Logo
শিরোনাম

ইটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীর আওয়ামীলীগে যোগদান

প্রকাশিত:রবিবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

মোঃ মুজাহিদ সরকার কিশোরগঞ্জ ঃ

কিশোরগঞ্জ ইটনা উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে আড়াই শতাধিক নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। 

১১ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দুপুরে সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার সামসুল ইসলাম (আবু বক্কর) এর নেতৃত্বে ২নং ওয়ার্ডের বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যোগদান করেন। তারপর মোঃ জুয়েল ও খালেক মিয়ার নেতৃত্বে সদর ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ডের ইটনা পশ্চিম গ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের ও সুশিল সমাজের দেড় শতাধিক নেতাকর্মীবৃন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যোগদান করেন। 

উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগে যোগদানকারী নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনও যোগদান করেছেন। 

যোগদান অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক, উপজেলার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন ঠাকুর। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ সেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। 

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। 

নেতাদের সাথে কর্মীদের দুরত্ব, সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকা সহ নানা অভিযোগে তৃণমূলের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘ ক্ষোভ হতাশা এই দল পরিবর্তন বলে জানিয়েছে দল ত্যাগকারী বিএনপি নেতাকর্মীরা।


আরও খবর



জাপায় অন্তঃকলহ দিন দিন বাড়ছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

দলের নেতৃত্ব নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে পার্টিতে এখন ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদপন্থিরা ২৬ নভেম্বর কাউন্সিল করতে অটল। আর জি এম কাদেরপন্থিরা কাউন্সিল ঠেকাতে তৎপর। এ নিয়ে এরই মধ্যে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মসিউর রহমান রাঙ্গাও পাল্টা হুশিয়ারি দিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক টানাপড়েন প্রশ্নে জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, দলে কোণঠাসা নেতারা জি এম কাদের এবং বিরোধীরা রওশন এরশাদকে ভুল বুঝিয়েছেন। পার্টির ভেতরে সর্বশেষ দ্বন্দ্বের পেছনেও কোণঠাসা বোধ করা নেতারা রয়েছেন বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ। পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এই অংশটিকে তৃতীয় শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে একাংশের নেতৃত্ব দিতে থাকেন রওশন এরশাদ। তবে এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে যান। এরপর জি এম কাদের রওশনকে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদে হন বিরোধীদলীয় উপনেতা। সে সময় জি এম কাদের ও রওশনের মধ্যে যে মীমাংসা হয়, সে অনুসারেই সবকিছু চলছিল।

তবে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে থাকাকালে দলের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হন রওশন এরশাদ। জি এম কাদের ও তার অনুসারীরা তার খোঁজ না নেওয়ায় গত ২ জুলাই দলের একটি মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রওশন।

এ সভায় দলে মধ্যে কোণঠাসা নেতারা উপস্থিত থাকলেও পার্টির মূল দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। রওশনের এই অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে রওশনকে দিয়ে নতুন নেতৃত্বের কথা বলেন। এ নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।

জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ২৬ নভেম্বর সম্মেলনের আহ্বান করার পাশাপাশি দলটির নিষ্ক্রিয়, ত্যাগী, বঞ্চিত ও বিভিন্ন দলে চলে যাওয়াদের জাপায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, সম্মেলন ডাকার এখতিয়ার নেই রওশন এরশাদের।

সম্মেলন ডাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশন এরশাদকে সরাতে দলের ২৩ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারকে। দলটির প্রেসিডিয়াম সভাও এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জি এম কাদেরপন্থিরা প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে সংসদীয় দলের সভার প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে কেউ হাত মেলালে তাকে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কার করা হবে। সভায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় রওশনপন্থিদের কাউন্সিল ঘিরে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে।

যদি কাউকে বহিষ্কার করা হয়, সে ক্ষেত্রে দল আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়বে। পার্টির একাধিক নেতার মন্তব্য, জাপার নেতৃত্বে নতুন মোড় নিতে পারে শিগগির।

এ বিষয়ে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ বলেছেন, আমরা কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাব। ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টির কাউন্সিল হবে। পার্টির সংসদীয় দল স্পিকারের কাছে যে চিঠি দিয়েছে তাতে আমরা বিক্ষুব্ধ, বিস্মিত। বেগম রওশন এরশাদ এ মাসেই দেশে ফিরবেন। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি জানাবেন।

