Logo
শিরোনাম
নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে শিশু ও দুই নারীসহ চারজনপর মরদেহ উদ্ধার সমবায়ের মাধ্যমে চাষাবাদ করার আহ্বান পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর জয়পুরহাট সরকারি কলেজে কর্তৃপক্ষের শর্ত মেনে ক্যাম্পাসে প্রবেশের নির্দেশনা রাজবাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ২০ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেটকার জব্দ সাত পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে কলেজ ছাত্রীর আত্মহতা লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রণোদনার সার-বীজ নিয়ে কর্মকর্তাদের নয়-ছয় নেত্রকোনায় হাওড়ে নৌকা ডুবে দুই নারীর মৃত্যু নেত্রকোনায় ইমাম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন নেত্রকোনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা ও স্মারক লিপি প্রদান

মিজোরাম ভারতের দুর্গম, আমাদের সুগম

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের একটি হলো মিজোরাম। রাজ্যটির উত্তরে আসাম ও মণিপুর, পূর্বে ও দক্ষিণে মিয়ানমার, পশ্চিমে বাংলাদেশ ও ভারতের ত্রিপুরা। এটি একটি স্থল বেষ্টিত রাজ্য। এর আয়তন ২১,০৮৭ বর্গকিলোমিটার। আসামের সাথে এর ১৬৪ কিলোমিটার, ত্রিপুরার সাথে ৯০ কিলোমিটার, মণিপুরের সাথে ৯৫ কিলোমিটার, মিয়ানমারের সাথে ৪০৪ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের সাথে ৩১৮ কিলোমিটার স্থল সীমানা রয়েছে। ভারতের ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী মিজোরামের জনসংখ্যা ১০,৯১,০১৪ জন। রাজ্যটির জনসংখ্যার ৮৭ ভাগ খ্রিষ্টান, ৮ ভাগ বৌদ্ধ, ৩ ভাগ হিন্দু ও ২ ভাগ মুসলিম। শিক্ষার হার ৯২ শতাংশ। ব্রিটিশ ভারতে মিশনারিদের তৎপরতায় মিজোরা খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এ সময় থেকে মিজোদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়তে থাকে।

মিজোরাম একসময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হিসেবেই বিবেচিত হতো। এ অঞ্চলের মোঙ্গলীয় মহা জাতিসত্তার আদিবাসী মিজো থেকে অঞ্চলের নাম হয়েছে মিজোরাম। ভারতবর্ষে প্রথম যে মিজোরা প্রবেশ করেছিল তাদেরকে কুকি বলা হয়। ভারতে প্রবেশকারী এ জাতি গোষ্ঠীর দ্বিতীয় দলকে নব্য কুকি নামে অভিহিত করা হয়। আর এ জাতিসত্তার সর্বশেষ যে দলটি ভারতে প্রবেশ করেছিল তাদেরকে অভিহিত করা হয় লুসাই নামে। কুকি, নব্য কুকি এবং লুসাইদের সম্মিলিত নাম হলো মিজো।

মিজোরামের তাপমাত্রা শীতকালে ১১-২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি অবধি ওঠে। মিজোরাম রাজ্যটি আটটি জেলায় ও ২৩টি মহকুমায় বিভাজিত। জেলাগুলো হলো মামিত, কোলাশিব, আইজল, চম্ফাই, সেরাছিপ, লুঙ্গলেই, লাওঙ্টলাই এবং সাহা।

মিজোরামের প্রাদেশিক ভাষার নাম মিজো। মিজোরামের অধিকাংশ মানুষ এ ভাষায় কথা বলে। এ ভাষার সাথে হমার, মারা, লাই, পাইতে, গ্যাঙটে ইত্যাদি আঞ্চলিক ভাষার মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। এ ভাষার কোনো বর্ণমালা ছিল না। খ্রিষ্টান মিশনারিরা মিজো বর্ণমালার উদ্ভাবন ঘটিয়েছে। ভাষাটির মূল বর্ণগুলো রোমান বর্ণমালা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এ ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণমালায় মোট ২৫টি বর্ণ রয়েছে। এ ভাষার মানুষ মিজোরাম ছাড়াও মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে রয়েছে। বাংলাদেশের মিজো ভাষার মানুষ বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে।

