Logo
শিরোনাম

লালমনিরহাটে তিন জঙ্গির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 

লালমনিরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত জেলা জজ মোঃ মিজানুর রহমান।

সোমবার (২১ নভেম্বর) লালমনিরহাট জেলা দায়রা জজ ও সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইবুনাল এক এর বিজ্ঞ বিচারক মো মিজানুর রহমান এ আদেশ প্রদান করেন। যাজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, আসাদুজ্জামান,  শফিক ও  মোখলেছার রহমান। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে তাদের সাজা প্রদান করে আদালত।

এছাড়া অপর আসামী তফিজুল ইসলামসহ মোট চার জঙ্গীকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছর কারাদন্ডের আদেশ দেন। এদের প্রত্যেকের বাড়ি পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ আগষ্ট গোপন সূত্রের ভিত্তিতে র‍্যাব ১৩ এর একটি টহল দল সন্ধ্যায় পাটগ্রাম পৌরসভা এলাকার একটি কাঠমিস্ত্রীর দোকানে অভিযান চালিয়ে আসামীদের হাতেনাতে আটক করে এবং আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন, গুলি ও জেহাদী বই ও প্রচারপত্র উদ্ধার করে।

দীর্ঘ চার বছর পর আজ লালমনিরহাট দায়রা জজ ও বিচারক সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইবুনাল মোঃ মিজানুর রহমান এই রায় প্রদান করেন।


আরও খবর



একসময়ের মূল্যবান জিনিস আজকের সময়ে এসে মূল্যহীন হয়েছে

প্রকাশিত:বুধবার ০২ নভেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ঃ

মানুষের জীবনটাকে কতটা আমরা জানি। সবটাই কি অভিনয় নাকি সবটাই জীবন। একটা হাসিমুখ আমরা দেখি তবে সেই হাসিমুখের পিছনে মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সাথে যুদ্ধটা কি আমরা দেখি। হয়তো দেখি না।

মানুষের সেটা দেখার মতো যে একটা মন থাকতে হয় সেটা তো আমাদের অনেক আগেই মরে গেছে। যেমন সময়ের সাথে অনেক কিছুই মরেছে। সময়ের সাথে লাল চিঠির বাক্সটা এখন আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। চিঠিটাও এখন ইতিহাস।

খট খট শব্দে  আঙুলের বেদনায় আহত টাইপ রাইটার আর নেই। যে মানুষটা  টাইপ রাইটার দিয়ে একদিন কালো অক্ষরের জাদুতে মাতিয়ে তুলতো মানুষকে সে মানুষটাও সময়ের সাথে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। কম্পিউটার মতো আধুনিক প্রযুক্তি এসে টাইপ রাইটারকে অপ্রচলিত পণ্যে পরিণত করেছে।  

আগে গ্রামে যাত্রাপালা হতো। কত মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল সে যাত্রাপালা। হায়, সেটাও তো আর নেই। একসময়ের মূল্যবান জিনিস আজকের সময়ে এসে মূল্যহীন হয়েছে। বায়োস্কোপ এখন আর চোখে পড়ে না। একটার পর একটা নির্বাক ছবি টেনে বায়োস্কোপওয়ালা আনন্দচিত্তে বলতেন, “এই বারেতে দেখা গেল, জরিনা সুন্দরী এলো। কোমরেতে বিছা ছিল, কানে তাহার দুল ছিল। আহা কি চমৎকার দেখা গেল। কি চমৎকার দেখা গেল, আরও কিছু রইয়া গেল, তারা জ্যোতি চইলা গেছে, দেখতে কত বাহার আছে, এইবারেতে দেখেন ভাল, আপন রাজা সামনে আছে। তীর-ধনুক হাতে আছে। ” মানুষকে আনন্দ দেবার সে মানুষটাও আর নেই।  

