Logo
শিরোনাম

জাপানে চালু হলো সিক্স-জি

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image

বিশ্বের অনেক দেশই যখন ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের স্বপ্ন দেখছে সেখানে জাপানের প্রযুক্তিবিদরা চালু করে ফেলল সিক্স-জি নেটওয়ার্ক। যার গতি ফাইভ-জির চেয়ে ২০ গুণ বেশি।

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রথম সিক্স-জি ডিভাইস উদ্ভাবন করেছে জাপান। নতুন এ প্রটোটাইপ ডিভাইসটি তৈরি হয়েছে ডোকমো, এনটিটি করপোরেশন, এনইসি করপোরেশন এবং ফুজিটসুসহ দেশটির টেলিকম কোম্পানির যৌথ প্রচেষ্টায়।

গত মাসে নতুন ডিভাইসটির ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে দাবি করা হয়, তাদের সিক্স-জি প্রোটোটাইপটি ফাইভ জির চেয়েও ২০ গুণ বেশি দ্রুত গতিসম্পন্ন। প্রোটোটাইপটি ১০০ হার্জ ব্যান্ড ব্যবহার করে ১০০ জিবিপিএস গতি অর্জন করতে পারে। আর বাইরে একই গতি অর্জন করতে এটি ব্যবহার করে ৩০০ হার্জ ব্যান্ড।

বর্তমান বিশ্বে মোবাইল নেটওয়ার্কিংয়ে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি বলে বিবেচিত ৫জি। এর তাত্ত্বিক গতি সর্বোচ্চ ১০ জিবিপিএস। তবে দেশভেদে ৫জি নেটওয়ার্কের গতি ভিন্ন ভিন্ন।

জাপান ছাড়াও সিক্স-জি নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, সিক্স-জির আগমনের সঙ্গে মানুষ রিয়েল-টাইম হলোগ্রাফিক যোগাযোগ করতে সক্ষম হবে। ভার্চুয়াল এবং মিশ্র বাস্তবতার জগতেও মানুষ নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের নতুন প্রোটোটাইপটি ৩২৮ ফুট এলাকায় পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় যে ফল এসেছে, তা অবশ্যই প্রেরণাদায়ক। তবে, একে এখনই চূড়ান্ত সাফল্যের মাপকাঠিতে বিচার করা যায় না বলে মত প্রযুক্তিবিদদের।

তাদের মতে, নতুন সিক্স-জি শুধুমাত্র একটি ডিভাইসে পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপার রয়ে গেছে এখনও। তাছাড়া নতুন এ প্রযুক্তি কার্যকর করতে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারগুলোকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করতে হবে এবং সিক্স-জি ইনবিল্ট অ্যান্টেনাসহ নতুন স্মার্টফোন বাজারে আনতে হবে।


আরও খবর



নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সুপার এইটের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image




ক্রীড়া ডেস্কঃ

 


টার্গেট ১৬০ রানের। এক সময় মনে হচ্ছিল এই টার্গেট অনায়াসেই করে ফেলবে নেদারল্যান্ডস। ঠিক সেই সময় এক ওভারে জোড়া উইকেট তুলে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। 


এরপর টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৫ রানে জয় পায় বাংলাদেশ।



এই জয়ে সুপার এইটের স্বপ্ন বেশ ভালোভাবে জিইয়ে রাখলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে এক পা দিয়ে রাখলো বাংলাদেশ। নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালকে হারালেই সেরা আট নিশ্চিত করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। 



বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর্নোস ভ্যালে গ্রাউন্ডে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ড। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পরে বাংলাদেশ। 

 

তবে সাকিব আল হাসানের ফিফটি ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ভর করে লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। সাকিব আল হাসান ৪৬ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া তানজিদ তামিম ২৬ বলে ৩৫ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেন ২১ বলে ২৫ রান। 


১৬০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সাবধানী শুরু করে নেদারল্যান্ড। দেখেশুনে খেলতে থাকেন দুই ডাচ ওপেনার মাইকেল লেভিট, ম্যাক্স ও’দাউদ। উদ্বোধনী জুটিতে ২২ রান যোগ করেন তারা।




এরপর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন তাসকিন। ১৬ বলে ১৮ রান করা লেভিটকে আউট করেন এই টাইগার পেসার। 


এরপর দলীয় ৩২ রানে ডাচ শিবিরে আঘাত হানেন আরেক পেসার তানজিম হাসান সাকিব। ১৬ বলে ১২ রান করা ম্যাক্স ও’দাউদকে আউট করেন সাকিব। এরপর সিব্রান্ড এঙ্গেলব্রেখটকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন বিক্রমজিত সিং।


তবে দলীয় ৬৯ রানে ১৬ বলে ২৬ রান করে ফিরে যান বিক্রমজিত। তার বিদায়ের পর অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে সঙ্গে নিয়ে রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন এঙ্গেলব্রেখট।


দলীয় ১১১ রানে এঙ্গেলব্রেখটকে আউট করে বাংলাদেশকে স্বস্তি দেন দেন রিশাদ হোসেন। ২২ বলে ৩৩ রান করে আউট হন এঙ্গেলব্রেখট। একই ওভারে বাস ডি লিডকে আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এই লেগ স্পিনার। 


