Logo
শিরোনাম

কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির নওগাঁ জেলা শাখার বার্ষিক সাধারণ সভা

প্রকাশিত:Saturday ১৯ November ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ 


বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির নওগাঁ জেলা শাখার বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ  কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি  মোঃ শাহ জালাল। শনিবার দুপুরে নওগাঁ শহরের  মল্লিকা ইন কমিউনিটি সেন্টারে এর আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি ও জেলা শাখার সভাপতি আতাউর রহমান খোকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়  অন্যান্যের মধ্যে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সমীর কান্তি শিকদার ও এস এম কবির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের পরিচালক মোহাম্মদ আলী, ইকবাল লস্কর,আনোয়ার হোসেন, জাকির হোসেন, কাজী রফিকুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন, ফারুক আহমে, মিজানুর রহমান ও বজলুর রহমান, সমিতির সহ সভাপতি,স্বপন কুমার পোদ্দার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়।


আরও খবর



তৃণমূল গোছাতে ব্যস্ত আ.লীগ

প্রকাশিত:Wednesday ২৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

জহিরুল কবির আমজাদ :জাতীয় নির্বাচনের আগে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তৃণমূল গুছিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। দলের মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সম্মেলন প্রায় শেষপর্যায়ে। এসব সম্মেলন স্থলে কেন্দ্র থেকে ছুটে যাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় উচ্চপর্যায়ের নেতারা। দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা নেতাদের। নির্বাচনী প্রস্তুতি ও তৃণমূলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢেলে সাজাতে মূলত এসব পরিকল্পনা ক্ষমতাসীনদের।

দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান, ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে দলের অর্ধেকের বেশি জেলা-উপজেলাগুলোর সম্মেলন হয়েছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া শাখাগুলোর সম্মেলন আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পরপর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও অনেক শাখার সম্মেলন হয়েছে দুই যুগ পর। এ মুহূর্তে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা জেলা ও উপজেলাগুলোর সম্মেলন করতেই ব্যস্ত রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৭৮ জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯টির সম্মেলন বাকি রয়েছে। খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ এই তিন বিভাগের কোনো সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন বাকি নেই। চট্টগ্রাম বিভাগে সাতটি শাখা, ঢাকা বিভাগে ছয়টি, রংপুর বিভাগে চারটি, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের একটি করে জেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে।

এদিকে সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৬৮৪টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। এসব সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে প্রায় ৫৫০টি কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩০টির মতো উপজেলা ও উপজেলার মর্যাদাপ্রাপ্ত কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। এসব উপজেলার মধ্যে কিছু কমিটি যুগ পার করলেও সম্মেলন আর হয়নি। ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার একাধিক উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৫ থেকে ২০ বছর পর। ঝুলে থাকা বাকি উপজেলাগুলোর কমিটি করতে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে তারিখ ঘোষণা করবেন।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য মতে, খুলনা বিভাগে ১১টি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। সবগুলোরই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি চারটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই কেন্দ্রে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। বিভাগটিতে ৮১টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টির সম্মেলন বাকি আছে। ৭০টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে ১২টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বাকি রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চিঠি দেওয়া হবে।

খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক জানান, এ সপ্তাহে তার খুলনায় যাওয়ার কথা। সেখানে গিয়ে জেলার নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ১২ উপজেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, রাঙামাটি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কুমিল্লা মহানগরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা সাত জেলা হলো চট্টগ্রাম উত্তর, চট্টগ্রাম মহানগর, খাগড়াছড়ি, ফেনী, চাঁদপুর, বান্দরবান ও কুমিল্লা উত্তর। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ১৪ বছর আগে। আর চাঁদপুর জেলার সম্মেলন হয় ১১ বছর আগে।

ঢাকা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১৭টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা ছয়টি সাংগঠনিক জেলা হলো কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। সম্মেলন হওয়া ১১ জেলার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেওয়া হয় গোপালগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মোট চার জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক উপজেলা ১৭১টি; এর মধ্যে ১৩৫টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ৩৬টির সম্মেলন বাকি আছে। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ছয় সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। আর যে সাতটি জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি, সেগুলো চলতি মাসের মধ্যে অনুমোদন হবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির অভাব নেই। আমরাও সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। চলতি মাসে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।

রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগের ৯টি সাংগঠনিক জেলা ও ৮৩টি উপজেলা কমিটি রয়েছে। ৯ জেলা কমিটিরই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। ৮৩টি উপজেলা কমিটির তিন থেকে চারটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচ সাংগঠনিক জেলার সবগুলোরই সম্মেলন হয়েছে। বিভাগের ৪০ সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে ৩২টি উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগে এখন আটটি উপজেলা কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। বরিশাল বিভাগের সাতটি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাকি রয়েছে। বিভাগটিতে ৫২টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। সাংগঠনিক উপজেলাগুলোর মধ্যে ৪৮টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা তিনটি উপজেলা হলো বরিশাল সদর, মঠবাড়িয়া ও পাথরঘাটা।

রংপুর বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। সম্প্রতি রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিভাগে চার জেলার সম্মেলন বাকি আছে। বিভাগটিতে ৭৮টি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি রয়েছে। এগুলোর অর্ধেকের বেশি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকিগুলোর সম্মেলন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিলেট বিভাগে পাঁচ জেলা ও মহানগর কমিটি এবং ৪৯টি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি রয়েছে। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে শুধু সুনামগঞ্জের সম্মেলন বাকি রয়েছে। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, সিলেটে বন্যার কারণে সুনামগঞ্জের সম্মেলন পিছিয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি উপজেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



নোয়াখালীতে ভিপি নূরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত:Sunday ০৮ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধি:


বাংলাদেশ গণ-অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূরের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন।  


রোববার (৮ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে এই অভিযোগ দেওয়া হয়।  


অভিযোগে পত্রে বলা হয়েছে,  গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ নামক তথাকথিত রাজনৈতিক দলের সদস্য সচিব নূরুল হক নূর ওমরা হজ করার কথা বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গিয়ে অস্বীকৃত ইজরাইল রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সাথে বৈঠক করে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার উৎখাতের দেশবিরোধী রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। মোসাদ এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সাথে নুরুল হক নূরের ছবি ও তার স্বীকারোক্তিমূলক কথোপকথন ইতোমধ্যেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফের নাম করে বিদেশে গিয়ে ইয়াহুদি চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে নুরুল হক নূর প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সরকার ও পবিত্র ধর্ম ইসলামের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির হীন চক্রান্তে লিপ্ত। ইসলামের খোলসে মাথা ন্যাড়া করে টুপি পরে জুয়িশ-জায়নবাদী প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের মধ্রে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে এবং সরকারের পদস্থ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফেসবুক লাইভে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।  

একই দিন সন্ধ্যার দিকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।


আরও খবর



আগুনে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত

প্রকাশিত:Friday ১৩ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বসত বাড়িতে আগুন লেগে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত দুইটার দিকে আগুনের খবর পেয়ে দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে চারটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও এরই মধ্যে পরিবারের পাঁচজন মারা যান। নিহতরা হলেন কাঙ্গাল বসাক, ললিতা বসাক, লাকী বসাক, সৌরভ বসাক ও শরনাত বসাক।এছাড়াও দগ্ধ হন খোকন বসাক নামের আরেক ব্যক্তি। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের এ ঘটনা ঘটেছে।


আরও খবর



বিশ্বে করোনায় শনাক্ত ছাড়াল ৬৭ কোটি

প্রকাশিত:Friday ১৩ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেড়েছে। তবে আগের দিনের তুলনায় কমেছে নতুন শনাক্ত রোগী। গত এক দিনে বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় সাড়ে তিন লাখে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জাপানে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো ও হংকং। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৭ কোটি ২ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৭ লাখ ২৩ হাজার।

শুক্রবার সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে সারা বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন ১ হাজার ৪৫৩ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে শতাধিক। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ জনে।

একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ৩১৪ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ২০ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫৩ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে জাপানে। এই সময়ে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭২ জন এবং মারা গেছেন ৪৮৯ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ১০ লাখ ৩২ হাজার ২০৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬১ হাজার ২৮১ জন মারা গেছেন।


আরও খবর



ঊনসত্তরের শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

প্রকাশিত:Friday ২০ January ২০23 | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক :

আজ ছিল শহিদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে অর্থাৎ ২০শে জানুয়ারি পাকিস্তানের কুখ্যাত স্বৈরাচার আইয়ুব খানের কুশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্র-গণমিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে আসাদ (পুরো নাম আমানউল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান) শহিদ হন। তিনি ছিলেন ঊনসত্তরের তীব্র গণ-আন্দোলনে পথিকৃত শহিদ। এই আন্দোলনে অগণিত শহিদদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অন্য দুজন হলেন শহিদ রুস্তম ও শহিদ মতিউর। 