একসময়ের দুরন্ত সময় আজ কেবল বিবর্ণ স্মৃতি। সময়ের সাথে সাথে মানুষ প্রযুক্তির জাদুকরী শক্তিতে বদলেছে। কিন্তু মাটির গন্ধও হারিয়েছে। সে মাটির গন্ধে বেগ হয়তো ছিল না তারপরও আবেগ ছিল। মনে পড়ছে পুতুল নাচের কথা। মানুষের অদৃশ্য আঙুলের নিপুণ কারুকাজে বোবা পুতুলগুলো নাচতো। মানুষ যেভাবে চাইতো সেভাবে পুতুলগুলো আছাড়ি-বিছাড়ি করে নেচেছে। অদৃশ্য মানুষটা এখন আর নেই, যেমন নেই পুতুল নাচের সেই ফেলে আসা দিনগুলো। তবে পুতুল নাচ আমাদের জীবনবোধের সামনে এসে থমকে দাঁড়ায়। কখনো মনে হয় আমরাও যেন সেই পুতুলদের মতো নেচে চলেছি কোনো এক অদৃশ্য শক্তির আকর্ষণে। এমন করেই হয়তো শক্তির পিছনে শক্তি, তারও পিছনে শক্তি এ খেলায় মেতে উঠেছে। সবাই হয়তো তা জানে তবে বুঝতে পারে না।  

সার্কাসের রং মেখে সং সাজা জোকারটার মুখটা খুব বেশি মনে পড়ছে। একটা কৃত্রিম হাসি মুখে ধরে রেখে জীবন যন্ত্রনায় জ্বলে-পুড়ে ছাই হওয়া মানুষটার ভিতরের বোবা আর্তনাদ বুকটাকে এখন কেমন যেন বুলেটবিদ্ধ করে যায়। জীবনকে বাজি রেখে জোকার নামের মানুষটা মানুষের মনোরঞ্জনের উপাদান হলেও তার ভিতরের কান্নাকে কেউ কখনো বুঝেও বুঝেনি।

সাদাকালো সিনেমার সময় যে মানুষটার অভিনয় সিনেমাকে রঙিন করেছিল সে মানুষটার নাম চার্লি চ্যাপলিন। চার্লি চ্যাপলিন সেই মহান অভিনেতা যিনি বুকে কষ্ট চেপে দর্শকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। পরনে নাক সিটকানো কোট-টাই, ঢিলেঢালা  জরাজীর্ণ প্যান্ট, মাথায় কালো রঙের ডার্বি হ্যাট, হাতে একটি পাতলা ছড়ি, পায়ে এবড়ো  থেবড়ো এক জোড়া বুট এবং ঠোঁটের ঠিক উপরে খাটো  গোঁফ মানুষটার। নিজের জীবনকে টুকরো কাচের আয়নায় দেখে উপহাস করে তিনি বলেছেন “এমনকি একটি জেলীফিশের কাছেও জীবন অনেক সুন্দর ও দারুণ একটা জিনিস”। চার্লি চ্যাপলিন সব সময় বলতেন তার মা’ই তার অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চার্লি চ্যাপলিন তাকে পরম যত্নে আগলে রেখেছিলেন; কোনো কষ্ট তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।  

অথচ তিনি আজীবন কষ্টকে ধারণ করে জীবনকে এগিয়ে নিয়েছেন। এখন তো সময় বদলেছে। মানুষ খুব কমার্শিয়াল হয়েছে। নিজের স্বার্থ নিয়ে যে মানুষরা প্রতিদিন একে অন্যের সাথে লড়ছে তারা কি মমতাময়ী মায়ের সেই ভালোবাসার মুখটা কখনো খুঁজেছে। না, তেমনটা ঠিক দেখছি না। মায়ের নাড়ি ছেঁড়া ধন সে নাড়ির টানকে গলা টিপে হত্যা করেছে। নিজে ক্রীতদাসের হাসি হেসেছে আর মায়ের হাসিকে বৃদ্ধাশ্রমের চার দেওয়ালে আটকে রেখে নিজের শেকড়কে লাথি মেরে ছুড়ে ফেলেছে পিচ ঢালা রাজপথে। সত্য মিথ্যার গল্পটা বার বার বলতে ইচ্ছে করে।  

