতালের নতুন ভবনের সার্জারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে মেঝেতে ও বাড়ান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কামরুল হোসেন নামে একজন বলেন, আমার ভাইকে ভর্তি করা হয়েছে। বেড সংকট তাই মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। কি আর করার, বাধ্য হয়েই এসেছি সরকারি হাসপাতালে।

রেনুকা বেগম নামে এক রোগী বলেন, বেড নাই তাই বারান্দা থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা পাওয়াতো আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু চিকিৎসাটাও ভালো ভাবে পাই না আমরা। বারান্দায় এভাবে থাকা যে কতটা কষ্টের, তা বুঝাবো কি করে? টাকা খরচ করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়েই এখানে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মিলাদুল ইসলাম এসে ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ দেয়া হয়েছে। আর বেশি ভাগ ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হয়েছে।

নওগাঁ নাগরিক কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট এ.কে.এম ফজলে রাব্বী বকু জানান, ২৮ লাখ মানুষের ভরসা নওগাঁ সদর হাসপাতাল। চিকিৎসক সংকটের কারণে যদি কেউ সময়মত সেবা না নিতে পারে তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক কি আর হতে পারে। হাসপাতালে যদি সেবার মান ভালো না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে সেবা নিতে? চিকিৎসক সংকটসহ হাসপাতালের সার্বিক সমস্যা দূর করে যেন সেবার মান বৃদ্ধি করা হয় সেই দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, ২৫০ শয্যা বলা হলেও ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তাও এখানে নেই। এতে করে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬শ' জন ও ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেবার মান বৃদ্ধির জন্য চাহিদা পত্রের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি চাহিদা গুলোর অনুমোদন পেলে ডাক্তার, সেবিকা, ওষুধ ও অবকাঠামো সহ সার্বিকভাবে সেবার মান আরো ভালো হবে বলে জানান তিনি।


আরও খবর

জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহ কমছে

শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২