Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

মধ্যবিত্তের বাজারের হিসাবে কাটছাঁট

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি প্রশাসন। পাইকারি বাজারে সরবরাহ চেইন এখনো সিন্ডিকেটের হাতে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের দাম আরও এক দফা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সিংহভাগই আমদানিনির্ভর। ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রধান কয়েকটি পণ্যের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় রমজান মাসে। তবে এলসি সংকটে আমদানি কমে যাওয়ায় আসন্ন রমজান অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে কঠিন হতে যাচ্ছে ভোক্তাদের জন্য। এখনই উদ্যোগ নেওয়া না হলে রোজার আগে পণ্যবাজার নতুন করে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। খোদ ব্যবসায়ীরাই এমনটা মনে করছেন। 

এদিকে চট্টগ্রামে বাজারে দফায় দফায় বেড়ে চলেছে নিত্যপণ্যের দাম। আজ এক পণ্যের দাম বাড়লে কাল বাড়ে আরেক পণ্যের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। কিছু সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। তবে এক সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে ডিম ও কাঁচামরিচের দাম। পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব নেই। মাছ ও মাংসের দাম বাড়ার ফলে ক্রেতারা এখন ঝুঁকছেন সবজির দিকে। ফলে সবজির দামও এখন লাগামহীন।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের মোট পণ্যের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রিত হয় এ বাজার থেকে। এসব পণ্য আমদানির সঙ্গে যুক্ত চট্টগ্রামভিত্তিক একাধিক শিল্প গ্রুপ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের তারল্য সংকট ছাড়াও ডলার সংকটের কারণে আমদানি ভোগ্যপণ্য বন্দর থেকে খালাস করতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে রোজায় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজার থেকে রমজানের নিত্যপণ্য কিনে মজুত করা শুরু করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকারক ও পাইকারি বাজারে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল রয়েছে। আমদানিকারকরা সব ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। রমজান আসার আগেই চড়া ডাল ও ছোলার বাজার। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের ডালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করেই ডালের দাম বাড়িয়েছেন। পাইকারি বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৭৬ টাকা। আর খুচরা বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯৫ টাকার বেশি।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডলার সংকটের কারণে আমদানি-পরবর্তী কিছু ভোগ্যপণ্যের খালাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হলেও এখন সরকারি নানান সিদ্ধান্তের কারণে তা কেটে গেছে। বড় আমদানিকারকরাও নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খুলেছেন। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি ও ছোলার সংকট হবে না বলে আশা করছেন অনেকে।
পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মনপ্রতি ১শ টাকা বেড়ে সয়াবিন তেল ৬ হাজার ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া মনপ্রতি ১৫০ টাকা কমে পামতেল ৪ হাজার ৮৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সুপার সয়াবিন মনপ্রতি আগের ৫ হাজার ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খুচরা বাজারে প্রতিলিটার খুচরা তেল ১৯০ থেকে ১৯২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল খুচরায় ১৮৬ টাকা ও পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৯শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পলিব্যাগ লিটারপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা।

এছাড়া প্রতিকেজি চিনি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১১৮ টাকা। ভারতীয় গম বিক্রি হচ্ছে প্রতিমন ১ হাজার ৮৫০ টাকায়। চিনি প্রতিমন ৩ হাজার ৯৫০ টাকা, ভারতীয় মরিচ কেজি ৪৬৯ টাকা, হলুদ ১১০ টাকা, রসুন ১১০ টাকা। ভোগ্যপণ্যের মধ্যে শুধু পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। ভালোমানের ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৮ টাকা। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা দরে। দেশি পেঁয়াজ আরও ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে চালের। প্রতি বস্তা মোটা সিদ্ধ চালের দাম ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা। চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। সিদ্ধ মিনিকেটের দাম আগে ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। এ সপ্তাহে তা ২ হাজার ৯০০ টাকা। গুটি স্বর্ণার দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা, এখন ২ হাজার ৪০০ টাকা। ভারতীয় স্বর্ণার দাম ২ হাজার ৪০০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকা হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে পারি সিদ্ধ জাতের চালের দাম ২ হাজার ৪৫০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৫০ টাকা হয়েছে। খুচরা বাজারেও অস্থির চালের বাজার।

