Logo
শিরোনাম

মোরেলগঞ্জে ইচ্ছামাফিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

এম. পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইচ্ছামাফিক স্কুলে যাচ্ছেন ৩ শিক্ষক। সরকারি নির্দেশনা সময়সূচির কোন তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছায় স্কুলে হাজিরা দিয়ে দিন পার করছেন। সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের কর্মকর্তার নেই তদারকি। স্কুল ভবনে প্রাক-প্রাথমিকের একই শিক্ষার্থীরা গণশিক্ষাকেন্দ্রে পাঠদান নিতে দেখা গেছে।

রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, উপজেলার মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ১১৯ নং মধ্য বিশারীঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সময়সূচি সকাল ৯টায় থেকে ৪ টা পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকল শিক্ষকের উপস্থিতির কথা থাকলেও চিত্র রয়েছে ভিন্ন। শিক্ষার্থীরা হৈ-চৈ করে বাহিরে সময় পার করছেন। বিদ্যালয়ে কর্মরত ৬ জন শিক্ষক থাকলেও প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন আক্তার, সহকারি শিক্ষক ইসরাত জাহান ও স্বপ্না রানী দাস যথাসময়ে উপস্থিত হলেও সহকারি শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসি, মো. অহিদুর রহমান ও বৃত্তি রানী বল ৩ শিক্ষক পর্যায়ক্রমে ঘন্টাব্যাপী ব্যবধানে বিদ্যালয়ে হাজিরা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন প্রতিদিন ক্লাশ বসছে ১০ টায়। প্রধান শিক্ষক বলছেন সোয়া ৯টায়। নির্দিষ্ট সময়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেনীকক্ষে ২-৪ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও অন্য একটি শ্রেনীকক্ষ দেখা গেছে ফাঁকা। বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১৮৫ জন।


শিক্ষার মানন্নোয়নে সরকারিভাবে উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষুদ্র মেরামত, স্লিপের টাকা, রুটিন ম্যানটেনেন্সসহ বিভিন্ন বরাদ্দ পেলেও সে অর্থ বরাদ্দ যথাযথ ব্যয় না করারও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রম ব্যবহৃত ল্যাপটবটি রয়েছে সহকারি শিক্ষক অহিদুর রহমানের বাড়িতে। প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসি অভিযোগ তুলেছেন এ বিদ্যালয়ের ২য় তলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গনশিক্ষা কেন্দ্রের ক্লাশ চলছে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তার শিক্ষার্থীরা। ওই শিশুদের পাঠদান শেষ হয় ১০ টায়। তারপরে শুরু হয় প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাশ এ কারনেই তিনি দেরি করে আসেন বিদ্যালয়ে। প্রাক ও গনশিক্ষা কেন্দ্রের একই ছাত্রের বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে বলেও সুরহা হয়নি বলে অভিযোগ ওই সহকারি শিক্ষকের। বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ঝুলানো থাকলেও নেই কার্যক্রম। ক্রয়কৃত মেশিনের অর্থ গেছে ভেস্তে।

এ সর্ম্পকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত সোয়া ৯টায় ক্লাশ শুরু হয়।  শিশু শিক্ষার্থীরা ভুল করে ১০ টার কথা বলেছেন। আজ একটু দেরি হয়েছে। পরবর্তীতে এ রকম থাকবে না। তার প্রাকের শিক্ষার্থীদের গনশিক্ষা কেন্দ্রে ছাত্র দেখানো হয়েছে সে বিষয়টিও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা সময়সূচি না মেনে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিলম্বের হাজিরা বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 


আরও খবর

বিশ্বজয় করে দেশে ফিরল ক্ষুদে হাফেজ

শুক্রবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২




৭ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে চার দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ও নয়াদিল্লীর মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে  সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়।

এগুলো হলো- অভিন্ন সীমান্ত নদী কুশিয়ারা থেকে ভারত ও বাংলাদেশের পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে ভারত সরকারের জল শক্তি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, ভারতে বাংলাদেশের রেলওয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে ভারতের রেল মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের রেলওয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য এফওআইএস ও অন্যান্য আইটি এপ্লিকেশনের মতো আইটি সিস্টেমে সহযোগিতার জন্য ভারতের রেল মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের রেলওয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক।

