Logo
শিরোনাম

ইতিহাসের এক জ্বলন্ত সাক্ষী মহররম মাস

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

মাহমুদুল হক আনসারী : চার সম্মানিত মাসের প্রথম মাস মহররম, যাকে আরবের অন্ধকার যুগেও বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হতো। আবার হিজরি সনের প্রথম মাসও মহররম। শরিয়তের দৃষ্টিতে যেমন এ মাস অনেক তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি এই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণও অনেক দীর্ঘ। আমরা দেখতে পাই, ইতিহাসের এক জ্বলন্ত সাক্ষী মহররম মাস। ইসলামের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয় এ মাসে। শুধু উম্মতে মুহাম্মদিই নয়, বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের অবিস্মরণীয় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এই মাসে।

নামকরণ থেকেই প্রতীয়মান হয় এ মাসের ফজিলত। মহররম অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এ মাস ঘিরে, সঙ্গে সঙ্গে এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাস মর্যাদাপূর্ণ। তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মহররম বা মর্যাদাপূর্ণ মাস। মহররম সম্পর্কে (যা আশহুরে হুরুমের অন্তর্ভুক্ত তথা নিষিদ্ধ মাস) পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২। যেদিন থেকে তিনি সব আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না’- (সূরা তওবা : ৩৬)। অর্থাৎ সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে আল্লাহতায়ালা ১২টি মাস নির্ধারণ করে দেন। তন্মধ্যে চারটি মাস বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে। ওই চারটি মাস কী কী? এর বিস্তারিত বর্ণনা হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এক বছরে ১২ মাস। এরমধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। এরমধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে (অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ ও মহররম) এবং চতুর্থ মাস মুজর গোত্রের রজব মাস’- (সহিহ বোখারি : ৪৬৬২ ও মুসলিম : ১৬৭৯)।

মহররম মাস সম্মানিত হওয়ার মধ্যে বিশেষ একটি কারণ হচ্ছে আশুরা (মহররমের ১০ তারিখ)। এ বসুন্ধরার ঊষালগ্ন থেকে আশুরার দিনে সংঘটিত হয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ও হৃদয়বিদারক কাহিনি। অনেকেই না বুঝে অথবা ভ্রান্ত প্ররোচনায় পড়ে আশুরার ঐতিহ্য বলতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের সরদার হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত ও নবী পরিবারের কয়েকজন সম্মানিত সদস্যের রক্তে রঞ্জিত কারবালার ইতিহাসকেই বুঝে থাকে। তাদের অবস্থা ও কার্যাদি অবলোকন করে মনে হয়, কারবালার ইতিহাস ঘিরেই আশুরার সব ঐতিহ্য, এতেই রয়েছে আশুরার সব রহস্য। আসলে বাস্তবতা কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত। বরং আশুরার ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে প্রাচীনকাল থেকেই। হজরত হুসাইন (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাতের ঘটনার অনেক আগ থেকেই আশুরা অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যঘেরা দিন। কারণ কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৬১ হিজরির ১০ মহররম। আর আশুরার রোজার প্রচলন চলে আসছে ইসলাম আবির্ভাবেরও বহুকাল আগ থেকে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, আবহমানকাল থেকে আশুরার দিনে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা যেমন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি হিজরি ৬১ সনে আশুরার দিন কারবালার ময়দানের দুঃখজনক ঘটনাও মুসলিম জাতির জন্য অতিশয় হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। প্রতি বছর আশুরা আমাদের এই দুঃখজনক ঘটনাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে এও বাস্তব যে, এ ঘটনাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পেরে আজ অনেকেই ভ্রষ্টতা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত। যারা কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে ব্যথাভরা অন্তরে স্মরণ করে থাকেন, তারা কোনো দিনও চিন্তা করেছেন যে, কী কারণে হজরত হুসাইন (রা.) কারবালার ময়দানে অকাতরে নিজের মূল্যবান জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাইতো অনেকেই মনে করেন যে, জারি মর্সিয়া পালনের মধ্যেই কারবালার তাৎপর্য! হায়রে আফসোস! কী করা উচিত! আর আমরা করছি কী? হজরত হুসাইন (রা.)-এর উদ্দেশ্য ও আদর্শ বাস্তব জীবনে অনুসরণ করাই হবে এ ঘটনার সঠিক মর্ম অনুধাবনের বহিঃপ্রকাশ। হজরত হুসাইন (রা.)-ও রাসুলে করিম (সা.)-এর প্রতি মহব্বত ও আন্তরিকতার একমাত্র পরিচায়ক।