খাতুনগঞ্জের নিউ আমানত স্টোরের মালিক কামরুল হাসান রাজু জানান, টানা কয়েক মাস ধরে অস্থির ভোগ্যপণ্যের বাজার। বাজার অস্থিতিশীলকারী সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয়। প্রশাসন পণ্যের সরবরাহ চেইন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। তাই সিন্ডিকেট রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের বাজার আবারও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। 

বাজারদর : গত দুই-তিন সপ্তাহ রেকর্ড ভেঙে ২৩০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে ব্রয়লার মুরগি। এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা । এ নিয়ে দেড় মাসের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকার বেশি। বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা saকেজি। মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০-৫০ টাকা, চালকুমড়া পিস ৫০-৬০ টাকা। লাউ আকারভেদে ৬০-৭০ টাকা। লম্বা ও গোল বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৫০ টাকা। শিম ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০-১০০ টাকা, পটোল ৮০, করলা ৭০-৯০ টাকা ও আলু ২৭-৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি ৮০-১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫৫-৭০ টাকা ও ঝিঙ্গা ৭০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

 


আরও খবর



হারভেস্টার মেশিন নিয়ে অনিয়ম,কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সরকারের বরাদ্দকৃত হারভেস্টার মেশিন নিয়ে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়ার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রোববার সকালে শহরের দৈনিক সুনামকণ্ঠের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগি কৃষক বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের রফিক মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কৃষক রফিক মিয়ার ভাতিজা শরিফ আহমদ বলেন, আমাদের পরিবার আর্থিকভাবে তেমন স্বাবলম্বী না হওয়ায় ২০২১-২২ অর্থবছরে আমি সরকারের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৭০% ভতুর্কী মূল্যে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে একটি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের জন্য আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণে রফিক মিয়ার নামে একটি হারভেস্টার মেশিন অনুমোদন হয়, এরই প্রেক্ষিতে কৃষি অফিস কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে জানতে পারি বরাদ্দকৃত কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনটি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্র্তীতে এ বিষয়টি নিয়ে আমি বা আমার পরিবার কোন কথা না বললেও গেল বছরের ২৬ ও ২৮ নভেম্বর রফিক ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ০১৭১২-৭৪০৫৮৮ এই থেকে একটি ফোন আসে, যেটি রিসিভ করেন রফিক মিয়ার স্ত্রী, এসময় ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তি আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনটি বর্তমানে কি অবস্থায় আছে এবং কোথায় আছে সেটি জানতে চান।

তিনি আরও জনান, এসময় রফিক মিয়ার স্ত্রী ফোনের ওপাশে থাকা ব্যক্তিটিকে আমাদের নামে কোন হারভেস্টার মেশিন পাইনি জানালে তিনি আমাদের জানান ২০২১-২২ অর্থ বছরে আমার নামে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৭০% ভতুর্কী মূল্যে একটি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন প্রদান করা হয়েছে এবং এটি নাকি আমরা গ্রহণ করেছি বলেও জানানো হয়। এই খবর শোনার পর বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়ার কাছে গেলে তিনি এটির কোন উত্তরই দিতে পারেননি এবং ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান কৃষি অফিস থেকেই আমার নামে একটি মেশিন বিক্রি দেখানো হয়েছে বলে জানান।  পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্তের জন্য ইউএনও বরাবর আমরা অভিযোগ করি এবং ইউএনও এটি তদন্তের জন্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাাঠালে এটির কি তদন্ত হয় আমরা জানতে পারেনি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেয়া অভিযোগটি প্রত্যাহারের জন্য লোভ দেখান কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া। এতে সফল না হয়ে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে একটি লেখাযুক্ত কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন এবং কৃষক রফিক মিয়াকে প্রাণ নাশেরও হুমকি দেন। তাছাড়া রফিক মিয়ার শ্যালক শফিউল আলম আমার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তদবির করলে তাকেও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করে যাচ্ছেন উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া ও প্রভাবশালী একটি মহল। এছাড়া গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা কৃষি অফিসে নিয়ে গিয়ে আমাদের একটি পুরোনো হারভেস্টার মেশিন দেখিয়ে বলেন এটি নাকি আমাদের কিন্তু ওই ভাঙা পুরোনো মেশনটি আমরা গ্রহন করিনি।  