অন্যান্য সমঝোতা স্মারকগুলো হচ্ছে- ভারতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচির বিষয়ে ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের কাউন্সিল ফর সাইন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) ও বাংলাদেশের কাউন্সিল অব সাইন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্টিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর) এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক, মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক এবং প্রসার ভারতী ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)’র মধ্যে সম্প্রচার সহযোগিতা সংক্রান্ত স্মারক।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাদের মধ্যকার আলোচনায় নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে সহযোগিতা, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বন্টন, রোহিঙ্গা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মাদক ও মানবপাচার মোকাবিলার মতো পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়।

সূত্র : বাসস


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




দিল্লিতে আমাদের নামও পরিবর্তন করতে হয়েছিল' -শেখ রেহানা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

সেই সময়ে আমাদের পরিবার...

সকাল বেলায় আব্বা বাইরে থেকে মর্নিং ওয়াক করে আসতেন। আমাদের ৩২ নম্বরের যে বারান্দাটা আমরা ওখানে, আব্বা ইজি চেয়ারে আর সব মোড়ায়। টোস্ট বিস্কুট চা নিয়ে আমরা সবাই খবরের কাগজ পড়ে যার যার স্কুল-কলেজে যেতাম। এই জিনিসটা আমরা ওই যে একটা পরিবেশের মধ্যে বড় হওয়া। ওখান থেকে আর বের হইনি। কামাল ভাইয়ের সবচেয়ে প্রিয় ছিলাম আমি। মায়েরও। শেকড়টা আমরা ভুলব না। আমাদের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া। আমি যে একটা গ্রামের মেয়ে সেটি বলতে খুব গর্ববোধ করি।


গণভবন প্রসঙ্গ...

গণভবনটাও আমাদের অনেক স্মৃতির। আমরা থাকিনি এখানে। আমরা কোনো ভাইবোনই সেখানে থাকতে চাইনি। জানি না থাকলে অন্যদিক থেকে ভালো হতো কী খারাপ হতো। মা থাকতে চাননি ৩২ নম্বরের বাড়ি রেখে। কামাল ভাই থাকবে না। আপা থাকবে না। আমি না। জামাল, রাসেল না। আব্বা বলতেন যে, তোমরা থাকবে না। তাহলে আমি কেন শুধু এখানে থাকব?

দাদার নাতবউ...

আমার দাদার খুব শখ ছিল নাতির বউ দেখবে। কামাল ভাই তখন যুদ্ধ থেকে এলেন। আমরা খুকী আপার ভক্ত ছিলাম। মেঝো ভাইয়ের রুমে বিশাল একটা ছবি ছিল স্পোর্টসের। ওরা একসঙ্গে প্র্যাকটিস করত। মাকে বললাম। মা বলল, হ্যাঁ, ঘরের বউ খেলবে লোকে কী বলবে। তো মা চুপচাপ। আমরা কয়েক ভাইবোন তাকে বললাম, মা এত ভালো একটা বউ। তুমি যার কাছ থেকেই নাও, এ মেয়ে কিন্তু পাবে না। মা বলল, কামাল কী বলে। কামাল যদি বলে তাহলে আমি রাজি। বললাম, তবে মা। বিয়ের পর কিন্তু খেলতে দিতে হবে। তখন বলতে পারবে না, ঘরের বউ খেলতে পারবে না। বলছে না, বলব না।

বেলজিয়াম-জার্মানি...


মাকে বললাম- মা, আপা (জার্মানি) যাবে জয় পুতুলকে নিয়ে কষ্ট হবে। আমি গেলে একটু সাহায্য হবে। মা আব্বাকে বলল, ঠিক আছে ও যাক হাসুর সঙ্গে। ক'দিন পর চলে আসবে। এই আমাদের যাওয়া। ১৪ আগস্ট রাতে ক্যান্ডল লাইট ডিনার। ব্রাসেলসে এই বয়সে ক্যান্ডল লাইট ডিনার। মেয়েরা সব আমার বয়সী, আমরা খুব হাসাহাসি গল্প। দুলাভাই এসে আমাদের খুব বকলেন। যে কান্না আছে। এত হাসি। বললাম, আপনি ঘুমাতে পারেন না। উনি যত বকে আমরা তত হাসি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মানুষের যে পরিবর্তন। ক্যান্ডল লাইট ডিনার থেকে আমাদের বের করে দেয় এ রকম অবস্থা।