আমরা যেটা হাসি সেটা সত্য না মিথ্যা। নাকি সেটা একটা নগ্ন রহস্য। ফেলে আসা পুরাতন কিছু। হয়তো একটা মানুষ, তার পিছনের মানুষ, তার সামনের মানুষ, তার ভিতরের মানুষ সবকটাই একটা মানুষ তবে  অভিন্ন মানুষ নয়। যেমন যে সত্যকে  আমরা দেখি তা  হয়তো সত্য নয়। যা দেখি না সেটাই সত্য। মানুষের বাইরের শরীরের চেয়ে যেমন ভিতরের হাড় দিয়ে গড়া কংকালটা সত্য। 

সত্য এমন আগুনে পোড়া নদীর মতো। জলীয় বাষ্পের মতো। মেঘে ঢাকা তারার মতো। যার গতিপথ জীবনের গতিপথকে হার মানায়।

সব কিছু মানুষের আজ কেমন করে যেন হারিয়ে গেছে। এক একটা মানুষ জীবন্ত লাশ হয়ে রাজপথের কোলাহলে নিজেদের অস্তিত্ব হারাচ্ছে। ঝুলন্ত বাদুড় হয়ে সত্য মিথ্যার পোশাক পড়ে মানুষের বিবেক বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন। তাও খুব চড়া দামে। তারপরও সব হারিয়েও জীবনবোধের বিশ্বাস তো কখনো হারাতে নেই। আবেগ তো কখনো হারাতে নেই। স্বপ্ন জয়ের হাসি তো কখনো হারাতে নেই। প্রতিদিন মানুষের মৃত্যুর খবর যেমন আসে তেমনি নবজাতকের ভূমিষ্ঠের খবরও আসে। সব পুরাতন পচে যায় না। নষ্ট হয়ে নষ্টের দড়িতে ঝুলে পড়ে না। যেমন সময়। যেমন সততা। যেমন মানবিক মূল্যবোধ। এমন আরও অনেক মূল্যহীন মানুষের বাজারের অনেক অদেখা মূল্যবান জিনিস। 

চলন্ত ট্রেনটা মানুষকে পিষে ফেলার আগেই মানুষ সেখান থেকে বেরিয়ে আসুক। সব মানুষ রক্ত মাংসের মানুষ হোক। যেমন মানুষ, মানুষ তেমনটাই থাকুক। সবটাই এক ঝাপটায় মানবিক নগর হয়ে উঠুক মানুষের অতৃপ্ত যন্ত্রনায়। সেটা চোখে না দেখে মন দিয়ে দেখাটাতেই আনন্দ। তার থেকে বেশি কিছু নয়।


আরও খবর



ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলছে ফিটনেসহীন যানবাহন

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

রুট পারমিট নেই। ফিটনেস নেই। অধিকাংশ চালক শিশু। রয়েছে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা। মানা হচ্ছে না সড়ক পরিবহন ও মোটরযান আইন। তবু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে দাপটের সঙ্গে চলছে লেগুনাসহ যাত্রীবাহী বিভিন্ন ফিটনেসবিহীন যানবাহন। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকরী কোনো প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন না হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা। এ কারণে মহাসড়কে দেখা দিচ্ছে বিশৃঙ্খলা। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রী ও পথচারীরা।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড়ে মহাসড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে লেগুনাসহ নিষিদ্ধ যানবাহনের স্ট্যান্ড। ফিটনেস বিহীন লক্কর-ঝক্কর লেগুনা ও ব্যাটারি চালিত তিন চাকার বাহন মহাসড়কে চলছে নির্বিঘ্নে। অথচ মহাসড়কে লেগুনা চলাচলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে উদাসীন। ফলে রুটপারমিট না থাকা সত্তেও চলছে এসব গাড়ি। প্রয়োজনের তাগিতে শিশু চালকদের হাতে জীবন বাজি রেখে এসব বাহনে চড়ছে যাত্রীরা। বাধা না থাকায় লেগুনা ও থ্রি-হুইলার চালকরা হয়ে পড়েছে বেপরোয়া। এতে সড়কে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা।