মিজোরামের রাজধানী আইজল। শহরটি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। পাহাড়কে অক্ষত রেখে কিভাবে শহর হয় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আইজল। রাতের আইজল যেন এক স্বপ্নপুরী। পাহাড়ের কোলঘেষে গড়ে ওঠা বসতবাড়ির বিদ্যুৎ বাতিগুলোকে দূর থেকে জোনাকীর মতো মনে হয়। আইজলের পাহাড়ের খাজে খাজে রয়েছে সড়ক। সড়কগুলো ২০-২৫ ফুট প্রশস্ত। সড়কের দুধারে ৫-৬ ফুট পরিধির পায়ে হাঁটার পথ রয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সড়ক ও হাঁটার পথে পৃথিবীর উন্নত দেশের ন্যায় ভাঙাচোরা লক্ষ করা যায় না। শহরে বসবাসরত মানুষের অধিকাংশেরই নিজস্ব বাহন রয়েছে। শহরে বসবাসরত লোকজনের বেশভূষা চলনে-বলনে রয়েছে পাশ্চাত্যের ছাপ।

ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারীদের অধিক সক্রিয় দেখা যায়। আইজলে বসবাসরত মানুষের ৯০ শতাংশের অধিক খ্রিষ্টান হওয়ায় শহরটির সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসংখ্য গির্জা রয়েছে। আর এ কারণে এ শহরটিকে গির্জার শহরও বলা হয়। আইজলের প্রাণকেন্দ্রে একটি মসজিদও রয়েছে। মসজিদের সন্নিকটে মুসলিম ব্যবসায়ীদের কিছু দোকান রয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বিমানবন্দর। কোলকাতা থেকে সরাসরি বিমানে আইজল যাওয়া যায়। এছাড়া আগরতলা থেকে আইজলের বিমান যোগাযোগ বিদ্যমান রয়েছে।

মিজোরামের যে শহরগুলো পর্যটকদের আকর্ষণ করে এর অন্যতম হলো রেইক। রেইক আইজল হতে ৩০ কিলোমিটার দূরে মামিত জেলায় অবস্থিত। রেইকে যাওয়ার পথে পড়ে মিজোরামের প্রধান নদী খোয়াথল্যাংতুইপুই যা কর্ণফুলী নামেও পরিচিত। নদীটির উৎসমুখ মামিত জেলার শৈতা গ্রামে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে তলাবং এর কাছে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আইজল হতে রেইক যাওয়ার পুরো পথটি ঝর্ণাধারার মধ্যে ঘন সবুজ বনাঞ্চল আবৃত। পাহাড়ের ওপর সুউচ্চ নীল আকাশ আর প্রান্তরের সবুজের মিশ্রণে যে অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্যের দেখা মিলে এটি এ ধরায় বিরল। রেইক ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় এপ্রিল মাস। এ মাসটিতে এখানে স্থানীয় প্রিয় ফুলের নামে হয় আন্তরিয়াম উৎসব। এ উৎসবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রস্তুতকৃত সামগ্রীর সমাহার ঘটে। উৎসবকে ঘিরে লোকগীতি ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে দেশজ শিল্প সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।

পর্যটনের দিক হতে মুইফাং মিজোরামের জনপ্রিয় একটি পার্বত্য শহর। আইজল হতে মুইফাং এর দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। রেইক থেকে আইজল হয়ে মুইফাং যাওয়া যায়। মুইফাং যাওয়ার পথে পড়ে সবুজ গালিচায় আচ্ছাদিত উঁচু-নিচু প্রান্তর। মুইফাং এর চতুর্দিকে রয়েছে পাহাড়। পাহাড়গুলোর অরণ্যের অনেকাংশেই এখনো মানুষের পদচিহ্ন পড়েনি। বিক্ষিপ্ত জনবসতির মানুষজন এলাকায় আগত পর্যটকদের সাথে ভাব বিনিময় করতে চাইলেও ভাষা সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয় না।

পর্যটনের দৃষ্টিকোণ হতে অপর গুরুত্বপূর্ণ শহর হলো চম্ফাই। মুইফাং হতে চম্ফাই যাওয়ার পথে মিজো বয়নশিল্পের কেন্দ্র থানজোয়ালের দেখা মিলে। এখানে প্রতিটি ঘরে উজ্জ্বল রং এর মিজো পোশাক, চাদর, ব্যাগ প্রভৃতি প্রস্তুত হয়। চম্ফাই শহরের সন্নিকটে রয়েছে মিজোরামের সর্ববৃহৎ ভেন্টাং জলপ্রপাত। চম্ফাই শহরটি পাহাড় দিয়ে ঘেরা একটি উপত্যকা। মিজোরামের সর্বাধিক সমতল ভূমি রয়েছে এ উপত্যকায়। মিজোদের প্রধান খাদ্য ভাত। চম্ফাই উপত্যকায় যে ধানের চাষ হয় তা সমগ্র মিজোরামের চালের জোগান দেয়।