আপা ভাবছে আমি জানি না। আমি ভাবছি আপা জানে না। জানি তো দু'জনেই। বাংলাদেশে বাঙালিরা আমার বাবাকে মারবে, এটা তো ধারণারও বাইরে ছিল। ৩২ নম্বরে হৈচৈ, একটা পলিটিক্যাল বাড়ি। টুঙ্গিপাড়ায় ওই আমাদের দাদাবাড়ি আর সেখানে ছোট্ট একটা বাসার মধ্যে দুইটি রুম। ওখানে গিয়ে তো দুই বোন একটা কিসের মধ্যে পড়লাম আমরা। কিচ্ছু বুঝি না। কিচ্ছু করি না। কী খাব। কই যাব। আল্লাহর একটা রহম আমাদের ওপর যে, আমাদের পাগল বানিয়ে রাস্তায় ফেলেনি। আপা কান্নাকাটি করে এই পাশে, আমি ওই পাশে। দুটি বাচ্চা জয়-পুতুলই ছিল আমাদের সান্ত্বনা।


দিল্লিতে...


আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম যে, একটা সাইকেলের ওপর চারটা গ্যাস সিলিন্ডার। একটা মোটরসাইকেলের ওপর সামনে একটা বাচ্চা, হাসবেন্ড-ওয়াইফ, আরেকটা বাচ্চা। তারপর ব্রিফকেস একটা। জানালা দিয়ে ওই বসে বসে দেখতাম। আরেকটা কথা কখনও বলিনি। ৪০ বছর হয়ে গেছে, এখন বলা যায়। দিল্লি থাকাকালীন আমাদের নামও পরিবর্তন করতে হয়েছে। মিস্টার তালুকদার, মিসেস তালুকদার, মিস তালুকদার আশপাশে যেন কেউ না জানে। আমি বলি, এটা কী ব্যাপার। দেশ ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, বাপ-মা ছাড়া। আবার নামও বদলাব? দরকার নাই আমি থাকব না এখানে। কিন্তু তখন উপায় নাই তো। সবসময় রাগ-অভিমান আর হুট করে কোনোকিছু করা যায় না। মানে দিন কাটে না, রাত কাটে না। আমার খোকা চাচা লন্ডন থেকে চিঠি লিখতেন। চিঠি আসতে লাগত এক সপ্তাহ। আমরা দুটি বোন জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম পোস্টম্যান কখন আসবে। চাচার চিঠিগুলো পড়ব।

আপা লিখতেন বসে বসে। আজকে চিনি অতটুকু, বিস্কুট অতটুকু, সুজি অতটুক। ওপর পাশেই আমার লেখা। আল্লাহ তুমি কেন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছো জানি না। কিন্তু এই খুনিদের ধরব, বিচার করব ইনশাল্লাহ। তারিখ দিয়ে লেখা। তো আপা সেদিন আমাদের দেখালেন। এই দেখো।

মা-আপা...


বাংলাদেশের জনগণ যেখানে যে আছে। নির্যাতিত-নিপীড়িত দুঃখী মানুষ। তারা তো বঙ্গবন্ধুকে, তার অভাবটাকে দেখতে পাচ্ছে। আমরা বাবা হিসেবে পাচ্ছি। আমাদের তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে মা চলে যাওয়াতে। আপা (হাসিনা) ইউনিভার্সিটিতে যাবেন, কোন শাড়ি পরবেন- সেটা মা রেডি করে দিত। এসে খাবার ফাঁকি দিয়ে ঘুম। আমি শুধু চিন্তা করি, মাকে যদি বলতে পারতাম যে, মা তোমার হাসু এখন আর আলসেখানায় থাকে না। মাকে না বলা পর্যন্ত আমাদের শান্তি নেই। এখন আমার মনে হয় দৌড় দিয়ে যদি বনানীতে গিয়ে মাকে একটা চিঠি লিখে পাঠাতে পারতাম বা আব্বাকে পাঠাতে পারতাম। এগুলো খুব অনুভব করি।


