Logo
শিরোনাম

কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স লাইব্রেরী উদ্বোধন

প্রকাশিত:Tuesday ১৬ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

কুমিল্লা ব্যুরো ঃ

কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স লাইব্রেরী উদ্বোধন করেছেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলী‌গের সভাপ‌তি সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ, ক, ম বাহাউদ্দিন বাহার। অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের পরিকল্পনায় পুলিশ সদস্যদের জন্য এই লাইব্রেরী স্থাপন করা হয়। লাইব্রেরিটিতে পুলিশের বিভিন্ন আইন বিষয়ক বই ছাড়াও রাজনীতি, বঙ্গবন্ধুর জীবনী এবং বিনোদন সমৃদ্ধ বই পড়তে পারবেন পাঠকরা। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি বলেন, কুমিল্লা সব সময় মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দেয়ায় কুমিল্লার তৎকালীন জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার শহীদ হন। যে কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের গুরুত্ব অহংকার করার মত। এই পুলিশ লাইন্সের সদস্যদের জন্য যে লাইব্রেরী গড়ে তোলা হলো- এটা আমাদের জ্ঞান চর্চার আরো একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠলো। আমরা আশা করি, পুলিশ সদস্যরা তাদের অবসর কিংবা প্রয়োজনীয় পাঠ্য জ্ঞান এখান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।  


পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আমাদের বীরমুক্তিযোদ্ধারা এই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। কিন্তু এই দেশকে এগিয়ে নিতে এখন যে অস্ত্র প্রয়োজন সেটি হচ্ছে -জ্ঞান চর্চা। তাই কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে লাইব্রেরী গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে পুলিশ সদস্যদের জ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। আমরা আশা করি কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের সকল সদস্য এখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ করে পড়তে পারবেন। 

অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন অতিথিরা।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর হোসেন, প্রফেসর শান্তি রঞ্জন ভূমিক, জেলা কালচারাল অফিসার আয়াজ মাহমুদ, নাট্যশিল্পী শাহজান সাজুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



মোরেলগঞ্জে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আওয়ামী লীগের র‌্যালী

প্রকাশিত:Tuesday ১০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি :


বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের র‌্যালী ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে দলীয় কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল শহকারে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয় সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএমদাদুল হক, সহ-সভাপতি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশীদ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশ, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন, শ্রমীক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন তালুকদার, ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মহিদুজ্জামান মহিদ প্রমুখ। এর পূর্বে দিবসটি উপলক্ষে সকালে দলীয় কার্যালয় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অপর্ণ করা হয়। 


আরও খবর



ঊনসত্তরের শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

প্রকাশিত:Friday ২০ January ২০23 | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক :

আজ ছিল শহিদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে অর্থাৎ ২০শে জানুয়ারি পাকিস্তানের কুখ্যাত স্বৈরাচার আইয়ুব খানের কুশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্র-গণমিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে আসাদ (পুরো নাম আমানউল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান) শহিদ হন। তিনি ছিলেন ঊনসত্তরের তীব্র গণ-আন্দোলনে পথিকৃত শহিদ। এই আন্দোলনে অগণিত শহিদদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অন্য দুজন হলেন শহিদ রুস্তম ও শহিদ মতিউর। 

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবিনামা পেশের পর থেকে বাঙালি এর স্বপক্ষে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনে ৬-দফাকে সমর্থন করে তার সাথে গণমুখী শিক্ষার দাবি একত্রিত করে দেওয়া ছাত্রদের ১১-দফা দাবি পেশ এই আন্দোলনকে সুতীব্র করে। এই আন্দোলন-হরতালের সাথে আইয়ুব খানের ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের ও কথিত এই মামলায় ‘প্রধান আসামী’ শেখ মুজিবসহ (তিনি তখনও ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভ করেননি) মোট ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ছাত্র নেতৃবৃন্দ ৬-দফা ও ১১-দফার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি। দেশের সর্বত্র এই প্রতিবাদ-আন্দোলন আরো বেগবান হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভা থেকে ছাত্র-নেতৃবৃন্দ কর্তৃক ১৭ই জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ডাকে । এর বিরুদ্ধে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের কুখ্যাত গভর্নর মোনায়েম খান দেশব্যাপী ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০শে জানুয়ারি দুপুরে এক ছাত্র-গণমিছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পাশে চাঁন খাঁর পুলে সমবেত হলে পুলিশের গুলিতে আসাদ শহীদ হন। এর প্রতিবাদে লাখো ছাত্র-জনতা কান্না ও ক্ষোভে  পুনরায় আসাদের রক্তমাখা শার্ট পতাকার মতো নিয়ে সমবেত হয়ে মিছিল নিয়ে শহিদ মিনারে আসে। সেখানে ছাত্র নেতৃবৃন্দ ২২, ২৩ ও ২৪শে জানুয়ারি শহিদ আসাদের স্মরণে সারা দেশে ধর্মঘট ও গণ-বিক্ষোভের ডাক দেয় এবং দেশবাসী তা শ্রদ্ধার সাথে পালন করে। এর শেষ দিনে অর্থাৎ ২৪শে জানুয়ারি পুলিশ আবার ক্ষোভে উত্তাল ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে এবং ঢাকার মালিবাগ মোড়ে মতিউর রহমান শহিদ হন। 

