Logo
শিরোনাম

মানবপাচার বেড়েছে বাংলাদেশে

প্রকাশিত:Tuesday ২৪ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আর টাইফুনের আঘাতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ এবং ফিলিপাইনে মানবপাচারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, মানবপাচারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ। আর এই বিষয়ে প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে, কারণ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষকে শোষণ করছে।

ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচারের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য আরেকটি বড় কারণ ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ। আফ্রিকার দেশ ঘানায় খরা এবং বন্যা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে হ্যারিকেনের আঘাত ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও অনেক মানুষকে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করেছে।

সংস্থাটি বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন মানবপাচারের ঝুঁকি ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি করছে।’গ্লোবাল ট্রাফিকিং অন পারসন রিপোর্ট-২০২২ শীর্ষক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মাদকবিষয়ক এই সংস্থা বলেছে, মানবপাচারের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পদ্ধতিগত বৈশ্বিক বিশ্লেষণের ঘাটতি থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় পর্যায়ের গবেষণায় মানবপাচারের মূল কারণ হিসেবে আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৪১টি দেশের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মানবপাচারবিষয়ক এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে ইউএনওডিসি। প্রতিবেদন তৈরিতে বিভিন্ন দেশের আদালতের মানবপাচার সংক্রান্ত ৮০০টি মামলার বিশ্লেষণকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ফ্যাবরিজিও স্যারিকা বলেছেন, একবার নিজেদের জীবিকা নির্বাহের বন্দোবস্ত থেকে উৎখাত হলে লোকজন তাদের সম্প্রদায় থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। আর এসব লোকজনই মানবপাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হন।

কেবল ২০২১ সালেই জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ। একই সময়ে আরও অসংখ্য মানুষ তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সব অঞ্চল ক্রমবর্ধমান হারে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ অভিবাসনের পথে শোষণের উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সংঘাতের কারণে পাচারের শিকার বেশিরভাগ মানুষই আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। একই সঙ্গে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ দেশটি ছেড়ে পালিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য আরেকটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

ইউএনওডিসির মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিভাগের প্রধান ইলিয়াস চ্যাটজিস ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘যুদ্ধ এবং অস্থিতিশীলতার কারণে মানবপাচার মোকাবিলা করাই এখন চ্যালেঞ্জ।’ তিনি বলেন, ইউক্রেনের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা এবং ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ।


আরও খবর

সুখবর নেই বাজারে

Saturday ০৪ February ২০২৩




ইউরোপে পরমাণু সংঘাত চায় ওয়াশিংটন !

প্রকাশিত:Saturday ০৪ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

ইউক্রেনকে পর্যন্ত ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যুদ্ধ সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে অত্যাধুনিক অস্ত্র দেয়ার মাধ্যমে রাশিয়াকে বাধ্য করছে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে যার শিকার হতে পারে ওয়াশিংটনের বন্ধুরাষ্ট্র ইউরোপের নিরাপরাধ জনগণই এমন মন্তব্য ভারতের ফ্লাইট অফিসার গ্রুপ ক্যাপ্টেন অজয় শ্রীবাস্তবের

রাশিয়ার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার হলে বা প্রচলিত অস্ত্রে মস্কোর অস্তিত্বকে হুমকি দিলে সম্ভাব্য সবধরনের অস্ত্রের ব্যবহার করা হবে পুতিন সতর্ক কোরেছেন, এটি কোনো ধাপ্পাবাজি নয়

ভারতের ফ্লাইট অফিসার গ্রুপ ক্যাপ্টেন অজয় প্রকাশ শ্রীবাস্তব জানান, যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানি ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক ট্যাংক দেয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হয়তো রাশিয়ার ঠিক কোরে দেয়া চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করতে চলেছে

রাশিয়া কি প্রতিশোধ হিসাবে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার করবে? অজয় জানান, হিমারস রকেট সিস্টেম থেকে ট্যাংক, অত্যাধুনিক সব অস্ত্র ইউক্রেনকে দেয়ার মাধ্যমে রাশিয়াকে প্রায় কোণঠাসা কোরে ফেলছে পশ্চিমারা প্রতিশোধ নেয়া ছাড়া মস্কোর জন্য কোনো সুযোগই বাকি রাখছে না তারা

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সহযোগিতা দিয়েছে বিশ্বের স্বঘোষিত শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্র যার মধ্যে অস্ত্র, সরঞ্জাম নিরাপত্তা সহায়তা ২৩ বিলিয়ন সরাসরি আর্থিক মানবিক সহায়তা ২৫ বিলিয়ন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ৪০টি রাষ্ট্র ইউক্রেনকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র হালকা অস্ত্র থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল, বিস্ফোরণ, নজরদারীর ড্রোন, মনুষ্যবিহীন বিমান, কামান, ট্যাংক, সাঁজোয়ানযান, সামরিক ট্রাক, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল, বিভিন্ন ধরনের রাডার, যোগাযোগের অন্যান্য সরঞ্জাম যন্ত্রপাতি দিয়েছে ইউক্রেনকে