মহররম মাসে রোজা রাখা সম্পর্কে অনেক বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বিশেষভাবে আশুরা অর্থাৎ মহররমের ১০ তারিখে রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। একটি হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়, ‘রমজান মাসের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা উম্মতে মুহাম্মদির ওপর ফরজ ছিল। পরবর্তী সময়ে অবশ্যই ওই বিধান রহিত হয়ে যায় এবং তা নফলে পরিণত হয়। হাদিস শরিফে হজরত জাবের (রা.) সূত্রে বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। এ বিষয়ে নিয়মিত তিনি আমাদের খবরাখবর নিতেন। যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো, তখন আশুরার রোজার ব্যাপারে তিনি আমাদের নির্দেশও দিতেন না এবং নিষেধও করতেন না। আর এ বিষয়ে তিনি আমাদের খবরাখবরও নিতেন না’ (সহিহ মুসলিম শরিফ : ১১২৮)। ওই হাদিসের আলোকে আশুরার রোজার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতীয়মান হয়। এমনকি ওই সময়ে তা ফরজ ছিল। বর্তমানে এই রোজা যদিও নফল, কিন্তু অন্যান্য নফল রোজার তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরা ও রমজানের রোজা সম্পর্কে যে রূপ গুরুত্ব প্রদান করতেন, অন্য কোনো রোজা সম্পর্কে সেরূপ গুরুত্বারোপ করতেন না’- (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাই এর পূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে উম্মতের কল্যাণ। এ ছাড়া অসংখ্য হাদিসে আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

মুসলিম শরিফে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইহুদি-নাসারারা তো এই দিনটিকে বড়দিন মনে করে। আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি, তাহলে তো তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘(তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে) আগামী বছর ইনশাআল্লাহ আমরা এই ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব’ (সহিহ মুসলিম : ১১৩৪)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে আপন পরিবার-পরিজনের মধ্যে পর্যাপ্ত খানাপিনার ব্যবস্থা করবে, আল্লাহপাক পুরো বছর তার রিজিকে বরকত দান করবেন’ (তাবরানি : ৯৩০৩)। উল্লিখিত হাদিস সম্পর্কে আল্লামা ইবনুল জাওযিসহ অনেক মুহাদ্দিস আপত্তিজনক মন্তব্য করলেও বিভিন্ন সাহাবি থেকে ওই হাদিসটি বর্ণিত হওয়ায় আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতিসহ অনেক মুহাক্কিক আলেম হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

অতএব যদি কেউ উপরোক্ত হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে ওইদিন উন্নত খানাপিনার ব্যবস্থা করে, তাহলে শরিয়তে নিষেধ নেই। তবে স্মরণ রাখতে হবে, কোনোক্রমেই যেন তা বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনের স্তরে না পৌঁছে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট [email protected]


আরও খবর

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান

শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে

বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




লালমনিরহাটে যুবদলের সম্মেলন ও র‍্যালী

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি লালমনিরহাট ঃ

জাতীয়তাবাদী যুবদল লালমনিরহাট জেলা শাখার দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলন উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, শেখ হাসিনা দেশকে ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন না। তার বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই তিনি দেশে ফিরেছিলেন। ভোটচোর করে ক্ষমতায় এসে এখন উন্নয়নের কথা বলে তেলসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে কোনঠাসা করে রেখেছে দেশের মানুষকে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি দিতেন পারেননি। যেভাবে সার ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাতে কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠে না। আগামীতে কৃষক ধান চাষ বন্ধ করে দেবে। এছাড়াও তিনি সরকারের নানামুখী সমালোচনা করে বক্তব্য দেন।

