Logo
শিরোনাম

কালকিনিতে বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব ঝুমকির পরিবার

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

এইচ এম মিলন, কালকিনি (মাদারীপুর):

মাদারীপুরের কালকিনিতে আড়িয়াল খাঁ নদীর তান্ডবে স্বামীর পৈত্রিক ভিটা হারিয়ে ও শেষ সম্বল সরকার থেকে পাওয়া জমিটুকু প্রভাবশালী কর্তৃক দখল হয়ে যাওয়ায় ঝুমকি বেগম নামে এক অসহায় পরিবার পুরোপুরিভাবে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে মাথার গোজার কোন ঠাই মিলছে না ওই পরিবারের। তবে সরকার থেকে পাওয়া ওই জমি বেদখল মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন এখন অসহায় ঝুমকি বেগম ও তার পরিবার।

সরেজমিন ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার পুর্বএনায়েতনগর এলাকার আলীপুর গ্রামের ঝুমকি বেগমের স্বামী হামিদ আকনের ১৩৪ নং বাশগাড়ি মৌজার ১৬১৮ নং দাগের ৪ একর ৮১ শতাংশ জমির উপর বসতবাড়ি ছিল। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর আঘাতে গত দুই বছর আগে অব্যহত ভাঙ্গনে আড়িয়াল খা নদী গর্ভে সকল জমি ও বসবাড়িটি সম্পুর্নরুপে বিলিন হয়ে যায়। এ নদী ভাঙ্গনে ঝুমকি বেগম ও তার পরিবার পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যায়। এ ঘটনায় ঝুমকি বেগম নিরুপায় হয়ে নদীর পাড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে। পরে এ বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে মানবিক বিবেচনায় ভুমিহীন হিসেবে ঝুমকি ও তার স্বামী হামিদ আকনের নামে ওই এলাকায় ২৬ শতাংশ জমি কবুলিয়ত দলিল মুলে প্রদান করে সরকার। এ সুত্র মতে হামিদ আকন ওই জমিতে বেশ কিছু গাছ রোপন করেন এবং একটি ঝুপড়ি ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু সরকারের দেয়া ওই জমি হামিদ আকনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব করলে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। উক্ত রিট অনুযায়ী গত ০৭-০২-২২ তারিখে রুল ইস্যু করা হয়। এ মামলা চলমান অবস্থায় সরকার থেকে পাওয়া হামিদ আকনের ওই জমির বিভিন্ন প্রকার রোপনকৃত গাছ কেটে নিয়ে জমি অবৈধভাবে জোর পুর্বক দখল করে নেয় ফাসিয়াতলা গ্রামের কবির খা, হাবি মালত, নজু মালত,  আরিফ মালত ও ফারুক মালতসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী। অসহায় হামিদ আকন ওই ঘটনার কোন প্রতিবাদ করতে না পেরে প্রভাবশালীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্নস্থানে গিয়েও কোন সঠিক বিচার পাচ্ছে বলে অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে।

অসহায় হামিদ আকন ও তার স্ত্রী ঝুমকি বেগম আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের ভিটামাটি সব চলে গেল রাক্ষুসে আড়িয়াল খার পেটে। এখন আবার সরকারের দেয়া আমাদের শেষ সম্বল জমিটুকু চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের পেটে। আমাদের জমি আমাদের ভোগ থেকে বিতারিত করা হচ্ছে। আমরা এখন কোথায় গিয়ে বাচবো। অনেক জায়গায় গিয়েছি সঠিক বিচারের জন্য কিন্তু তা পাচ্ছি না। আমাদের এখন আত্নহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় পাচ্ছি না।

তবে অভিযুক্ত কবির খা ও হাবি মালত ঘটনার অস্বিকার করেন।

পুর্বএনায়েত নগর ইউপি চেয়ারম্যান নেয়ামুল আকন বলেন, আমি বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিংকি সাহা জানান, হামিদ আকনের বিষয়টির ব্যাপারে জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আরও খবর



মোরেলগঞ্জে মানব সেবায় এতিম মিসকিন কল্যাণ সংস্থা ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ