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গণতন্ত্র রক্ষা, গণতন্ত্রের বিস্তার, মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পক্ষে কাজ করছে তারা বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অপরাধী যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য রাশিয়াকে বাধ্য করছে

বৃহস্পতিবার পুতিন জানান, আট দশক পর আবারও জার্মান ট্যাংকের হুমকিতে রাশিয়া পুতিনের মুখপাত্র অজয় জানান, পশ্চিমের নতুন নতুন অস্ত্রের জবাবে মস্কো নিজেদের শক্তিশালী অস্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে

অজয় বলেন, বিশ্বকূটনীতর নজিরবিহীন উদাহরণ যে, স্বঘোষিত পারমাণবিক অপরাধী যুক্তরাষ্ট্র চক্রান্ত কোরে তার হাজার হাজার মাইল দূরের বন্ধুদেশের নিরাপরাধ মানুষকে হিরোশিমা নাগাসাকির মতো নির্মম ভাগ্য বরণে রাশিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে বাধ্য করছে


আরও খবর



রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ফিরছে সুদিন

প্রকাশিত:Sunday ১৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :বড় পরিবর্তন এসেছে দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পে। মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও রুচির পরিবর্তন হয়েছে। সারা দেশের ছোট-বড় শহরে গড়ে উঠেছে উন্নতমানের রেস্তোরাঁ। জিডিপির পাশাপাশি প্রতি বছর বাড়ছে কর্মসংস্থান। পৃথিবীজুড়ে এখন এ শিল্প সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশেও সেটা হবে। আগামীতে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মতো মানুষ রেস্তোরাঁনির্ভর জীবনযাপন করবে। সেভাবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও অভ্যাস গড়ে উঠছে। এদিকে, সম্প্রতি সরকারিভাবে রেস্তোরাঁকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত ব্যবসায়ীরা। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের রেস্তোরাঁ ব্যবসাকেও মানসম্পন্ন জায়গায় নিতে স্বপ্ন বুনছেন তারা।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেস্তোরাঁর প্রসারে এ শিল্পে এখন পর্যন্ত বিপুল কর্মসংস্থানও হয়েছে। দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি এ শিল্প কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পর্যটনসহ অন্যান্য অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছে। সরকার শিল্প ঘোষণা করায় আগামী এক দশকে এ শিল্প আরো তিন গুণ প্রসার হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সার্ভে-২০২১ এর তথ্য বলছে, গত ১১ বছরে দেশে হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার। ২০০৯-১০ সালে যেখানে দেশে রেস্তোরাঁর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার, তা গত বছর বেড়ে ৪ লাখ ৩৬ হাজার হয়েছে। এ সময়ে কর্মরত মানুষের সংখ্যাও হয়েছে দ্বিগুণ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন ৯ লাখ ৪ হাজার মানুষ, যা গত বছর বেড়ে ২০ লাখ ৭২ হাজার হয়েছে। ফলে এক দশকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মূল্য সংযোজন বেড়েছে আট গুণ। এক দশক আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে মূল্য সংযোজন হয়েছিল মাত্র ১১ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। আর সবশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে হয়েছে ৮৭ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা।

আগামী ১০ বছরে এ শিল্প আরো তিন গুণ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, সরকারের উদ্যোগে রেস্তোরাঁকে শিল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আমাদের খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যা সমাধান হবে। বর্তমানে এ শিল্প যে অবস্থায় রয়েছে, আগামী ১০ বছরে তা আরো তিন গুণ বাড়বে।

ইমরান হাসান আরো বলেন,  আগামীতে এ শিল্প থেকে প্রচুর প্রশিক্ষিত কর্মী রপ্তানি সম্ভব হবে। সেটি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। আবার বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত প্রবাসীরাও এ খাতে জড়িয়ে পড়ছে ব্যাক টু ব্যাক শিল্পের মতো। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বিশ্বব্যাপী হসপিটালিটি খাতে দুই কোটি কর্মী রপ্তানি সম্ভব।

এসব বিষয়ে কথা হয় আল-কাদেরিয়া লি: এর চেয়ারম্যান, রেস্তোরাঁ মালিক ফিরোজ আলম সুমনের সাথে । তিনি জানান, অপেক্ষাকৃত কম পুঁজিতে বাংলাদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা লাভজনক। এছাড়া মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এ শিল্প জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ। সে কারণেই ঢাকা নয়, জেলা ও উপজেলায়ও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠছে। আবার প্রতিনিয়ত নতুন নতুন খাদ্যের প্রসার এ শিল্পকে সমৃদ্ধ করছে। যে কারণে দেশের অর্থনীতিতে অবদান বাড়ছে এ শিল্পের।