আসামের গুয়াহাটি থেকে সড়ক পথে মিজোরাম যাওয়া যায়। আবার মেঘালয়ের জোওয়াই হয়ে শিল চর দিয়েও সড়ক পথে মিজোরাম যাওয়া যায়। বাংলাদেশীরা জাফলং হতে ভারতের ডাউকি হয়ে জোয়াই অতিক্রম করে মিজোরামে যেতে পারেন। মিজোরাম সম্প্রতি রাজ্যটির শিলসুরি এবং বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার সাজেকে একটি বর্ডার হাট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। মিজোরামের প্রস্তাবে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বর্ডার হাটটি বাস্তবায়ন করা হলে উভয় দেশের মধ্যে পণ্য বিনিময় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, নির্মাণ সামগ্রী, প্লাস্টিক ও খাদ্যপণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে মিজোরামে। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ মিজোরাম হতে পাথর, হলুদ, আদা, মরিচ, বাঁশ প্রভৃতি আমদানি করতে পারে। লুসাই পাহাড়ের অবস্থান মিজোরামে। কর্ণফুলী নদী লুসাই পাহাড় হতে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে সাগরে পতিত হয়েছে। এ কর্ণফুলী নদীর তীরেই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়েই বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কাপ্তাই এ স্থাপিত হয়েছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে মিজোরাম লুসাই পাহাড় নামে অভিহিত ছিল। সে সময় এটি আসামের অংশ ছিল। ১৯৭২ সালে মিজোরাম কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল হিসেবে আসাম হতে আলাদা হয়। অতঃপর দিল্লি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী এমএনএফের (মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট) মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে মিজোরাম আলাদা রাজ্যের মর্যাদা পায়। এমএনএফ ভারতের বিরুদ্ধে টানা ২০ বছর গেরিলা অভিযান চালিয়েছিল। গেরিলা যুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন মিজোদের জাতীয় নেতা লালডেঙ্গা। ভারতের সাথে আপস-রফার পর লালডেঙ্গা মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আইজল শহরের কেন্দ্রস্থলে লালডেঙ্গার আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।

১৩ লাখ জনগোষ্ঠীর পাহাড়ি রাজ্য মিজোরামের সাথে ভারতের বাকি অংশের সংযোগ যে মহাসড়কটির মাধ্যমে স্থাপিত হয়েছে তা আসামে অবস্থিত। ভারতের মূল ভূখণ্ড হতে পশ্চিম বাংলা হয়ে আসামের মাধ্যমে মিজোরামের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। আর এ কারণেই মূল ভারত হতে পশ্চিম বাংলা ও আসাম হয়ে মিজোরামে যেকোনো পণ্য পরিবহন করতে হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। মিজোরামের রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন যাবৎ এ সমস্যাটি হতে উত্তরণের জন্য রাজ্যটির নিকটতম প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অনাগ্রহে তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। মিজোরামের রাজ্য সরকার ও সাধারণ মানুষ মনে করে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যের সম্প্রসারণ করা গেলে রাজ্যটি ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে এবং রাজ্যের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটবে।

মিজোরামের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতের মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন রাজ্যে অধ্যয়ন করতে হলে তাদের জন্য যাতায়াত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তারা তাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় এবং কারিগরি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতা তাদের উচ্চশিক্ষার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

মিজোরামের সাধারণ মানুষ মনে করে তারা ভারতের মূল ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী হতে ধর্ম, ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির দিক হতে সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র। আর এ কারণেই তারা উপেক্ষিত, অবহেলিত এবং অনগ্রসর। দীর্ঘদিনের উপেক্ষা ও অবহেলার কারণে তাদের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে তারা এর দ্রুত উপসম চায়। অন্যথায় তারা মনে করে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ তাদের নিজেদেরই বেছে নিতে হবে।

 


আরও খবর



লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রণোদনার সার-বীজ নিয়ে কর্মকর্তাদের নয়-ছয়

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি::


আমন ধান উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎসাহের সাথে ফলনের জন্যে বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে সার-বীজ কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিতরণ করে থাকেন। কিন্ত লক্ষ্মীপুরের কমলনগর কৃষি অফিস সেই সার-বীজ নিয়ে নয়-ছয় করছে।

জানা যায়, ৭ নং হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন কৃষি অফিস থেকে মোট ৫৫ জনের একটি তালিকা পেয়েছেন। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকেই প্রণোদনা পাননি। তালিকাভূক্ত ১নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ উল্যাহ অভিযোগ করেন তার নাম থাকলেও তিনি কোন সার-বীজ পাননি।পরে তিনি অফিসে গিয়ে তালিকা চেক করলে জানতে পারেন অন্য একজন স্বাক্ষর দিযে তার সার-বীজ নিযে গেছে।