জি এম কাদের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ও এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, কোনোভাবেই জি এম কাদেরের সঙ্গে কোনো মীমাংসা হবে না। শুধু যদি তিনি (জি এম কাদের) রওশন এরশাদের নেতৃত্ব মেনে নেন, তাহলেই মীমাংসা হওয়া সম্ভব।

তাদের ‘দলবিরোধী ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা অপেক্ষা করেন। দেখেন কার সঙ্গে কে থাকে। এদিকে গত বুধবার জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদপদবি থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ।

এদিকে দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দলটির বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির শক্তি বেড়েছে দাবি করেন। তিনি বলেন, দল থেকে কেউ চলে গেলেও জাতীয় পার্টি থাকবে। দল দলের জায়গায় থাকবে। দল ভাঙবে না। রওশন এরশাদকে দলের দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি। রওশন এরশাদই জি এম কাদেরকে দায়িত্ব নিতে বলেছেন।

এ সময় প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ জাপার সব পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



হাছেন আলী ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের সহায়তায়

হুইলচেয়ার পেলেন,মজিদ পাগলা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

উত্তম কুমার মোহন্ত কুড়িগ্রাম ঃ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম অনন্তপুর মৌজার বাকুয়ার ভিটা গ্রামের আব্দুল মজিদ পাগলা (৬৫)কে হুইলচেয়ার সহ-নগদ অর্থ প্রদান করেন হাছেন আলী ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন।১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে তার বাড়িতে গিয়ে সহায়তা প্রদান করেন হাছেন আলী ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোঃ হাছেন আলী (চেয়ারম্যান) নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ও সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী নাওডাঙ্গা  ইউনিয়ন।

সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন পোর্টাল বিডি- টুডেজ,ও নগর বার্তা লাইভ টিভিসহ-বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জন্মগত শারীরিক অক্ষমতা সম্পন্ন আব্দুল মজিদ পাগলার শেষ আশ্রয়স্থল বিধবা দুই বোনের সংসার। এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল, সেই প্রকাশিত প্রতিবেদনে মজিদ পাগলার জীবনের অসহায়ত্বের ঘটনার বর্ণনা নজরে আসে হাছেন আলী ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের। পরবর্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে হাছেন আলী ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তার বাড়িতে গিয়ে সহায়তা প্রদান করেন।

হুইল চেয়ারের পেয়ে আবেগ আল্পুত হয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে যায় মজিদ পাগলার দু নয়ন। তিনি বলেন আমি খুব অসহায় জন্মগত ভাবে শারীরিক অক্ষমতা সম্পন্ন হত্তয়ায় হাঁটাচলা করতে পারিনা।আর আমাকে সবসময় বন্ধ ঘরে সুইয়ে,থাকতে হবে না এখন হুইলচেয়ারে বসে বাহিরে চলাফেরা করতে পারব। স্ত্রী সন্তান কেউ না থাকায় শেষ বয়সে এসে বিধবা দুটি ছোট বোনের অভাবের সংসারে এসে তিন ভাইবোনে খুব কষ্ট করে দিনযাপন করছি। আমার জন্য ছোট বোনদের ও খুব কষ্ট হচ্ছে।এই বোন দুইটি ছাড়া পৃথিবীতে আপনজন বলতে আর কেউ নেই। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন যারা আমাকে এই হুইল চেয়ারটি সহায়তা করলো তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে হাজার, হাজার শুকরিয়া।

মজিদ পাগলার বিধবা দুই বোন,জমিলা বেওয়া ছালেহা বেওয়া বলেন,এতদিন আমরা দুইবোন মিলে খুব কষ্টে পাগলা ভাইটাকে ঘরবাহির করতাম। ভাইটা বন্ধ ঘরে থাকতে থাকতে কান্নাকাটি করত বাহিরে আসার জন্য আমারা সময় মতো তাকে বাহির করতে পারতাম না, কারণ আমাদের ও অনেক বয়স হয়েছে, দুই বোনের খুব কষ্ট হয়েছে, এখন হুইলচেয়ারে বসে পাগলা ভাইটা বাহিরে চলাফেরা করতে আর কষ্ট হবে না।তাতে আমার দুই বোনের ও কিছুটা কষ্ট লাঘব হলো।যারা আমার ভাই ও আমাদের সহায়তা করলো আল্লাহ যেন তার ভালো করে।