-শেখ রেহানা

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা


আরও খবর



ইভিএম নিয়ে ইসিতে বৈঠক

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নতুন করে, আরো ২ লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ আবারো বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে, গত মঙ্গলবারের বৈঠকে, ইভিএমের দাম যাচাই করতে, বাজার দর যাচাই সংক্রান্ত কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়। আজকের বৈঠকেই, প্রকল্পের ব্যয় ঠিক করা হবে। এরপরই কোন দেশ থেকে ইভিএম কেনা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে মেশিন কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল নিয়োগসহ পুরো প্রকল্পে, সম্ভাব্য ৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা।


আরও খবর

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




চরভাসানিয়া হারুন মেম্বার গংদের বিরুদ্ধে

মাধবদিতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

 নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

নরসিংদী জেলার বালাপুর ভঙ্গাচর এলাকাটি একটি মাদক, সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও খুনের উর্বর ভূমি এখানে একাধিক খুন জখম হয়েছে। নরসিংদী জেলার ক্রাইম জোন মেঘনা বাজার বালাপুর ভঙ্গারচর ।  নরসিংদী মাধবদী থানার পাইকারচর ইউনিয়নে রয়েছে আব্দুস সালাম কে হত্যা করে ১৫ লক্ষ টাকা লুটের অভিযোগ।   সরেজমিনে গিয়ে জানাযায় পাইকারচর  ইউনিয়নের উত্তরচর ভাসানিয়া গ্রামের মৃতঃ আদম আলীর ছেলে হাজি আঃ সালাম (৫৫) শেখেরচর বাবুর হাটের  কাপড় ব্যবসায়ী । গত ৯ ই আগস্ট সকাল অনুমান ৯.৩০ মিনিটে ব্যবসায়ীক কাজে গোপালদী বাজারে যাওয়ার পথে চর ভাসানিয়া কবরস্থানের কাছে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা পাইকারচর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ হারুন  গং  ব্যাবসায়ী আঃ সালামের গতি রোধ করে সিএনজি অটো রিকশা থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং তার কাছে থাকা ১৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়  এবং  মারধর করে রাস্তার সাইডে ফেলে দেয় । আঃ সালামের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে  মাধবদী প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে  ভর্তি করে। তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক নরসিংদী জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আঃ সালামকে মৃত ঘোষনা করে। তারপর নরসিংদী সদর হাসপাতালে মরদেহ পোষ্টমর্ডেম করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসে। নিহত আঃ সালাম মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহব্বায়ক ও পাইকারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম এর আপন চাচাতো ভাই। এব্যাপারে মাধবদী থানা আওয়ামীলীগের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন ঘটনার কিছু দিন আগে গোপালদী বাজারের একটি গদি থেকে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যাবসায়ী মোবারক কয়েক লক্ষ টাকার কাপড় চুরি করেছে এই চুরি গঠনার স্বাক্ষী হচ্ছে সালাম হাজী। এই ঘটনার জের ধরে আর ১৫ লক্ষ টাকার জন্যই সালাম হাজী কে খুন করেছে। গোপালদী বাজারে যাওয়ার পথে মোঃ হারুন মেম্বার ও মোঃ মোবারক এবং সাবেক মেম্বার আনোয়ার গং  তাদের সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে  নির্জন কবরস্থানের পাশে গতি রোধ করে তার সাথে থাকা ১৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় । আঃ সালাম এর কাছে টাকা আছে জানতে পেরে মোঃ হারুন মেম্বার গং এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের বেদম মারপিটে আমার ভাই মারা গেছে হারুন, মোবারক, আনোয়ার মেম্বার গং এলাকায়  চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত তাদের বিরুদ্ধে এক ডজনের উপরে মামলা রয়েছে আমি এই সন্ত্রাসী গ্রুপের ফাঁসি দাবি করছি।

