Logo
শিরোনাম

কওমি উদ্যোক্তার’ পঞ্চম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image

মোহাম্মদ হাছানুজ্জামান :

জমকালো আয়োজনে রাজধানীর কাকরাইল ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে হাজারো কওমি আলেম ও বেকারদের ব্যবসার পথ দেখিয়ে সাড়া জাগানো প্রতিষ্ঠান ‘কওমি উদ্যোক্তার’ পঞ্চম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো গত ২ জুন ২০২৪ (রোববার)। 

পূর্বে রেজিস্ট্রেশনকৃত উদ্যোক্তারা অত্যন্ত শৃঙ্খলার সাথে অংশগ্রহণ করেন।  মূল অনুষ্ঠান সকাল ১০:০০ টায় শুরু হওয়ার সময় থাকলেও দেশের ৬৪ জেলা থেকে পাঁচশতাধিক উদ্যোক্তা অনুষ্ঠান স্থলে আসন গ্রহণ করেন অনুষ্ঠান শুরুর ১ ঘণ্টা আগেই। ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারী করোনার সময় মসজিদ-মাদরাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন যখন স্থবির হয়ে যায় তখন মাওলানা রোকন রাইয়ানসহ কয়েকজন তরুণ আলেমের হাত ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কওমি উদ্যোক্তা’ নামে একটি গ্রুপ খোলার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এ গ্রুপে প্রায় ৩ লাখ সদস্য যুক্ত হয়ে নিয়মিত কেনাবেচা করতে থাকেন। পর্যায়ক্রমে তারা বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আলেম উদ্যোক্তা তৈরিতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। হাজারো আলেম উলামা ও বেকার মানুষ ‘কওমি উদ্যোক্তা’র মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ আলেম উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি যদি একেবারে কম টাকা বিনিয়োগে ব্যবসা শুরু করেন, তাহলে শুরুতে এসব ছোটখাটো পণ্য বিক্রিতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে প্রায় সব ধরনের পণ্য বিক্রিতে আলেমদের মনোযোগী হতে হবে। শুধু কালোজিরা আর মধু বিক্রি করলে হবে না। যুগোপযোগি সকল হালাল ব্যবসায়ে কওমি আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় শায়েখ আহমাদুল্লাহ কওমি উদ্যোক্তার ভূয়সী প্রশংসা করে নিজেও আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসা শুরুর কথা জানান। 


সম্মেলনে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন এমপি বলেন, আমি এত এত আলেম উদ্যোক্তা দেখে গর্ববোধ করছি। আপনারা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। দেশকে শক্তিশালী করতে পারে তরুণ উদ্যোক্তারা। কারণ তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি আছে। তাই কেউ বসে থাকবেন না। সাহস নিয়ে নতুন কিছু শুরু করেন। সাকসেস আসবেই। 

স্টোরেক্স এর চেয়ারম্যান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন আগামীতে এই সম্মেলন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেখতে চাই্। 

কওমি উদ্যোক্তার কো-ফাউন্ডার হাফেজ মুমিনুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বেকার তরুনদের পাশে দাড়াইতেই কওমি উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠা। আমরা স্বপ্ন দেখি একটি বেকারমুক্ত বাংলাদেশের। 

কওমি উদ্যোক্তার ফাউন্ডার মাওলানা রোকন রাইয়ান তার বক্তব্যে বলেন, চলমান কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরো সুগঠিত ও সুচারুরূপে সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হবে এবং সকল উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য আরো যুগোপযোগি ও  উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ। 

অনুষ্ঠানের কাণ্ডারি কওমি উদ্যোক্তার ফাউন্ডার মাওলানা রোকন রাইয়ানের সভাপতিত্বে ও লোকমান গাজীর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, বিশেষ অতিথি ছিলেন আইনজীবী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এমপি, বিশিষ্ট আলোচক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ, বাংলাদেশ আই হসপিটাল মালিবাগের ডিরেক্টর ডা: মাসুদ হাশমী, বিশিষ্ট আলোচক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা সাইমুম সাদী, বিজনেস মেন্টর কোচ কাঞ্চন, কন্টেন্ট কিংয়ের ফাউন্ডার মুহাম্মদ ইকরাম, লেখক-সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা মাওলানা মিরাজ রহমান, উইট ইনিস্টিউটের ফাউন্ডার নাজিব রাফে, আলেম উদ্যোক্তা ও স্পিকার গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, আওয়ার ইসলাম ২৪ ডটকম সম্পাদক মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব, কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, ইয়েস২০ স্কুলের প্রেসিডেন্ট মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের ফাউন্ডার কে এম রিদওয়ানুল বারী জিওন, আলফ্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ হাছানুজ্জামান মাসউদ সহ আরো উপস্থিত ছিলেন ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।


আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ২৫ লাখ গ্রাহক

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image

 ডিজিটাল ডেস্ক:


ঘূর্ণিঝড় ‘রেমালে’র প্রভাবে উপকূলের বিভিন্ন এলাকার ২৫ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ঝড়ো বাতাসে গাছ পড়ে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো।


বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) এক পরিচালক নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দুর্ঘটনা এড়াতে ১৪টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। 


উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর বিদ্যুৎ কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় শেষ হওয়ার পরপরই যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায়, সেই লক্ষ্যে প্রত্যেকটি সমিতির কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন।


তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎহীন এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালী, বাগেরহাট, ভোলা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা ও ঝালকাঠি জেলা। এরমধ্যে পটুয়াখালীতে ছয় লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। 


তাছাড়া বাগেরহাটে ৪ লাখ ৫০ হাজার ও ভোলায় ৪ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।  


আরও খবর



যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে পারে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন করে চালু হতে পারে জিএসপি সুবিধা। এরই মধ্যে দেশটির কংগ্রেসে এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ফের জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে চাইলে বাংলাদেশকে পূরণ করতে হবে দেশটির দেয়া অ্যাকশন প্ল্যান। বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন, ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির ল্যাবার অ্যাটাশে লিনা খান।

রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশন দুর্ঘটনার রেশ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি সুবিধা হারায় বাংলাদেশ। ফিরে পেতে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার জন্যে স্কিমটি বন্ধ রেখেছে মার্কিনিরা।

এটি ফের চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে শুরু হয়েছে আলোচনা। যেখানে বাংলাদেশ পেতে পারে অগ্রাধিকার। আর সে কারণেই দেশটির তরফ থেকে বর্তমান শ্রম পরিস্থিতি, কাজের মান ও পরিবেশ, শ্রমিকের সংগঠন করবার স্বাধীনতাসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা তুলে দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের হাতে। লিনা খান জানান, তার দেশ আশা করে, ২০২৬ সাল নাগাদ সব শর্ত পূরণে সক্ষম হবে ঢাকা।

প্রথম মার্কিন ল্যাবার অ্যাটাশে লিনা খান বলেন, বাংলাদেশ যদি জিএসপি সুবিধা ফেরত পেতে চায়, তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম বা শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি আইএলওকে দেয়া সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে সব শর্ত পূরণে সক্ষম হবে।

তার দাবি গেল কয়েক বছরে বাংলাদেশে কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত হয়েছে যেমন, তেমনি অভিযোগ আছে শ্রমিক ও শ্রম অধিকার কর্মীদের স্বাধীনভাবে সংগঠন করবার অধিকার ক্ষুন্নের অভিযোগ।

প্রথম মার্কিন ল্যাবার অ্যাটাশে লিনা খান বলেন, আমাদের কিছু বিষয়ে গভীর উদ্বেগ আছে। যেমন- শ্রমিক হয়রানি, সংগঠন বিরোধী মনোভাব ও কার্যকলাপ, শ্রম অধিকারকর্মীদের সংগঠন করবার স্বাধীনতা খর্ব ও মামলার মতন বিষয়গুলোতে। অথচ আমরা গত ১০ বছরে কাজের পরিবেশের নিরাপত্তার দারুণ অগ্রগতি দেখেছি, যা প্রশংসার যোগ্য।

ভিন্ন এক প্রশ্নে লীনা বলেন, মার্কিনিদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা। তাই বাংলাদেশেও একে সম্মান জানাবে বলে প্রত্যাশা তাদের।


আরও খবর



১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ৪৯.২৬ শতাংশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image



নিজস্ব প্রতিবেদক:


চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বরাদ্দের ৪৯ দশমিক ২৬ শতাংশ বা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে সরকার।



গত অর্থবছরের (২০২২-২৩) একই সময়ে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং তার আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৫৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ।


সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


আইএমইডির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপি বরাদ্দের ৪৯ দশমিক ২৬ শতাংশ বা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে সরকার। 


এ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। ফলে দুই মাসে খরচের টার্গেট ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এ সময়ে গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে।


আইএমইডি জানায়, একই সময়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫০ দশমিক ৩৩, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৪ দশমিক ৫৭, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৯ দশমিক শূন্য ৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।



গত ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এগিয়ে রয়েছে, বাস্তবায়ন হার ৯৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ৮৩ দশমিক ১৪ শতাংশ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬৭ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ৬৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও বেসরকারি বিমান ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার ৫৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।


