Logo
শিরোনাম

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনে এগিয়ে আসে। (সূরা রা’দ : ১১)

নবী করীম (সা) বলেন, আমাকে সচ্চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের নিমিত্তেই প্রেরণ করা হয়েছে।

মানব জীবনে আখলাকের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ তার মনের আলোকেই সম্পাদিত হয়। দার্শনিক ঈমাম গাজ্জালীর মতে-যেমন গুণাবলী মানব মনে জাগরুক থাকে তারই প্রতিফলন তার বাহ্যিক কাজ-কর্মে প্রকাশিত হয়। এর আলোকে বলা যায় মানুষের কোনো কাজই তার মূল চিন্তা-চেতনা বহির্ভূত নয়। এ জন্যই যুগে যুগে সংস্কারকরা মানুষের সংশোধন ও পবিত্র জীবন যাপনের পন্থা হিসেবে তাদের আত্মার পরিশুদ্ধি ও মূল্যবোধের জ্ঞান প্রথমেই শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের উন্নতি-অবনতি, উত্থান-পতন, মান-সম্মান ইত্যাদি সব কিছুই তাদের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপরই নির্ভর করে।

উত্তম চরিত্র ইসলামী শিক্ষার অন্যতম একটি কোর্স হিসেবে পরিগণিত করা হয়। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা সমগ্র মানব সমাজের চারিত্রিক উন্নয়নে প্রচুর নির্দেশনা বিদ্যমান। মূলত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য এ চরিত্রের আলোকেই হয়ে থাকে।

আখলাকের মাধ্যমেই মানুষ মনুষ্যত্বের চূড়ান্ত মানে উন্নীত হতে পারে। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান। এ বিধানের পরিপূর্ণতার জন্য তাতে উন্নত চরিত্রের বিধান থাকা আবশ্যক।

তাই ইসলামে আখলাকুল হাসানাহ্ তথা উত্তম চরিত্রের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে। পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের নিমিত্তে আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রসূলদের প্রেরণ করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী (সা) কে প্রেরণের অন্যতম কারণ সচ্চরিত্রের বিকাশ সাধন। একদা জনৈক ব্যক্তি রসূল (সা) কে দ্বীনের সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বলেন, উত্তম চরিত্র। এ কথা দ্বারা বুঝা যায়, সচ্চরিত্রতা বা উত্তম চরিত্র দ্বীনের অন্যতম একটি রুকন, যা ব্যতীত দ্বীনের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না, যেমন হজ্ব সম্পর্কে রাসূলের বাণী- হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন হচ্ছে আরাফায় অবস্থান করা যা ব্যতীত হজ্ব আদায় হয় না, তেমনি সচ্চরিত্রতা ব্যতীত দ্বীন ও পরিপূর্ণ হয় না।

উত্তম চরিত্র হল পরকালে মুক্তির উপায়, ইসলামের অপরিহার্য ফরজ তথা নামাজ-রোযা পালন করা সত্তে¡ও পরকালে জাহান্নাম থেকে নাজাত ও জান্নাত লাভের জন্য আখলাক তথা উত্তম চরিত্রের কোনো বিকল্প নেই।

জনৈক ব্যক্তি রসূল (সা)-কে উত্তম ঈমানদার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে যে অধিক চরিত্রবান সেই উত্তম’। উত্তম চরিত্র দ্বারা মু’মিনরা কিয়ামতে রাসূল (সা)-এর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে সবাই এক রকম হবে না।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা) বলেন, ‘কিয়ামতের দিবস তোমাদের মধ্যে আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় ও অবস্থানের ক্ষেত্রে অধিক নিকটবর্তী হবে তোমাদের মধ্যে যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী’। সৎ চরিত্রের অধিকারীর আমলনামাও ভারী হবে।

এ প্রসঙ্গে রসূল বলেন, ‘কিয়ামতের মাঠে হিসেব-নিকাশের সময় ’আ­ল্লাহ ভীতি ও চরিত্রতার গুণ’ মু’মিনের আমলনামাকে ভারী করবে।

রাসূল (সা)-এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেন, তিনি নিজে গুণাহমুক্ত হয়েও নিজের চরিত্র সুন্দর করার তৌফিক অর্জনের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন। যেমন তিনি দোয়ায় বলতেন, আল্লাহ তুমি আমার গঠন-আকৃতি সুন্দর করেছ, আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দাও।