এসময় সম্মেলনের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না। বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মামুন হাসান, সহ সভাপতি মোহাম্মাদ নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান। লালমনিরহাট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিঠুলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এরআগে আগে সম্মেলন উপলক্ষে জেলা যুবদলের এক বর্ণাঢ্য র্যালী জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সম্মেলন কেন্দ্র জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পৌঁছে শেষ হয় এবং আলোচনা সভা শুরু হয়।

আলোচনা শেষে যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থনে জেলা যুবদলের নেতা নির্বাচনের কথা রয়েছে।যুবদলের এই সম্মেলনের র্যালী ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন ইউনিটের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



মোরেলগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মোরেলগঞ্জে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত।  

 সোমবার বিকেলে মিম কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জমান মনির।  

উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. দুলাল শিকদারের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তাঁতীদলের সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন, জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মারুফ হোসেন, পৌর যুবদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান পলাশ, সদস্য সচিব মো. শহিদুল ইসলাম মিঠু,  জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মামুন তালুকদার, জিউধরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন খানস উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

  এ সময় ড. কাজী মনিরুজ্জমান মনির বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা চলাকালে অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগে আলোচনা সভা না করে শুধু দোয়া অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়ে চলে যান এবং দ্রুত আলোচনা বন্ধ করতে বলেন পুলিশ বলে কাজী মনিরের অভিযোগ।

এর পূর্বে কাজী মনিরুজ্জামান মনির মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রয়াত হারুন অর রশীদ দাদু’র কবর জিয়ারত করেন। এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


আরও খবর



জাতীয় সীরাত প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

সমাজের সকল অসঙ্গতি, অন্যায়-অবিচার, সন্ত্রাস-দুর্নীতির মুলোৎপাটন করে বাংলাদেশকে বাসবাসের উপযোগী আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সীরাত চর্চা করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। 

আজ বিকেলে পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সীরাত প্রতিযোগিতা ২০২২ এর উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন, কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, নগর দক্ষিণ সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। 

একটি অনুপম আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ গতবারের ন্যায় এবারও ২দিন ব্যাপী "জাতীয় সিরাত সম্মেলন, সংবর্ধনা ও সিরাতুন্নাবী সা. মাহফিল" উপলক্ষে জাতীয় সীরাত প্রতিযোগিতা-২০২২ এর আয়োজন করছে।


আরও খবর

বিশ্বজয় করে দেশে ফিরল ক্ষুদে হাফেজ

শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২




পায়রা সেতুর টোল পয়েন্ট থেকে

৩ হাজার ৭শ' ৫৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক।

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পায়রা সেতুর টোল পয়েন্ট থেকে  ৩ হাজার ৭শ' ৫৫ পিচ ইয়াবাসহ  মোঃ রুবেল সরদার (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  দুমকি থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুস সালামের নেতৃত্বে এসআই সাকায়েত হোসেন, এএসআই মামুনসহ পুলিশের একটি টিম শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় উপজেলার লেবুখালী পায়রা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেলকে আটক করেন। পরবর্তীতে তার সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে একটি প্যাকেটের মধ্যে ৩ হাজার ৭শ' ৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রুবেল  বাউফল উপজেলার  দাসপাড়া  গ্রামের মোঃ রশিদ সরদারের ছেলে। 

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুস সালাম ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারি  গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিৎ করে জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী দুমকি উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকসহ আটককৃত রুবেলকে  নিয়মিত মামলায় শনিবার কোর্টে সোপর্দ করা হবে। 

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত রুবেল সর্দার একাত্তরকে জানায়,  ইয়াবার চালান সে শুধু বহন করে ঢাকা থেকে এনেছে,  মাল তার নয় ; ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ৫ হাজার টাকার চুক্তিতে ইয়াবার প্যাকেটটি সে শুধু বহন করে বাউফল নিয়ে যাচ্ছিল।  তবে ইয়াবার প্রকৃত মালিক কে তা সে নিশ্চিত করতে পারেননি।   