প্রকাশিত:শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাগেরহটের মোরেলগঞ্জে মানব সেবায় অসহায় এতিম মিসকিন ও প্রতিবন্ধীদের পাশে দাড়িয়েছে “এতিম মিসকিন কল্যাণ সংস্থা’।

এ সংস্থাটি ২০১৭ সাল থেকে সংস্থার সভাপতি হাসানুজ্জামান বাবু, সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম মোল্লার, দপ্তর সম্পাদক আলী ইমাম তপুসহ এ কমিটির সদস্যরা নিজেদের আর্থিক সহায়তায় ও বিদেশে কর্মরত অবস্থানকারি মানুষের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

এতিম মিসকিন অসচ্ছলদের দেওয়া হয় একবেলা দুপুরের খাবার। মাসের প্রথম সপ্তাহের শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বারইখালীর মোল্লা মার্কেটে প্রায় ২ থেকে আড়াই শ’ নারী-পুরুষ অসচ্ছল প্রতিবন্ধী অসহায়কে বিশেষ আয়োজনে দুপুরের খাবার খাসির বিরানী পরিবেশন করে থাকে। খাবার পরিবেশনে অর্ভ্যাথনা বিষয়টিও ব্যাতিক্রমী।


খাবার শেষে একাধিক এতিমরা বলেন, এ সমাজের বিত্তবানরা প্রতিনিয়ত ভাল মন্দ খেয়ে তাদের যে খাবার অপচয় হচ্ছে তা আমরা চোখেও দেখিনা। বছরে একবার দামি বড় মাছ ও  মাংস কেনার আর্থিক সচ্ছলতা আমাদের নেই। তারপরেও এরকম একটি আয়োজন যুবকদেরকে আল্লাহর কাছে দোয়া করি। তারা আমাদের একবেলা ভাল খাবার দিতে পারায়।    

  সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম মোল্লার বলেন, মানবসেবায় এলাকার এ সংস্কাটি প্রাথমিকভাবে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু হলেও এর পরিধি অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। সমাজের অসচ্ছল, এতিমদের শুধু একবেলা খাবার নয়, চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যবস্থাও গ্রহন করা হচ্ছে। একবেলা নয় প্রতিনিয়ত এ অসহায়দের খাবার দিতে পারলে নিজেকে আত্ম তুষ্টু মনে হতো। সমাজে বিত্তবানদের এ সংস্কার পাশে দাড়াবার আহবানও জানান তিনি। 


আরও খবর



কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

প্রকাশিত:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

নৌযান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ও কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে শনিবার (২৬ নভেম্বর) দিনগত রাত থেকে সারাদেশে কর্মবিরতি পালন করছেন নৌযান শ্রমিকরা। কর্মবিরতির কারণে আজ রবিবার সকাল থেকে ঢাকার সদরঘাট থেকে কোনো লঞ্চ ছাড়ছে না। বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নৌযান শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, প্রতি পাঁচ বছর পর নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার বিধান থাকলে সর্বশেষ মজুরি কাঠামোর মেয়াদ গত বছরের ৩০ জুনে শেষ হয়েছে। কিন্তু নৌযান মালিকদের সংগঠনগুলো বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। এছাড়া এ ১৬ মাসে নৌ মন্ত্রণালয় ও শ্রম অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বহুবার দেন-দরবার করেও ফল পাওয়া যায়নি।

গত সাত বছরে (৬ বছর ৪ মাস) কয়েক দফা দ্রব্যমূল্য বেড়েছে জানিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, মজুরি-ভাতা বৃদ্ধি না হওয়ায় নৌযান শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এখন তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই সাধারণ শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নৌযান শ্রমিকদের বেতন সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিংপাস দিতে হবে। বাল্কহেডের রাত্রীকালীন চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে। বাংলাদেশের বন্দরসমূহ থেকে পণ্যপরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রোতাশ্রয় নির্মাণ ও চরপাড়া ঘাটের ইজারা বাতিল করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহের চলমান কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। কর্মস্থলে ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুজনিত ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করতে হবে। এবং বাংলাদেশের বন্দরগুলো থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা ১০০ ভাগ কার্যকর করতে হবে।


