Logo
শিরোনাম

মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

দীর্ঘ সাড়ে চার বছর বন্ধ থাকার পর আবারো কর্মী যাওয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া। সোমবার রাত সাড়ে এগারোটায় বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তারা ঢাকা ছাড়েন।

তাদের বিদায় জানাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত টাকায় যেন বাংলাদেশিরা মালয়েশিয়া যেতে পারে সেজন্য নজরদারি করা হবে। প্রথম দিন রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যাথারসিস ইন্টারনেশনালের মাধ্যমে ৫৩ জন্য কর্মী ঢাকা ছাড়েন। আগষ্ট মাসেই আরো ১১টি ফ্লাইট কর্মী নিয়ে যাবে মালয়েশিয়া। 


আরও খবর



ইনজুরিতে আর্জেন্টাইন দুই তারকা ফুটবলার

প্রকাশিত:শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

বিশ্বকাপ শুরুর ২ দিন আগেও ইনজুরি পিছু ছাড়ছে না অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে। বরং, এবার দুঃসংবাদ হয়ে এলো আর্জেন্টিনা শিবিরে। লিওনেল মেসিদের দল থেকে ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলেন দু’জন তারকা ফুটবলার। ইনজুরিতে বিশ্বকাপই খেলতে পারবেন না ফরোয়ার্ড নিকো গঞ্জালেজ এবং জোয়াকিন কোরেয়া।

আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জয়ের প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ গোলটি করেছিলেন জোয়াকিন কোরেয়া। আর ইনজুরির কারণে খেলাতেই পারেননি নিকো গঞ্জালেজকে। তবে, কাতার পৌঁছার পর আর্জেন্টিনা স্কোয়াড থেকে ইনজুরি আক্রান্ত এই দু’জনকে বাদ দিতে বাধ্য হলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এ তথ্য।

আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রেনিং সেশনের পর দেখা গেল, নিকোলাস গঞ্জালেজ মাসল ইনজুরিতে ভুগছেন। এ কারণে তাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে আর রাখা হচ্ছে না। তার পরিবর্তে জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট অ্যাঞ্জেল কোরেয়াকে দলে ডেকেছে।

২২ নভেম্বর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ইনজুরির কারণে শুধু দু’জনকে বাদ দেয়াই নয়, কয়েকজনের ফিটনেস নিয়েও দারুণ চিন্তায় রয়েছে। স্ট্রাইকার পাওলো দিবালা, মিডফিল্ডার আলেজান্দ্রো গোমেজ এবং ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর ফিটনেস সমস্যা বেশ ভোগাতে পারে আর্জেন্টিনাকে।


আরও খবর

প্রতিপক্ষকে মূল্যায়ন করতে হবে.. স্কালোনি

বৃহস্পতিবার ০১ ডিসেম্বর ২০২২

নারায়ণগঞ্জ নগরের গভীর রাতে আনন্দ মিছিল

বৃহস্পতিবার ০১ ডিসেম্বর ২০২২




রূপগঞ্জে র‌্যাবের উপর হামলার ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৫ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিপুল পরিমান হেরোইন ও গাজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবার সময়  র‌্যাবের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী মাল্টা রনি, বিল্লাল ও সাইজুদ্দিনকে আটক করেছে র‍্যাব-১১। শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া বস্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

   র‍্যাব-১১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি রেজওয়ান সাইদ জিকু জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর  র‌্যাব-১ এর একটি অভিযানিক দল  চনপাড়া বস্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান গাজা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবার সময় সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের মূলহোতা ইউপি সদস্য বজলুর নেতৃত্বে ৪/৫'শ সন্ত্রাসী র‍্যাবের উপর হামলা করে। এসময় তারা কয়েকজন র‍্যাব সদস্যকে আহত এবং সরকারি গাড়ি ভাংচুর করে। এঘটনায় ২৮ সেপটেম্বর র‍্যাব বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার ভোররাতে  র‍্যাব-১১ এর একটি দল চনপাড়া বস্তিতে অভিযান চালিয়ে উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত  ওই তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব। 


আরও খবর



নিত্যপণ্যে নাভিশ্বাস

প্রকাশিত:শনিবার ১৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

ক্রমশ বেড়েই চলেছে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, চিনি, ছোলাসহ নিত্যপণ্যের দাম। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম।

