Logo
শিরোনাম

মুক্তিযোদ্ধা ও গরীব অসহায়দের চিকিৎসায় কোনো ফি নেন না ডা. এজাজ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image

সদরুল আইনঃ

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের সিংহভাগ নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেছেন অভিনেতা ডা. এজাজ। 


তার নাম মনে হলেই চোখের পর্দায় ভেসে ওঠে হাসিখুশি সাবলীল এক গুণী অভিনেতার মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


 আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মানুষদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবেও পরিচিত।



মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময়ই রংপুর বেতারে নিয়মিত সংবাদ পাঠ করতেন, অংশ নিতেন রেডিওর নাটকে। চিকিৎসাবিদ্যা পড়াশোনার বরাতে হয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রধান। এখন অবসর। এই অবসরে অভিনয় আর পুরোপুরি চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ডা. এজাজুল হক এজাজ।


সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দরিদ্রদের জন্য চিকিৎসা নিয়ে তিনি বলেন, দেখেন আমি হয়তো সবক্ষেত্রে সবার সহায়তা করতে পারি না। কারণ আমি তো সব ধরনের বিশেষজ্ঞ নই। তারপরেও যারা আমার কাছে আসেন, আমি তাদের সেই মতো হাসপাতালে স্থানান্তর করি।


 এরপর তার যেন খরচ কম হয়, ওই হাসপাতালে বলে দেওয়ার চেষ্টা করি। আর আমি মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ফি নিই না। কারণ তাদের কাছে আমরা ঋণী। তাদের সেবা করতে পারাটাও সৌভাগ্যের।



একটা হাসপাতাল তৈরি করার স্বপ্ন আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে গরিব রোগীদের বিনে পয়সায় চিকিৎসা হবে। ধরেন, কথার কথা আমি যদি কোনোভাবে ৫০ কোটি টাকা পেয়ে যাই-তাহলে আমি কিন্তু কানাডা বা দুবাইয়ে বাড়ি কিনব না। এমন অভিলাষ আমার নেই। 


আমি সেই টাকা দিয়ে একটা হাসপাতাল করব। কিছুদিন আগে এক অর্থবান ভদ্রলোক এসেছিলেন। তিনি আমাকে বলছিলেন একটা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করবেন, আমাকে তার সঙ্গে থাকতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে। 


আমি বললাম আমার একটা শর্ত আছে, ওই হাসপাতালে একটা কর্নার করতে হবে যেখানে গরিব রোগীরা বিনে পয়সায়, বা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন। ওই ভদ্রলোক আর যোগাযোগ করেননি।


গাজীপুর চৌরাস্তায় রয়েছে এজাজ সেন্টার।সেখানে নিয়মিত রুগি দেখেন তিনি।নামমাত্র ফি নেন এই বরেন্য চিকিৎসক।তার ব্যবস্থাপত্রেও থাকে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকা ঔষধের নাম।অমায়িক আচরনের এই মানুষটি তার শিল্পী সত্ত্বা দিয়েই শুধু নয় চিকিৎসক হিসেবেও নাম কুড়িয়েছেন গাজীপুরসহ সারাদেশের প্রত্যন্ত জনপদে।




আরও খবর



দেবের সঙ্গে বিয়ে ও সন্তান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন রুক্মিণী

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ |

Image



বিডি টু ডে বিনোদন ডেস্ক:


টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎ-এর হাত ধরে ‘বুমেরাং’ হয়ে সামনে আসছেন অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র। সিনেমাটিতে রোবট হয়ে ধরা দেবেন ‘নিশা’ রুক্মিণী। 


সিনেমা মুক্তির আগে ‘বুমেরাং’-এর নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছেন রুক্মিণী মৈত্র। একইসঙ্গে কথা বলেছেন নিজের বিয়ে নিয়েও। 



এদিকে কিছুদিন আগেই গুগল সার্চ করে দেব অনুরাগীরা চমকে যান। তাঁরা দেখেন, সেখানে লেখা দেব নাকি বিবাহিত! ২০২১-এর ৬ মে নাকি তিনি রুক্মিণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এমনকি সেখানে লেখা ছিল, তাঁদের নাকি একটি সন্তানও রয়েছে। এবার বিয়ে নিয়ে নিজেই মুখ খুলেছেন রুক্মিণী।