অভিযোগ জানা গেছে, সঙ্গবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত দেড় শতাধিক লেগুনা চালাচ্ছে। শিমরাইল এক্সপ্রেস লিমিটেড (এস,ই,এল) নামক কোম্পানির ব্যানারে গাড়িগুলো চললেও নিয়ন্ত্রন করছেন যাত্রাবাড়ির পলাশ নামে একজন চাঁদাবাজ। পলাশ নিজেই সভাপতি হয়ে লেগুনা মালিক সমিতি নামে মনগড়া একটি কমিটি করে গাড়িপ্রতি দৈনিক ৫৭০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদার টাকার একটি অংশ পাচ্ছেন হাইওয়ে পুলিশ।

রফিকুল ইসলাম নামে একজন লেগুনা চালক জানায়, মহাসড়কে গাড়ি চালাতে চাঁদা দিতে হচ্ছে। গাড়ি প্রতি দৈনিক জিপি চাঁদা ৪৫০ টাকা, দিনে রাতে লাইনম্যান চাঁদা ১২০ টাকা। আগে সিদ্ধিরগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা নিতে হত। এখন সিদ্ধিরগঞ্জের চাঁদাও যাত্রাবাড়ীতে তোলা হয়। চাঁদা আদায়ের জন্য হাসিব ও তারেক নামে দুইজন লোক রয়েছে। তাছাড়া স্টিকার লাগানোর জন্য গাড়িপ্রতি মাসে ১ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। দৈনিক ৫৭০ টাকা চাঁদা, ১ হাজার টাকা মালিক জমা ও প্রায় দেড় হাজার টাকা তেল খরচ দেওয়ার পর কোনদিন শূন্য পকেটে বাসায় যেতে হয় কলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

চাঁদা, তেল খরচ ও মালিক জমা দিয়ে যা থাকে সবই চালকদের। তবে পুলিশ গাড়ি আটক করলে ছাড়িয়ে আনার টাকা মালিকদের দিতে হয়। নিয়মিত চাঁদা দিলেও পুলিশ গাড়ি আটক কিংবা রেকার লাগালে চাঁদাবাজরা কোন সহায়তা করেনা। অথচ চাঁদা না দিলে যাত্রাবাড়ীতে গাড়ি আটকিয়ে রাখে।

শিমরাইল এক্সপ্রেস লিমিটেডের এমডি হাসানুজ্জামান পরশ বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে কোনো চাঁদাবাজি হয় না। চাঁদা নেয়া হয় যাত্রাবাড়ীতে। লাইনম্যান সাঈদ বলেন,চাঁদা ছাড়া কোন পরিবহন চলে না। সবাইকে ম্যানেজ করেই পরিবহন লাইন চালাতে হয়। চাঁদা আদায়কারী হাসিব বলেন, আমি বেতনভূক্ত কর্মচারী। কিছু জানতে চাইলে পলাশ ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।


আরও খবর

কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা

রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২




নওগাঁয় "মানবতার দেয়াল" এর উদ্বোধন

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ


মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি নওগাঁ জেলার উদ্যোগে নওগাঁয় "মানবতার দেয়াল" এর উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার ৫ নভেম্বর 

নওগাঁ জেলা সদর উপজেলা পাহাড়পুর বাজারে "মানবতার দেয়াল" এর উদ্বোধন করেন মানবিক বাংলাদেশ সোসাইটি নওগাঁ জেলার সভাপতি নাহিদুজ্জামান রনি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বক্তারপুর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম, আওয়ামীলীগ নেতা হেলাল হোসেন (ডাবলু), বক্তারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ও মানবিক সৈনিক মাহবুবুর রহমান রুমন, পাহাড়পুর ওয়ার্ড আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক হাকিম, আওয়ামিলীগ নেতা শাহিন, বক্তারপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মানবিক সৈনিক রাব্বি, বাবু শাহ সহ আরো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