এ ব্যাপারে রফিক মিয়ার শ্যালক শফিউল আলম বলেন, আমি আমার দুলাভাইয়ের মেশিনটির বিষয় জানতে উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে গেলে তিনি প্রথমে জানান এটি বাতিল হয়ে গেছে পরে জানতে পারি এটি নাকি আমার দুলাভাইয়ের নামেই এসেছিলো তবে কৃষি অফিসার এটি আমাদের হস্তান্তর করেননি। আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নয়ন মিয়া বলেন, আমার উপর আনা অভিযোগগুলো মিথ্যে, রফিক মিয়ার নামে বরাদ্দকৃত হারভেস্টার মেশিনটি উপজেলায় অফিসেই আছে তারা এটি নিচ্ছেন না এছাড়া এর বেশি কিছু আমি আপনাদের বলতে পারব না।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, আমি ছুটিতে আছি, ছুটি থেকে এসে সবকিছুর সমাধাণ করে দিব।


আরও খবর



মানিকগঞ্জে কৃষিক্ষেত্রে মালচিং পদ্ধতির প্রতি জনপ্রিয়তা বাড়ছে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মাহবুবুল আলম রিপন,স্টাফ রিপোর্টার :

প্রযুক্তির কল্যানে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। কথাটি এখন শুধু মানুষের মুখে মুখে নয়। কৃষিক্ষেত্রে  মালচিং পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করে  বাস্তবে পরিনত করেছে মানিকগঞ্জের কৃষকেরা। তারা ভারতের পঞ্চিম বঙ্গের ও বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল দেখে লাভজনক এ মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছে। এই পদ্ধতি ইতি মধ্যে মানিকগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জানাযায়,কম খরচে অধীক লাভ হওয়ায় কৃষকরা এই পদ্ধতির প্রতি বেশি ঝুকে পড়ছে। বর্তমানে মানিকগঞ্জের  শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর,শিমুলিয়া,উলাইল,উথুলিসহ অন্যান্য ইউনিয়ন এবং হরিরামপুর, সাটুরিয়া উপজেলা সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়মরিচ,শশা,টমোটো,করলা,বেগুন সহ বিভিন্ন ফসল  মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে দেখাযাচ্ছে।

স্বরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, প্রথমে আবাদি জমি প্রস্তত করে তারপর বীজতলা বা বেড তৈরি করা হয়।তার পর একটি ড্রেন আবার বেড, আবার ড্রেন, এভাবেই এ পদ্ধতিতে জমি তৈরি করা হয়। এর পর মালচিং পেপার (একধরনে ধরনের পলিথিন) দিয়ে বেডগুলোকে ঢেকে দেয়া হয়। । এরপর নিদ্দির্ষ্ট দূরত্বে মালচিং পেপার ছিদ্র করে বা গোল করে কেটে চারা রোপন করা হয়। এ পদ্ধতিকে মালচিং বা পলি মালচিং পদ্ধতিও বলা হয়। ভারতের পঞ্চিম বঙ্গে এটাকে পলি মালচিং পদ্ধতি বলে।

