Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

ড. আনোয়ার হোসেনের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image
লালমনিরহাটে সাবেক উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন-এঁর সাথে স্থানীয় সুধীবৃন্দের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের গেস্ট হাউজে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি মতবিনিময় কালে জানান, লালমনিরহাট জেলার মোগলহাট জিরো পয়েন্টের ধরলা নদী থেকে ৪ নভেম্বর ২০২২ বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে নৌকা যোগে একাত্তরের ইতিহাস খুজতে যাত্রা শুরু করবেন।  তবে এ যাত্রায় যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত তিনি চার জন সফরসঙ্গী ও দুজন নৌকার মাঝিকে সাথে নিয়ে এবারের যাত্রা শুরু করবেন। 

আরও জানান, যদি তাঁর জীবিনে এই যাত্রা শেষ করতে নাও পারেন পরবর্তী তরুণ প্রজন্মের মানুষজন সেটি নিশ্চয়ই বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত যাত্রাটি শেষ করবেন। 

এ সময় বেগম কামরুন নেছা ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়াত আহমেদ মুকুল, শেখ শফিউদ্দিন কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান, জাতীয় যুব জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক আজমুল হক পুতুল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামাল আনিছুজ্জামান রবিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক  উত্তম কুমার রায় লড়াই, সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, লালমনিরহাট থেকে ১০কিলোমিটার দূরে মোগলহাট যেখান দিয়ে ধরলা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, সেই ধরলা নদী দিয়েই একটা নৌযাত্রা শুরু করবো। একাত্তরের খোজের অর্থ হচ্ছে  এই যাত্রা পথে আমরা সাধারণ মানুষের কথা শুনবো। যাদের কথা হয়তো মানুষ কখনও শুনতেও চায় নাই, যারা হয়তো মুক্তিযোদ্ধাও না, যাদের কাছে অস্ত্রও ছিলো না, সেই সব মানুষদের। কিন্তু যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি মুক্তিযুদ্ধে এবং যারা কিছুই পায়নি। ধরলা থেকে  শুরু করে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা, মেঘনা হয়ে একবারে বঙ্গোপসাগর। এবারে পুরোটা করতে পারবো না। এবারে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত শেষ হবে। এবং তারপরে যদি বেচে থাকি আগামী বছর কাজ করবো।

উল্লেখ্য যে, সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন সকালে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনে লালমনিহাটে এসে রেলওয়ে গেস্ট হাউজে অবস্থান করেন।


আরও খবর

থেমে যাওয়া মানে জীবন নয়

রবিবার ২৩ এপ্রিল 20২৩




ঘাতক ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে প্রাণ গেলো ৩ বন্ধুর

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

মোটরসাইকেল যোগে নেহরি খেতে যাচ্ছিলেন ৩ জন বন্ধু। যাওয়ার পথে ঘাতক ট্রাকের ধাক্কায় ৩ জন বন্ধুর-ই মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয়েছে।

সড়ক দূর্ঘটনায় ৩ বন্ধুর মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দিনগত রাত সারে ৮টারদিকে বগুড়া টু নওগাঁ মহা-সড়কের কাহালু উপজেলার দরগাহাট নামক স্থানে।

নিহত ৩ বন্ধু হলেন, বগুড়া জেলার কাহালু  উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম (২১), রাকিব হোসেন প্রামাণিক (১৮) এবং মিজানুর রহমান মিজান (১৯)। নিহত ৩ বন্ধু কাঠ মিস্ত্রি ছিলেন।

সড়ক দূর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে

কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা জানান, তারা ৩ জন বন্ধু একটি মোটরসাইকেল যোগে কাজিপাড়া নামক স্থানে হোটেলে নেহরি খাবারের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে দরগাহাট এলাকায় পৌছালে এসময় নওগাঁ অভিমুখি একটি ট্রাক পেছন থেকে তাদের মোটরসাইকেল কে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত ট্রাকটি নিয়ে তার চালক পালিয়ে যায়। অপরদিকে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পরে দূর্ঘটনাস্থলেই ৩ বন্ধুর মধ্যে তরিকুল ও রাকিব এর মৃত্যু হয় এবং অপর বন্ধু মিজান কে উদ্ধার পূর্বক বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ৯ টারদিকে মিজান এর মৃত্যু হয়। সংবাদ সংগ্রহকালে আইনানুগ পক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা l