আরও খবর



ত্রি-ভূজ প্রেমের ব্যর্থ নাটকীয়তা দেখতে যাচ্ছে গাজীপুর-৩ আসনের জনগন

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

সদরুল আইন,সাংবাদিক,গবেষক 

               ত্রি-ভূজ প্রেমের ব্যর্থ মঞ্চায়ণ দ্বাদ্বশ সংসদ নির্বাচনে দেখতে যাচ্ছে গাজীপুর-৩ আসনবাসি।বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

              তারা বলছেন, বর্তমান এমপি ইকবাল হোসেন সবুজকে মনোনয়ন বঞ্চিত করে শীর্ষ পদ দখলসহ সংসদীয় আসনটি নিজেদের করে নিতে একটি বলয় ত্রি-ভূজ প্রেমের যে রাজনীতির অভিযাত্রা শুরু করেছেন তা ব্যর্থ হবে।এই আসনে আ.লীগের  মনোনয়নে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

                              এর কারন হিসেবে তারা বলছেন,বর্তমান এমপি জনপ্রিয়।জনগনের সাথে তার নিত্য সম্পর্ক বিদ্যমান।তার সময়ে তিনি প্রতিশোধ প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন।

            এছাড়া অতীত শাসকদের  ভূমিদখল,বিভিন্ন বাহিনি গঠন,পদ পদবি বিক্রি,ফেসবুক কমিটি গঠন এবং অতীতের বিদ্যমান প্যাকেট সংস্কৃতি প্রথা বিলুপ্ত করে জননিপীড়নের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ,চাঁদাবাজি,মাদকের বিস্তারের বিরুদ্ধে এমপি সবুজ  জিরো ট্রলারেন্স নীতি গ্রহন করেছেন।অপরাধী নিজের অনুসারি হলেও তার পক্ষ নেন না তিনি।

        বিশেষ করে করোনাকালে তার ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম এবং অতীতের যে কোন সময়ের থেকে এই আসনে সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারনে তার সাফল্যের পালকে যাগ হয়েছে জনআস্থা। মানুষ নিরাপদ অবিচারমুক্ত মুক্ত জীবনের স্বাদ পেয়েছে এবং তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নিরাপদ জীবনযাত্রায় সামীল হয়েছে।

           তবে তার রাজনৈতিক নিকট সহযোদ্ধা ও বিশেষ শুভার্থিদের মনে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ রয়েছে নানাবিধ কারনে।কমিটি গঠন,সঠিক নেতৃত্ব সৃষ্টি,পদায়ণে দুরদৃষ্টির সাক্ষর রাখতে পারেননি তিনি যা তার চলার পথে সুখকর না হয়ে কাঁটা হয়ে তারা বিধতে পারে পায়ে।

       অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনপ্রিয় নেতৃত্ব ইকবাল হোসেন সবুজ তৃণমূল থেকে উঠে আসা প্রখর দুরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক।যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতিকে তিনি সঠিক সময়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার সক্ষমতা রাখেন।

                      যারা তাকে উপড়ে ফেলতে বিশেষ মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন,জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা ব্যর্থ ও বিতর্কিত ছিলেন এবং আছেন।পেশী শক্তির বিকাশ,সম্মানীত মানুষের সম্মান ক্ষুন্ন,অন্যকে তোয়াক্কা না করা, বিতর্কিত কর্মকান্ড,জননিপীড়নের রেকর্ড থাকায় এই মিশনে তারা ব্যর্থ হবেন।বিপুল জনসমর্থনের ঠিকানায় পৌঁছাতে তাদের ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি।

       বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বাদ্বশ সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান এমপি ইকবাল হোসেন সবুজ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসবেন এ সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

             একই সাথে বিশেষ মিশনে থাকা রাজনৈতিকদের অনেকেরই জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক পদসমুহ থেকে চিরতরে ছিটকে পড়ার সমুহ সম্ভাবনা তৈরি হবে।অবসান হবে ত্রিভূজ প্রেমের নাটকীয়তা।


আরও খবর