Logo
শিরোনাম

মোংলায় বিশ্বের দীর্ঘতম বিলাসবহুল রিভার ক্রুজ ‘গঙ্গা বিলাস

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ |

Image

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি :                 

ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে বাংলাদেশ হয়ে আসাম পর্যন্ত ৩২০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দেয়া বিশ্বের দীর্ঘতম বিলাসবহুল রিভার ক্রুজ ‘গঙ্গা বিলাস’ দুপুরে মোংলায় এসে পৌঁছেছে। গত ১৩ জানুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্ধোধনের ২২ দিন পর সুন্দরবনের আংন্টিহারা রুট দিয়ে মোংলায় এসেছে প্রমোদ তরীটি। বিলাসবহুল রিভার ক্রুজটি আজ শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ২ টা নাগাদ মোংলা বন্দর জেটিতে নোঙ্গর করলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদেশী পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চেীধুরী। এসময়ে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রনয় ভার্মা,  নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক সহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩২০০ কিলোমিটার নৌপথে ৫০ দিনের যাত্রায় বিলাসবহুল রিভার ক্রুজ গঙ্গা বিলাসের পর্যটকরা দুই দেশের ২৭টি নদ-নদী পাড়ি দিয়ে ৫০টি ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও বিশ্বঐতিহ্য স্থান (ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড) ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। দৈর্ঘ্য ৬২.৫ মিটার এবং প্রস্থ ১২.৮ মিটার ও ১.৩৫ মিটার ড্রাফটের প্রমোদ তরীটিতে ১৮টি অত্যাধুনিক স্যুইটসহ একসাথে ৮০ জন পর্যটককের ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। রেস্টুরেন্ট, স্পা, সুইমিংপুল, সানডেকের ব্যবস্থাসহ রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের সব রকম সুযোগ-সুবিধা। উদ্ধোধনী যাত্রায় সুইস ও জার্মানসহ ৩০ জন পর্যটক নিয়ে মোংলায় এসেছে প্রমোদতরী গঙ্গা বিলাস।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌপথ অতিক্রম ও বানিজ্য প্রটোকল চুক্তির আওতায় বিশ্বের দীর্ঘতম বিলাসবহুল রিভার ক্রুজ গঙ্গা বিলাস প্রমোদতরীটি বাংলাদেশের সুন্দরবনের আংন্টিহারা- বাগেরহাট- বরিশাল- আরিচা- সিরাজগঞ্জ- দৈখাওয়া নৌপথ অতিক্রম করে ভারতের আসামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


আরও খবর



ঢাবি শিক্ষকদের কর্মবিরতি চলছে

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বৈষম্যমূলক পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তিন দিনের অর্ধবেলা কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন চলছে।

বুধবার কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে শিক্ষকরা তাদের নিয়মিত কার্যক্রম থেকে বিরতি নেন। এদিন কোনো ক্লাস হয়নি। তবে পরীক্ষা থাকলে তা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন অর্ধবেলা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, তিন দিনব্যাপী চলমান এ কর্মসূচিতে পরীক্ষা আওতামুক্ত থাকবে। তবে ক্লাস নেওয়া হবে না। কোনো শিক্ষক তাদের অফিসে যাবেন না, স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে বিরতি নেবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, দ্বিতীয় দিনও আমরা আমাদের অর্থবেলা কর্মবিরতি জারি রেখেছি এবং ক্লাসগুলো নেওয়া হচ্ছে না। পরীক্ষা যদিও এসব থেকে মুক্ত। এছাড়া পূর্বঘোষিত কর্মসূচির ভিত্তিতে আমরা আজও অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। এতে কোনো ব্যতয় ঘটবে না। দাবি অনাদায়ে ৩০ তারিখ আমরা পূর্ণবেলা ও ১ তারিখ থেকে যতদিন পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততদিন সম্পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাবেন শিক্ষকরা। এতে পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত হবে।


আরও খবর



শেখ হাসিনাকে `ইকেবানা’ উপহার পাঠালেন বাবা হারানো জাপানি কন্যা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

রোকসানা মনোয়ার :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ’ইকেবানা’ উপহার পাঠিয়েছেন ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জাপানি নাগরিক হিরোশি তানাকার মেয়ে আতসুকো তানাকা।

বৃহস্পতিবার (জুলাই ০৪) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এই উপহার গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এই উপহার এবং আতসুকো তানাকার একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেন।

’ইকেবানা’ হলো ফুল, পাতা, শাখা- প্রশাখার নান্দনিক ও শৈল্পিক উপস্থাপন। সৌন্দর্যের পাশাপাশি জাপানিজ এ শিল্পকলার পেছনে লুকিয়ে থাকে দার্শনিক ভাবধারা।

গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা চিঠিতে আতসুকো তানাকা লেখেন, এই উপহারটি (ইকেবানা) তার মা নিজের হাতে তৈরি করেছেন। এই উপহারটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার প্রতিক।


উপহারের ফুল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য প্রশান্তি নিয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হোলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানের, ১ জন ভারতীয় এবং ৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত। তিন বাংলাদেশির একজনের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। জঙ্গিদের গুলিতে সেদিন দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হয়েছিলেন।


জাপানি নাগরিকের মধ্যে ৬ জনই ছিলেন ঢাকার মেট্রো রেল প্রকল্পের পরামর্শক। আতসুকো তানাকার বাবা হিরোশি তানাকা তাদেরই একজন।


এছাড়া পরবর্তীতে হোলি আর্টিজানে জিম্মিদের উদ্ধারে পরিচালিত কমান্ডো অভিযানে ৫ জঙ্গি নিহত হয়।


আতসুকো তানাকা তার চিঠির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং চলতি বছরের শুরুতে টানা চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান।


গেল নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিজয় প্রসঙ্গে আতসুকো বলেন, আপনার এই অর্জন আপনার নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার ‘ভিশনের’ ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থা প্রমাণ।


গত ৩ জুলাই ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় যোগ দিতে ঢাকায় এসেছেন উল্লেখ করেন তানাকা।


আতসুকো তানাকা ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফরের সময় তার সঙ্গে সাক্ষাত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন কথা স্মরণ করেন।


আতসুকো বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) যে চিঠি পাঠিয়েছেন সে চিঠি আমার হৃদয়ের ক্ষত নিবারণের অনেক বড় উৎস।


আতসুকো তানাকা বলেন, তার মা একজন পেশাদার শিল্পী এবং তিনি নিজের হাতে এটি (ইকেবানা) বানিয়েছেন।


ফুলের এই উপহারটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য প্রশান্তি দিবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই উপহারটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তার কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার প্রতিক (টোকেন)।

বাংলাদেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কামনা করেন তানাকা।

আতসুকো বাংলাদেশে ‘শান্তির শিক্ষা’ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাইকা বাংলাদেশ অফিসে এক সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশ কিভাবে পাঠ্য কারিকুলামে ‘শান্তি শিক্ষা’ সংযুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে।

কারিকুলামের এই শান্তি শিক্ষাকে সক্রিয় ভাবে প্রসারে মি. ইচিগুচি একটি শান্তি রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করার পরামর্শ দেন বলে জানান আতসুকো তানাকা।

তানাকা বলেন, পুরস্কার বিজয়ী প্রবন্ধ ঢাকা মেট্রোতে প্রদর্শন করা হবে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শান্তির বিষয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সমাজ সেবাতেও উৎসাহিত করবে।

তানাকা আরও বলেন, ঢাকা মেট্রোতে প্রদর্শিত এই প্রবন্ধ তার বাবার মতো হোলি আর্টিজানে যারা নিহত হয়েছেন তাদের আত্মাকে প্রশান্তি দিবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল চেষ্টায় সফলতা কামনা করে চিঠি শেষ করেন আতসুকো।


আরও খবর



প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন‌

চাঁদপুরের বহু সূর্যসন্তান বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন‌

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

কামরুজ্জামান টুটুল,চাঁদপুর থেকে :

চাঁদপুরের অনেক সূর্য সন্তান তাদের।কর্মগুনে সারা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন ও   চাঁদপুরকে আলোকিত করেছেন। তাদের মধ্যে অসংখ্য নারী ও রয়েছেন। এমন সব আলোকিত নারীদের জীবন-ও কর্ম নিয়ে যিনি গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রন্থ রচনা করেছেন এজন্য লেখককে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। 

 ‌'সংগ্রামে-অর্জনের চাঁদপুরে নারীগণ' গ্রন্থটিতে যে ২৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,‌ আমি মনে করি এই সম্মান তাদের প্রাপ্য। আশিক বিন রহিমের লেখা 'সংগ্রামে-অর্জনে চাঁদপুরের নারীগণ'" গ্রন্থের পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সাহিত্য মঞ্চ ও আপনের যৌথ আয়োজনে ৬ জুলাই বিকেল ৪টায় চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমী মিলনায়তনে এ পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  এসব কথা বলেন,  সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন‌।

এ সময় সভায় অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন করেন, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, কণ্ঠ সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণা সাহা, চাঁদপুর উইমেন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মুনিরা আক্তার ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরাইয়া তালুকদার। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রবন্ধিক ও‌ গবেষক ড. সরকার আবদুল মান্নান।


অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম, কবি ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। আপনের সভাপতি রোটারিয়ান ডা. রাশেদা আক্তারের সভাপ্রধানে ও সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি মাইনুল ইসলাম মানিকের সঞ্চালনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, আপনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সহ-সভাপতি রোটারিয়ান আশরাফুল আরিফ, কবি ও নাট্যকার জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, কবি সুমন কুমার দত্ত প্রমুখ।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কবি আব্দুল্লা-হিল কাফি, নজরুল গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি, লেখক আশিক বিন রহিমের বড় ভাই আলী আকবর শেখ, চাঁদপুর লেখক পরিষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, চাঁদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন, কবি ও লেখক কবির হোসেন মিজি, কবি জাহিদ নয়ন, কবি আবু হানিফ, বাংলাদেশের ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য  হোসেন মীর, প্রকৌশলী নেছার পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, আপনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিত্তুল মোনা চৈতি, সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন মুন্সী, সাহিত্য মঞ্চে সদস্য সদস্য তৈয়বসহ অন্যান্য লেখক ও সাহিত্যকর্মীবৃন্দ। ‌


এছাড়া এদিন প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, বেলা ১২ টায় হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির প্রায় শতাধিক শ্রমজীবীদের মাঝে রেইনকোট বিতরণ করেন এবং হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের আহম্মদপুর এতিমখানায় কোরআনে হাফেজদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন।


আরও খবর



প্রাথমিকে বড় পরিসরে 'মিড-ডে মিল' চালু করতে যাচ্ছে সরকার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:


শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমানোর লক্ষ্যে দুই বছর পর আবারও মিড-ডে মিল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। 


এবার আরও বড় পরিসরে, ১৫০টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হতে যাচ্ছে এ স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। আগামী আগস্ট মাসের শুরু থেকেই প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা আছে বলে জানা গেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে।


মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার ১৯ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৭ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য তিন বছর মেয়াদে এ প্রকল্প চালু হবে।



 প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। প্রাক্কলিত এ ব্যয়ের মধ্যে ৪ হাজার ১৮১ কোটি টাকা ব্যয় হবে খাদ্য সংগ্রহ খাতে। আর বাকি অর্থ ব্যয় হবে ঠিকাদার, পরিবহন, সার্ভিস চার্জ, খাদ্য বিতরণ ও প্যাকেজিং খাতে। প্রকল্পটি সফল হলে সারা দেশের স্কুলগুলোতেই এই মিড-ডে মিল চালু করা হবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নিজে তার বাজেট বক্তৃতায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির কথা বলেছেন।



 শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকায় প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশনও ইঙ্গিত দিয়েছে।


প্রসঙ্গত, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ফিডিং প্রকল্প পরিচালনা করে। এরপর ২০১০ সালে ১০৪টি দারিদ্র্যপ্রবণ উপজেলায় ১৫ হাজার ৩০০টিরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম চালু হয়েছিল। 



এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে ফর্টিফায়েড বিস্কুট এবং তিন উপজেলার শিক্ষার্থীদের গরম খাবার বিতরণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত চলে। মাঝে ২০২০ সালের আগস্টে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে পাঁচ বছর মেয়াদে খাবার বিতরণের জন্য ১৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।



 তবে মিড ডে মিলের খিচুড়ি বানানো শিখতে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলে প্রকল্পটি আর অনুমোদন পায়নি একনেক সভায়।


এ ব্যাপারে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছিলেন, প্রকল্পটির কাঠামো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। স্কুলে খিচুড়ি রান্না করলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছিলেন তিনি। 



আর প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, গরম খাবার সরবরাহ করা তাদের পক্ষে কঠিন হবে কারণ এতে লোকবল এবং রান্নার জন্য জায়গা প্রয়োজন।


এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া নতুন এই কর্মসূচিতে সরকার শুধু ফর্টিফায়েড বিস্কুটই নয়, মৌসুমি ফল, কলা, ডিম ও রুটিও সরবরাহ করবে। 



এ ছাড়া জুলাই মাসে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সমান্তরাল আরেকটি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।


উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ২০১৮ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মিড-ডে মিল কর্মসূচির ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।


আরও খবর



সুবর্ণচরে ৭০০ একর খাস জমি দখলের অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image
 নোয়াখালী প্রতিনিধি::