বিয়ের খবরে অবাক রুক্মিণী সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ওহ গড! এটা যে কোথা থেকে আসছে! গুগলেও পৌঁছে গেল। শুধু তাই নয়। সেখানে একটা বাচ্চার কথাও রয়েছে। যার কথা বলা হয়েছে, সেই আমাইরা আমার ভাইঝি। যেহেতু আমাইরার সঙ্গে আমার এত ছবি রয়েছে। ওরা ওকে আমার বাচ্চা বানিয়ে দিয়েছে।’


তবে বাস্তবে অনুষ্ঠান করে রুক্মিণী বিয়েটা কবে করবেন? এ বিষয়েও মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। রুক্মিণীর কথায়, ‘মিডিয়া যেদিন অনুমান করা বন্ধ করবে, আমি সেদিন বিয়েটা করে নেব। আমার মাও কিন্তু বিয়ের কথা জিজ্ঞাসা করেন না। তাহলে আপনারা কেন জিজ্ঞাসা করছো! 


যেদিন মনে হবে, আমি বিয়ের জন্য তৈরি, সেদিন বিয়েটা করে নেব। আমি বিয়েতে বিশ্বাসী, আর বিয়ে লুকিয়ে রাখতেও চাই না। এখন এত ব্যস্ততা রয়েছে, তাই বিয়ের প্ল্যান করা সম্ভব নয়। 


তবে আমার মনে হয় প্রতিশ্রুতি জরুরি। আজকাল দেখি বহু বিয়েই টিকে আছে, তবে সেই সম্পর্কে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তাই আমাদের প্রতিশ্রুতিটাই আগে থাকুক। বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য।’


রুক্মিণীর কথায়, অভিনেত্রী হওয়াটাই তাঁর জীবনের সব থেকে বড় বুমেরাং। ভেবেছিলাম কোনো দিনই অভিনেত্রী হবো না, তবে সেটাই ঘটেছে।


এদিকে সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে আরও একবার ঘাটাল থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন দেব। ভোটের আগে জোর কদমে প্রচার চালিয়েছেন অভিনেতা। তবে দেবের কোনো প্রচারেই রুক্মিণীকে দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে রুক্মিণী বলেন, ‘এটা এক্কেবারেই ওর আলাদা কর্মক্ষেত্র। ওর একার জার্নি। ওই বিষয়টা ও একাই খুব পরিণত হাতে সামলাচ্ছে। 


প্রচারে ওর সঙ্গে না থাকলেও আমি ওর পাশে সবসময় আছি।’



আরও খবর



আইএমও সেক্রেটারি জেনারেল দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

 ডিজিটাল ডেস্ক:


ঢাকায় এসেছেন আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সেক্রেটারি জেনারেল আর্সেনিও ডমিঙ্গুয়েজ। চারদিনের সফরে ঢাকায় এসে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।



এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আইএমও সেক্রেটারি জেনারেলের ঢাকায় আসার তথ্য জানায় লন্ড‌নের বাংলা‌দেশ হাইক‌মিশন। ঢাকা বিমানবন্দ‌রে আর্সেনিওকে স্বাগত জানান লন্ডনে নিযুক্ত হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ডিজি কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আইএমও সেক্রেটারি জেনারেলের সাক্ষাৎ। ছবি: ফোকাস বাংলা

জানা গেছে, আইএমও সেক্রেটারি জেনারেল শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।



তিনি বাংলাদেশের সামুদ্রিক ও বন্দর অবকাঠামোর পাশাপাশি জাহাজ পুনর্ব্যবহারযোগ্য শিল্প পরিদর্শন করবেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।


আরও খবর



মোবাইল হারালে জিডি নয়, সরাসরি মামলা করুন: ডিবিপ্রধান

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

বিডি  ডিজিটাল রিপোর্ট:


মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কিংবা চুরির পর ফিরে পেতে ভুক্তভোগী প্রথমে থানায় ডিজি করেন। তবে এ ক্ষেত্রে জিডি না করে সরাসরি চুরির মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।


বুধবার (৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে ধর্মমন্ত্রীর চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।



হারুন অর রশীদ বলেন, অনেকে মোবাইল চুরি হলে জিডি পর্যন্ত করতে চান না। তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ মোবাইল চুরির সঙ্গে সঙ্গে একটি মামলা করবেন। 


মামলা ছাড়াও মোবাইল চুরি রোধে মোবাইলে স্ট্রং পাসওয়ার্ড এবং নামাজ ও জানাজাতে গেলে পাঞ্জাবীর পকেটে মোবাইল ফোন রাখবেন না। কেউ জানাজা বা নামাজ পড়তে যায় চোরেরা তখন সুযোগ পেয়ে মোবাইল নিয়ে যায়।


এছাড়া অনুমোদিত বিক্রয় কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোনো স্থান বা ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোন ক্রয় না করা, পুরোনো মোবাইল ফোন না কেনা, চিকিৎসা করার টাকা নাই তাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে মোবাইল বিক্রি করতে চাওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল না কেনা এবং মোবাইলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সম্বলিত রশিদ ছাড়া মোবাইল ফোন ক্রয় করবে না। 


চোরাই মোবাইল ফোন কেনা-বেচা দুটোই অপরাধ। চোরাই মোবাইল ফোন যার কাছে পাওয়া যাবে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।


আরও খবর



৩০ হাজার যুবকের স্বপ্ন ভেঙে ২০ হাজার কোটি টাকা লুট

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

সমীর কুমার দে :

আদনান রহমান (২৮)। বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর। মায়ের গহনা আর মাঠের ২০ শতক জমি বিক্রি করে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন এজেন্সিকে। এর মধ্যে কিছু ধারও আছে। স্বপ্ন ছিল মালয়েশিয়ায় গিয়ে পরিবারের ভাগ্য ফেরাবেন। 


কিন্তু শেষ পর্যন্ত এজেন্সির প্রতারণায় যাওয়া হয়নি তার। স্বপ্ন ভেঙেছে, পথে বসে গিয়েছেন। এখনো বিমানবন্দরে বসে আছেন। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কোন মুখ নিয়ে বাড়িতে ফিরবেন? সামনে শুধুই হতাশা। শুধু আদনান নয়, তার মতো ৩০ হাজারেরও বেশি যুবকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তারা পথে বসেছেন আর এজেন্সির নামে হাতেগোনা কয়েক জন লুটে নিয়ে গেছে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা।


বিমানবন্দরে অপেক্ষায় থাকা শাহরিয়ার মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন? কাদের মাধ্যমে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে? তাদের নাম সবাই জানে। প্রভাবশালী এই মানুষগুলোর বিরুদ্ধে কে ব্যবস্থা নেবে? এরা সরকারে খুব প্রভাবশালী। 


সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আশপাশে থাকেন। আদেশ-উপদেশ দেন। তাহলে আমরা কীভাবে টাকা ফেরত পাব? পথে বসে যাওয়া এই লোকগুলোর কি হবে? সরকার কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে? তারাই তো সরকার চালাচ্ছে? আমাদের কথা কেউ ভাবে না।’



প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, ‘কাদের কারণে এই মানুষগুলো যেতে পারল না, সেটা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে যারা দোষী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘প্রথমত ৩০ হাজার মানুষ যে যেতে পারেনি, এ কথা কে বলেছে? এই সংখ্যাটা অবশ্যই এত বেশি নয়। তবে কিছু মানুষ যেতে পারেনি, এটা সত্যি। এখন কেন যেতে পারেনি, সেটা আমাদের দেখতে হবে? আমরা বারবার চেয়েও বিমানের ফ্লাইট পাইনি। 