আরও খবর



নওগাঁর মহাদেবপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন

নওগাঁর মহাদেবপুরে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার এ উপলক্ষে সকালে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, বিকালে মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ ও আলোচনা সভা, কেক কাটা ও সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব রবিউল আলম বুলেট সমাবেশে প্রধান অতিথি, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মতিন মন্ডল প্রধান বক্তা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ও এস, এম, হান্নান বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও প্রতিনিধি দলের সদস্য কাজী আব্দুস সোবহান এতে সভাপতিত্ব করেন।

আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্য ও প্রতিনিধি দলের সদস্য সাংবাদিক কাজী সামছুজ্জোহা মিলনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, যুগ্ম আহবায়ক ও প্রতিনিধি দলের সদস্য শাহাদৎ হোসেন শান্ত, সদস্য চঞ্চল রহমান, সোহাগ হোসেন, এরশাদ আলী, খায়রুল ইসলাম, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মাষ্টার হাফিজুর রহমান জিল্লুর, সদস্য শিহাব রায়হান, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শাকিল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া, ১নং সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা হানিফ মন্ডল প্রমুখ।

এসময় উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আমিন ইসলাম, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি কাজী রওশন জাহান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সাজেদুল ইসলাম সাজ্জু, ইখতিয়ার উদ্দিন দুরন্ত, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক বাপ্পী কুমার মন্ডল রনি, ছাত্রদল নেতা রহমত আলী, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


আরও খবর



বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা দেখছে না..ডব্লিউএফপি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বিশ্বের অনেক দেশে এখন খাদ্য সংকটের পরিস্থিতি থাকলেও বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা দেখছে না বলে বাংলাদেশ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি ডমেনিকো স্কালপেলি। বিষয়টি রাজনৈতিক বলে তিনি সরাসরি গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি।

১৭ নভেম্বর সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধিদল। তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন আমন কাটা চলছে। তিনি (ডমেনিকো) আমাকে বলেছেন, তাদের কাছ তথ্য আছে, কোনো ক্রমেই বাংলাদেশে খাদ্য সংকট বা দুর্ভিক্ষ হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কা নেই। তবে যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু তাই তিনি এটা নিয়ে সরাসরি কথা বলবে না। আমি জানতে চেয়েছিলাম, তাকে রেফার করতে পারব কিনা। তিনি সম্মতি দিয়েছেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন মাল্টিলেটারাল ডোনার অনুমান করছে পৃথিবীতে একটি খাদ্য সংকট হওয়ার আশঙ্কা আছে অতিসত্বর। কাজেই এটাকে বিবেচনায় নিয়েই সরকার কাজ করছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে। তিনি বলেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সংকটের কথা অনেকেই বলছে। পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে তারা কীভাবে দেখছে এবং কীভাবে ভবিষ্যতে এখানে তারা কাজ করবে, এসব অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকেই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিডব্লিউএফপি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করলেও এখন সামান্য সাহায্যই দেয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা গত ১৫ বা ১২-১৩ বছর ধরে নেইনি। ইউএসএইড বছরে এক লাখ টনের মতো গম আমাদের দেয়। এটা ছাড়া আমরা কোনো খাদ্য সহযোগিতা বিদেশ থেকে গ্রহণ করিনি। তবে গত ছয় বছর ধরে রোহিঙ্গাদের জন্য যে খাদ্য প্রয়োজন, সেটিও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মাধ্যমেই দেয়া হয় বলে মন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হওয়ার দিন সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা আর চিনির দাম কেজিতে ১৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। তবে রাজ্জাক দাবি করলেন, এই মুহূর্তে দেশে খাদ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা নেই। গত তিন-চার দিনে শীতকালীন সবজির দাম অর্ধেক হয়ে গেছে দাবি করে তিনি এও বলেছেন, আগামীতে দাম আরো কমে আসবে। মন্ত্রী বলেন, খাদ্যের দাম কমেছে বলেই মুদ্রাস্থীতি গত মাসে কমে এসেছে। তবে আমি মনে করি এখন আমনের মৌসুম, ধান কাটার মাস, দাম আরো কমা উচিত ছিল। আমি বলি, গরিব মানুষ আছে, তাদের কষ্ট হচ্ছে, সীমিত বা নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তবে টাকা নিয়ে খাবার কিনতে পারছে না এমন পরিস্থিতি হয়নি।

