Logo
শিরোনাম

নাফ নদীতে চোরাকারবারিদের গুলিতে ২ বিজিবি সদস্য আহত

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image



টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা:


কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে সশস্ত্র চোরাকারবারিদের গুলিতে দুই বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত দুই বিজিবি সদস্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


মঙ্গলবার (৪ জুন) রাত ১০টার দিকে টেকনাফের নাফ নদীর রহমানের খাল নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি’র) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।



তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপি'র একটি চোরাচালান প্রতিরোধ নৌ টহল দল নাফ নদীতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এ সময় রহমানের খাল নামক স্থানে নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমায় বিজিবির সদস্যরা টহলরত থাকা অবস্থায় হঠাৎ একটি নৌকার মুখোমুখি হয়। 


নৌকায় অবস্থানরত সশস্ত্র চোরাকারবারি দল বিজিবি টহল দলকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে গুলি করতে থাকে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির টহলদল সরকারি সম্পদ ও নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করলে চোরাকারবারি দলের গুলিতে বিজিবির দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়। 


একপর্যায়ে বিজিবির টহলদলের প্রতিরোধের মুখে চোরাকারবারিরা ফায়ার করতে করতে অন্ধকারে নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে পালিয়ে যায়।


বর্তমানে গুরুতর আহত বিজিবির দুই সদস্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে (২ বিজিবি’র) অধিনায়ক জানান। 


আরও খবর



খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে বসানো হলো ‘পেসমেকার’

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে ‘পেসমেকার’ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।


 এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার (২৩ জুন) রাতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।


এর আগে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) কেবিন নং-৪২১৯ থেকে পাশের ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়।


ডা. জাহিদ বলেন, ম্যাডামের হৃদরোগের সমস্যা পূর্ব থেকেই ছিল। সেজন্য হার্টে ব্লক ছিল, একটা স্টেনটিংও করা ছিল। সব কিছু পর্যালোচনা করে এখন মেডিকেলে বোর্ড ম্যাডামের হার্টে পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হাসপাতালে এই পেসমেকার ট্যাম্পোরারি ও পার্মান্টেট লাগানোর প্রক্রিয়া ডাক্তারা সম্পন্ন করেছেন।




চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃৎপিন্ডের ডান অ্যাট্রিয়াম প্রাচীরের উপর দিকে অবস্থিত বিশেষায়িত কার্ডিয়াক পেশিগুচ্ছে গঠিত ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট অংশ যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহ ছড়িয়ে দিয়ে হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে এবং স্পন্দনের ছন্দময়তা বজায় রাখে এই পেসমেকার।


উল্লেখ্য, শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধিজনিত কারণে হঠাৎ অসুস্থতার কারণে গত শুক্রবার গভীর রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 



হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিসাধীন আছেন। শনিবার (২২ জুন) থেকে এই পর্যন্ত কয়েক দফা মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হৃদপিন্ডে পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত দেন।


হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বেগম জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন। আর অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিনসহ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠকে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছেন।



 মেডিকেল বোর্ডের এসব সভায় লন্ডন থেকে ডা. জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকেন।


৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, আর্থারাইটিস ছাড়াও হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।


আরও খবর



দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

প্রায় দুই বছর পর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বেলা ১২টার (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১২টা) দিকে দিল্লির হায়দ্রারাবাদ হাউজে এই বৈঠক শুরু হয়।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে তা এখনো জানা যায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই সরকারপ্রধানের বৈঠকে অমীমাংসিত বিষয়গুলো যেমন সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন সমস্যা বা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এসব বিষয় আলোচনায় থাকতে পারে। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের নানা বিষয়ের মধ্যে মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়ও থাকছে। এছাড়া বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে চীন ইস্যু।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে উৎসাহ দেখিয়েছে চীন। যা ভালো চোখে দেখছে না দিল্লি। জুলাই মাসেই বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা শেখ হাসিনার। এর আগে তার ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