আবার মালয়েশিয়ার কিছু নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করেছে ঐ দেশের সরকার এবং আমাদের দেশের সরকারও। কিন্তু তার আগেই তাদের কাছ থেকে কিছু চাহিদা এসেছিল, সে লোকগুলো যেতে পারেনি। আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা যেতে পারেনি, অবশ্যই তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কারো টাকা মার যাবে না।’


বিমান কর্তৃপক্ষ তো বলছে, তাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। অথচ গত মার্চেই মালয়েশিয়া জানিয়ে দিয়েছিল ৩১ মের পর আর কোনো কর্মী তারা নেবে না? তাহলে তিন মাসেও কেন ব্যবস্থা করা 


যায়নি? জানতে চাইলে আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এটা ঠিক না। আমরা যৌথভাবে অনেক বৈঠক করেছি। শেষ মুহূর্তে বিমান অনেক ফ্লাইটও বাড়িয়েছিল। তার পরও কিছু মানুষ যেতে পারেনি। আর কিছু মানুষের যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তারাও বিমানবন্দরে গিয়ে অপেক্ষা করেছে। ফলে দেখতে এত মানুষ মনে হয়েছে।’


কেন এত যুবকের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো? এর দায় আসলে কার? জানতে চাইলে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফরমের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘এর দায় সবার। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। মার্চেই তো তারা জানিয়ে দিয়েছিল, ৩১ মের পর কোনো শ্রমিক নেবে না। তাহলে এত দিনেও আমরা কেন ব্যবস্থা করতে পারিনি। 


অন্যদিকে বিমান মন্ত্রণালয় বলছে, তারা কিছুই জানে না। আবার মালয়েশিয়া সরকারেরও দায় আছে। তারা একেক সময় একেক নীতি নিচ্ছে। ফলে পুরো মার্কেটটা সিন্ডিকেটের হাতেই থাকছে। আগে যেখানে নিয়ন্ত্রণ করতেন ৮-১০ জন, এখন সেটা বেড়ে ২৫ জনের মতো হয়েছে। আর সারা বিশ্বেই ভিসার মেয়াদ থাকলে শ্রমিকরা যেতে পারেন, শুধু তারা দিনক্ষণ বেঁধে দেন, এটা ঠিক না।’    


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার শেষ দিনে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে মাত্র দেড় হাজার কর্মীর। এর বাইরে আরও ৩১ হাজার ৭০১ জন বাংলাদেশি কর্মী চাকরি নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু টিকিট জটিলতায় তারা যেতে পারেনি। বিমানবন্দরে ব্যাগ-ট্রলি, লাগেজ নিয়ে বসে থাকা এমন কয়েক জনের সঙ্গে কথা হয়। তারা বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে এসেছেন, বলে এসেছেন, মালয়েশিয়া যাচ্ছেন।


বিমানবন্দরে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়া রুটে বিমান ভাড়া কয়েকগুণ বেশি নিয়েছে। ২৫ হাজার টাকার টিকিটের দাম ১ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তার পরও টিকিট মেলেনি। যারা গেছেন তাদের কেউই ৬ লাখ টাকার নিচে যেতে পারেনি। উপরে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে কাউকে কাউকে।


বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, গত ২১ মে পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ৫ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৪ জন কর্মীকে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমোদন দেয়। ২১ মের পর আর অনুমোদন দেওয়ার কথা না থাকলেও মন্ত্রণালয় আরও ১ হাজার ১১২ জনকে তা দিয়েছে। 


অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৬ জন বাংলাদেশি মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মালয়েশিয়া চলে গেছেন ৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৪৫ জন। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১ হাজার ৫০০ জন মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন। তাই যদি হয়, তাহলে অনুমোদন পেয়েও ৩১ হাজার ৭০১ জনের মালয়েশিয়া যাওয়া হচ্ছে না, এটা নিশ্চিত।


গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে মালয়েশিয়ার টিকিট সংকট নিয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান। তিনি বলেন, বিমান ভাড়ার বিষয়টা সাপ্লায়ার এবং বিমানের ব্যাপার। যারা এটার সঙ্গে জড়িত, তারা ডেডলাইনের এক মাস আগে জানত। 