শঙ্কার মধ্যেও এবার আমনের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, শ্রাবণ মাসে মাত্র একদিন বৃষ্টি হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম কৃষকরা হয়তো ধান লাগাতেই পারবে না, উৎপাদন কমে যাবে। কিন্তু এই প্রতিকূলতার মধ্যেও সেচ দিয়ে কৃষকরা ঠিকই ধান লাগিয়েছে। সবাই বলছে যে, স্মরণাতীতকালে সবচেয়ে ভালো ধান হয়েছে।

বর্ষায় বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে আমন চাষ বেশি হয়েছে বলেও জানান রাজ্জাক। বলেন, অনেক নিচু এলাকায় অন্য সময় ধান লাগান যেত না। কারণ, বিলে পানি এসে যায়, ডুবে যায়। বছর বৃষ্টি না হওয়ায় এই বিলের জমিতেও ধান লাগিয়েছে। তারা বলে যে, অতীতে যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো আমন পাবে। আমাদের এবার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তার চেয়েও ভালো ধান হয়েছে। আগামী মৌসুমের জন্য দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, আগামী আলু বোরোর জন্য যে সার দরকার আমাদের তা আছে। আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি আছে।

ডলার সংকটের কারণে খাদ্য আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে জবাব আসে, আমরা বলেছি সার আমদানিতে কোনো সমস্যা তৈরি করা যাবে না। এটার পেমেন্ট স্মুথ করতে হবে। খাদ্য আমদানিতে কিছু প্রভাব পড়ছে। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পরিমাণ খাদ্য আমদানি হয়েছে। এই যে এত সংকটের কথা বলা হচ্ছে, এত কম আমদানির পরেও কি দেশে খাদ্য নিয়ে কোনো কথা আছে ? হয়নি তো।

 


আরও খবর

কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২




পুলিশ কর্মকর্তার নজরে পড়ায়

মোড়েলগঞ্জে ২০ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরে গেল সাদেক আলী

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে সাদেক আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যাক্তিকে ২০ বছর পরে তার পরিবারের সদস্যরা খুজে পয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা ১০টার দিকে মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট থেকে তাকে বুঝে নেন ছোট ভাই নুরুল ইসলাম বিশ্বাস। সাদেক আলীর বয়স এখন ৫৪ বছর। সে ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার খর্দ্দ ধোপাদী গ্রামে মহর আলী বিশ্বাসের ছেলে। মোরেলগঞ্জে কর্মরত কালিগঞ্জের এক পুলিশ কর্মকর্তার নজরে পড়ায় ঠিকানা আবিস্কার হয় সাদেক আলীর। 

জানা গেছে, নিখোঁজের পর থেকেই মোরেলগঞ্জে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মাঝিবাড়ি এলাকায় খাদিজা বেগমে(৫৫) নামে এক দরিদ্র বিধবা নারীর বাড়ির পাশে একটি পরিত্যাক্ত ঘরে ওঠেন। খাদিজা বেগম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু’র সহযোগিতায় সেখানে তার খাওয়া পরার ব্যবস্থা করেন। মস্তিস্ক বিকৃতজনিত কারনে ২০ বছর পূর্বে ৩৪ বছর বয়সে সাদেক আলী পরিবার থেকে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজি করে কোন সন্ধান পাননি তার মা ও ভাইয়েরা। 

কালিগঞ্জ এলাকার পুলিশের এসআই নুরুল ইসলাম এই ঘটনাটি জানতেন। সম্প্রতি তিনি মোড়েলগঞ্জ থানায় বদলী হয়ে গেলে সেখানে মাঝিবাড়ি এলাকায় সাদেক আলীকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। ওই সময় এসআই নুরুল ইসলাম তার ছবি তুলে কালিগঞ্জের এক সাংবাদিকের মাধ্যমে পরিবারকে জানান। ছবি দেখে সাদেক আলীর ভাই চিনতে পারেন। 

গতকাল শনিবার পুলিশের মাধ্যমে সাদেক আলীকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তরের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হতদরিদ্র বিধবা খাদিজা বেগম। সাদেক আলীও যেতে রাজি ছিলেন না। থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুর রহমান, নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু ও এসআই নুরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 


আরও খবর