এর আগে ২০২২ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষর হয় সাতটি সমঝোতা স্মারক। কথা হয়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মাদক ও মানব পাচার রোধ নিয়েও। শনিবারের বৈঠকে নির্ধারণ হতে পারে ২০২২ সালের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বাস্তবতা এবং আগামী পাঁচ বছরের রূপরেখা।

শুক্রবার (২১ জুন) দুই দিনের সফরে ভারতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চল‌তি মা‌সের শুরুর দি‌কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের পর আবার দি‌ল্লি‌তে গে‌লেন সরকারপ্রধান। টানা তৃতীয়বারের মতো বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর।

দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্তে বৈঠক শেষে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করবেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী তাদের বিবৃতি দেবেন।


আরও খবর



রাজধানীজুড়ে যানজট, মেট্রো স্টেশনের গেটে তালা

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এর ফলে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাড়তি চাপ পড়েছে মেট্রোরেলের ওপর। যাত্রীদের চাপ সামলাতে মতিঝিল স্টেশনে প্রবেশ ফটকে তালা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে যাত্রীর চাপের কারণে রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয় মেট্রো স্টেশনের গেটে তালা দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় গেটে দায়িত্বরত কাউকে দেখা যায়নি।


এ সময় এক যাত্রী রাফী দেওয়ান বলেন, রাস্তা বন্ধ। তাই ভাবলাম মেট্রো রেলে করে বাসায় ফিরব। কিন্তু এসে দেখি গেট বন্ধ। গেট কেন বন্ধ বলতে পারছি না। অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। ভেতর থেকেও কেউ আসছে না।

বুধবার বিকেল পৌনে চারটায় কারওয়ান বাজার মেট্রো স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বসুন্ধরা সিটি প্রান্তের প্রবেশমুখে যাত্রীদের ভিড় সিঁড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে।

এদিকে মতিঝিল স্টেশনের প্রবেশ ফটক আটকে দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের বাইরে বহু মানুষ প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল এবং সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাস করার দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীর প্রায় সব সড়কে যানবাহন স্থবির হয়ে আছে। লোকজন অনেকটা বাধ্য হয়ে মেট্রো স্টেশনে ছুটছেন। কিন্তু সেখানেও যাত্রী চাপে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে।


আরও খবর



নতুন সূচিতে চলবে মেট্রোরেল

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ |

Image

সরকার নির্ধারিত নতুন অফিসের সময়সূচির কারণে পরিবর্তন হয়েছে মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময়। আর তাই আজ বুধবার থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চলবে মেট্রোরেল। শুরু ও শেষের সময় একই রকম থাকলেও মাঝে পিক ও অফ পিক সময় পরিবর্তন হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মেট্রোরেলের কার্যালয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক এ কথা জানান।

তিনি বলেন, গত ৬ জুন সরকার থেকে অফিসের সময়সূচি ৯ থেকে ৫টা পর্যন্ত করেছে। এই সময়সূচি ১৯ জুন থেকে কার্যকর হবে। এজন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময়তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী উত্তর থেকে থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগের মতোই স্পেশাল অফ পিক থাকবে। এই সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। আর সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে সকাল ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে হবে ৮ মিনিট। আবার সকাল ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ২৪ মিনিট থেকে অফ পিক আওয়ার। এ সময় ১২ মিনিট হেডওয়ে। আবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩২ মিনিট পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। আবার রাত ৮টা ৩৩ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এ সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট।

আবার অন্যদিকে মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর পর্যন্ত সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট। সকাল ৮টা ১ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৮ মিনিট পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। দুপুর ১২টা ৯ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা ৪ মিনিট স্পেশাল অফ পিক। এ সময় হেডওয়ে ১২ মিনিট। আবার দুপুর ৩টা ৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১২ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। রাত ৯টা ১৩ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৪০ স্পেশাল অফ পিক। এ সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট।

আগের মতোই সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার ৷ এছাড়া শনিবার ছাড়া সব সরকারি ছুটির দিনে মেট্রো ট্রেন ১২ মিনিটের পরিবর্তে ১৫ মিনিট করা হয়েছে।