এরপর দ্রুতই আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে হারিয়ে ডাচদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন রিশাদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। 


শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান করতে সক্ষম হয় ডাচরা। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ নেন ৩টি উইকেট। 


আরও খবর



সৌদিতে পৌঁছেছেন ৩৪ হাজার ৭৪১ হজযাত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের জন্য পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সবশেষ বুলেটিন থেকে তথ্য পাওয়া গেছে

এছাড়া এখন পর্যন্ত হজে গিয়ে জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মো. লুৎফুর রহমান নামের ৬৫ বছর বয়সী একজন মক্কায় মারা যান। তার পাসপোর্ট নম্বর- ১২৯৬৯৪০৮

জানা গেছে, হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাজার ৭৪৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৩০ হাজার ৯৯৪ জন সৌদি আরবে পৌঁছান

বাংলাদেশ থেকে ৮৭টি ফ্লাইটে এসব হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৯টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ২৮টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে

এর আগে, গত মে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শেষ হবে ১০ জুন

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৫ বা ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২০ জুন এবং শেষ হবে ২২ জুলাই


আরও খবর



সুদহারেও হস্তক্ষেপ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইকে জানিয়েছেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সুদহার ১৪ শতাংশের ওপরে যেতে দেওয়া হবে না।

তবে ব্যবসায়ী সংগঠনটির মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বারবার নীতি পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের অর্থনীতি নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা শেষে এসব জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান কচি, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন ও বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ডলারের দাম হঠাৎ করেই ৭ টাকা বেড়ে যাওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আমরা গভর্নরকে বলেছি এটি যেন ১১৭ টাকায় থাকে। তিনি আমাদের এক টাকা কম অথবা বেশির মধ্যে রাখার কথা বলেছেন। ডলার নিয়ে এখনো সমস্যা আছে। আমরা এলসি করার সময়ও একই রেট থাকার কথা বলেছি। গভর্নর আমাদের বলেছেন ডলার সংকট রয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সুদহার বিষয়ে মাহবুবুল আলম বলেন, ডলারের মতো সুদহার বাজারের ওপরে ছেড়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন যে সুদের হার আছে তাতে ১৪ শতাংশের ওপরে উঠবে না আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এর মধ্যেই আটকে দেবে সুদহার। তবে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে খরচ ৬ থেকে ৮ শতাংশ হলে সুদের হার ১২ শতাংশের ওপরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

এদিকে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ঋণ পেতে কয়েকটি শিল্প গ্রুপ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একক ঋণসীমা লঙ্ঘন করা যাবে না। এ সংক্রান্ত আবেদনও নির্দেশনার পরিপন্থি।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, একক গ্রাহক ঋণসীমা হঠাৎ বেড়েছে ডলার রেটের কারণে। ডলারের দাম একবারে বেশি হওয়ায় ঋণও বেড়েছে। ডলারের দাম একসঙ্গে ৭ টাকা বাড়ার কারণে যে পরিমাণ ঋণ বেড়েছে সে পরিমাণ টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণের আবেদন করেছেন ব্যবসায়ীরা। এখানে বিশেষ বিবেচনায় ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছেন গভর্নর।

তিনি বলেন, বারবার নীতি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আমরা গভর্নরকে অনুরোধ করেছি পলিসিটা যেন দীর্ঘমেয়াদি নেওয়া হয়। কারণ, কেউ একটা প্রজেক্ট করার পরই যখন দর বাড়বে তাকে ক্ষতি মেনে নিতেই হবে। এখানে আমাদের ব্যবসায় পলিসিতেও হ্যাম্পার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা যেন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হন তেমন ব্যবস্থা ভবিষ্যতে নেওয়া হবে। আমি মনে করি দেশের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সঙ্গে সুদহারের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমরা এলসি খুলতে পারছি না। এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড কমিয়ে ৩ বিলিয়নে নামিয়ে আনা হয়েছে। ইডিএফ ফান্ড না থাকলেও বেশ কয়েকটি তহবিল রয়েছে, সেখান থেকে সুবিধা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোনো ব্যাংক ডলারের নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত দাম নিলেই অভিযোগ করার কথা বলেছেন, যা নিয়ে কাজ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি বলেন, ডলারের দাম বাড়ায় কিছু গ্রাহকের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ঋণ হয়েছে। ওই গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। এতে তার ঋণসীমা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে না। বিষয়টি সমাধানে ব্যাংক এবং গ্রাহকভিত্তিক বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর। ফান্ডেড এবং নন-ফান্ডেড মিলিয়ে একজন গ্রাহক ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ না পাওয়ার শর্ত থাকলেও এ পরিস্থিতিতে তাদের জন্য বিশেষ বিবেচনা করা হবে।

এর আগে গত ৮ মে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ পদ্ধতি সিক্স মান্থ মুভিং অ্যাভারেজ রেট (স্মার্ট) প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণের সুদহার নির্ধারিত হবে।