হুইলচেয়ার প্রদান কালে আরো উপস্থিত ছিলেন

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, উত্তম কুমার মোহন্ত, প্রচার ও সাংগঠনিক সম্পাদক নুরনবী মিয়া, স্থানীয় সমাজকর্মী এরশাদুল হক চৌধুরী,পল্লি চিকিৎসক, জাহাঙ্গীর আলম, কিন্ডার গার্ডেন পরিচালক, আব্দুল জব্বার, সমাজ সেবক,শাহ আলম মিয়া সহ আরো অনেক।


আরও খবর



মাধবদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার গৃহনির্মাণে বাঁধা ও চাঁদা দাবি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ সেপ্টেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

নরসিংদীর প্রতিনিধি ঃ

নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন আমদিয়ায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার গৃহনির্মাণে বাঁধা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটার সময় আমদিয়া ইউনিয়নের মাথরা গ্রামে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সদ্য প্রয়াত আজিম উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ‌‌।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে মোঃ আমির হোসেন।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার পিতা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আজিম উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারী অনুদানকৃত একটি পাকা ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন।তিনি তার জীবদ্দশায় সরকারী অনুদানের পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।এমতাবস্থায় গত শুক্রবার (২৬ আগস্ট) একই এলাকার ওমর আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৫), তাজুল ইসলাম (৩০), নজরুল ইসলামের ছেলে আরাফাত (২২) অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের একটি দল নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে গৃহনির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।

এতে আমার পিতা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিম উদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে স্ট্রোক করেন।পরে গত রবিবার (২৮ আগস্ট) ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ‌।আমার পিতার মৃত্যুর পরও চাঁদাবাজরা ক্ষ্যান্ত হয়নি  তারা চাঁদার দাবিতে আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করে আসছে। এতে করে একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য হয়েও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি ।

এমতাবস্থায় আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে আমি প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিভিন্ন ভয়ভীতি ও চাঁদা চেয়ে আমার পিতাকে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে বাধ্য করেছে সেই সকল চাঁদাবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই এবং আমার পিতার পাওয়া সরকারী অনুদানের গৃহনির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করার দাবি জানাই ।এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আমির হোসেন বাদি হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।


আরও খবর



খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

ভারত সফরের শেষ দিনে আজমীর শরীফে খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আজ বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি মাজার জিয়ারত করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী দেশ, জনগণ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন। 

খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির মাজার জিয়ারত করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে, ফ্লাইটটি নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর থেকে জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে সকাল ৯টা ১২ মিনিটে ছেড়ে আসে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় এর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিন্ন নদ-নদীর পানিবণ্টন, সীমান্তে হত্যা ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতার বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির মাজার জিয়ারত করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নরেন্দ্র মোদি-শেখ হাসিনার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে এক সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, ভারতের উত্তর পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী কিষাণ রেড্ডি, ভারতের আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার জন্য হুমকি

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

রায়হান আহমেদ তপাদার : রোহিঙ্গা ইস্যু একটি কঠিন ও জটিল সমস্যা। দিন যত গড়াচ্ছে ততই যেন এর সমাধানের পথ দূরে সরে যাচ্ছে। সম্প্রতি উখিয়ার লাম্বাশিয়া আশ্রয় শিবিরেও প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গার পৃথক সমাবেশ হয়েছে। তা ছাড়া উখিয়া ও টেকনাফের চৌত্রিশটি আশ্রয় শিবিরের সব কটিতে ছোট ছোট ত্রিশটির বেশি সমাবেশ করে জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার দাবি জানায় রোহিঙ্গারা। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিন দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনীহার কারণে প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি। তখন রোহিঙ্গাদের দাবি ছিল, মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। লম্বাশিয়া আশ্রয় শিবিরের সমাবেশের স্লোগান ছিল বাড়ি চলো এবং তারা বলছে আমরা এই দেশে আশ্রিত, এটি আমাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা নয়। দিন যত বাড়ছে, সমস্যা তত প্রকট হচ্ছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে থাকতে চাই না। আমরা নিজের অধিকার নিয়ে দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত যেতে চাই। তাই বাড়ি চলো আন্দোলন।