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবিনামা পেশের পর থেকে বাঙালি এর স্বপক্ষে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনে ৬-দফাকে সমর্থন করে তার সাথে গণমুখী শিক্ষার দাবি একত্রিত করে দেওয়া ছাত্রদের ১১-দফা দাবি পেশ এই আন্দোলনকে সুতীব্র করে। এই আন্দোলন-হরতালের সাথে আইয়ুব খানের ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের ও কথিত এই মামলায় ‘প্রধান আসামী’ শেখ মুজিবসহ (তিনি তখনও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভ করেননি) মোট ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ছাত্র নেতৃবৃন্দ ৬-দফা ও ১১-দফার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি। দেশের সর্বত্র এই প্রতিবাদ-আন্দোলন আরো বেগবান হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভা থেকে ছাত্র-নেতৃবৃন্দ কর্তৃক ১৭ই জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ডাকে । এর বিরুদ্ধে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের কুখ্যাত গভর্নর মোনায়েম খান দেশব্যাপী ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০শে জানুয়ারি দুপুরে এক ছাত্র-গণমিছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পাশে চাঁন খাঁর পুলে সমবেত হলে পুলিশের গুলিতে আসাদ শহীদ হন। এর প্রতিবাদে লাখো ছাত্র-জনতা কান্না ও ক্ষোভে  পুনরায় আসাদের রক্তমাখা শার্ট পতাকার মতো নিয়ে সমবেত হয়ে মিছিল নিয়ে শহিদ মিনারে আসে। সেখানে ছাত্র নেতৃবৃন্দ ২২, ২৩ ও ২৪শে জানুয়ারি শহিদ আসাদের স্মরণে সারা দেশে ধর্মঘট ও গণ-বিক্ষোভের ডাক দেয় এবং দেশবাসী তা শ্রদ্ধার সাথে পালন করে। এর শেষ দিনে অর্থাৎ ২৪শে জানুয়ারি পুলিশ আবার ক্ষোভে উত্তাল ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে এবং ঢাকার মালিবাগ মোড়ে মতিউর রহমান শহিদ হন। 

ঊনসত্তরে সারা দেশব্যাপী এই গণ-আন্দোলনের ফলস্বরূপ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন আরো বেগবান হয়, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তুলে নিতে সরকার বাধ্য হয়, বাংলার অবিসংবাদিত জননেতা শেখ মুজিব ষড়যন্ত্রমূলক মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসেন এবং স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের পতন হয়।

শহিদ আসাদ, শহিদ মতিউর ও ঊনসত্তরের আরো অগণিত নাম না জানা শহিদদের আত্মদান দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য প্রবল শোক ও সেই সাথে প্রবল অনুপ্রেরণার উৎস। এই ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলন পাকিস্তানের অমানবিক শোষণের প্রতি বাঙালির তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদের প্রতীক এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে।

আসাদের আত্মদানের খবরে সমগ্র দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা সর্বত্র আইয়ুবের ছবি অপসারণ করে, ঢাকার আইয়ুব গেটের নামফলক ভেঙ্গে নতুন নামকরণ করে ‘আসাদ গেট’, আইয়ুব রোডের নাম রাখে ‘আসাদ রোড’ এবং আইয়ুব পার্কের নাম রাখে ‘আসাদ পার্ক’।

এই গণ-আন্দোলন ও আত্মত্যাগের স্মরণে আমাদের কবি-সাহিত্যিকরাও অনেক প্রবন্ধ-কবিতা-গল্প লিখেছেন। কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা হলো কবি শামসুর রাহমানের ‘আসাদের শার্ট’, কবি হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ এবং তখনকার পাকিস্তানি সৈন্য আর পুলিশ বোঝাই  অসংখ্য ট্রাক নিয়ে কবি আল মাহমুদের নিম্নরূপ কবিতাটি -

‘ট্রাক ট্রাক ট্রাক

শুয়োরমুখো ট্রাক আসছে 

দুয়োর বেঁধে রাখ।

বাঁধবো কেন দুয়ার ওগো

তুলবো কেন খিল।

আসাদ গেছে মিছিল নিয়ে

আসবে সে মিছিল।

ট্রাক ট্রাক ট্রাক 

ট্রাকের বুকে আগুন দিতে

মতিউরকে ডাক।

কোথায় পাবো মতিউরকে

ঘুমিয়ে আছে সে।

তোরাই তবে সোনা মাণিক

আগুন জ্বেলে দে।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে শহিদ আসাদ ও শহিদ মতিউরসহ ঊনসত্তরের সব বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক ঃ

সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ


আরও খবর