যেসব পণ্যের দাম কমেছে সেগুলো বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে, বাজারে শীতকালীন সবজি পর্যাপ্ত এসেছে। দামও গত দুই সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম। তবে কেজিপ্রতি ৫০ টাকার কমে মিলছে না কোনো সবজি। যা আগে ছিলো ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় আমদানি ও দেশি পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেও পেঁয়াজের দাম ছিলো ৬০ টাকা। এখন ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া রসুন ও আদার দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।

প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়, সপ্তাহ খানেক আগে এর দাম ছিলো ৬০ টাকা, আমদানি পেঁয়াজের কেজি মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। দেশি রসুন কেজিতে ১০ টাকা কমে মানভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে যা ছিলো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, গত সপ্তাহে যা ছিলো ২২০ থেকে ২৪০ টাকা।

এদিকে বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। চলতি মাসের শুরুতে প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছিলো ১৮০ থেকে ১৯০ বা তারও বেশি দামে। সেই হিসেবে এই মাংসের দাম কমেছে ১০ টাকা। অন্যদিকে, বাজারে কমতে শুরু করেছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৫০ টাকা।

বাজারে মোটা চাল কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। প্রতি কেজি সাধারণ মানের পাইজাম বা মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিলো ৫২ থেকে ৫৮ টাকা। আর মাঝারি মানের চাল কিনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা ও ভালো মানের সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার ওপরে।

এছাড়া প্যাকেট আটায় ৪ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৭০ টাকায় ঠেকেছে। প্যাকেট ময়দায় দাম ১০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ৮০ টাকা হয়েছে। খোলা আটা কেনা যাচ্ছে ৬৫ টাকায়, আর ময়দা ৭৫ টাকায়।

এছাড়া ১৩ টাকা বাড়িয়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনির দাম ১০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দামে। কোথাও কোথাও কিছুটা কম দামে ১১৫ টাকায় চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে।


আরও খবর

মূল্যস্ফীতি কমে এসেছে’

শুক্রবার ০২ ডিসেম্বর 2০২2




বাঙালির হৃদয়নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  ক্লান্তিহীন লেখালেখির মধ্যে কেটেছে জীবন। একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। সাহিত্য আর টিভি নাটকের মতো চলচ্চিত্রেও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। তার বইয়ের ভাষায় কথার জাদুতে মোহিত হননি এমন বাঙালি পাঠক পাওয়া যাবে না। ক্ষণজন্মা এ কথাশিল্পীর জীবন ২০১২ সালে কেড়ে নেয় ক্যান্সার।

তার অসামান্য সাহিত্যকীর্তি আজ বাঙালি ও বাংলাদেশের সম্পদ। তাই হুমায়ূন-মুগ্ধ পাঠকের হৃদয়ে তিনি চিরায়ত হয়ে আছেন তার আশ্চর্যসুন্দর রচনাবলীর মাধ্যমে।
বাঙালির হৃদয়নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা তেমন পছন্দ ছিল না হুমায়ূন আহমেদের। তবু রাত ঠিক ১২টা ১ মিনিটে প্রিয়জনদের নিয়ে কাটতেন জন্মদিনের কেক। সকাল হলে ভক্তরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেন প্রিয় লেখককে। এছাড়া দিনব্যাপী নানা আয়োজন তো থাকতই।
এবারো নানা আয়োজনে উদ্যাপন হবে দিনটি। হুমায়ূন আহমেদকে হারানোর শোক আজও লালন করছে লাখো পাঠকের হৃদয়। তবু আনন্দ আয়োজনে ভক্ত-পাঠকরা আজ পালন করবেন তার জন্মদিন। তার জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ে আজ থাকবে দিনব্যাপী হুমায়ূন মেলা।
নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজন ॥

শনিবার রাতেই হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে অবস্থান করবেন। আজ সকাল ১১টায় তারা হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কবরের পাশে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ শেষে নুহাশপল্লীর হোয়াইট হাউসের সামনে জন্মদিনের কেক কাটা হয়।
পাঠকমুগ্ধ এ লেখকের জন্ম  ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ নানার বাড়িতে। পিতার বাড়ি নেত্রকোনাতেই কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। পিতা ফয়জুর রহমান আহমদ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তার মায়ের লেখালিখির অভ্যাস না-থাকলেও একটি আত্ম জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম জীবন যে রকম।

নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও হুমায়ূন আহমেদ সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তার সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণিকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। তার নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তার টেলিভিশন নাটকগুলো ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়।