ঊনসত্তরে সারা দেশব্যাপী এই গণ-আন্দোলনের ফলস্বরূপ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন আরো বেগবান হয়, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তুলে নিতে সরকার বাধ্য হয়, বাংলার অবিসংবাদিত জননেতা শেখ মুজিব ষড়যন্ত্রমূলক মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসেন এবং স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের পতন হয়।

শহিদ আসাদ, শহিদ মতিউর ও ঊনসত্তরের আরো অগণিত নাম না জানা শহিদদের আত্মদান দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য প্রবল শোক ও সেই সাথে প্রবল অনুপ্রেরণার উৎস। এই ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলন পাকিস্তানের অমানবিক শোষণের প্রতি বাঙালির তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদের প্রতীক এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে।

আসাদের আত্মদানের খবরে সমগ্র দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা সর্বত্র আইয়ুবের ছবি অপসারণ করে, ঢাকার আইয়ুব গেটের নামফলক ভেঙ্গে নতুন নামকরণ করে ‘আসাদ গেট’, আইয়ুব রোডের নাম রাখে ‘আসাদ রোড’ এবং আইয়ুব পার্কের নাম রাখে ‘আসাদ পার্ক’।

এই গণ-আন্দোলন ও আত্মত্যাগের স্মরণে আমাদের কবি-সাহিত্যিকরাও অনেক প্রবন্ধ-কবিতা-গল্প লিখেছেন। কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা হলো কবি শামসুর রাহমানের ‘আসাদের শার্ট’, কবি হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ এবং তখনকার পাকিস্তানি সৈন্য আর পুলিশ বোঝাই  অসংখ্য ট্রাক নিয়ে কবি আল মাহমুদের নিম্নরূপ কবিতাটি -

‘ট্রাক ট্রাক ট্রাক

শুয়োরমুখো ট্রাক আসছে 

দুয়োর বেঁধে রাখ।

বাঁধবো কেন দুয়ার ওগো

তুলবো কেন খিল।

আসাদ গেছে মিছিল নিয়ে

আসবে সে মিছিল।

ট্রাক ট্রাক ট্রাক 

ট্রাকের বুকে আগুন দিতে

মতিউরকে ডাক।

কোথায় পাবো মতিউরকে

ঘুমিয়ে আছে সে।

তোরাই তবে সোনা মাণিক

আগুন জ্বেলে দে।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে শহিদ আসাদ ও শহিদ মতিউরসহ ঊনসত্তরের সব বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক ঃ

সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ


আরও খবর



নওগাঁয় রাতে ঘুরে ঘুরে শীর্তাতদের মাঝে শীত বস্ত্র দিলেন ইউএনও শাহাদাত

প্রকাশিত:Saturday ৩১ December ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৫ January ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার:


নওগাঁর উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত প্রবাহ। সেই সাথে ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়ছে জনজীবন। বিশেষ করে ছিন্নমূল, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষরা এই প্রচন্ড শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন। গত দুই সপ্তাহ যাবত নওগাঁ ও তার আশেপাশের অঞ্চলের তাপামাত্র ৮-১৫ ডিগ্রির মধ্য ওঠানামা করছে। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছে সকল শ্রেণির মানুষ। 