সুমন আরো বলেন, এতদিন রেস্তোরাঁ ব্যবসা শিল্পের মর্যাদা না পাওয়ার কারণে বেশ সমস্যা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের সরকারি সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে চড়া মূল্য দিতে হতো। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে অনেকে। তা ছাড়া ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসার প্রসার করেছেন, তারা প্রতিনিয়ত চড়া সুদ গুনেছে।

ঋণ পরিশোধ সব সময়ই আর্থিক চাপ, এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান টিকতে পারেনি। শিল্প না হওয়ার কারণে এতদিন রেস্তোরাঁ ব্যবসা দেশের পুঁজিবাজার, বিশেষ করে সম্ভাবনাময় বন্ড মার্কেট গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও কোনো ভূমিকা নেয়নি।

আল-কাদেরিয়া রেস্টুরেন্টের কর্ণধার ফিরোজ আলম সুমন আরো বলেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা নির্ঞ্ঝাট নয়। বড় বড় রেস্তোরাঁয় এখন বিনিয়োগও প্রচুর। তারপরও এ ব্যবসার কোনো স্বীকৃতি ছিল না। কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহায়তা মেলেনি। সেজন্য এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের প্রায়ই নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। টিকতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে অনেক তরুণের উদ্যোগ। এ খাত শিল্প হওয়ায় এখন অনেক সমস্যা কেটে যাবে। বড় বিনিয়োগ আসবে। কয়েক বছরের মধ্যে এ খাত পাল্টে যাবে। যেসব তরুণ উদ্যোক্তা রেস্তোরাঁগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগিয়ে যাচ্ছেন তারা আরো উদ্যমী হবেন। ব্যাংকগুলো সব ব্যবসায় ঋণ দিলেও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ঋণ দিতে চাইতো না। সহজ শর্তে ঋণ পেলে তরুণরা আরো ভালো করবেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ফয়েজুল আমীন বলেন, মোটাদাগে এখন অন্য শিল্পের মতো সব সুবিধাপ্রাপ্ত হবে রেস্তোরাঁগুলো। তাতে এ ব্যবসায় সরকারের সহায়তা বাড়বে। বড় বড় বিনিয়োগ আসবে। ব্যাংকগুলোও বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেবে। এমনকি এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।


আরও খবর

কমছে আয়, বাড়ছে ব্যয়

Saturday ০৪ February ২০২৩




রাণীনগরে শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:Monday ০৯ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ)


নওগাঁর রাণীনগরে শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহি পিঠাকে সবার সামনে নতুন করে তুলে ধরতে সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

রাণীনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু।এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হুসেইন,সহকারী কমিশনার(ভূমি) হাফিজুর রজমান জেলা পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন জয়,রাণীনগর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান জারজিস হাসান মিঠু,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কেএইচএম ইফতেখার খন্দকার,প্রাণি সম্পদ দপ্তর কর্মকর্তা কামরুননাহার আকতার মুন্নি,কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামসহ উপজেলা দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উৎসবকে প্রানবন্ত করতে ষ্টল বসিয়ে রাণীনগর শের-এ বাংলা ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়,মহিলা অনার্স কলেজ,সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উপজেলার বিভিন্ন কার্যালয় অংশগ্রহন করে। স্টলে জামায় পিঠা,নারিকেলি পিঠা,পুলি পিঠা,কুশলি পিঠা,পাকান পিঠা,নকসি জিলাপি পিঠা,গোলাপ পিঠা,সঙ্খ পিঠাসহ নানান ধরনের বিলুপ্ত প্রায় পিঠা তৈরি করে প্রদর্শণ করা হয়। এছাড়া সন্ধায় পরিষদ চত্বরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন সংশ্লিষ্ঠরা। 


আরও খবর



নওগাঁয় ৪০ গ্রামের হাজারো মানুষের ভরসা খেয়াঘাটের নৌকা

প্রকাশিত:Monday ২৩ January 20২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি এ দুই উপজেলার সীমানায় অবস্থিত শত বছরের ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল। এ বিলের আশেপাশে ৪০টি গ্রামে মানুষের বসবাস। এ ৪০ টি গ্রামের মানুষদের চলাচলের একমাত্র ভরসা মেঠোপথের শেষে খেয়াঘাট এর নৌকা। বিলে পানি যতদিন থাকে ততদিন নৌকায় পারাপার আর যখন পানি থাকে না তখন প্রয়োজনীয় কর্ম সমাধান করতে ৪০/ ৫০কিমি রাস্তা ঘুরে নওগাঁ, বগুড়া, রাণীনগর, আদমদীঘিতে যেতে হয়। এতে করে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগের শিকারের মধ্যদিয়ে জীবন-যাপন করে আসছে ঐ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। কৃষকরা নায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে যুগের পর যুগ। খেয়াঘাটে একটি ব্রিজ জোটেনি যার ফলে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল থেকেও বঞ্চিত এই কৃষি প্রধান অঞ্চলটি।