মানিকগঞ্জের  শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের ইউটিউব দেখে  প্রশিক্ষন নেওয়া কৃষক মোঃ জুয়েল হোসেন (এরশাদ) বলেন, আমাদের এলাকায় গেল বছর দু-একজন মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বেশ সুফল পেয়েছিল । তাই আমি এবার  বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল দেখেএ পদ্ধতিতে আবাদ করতে উৎসাহিত হই ।এ পদ্ধতিটা আমি ইউটিউব দেখেই শিখেছি ।এবছর তিনি ৮ বিঘা (কারেন্ট মরিচ) হাইব্রিড মরিচ এই পলি মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করেছেনন। 

তিনি আরো বলেন,এ পদ্ধতিতে গাছের গোড়ায় পানি শুকিয়ে যায় না এবং গাছের প্রয়োজনীয় পানি সব সময় থাকে ।ড্রেনের মধ্য দিয়ে পানি দেয়ার ফলে পাশের বেডের মাটি পানি ধরে রাখে যা অতি রোদ্রেও শুকিয়ে যায় না।যেখানে ৬ বার সেচ দিতে হতো সেখানে এখন দুইবার সেচ দিলেই পুরো সিজন হয়ে যায়। আগে এই পদ্যতি নাথাকায় অতি বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গাছ মরে যেত।কিন্তু ড্রেন পদ্ধতি থাকায় এখন আর পানি জমতে পারে না। অধিক বৃষ্টিতেও গাছ বেডের উপর থাকাতে গাছের কোন ক্ষতি হয় না। এ পদ্ধতিতে জমিতে আগাছাও জন্মাতে পারে না। এতে করে  আমাদের খরচ ও অনেক কম হয়।

কৃষক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে বেশি খরচ লাগেনা। তবে প্রথমেই খরচটা করতে হয় বিধায় আমাদের কৃষকদের বেশ বেগ পেতে হয়। তিনি বলেন,৪ফুট প্রশস্ত এবং ৪০০ ফুট লম্বা একটা মালচিং পেপার রোলের দাম ৫ হাজার টাকা। এ রকম একটা রোল ১৮ শতাংশ জমিতে দেয়া য়ায়।সত্যিকারে যারা মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করেসরকারি ভাবে যদি  তাদের ভর্তুকি বা কমসূদে লোন দেয়া হয় তাহলে এই পদ্ধতির প্রতি অনেকেই উৎসাহিত হতো।এতেকরে  দেশের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেত।

মোঃ আওলাদ হোসেন খান বলেন,এই পদ্ধতির বিষয়ে আমাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষন দেয়া প্রয়োজন। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতি আহবান জানান। মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ বলেন,এ পদ্ধতিটাঅবশ্যই ভালো। আমরা কৃষকদের এ পদ্ধতির প্রতি( উদ্ভুদ্ধ করছি।সিংগাইর এলাকায় আমরা কৃষকদের উন্নত চাষাবাদের প্রশিক্ষন দিচ্ছি এবং সব জায়গাতেই এটা করা হবে।

কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক(শস্য) ড.মমতাজ সুলতানা বলেন,পলি পেপারের জন্যে এখনও কৃষক পর্যায়ে ভর্তুকির কোন নির্দেশনা আমাদের নেই। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের সকল প্রকার কারিগরি সহযোগীতা দিয়ে থাকি।


আরও খবর



আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর। জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। 

বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অন্যদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যেকোনো জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন

১৯৫২ সালের এদিনেবাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ ওই সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখরাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতিতে পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

আজ সরকারি ছুটি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সঠিক নিয়মে, সঠিক রঙ ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজনসহ দেশের সব উপাসনালয়ে ভাষাশহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ মিশনগুলো শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ, বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক আলোচনা সভা, পুস্তক ও চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। যেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বাঙালি অভিবাসীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাজনক স্থানে বাংলাসহ অন্যান্য ভাষার বর্ণমালা সংবলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং ভাষাশহীদদের সঠিক নাম উচ্চারণ, শহীদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা, শহীদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সুশৃঙ্খলভাবে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ইত্যাদি জনসচেতনতামূলক বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো প্রয়োজনীয় প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সংবাদপত্রগুলোয় ক্রোড়পত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। এছাড়াও কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। দুই দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ এবং প্রভাতফেরি। এছাড়াও কাল ২২ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

