Logo
শিরোনাম
খাদের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে বিএনপি

নির্বাচনে না আসলে আর উঠতে পারবে না: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ |
Image

সোনারগাঁ প্রতিনিধি:  

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, গত ১৩ বছর ধরে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা আর জ্বালাও-পোড়াও করে বিএনপি এখন খাদের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। কোন রকমে তাদের নাকটা ভেসে আছে। এখনও যদি তারা সঠিক পথে না আসে, নির্বাচনে না আসে, মুক্তিযুদ্ধের-স্বাধীনতার চেতনা-আদর্শের রাজনীতি না করে, তাহলে ভেসে থাকা নাকটাও ডুবে যাবে। আর কোন দিন খাদ থেকে উঠতে পারবে না।

শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে। তারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেষ লড়াই, মরণপণ লড়াই এর হুমকি দিচ্ছেন। আমি বলতে চাই, এখন পর্যন্ত কোন লড়াইয়ে বিএনপি জিততে পারে নাই, ভবিষ্যতেও আর পারবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ লড়াইয়ে কখনও হারে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও হারে না।

বিএনপির উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ হবে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করুন। এছাড়া, ক্ষমতায় আসার দ্বিতীয় কোন পথ খোলা নেই।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই দলের খুঁটি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নেতৃত্ব নিয়ে কোন কোন্দল থাকলে তা ভুলে যেতে হবে। দলের আদর্শই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড়। আমাদের শক্তি হলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, ত্যাগ ও সাহস। আর দলের নেতৃত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে। এই দুটিকে আঁকড়ে ধরে আমাদের সকল নেতাকর্মীকে কাজ করতে হবে। তাহলে কোন শক্তিই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারাতে পারবে না। আবার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসবে, ইনশাল্লাহ।

 আন্দোলন-সংগ্রামের জন্যও নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, যে কোন পরিস্থিতিতে আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হোন। বিএনপি-জামায়াত যদি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাহলে রাজপথে থেকে আমরা তা মোকাবেলা করব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আমরা সহযোগিতা করব। 

সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস, সংসদ সদস্য সানজীদা খাতুন, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার সহ জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে শামসুল ইসলাম, সাধা্রন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার ও সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের নাম ঘোষনা করেন ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম। 


আরও খবর



হাজীগঞ্জে আলোচিত কাউন্সিলর মিনু"র স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশিত:শনিবার ১২ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

কামরুজ্জামান টুটুল, হাজীগঞ্জ,চাঁদপুর ঃ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯নং  ওয়ার্ডের  আলোচিত সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মিনু আক্তারের স্বামী নুরে আলমকে গ্রেফতার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেফতার করেন হাজীগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রেজাউল করিম। 

পুলিশ জানায়, উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের কাপাইকাপ গ্রামের বাসিন্দা, হাজীগঞ্জ বাজারের দর্জি ও পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯নং  ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মিনু আক্তারের স্বামী নুরে আলমের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির একটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। 

ওই মামলার আসামি হিসাবে তাকে গ্রেফতার করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। ফরহাজুল ইসলাম নামের এক এনজিও'র কর্মকর্তা বাদী হয়ে নুরে আলমের বিরুদ্ধে আদালতে চেক জালিয়াতির একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- সিআর- ৪৪৬/২২। 

এ বিষয়ে নুর আলম জানান, ব্রাক বাজার নামক একটি এনজিও থেকে তিনি ঋণ গ্রহণ করেন। ওই ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। যার ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে নুরে আলমসহ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। 

উল্লেখ্য সম্প্রতি সময় এই নারী কাউন্সিলর এক পুরুষ কাউন্সিলর ও পৌর মেয়রকে উদ্দেশ্য করে নিজ ফেজবুক পেজে বিভিন্ন কুৎসা রটনা রটিয়ে আলোচনায় আসেন। সেই ঘটনায় পৌর কাউন্সিলর মিনু আক্তারের নামে আদালতে মামলা ও থানায় সাধারন ডায়েরি করেন যা তদন্তাধীন রয়েছে। একই বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষ সংবাদ সন্মেলন করেছ 