একই এলাকার হেলাল উদ্দিন বলেন, তালিকায় নাম থাকলেও দেয়া হয় না সঠিকভাবে সার-বীজ এবং তিনিও পাননি। ১৪ জুলাই ২০২৪, সকালে অফিসে গেলে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আসিফ রেজা জানান, আপনাদের বরাদ্দকৃত প্রণোদনা শেষ হয়ে গেছে, আবার আসলে পাবেন। 

পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে, আরেক উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আরিফ সহ তালিকা চেক করলে দেখা যায়, প্রণোদনার সার-বীজ মজুদ না থাকলেও, স্বাক্ষর দেয়ার জায়গা খালি রয়েছে। নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কিছুদিন আগে আমি এবং স্বপন নামে একজন লাইনে দাড়িয়ে দেখতে স্বপনের নামের পাশে কৃষি অফিসার আসিফ রেজা নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। কিছুক্ষণ পরে স্বপন প্রণোদনার সার-বীজ চাইলে তাৎক্ষণিক তিনি বলেন আপনি এইমাত্রই নিয়েছেন। পরে আমি আসিফ রেজাকে বললাম, উনি নেননি, আপনিতো নিজেই এখন তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন।

অভিযুক্ত অফিসার আসিফ রেজার কাছে এসব বিষয় সম্পর্কে চানতে চাইলে, তিনি বলেন- কেউ একজন স্বাক্ষর দিয়ে মোহাম্মদ উল্যাহর প্রণোদনার সার-বীজ উত্তোলন করে নিয়ে গেছে, হেলাল উদ্দিনের বিষয়ে বলেন, অসুবিধা নাই উনাকে সার-বীজ ব্যবস্থা করে দিবো। তালিকার স্বাক্ষর না থাকা, সার-বীজ নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, তিনি এ বিষয়ে কোন যথাযথ কোন উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শাহীন রানার কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন- যদি কোন কারণে কৃষক সার-বীজ না পেয়ে থাকে দবে পেয়ে যাবে। অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি কোন যথাযথ উত্তর দেননি। 

আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নানিয়ারচর জোন

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

উচিংছা রাখাইন, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটিতে ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসত ঘর নির্মাণের জন্য টিন এবং গৃহপালিত পশু (ছাগল) বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নানিয়ারচর জোন।

নানিয়ারচর সেনাজোন (১০ বীর) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ''সম্প্রীতি ও উন্নয়ন" প্রকল্পের আওতায় ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসত ঘর নির্মাণের জন্য টিন,নির্মানে সাহায্য এবং গরীব ও অসহায় দুইটি পরিবারের মাঝে গৃহপালিত পশু (ছাগল) বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

দেখাগেছে  ইসলামপুর  এলাকার অসহায় রাজিয়া বেগমের রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত বসত ঘর পুণঃনির্মাণ করে দেওয়া হয় এবং সেই সাথে কুতুকছড়ি এলাকার রফিক উদ্দিন ও সুজন চাকমাকে পারিবারিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সহায়তা স্বরুপ ছাগল প্রদান করা হয়েছে।


জোন অধিনায়ক  বিএ-৭৫৯৭ লেঃ কর্ণেল  তামজিদুর রহমান চৌধুরী(পিএসসি) তিনি নিজেই পরিবারের মাঝে স্বাবলম্বী করতে গৃহ নির্মানে সহযোগিতা এবং টিন,গৃহপালিত পশু বিতরণ করেন। 

তিনি এসময়  বলেন,বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা নানিয়ারচর জোন, তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে চলেছে। নানিয়ারচরে সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত এমন কর্মসূচিতে, স্থানীয় সকল স্তরের জনগণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। 


আরও খবর



আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস রিপোর্ট:


আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস । বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।



বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য–‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উপাত্ত ব্যবহার করি, সাম্যতার ভিত্তিতে টেকসই ও সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি’।



বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।



বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।



দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বর্তমানে দেশে জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। জাতীয় উন্নয়নে নারীদের অধিক হারে সম্পৃক্ত করতে হবে।



 এছাড়া জেন্ডার সমতা অর্থাৎ নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, সুস্থ-সবল জাতি গঠনের জন্য মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কর্মসূচির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে নারী ও কন্যাশিশুর অপার সম্ভাবনাসমূহ কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।