 


আরও খবর



চালের বস্তা বিক্রিতে ছয় তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

রোকসানা মনোয়ার : পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের দাম সহনশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ধানের নামেই চাল বাজারজাত নিশ্চিত করতে বস্তার ওপর ছয়টি তথ্য লেখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

বস্তায় উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্য এবং ধান বা চালের জাত উল্লেখ করার নির্দেশনা দিয়ে সরকারি পরিপত্র জারি করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনার কপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সকল বিভাগীয় কমিশনার, সকল জেলা প্রশাসক, সকল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সকল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

জারি করা এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের চাল উৎপাদনকারী কয়েকটি জেলায় পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বাজারে একই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন নামে ও দামে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম অযৌক্তিক পর্যায়ে গেলে বা অকস্মাৎ বৃদ্ধি পেলে মিলার, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এতে ভোক্তাগণ ন্যায্যমূল্যে পছন্দমত জাতের ধান, চাল কিনতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থার উত্তরণের লক্ষ্যে চালের বাজার মূল্য সহনশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে, ধানের নামেই যাতে চাল বাজারজাতকরণ করা হয়, তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেগুলো হলো-

১. চালের উৎপাদনকারী মিলাররা গুদাম হতে বাণিজ্যিক কাজে চাল সরবরাহের প্রাক্কালে চালের বস্তার ওপর উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্য এবং ধান/চালের জাত উল্লেখ করতে হবে।

ধানের জাতের নাম, প্রস্তুতকারক, ঠিকানা (উপজেলা ও জেলা), নিট ওজন, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্যের এই তথ্যগুলো ছক মোতাবেক লেখা থাকবে।

২. বস্তার ওপর উল্লিখিত তথ্যাদি কালিতে হাত দিয়ে লেখা যাবে না।

৩. চাল উৎপাদনকারী সকল মিল মালিক (অটো/হাস্কিং) কর্তৃক সরবরাহকৃত সকল প্রকার চালের বস্তা/প্যাকেটের (৫০/২৫/১০/৫/২/১ কেজি ইত্যাদি) ওপর উল্লিখিত তথ্যাদি মুদ্রিত করতে হবে।

৪. কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রতিপালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মিল গেট দামের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান চাইলে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে পারবে।

৫. এ পরিপত্রের আলোকে সকল জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী অফিসার/আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক/জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক/ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। খাদ্য পরিদর্শকগণ পরিদর্শনকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩ এর ধারা ৬ ও ধারা ৭ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

৬. আগামী ১৪ এপ্রিল (১ বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ) তারিখ থেকে এ পরিপত্রের নির্দেশ আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন করতে হবে।


আরও খবর



ভালবাসা ও ফাগুনে আগুন ফুলের বাজার !

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

ঋতুরাজ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে রাঙাতে কতই না আয়োজন। যার মূল অনুষঙ্গ রঙ-বেরঙের ফুল। সব আবেদন, অনুরাগ, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের বড় মাধ্যম ফুল। শহুরে প্রকৃতিতে এসবের কিছু কমতি থাকলেও সংরক্ষিত বাগানগুলোতে দেখা মিলেছে বাহারি সব ফুলের। তাছাড়া শীতের জীর্ণতা আর শুষ্কতাকে পেছনে ফেলে বসন্তের সজীবতাকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মানুষও।