আরও খবর



ডেঙ্গু: কারণ, সতর্কতা এবং প্রতিকার

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

ডেঙ্গু জ্বর হলো ডেঙ্গু নামক এক ধরনের ভাইরাস দ্বারা মানবদেহে সৃষ্ট জ্বর রোগ। সারা পৃথিবীতে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রকরণ রয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের দেশে এই রোগ মহামারী আকার ধারণ করে। লিখেছেন ডা: মো: কফিল উদ্দিন চৌধুরী

আমাদের দেশে প্রধানত এডিস এজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিক্টাস প্রজাতির মশকী-ই এই রোগের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে। উপরিউক্ত প্রজাতির মশকীর দংশনেই এই ভাইরাস কোনো অসুস্থ ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তির রক্তে প্রবেশ করে রোগের সৃষ্টি করে। সেই সাথে মানবসমাজে এই রোগের প্রকোপ ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে দেখা যায় প্রতি বছর পৃথিবীতে গড়ে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। আর এই রোগে বার্ষিক মৃত্যুর পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার। নিরক্ষীয় ও উপনিরক্ষীয় অঞ্চলের প্রায় ১০০টি দেশে এই রোগ স্থানিক রোগ হিসেবে স্বীকৃত। উপরিউক্ত অঞ্চলদ্বয়ের প্রায় ১.৭ বিলিয়ন মানুষ এই রোগের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। আমাদের দেশে সর্বপ্রথম ১৯৬৪ সালে ডেঙ্গু জ্বরের কেইস রিপোর্ট হয়। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো ডেঙ্গু আমাদের দেশে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা সংক্রামক রোগ হলেও এখনো দেশব্যাপী এর প্রকোপ নিরূপণে বিশদ কোনো জরিপ পরিচালিত হয়নি। স্বল্প পরিসরে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহর, হাসপাতাল-ক্লিনিকে কিছু খণ্ডকালীন জরিপ পরিচালিত হয়েছে মাত্র। তেমনি ২০১৭ সালে রাজধানী শহরের হাসপাতালকেন্দ্রিক এক জরিপে দেখা যায়, ওই বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৫৮৮ জন। আর এই রোগে মৃতের সংখ্যা পাঁচজন। কিন্তু প্রকৃত হিসাবে দেশব্যাপী এই সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেশি হবে।
রোগের রোগতত্ত্ব
ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু যখন মানবদেহের রক্তে প্রবেশ করে তখন এর বিরুদ্ধে মানবদেহে উৎপন্ন হয় এন্টিবডি নামক এক ধরনের প্রোটিন। অতঃপর ওই প্রোটিনের সাথে রোগের নিয়ন্ত্রণকল্পে জীবাণুর এক শক্ত বন্ধন সৃষ্টি হয়। সবশেষে এই প্রোটিন-জীবাণুর মিশ্রণ জমা হতে থাকে রক্তনালীর প্রাচীর ও রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়ক প্ল্যাটিলেট তথা অনুচক্রিকার গায়ে। সেই সাথে মানবরক্তে রোগ প্রতিরোধে সহায়ক টি-লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকা উদ্দীপিত হয়ে মানবরক্তে নিঃসৃত করে নানা ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ। পরিশেষে বেড়ে যায় মানবরক্ত সংবহনতন্ত্রের ক্যাপিলারি তথা রক্ত জালকে অভিগম্যতা। অতিরিক্ত মাত্রায় রক্তরস তথা প্লাজমা রক্তনালী থেকে বের হয়ে মানব কোষ কলায় আশ্রয় নেয়। পানি জমতে শুরু করে রোগীর বুকে ও পেটে। বেড়ে যায় রক্তের ঘনত্ব তথা হেমাটোক্রিটের মাত্রা। কমতে শুরু করে রক্তে প্রোটিন ও সোডিয়ামের পরিমাণ। সেই সাথে কমতে শুরু করে রক্তে অনুচক্রিকার পরিমাণ ও কর্মক্ষমতা। দেখা দেয় মানবদেহের নানা জায়গা থেকে মামুলি থেকে তীব্র রক্তক্ষরণের প্রবণতা।
রোগের লক্ষণ
লক্ষণ ও রোগতত্ত্বের ভিত্তিতে মানব ডেঙ্গু জ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথাÑ
সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর ও রক্তপাতসহ ডেঙ্গু জ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর
হঠাৎ তীব্র জ্বর, যা সাধারণত দ্ইু থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়,
জ্বরের সময় পুরো গায়ে কিংবা গায়ের অংশ বিশেষে লাল-লাল ফুসকুড়ি,
তীব্র মাথা ব্যথা,
চোখের পেছনে ব্যথা,
মাংসপেশি, অস্থিসন্ধি কিংবা কোমরে ব্যথা,
বিরল ক্ষেত্রে জ্বরের পর্যায়ে রোগীর দেহের নানা জায়গায় রক্তক্ষরণ।
প্রভৃতি এক বা একাধিক লক্ষণ নিয়ে মানবদেহে এই রোগ দেখা দিতে পারে।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গু জ্বর
এ ক্ষেত্রে রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের মতোই। তবে জ্বর শেষে পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর দেহের চামড়ার নিচ, নাক, চোখ, মুখ, যোনিপথ, বমি, প্রস্রাব-পায়খানা বা কাশির সাথে স্বল্প থেকে তীব্র রক্তক্ষরণ হতে পারে,
রোগীর রক্তনালী থেকে প্লাজমা লিকেজের কারণে বুকে ও পেটে পানি জমতে পারে,