আরও খবর



অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

অনুমতি ছাড়া হজ পালন করাকে বেআইনি ঘোষণা করে কঠোর শাস্তির বিধান করেছে সৌদি আরব। নিরবিচ্ছিন্ন ও সুন্দরভাবে হজ মৌসুম শেষ করতেই এ বিধান জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আর যারা এ আইন ভঙ্গ করবেন তাদেরকে ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার সমান।

সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া হজ পালন করা বেআইনি। আর যারা এ আইন ভঙ্গ করবেন তাদের ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। এমনকি যে বা যারা অনুমতিবিহীন ব্যক্তিদের মক্কায় পরিবহন করে ধরা পড়বেন তাদেরকেও ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী হজ মৌসুমের এই আইন ভঙ্গ করবেন, তাদেরকে প্রথমে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হবে। কারাভোগের পরে নিজ দেশে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি পরবর্তী ১০ বছরে সৌদিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হবে। এছাড়া এই আইন ভঙ্গকারীদের পরিচয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। যেন তাদের আশপাশের সবাই চিনে রাখতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ইসলামের অন্যতম স্তম্ব হজ। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ মুসলিম নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হলেও হজ করা ফরজ। প্রতি বছরই হজ পালন করতে পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হন লাখ লাখ মানুষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক মানুষ হজ করতে যান। পাশাপাশি সৌদির স্থানীয় মানুষও পবিত্র হজ পালন করে থাকেন।


আরও খবর



শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মাইজভাণ্ডার শরীফের সাজ্জাদানশীন, হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, "পবিত্র শবে বরাত বা শাবান মাসের ১৫ তারিখ রজনীতে মহান আল্লাহ্ তার বান্দাদের জন্য বিশেষ দয়া ও ক্ষমা করে থাকেন। প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ রজনীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। শবে বরাত মুসলিম সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ রজনীতে ঘরে ঘরে রুটি হালুয়া তৈরির একটি প্রথা রয়েছে। মুসলিমরা তাদের প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মাঝে এ খাবার বিতরণ করেন। এতে মানুষের মাঝে ভাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির মনোভাব বৃদ্ধি পায়। মুসলিম উম্মাহর মাঝে একতা ও জাতীয় চেতনার জাগরণ ঘটে এ ধরনের উপলক্ষ্যগুলো পালনের মাধ্যমে। রুটি-হালুয়া এক ধরনের হালাল খাবার। মানুষকে খাওয়ানে সবচেয়ে উত্তম কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষত দরিদ্রদের খাওয়ানো মহৎ একটি গুণ। এ রজনীতে বেশি বেশি তাওবা ইস্তেগফার করা, নফল নামায আদায়, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ আদায়, প্রিয় নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি শ্রদ্ধার সাথে সালাতু সালাম পেশ ও দরুদ শরীফ পাঠ, দান সদকাহ্ করা,নবী রসুল, সাহাবী অলি আল্লাহ মাজার ও মুরববীগনের জেয়ারত করা এবং পরদিন রোজা পালন অত্যন্ত বরকতময় আমল। মহান আল্লাহ্ যেন, এ মহিমান্বিত রজনীর মাধ্যমে আমাদের সকলের প্রতি তার সদয় দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন।"

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে হযরত নেয়ামত শাহ্ (রহঃ) মাজার প্রাঙ্গণে, শেরে খোদা মওলা আলি (আঃ), গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ও হুযুর গাউসুল ওয়ারা হযরত আল্লামা শাহ্সুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী (কঃ) স্মরণে আয়োজিত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ওলামা মাশায়েখ, খলিফাবৃন্দ, আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের নেতৃবৃন্দ। 

দো-জাহানের বাদশাহ্, রহমাতুল্লিল আলামীন, হযরত আহমদ মুজতবা, মুহাম্মদ মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তার পবিত্র আহলে বাইতগণের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম পেশ শেষে দেশ ও মানবতার কল্যাণ কামনায় মুনাজাত করেন, সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী।