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত- এ দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভালোবাসা দিবসে সবাই প্রিয়জনকে দিতে চায় তাজা গোলাপ, বসন্ত উৎসবে যোগ দিতে খোপায় বাঁধে গাঁদা ফুল। সবমিলিয়ে কদর বেড়েছে ফুলের রানি গোলাপসহ অন্যদের। এবছর বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও সরস্বতী পূজা একইদিনে হওয়ায় রাজধানীর ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ ফুল বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ ও আগারগাঁও এলাকার ফুলের দোকানগুলোতে দেখা গেছে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কীভাবে নিজের দোকানের ফুলগুলো সবার সামনে ফুটিয়ে তোলা যায় সেই পরিকল্পনা করছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তিন উৎসব একদিনে হওয়ায় ২০ কোটি টাকারও বেশি ফুল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তারা। এ মাসের ১৪ তারিখ এবং ২১ তারিখ সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়। ১৪ তারিখে গোলাপ আর ২১ তারিখে গাঁদা ফুল বেশি বিক্রি হয়। এসব দিনে ফুলের দোকানগুলোতে অনেকে বাড়তি কর্মচারী ও কারিগর রাখেন।

শাহবাগে একটি খুচরা বাজার ও একটি পাইকারি ফুলের দোকান আছে। যশোর, বেনাপোল, ফরিদপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে ফুল আসে। পরে এখান থেকেই ঢাকার অন্য খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা ফুল সংগ্রহ করেন। এসব ফুলের মধ্যে রয়েছে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রথস্টিক, জিপসি, গ্যালেনডোলা ও চন্দ্রমল্লিকা। শাহবাগে ৫০টির মতো খুচরা ফুলের দোকান রয়েছে। ক্রেতারা এই বাজার থেকে ফুল সংগ্রহ করেন।

ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি বাবুল প্রসাদ বলেন, সারা বছর শাহবাগে ফুল বিক্রি হয়। দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ টাকার ফুল কেনাবেচা হয়। আর আগামী ১৪ ও ২১শে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি পাইকারিতে ফুল বিক্রি হবে। আর খুচরা বাজার তো আছেই। এখানে ২৪টি জেলা থেকে ফুল আসে।

শাহবাগের ফুলের দোকান পুষ্পালয়ের মালিক রকি আহম্মেদ বলেন, ফুল বিক্রি ভালোই হচ্ছে। বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে এ বিক্রির সংখ্যা আরও বাড়বে। এবছর বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও সরস্বতী পূজা একদিনে হওয়ায় ফুল বিক্রির পরিমাণ অন্যান্য বছরের চেয়ে আরও বেশি হবে। ফুলের ব্যবসা করার মাস হচ্ছে ফেব্রুয়ারি। এসময়ে চাহিদাও থাকে বেশি। পাইকারিতেও কিছুটা বেশি দাম দিতে হয়। সেই প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। বুধবারের জন্য অগ্রিম ফুলের অর্ডার দিয়ে রেখেছি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ভালো মানের গোলাপ ফুল এখন ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোলাপি রঙের বিদেশি গোলাপ এখন প্রতি পিস ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রজনীগন্ধার স্টিক মানভেদে ২০-৮০ টাকা, প্রতিটি গাঁদার মালা ৬০-১২০ টাকা, জারবেরা ফুল ৫০-১২০ টাকা, অর্কিড স্টিক ৮০-১০০ টাকা, গ্লাডিওলাস রং ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়িরা বলছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি সাধারণ গোলাপ ৮০-৯০ টাকায় এবং বিদেশি গোলাপ ১৫০ টাকার বেশিতে বিক্রি হবে।

রোহান আহমেদ নামের লালবাগ সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজর এক শিক্ষার্থী বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে ফুলের চাহিদা বেড়েছে। অন্য সময়ের চেয়ে ফুলের দাম তিন গুণ বেশি। ভালোবাসা দিবসে ফুলের চাহিদা বেশি হয়ে ওঠে, কারণ এটি ভালোবাসা প্রকাশের উপযুক্ত উপহার। ফুলের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভালোবাসার আনন্দ ও মনোমুগ্ধতা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ঠিক এ সুযোগটি নিচ্ছেন। এটি ঠিক না।


আরও খবর