Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

নওগাঁর নিভৃত পল্লীতে দিনব্যাপী অনন্য বই মেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

প্রত্যন্ত গ্রামের নিভৃত পল্লিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়া, গ্রামের মানুষকে শতভাগ শিক্ষিত করার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলা, শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়া রোধ করাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নের লক্ষে নওগাঁর মান্দা উপজেলার মসিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে দিনব্যাপী অনন্য বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার সকালে মসিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে দিনব্যাপী নিভৃত পল্লীতে অনন্য বই মেলার প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক। মসিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি ও পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী অনন্য বইমেলায়  অন্যান্যের মধ্যে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এম মজনুর হোসেন। 

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহীর হেরিটেজ বাংলাদেশ ইতিহাসের আর্কাইভস প্রফেসর ড. মো. মাহবুবর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রার ড. শেখ সাদ আহম্মেদ, নওগাঁর মান্দার শাহ কৃষি তথ্য পাঠাগার ও যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম শাহ, রাজশাহীর কথা সাহিত্যিক নিরমিন শিমেল, রাজশাহীর লেখক, গবেষক ও সমাজসেবক ডিএম খোশবর আলী, বিভাগীয় সরকারী গণগ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক মাসুদ রানা, বাংলাদেশ বেসরকারী গণগ্রন্থাগার পরিষদেও সহসভাপতি নুরুন নবী প্রভাত মৃধা, মসিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি ও পাঠাগারের সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক, নওগাঁ সরকারী গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান এসএম আশিক, মশিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ প্রমুখ। 

নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ৬০কিলোমিটার দুরে কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের নিয়ে ২০১০সালে মান্দা উপজেলার মসিদপুর শিক্ষা উন্নয়ন সমিতি ও পাঠাগার স্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক। শিক্ষা কার্যক্রম ছাড়াও সংগঠনটি গত ১১বছর যাবত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরন প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষে বার্ষিক বই মেলার আয়োজন করা, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।  

এছাড়া অনন্য বই মেলায় চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, অভিনয়, কৌতুক, উপস্থিত বক্তৃতা দেশাত্মবোধক গান ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে মান্দা উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর

ভাষার মাসের প্রথম দিনে নওগাঁয় বর্ণমালা মিছিল

বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রাণীনগরে ক্লাব ঘর থেকে প্রায় ২২শ'কেজি সরকারি চাল জব্দ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :

নওগাঁর রাণীনগরে একটি ক্লাবঘর থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ভিজিডির বিতরণকৃত দুই হাজার ১৯০কেজি  চাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি ক্লাব ঘর থেকে এই চালগুলো জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে তাবাসসুম।পরে চালগুলো তিনটি এতিমখানা-মাদ্রাসায় বিতরণ করে দেওয়া হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলা সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, এদিন সকাল থেকে 

কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডির কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় অসাধু কিছু ব্যবসায়ী ওইসব সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে সরকারি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ চাল কিনে পরিষদের পার্শ্বে একটি ক্লাবঘরে মজুদ করছেন। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওই ক্লাবঘর থেকে দুই হাজার ১৯০কেজি চাল জব্দ করা হয়। অভিযানকালে চাল ব্যবসায়ী কাউকে না পাওয়ায় পরে চালগুলো জব্দ করে তিনটি এতিমখানা-মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে।

অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ রাণীনগর  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু রায়হান উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



ট্রাম্পকে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

প্রতারণা মামলায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ট্রাম্প অর্গ্যানাইজেশনকে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে নিউইয়র্কের একটি আদালত। স্থানীয় সময় শুক্রবার এই রায় দেওয়া হয়।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রায়ে ট্রাম্পকে তিন বছরের জন্য নিউইয়র্কের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয় এবং নিউইয়র্কের কোনো করপোরেশনে তাকে অফিসার বা পরিচালক হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের একজন বিচারক শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার কোম্পানিগুলোকে ৩৫৪.৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছেন। রায়ে বিচারক জানিয়েছেন, তারা কয়েক বছর ধরে তাদের এমন সব আর্থিক বিবরণ দিয়ে বোকা বানাচ্ছিল যা তার অর্থের পরিমাণকে বাড়িয়ে দেখাচ্ছিল।

ট্রাম্পকে অবিলম্বে এই অর্থ দিতে হবে না কারণ এ ব্যাপারে আপিলের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে এই রায় সাবেক প্রেসিডেন্টের অগ্রগতির জন্য প্রতিবন্ধক।