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪

৪৪ হাজার কোটা খালি রেখেই হজ নিবন্ধন শেষ

বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




জ্যামে দূর্বিষহ জনজীবন,বাড়ছে ক্যানসার ঝুঁকি

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

রাজধানীর যানজটপূর্ণ ব্যস্ত সাতটি সড়ক বাড়াচ্ছে ক্যানসারের ঝুঁকি। এসব সড়কে জটে আটকেপড়া যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়ায় রয়েছে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার উপাদান, যা শ্বাসের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করছে। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে ফুসফুসসহ অন্যান্য ক্যানসারের। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে যে সাতটি এলাকার সড়ককে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- মতিঝিল, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, ফার্মগেট, এলিফ্যান্ট রোড, টিএসসি ও গাবতলী।

ঢাকায় যানবাহনের নির্গত ধোঁয়ায় মিশ্রিত পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বনের বিস্তার এবং বিভিন্ন বয়সীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও এর প্রতিকার শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী স্প্রিংগার ন্যাচারের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল কথা হয় ওই গবেষক দলের প্রধান ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি আমাদের সময়কে জানান, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসযন্ত্রের ক্যানসারে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন এসব সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী প্রাপ্তবয়স্করা।

গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীতে ৪৬-৬৪ শতাংশ পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বন (অপরিশোধিত তেল পুড়ে তৈরি হওয়া রাসায়নিক) নির্গত হয় যানবাহনের ধোঁয়া থেকে। বিশেষ করে ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে এ ধরনের রাসায়নিক বেশি নির্গত হয়। এ ধোঁয়ায় রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর কার্সিনোজেনিক (ক্যানসার সৃষ্টিকারী) বেনজো এ পাইরিন। বেনজো এ পাইরিনযুক্ত এ ধোঁয়া দীর্ঘদিন গ্রহণের ফলে মানব শরীরের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত, পরিবর্তিত হয় এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

ড. মনিরুজ্জামান বলেন, যানজটের কারণে রাজধানীর বায়ুতে দূষণকারী কণার সংখ্যা বাড়ছে। আমরা রাজধানীর সাতটি সবচেয়ে ব্যস্ত সড়ক থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৮৪টি নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাটি করেছি। শীত এবং বর্ষা দুই সিজনেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্যাম্পলগুলো আমরা দেশের মানুষের গড় উচ্চতা (৫-৬ ফিট) অনুযায়ী খোলা জায়গায় রেখেছি। গবেষণায় আমরা সদ্যোজাত শিশু (০-১ বছর), হাঁটতে শেখা শিশু (১-৬ বছর), কিশোর (১২-১৮ বছর) ও প্রাপ্তবয়স্কদের (১৮-৭০ বছর) স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিমাণ পৃথকভাবে নির্ণয় করেছি।

গবেষণার ফল থেকে জানা যায়, রাজধানীর সাতটি সড়কের বায়ুতে ধাতু এবং উচ্চমাত্রার ক্যানসার সৃষ্টিকারী বেনজো এ পাইরিনের মতো পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বনের। রাজধানীর ব্যস্ততম এসব সড়কে বেনজো এ পাইরিনের গড় পরিমাণ ৩১-১৪৫ এনজি/মি৩। যেখানে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত স্বাভাবিক মাত্রা ১ এনজি/মি৩।

গবেষকরা বলছেন, এ গ্যাস দ্বারা দূষিত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে থাকলে এসব গ্যাস রক্তে মিশে যায় এবং ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি করে। ফুসফুসের রোগ যেমন হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ, ইন্টারস্টিসিয়াল লাঙ ডিজিজের প্রবণতা বেড়ে যায়। যা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রবেশ করতে থাকলে শ্বাসযন্ত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

গবেষণা প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যিনি শীতে প্রতিনিয়ত এসব সড়কে যাতায়াত করেন তিনি দৈনিক গড়ে ৯.৭০-১১.২ মাইক্রোগ্রাম বেনজো এ পাইরিনের মতো পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বন গ্রহণ করছেন। শীতকালে এই শোষণের মাত্রা ২.৩-২.৭ গুণ বেড়ে যায়। যার ১.২২ মিউগ্রাম সরাসরি পিএম ২.৫ শোষণের মাধ্যমে ব্যক্তির এ্যালভিওলাইয়ে (ফুসফুসের ছোট থলি) জমা হচ্ছে। যা পরে রক্ত সরবরাহের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গে।