আরও খবর



মির্জাগঞ্জে ইউপি উপ-নির্বাচনে

এ টি এম মোস্তাফিজুর চেয়ারম্যান নির্বাচিত

প্রকাশিত:বুধবার ০২ নভেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

কামরুজ্জামান বাঁধন,মির্জাগঞ্জ পটুয়াখালী:

কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়া উৎসব মূখর পরিবেশে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন বুধবার (২ নভেম্বর) সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ.টি.এম মোস্তাফিজুর রহমান (মোটরসাইকেল প্রতীক) ১৮৬ ভোটের ব্যবধানে ২হাজার ৯শত ২২ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী সেলিনা রশিদ শিরিন (স্বতন্ত্র-চশমা প্রতীক) পেয়েছেন ২ হাজার ৭শত ৩৬ ভোট। 

আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহেদুল ইসলাম(সোহেল আহম্মেদ)-নৌকা প্রতীক-১ হাজার ৮শত ৬৪ ভোট পেয়ে ৪র্থ অবস্থানে রয়েছেন।

নির্বাচনে ইউনিয়নের ১৯হাজার ৯শত ৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ১০হাজার ৪শত ৪ জন নারী-পুরুষ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সকাল ৮টা থেকে ১১ টি ভোট কেন্দ্রে ৬৩টি বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহন শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহন চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি),র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় এবং ৮জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমড়াগাছিয়া পুলের হাট বাজার,মহিষকাটা বাজার ও সুবিদখালী সরকারী কলেজ সংলগ্ন মহাসড়কের প্রবেশদ্বারে নিরাত্তা চৌকি  (চেকপোষ্ট) বসানো হয়।এদিকে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট প্রদান করে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভোট দিতে আসা নারী-পুরুষ ভোটাররা।


আরও খবর



জনবল সংকটে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


প্রায় ২৮ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসাস্থল নওগাঁ সদর ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতাল। এ হাসপাতালে প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১ হাজার ৭শ’ জন ও ইনডোরে আরও ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। নওগাঁর ১১ উপজেলা ছাড়াও পাশের বগুড়া জেলার আদমদীঘি ও জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকেও লোকজন আসেন এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তু আশানুরুপ সেবা না পাওয়ায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

এ জেলার মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় হাসপাতাল টি। তবে আগের ১০০ শয্যা হাসাপাতালের যে জনবল সেটা দিয়েই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে এখনো। এতে করে রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা। আর উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতালে উপ-পরিচালক, শিশু, মেডিসিন, সার্জারি, ফরেনসিক, চক্ষু, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজি ইমেজিং, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, গাইনি এ্যান্ড অবস, নাক-কান-গলা, প্যাথলজি, নিউরোসার্জারি, নেফ্রোলজি, ও মেডিকেল অফিসারসহ মোট ৪৫ চিকিৎসকের মধ্যে আছেন মাত্র ৩২ জন। ৮৬ জনের মধ্যে নার্স রয়েছেন ৭৮ জন। বর্তমানে ১৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে আউটডোর ও ইনডোরে সেবা দেয়া হচ্ছে। 

প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬/১৭শ’ এবং ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

এছাড়াও ১০০ শয্যার জন্য মঞ্জুরি করা পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, চক্ষু, অর্থোপেডিকস ও রেডিওলজি ইমেজিং, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি এ্যান্ড অবস, মানসিক, প্যাথলজি ও নেফ্রোলজি, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার চক্ষু, রেডিওলজিস্ট এবং ইনডোর মেডিকেল অফিসার কার্ডিওলজি ও মেডিসিন প্রতি পদে একটি করে শূন্য রয়েছে। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ১৭৬ মঞ্জুরি পদের বিপরীতে জনবল আছে ১২১ জন।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, র্দীঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক সেবা প্রত্যাশীরা বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বেড না পেয়ে মেঝে এমনকি বারান্দায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছেন। অন্যদিকে, রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের দায়িত্বরতরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে রোগীদের ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি বাড়তি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।