শেষ অবধি তিনি যদি এই অর্থ প্রদানে বাধ্য হন তাহলে আগের বিচারের রায়ের উপর এই রায় তার অর্থ সম্পদকে নাটকীয়ভাবে হ্রাস করবে। এছাড়া একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

২০২২ সালে সম্পত্তির মূল্য বাড়িয়ে দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক লোন ও বীমা সুবিধা নেয়ার অভিযোগে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি আদালতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই দেওয়ানি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ট্রাম্পের কোম্পানি ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্পত্তির অতিরিক্ত মূল্য দেখানো আবার সেই সম্পত্তিরই দাম কম দেখিয়ে আয়করে ছাড় পাওয়া, ব্যবসায়িক রেকর্ড, বীমা জালিয়াতি এবং ষড়যন্ত্রসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করে আদালত।

বেশ কয়েকটি ফৌজদারি অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।


আরও খবর

অনুমতি ছাড়া হজ করলে শাস্তি ঘোষণা

শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪




রামগড়ে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার অপরাধে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন রানা

রামগড়(খাগড়াছড়ি) :

রামগড়ে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার দায়ে ১ ব্যাক্তিকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার ১২ জানুয়ারী রাত সাড়ে ৮টায় রামগড় পৌরসভাধীন মুহামনি বিজিবি ক্যাম্পের পিছনে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার অপরাধে রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মমতা আফরিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১ ব্যাক্তিকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।

জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যাক্তি হলেন, ফেনীরকুল গ্রামের ০৮ ওর্য়াড়ের বাসিন্দা মো.হারুন চৌধুরী।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মমতা আফরিন বলেন, মহামুনি বিজিবি ক্যাম্পের পিছনে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে এসে সত্যতা পান। এসময় ভূমির মালিক ঘটনাস্থলে এসে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী উক্ত ভূমির মালিক মো.হারুনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এবং এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর



হাত ঘুরে আলুর দাম বাড়ছে ৫০%

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

আগাম তোলার পর এখন বাজারে এসেছে নতুন আলু। দাম কমেছে ভোক্তা পর্যায়ে। তবে খেত থেকে বিক্রির হওয়া আলুর দামের সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া দামের পার্থক্য অনেক। হাত ঘুরতেই আলুর দাম বাড়ে যাচ্ছে ৫০ শতাংশ। কৃষক পর্যায়ে ৩০ টাকা কেজি দরের আলু বাজারে বিক্রির হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। দেশে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে আলুর ব্যবসায়। এ কারণে ঠকছেন কৃষক ও ভোক্তারা।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় আলুর উচ্চফলন হলেও হিমাগার না থাকায় সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে পচনের ভয়ে কম দামেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। পরে বছর শেষে কৃষককেই আলু কিনতে হচ্ছে বিক্রির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় খোঁজ নিয়ে এই অবস্থা দেখা গেছে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগের তৎপরতার কমতিকে দায়ী করছেন ক্রেতারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় খেত থেকে আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫ টাকায়। একই দিনে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে আলু খুচরা বিক্রির হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। তবে রাজধানী ও আশপাশের এই দামের বৈচিত্র্য পাওয়া গেছে। ঢাকার ডেমরা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা আলু বিক্রি করেছেন ৪০-৪৫ টাকা দরে। তবে মিরপুর এলাকায় আলু বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫২ টাকা কেজি দরে। রাজধানীর বাসাবো এলাকায় আলু বিক্রির হয়েছে ৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত। রাজধানীর অদূরের জেলা নরসিংদীতেও আলু বিক্রি হয়েছে এই দামে।

রংপুর : জেলার পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নে মাঠে আলু বিক্রি হয় কেজি ৩২-৩৫ টাকা, উপজেলা সদরের বাজারে আলু বিক্রি হয় ৩৮ টাকা। তবে জেলা শহরের মডার্ন মোড় পাইকারি বাজারে ৩৮ টাকা ও খুচরা বাজারে ৪০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হয়। গতকাল একই অবস্থা ছিল সিটি বাজারের।

বিভাগের পাঁচ জেলায় চলতি মৌসুমে ৯৮ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে আলুর চাষ হয়েছে ১ লাখ ৬০২ হেক্টর জমিতে। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৯২ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ বেড়েছে। গত মৌসুমে এই অঞ্চলে ৯৭ হাজার ৩২৭ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছিল।