যানবাহন ঘটিত এমন স্বাস্থ্য সমস্যাকে উদ্বেগের বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গবেষণায় পাওয়া সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যও গবেষণার উদ্বোগ নিতে হবে আর যানবাহনগুলোকে আনতে হবে বিশেষ মনিটরিংয়ের আওতায়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, যানবাহনের নির্গত ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ এবং ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বর্তমানে খুবই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, এ সংকট নিরসনে যানবাহনের ফিটনেস চেক করা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ে জোর দিতে হবে। যেসব যানবাহন অতিরিক্ত দূষণের কারণ, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই জনস্বাস্থ্যবিদ মনে করেন, দেশের জনগণের সুস্বাস্থ্যই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশকে নগরায়নের ফলে ঢাকা শহরে বায়ুদূষণঘটিত পরিবেশগত পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে যানযট রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা। ২০২১ সালে গ্লোবাল লাইভিবিলিটি ইনডেক্সের করা তালিকায় সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে ৪ নম্বরে ছিল ঢাকা। যানজট বৃদ্ধির কারণে বায়ুর খারাপ মান এর অন্যতম কারণ।


আরও খবর

ফুটপাতের চাঁদার টাকা খায় কারা ?

সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বায়ুদূষণে নীরবে ধুঁকছে ঢাকা

শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এ সংঘর্ষের জের ধরে রাখাইনের সীমান্ত এলাকা বাংলাদেশের তুমব্রু ও টেকনাফের কাছাকাছি মিয়ানমারের হেলিকপ্টার মহড়া দিচ্ছে। এতে মিয়ানমার থেকে আবারও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা করা হচ্ছে।

উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে কয়েকশ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

গত রবিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার সীমান্ত এলাকায় মহড়া দিয়েছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজার থেকেই স্পষ্ট হেলিকপ্টার উড়তে দেখেছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। এর আগে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) টেকনাফের সীমান্তবর্তী এক বাড়ির দেয়ালে গুলি লেগেছে। সীমান্তের ওপারে গত কয়েক দিনে সংঘর্ষ বাড়ায় ও উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া, তুলাতুলি ও কাঞ্জরপাড়া সীমান্ত, উখিয়া উপজেলার পালংখালির আনজুমান পাড়া এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম এলাকায় বেশি গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

পালংখালী অনজুমান পাড়া এলাকার বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের মংডু ও বলিবাজার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছেন রোহিঙ্গারা। আবার কিছু রোহিঙ্গা ডিঙি নৌকা করে নাফ নদীতে অবস্থান করছে। তবে খবর পাওয়ার পর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সবাই। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) রোহিঙ্গাদের কোনো ধরনের বাধাও দিচ্ছে না। এতে বাংলাদেশ সীমান্তের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আনোয়ারি বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারে আবারো উত্তেজনা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন গুলির বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। গত শনিবার মায়ানমার থেকে ছোড়া গুলি আমার ইউনিয়নের এক বাসিন্দার ঘরে পড়ে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সীমান্তের কাছাকাছি বসবাস করা মানুষরা। ইতোমধ্যে অনেক মানুষ ঘর ছেড়েছে। মিয়ানমারে উত্তেজনা শুরু হলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে শঙ্কা থাকে। শুনেছি কিছু রোহিঙ্গা সীমান্তের কাছাকাছি আছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

নাইক্ষছড়ির তুমব্রুর কোণারপাড়া এলাকার বাসিন্দা জলাল জানান, গত রোববার দুপুর ১টার পর তুমব্রুর কোণারপাড়া, ভাজাবনিয়া এবং তুমব্রু বাজার থেকেই ওপারে হেলিকপ্টার মহড়া দিতে দেখা গেছে। অন্তত ২৫ মিনিটেরও বেশি সময় হেলিকপ্টারটি চক্কর দিতে থাকে এবং এ সময় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দও শোনা গেছে। তার আগে শনিবার দুটি মর্টারশেল এপারে এসে পড়ে। এতে পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের উনছিপ্রাং এলাকার জেলে পুতু বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি বিলার ডিলাতে কিছু রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আমরা মাছ ধরতে গেলে তাদের সাথে দেখা হয়।

বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একজন রোহিঙ্গাকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমরা সব সময়ই সজাগ আছি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের ওপারে গোলাগুলি হচ্ছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরের ঘটনা। রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ নিয়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে সতর্ক করা হয়েছে।


আরও খবর