ইনডোরে রোগী দেখার পর ডাক্তার আউটডোরে গিয়ে রোগী দেখা শুরু করেন। এতে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার চিকিৎসক না থাকায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদেরও।

নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে পায়ের চিকিৎসা করাতে এসেছেন রমজান আলী। তার সঙ্গে আসা মেয়ে নিলুফা খাতুন বলেন, অর্থোপেডিক ডাক্তারের কক্ষের সামনে এতই ভিড় বাবাকে যে পাশে কোথাও বসিয়ে রাখবো সেই ব্যবস্থাও নেই। ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাবাকে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছি। অন্যকোনো দিন আবার আসবো আর না হয় রাজশাহীতে নিয়ে যাবো।

একই অবস্থা মেডিসিন বিভাগের সামনেও, দীর্ঘ লাইনে প্রায় ৫০-৬০ জনের মত সেবাপ্রত্যাশী দাঁড়িয়ে আছেন। আমেনা বেগম নামে এক সেবা প্রত্যাশী বলেন, দুইদিন হলো ঘুরে গেলাম। সেই সকাল ১০টায় এসেছি এখন ১২টা বেজে গেল। কিন্তু এখনও ডাক্তারের কাছে যেতেই পারলাম না। অনেকে বাধ্য হয়ে ফিরে গেছে। আমি চলে যাবো। আর কিছুক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে আমি আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়বো। একসাথে তিন -চারটি কক্ষে যদি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা রোগী দেখতেন, তাহলে এতো ভোগান্তি পোহাতে হতো না।

হাসপাতালের নতুন ভবনের সার্জারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে মেঝেতে ও বাড়ান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কামরুল হোসেন নামে একজন বলেন, আমার ভাইকে ভর্তি করা হয়েছে। বেড সংকট তাই মেঝেতেই চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। কি আর করার, বাধ্য হয়েই এসেছি সরকারি হাসপাতালে।

রেনুকা বেগম নামে এক রোগী বলেন, বেড নাই তাই বারান্দা থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা পাওয়াতো আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু চিকিৎসাটাও ভালো ভাবে পাই না আমরা। বারান্দায় এভাবে থাকা যে কতটা কষ্টের, তা বুঝাবো কি করে? টাকা খরচ করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য নেই। তাই বাধ্য হয়েই এখানে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মিলাদুল ইসলাম এসে ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ দেয়া হয়েছে। আর বেশি ভাগ ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হয়েছে।

নওগাঁ নাগরিক কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট এ.কে.এম ফজলে রাব্বী বকু জানান, ২৮ লাখ মানুষের ভরসা নওগাঁ সদর হাসপাতাল। চিকিৎসক সংকটের কারণে যদি কেউ সময়মত সেবা না নিতে পারে তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক কি আর হতে পারে। হাসপাতালে যদি সেবার মান ভালো না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে সেবা নিতে? চিকিৎসক সংকটসহ হাসপাতালের সার্বিক সমস্যা দূর করে যেন সেবার মান বৃদ্ধি করা হয় সেই দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, ২৫০ শয্যা বলা হলেও ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তাও এখানে নেই। এতে করে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় ১৬শ' জন ও ইনডোরে প্রায় ৩ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেবার মান বৃদ্ধির জন্য চাহিদা পত্রের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি চাহিদা গুলোর অনুমোদন পেলে ডাক্তার, সেবিকা, ওষুধ ও অবকাঠামো সহ সার্বিকভাবে সেবার মান আরো ভালো হবে বলে জানান তিনি।


আরও খবর

জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহ কমছে

শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২