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রক্তচাপ কমে গিয়ে রোগী শকে চলে যেতে পারে।
সাধারণত জ্বর শেষ হওয়ার পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্ত রোগীদের এসব লক্ষণ দেখা দেয় বলে ওই সময়কালকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ওই রোগে আক্রান্ত রোগীর ক্রাইসিস পিরিয়ড তথা সঙ্কটকাল বলা হয়। এ ছাড়া সাধারণ কিংবা রক্তপাতসহ ডেঙ্গু জ্বরে রোগের জটিল পর্যায়ে রোগীর দেহের এক বা একাধিক অঙ্গ যেমনÑ লিভার, কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র, ফুসফুস প্রভৃতির অঙ্গে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি আক্রান্ত অঙ্গের কর্মক্ষমতা হঠাৎ করে লুপ্ত হতে পারে।

কাদের ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?
নবজাতক
প্রৌঢ় ব্যক্তি
স্থূল স্বাস্থ্যের অধিকারী
গর্ভবতী নারী
ঋতুবতী নারী
পেপটিক আলসারে আক্রান্ত ব্যক্তি
থ্যালাসেমিয়াসহ অন্যান্য রক্তরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
হৃদযন্ত্রের জন্মগত ত্রুটিতে আক্রান্ত ব্যক্তি
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগী, দীর্ঘমেয়াদে যকৃৎ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি
দীর্ঘমেয়াদে স্টেরয়েড ও ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারকারী
এই রোগের নানা জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।
রোগ নির্ণয়
জ্বরের কারণ তথা ভাইরাসের উপস্থিতি নিরূপণকল্পে পরীক্ষাগুলো :
মানব রক্তে ভাইরাসের দেহস্থ ঘঝ১ এন্টিজেন নামক দেহাণুর উপস্থিতি

ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানব রক্তে উৎপন্ন এন্টিবডির উপস্থিতি
আক্রান্ত মানব কোষ-কলা কিংবা রক্তে ওই জীবাণু কিংবা উহার দেহাংশ তথা এন্টিজেনের উপস্থিতি
কিংবা চঈজ পরীক্ষার মাধ্যমে ওই জীবাণুর নিউক্লিক এসিডের বিন্যাস নির্ণয়
প্রভৃতি এক বা একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে মানব দেহে এই রোগের জীবাণুর উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক রোগ নির্ণয়ে সহায়ক এবং রোগের জটিলতা নিরূপণকল্পে নানা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, টনসিলাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ল্যাপ্টোস্পাইরোসিস, মেনিনজাইটিস, চিকুনগুনিয়া জ্বর, টাইফাস বা সান্নিপাতিক জ্বর প্রভৃতি রোগ একই উপসর্গ নিয়ে মানব দেহে দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনে একই রূপে ভিন্ন ব্যাধির সম্ভাবনা দূরীকরণকল্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক নানা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা
এই রোগের চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। কারণ এই রোগের ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাড়িতে রেখেই এই রোগের নিম্নলিখিত চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে।
এই রোগের চিকিৎসায় পান করতে হবে পানিসহ প্রচুর তরল খাবার। তরল খাবার হিসেবে খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ প্রভৃতি দেয়া যেতে পারে। অন্ততপক্ষে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার তরল খাবার খেতে হতে পারে। এই রোগের চিকিৎসায় তরল খাবার হিসেবে কোল্ড ড্রিংক পরিহার করাই উত্তম।
সেই সাথে নিশ্চিত করতে হবে উপযুক্ত শারীরিক বিশ্রাম।
জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
সেই সাথে প্রয়োজন জ্বরের সময় দ্রুত দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক আনার লক্ষ্যে রোগীর মাথায় ঠাণ্ডা জলপট্টি কিংবা সারা দেহ ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুছে দেয়া যেতে পারে।
বমির জন্য প্রয়োজন হতে পারে বমিনাশক ওষুধ।
প্রয়োজনে রোগের জটিল পর্যায়ে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে। এই অবস্থায় প্রধানত রোগীকে শিরাপথে প্রয়োজনীয় স্যালাইন দেয়া যেতে পারে। সেই সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সময় প্রয়োজনে রোগীর শরীরে রক্ত দেয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে তীব্র রক্তক্ষরণের সময় রোগীর রক্তে অনুচক্রিকার মাত্রা যখন প্রতি কিউবিক মিলি. এ দশ হাজারের কম কিংবা রক্তপাত হলে অনুচক্রিকার মাত্রা কমে প্রতি কিউবিক মিলি. এ পঞ্চাশ হাজার বা তার কম হলেও রোগীর শিরাপথে অনুচক্রিকা তথা প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হতে পারে।

রোগের জটিল পর্যায়ে রোগীর এক বা একাধিক অঙ্গ যখন অকার্যকর হয়ে পড়ে তখন এসব রোগীকে আইসিসিইউতে রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেয়া হয়।
কখন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে
বাড়িতে যথাযথ চিকিৎসা সত্ত্বেও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি,
রোগী মুখে খাদ্য ও পানীয় খেতে না পারলে,
তীব্র পেট ব্যথা, তীব্র বমি,
হাত-পা ক্রমাগতভাবে ঠাণ্ডা ও নিস্তেজ হয়ে আসা,
তীব্র অবসাদ কিংবা রোগীর আচরণের অস্বাভাবিক পরিবর্তন,
রোগীর শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ,
ঋতুবতী মহিলার মাসিকের সময় অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ,
বিগত ৬ ঘণ্টা ধরে আক্রান্ত রোগীর প্রস্রাব না হওয়া,
রোগীর হাত-পা নীল হয়ে আসা,
রোগীর রক্তচাপ অস্বাভাবিক কমে গিয়ে শকে চলে যাওয়া,
শরীরের গতি অতি দ্রুত ও ক্ষীণ হয়ে আসা,
ক্যাপিলারি রিফিল টাইম ৩ সেকেণ্ডের বেশি হওয়া,
রোগীর রক্তে অনুচক্রিকার মাত্রা প্রতি কিউবিক মিলি-এ এক লাখের কম হওয়া,
রোগীর রক্তের ঘনত্ব তথা হেমাটোক্রিটের মাত্রা চল্লিশের বেশি হওয়া,
রোগীর বুক ও পেটে পানি জমা,
রোগীর যকৃতের আকার ২ সেমি.-এর বেশি বৃদ্ধি পাওয়া।
ডেঙ্গুর চিকিৎসায় যা করবেন না
কখনো ডেঙ্গু জ্বরে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এসপিরিন বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন,
রক্তক্ষরণের প্রবণতা দেখা না যাওয়া পর্যন্ত শিরাপথে স্যালাইন দেয়া,