নোয়াখালী সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষী,উরিরচর ও চর নোমান মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের প্রায় ৭ শত একর খাসজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। ভূমিহীন কৃষকদের ফসল নষ্ট করে এরই মধ্যে তারা এক সাথে প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুর খননের কাজ চালাচ্ছে।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চরলক্ষী,উরিরচর ও চর নোমান মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের প্রায় ৭শত একর খাসজমি ৫শতাধিক ভূমিহীন কৃষকের দখলে চাষাবাদ হতো। ২০১৪ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) সমুদ্র গবেষণার জন্য ৪০০ একর খাসজমি সরকারের কাছে বরাদ্দ চায়। ওই প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে। এরপর থেকে ওই খাসজমিতে শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ইউনিস্টিটিউট স্থাপনে ১৫০ একর খাসজমি বন্ধোবস্ত প্রক্রিয়াধীন। নোবিপ্রবির প্রস্তাবিত জায়গায় বাহিরে ৫শত ভূমিহীন পরিবার সেই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলো। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে একটি প্রভাবশালী মহল  ভূমিহীনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুরো ৭শ একর জায়গা জুড়ে অবৈধভাবে দখলের মহোৎসবে মেতে উঠে। সেখানে নোবিপ্রবির প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ইউনিস্টিটিউট সাউনবোর্ড থাকলেও সেটির তোয়াক্কা না করে কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও তাদের লোকজন খাসজমি দখল করে প্রজেক্ট করার জন্য ভেকু মেশিন দিয়ে দিনরাত মাঠি কেটে যাচ্ছে। অভিযুক্ত দুই ইউপি চেয়ারম্যান সুবর্ণচর উপজেলার দুই শীর্ষ জনপ্রতিনিধির আস্থাভাজন অনুসারী হিসেবে পরিচিত।    

গত মঙ্গলবার ৯ জুলাই দুপুরের দিকে ভূমিদস্যুদের এমন একচেটিয়া দখল ও হুমিকর প্রতিবাদে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে উপজেলার  চরলক্ষী গ্রামে প্রতিবাদ মিছিল করে ভূমিহীন নদী ভাঙ্গা প্রায় শতাধিক মানুষ।

এলাকবাসী ও ভূমিহীনরা অভিযোগ করে বলেন, জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ দুই সপ্তাহ ধরে ৩০ থেকে ৪০ টি ভেকু মেশিন দিয়ে ৭শত একর জায়গা জুড়ে প্রজেক্ট করার  কাজ শুরু করে। তাদের দাবি শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হলে তাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সেটি না করে এতো বিশাল সরকারি খাসজমি ২/৪ জন লোক গিলে খাবে, সেটি কি করে হয়। 

প্রতিবাদ সামবেশে ভূমিহীনরা অভিযোগ করে আরও বলেন, দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করছেন।  সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচন শেষ হবার পর একটি মহল তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সকল ঘরবাড়ী ভেঙ্গে উচ্ছেদ করে দেয়। এরপর ১শ একরের মত জায়গায় তাদের রোপন করা শিম,শসা, কচুসহ নানা প্রজাতির সবজি ও মাছের ঘের ধ্বংস করে দেয়। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল কোম্পানী খাসজমি দখলের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এ জায়গার মালিক শাহজাহান নামে এক প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আমাকে পাওয়ার দিয়েছেন জায়গাটি দেখাশোনার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা হলে তারা কাগজ থাকলে জায়গা নিয়ে যাবে। তাদের জায়গা কেউ ধরে রাখতে পারবেনা।     

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু্ল কালাম আজাদ আমি জমি দখলের সাথে জড়িত নেই। তবে এটা আমাদের নৌকা মার্কার প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল আমরা জনগণের জমি জনগণকে বুঝিয়ে দেব। আগে এসব জায়গা তাদের লোকজনের ছিল বলেও দাবি করেন সাবেক এ চেয়ারম্যান।    

সুবর্ণচর উপজেলা কমিশনার (ভূমি) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, অবৈধ দখলের অভিযোগ পেয়ে দুই দফা অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ১১টি মাঠি কাটার ভেকু মেশিন জব্দ করে কয়েকটি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড এবং লাল পতাকা উত্তোলন করে দেওয় হয়। একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. দিদার-উল-আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।     

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. দিদার-উল-আলম বলেন, ওই জায়গা শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ইনস্টিটিউটের প্রস্তাবিত স্থান। ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত ভূমিতে অবৈধভাবে কোনরুপ স্থাপনা নির্মাণসহ অবৈধভাবে দখল আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। উক্ত জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ভূমিহীনদের বিনা নোটিশে তাড়িয়ে দেওয়া অমানবিক। ভূমিহীনদের পুর্নবাসন না করে কোন কিছু করা ঠিকনা। এত কিছু থাকার পরও যারা খাসজমি দখল চায় তারা মানসিক ভাবে অসুস্থ।   

আরও খবর