আরও খবর



লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির সীমান্তে

ভারতীয় বিএসএফর গুলিতে ২ জন বাংলাদেশী রাখাল নিহত

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনস্থ লোহাকুচি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৯২১ হতে ৯২২ পর্যন্ত একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। গত বছরে উক্ত এলাকায় একটি সীমান্ত দুঘর্টনা সংগঠিত হয়েছিল। বর্ণিত ঘটনার পর হতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে সম্পৃক্ত করে জনসাধারণের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ করা সহ এছাড়াও বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করে উক্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করে আসছে।  তার পরেও  বিজিবি টহলদল গুলির শব্দ শুনতে পায় কিন্তু টহলদল উক্ত এলাকা তল্লাশী করে কাউকে খুঁজে পায়নি। পরবর্তীতে আনুমানিক ০৪০০ ঘটিকায় লোহাকুচি বিওপি কমান্ডার স্থানীয় সুত্রে জানতে পারে টহলরত বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে একদল চোরাকারবারী গরু চোরাচালানের চরকিসহ অন্য এলাকা দিয়ে সীমান্ত পিলার ৯২১/৬-এস হতে ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে চরকি স্থাপন করে গরু পারাপারের চেষ্টা করলে ৭৫ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ এর কৈমারী ক্যাম্পের টহল দলের গুলিতে ০২ জন বাংলাদেশী নাগরিক গুরুত্বর আহত হয়। আহত চোরাকারবারীদের সাথে থাকা অন্য চোরাকারবারীরা তাদেরকে উদ্ধার করে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে নিজ বাড়ীতে অবস্থানকালে মৃত্যুবরণ করে। নিহতরা হলেন  লালমনিরহাট জেলার (১) মোঃ ওয়েস কুরনী (৩৫), পিতা-মৃত সানোয়ার হোসেন, গ্রাম-মহিষতলী (২) মোঃ আয়নাল হক (৩৫), পিতা-সাদেক আলী, গ্রাম- তালুক দুলালী গ্রামে । সংবাদ পেয়ে বিজিবি টহলদল নিহতদের বাড়ীতে আসে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনায় কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহবান করা হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে প্রতিবাদলিপি প্রেরণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন জানিয়ে মোবাইল ফোনে ৭১ টিভিকে নিশ্চিত করেন ১৫ বিজিবির হাবিলদার মেজবা উদদীন । এ বিষয়ে ১৫ বিজির সিও লে: কর্নেল তৌহিদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে আর কোন কথা হয়নি। তবে আদিতমারি থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য আদিতমারি থানা নিয়ে যান ।ওসি মোক্তারুল জানান, ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।


আরও খবর



সরকার মিথ্য বলে জনগণকে ভাউতা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৮ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ঃ

সরকার মিথ্য বলে জনগণকে ভাউতা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন মানুষ এই সরকারের পরিবর্তন চায়। শুক্রবার বিকেলে নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গনতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, দেশের ১৭ কোটি মানুষ। তার মধ্যে ৮ কোটি মানুষই গরিব, ২ কোটি শিক্ষিত যুবক বেকার। এই সরকারের পরিবর্তন চায় বলে  বিএনপির সামাবেশে মানুষ নানা ভাবে ছুটে গেছে। ঢাকায়ও মানুষকে আটকে রাখা যাবে না। 

রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে বাধা, হামলা-মামলা, দমন-পীড়ন, গুলি-হত্যা বন্ধ করার দাবিতে ৭টি দলের রাজনৈতিক জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সামবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, আমরা সরকারের পদত্যাগ চাই। জনগন যদি চায় তাহলে কারো শক্তি নাই অবৈধ ভাবে নির্বাচন করার। সরকারের নানা সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদেশীরা এখন তাদের সাথে নেই। এ কারনে এখন সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। এখন তারা ভয়ে আছে। কখন ক্ষমতা ছাড়তে হয়।

সমাবেশে আরও বক্ত্য রাখেন  বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী, হাসনাত কাউয়ুম। 

বক্তারা বলেন , সরকারি দলের নেতারা বলছেন ‘খেলা হবে’।  এই খেলার কথা বলতে- ক্ষমতাশীনরা মনে করে, গায়ের জোর ছারা ক্ষমতায় থাকার আর কোন পথ নাই।

কারণ এই সরকার ভোটে জিততে পারবে না। কেউ আর তাদের ভোট দিবেনা।


আরও খবর



আড়াইহাজারে লেগুনা কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে ১ জন নিহত

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

নারায়ণগঞ্জের  আড়াইহাজারে লেগুনা কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে লেগুনা চালক রতন মিয়া ও যাত্রী দিন ইসলাম নিহত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে লেগুনা ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত আরও দুইজন। উপজেলার মদনপুর গাজীপুর সড়কের শাখায় নরসিংদী - মদনগঞ্জ অংশের লঙ্গুরদী এলাকায় বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন লেগুনার চালক রতন মিয়া । তিনি উপজেলা কৃষ্ণপুরা এলাকার গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। অপরজন লেগুনা যাত্রী  ইজিবাইকের চালক উপজেলার লসকুরদী গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে দিন ইসলাম ।  

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  লঙ্গুরদী এলাকায় বিকেল ৪ টার দিকে দ্রুতগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা লেগুনার সঙ্গে মুখো মুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই লেগুনা চালক রতন মিয়া নিহত হন। এসময় স্থানীয়রা লেগুনার যাত্রীসহ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান দিনইসলাম।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানটি ফেলে রেখে পালিয়েছে চালক। তাকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ লেগুনাটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


আরও খবর



লড়াই চালিয়ে যাবেন ইমরান খান

প্রকাশিত:শনিবার ০৫ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ |
Image

পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা সফল করতে নিজের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী নেতা ইমরান খান।

সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যতদ্রুত সম্ভব শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ার পর তিনি নিজেও ফের আন্দোলনে নামবেন। ০৫ নভেম্বর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের শওকত খানম হাসপাতাল থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইমরান খান বলেন, দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি একটি জাতি কখনও কারো সম্মান পায় না, কোনো উন্নতিও করতে পারে না।

পাকিস্তানকে একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি দিতে যে আন্দোলন জনগণ শুরু করেছে, তা অব্যাহত থাকবে এবং শারীরিকভাবে খানিকটা সুস্থ হয়ে উঠেই আমি ফের তাতে যোগ দেব।

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান ২০১৮ সালে ভোটে জিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী সেনাবাহিনীর সমর্থন তখন তার দিকে থাকলেও কিছু দিন পর তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

সেনা সমর্থন হারানো ইমরানের বিরুদ্ধে এই বছরের শুরুতে জোট বেঁধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে দেশটির বড় দুই রাজনৈতিক দল। তাতে হেরে গত এপ্রিলে ইমরানের সরকারের পতন ঘটলে প্রধানমন্ত্রী হন মুসলিম লীগের শাহবাজ শরিফ, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই।

ক্ষমতা হারানো ইমরান নতুন নির্বাচনের দাবি তুলে পাকিস্তানে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ লংমার্চের ডাক দেন। গত ২৮ অক্টোবর লাহোর থেকে শুরু হয় এই কর্মসূচি।

৪ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল এই লংমার্চ; তার এক দিন আগে, ৩ নভেম্বর ওয়াজিরাবাদ শহরে সমাবেশ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন ইমরান। সমাবেশ চলাকালে স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ইমরান খানকে লক্ষ্য করে একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে গুলি চালায় এক হামলাকারী। আরেক হামলাকারী ইমরানের দিকে পিস্তল তাগ গুলি চালিয়েছিল।

পিস্তল দিয়ে যে হামলাকারী হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল, তাকে হামলার সময়েই পাকড়াও করেন বছর তিরিশের এক যুবক। তিনি ঠিক সময়ে তৎপর না হলে নিহতও হতে পারতেন পিটিআিই চেয়ারম্যান। একে ৪৭ অস্ত্রধারী হামলাকারীর বন্দুক থেকে বের হওয়া ৩ থেকে ৪টি গুলি ইমরান খানের পায়ে বিদ্ধ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাসপাতালে পরই পিটিআইয়ের জেষ্ঠ্য নেতাদের ইমরান খান জানান, হামলার জন্য তিন জনকে দায়ী মনে করেন তিনি। তারা হলেন পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ এবং সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসির। পিটিআইয়ের জেষ্ঠ্য নেতা আসাদ ওমরের মাধ্যমে এই তিন জনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তেলারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

শুক্রবারের ভাষণে ফের তাদের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ইমরান বলেন, সেনাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বৃহত্তম শরিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) অনেক দিন থেকেই তাকে হত্যার চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার যা ঘটেছে, তা প্রতিষ্ঠান (সেনাবাহিনী) ও পিএমএল-এনের যৌথ পরিকল্পনার ফলাফল। (কিছুদিন আগে) প্রথমে তারা আমার বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতা ছড়ানোর অভিযোগ তুলল এবং এ সংক্রান্ত কিছু ভুয়া অডিও টেপ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিল। তারপর বৃহস্পতিবার ওয়াজিরাবাদে আমাকে হত্যার উদ্দেশে হামলা ঘটল।

ভুয়া অডিও টেপ ছড়ানোর কাজটি করেছে পিএমএল-এন। এবং দলটির কোন কোন নেতা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত, তাও আমি জানি। বর্তমানে আমরা সবাই ডিজিটাল পৃথিবীতে বসবাস করি, তাই এসব তথ্য বের করা কঠিন কিছু নয়।

অডিও টেপ ছড়িয়ে পিএমএল-এন একটা প্রেক্ষাপট আগেই তৈরি করে রেখেছিল, তারপর আমাকে হত্যার প্রচেষ্টা চালায় প্রতিষ্ঠানের কিছু কুলাঙ্গার কর্মকর্তা। আমার ওপর যে প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে, সেই খবরও আমি লংমার্চ শুরুর আগেই পেয়েছিলাম।

আমাদের দাবি, যে তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে- অবিলম্বে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। যতক্ষণ তারা পদত্যাগ না করবে— জনগণ সড়ক ছাড়বে না।

পাকিস্তানের অখণ্ডতা একমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোই নিশ্চিত করতে পারে বলে দাবি করেন পিটিআই চেয়ারম্যান। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

যদি সেনাবাহিনী দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করতে পারত, তাহলে পূর্ব পাকিস্তান আজ বাংলাদেশ হতো না। একমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোই পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা করতে সক্ষম, এক্ষেত্রে সেনাবাহিনী তাদের সহায়ক মাত্র।


সূত্র : রয়টার্স, ডন, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন


আরও খবর

থাইল্যান্ডে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ

মঙ্গলবার ২২ নভেম্বর 20২২

হেরে গেলেন মাহাথির

রবিবার ২০ নভেম্বর ২০22