সফল নিদর্শন ও আলামত থাকার পরও ২০১৭ সালের আগে যেমন কেউ বুঝতে পারেনি আজকের অবস্থা, তেমনি দ্রুত একটা সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গারা ফেরত না গেলে আগামী পাঁচ-সাত বছরের মাথায় এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য কতখানি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। মিয়ানমারের নাগরিক, ১১-১২ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু চার বছরের বেশি সময় ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সবাই একটু সরব হয়েছে বলেই চার বছর ধরে বলছি। আসলে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীর সংঘাত-সংঘর্ষ কয়েক শ বছরের পুরোনো, আর বাংলাদেশ এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ১৯৭৮ সাল থেকে, তা-ও প্রায় ৪৩ বছর হয়ে গেল।

২০১৭ সালের অনেক আগে থেকেই প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে এসে অবৈধভাবে কক্সবাজারে অবস্থান করছিল। ১৯৭৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো সরকারই বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। আজ বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের জীবন বাঁচিয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শরণার্থীরা এক বছরের মধ্যে দেশে ফিরতে পেরেছিল, কিন্তু রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি তার চেয়ে ভিন্ন। তবু তারা সুযোগ পেলেই বারবার বলে যে, তারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই চায় না। তবে সহজাতভাবেই তাদের মধ্যে ভয় কাজ করে যে তাদের অধিকার, প্রয়োজনীয় পরিষেবা, সুষ্ঠু নিবন্ধন ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা না নিয়েই যদি তারা ফেরত যায়, তাহলে তাদের জীবন আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ হবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক ১০ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছে। একাধিক শরণার্থী সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে বেশির ভাগ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ও পরিবারের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আদতে খুব কম।

এই শরণার্থীদের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত অবস্থায় আছে। তাদের বেশির ভাগই প্রায় পাঁচ বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। তাদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারকে কিছু মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করতে হবে, যেমন নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় পরিষেবা, আবাসন, জীবিকার সুযোগসহ অন্যান্য মৌলিক মানবাধিকার, যেমন চলাচলের স্বাধীনতা ও নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর অন্য মানবিক অংশীদারদের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যসহ মিয়ানমারের অন্যান্য স্থানে উপস্থিত রয়েছে। সেসব জায়গায় তারা কাজ করছেন। তবে কিছু বাস্তবতা মেনে নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে রাখাইন রাজ্যসহ মিয়ানমারের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে এখনো জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

সরকার, মানবিক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো এবং স্থানীয় সংস্থাগুলোকে অবশ্যই এ সহায়তা বজায় রাখতে হবে; তবে শরণার্থীদের শিক্ষা, তাদের দক্ষতার বিকাশ ও জীবিকার সুযোগ নিয়েও কাজ করতে হবে। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে, টেকসই প্রত্যাবাসনের পর এগুলো তাদের নিজ সমাজে পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সাহায্য করবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা যে দক্ষতা অর্জন করবে, সেটি তারা কাজে লাগাতে পারবে মিয়ানমারে। শরণার্থী শিবিরে তাদের নিরাপত্তা ও মঙ্গলের ক্ষেত্রেও এটি দরকারি; কারণ এর মাধ্যমেই তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা বাঁচিয়ে রেখে অর্থবহ জীবন দেওয়া সম্ভব। ভাসানচরে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তারা পাচ্ছে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকার সুযোগ, যা তাদের করে তুলছে আরো যোগ্য ও প্রত্যয়ী।

ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় স্থানীয় এনজিওগুলো দক্ষতা বিকাশ ও জীবিকা, যেমন কৃষি, মাছ ধরা বা টেইলারিংয়ের সুযোগ দিচ্ছে। ভাসানচরে জীবিকা-সংশ্লিষ্ট কাজগুলো কক্সবাজারের শিবিরগুলোয় সমানভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে। শরণার্থী শিবিরগুলোয় প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো অনেক দূর এগিয়েছে এবং একটি পরিবেশবান্ধব কর্মপরিকল্পনা ক্যাম্পজুড়ে প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধার করেছে। তবে এটি বজায় রাখার জন্য আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, যেন জ্বালানি কাঠের বিকল্প শক্তির উৎসগুলো, বিশেষ করে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস, শরণার্থী পরিবার ও তাদের আশপাশের স্থানীয় পরিবারগুলোকে নিয়মিত সরবরাহ করা যায়। উপরন্তু বন্যা, ভূমিধস ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগের প্রস্তুতি ও মোকাবিলার জন্য আমাদের অবশ্যই উভয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বিশ্বে একাধিক মানবিক সংকটের—বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ইউক্রেনের কারণে একটি গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। আমাদের অবশ্যই রোহিঙ্গাদের চাহিদা তুলে ধরার মাধ্যমে বৈশ্বিক মনোযোগ ও সমর্থন বজায় রাখার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আমাদের অবশ্যই পৃথিবীকে দেখাতে হবে যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আমাদের কাজ সুসমন্বিত, কার্যকর ও প্রয়োজনীয়। আমাদের অবশ্যই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, দাতা সংস্থা ও সুশীলসমাজের নেতৃত্বকে তুলে ধরতে হবে। তারাই আমাদের সব কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের অবশ্যই দাতা তহবিলে বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং দাতা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে।

বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি এখন আগের চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সংহতি ও অব্যাহত সমর্থনের জন্য আবেদন জানাই। আর আমি এখনো আশা করি, মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসনে এবং সেখানে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পেতে আমাদের সবার সম্মিলিত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকা খুবই জরুরি। রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাংলাদেশের ওপর অভিঘাতের স্বরূপ বহুমুখী। ক্যাম্পগুলো ঘিরে মানব পাচারসহ মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিস্তার ঘটছে ভয়াবহভাবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জঙ্গি সংগঠনগুলোর ধর্মীয় উন্মাদনায় উদ্বুদ্ধ করে রোহিঙ্গা যুবকদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা সম্পর্কে সবাই জানে। ক্যাম্পের ভেতরে স্বার্থান্বেষী এনজিও, ধর্মান্ধ গোষ্ঠী, মাদক, মানব ও অস্ত্রপাচার গোষ্ঠী এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জঙ্গি, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে শুধু বাংলাদেশ নয়, চীন ও ভারত ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে রাখাইন অঞ্চলে যেসব অবকাঠামো তৈরি করেছে তার নিরাপত্তা সব সময় হুমকির মধ্যে থাকবে। যেকোনো বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের জন্য জরুরি, সময়ক্ষেপণ ঠিক হবে না। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সরকার এবং তার সঙ্গে জোরালোভাবে ট্র্যাক টু ও ট্র্যাক থ্রি কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে এবং আমাদের অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এই মর্মে যে রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ কারো পক্ষে বা বিপক্ষে নয়।

শুধু ২০১৭ থেকে নয়, ১৯৭৮ সাল থেকে সংঘটিত ঘটনাবলিকে ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে উভয় দেশকে পরবর্তী কোর্স অব অ্যাকশন নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সমস্যাটি আন্তর্জাতিক, কিন্তু ভিকটিম বাংলাদেশ। সমস্যা সমাধানে সফল হতে হলে আত্মপর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা দরকার। আমাদের বোঝা উচিত ছিল এবং এখনো বুঝতে হবে মিয়ানমার রাষ্ট্র চালায় সে দেশের সেনাবাহিনী। তাদের কাছে রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা ও উন্নতির চেয়ে ক্ষমতায় থাকা জরুরি। ১১ লাখ নিপীড়িত, নির্যাতিত এবং চৌদ্দ পুরুষের ভিটামাটি থেকে উৎখাত হওয়া ক্ষুব্ধ মানুষ, যার মধ্যে উঠতি বয়সি ও যুবক শ্রেণি হবে এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ প্রায় আড়াই-তিন লাখ, বিপর্যয়ের ক্ষুব্ধতায় তারা প্রত্যেকেই হয়ে উঠতে পারে একেকটি স্বতন্ত্র বোমা। হতাশ ও সর্বহারা মানুষের পক্ষে অনেক কিছু করে ফেলা সম্ভব। যত যা-ই হোক, বাংলাদেশ তার নিজের স্বার্থেই কখনো জঙ্গি, সন্ত্রাসী বা অন্য দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। এ ব্যাপারে সরকারের জিরো টলার‌্যান্সনীতি রয়েছে। কিন্তু এত বিশালসংখ্যক উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠী, যেখানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য এনজিও এবং বহু পক্ষ সংগত কারণেই জড়িত, সেখানে বাংলাদেশ সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা থাকলেও সব অপতৎপরতা ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। সম্ভব নয়। সুতরাং মিয়ানমার সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন। দিন যত যাবে বাংলাদেশের নিরাপত্তার ঝুঁকি ততই বাড়বে।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট [email protected]


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২