তিনি বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব, কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্য, নারী শিক্ষা ও নারী কর্মসংস্থানের জন্য নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। 



আমরা ১৮ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছি। এর ফলে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।



আরও খবর



ভূমধ্যসাগরে নিহত ১০, বাংলাদেশিসহ জীবিত উদ্ধার ৫১

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

লিবিয়ার জোয়ারা উপকূল থেকে ৬১ জন অভিবাসী নিয়ে যাত্রা করা একটি কাঠের নৌকা থেকে ১০ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকাটিতে গ্যাসোলিনের ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। জার্মান এনজিও রেসকিউশিপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জার্মান দাতব্য সংস্থা রিসকিউশিপ জানিয়েছে, ল্যাম্পেডুসা দ্বীপের কাছে তারা একটি ডুবন্ত কাঠের নৌকা থেকে ৫১ জনকে উদ্ধার করেছেন। এ সময় নৌকার নীচের ডেকে ১০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সংস্থাটি বলছে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সোমবার সকালে ইতালীয় কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের তীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে মৃতদের ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, নৌকাটি লিবিয়া থেকে যাত্রা করেছিল। এতে সিরিয়া, মিসর, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অভিবাসীরা ছিলেন। তবে কোন দেশের কত যাত্রী ছিলেন, তা জানানো হয়নি।

একই দিনে পৃথক আরেক নৌকাডুবির ঘটনায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬ জনের মতো শিশু রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ ইতালির ক্যালাব্রিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ১২৫ মাইল দূরে এই ঘটনা ঘটে। মেডেসিনস সানস ফ্রন্টিয়েরস (এমএসএফ) নামে একটি সংগঠন এই তথ্য জানিয়েছে।

এই ঘটনায় ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের সবাইকে তীরে নেয়ার পর একজন মারা যান বলে জানিয়েছে ইতালীয় কোস্টগার্ড।

ভূমধ্যসাগর বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাইগ্রেশন রুট হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২০১৪ সাল থেকে এই রুটে ২৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি অভিবাসী মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে।


আরও খবর



খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করলে যে কোনো পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image


বিডি টুডেস  ডেস্ক:


খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করলে যে কোনো পরিণতির জন্য তৈরি থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।



 তিনি বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন, অন্যথায় আপনাদের যে কোনো পরিণতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। দেশের মানুষ তাকে অন্যায়ভাবে বন্দি অবস্থায় থাকতে দেবে না।


শনিবার (২৯ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।



খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের প্রতীক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল অন্যান্য দলের প্রতি আহ্বান জানান, আসুন গণতন্ত্রকে রক্ষায় যেভাবে এক হয়ে, যুগপৎ আন্দোলন আমরা করেছি, একইভাবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন করি। তরুণদের প্রতি আহ্বান, তোমাদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ, দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ।


তিনি বলেন, বাংলাদেশে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনের জন্য আজ আমাদের ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের ৭০০ জনের বেশি মানুষকে গুম করা হয়েছে।



 কয়েক হাজার মানুষকে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে। ৪ হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। বহু নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলায় জেল খাটছে।



তিনি আরও বলেন, এর উদ্দেশ্য একটাই, দেশের গণতন্ত্রকামী তরুণদের, গণতন্ত্রকামী মানুষদের আটক-গ্রেপ্তার করে, নির্যাতন করে, গুম করে দিয়ে গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য বিদায় করতে চায়। তা তারা করেছেও, গোটা দেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন।


রাজপথে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভয়ে মারা যাওয়ার মধ্যে কোনো সার্থকতা নেই। সাহস করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 



এ কথা বারবার বলতে হচ্ছে- কারণ পরিবর্তন যে আসে তা শুধুমাত্র আমাদের মতো বয়স্কদের দ্বারা আসে না। পরিবর্তন আসে তরুণ-যুবকদের মাধ্যমে।


সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার একটি দখলদার সরকার। এরা জনগণের ম্যান্ডেট পায়নি। একদিকে তারা রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে, আরেকদিকে অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। 



তারা ব্যাংক লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। মানুষ চিকিৎসা পায় না। শিক্ষাও ধংসের দিকে নিয়ে গেছে।


সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, কেউ চিন্তাও করতে পারে না, সেনাবাহিনীর প্রধান- তিনি আজ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খবর বের হয়ে আসছে। 



আজ অবিশ্বাস্য লাগে, পুলিশ বাহিনীর প্রধান নাকি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক! আরও বড় বড় রাখব বোয়াল যারা আছে, চোরের হোতা, তাদের ধরা হচ্ছে না।


আরও খবর