এলাকার বোদলা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান মুহরী জানান, কথিত আছে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে এই অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয় ফকির মজনু শাহর বাহিনীর সঙ্গে। এই বিলের মধ্যদিয়ে যুদ্ধে নিহত উভয় বাহিনীর সৈন্যের রক্ত একদিয়ে আরেক দিকদিয়ে পানি বয়ে যায় তখন থেকে এই বিলটি রক্তদহ বিল হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে মানুষের কাছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের একাধিক পাঠ্যবইয়েও এই বিলের ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে। কয়েক হাজার বিঘা জমি নিয়ে এই বিল অবস্থিত। বিলের পূর্বপাশে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষি প্রধান অঞ্চল বোদলা, পালশা, কৃষ্ণপুর, তেবাড়িয়াসহ ৪০টি গ্রাম অবস্থিত। এই মানুষদের সহজেই নওগাঁ, বগুড়া, রাণীনগর, আদমদীঘি, সান্তাহারে চলাচলের সহজ পথ হচ্ছে বিলের মধ্যদিয়ে রাস্তা। বিলের মধ্য একটি ব্রিজ না হওয়ার কারণে মেঠোপথ দিয়েই খেয়াঘাটে পারাপার হতে হয় এলাকার মানুষদের। পারাপারের জন্য খেয়াঘাটে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় নৌকার জন্য।

এই অঞ্চলের মানুষ কোথাও যেতে চাইলে বাড়ি বা বাসা থেকে নির্ধারিত সময়ের থেকে দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় হাতে বেশি নিয়ে বের হতে হয়। একটি ব্রিজের অভাবে এখনোও এই অঞ্চলের মানুষদের প্রাচীন যুগে বসবাস করতে হচ্ছে। দিনের বেলায় ঘাটে এসে নৌকা পাওয়া গেলেও রাতের বেলায় ৪০/ ৫০কিমি রাস্তা ঘুরে এই অঞ্চলের মানুষদের নিজের বাড়িতে ফিরতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থী ও জরুরী রোগীদের। অনেক প্রসুতিদের হাসপাতালে নেয়ার পথে এই খেয়াঘাটে এসেই প্রসব হয়ে যায়। অনেক জটিলতা শেষে ২০১৯ ইং সালে এই ঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন পেলেও পরবর্তিতে সেই কার্যক্রম রহস্যজনক কারণে আর আলোর মুখ দেখেনি। সহজেই নিজেদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে না পারার কারণে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে এই অঞ্চলের হাজারো কৃষক। দ্রুত এই ঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণ বর্তমানে সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নওগাঁ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমার জানা মতে ব্রিজ নির্মাণের সকল প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। সকল বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে অর্থ বরাদ্দ পেলেই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। আমি আশাবাদি অতিদ্রুতই এই অঞ্চলের মানুষদের শত বছরের স্বপ্নের ব্রিজ নির্মাণের সুখবর দ্রুতই পাওয়া যাবে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, চীনের হুয়াংহু নদীর মতো এই রক্তদহ বিলও এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি দুঃখ। এই ঘাটে একটি ব্রিজ এই অঞ্চলটিকে আমুল বদলে দিতে পারে। আমিও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে একাধিকবার ব্রিজ নির্মাণের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য তাগাদা দিয়েছি। আমি আশাবাদি জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া হিসেবে এই ঘাটে দ্রুত একটি আধুনিকমানের ব্রিজ নির্মাণের সুখবর পাওয়া যাবে।


আরও খবর



রাণীনগরে পৃথক অভিযানে ৪জন গ্রেপ্তার মাদক উদ্ধার

প্রকাশিত:Sunday ০৮ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :


নওগাঁর রাণীনগর থানাপুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদকসহ দুইজন এবং মারপিট মামলায় আরো দুইজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার রাতে ও রোববার সকালে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় । গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাণীনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, শনিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় উপজেলার আবাদপুকুর বাজার এলাকা থেকে সুমন মোল্লা (৩১) কে ৫০গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুমন উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে। একই রাতে উপজেলার মিরাট ধনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামের একটি মারপিট মামলার আসামী তাছের সরদার (৪০) ও তার ছেলে নয়ন সরদার (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া রোববার সকালে উপজেলার চকাদিন এলাকা থেকে হেরোইনসহ আব্দুল করিম (৩৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করিম উপজেলার খট্রেশ্বর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত ছামছুর প্রামানিকের ছেলে। এঘটনায় মাদক সহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে রোববার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আরও খবর