কৃষি মন্ত্রণালয় ৫৮ দশমিক ৮১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। তবে, সবচেয়ে বেহালদশা দেখা গেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে। এডিপি বাস্তবায়ন হার মাত্র ১৭ শতাংশ। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এডিপি বাস্তবায়ন হার মাত্র ২২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।



আরও খবর



এমপি আনারের হাড়-খুলি খুঁজতে ভারতে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image

বিডি  ডেস্ক:


খালের নোংরা পানি থেকে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের দেহের হাড় এবং মাথার খুলি উদ্ধার করতে ভারতীয় নৌসেনা এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর সাহায্য নিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সিআইডি।


আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুনের ঘটনায় আটক জিয়াদ হাওলাদারের দাবি ছিল, আজিমের দেহের হাড় এবং মাথার অংশ টুকরো টুকরো করে ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার কৃষ্ণমাটি এলাকার বাগজোলা খালে ফেলা হয়েছে।


 সেখানে গত সাত দিন ধরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালিয়েও কিছু পাওয়া যায়নি।



ওই খালটির পানি বেশ নোংরা, ঘোলা এবং মাটি ভর্তি। তাই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ওই হাড় বা মাথার খুলির অংশ উদ্ধার হতে পারে বলে মনে করছেন ভারতের সিআইডি কর্মকর্তারা।


সিআইডির এক কর্মকর্তার বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, উন্নততর প্রযুক্তি রয়েছে নৌসেনা এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর কাছে। তাই তাদের ডুবুরি দিয়ে তল্লাশি চালালে আনারের দেহের ওই অংশ উদ্ধার করা যেতে পারে। এটা ধরে নিয়েই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে এটি ফলপ্রসু হবে কিনা, তা পরবর্তী সময়ে বোঝা যাবে।



ইতোমধ্যে নিউ টাউনের বিলাসবহুল আবাসনের সেপটিক ট্যাংক থেকে যে মাংসপিণ্ড উদ্ধার হয়েছে, সেগুলো আনারের কিনা তা জানতে ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। মাংসপিণ্ড উদ্ধার হলেও আজিমের দেহের হাড় কিংবা মাথার অংশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি সিআইডি।


তদন্তকারীরা আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই ফরেন্সিক রিপোর্ট আসবে। তা পজ়টিভ হলে এমপির মেয়ে কিংবা তার কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের জন্য পাঠানো হবে ল্যাবরেটরিতে। প্রায় একই সঙ্গে হাড় এবং মাথার খুলি উদ্ধার করা গেলে তদন্তের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলে দাবি তদন্তকারীদের।


বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, নেপালে আটক হয়েছে এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সিয়াম হোসেন। যদিও ভারতের সিআইডির তরফে ওই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। সিয়ামকে হাতে পেতে সবরকম চেষ্টা চলছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।


কলকাতার নিউ টাউনের আবাসনে গত ১৩ মে আনোয়ারুল আজিমকে হত্যা করা হয়। জানা যাচ্ছে, তার দেহ টুকরো টুকরো করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সিয়ামের। ঘটনার কয়েক দিন পরেই সিয়াম কলকাতা থেকে উত্তরপ্রদেশের মজফ্ফরপুর হয়ে নেপাল চলে যায়।


আরও খবর



রাজধানীসহ সারাদেশে বাড়চ্ছে ডেঙ্গু, একদিনে ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image

 ডিজিটাল ডেস্ক:


চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। বছরের শুরুর চার মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও আস্তে আস্তে তা বাড়তে শুরু করেছে। 


এরই মধ্যে গত একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনজন। নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন।



বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।


এ নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ বছর ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৪৫ জনে। মে মাসে ১৫ দিনে মারা গেছেন ৮ জন। 


এ ছাড়া চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩২ জন মারা যাওয়ার খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৬৪ জন।



আক্রান্ত ২১ জনের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ১১ জন। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ জন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরিশালে, ৫ জন।


চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট দুই হাজার ৫৪৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ৮৫১ জন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৩৭৭ জন।


প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গেল বছর দেশে তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।


 এর মধ্যে ঢাকায় এক লাখ ১০ হাজার আটজন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন তিন লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন।


 গত বছর এক হাজার ৭০৫ জন মানুষ মশাবাহিত এই রোগে মারা গেছেন। যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু।


এর আগে, ২০১৯ সালে দেশব্যাপী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন। ওই সময়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।


২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। 


ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২২ সালে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৬২ হাজার ৩৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।


আরও খবর