আল্লাহ তায়ালা রসূল (সা) এর উত্তম চরিত্রের প্রশংসাও করেছেন, তিনি বলেন, ‘আপনি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত’। (সুরা কলম : ৪)

আয়াতে মহান আল্লাহ কর্তৃক রসূল (সা)-এর আখলাকের প্রশংসা করেছেন। পবিত্র কুরআনের প্রচুর আয়াতে আখলাকের বিবরণ ও চরিত্রবানদের প্রশংসার বাণী উদ্ধৃত হয়েছে, মাক্কী ও মাদানী উভয় সূরাগুলোতে আখলাকের নির্দেশ বেশি থাকায় এর গুরুত্বেরও আধিক্য বুঝা যায়, যা থেকে কোনো মুসলিমের দূরে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার রাসূল (সা)-এর উত্তম চরিতে চরিত্রবান করুন।

আমিন


আরও খবর

শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে

বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




রাঙ্গামাটি বগাইছড়ি দূর্গম এলাকায়

প্রথম বারের মতো সাজেকে এসএসসি কেন্দ্র চালু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

উচিংছা রাখাইন  রাঙ্গামাটি  :

সারা দেশের ন্যায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দূর্গম অঞ্চল বাঘাইহাট  উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম বারের মতো এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন ও  এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং  স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এবারই প্রথম বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন  সাজেকের দূর্গম শতাধিক গ্রাম থেকে ২২৪ জন শিক্ষার্থী এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে । নতুন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসে  শীক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন আগে ৪০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হতো এতে ছাত্র ছাত্রীদের মূল্যবান সময় ও অভিভাবকদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হতো, সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাঘাইহাটে পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হওয়ায় এলাকাবাসী ও ছাত্র ছাত্রীদের অনেক উপকার হয়েছে।


একেবারে ঘরের উঠানে পরীক্ষা দেয়ার মত। মৈত্রী ত্রিপুরা নামে একজন পরীক্ষার্থী বলেন আগে উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া করে পরীক্ষা দিতে হতো এখন বাড়িতে থেকে পরীক্ষা দিতে পারছি এতে আমাদের কষ্ট, টাকা, সময় সবকিছু বাঁচবে সেনাবাহিনী ও শিক্ষামন্ত্রীকে অনেক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ ঘটিকায় বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা  কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল মুনতাসীর রহমান চৌধুরী (পিএসসি),  এসময় তিনি কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থা দেখে সন্তুষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি বলেন পাহাড়ে   বর্তমান সরকারের  ধারাবাহিক উন্নয়নের একটি অংশ হিসেবে সাজেকে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হয়েছে , এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সম্প্রিতির বন্ধন আরো সূদৃঢ় করতে হবে। পাহাড়ে সেনাবাহিনী উন্নয়নের পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রিতির  সেই কাজই করছে। উল্লেখ  যে বাঘাইহাট উচ্চ বিদ্যালয়টি তৎকালিন জোন কমান্ডার লে: কর্নেল জাহাঙ্গীর  আলম চৌধুরী,পিএসসি, ২৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট  আর্টিলারি  সার্বিক  সহযোগীতায়  ১৯৯২ সালে বাঘাইহাট জুনিয়র হাই স্কুল নামে অত্র স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর ১৯৯৯ সালে তৎকালিন জোন কমান্ডার লে: কর্নেল আবু সোহেল পিএসসি,১ ইস্ট বেংগল এর সার্বিক সহযোগীতায় সরকারি  এমপিও ভূক্তকরন হয়।


 পরবর্তীতে তৎকালিন জোন কমান্ডার লে: কর্নেল মোঃ মুহসিন আলম,পিএসসি,১৪ বীর এর সার্বিক সহযোগীতায়  ২০১০ সালে জেএসসি পরিক্ষার কেন্দ্র অনুমোদন হয়। বর্তমান জোন কমান্ডার-  লে: কর্নেল মুনতাসির রহমান চৌধুরী, পিএসসি,৬ ইস্ট বেংগল  এর সার্বিক সহযোগীতায়  ২০২২ সালে এস এস সি পরিক্ষার কেন্দ্র  ( মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড  ,চট্টগ্রাম) কেন্দ্র অনুমোদন হয়।