আঃ সালামের ছেলে সজিব বলেন, আমার বাবাকে তারা খুন করেছে এবং ডাকাতি করে ১৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে আমি তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি এবং  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা  ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দাবি করছি। এব্যাপারে সালাম হত্যা মামলার প্রধান আসামী  হারুন মেম্বারের  আপন ভাতিজা ও ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহিন মিয়া বলেন সালাম হাজী খুব ভাল লোক ছিল, তাকে অহেতুক পিটিয়ে খুন ১৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই মামলা ধামাচাপা  দেওয়ার জন্য  সিরাজু্ল চেয়ারম্যান গংদের বিরুদ্ধে  মিজান নামে এক ব্যাক্তি  নসিমন গাড়িতে আহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে  মিথ্যা মামলা দায়ের করে। একই বক্তব্য রাখেন  হারুন মেম্বারের আরেক ভাতিজা কবির হোসেন ও আপন বড় ভাই সব্দর প্রধান। মেঘনা বাজারের প্রায় ব্যাবসায়ী বলেন সালাম হাজী খুব ভালো লোক ছিল, তাকে অহেতুক খুন করেছে। আর কিছু দিন আগে মিজান নামে এক ব্যাক্তি মেঘনা বাজারের আগে পুকুর পাড়ে দুই নসিমনের ধাক্কায় আহত হয় । এ আহতের গঠনাকে কেন্দ্র করে সালাম হাজীর পক্ষের লোকদের নামে মিথ্যা মামলা করে। আমরা এই মিথ্যা মামলার তিব্র নিন্দা জানাই।


আরও খবর



দিনমজুর সেজে ক্লুলেস

৮ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি খালেকে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

দিনমজুর সেজে ক্লুলেস ৮ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি আব্দুল খালেক (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার  বিকেলে রূপগঞ্জের ইসলামবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার নিজের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে খালেক। এসময় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আ. খালেক রূপগঞ্জ থানার ইসলামবাগ এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তার বেপারীর ছেলে।

জেলা পুলিশের উপ—পুলিশ পরিদর্শক (ইনচার্জ, আইসিটি এন্ড মিডিয়া) হাফিজুর রহমান জানান, আসামি আ. খালেকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও ধর্ষণ এবং মাদকের একাধিক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে। ঘটনাস্থলের পাশেই তার শশুর বাড়ি। শশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে সে এ শিশু ধর্ষণের মত জঘণ্য অপরাধ করেছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত বছর ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয় শ্রেণীর বাৎসরিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ভুক্তভোগী ওই শিশু বেড়াতে এসেছিল মামার বাড়িতে । সন্ধ্যায় মামির অনুরোধে পাশের দোকান থেকে শুকনা মরিচ কিনতে সমবয়সী মামাত বোনের সাথে গিয়েছিল সে । ওই সময় সেখানে দেখা হয় এক অপরিচিত মধ্যবয়সী আব্দুল খালেকের সাথে। সে জিগ্যেস করে জনৈক ব্যাক্তির বাড়ি চিনে কিনা। সাথে থাকা মামাত বোন চিনে বলে জানালে তাদের দু’জনকে বলে বাড়িটি দেখিয়ে দিতে। তারা খালেককে সাথে নিয়ে ওই বাড়ির সামনে যায়। সেখানে গিয়ে ওই ব্যাক্তি নতুন কৌশলে মামাত বোনকে বলে তুমি আগে দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখো পূর্ব পাশের ফ্লাটের দরজা খোলা আছে কিনা। সরল সহজ শিশুটি চলে যায় দ্বিতীয় তলায়। এ সুযোগে সে ভুক্তভোগী শিশুর মুখ চেপে জোর করে পাশের বাড়ির বসত ঘরের পিছনে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেলে চলে যায়। এসময় শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে থাকে সেখানে। অপরদিকে মামাত বোন এসে কার বোনকে এবং অপরিচিত সেই ব্যক্তিকে দেখতে না পেয়ে দৌঁড়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনদের জানায়। এরপর খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায় অনেকটা জ্ঞানহীন অবস্থায়। দ্রুত নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সিসিইউতে। তিন মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ, আইসিইউ এবং কেবিনে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কেটেছে সময়। চার ব্যাগ রক্ত লেগেছিল রক্ত শুণ্যতা কাটাতে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় থানায় মামলা হয় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে। কিন্তু অনেক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েও ঘটনার রহস্য এবং আসামি সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষে মামলা চলে আসে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের কাছে। ডিবির চৌকস অফিসার এসআই মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান তদন্তভার গ্রহণ করে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সনাক্ত করেন মূল আসামিকে। ছদ্দবেশে দিন মজুরের বেশে কৌশল অবলম্বন করে ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে আসামি  আব্দুল খালেককে তার নিজ গ্রামের বাড়ি রূপগঞ্জের ইসলামবাগ এলাকার একটি মাঠ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে উঠালে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধরায় জবানবন্দি দিয়েছে খালেক। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


আরও খবর