কিন্তু এটা নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি বা অন্য যারা সাপ্লায়ার আছেন, তারা ব্যবস্থা নেয়নি। এখন বিমান প্রতিদিন মালয়েশিয়ায় তিন থেকে চারটা করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। বুধবারও ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ায় একটা এয়ার কম্বোডিয়ার, একটা এয়ারক্রাফট দিয়ে একটি চার্টাড ফ্লাইট পরিচালনার পারমিশন চেয়েছে, সেদিনই আমরা তাদের পারমিশন দিয়ে দিয়েছি। 


এটা এফিশিয়েন্ট আমরা মনে করি। বিমান যদি আরো আগে জানত, তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারত। বর্তমানে বিমানের হজ ফ্লাইট চলছে, তবুও আমরা চেষ্টা করেছি।


এদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতারণামূলক নিয়োগের অভিযোগে চিঠি দিয়েছিল জাতিসংঘ। গত ২৮ মার্চ জাতিসংঘের দেওয়া সেই চিঠির জবাব দিয়েছে মালয়েশিয়ার সরকার। এর মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল দেশটি। 


গত শুক্রবার ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘে মালয়েশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি নাদজিরা ওসমান মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন দপ্তরে (ওএইচসিএইচআর) চিঠিটি হস্তান্তর করেন। 


এ সময় তিনি বলেন, আমরা জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করছি, মালয়েশিয়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কাগজপত্রও রয়েছে যেখানে শোষণ এবং মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর রূপরেখাও রয়েছে।





আরও খবর



নিচে নামছে ঢাকার পানির স্তর, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


মানুষে দালানে গিজগিজ ঢাকা। জনসংখ্যার বিস্ফোরণে যাদুর শহরে এখন দমবন্ধ পরিস্থিতি।


 অন্যদিকে দখল দূষণে বিপন্ন আশপাশের সব নদী আর খাল। তাই দুই কোটিরও বেশি মানুষের পানির জোগান দিতে ভূগর্ভস্থ পানিই হয়ে উঠেছে একমাত্র অবলম্বন।



যদিও পাইপে সরবরাহ করা পানির মান নিয়ে অভিযোগ আছে রাজধানীর অনেক এলাকার বাসিন্দাদের। তারা জানান, বাসা-বাড়িতে যে পানি সরবরাহ করা হয়, সেই পানি দুর্গন্ধ হওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী নয়। 



তাই ওয়াসা থেকে পানি নিয়ে নিজেদের প্রযোজন মেটান তারা।


ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন উৎপাদন করে ২৯০ কোটি লিটার পানি, যার মাত্র ৩০ শতাংশের মতো মিলছে ভূ-উপরিভাগের উৎস থেকে। চাহিদার বাকি সবটাই তুলতে হয় মাটির নিচ থেকে।


 এ ছাড়া শিল্প কারখানা, ব্যক্তি মালিকানাধীন ও অনুমোদনহীন অনেক নলকূপ দিয়েও বিপুল পানি তোলা হচ্ছে প্রতিদিন। এতে দ্রুত নামছে পানির স্তর।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের গবেষণা বলছে, প্রতি বছর দুই মিটার করে নেমে যাচ্ছে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর।


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২০৩০ সাল নাগাদ ঢাকার পানির স্তর ৩ দশমিক ৯ মিটার করে প্রতি বছর নেমে যাবে। 


আমরা যদি এখনই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করি, তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ এটি গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ছয় মিটারে।’


ঢাকার ৬২ শতাংশ ভূমিজুড়েই এখন ভবন আর ভবন। ইট কংক্রিটের জঞ্জালের কারণে পানি শোষণ করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে এ শহর। এ ছাড়া জলাধারের সংখ্যাও কম। তাই বর্ষায় দেশের বেশিরভাগ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেও ঢাকায় তা পূরণ হয় না। 



এ ছাড়াও বরন্দ্রে অঞ্চল, চট্টগ্রাম আর ঢাকার আশপাশের কিছু শহরেও নিচে নামছে পানির স্তর। তাই এখনই সচেতন ও ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।


 


আরও খবর