রক্তক্ষরণ তীব্র না হলে কিংবা রক্তের হেমাটোক্রিট অতিরিক্ত মাত্রায় কমে না গেলে রোগীকে রক্ত দেয়া,
রোগের চিকিৎসায় অযাচিতভাবে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের ব্যবহার,
রোগের চিকিৎসার প্রয়োজন না হলে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার,
শরীরের শিরাপথে স্যালাইন প্রবাহের গতি অপ্রয়োজনে অতি দ্রুত বাড়ানো বা কমানো,
রোগীর দেহে অদৃশ্যমান রক্তপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রোগীর পাকস্থলীতে নল ঢুকানো।
নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে করণীয়
প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে উত্তম পন্থা। তাই এই রোগের প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পন্থাগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে।
ক) ব্যক্তিগত পর্যায়ে
ঘুমানোর সময় বিশেষত বিকেল ও রাতে মশারি খাটিয়ে ঘুমানো,
মশকীর দংশন প্রতিরোধকল্পে গায়ে ও পরার কাপড়ে মশক নিবারক ক্রিমের ব্যবহার কিংবা প্রয়োজনে লম্বা হাতওয়ালা শার্ট ও ফুলপ্যান্টসহ মোজা পরিধান,
প্রয়োজনে বাড়িতে মশার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণকল্পে বাড়ির সব জানালা, ভেন্টিলেটর মশা অনভিগম্য জালক বা স্ক্রিনের ব্যবহার।
খ) কমিউনিটি পর্যায়ে করণীয়
স্থির পানিই যেহেতু এডিস মশার বংশবিস্তারের প্রধান মাধ্যম। তাই গৃহস্থালির আশপাশে পড়ে থাকা পানি জমার বিভিন্ন আধার যেমন টিনের ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার, অব্যবহৃত পানির পাত্র, সেপটিক ট্যাংক, এয়ারকুলার প্রভৃতিতে যাতে পানি জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা। প্রয়োজনে উপরোক্ত আবর্জনাগুলো অপসারণের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রয়োজনে পানির ট্যাংক, হাউজ কিংবা ম্যানহোলের গর্তগুলো উপযুক্ত মশক অনভিগম্য ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যাতে পানির আধারের পানিগুলো এডিস মশার বংশবিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে।


ফুলের টব বা ফুলদানিতে জমে থাকা পানি প্রতি তিন দিন অন্তর ফেলে দিতে হবে।
বাড়ির আশপাশের ঝোপজঙ্গল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
) রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে করণীয়
মশার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মশার দমনে নিয়মিতভাবে ব্যাপক হারে মশকনাশক বিভিন্ন কীটনাশক যেমনÑ ডিডিটি, পারমেথ্রিন প্রভৃতি দেয়া যেতে পারে।
মশার লাভা দমনে বাড়ির আশপাশের মজা পুকুর ডোবায় বিভিন্ন কীটনাশক যেমন কেরোসিন, পেরিসগ্রিন প্রভৃতি দেখা যেতে পারে। উপরোক্ত পুকুরে মশার লাভা সেবনকারী বিভিন্ন মাছ যেমন তেলাপিয়া, নাইলোটিকা কিংবা গাপ্পি মাছের চাষ পরিবেশবান্ধব বিকল্প পন্থা হতে পারে।
সেই সাথে রাষ্ট্রীয় সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ডেঙ্গু এর নিয়ন্ত্রণে যথাযথ স্বাস্থ্য শিক্ষার দেয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে এই জনসচেতনতা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আছে কি কোন টীকা?
সম্প্রতি বাংলাদেশে সানোফি-এভেন্টিস নামক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি কর্তৃক উদ্ভাবিত ডেঙ্গুর প্রতিরোধে ডেঙ্গাভেক্সিয়া নামক টীকা বাংলাদেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনগুলোতে এর কার্যকারিতা নিরীক্ষার জন্য স্বল্পপরিসরে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে দেয়া হচ্ছে। তথাপি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য এর সবুজ টিকিট পেতে হলে আমাদের আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে

লেখক : ডা: মো: কফিল উদ্দিন চৌধুরী, মেডিসিন ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।


আরও খবর