অনেকেই অর্থের অভাবে শীতের গরম কাপড় কিনতে না পারার কারণে অনেকটাই কষ্টের মধ্যদিয়ে এই কনকনে শীতে দিন অতিবাহিত করছে। এই সব শীতার্তদের মানুষদের গরম কাপড়ের অভাব থেকে রক্ষা করতে প্রতি শীত মৌসুমেই সরকার, বিভিন্ন এনজিও, সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীত বস্ত্র হিসেবে কম্বল প্রদান করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি শীত মৌসুমে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন নিজেই গত শুক্রবার দিনগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা ছিন্নমূল, অসহায়, খেটে খাওয়া শতাধিক শীর্তাত মানুষদের খুজে খুজে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরন করেছেন। শীতবস্ত্র পাওয়া একাধিক শীর্তাতরা বলেন, এদানিং শীতের দাপট অনেক বেড়েছে। এই শীতের মধ্যে স্যারের দেওয়া এই শীতবস্ত্র আমাদের অনেক উপকারে আসবে। বিশেষ করে ভ্যান গাড়ি চালানোর সময় অনেক বাতাস লাগে এবং স্টেশনে ফাঁকা জায়গায় শুয়ে থাকার সময় অনেক ঠান্ডা লাগে। প্রচন্ড শীত আর ঠান্ডা বাতাস থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবো। 

রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন বলেন, প্রকৃত শীর্তাতদের মাঝে সরকার প্রধানের উপহার এই শীত বস্ত্র পৌছে দিতে আমি চেস্টা করছি। অনেক সময় তালিকা করে শীত বস্ত্রগুলো বিতরন করলে অনেক মানুষই তা পায় না। যাদের প্রয়োজন নেই তারাও সুযোগ বুঝে গ্রহণ করে। এমনটি যেন না হয় তার জন্য আমি চেস্টা করছি। আমি রাতে বিশেষ করে রেল স্টেশনে থাকা ছিন্নমূল মানুষ, ভ্যান চালক, অসহায় মানুষদের মাঝে এই শীতবস্ত্র পৌছে দেওয়ার চেস্টা করছি। আশা রাখি এই শীতবস্ত্রগুলো পেয়ে এই মানুষগুলো অনেক উপকৃত হবে। 

তিনি আরো বলেন, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে। প্রকৃত শীর্তাত মানুষরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি তাদেরকে শীতবস্ত্র পৌছে দিতে চেষ্টা করবো। শুধু সরকারই নয় মানুষ মানুষের জন্য এই বিষয়টিকে হৃদয়ে ধারন করে যদি সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে সামর্থবানরা নিজ নিজ এলাকার আশেপাশের দু:স্থ মানুষগুলোর দিকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে তাহলে আমাদের দেশে কোন অসহায় ও গরীব মানুষ থাকতো না।


আরও খবর



বান্দরবানে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, ৫ জঙ্গি আটক

প্রকাশিত:Wednesday ১৮ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :বান্দরবানের পাহাড়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র আস্তানায় একাধিক অভিযান চালালেও শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। সেখানে নানারকম প্রশিক্ষণ চললেও তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পায়নি র‌্যাব । তবে, বান্দরবান ক্যাম্পের অভিযানে আটক পাঁচজনের কাছে মিলেছে নিখোঁজ ৫৫ ব্যক্তির তথ্য।

গেল বৃহস্পতিবার বান্দরবানের থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ৫ সদস্যকে ছয় দিনের রিমান্ড দেয় রাঙ্গামাটি আদালত।এই রিমান্ডে তারা ঐ নব্য জঙ্গি সংগঠন সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

তারা জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাকিঁ দিয়ে নতুনভাবে জঙ্গীবাদকে সংগঠিত করতে চেয়েছিল নতুন এই সংগঠনটি। তবে তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পায়নি র‌্যাব ।

এদিকে এখন পর্যন্ত র্যা বের হাতে দেশব্যপী নিখোঁজ তালিকার ৫৫ জনের মধ্যে ৭ জন গ্রেফতার আছে, মারা গেছে ২ জন। কেএনএফের প্রশিক্ষণদাতা ১৪ জন এবং নতুন জঙ্গী সংগঠনটির মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তবে এখনো ধরা পড়েনি কোন সর্বোচ্চ নেতা।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি এবং রাঙামাটির বিলাইছড়ি সীমান্তবর্তী পাহাড়ের গহীন অরণ্যে অর্থের বিনিময়ে এই জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ দেয়া ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (কেএনএফ)-এর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদেরও এখনো ধরা যায়নি।


আরও খবর



তৃণমূল গোছাতে ব্যস্ত আ.লীগ

প্রকাশিত:Wednesday ২৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ২৭ January ২০২৩ |
Image

জহিরুল কবির আমজাদ :জাতীয় নির্বাচনের আগে দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তৃণমূল গুছিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। দলের মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সম্মেলন প্রায় শেষপর্যায়ে। এসব সম্মেলন স্থলে কেন্দ্র থেকে ছুটে যাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় উচ্চপর্যায়ের নেতারা। দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা নেতাদের। নির্বাচনী প্রস্তুতি ও তৃণমূলে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢেলে সাজাতে মূলত এসব পরিকল্পনা ক্ষমতাসীনদের।

দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান, ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে দলের অর্ধেকের বেশি জেলা-উপজেলাগুলোর সম্মেলন হয়েছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া শাখাগুলোর সম্মেলন আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পরপর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও অনেক শাখার সম্মেলন হয়েছে দুই যুগ পর। এ মুহূর্তে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা জেলা ও উপজেলাগুলোর সম্মেলন করতেই ব্যস্ত রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৭৮ জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯টির সম্মেলন বাকি রয়েছে। খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ এই তিন বিভাগের কোনো সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন বাকি নেই। চট্টগ্রাম বিভাগে সাতটি শাখা, ঢাকা বিভাগে ছয়টি, রংপুর বিভাগে চারটি, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের একটি করে জেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে।

এদিকে সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৬৮৪টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। এসব সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে প্রায় ৫৫০টি কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩০টির মতো উপজেলা ও উপজেলার মর্যাদাপ্রাপ্ত কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। এসব উপজেলার মধ্যে কিছু কমিটি যুগ পার করলেও সম্মেলন আর হয়নি। ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার একাধিক উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৫ থেকে ২০ বছর পর। ঝুলে থাকা বাকি উপজেলাগুলোর কমিটি করতে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে তারিখ ঘোষণা করবেন।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য মতে, খুলনা বিভাগে ১১টি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। সবগুলোরই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি চারটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই কেন্দ্রে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। বিভাগটিতে ৮১টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টির সম্মেলন বাকি আছে। ৭০টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে ১২টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বাকি রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চিঠি দেওয়া হবে।

খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক জানান, এ সপ্তাহে তার খুলনায় যাওয়ার কথা। সেখানে গিয়ে জেলার নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ১২ উপজেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, রাঙামাটি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কুমিল্লা মহানগরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা সাত জেলা হলো চট্টগ্রাম উত্তর, চট্টগ্রাম মহানগর, খাগড়াছড়ি, ফেনী, চাঁদপুর, বান্দরবান ও কুমিল্লা উত্তর। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ১৪ বছর আগে। আর চাঁদপুর জেলার সম্মেলন হয় ১১ বছর আগে।

ঢাকা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১৭টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা ছয়টি সাংগঠনিক জেলা হলো কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। সম্মেলন হওয়া ১১ জেলার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেওয়া হয় গোপালগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এ নিয়ে ঢাকা বিভাগে মোট চার জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক উপজেলা ১৭১টি; এর মধ্যে ১৩৫টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ৩৬টির সম্মেলন বাকি আছে। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ছয় সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। আর যে সাতটি জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি, সেগুলো চলতি মাসের মধ্যে অনুমোদন হবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির অভাব নেই। আমরাও সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। চলতি মাসে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।

রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগের ৯টি সাংগঠনিক জেলা ও ৮৩টি উপজেলা কমিটি রয়েছে। ৯ জেলা কমিটিরই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। ৮৩টি উপজেলা কমিটির তিন থেকে চারটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচ সাংগঠনিক জেলার সবগুলোরই সম্মেলন হয়েছে। বিভাগের ৪০ সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে ৩২টি উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগে এখন আটটি উপজেলা কমিটির সম্মেলন বাকি রয়েছে। বরিশাল বিভাগের সাতটি জেলা ও মহানগর কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাকি রয়েছে। বিভাগটিতে ৫২টি সাংগঠনিক উপজেলা রয়েছে। সাংগঠনিক উপজেলাগুলোর মধ্যে ৪৮টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন বাকি থাকা তিনটি উপজেলা হলো বরিশাল সদর, মঠবাড়িয়া ও পাথরঘাটা।

রংপুর বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। সম্প্রতি রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিভাগে চার জেলার সম্মেলন বাকি আছে। বিভাগটিতে ৭৮টি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি রয়েছে। এগুলোর অর্ধেকের বেশি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকিগুলোর সম্মেলন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিলেট বিভাগে পাঁচ জেলা ও মহানগর কমিটি এবং ৪৯টি সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি রয়েছে। বিভাগটির জেলাগুলোর মধ্যে শুধু সুনামগঞ্জের সম্মেলন বাকি রয়েছে। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, সিলেটে বন্যার কারণে সুনামগঞ্জের সম্মেলন পিছিয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি উপজেলার সম্মেলন বাকি রয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর