Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন
গজারিয়ার হোসেন্দী এলাকায়

মেঘনা নদীতে গোসল করার সময় নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে মো. শিহাব (১০) নামে   নিখোঁজ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর (১০) লাশ উদ্ধার করেছে ডুবুরী দল। 

জানা যায়, আজ শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবানীপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ শিহাব উপজেলার জামালদী গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে। সে ভবানীপুর জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া কবরস্থান মাদরাসার ছাত্র। 

এদিকে, নিখোঁজ ছাত্রের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার দুলাল ব্যানার্জী জানান, খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। নিখোঁজের সন্ধানে সকাল থেকে  আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

নিখোঁজ শিহাবের মা সালেহা বেগম জানান, 

সকালে মাদরাসা থেকে বের হয়ে সহপাঠী আব্দুল্লাহ আল তামিমের (১০) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বলাকীচর গ্রামের বালুর মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। সেখানে খেলাধুলা শেষ করে ভবানীপুর গ্রামের সিটি গ্রুপের লবন ফ্যাক্টরীর পানি নিস্কাষনের ড্রেনের পাশেই মেঘনা নদীতে সহপাঠীকে নিয়ে তার ছেলে গোসল করতে নামে। 

গজারিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত মুক্তার হোসেন বলেন, এক শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায়। ফায়ার সার্ভিসও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে, নিখোঁজ ছাত্রের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতায় বিকাল তিনটার দিকে লাশ উদ্ধার করে ডুবুরী দল।


আরও খবর



রাঙ্গাবালীতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বাশেদ সরদার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়ে লড়তে চান সবুজ ছায়া আবাসন গ্রæপের চেয়ারম্যান মো. বাশেদ সরদার। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য। 

ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় নিজ এলাকা রাঙ্গাবালীর ফেলাবুনিয়া লঞ্চঘাট পৌঁছালে বাশেদ সরদারকে অভ্যর্থনা জানান তার কর্মী-সমর্থকরা।  পরে ফেলাবুনিয়া বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদোপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

পথসভা শেষে নিজ বাসভবনে মতবিনিময় সভায় বাশেদ সরদার বলেন, ‘নদী ও সাগর বেষ্টিত এলাকা রাঙ্গাবালী। এখনও নানা সমস্যায় জর্জরিত এই এলাকাটি। আমি এই এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে এগিয়ে  যেতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ । আওয়ামী লীগ সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশের ভিশন, এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাঙ্গাবালীকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই ।’

জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থাকবে না। সেক্ষেত্রে আরও একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে। যোগ্য প্রার্থী সুযোগ পাবে। জনগণও তাদের যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে আমি আশাবাদী।


আরও খবর



অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তে অনেক রোহিঙ্গা

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মিয়ানমারে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে যাতে রোহিঙ্গারা ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে নাফ নদীতে সর্বোচ্চ সতর্ক পাহারায় রয়েছে বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। টেকনাফের দমদমিয়ায় নাফ নদী ও শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তে উন্নতমানের স্পিডবোট দিয়ে জালিয়ার দ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের-২ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, নাফ নদী অতিক্রম করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কোনো লোকজন যাতে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। টেকনাফের সীমান্ত পয়েন্টে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বাহিনীর সাথে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের কারণে দেশটির রোহিঙ্গারা নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করছে। তবে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের মাঝি আবু বক্কর বলেন, মিয়ানমারের সাগরের তীরে হাজার হাজার রোহিঙ্গার অবস্থান দেখা গেছে। কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা দেখা যায়। সেসব নৌকায় করে এই পারে ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। কিন্তু বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের ভয়ে তারা অনুপ্রবেশ করতে পারছে না।

স্থানীয় জেলে কবির আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের এলাকায় আরাকান আর্মি ঢুকে পড়েছে। এতে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় তাদের অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। তাই কয়েক হাজার রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বিলে, সাগরের তীরে আশ্রয় নিয়েছে। তারা যেকোনো মুহূর্তে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করবে কি না জানি না। রাতের বেলায় তারা শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে পারে। তবে তাদের ঠেকিয়ে রাখছে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড।

এদিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে টেকনাফ সীমান্তের হ্নীলা, সাবরাং ও সেন্টমার্টিনের নাফ নদীর বিপরীতে মিয়ানমার সীমান্তে। প্রতিদিনই এসব এলাকায় গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

মিয়ানমারের মংডুর সিকদার পাড়ার রোহিঙ্গা সেলিম বলেন, আমাদের তিনটি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাণে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে চরে আশ্রয় নিয়েছি। সাগরে বাংলাদেশের বাহিনী বেশি থাকায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করব সেখানে ঢোকার। না হলে বাঁচতে পারব না।

তিনি বলেন, হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারছে। আমাদের কয়েকটি গ্রাম থেকে গোলাগুলি হচ্ছে। গ্রামগুলো হচ্ছে মংডু কাদিরবিল, নুরুল্যাহ পাড়া, বাগগুনা, নর বাইন্যা, থানাশো। এসব এলাকা থেকে রোহিঙ্গা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জলসীমাজুড়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক স্পিড বোট দিয়ে টহল দেয়া হয়। কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ঢুকতে দেয়া হবে না।


আরও খবর



লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কৃষক আবুল কাশেম (৩৫) হত্যা মামলায় স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক-শ্যালিকাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।  শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কম্পানি অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোর্শেদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার সবার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে র‌্যাব তাদের কমলনগর থানায় হস্তান্তর করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নিহত কাশেমের শ্বশুর আলী আক্কাস, শ্যালক জহির উদ্দিন, জেঠ্যস আকলিমা বেগম, স্ত্রী তাছলিমা বেগম ও শ্যালিকা তাহমিনা আক্তার।

গত শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোর্শেদ বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের কোনো তথ্য ও প্রমাণ ছিল না। ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার তাহমিনা পলাতক ছিলেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তহিদুল ইসলাম বলেন, র‌্যাব পাঁচজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত কাশেম কমলনগরের চরকাদিরা ইউনিয়নের চরপাগলা গ্রামের আবু ছায়েদ মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

প্রায় তিন মাস আগে চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের তাছলিমাকে পারিবারিকভাবে তিনি বিয়ে করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে বের হন। রাত ১০ টার দিকে স্ত্রী তাছলিমা তাকে মোবাইলে কল দিলে মোবাইল বন্ধ পান। পরদিন সকাল সোয়া ৭টার দিকে শ্বশুর বাড়ির পাশের একটি সয়াবিন ক্ষেতে কাশেমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তাছলিমার বাবা আক্কাস মোবাইলে বিষয়টি কাশেমের বাবাকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং নাক ও মুখে রক্ত লেগে ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছায়েদ বাদি হয়ে কমলনগর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করেন। এরপর কাশেমের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালক, জেঠ্যস ও শ্যালিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


আরও খবর



নওগাঁয় ২০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হলো কর্ণফুলী সমবায় সমিতি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদর মডেল স্কুলের মোড় এলাকায় অফিস খুলে পাঁচশত গ্রাহকের প্রায়  ২০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাথের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্ণফুলী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার বিচার সহ পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টারদিকে নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার সার্কিট হাউজ এর সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। কর্ণফুলী সমবায় সমিতির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম মহাদেবপুর উপজেলার উত্তর গ্রাম ইউনিয়ন এর বামনসাতা গ্রামের খোদা বক্স মন্ডলের ছেলে। নওগাঁর বেশ কয়েক টি উপজেলায় কর্ণফুলী নামে শাখা পরিচালিত হতো বর্তমানে সেই শাখা গুলোও তালাবদ্ধ।

ভুক্তভোগী জনসাধারণ ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে মোঃ সাঈদ হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, বামনসাতা গ্রামের রবিউল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, রুকসানা পারভীন, উম্মে হাবিবা, লিটন হোসেন, মিলন, রেজাউল করিম প্রমুখ। তারা বলেন, প্রতি লাখে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে অত্র সমিতি তে সঞ্চয় রাখার উৎসাহ প্রদান করে। আমরা সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করতে চাইলে আজ নয় কাল বা পরশু আসেন বলে কাল ক্ষেপন করতে থাকেন আশরাফুল ইসলাম। এমন নানা অজুহাতে নির্ধারিত সময়ে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও দেননি। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও জেলা সমবায় অফিসার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। 

অভিযোগ কারীদের একজন মান্দা উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটন হোসেন বলেন, তাকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে লাভ দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা সঞ্চয় করান। কয়েক মাস লাভ দেওয়ার পর সেটি বন্ধ করে দেন। এরপর সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন। বার বার তাগাদা দেওয়া সত্বেও একটি টাকাও ফেরত পাননি তিনি। গত ৭ দিন ধরে সভাপতি, সম্পাদক সকল স্টাফ সবাই উধাও। 

নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন, মাসে মাসে লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য এক বছর আগে কর্ণফুলী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সভাপতির হাতে ১০ লাখ দিয়েছিলাম। আমাকে এখন আর লভ্যাংশ দেন না টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা করেন এখন দেখি অফিস বন্ধ। বার বার ধরনা দিয়েও কোন কাজ হয়নি। টাকা দিয়ে এখন আমি পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছি। মহাদেবপুর, মান্দা পোরশা, সাপাহার, বদলগাছিও পত্নীতলা উপজেলার পাঁচশত মানুষ এভাবে লাভের আসায় টাকা দিয়ে ধরা খেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার আশরাফুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আরও খবর



বেচি দই কিনি বই, অতঃপর একুশে পদক

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক পাচ্ছেন একুশে পদক। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ফুল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন তার বাড়িতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুভেচ্ছা-ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছে তিনি। পেশায় দই বিক্রেতা জিয়াউল হক, দই বিক্রির টাকা পরিবারের খরচ মেটানোর পর যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে তিনি বই কেনেন। সেই বই তুলে দেন অসহায়-দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে। এভাবেই তিনি হয়ে উঠলেন সাদা মনের মানুষ, পরোপকারী ও একজন সমাজসেবক। এসব কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ তিনি পাচ্ছে একুশে পদক। গত মঙ্গলবার সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আইরীন ফারজানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ১৫ নম্বরে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জিয়াউল হক। তিনি সমাজসেবায় অবদান রাখায় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

জিয়াউল হক (৯১) ১৯৩৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার চামামুশরীভূজা গ্রামের এক অতিদরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একুশে পদক পাওয়ার জন্য মনোনীত হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

সৎ মানুষ ও ভালো দই বিক্রেতা হিসেবে তার নাম জেলা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। তিনি প্রথমত অভাবগ্রস্ত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করেন। বছর শেষে সেই বই ফেরত নিয়ে আসতেন। পরে তিনি স্থানীয় হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় পাঠ্যবই, পবিত্র কোরআন মাজিদ ও এতিমদের পোশাক দেয়া শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে আসছেন। জেলা ছাড়া রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরও বই দেন তিনি। যেসব ছাত্রছাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বই নিতে আসেন তাদের যাতায়াত খরচও দিয়ে থাকেন জিয়াউল হক। ঈদে গরিব দুঃখীর মধ্যে কাপড় বিতরণ এবং প্রচ- শীতে দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

জিয়াউল হক বলেন, তার বাবা ছিলেন গ্রামের গোয়াল। ষষ্ট শ্রেণিতে পড়ার সময় টাকার অভাবে বই কিনে দিতে পারেননি। এ কারণে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে শুরু করেন দই বিক্রি।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে মাথায় করে দই বিক্রি করি। বেচি দই কিনি বই স্লোগানে ১৯৬৯ সালে ভোলাহাট উপজেলার মুশরিভূজা গ্রামে নিজের নামে জিয়াউল হক সাধারণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করি। তিনি বলেন, এরপর থেকেই শুরু হয় আমার সমাজসেবা। এলাকার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই প্রদান, গ্রামের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, গরীব-দুঃখীদের বাড়ি নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, দুস্থদের খাদ্য সহায়তা, গরীব শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে বেতন পরিশোধসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কাজে আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমার মাধ্যমে শত শত মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, আমি কোনোদিন ভাবতে পারিনি, একুশে পদক পাবো। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। জিয়াউলের ছেলে মহব্বত আলী বলেন, বাবা একুশে পদকের জন্য মনোনীত করায় আমি খুব খুশি। আমি আমার বাবার অবর্তমানে এই পাঠাগারের হাল ধরব এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজ্জামেল হক চুটু বলেন, জিয়াউলকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করায় আমরা গর্বিত।

উল্লেখ্য, রহনপুর স্কাউট দল, ভোলাহাট প্রেস ক্লাব, খুলনা পিপি কলেজ, জেলা প্রশাসন (১৯৯৩ সালে), চ্যানেল আই (২০০৫), নবাবগঞ্জ নয়াগোলা পাঠাগার, ২০০১ সালে ইটিভি ও ২০০৮ সালে ফ্রিডম ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সর্বশেষ ইউনিলিভার বাংলাদেশ ২০০৬ সালে তাকে সাদা মনের মানুষ পদকে ভূষিত করে।


আরও খবর