এছাড়া সুদহার সম্পূর্ণরূপে বাজারভিত্তিক করার জন্য ছয় মাসের ট্রেজারি বিলের গড় সুদভিত্তিক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকই পিছু হটছে। ধারণা করা হচ্ছে, আইএমএফের ঋণের বোঝার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।


আরও খবর



ঈদে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে পারবে না : আইজিপি

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image



নিজস্ব প্রতিবেদক:


ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়কে ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। 


তিনি বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক করতে হবে।’


আজ সোমবার (৩ জুন) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে ঈদকে সামনে রেখে ‘সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, সড়ক, রেলপথ ও নৌপথের নিরাপত্তা এবং জনগণের নিরাপদ যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত’ সভায় সভাপতিত্বকালে এ আইজিপি এ কথা বলেন। 


ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি। একইসঙ্গে জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। 


সড়ক অথবা নৌপথে কোরবানির পশু পরিবহণের ক্ষেত্রে গাড়ির সামনে গন্তব্যস্থান উল্লেখ করে ব্যানার লাগাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান পুলিশ প্রধান।


 কোরবানির পশু পরিবহণে কেউ বাধার সৃষ্টি করলে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার অনুরোধও জানান তিনি। আইজিপি বলেন, ‘পশু ব্যবসায়ীদের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে হবে।’ 



অজ্ঞান ও মলম পার্টির অপতৎপরতা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। দুর্ঘটনা এড়াতে পণ্যবাহী গাড়ি বা ট্রাকে ভ্রমণ না করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। 


গুরুত্বপূর্ণ ঈদ জামাতকেন্দ্রিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে আইজিপি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে অনেকে বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে যাবেন। বিনোদনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে।’ 


সভায় আরও ছিলেন– অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপ এবং ঢাকার পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



আরও খবর



তদন্তাধীন মামলায় গণমাধ্যমে বিবৃতি বন্ধে আইনি নোটিশ

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image

আনার হত্যাকাণ্ডসহ সব তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের আগে গণমাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন না করা সংক্রান্ত হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সরকারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠান আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

নোটিশে বলা হয়েছে, ঝিনাইদাহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে নিখোঁজ হন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যে ঘটনা টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত। তার মরদেহ সম্পূর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ইলেকট্রনিক, প্রেস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়েল টাইম আপডেট প্রচার করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করছে। সময়ে সময়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনার হালনাগাদ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করছে। সাংবাদিকরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নানান ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করছেন। এমন প্রেক্ষিত বিবেচনায় গণমাধ্যমের সামনে কর্তৃপক্ষ উত্তর দিচ্ছেন। ছোটো-খাটো অনেক বিষয় উঠে আসছে। লাইভ সম্প্রচার হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম পছন্দ অনুযায়ী হেডলাইন করছে। ফ্রিল্যান্সাররা খণ্ডাংশ উল্লেখ করে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচার করছেন। এ বিষয়ে হরেক-রকম বিভ্রান্তিও তৈরি হচ্ছে।

অতীতেও তদন্তনাধীন চাঞ্চল্যকর ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। তন্মধ্যে বুয়েটছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ড, ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ড, ফেনীর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকরাম হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য।

এই সংক্রান্তে আমাদের হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বনাম রাষ্ট্র (৩৯ বিএলডি ৪৭০) মামলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

ওই রায়ের বলা হয়, এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা খুবই সংগত হবে যে, ইদানীং প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় যে, বিভিন্ন আলোচিত অপরাধের তদন্ত চলাকালীন সময়ে পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পূর্বেই বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা অনেকসময় মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অমর্যাদাকর এবং অনুমোদনযোগ্য এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত সম্পর্কে অতি উৎসাহ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে ব্রিফিং করা হয়ে থাকে।

আমাদের সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতে একজন অভিযুক্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত না হচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না যে, তিনি প্রকৃত অপরাধী বা তার দ্বারাই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে। গণমাধ্যমের সামনে গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সংগত নয় যে, তার মর্যাদা ও সম্মানহানি হয় এবং তদন্ত চলাকালে অর্থাৎ পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের পূর্বে গণমাধ্যমে গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তি বা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে এমন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন সমীচীন নয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বিতর্ক বা প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

রায়ে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থাপনের পূর্বেই গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন এবং কোনো মামলার তদন্ত চলাকালীন সময়ে তদন্ত বিষয়ে কতটুকু তথ্য গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা সমীচীন হবে সে সর্ম্পকে একটি নীতিমালা অতি দ্রুততার সঙ্গে প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয়। এই নীতিমালা প্রণয়ন ও যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ/সুরক্ষা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মহাপরিদর্শক, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া গেল।

সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের ঘোষিত রায় সবার জন্য বাধ্যকর। ফলশ্রুতিতে হাইকোর্ট বিভাগের উল্লেখিত রায় সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য অবশ্য পালনীয়।

এমন পরিস্থিতিতে আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডসহ সব তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ আইনি প্রতিকার চাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


আরও খবর