আরও খবর

বিশ্বজয় করে দেশে ফিরল ক্ষুদে হাফেজ

শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২




পিল খেয়ে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখছে কিশোরীরা

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

রোকসানা মনোয়ার : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে পানির জন্য হাহাকার লেগেই আছে। গ্রীষ্মকালে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অতিরিক্ত লোনা পানির ব্যবহারে জরায়ু সংক্রান্ত অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে নারীরা। এমন অবস্থায় ঋতুস্রাব চলাকালে লোনা ও নোংরা পানির ব্যবহার কমাতে জন্মনিয়ন্ত্রণকরণ পিল খেয়ে মাসিক বন্ধ করছে উপকূলের কিশোরীরা।

তবে বিষয়টি কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিশোরীদের এভাবে পিল ব্যবহার তাদের মস্তিষ্কেও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ১৫ বছরের এক কিশোরী ৫ মাস ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণকরণ পিল খেয়ে নিজের মাসিক বন্ধ করে রেখেছে সে। বিষয়টি পরিবারের অগোচরে।

ওই কিশোরী বলে, ‘পিরিয়ডকালীন আমি সব সময় পুরোনো কাপড় ব্যবহার করি। সেগুলো ডোবার লোনা এবং অনেক নোংরা পানিতে ধুইতে হয়। এসব থেকে বাঁচতেই পাশের বাড়ির এক ভাবির কাছ থেকে সুখী বড়ি খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রাখি।

লোনা পানি ব্যবহার করায় আমার মাকে দীর্ঘদিন ধরে জরায়ু রোগে ভুগতে দেখেছি। আমি এই রোগে ভুগতে চাই না। এটা খুব কষ্টের। তাই পিরিয়ড বন্ধ রাখতে ভালোই লাগে।

ওই কিশোরীর পরামর্শে তার আরও দুই বান্ধবীও একইভাবে পিল খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রাখে বলে জানায় সে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মুনিরা সুলতানা বলেন, ‘কিশোরী মেয়েরা যদি প্রেসক্রিপশন ছাড়া পিল খায়, অবশ্যই সেটা ঠিক নয়। আমরা যখন ওরাল পিল কাউকে দিই, তখন তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রাখি। পিলের জন্য সে যোগ্য কি না পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে তারপর তা খাওয়ার পরামর্শ দিই।

এখন কেউ যদি শুধু পিরিয়ড বন্ধ করার জন্য পিল খায় সেটা ঠিক নয়। কারণ ওষুধের বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

পিল খেয়ে এক মাস পিরিয়ড বন্ধ করা যেতে পারে। তবে দিনের পর দিন পিরিয়ড বন্ধ রাখলে তার ব্রেইনে যেখান থেকে স্টিমুলাস আসে, সেখানে নেগেটিভ ইফেক্ট হবে। একটা সময়ে তার নিয়মিত পিরিয়ড হবে না। যা তাকে বন্ধ্যাত্ব পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

কৈখালী ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী মনিরা জামিলা বলেন, ‘এসব এলাকায় জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি হিসেবে বড়ি সবচেয়ে জনপ্রিয়। সাধারণত বিবাহিত মেয়েদেরই বড়ি সরবারহ করি। তবে অনেক সময় বোন, ভাবি, মা, চাচিদের জন্য কিশোরী মেয়েরা এই বড়ি সংগ্রহ করতে আসে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং আইসিডিডিআরবির চালানো ন্যাশনাল হাইজিন বেসলাইন সমীক্ষার প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে ৮০ শতাংশেরও বেশি নারী এবং কিশোরী তাদের মাসিকের সময় পুরোনো কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করেন।

ওই সার্ভেতে বলা হয়, দেশের ৪০ শতাংশ মেয়ে মাসিক ঋতুচক্রের সময় তিন দিন স্কুলে যায় না। এই ৪০ শতাংশের তিন ভাগের এক ভাগ মেয়ে জানিয়েছে, স্কুলে না যাওয়ার কারণে তাদের লেখাপড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০১৯ সালে প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণায় বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার নারী ও কিশোরীরা মাসিকের সময় ব্যবহৃত কাপড় লবণ পানিতে ধুয়ে আবারও সেটি ব্যবহার করেন। এভাবে বারবার লোনা পানিতে মাসিকের কাপড় ধোয়া এবং সেই কাপড়ের ঘন ঘন ব্যবহার মেয়েদেরকে স্বাস্থ্যগত হুমকির মধ্যে ফেলে। এগুলো কখনও কখনও চর্মরোগ এবং অন্যান্য যৌন সমস্যার জন্যও দায়ী।