সংখ্যায় বেশি না হলেও তার রচিত গানগুলোও সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে’, ‘মধ্যাহ্ন, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘মাতাল হাওয়াইত্যাদি। তার নির্মিত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো দুই দুয়ারী, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘ঘেঁটুপুত্র কমলাইত্যাদি।
হুমায়ূন আহমেদ তার দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার মধ্যে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। ২০০৫ সালে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন।
এই জননন্দিতশিল্পী ২০১২ সালে ১৯ জুলাই এক বর্ষণমুখর দিনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তার অসামান্য সাহিত্যকীর্তি আজ বাঙালি ও বাংলাদেশের সম্পদ।

1

 


আরও খবর

নোরাকে অশালীনভাবে স্পর্শ !

বৃহস্পতিবার ০১ ডিসেম্বর ২০২২




কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৫ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ভয়ংকর স্বাস্থ্য বিধ্বংসী রূপ নিচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হলেও থামছে না, বরং এর অপব্যবহার বেড়েই চলেছে।অ্যান্টিবায়োটিক, জীবনদায়ী ওষুধ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। মূলত এটি এক ধরনের অণুজীবনাশী পদার্থ; যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু অযৌক্তিক ব্যবহারে ওষুধটি দেশে অকার্যকর হয়ে পড়ছে । চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের অসচেতনতা, অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশে ক্রমেই তা কার্যকারিতা হারাচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি এখন শিশুদের শরীরেও এটি অকার্যকর হয়ে পড়ছে। দুটি আলাদা গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৯ ভাগ শিশুর মধ্যে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। ৭০ শতাংশ নিউমোনিয়া রোগীর শরীরে কার্যকারিতা হারিয়েছে চার ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না, এমন রোগীর সংখ্যা ৭ শতাংশ।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সেবনের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। করোনাকালে এই সমস্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এর আগে গত নভেম্বরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজির যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিরাময়ে কাজে আসছে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং এর অকার্যকারিতা উভয়ই রোগীর জন্য অশুভ। বয়স্ক ও শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর বিষয়টিকে অশনিসংকেত বলে মনে করেন গবেষকরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শরীরে সেই ওষুধের প্রতি রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ তৈরি হয়। তখন সৈই ওষুধ আর কাজ করতে চায় না। কারণ শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়া তখন ওষুধের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অথচ ব্যাকটেরিয়াজনিত কিছু রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক অপরিহার্য। কিন্তু আগে থেকে এটি কার্যকারিতা হারালে মৃত্যু ছাড়া তখন কোনো গতি থাকবে না। উল্লেখ্য, দেশে প্রায় আড়াই লাখের মতো ওষুধের দোকান আছে। এর মধ্যে এক লাখ বা তারও বেশি অননুমোদিত। প্রতিদিন জ্বর, সর্দি, কাশি, শরীর ব্যথা, আমাশয় আক্রান্ত কয়েক লাখ মানুষ ওষুধের দোকানদার, অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তির পরামর্শে অথবা নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক কিনে সেবন করেন। বেশির ভাগই ব্যবহারে কোনো নীতিমালা মানেন না। এভাবে অনিরাপদ ব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিককে অকার্যকর করে তুলছে। এতে করে ভবিষ্যতে কেউই নিরাপদ থাকবে না। অর্থাৎ রোগী, দোকানদার এবং চিকিৎসক সবাই অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারনোর ক্ষেত্রে সবিশেষ ভূমিকা রাখছে।

আমাদের এখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারাচ্ছে। অবশ্য অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ার বা জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই সমস্যাটি নিয়ে আলোচন হচ্ছে, গণমাধ্যমে খবর বের হচ্ছে। তবে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো কর্মসূচি চোখে পড়ে না। এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অ্যান্টিবায়োটিক ঠিকমতো কাজ না করায় রোগীকে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে, রোগীকে হাসপাতালে বেশি দিন থাকতে হচ্ছে। রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। সংগত কারণে এন্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। আর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। এই সচেতনতা দরকার নীতিনির্ধারকদের, স্বাস্থ্য ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের, হাসপাতাল ব্যবস্থাপকদের, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের, ব্যবস্থাপত্র যারা লেখেন, সেই চিকিৎসকদের, ওষুধের দোকানদারদের, সর্বোপরি সাধারণ মানুষের।


আরও খবর