সংরক্ষণে হিমাগার সংকট সৃষ্টি না হলেও আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চলতি বছর অতিরিক্ত কুয়াশায় লেটব্লাইটের শঙ্কা কাটাতে ওষুধ ছিটানোতে খরচ বাড়ছে কৃষকের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে রংপুরে ৫৩ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ অঞ্চলে আলু সংরক্ষণের ৬৭টি হিমাগারের মধ্যে ৪০টিই রংপুর জেলায় অবস্থিত।

সিরাজগঞ্জ : জেলায় ৩ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬৯৫ হেক্টর। এ থেকে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টন হয়েভে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।

জেলায় সরকারি কোনো হিমাগার না থাকায় চাষিরা সনাতন পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করেন। ফলে অনেক সময় সংরক্ষিত আলু নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা।

ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা সরাসরি মাঠে থেকে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় মণ (কেজি ৩০-৩২) আলু কিনছেন। জেলার বাজারে জাত ভেদে ৩০-৪৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে।

জেলার তাড়াশ উপজেলার নাদোসৈয়দপুর গ্রামের আলু চাষি সালাম জানান, এবার আলুর দাম ও ফলন ভালো। তবে হিমাগার না থাকায় আলু সংরক্ষণ করতে পারি না। যে কারণে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হই।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মশকর আলী আলুর ভালো ফলন হওয়ার পাশাপাশি বাজারে দাম বেশি থাকায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।

বগুড়া : বগুড়ায় এবার আগে বছরের চেয়ে ২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গত বছর ৫৩ হাজার ২১৫ হেক্টর জমি থেকে ১২ লাখ ২৪ হাজার ১২০ টন আলু উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে আলু চাষ হয়েছে ৫৫ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। এখান থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার ৪৭৫ টন।

বগুড়ায় পাকড়ি জাতের আলু জমি থেকেই কৃষক বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৩৭-৩৮ টাকা দরে। সেই আলু শহরের পাইকারি বাজার রাজাবাজারে এসে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা ও খুচরা বাজারে ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ডায়মন্ড, এস্টারিক্স, কার্ডিনাল জাতের আলু জমি থেকে ৩৪-৩৬ টাকা বিক্রি হলেও পাইকারি বাজারে ৪০-৪৩ টাকা ও খুচরা বাজারে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সদরের শাখারিয়া এলাকার চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, আগাম জাতের আলু তারা উত্তোলন করে জমি থেকেই বিক্রি করছেন, এতে তাদের পরিবহন খরচ বেঁচে যাচ্ছে। তবে বাজার রাজাবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী রায়হান আলী জানান, পরিবহন খরচ, খাজনা, বাছাই খরচ মিলে প্রতি কেজি ২ থেকে ৩ টাকা খরচ হয়।

মুন্সীগঞ্জ : চলতি বছর জেলায় ৩৪ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী তা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি। তবে জেলায় এখনো আলু তোলা তেমন শুরু হয়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, আলু গাছে যেন আগাম নাভিদশা রোগ থেকে প্রতিকার ও প্রতিরোধে ছত্রাকনাশক ওষুধ ছিটাতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নরসিংদী : জেলার ছয় উপজেলার মধ্যে শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব ও রায়পুরায় সবচেয়ে বেশি আলু আবাদ হয়েছে। জেলায় এবার প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। কৃষি কার্যালয়ের তদারকির ফলে বিভিন্ন এলাকায় বাম্পার ফল হয়েছে।

জেলার রায়পুরা উপজেলার রংপুর গ্রামের চাষি মাহালম মিয়ার প্রায় দুই একর জমিতে ৪৭ মণ আলু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম দিকে প্রতি মণ আলু দুই হাজার টাকার বেশি দরে বিক্রি করেছেন। এখন ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করায় প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় ৪৮ টাকা। তবে বাজার ঘুরে প্রতি মণ আলুর দাম পড়ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে। এতে প্রতি কেজি পড়ছে ৬০ টাকা। এদিকে নরসিংদীতে আলু সংরক্ষণাগার (হিমাগার) না থাকার কারণে কৃষকরা সঠিক দাম পায় না। পচনের ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।

নীলফামারী :জেলায় চলতি মৌসুমে জেলায় আলুর ভালো ফলন হলেও খেত ও বাজারের দামের ফারাকে হতাশ চাষিরা। আলু খেত থেকে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৪-২৫ টাকা দরে। হাত ঘুরে বাজারে একই আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি ৪৫ টাকায়। সদর উপজেলার মুন্সীপাড়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিনসহ একাধিক চাষির সঙ্গে কথা বলে এই অবস্থা জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয় ২১ হাজার ৭১২ হেক্টর জমি। তবে হঠাৎ আলু বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আরো ২৭৮ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫ টন।

জেলার বড় বাজারের আলু সরবরাহকারী আদম আলী জানান, জেলার ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা খেত থেকে আলু সংগ্রহ করা আলু তাদের কাছে ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে তারা এই আলু বিক্রি হচ্ছে ৩১-৩২ টাকা কেজি দরে।

শহরের ডাকবাংলো সড়কের সার্কিট হাউজপাড়ার বাসিন্দা আজগার আলী জানান, চাষিরা আলু বিক্রি করছে ২৫ টাকা কেজি দরে, সেই আলু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি ৪৫ টাকায়। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠানের উদাসিনতাকে দায়ী করছেন তিনি।

জেলায় বার্ষিক খাওয়া আলুর চাহিদা ৭৪ টন ও বীজ আলুর চাহিদা ৩৪ হাজার টন। জেলায় বিএডিসি ২টি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ৯টি হিমাগারে আলুর ধারণক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ২৫০ টন। ফলে জেলায় উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকছে প্রায় ৪ লাখ ১৬ হাজার ৭৬১ টন।

বিরামপুর (দিনাজপুর) : উপজেলায় বিরামপুরের পাইকারি ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ জানান, গত সপ্তাহে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ কিনেছি, বৃহস্পতিবার কেনা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা। এদিকে দেশি আলু গত সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ৪০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা মণ, বৃহস্পতিবার এর দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ।

ফলে খুচরা ব্যবসায়ী ফারুক জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কমেছে কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে প্রকার ভেদে দাম ছিল ৫৫-৬০ টাকা কেজি। বর্তমান বাজারে প্রকার ভেদে আলুর কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। কৃষি কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুমের চেয়ে এবার আগাম আলুর ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের লোকসান হবে না।


আরও খবর

চড়া দাম অধিকাংশ পণ্যের

শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ সবজি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারী 2০২4 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

ভরা মৌসুমে বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকার পরেও লাগামহীন রয়েছে সবজির দাম। ষাটের নিচে তেমন কোনো সবজি নেই বললেই চলে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে আলুর দাম। প্রায় আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমেছে রসুনের দাম।

শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লম্বা বেগুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, গোল বেগুন ৮০-৯০ টাকা, ফুলকপি ৪০-৫০ পিস, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা, শিম ৮০-১০০ টমেটো ৭০-৮০, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৭০-৮০ টাকা মান ও সাইজভেদে লাউ ৭০-১০০ টাকা, শশা ৫০-৬০, মূলা ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা গেল সপ্তাহজুড়ে কিছুটা কমে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়াও শাকের মধ্যে সরিষা শাক আঁটি ১৫ টাকা, ডাটা শাক ১৫ টাকা, পালং ১৫-২০ টাকা, লাউ শাক ৪০-৫০, লাল শাক ১৫ টাকা, বথুয়া শাক ১৫-২০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে দোকানের তুলনায় ভ্যানে কিংবা ফুটপাতের দোকানগুলোতে প্রত্যেক সবজির দাম ৫-১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কিছুটা কমেছে। ৪০ টাকায় নেমেছে আলুর কেজি। এছাড়াও ভ্যান গাড়িতে কিছু ছোট সাইজের আলু ৩৫ টাকাতেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। ভরা মৌসুমেও কমছে না পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো বাজারে ১১০-১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে রসুনের দাম। প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন ২২০-২৪০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। নতুন দেশি রসুন ২০০-২২০ টাকা কেজি। এছাড়াও আদা ২২০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে অস্বস্তি রয়েই গেছে মাছ-মাংসের বাজারে। আবারও ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে ব্রয়লার মুরগীর দাম। সোনালি ৩০০-৩৩০ টাকা। আবারও গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকায় দাম উঠেছে।

মাছের বাজারে সাইজ ভেদে তেলাপিয়া ২২০-২৩০ ও পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। যা গেল সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয়েছে। অন্য মাছের মধ্যে মাঝারি ও বড় আকারের চাষের রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের দাম প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়াও ৬০০ টাকার নিচে নেই পাবদা, টেংরা, কই, বোয়াল, চিতল, আইড় ও ইলিশ মাছ। মাছ যত বড় তার দাম ততো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

 


আরও খবর

চড়া দাম অধিকাংশ পণ্যের

শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