 


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




সোনারগাঁয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় নানি নাতির মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের দড়িকান্দী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কায় নানী আনোয়ারা বেগম (৬৫) ও নাতি জাওয়াদ (৬) নিহত হয়েছেন। 

নিহতরা হলেন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় টেঙ্গারচর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম (৬৫)। সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি মধ্যপাড়া এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. জাওয়াদ (৬) ।

শনিবার দুপুরে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে জাওয়াদ তার নানীর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। দড়িকান্দি এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তিশা পরিবহনের একটি বাস তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু জাওয়াদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি নবীর হোসেন  বলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসটিকে আটক করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 


আরও খবর



উদ্বোধনের অপেক্ষায় রংপুর বাস টার্মিনাল

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

চল্লিশ বছর ধরে কাঁদাপানি আর খানাখন্দে মাখামাখি করে চলাচলের দুঃখ ঘুচতে যাচ্ছে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আসা যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। এখান থেকে প্রতিদিন উত্তরের ১৬ জেলাসহ পুরো বাংলাদেশে অর্ধ লাখেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই টার্মিনাল নির্মাণ করেছে সিটি করপোরেশন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে টার্মিনালটির।

নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত দ্বিতল ভবনের দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল নজর কাড়ছে সবার। শেষ মুহূর্তে ভবনের অসমাপ্ত কাজগুলো চলছে দ্রুতগতিতে। ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনার উদ্বোধন হবে। এটির উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি।

যাত্রীসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি লাঘবে পুরাতন স্থাপনা ভেঙে নতুন করে অত্যাধুনিক রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে পার্কিং, যাত্রীদের বসার স্থান, ১৪টি টিকিট কাউন্টার, ড্রাইভার-কন্ডাক্টরদের বিশ্রামাগার, ডে কেয়ার সেন্টার, শিশুদের খেলার ঘর, নারী-পুরুষের আলাদা নামাজ ঘর, এটিএম বুথ, পাবলিক টয়লেট, ভিআইপি লাউঞ্জ, অত্যাধুনিক মানসম্মত খাবার হোটেল, সাতটি দোকান, অত্যাধুনিক ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম, টেকনিক্যাল বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ, অত্যাধুনিক সভাকক্ষসহ নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রায় সব জেলাতে গাড়ি চলাচলা করে থাকে। সেইসঙ্গে টার্মিনালটি উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বৃহৎ বাস টার্মিনাল হিসেবেও পরিচিত। ১৯৮১ সালে রংপুর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হয়। এতে অর্থায়ন করেছিল রাজশাহী বিভাগ উন্নয়ন কমিটি। এরপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত এর কোনো উন্নয়ন হয়নি। জরাজীর্ণ ভবন, জলাবদ্ধতা ও নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল এটি। এখানে যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে।



আরও খবর



মাছ-পশুখাদ্যে ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্যানারি বর্জ্য থেকে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। কিন্তু কখনো গোপনে, কখনো প্রকাশ্যেই ট্যানারির বর্জ্য জ্বালিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিষাক্ত পোলট্রি ফিড। আর এসব ফিড সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকার পশু, পোলট্রি ও মাছের খামারে। এসব ফিডে আছে ট্যানারির চামড়ায় ব্যবহৃত রাসায়নিক ক্রমিয়াম, সালফিউরিক অ্যাসিড, লাইম, সোডা, ফরমিকা, ক্লোরাইড, সালফেট, অ্যালুমিনিয়াম সালফেট প্রভৃতি। এসব বিষাক্ত উপাদান মুরগি ও মাছের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে মানব-শরীরে। এতে জনস্বাস্থ্য রয়েছে হুমকিতে।

সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট থেকে কঠিন বর্জ্য নিয়মিত একটি চক্র অবৈধভাবে বের করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে বের করা এসব কঠিন বর্জ্য নেওয়া হচ্ছে পশু, পোলট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরির কারখানায়। ২২ সেপ্টেম্বর সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিং স্টেশনে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা এ তথ্য জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, নিয়মিত একটি চক্র গভীর রাতে ও ভোরবেলা ট্রাকবোঝাই করে কঠিন বর্জ্য সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের পেছনের গেট ও ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নিয়ে যায়। সেগুলো দেশের বিভিন্ন পশু, পোলট্রি ও মাছের কারখানায় বিক্রি করা হয়। এ চক্রের সঙ্গে ট্যানারির কিছু নিরাপত্তাকর্মী, কর্মচারী ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জড়িত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, এ ট্রাক দুটি কঠিন বর্জ্য নিয়ে বের হওয়ার সময় জব্দ করা হয়েছে। আমরা মাঝেমধ্যেই এরকম ট্রাক জব্দ করি। পুলিশেও দেই। কিন্তু, পুলিশ ছেড়ে দেয়। এই কঠিন বর্জ্য দিয়ে পোলট্রি-পশুখাদ্য তৈরি করা হয়। বিষয়টি বন্ধ করা দরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী সতেন্দ্রনাথ পাল বলেন, আমরা মাঝেমধ্যেই কঠিন বর্জ্যবোঝাই ট্রাক বের হওয়ার সময় আটক করি। মাঝেমধ্যে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশ ফাঁড়িতেও দেওয়া হয়। আমরা এ চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাই। তা ছাড়া এই চক্রটিকে প্রতিহত করা যাবে না। আগামী বোর্ড মিটিংয়ে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব এবং একটা সিদ্ধান্তে আসব।

বিষয়টি জানতে চাইলে চামড়া শিল্প নগরী ট্যানারি ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রাসেল মোল্লা বলেন, আমাদের কাছে শুধু একটি ট্রাক হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু, ট্যানারি কর্তৃপক্ষ ট্রাকটির বিরুদ্ধে মামলা না দেওয়ায় পরবর্তীতে ডাম্পিং স্টেশনে ওই বর্জ্যগুলো আনলোড করে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা তো ট্রাক আটক করার কেউ না। ট্যানারি কর্তৃপক্ষ ট্রাক আটক করে মামলা দিলে আমরা মামলা নেব।

সাভার এলাকায় তিনটি পোলট্রি ফিড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৫ হাজার টন ট্যানারি বর্জ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাভারের ভার্কুতাতেই এক লাখ টন, আমিনবাজারে দুই হাজার টন ও ভার্কুতা মোগড়াকান্দায় তিন হাজার টন বর্জ্য পাওয়া যায়। রাজধানীর হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পকে ঘিরে এর আশপাশে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য বিষাক্ত পোলট্রি ফিড তৈরির কারখানা। এখন এসব ট্যানারি রয়েছে সাভারের হেমায়েতপুরে। হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হরিণধরা গ্রামে গড়ে ওঠা চামড়া শিল্প নগরীর একেবারে উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বর্জ্য পোড়ানোর খামারগুলো। বর্জ্য পোড়াতে সেখানে প্রায় ৪০টির মতো চুলা রয়েছে। আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত পোলট্রি ফিড।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ডিএলএস) ডা. এ বি এম খালেদুজ্জামান বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পোলট্রি ফিডে ট্যানারি বর্জ্য দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। নিয়মিত সম্মিলিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি। পোলট্রি ফিডে ট্যানারির বর্জ্য মেশানোর অপরাধে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল মাছ, মুরগি ও পশুখাদ্য তৈরিতে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। ওইদিন শিল্প মালিকদের করা আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধী চার সদস্যর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পোলট্রি ও মাছের খাবার প্রস্তুতকারক সমিতির করা আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন আপিল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছে। ওই আদেশের ফলে ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে মুরগি ও মাছের খাবার তৈরি বন্ধে আগের রায়ই বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মনজিল মোরসেদ।

 ২০১০ সালের ২৬ জুলাই পরিবেশবাদী সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২১ জুলাই এক মাসের মধ্যে ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে মাছ, মুরগি ও পশুখাদ্য তৈরির কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। পরে এর বিরুদ্ধে একটি কারখানার মালিকের করা লিভ টু আপিলও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২