Logo
শিরোনাম

নওগাঁয় ধান ক্ষেত থেকে মৃতদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:Monday ০৭ November ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ


নওগাঁয় নিখোঁজের ১৫ ঘন্টা পর মাঠে "ধান ক্ষেত" থেকে স্বপন আকন্দ (৩৯) নামে এক ব্যাক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার ৬ নভেম্বর সকালে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার জয়সার গ্রামের উত্তর মাঠের ধানের ক্ষেত থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করেন রানীনগর থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত মৃতদেহটি জয়সার পশ্চিমপাড়া গ্রামের মজিবর রহামনের ছেলে স্বপন আকন্দ (৩৯) এর।

স্থানিয় ও নিহতের পরিবার সুত্র জানায়, শনিবার বিকেল ৩ টার দিকে স্বপন বাড়ি থেকে বেড়িয়ে খানপুকুর বাজারে যায়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। স্বপন বাড়ি না ফেরায় সন্ধ্যার পর থেকে গ্রামে ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর রবিবার সকাল আনুমানিক ৭ টারদিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পান গ্রামের উত্তর মাঠে ফসলের জমিতে স্বপনের মৃতদেহ পড়ে আছে।

ধান ক্ষেতে মৃতদেহ পরে থাকার খবর পেয়ে রাণীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোট অন্তে ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জ্যন নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। এব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।



আরও খবর



৬২ বছর পর ব্রাইটনের কাছে বিধ্বস্ত লিভারপুল

প্রকাশিত:Sunday ১৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

প্রিমিয়ার লিগে পরপর দুই ম্যাচে তিনটি করে গোল খেয়ে পরাজয়ের বৃত্তে লিভারপুল। লিগে আগের ম্যাচেই ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল লিভারপুল। এবার একই লজ্জায় অলরেডদের ডুবালো ব্রাইটন। ১৯৬১ সালের পর প্রথমবারের মতো লিগে ব্রাইটনের কাছে হারতে হল লিভারপুলকে। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) নিজেদের মাঠে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাইটন। ম্যাচের সব কয়টি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে।

বল দখল, আক্রমণ, গোলে ও লক্ষ্যে শট- প্রতিটি ক্ষেত্রেই লিভারপুলকে টেক্কা দিয়েছে ব্রাইটন। অবশ্য শুধু টেক্কা দেয়নি, বেশ বড় ব্যবধানেই এগিয়ে ছিল ব্রাইটন। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে ব্রাইটন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ব্রাইটন।

ম্যাক অ্যালিস্টারের পাসে ডান দিক থেকে নিচু শট নিয়েছিলেন ব্রাইটন ফুটবলার মার্স। তবে তাতে লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার পরাস্ত হলেও গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে লিভারপুলের দুর্গ অক্ষত রাখেন ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড। এরপর বিরতির আগে আরও দুইটি সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাইটন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাইটন। তবে ভিএআরে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন রেফারি। তবে প্রথমার্ধে গোল না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর আট মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করে লিভারপুলকে ব্যাকফুটে ফেলে দেয় ব্রাইটন।

বিরতি থেকে ফেরার পর ম্যাচের ৪৬তম মিনিটে কাছের পোস্ট থেকে দুর্দান্ত শটে ব্রাইটনকে প্রথম লিড এনে দেন মার্চ। সাত মিনিটের ব্যবধানে আবারও গোলদাতা সেই মার্চ। ফার্গুসনের পাস নিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে বল দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে লিভারপুলের কফিনে শেষ পেরেক মারেন ওয়েলবেক।

থ্রো থেকে মার্চের বাড়ানো পাসে দারুণভাবে ফ্লিক করে গোল করেন তিনি। ম্যাচের বাকি সময়ে লিভারপুল একাধিক চেষ্টা করেও গোল ব্যবধান কমাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত অলরেডদের বিপক্ষে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাইটন। এর আগের লেগেও লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল তারা।

এখন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচে ৯ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে এখন সাত নম্বরে রয়েছে ব্রাইটন। সমান ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে আটে আছে লিভারপুল। ১৭ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আর্সেনাল।


আরও খবর



উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে নওগাঁর সড়কগুলোর দৃশ্যপট

প্রকাশিত:Friday ২৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পাল্টে গেছে নওগাঁর সড়ক মহাসড়ক গুলোর চিত্র। ২০০৯ ইং সাল থেকে ২০২২ ইং সাল পর্যন্ত নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিনে ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো নওগাঁর নজিপুর-ধামইরহাট-জয়পুরহাট সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, নওগাঁ-বদলগাছী-পত্নীতলা সড়ক উন্নয়ন এবং মহাদেবপুর ও বদলগাছী ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মহাদেবপুর এবং বদলগাছী সেতু নির্মাণ, পত্নীতলা-সাপাহার-পোরশা-রহনপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, পিএমপি প্রোগ্রামের আওতায় আত্রাই সিংড়া সড়ক, মান্দা-বাঘমারা-আত্রাই সড়কে আহসানগঞ্জ সেতু নির্মাণ প্রমুখ। যার মোট বরাদ্দ ছিলো ৯৩১০৫.২৪ লাখ টাকা। 

আর ১৭২১৫৫.৭৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো হচ্ছে নওগাঁ সড়ক বিভাগাধীন ১টি আঞ্চলিক ও ২টি মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরন প্রকল্পের আওতায় বদলগাছী-পাহাড়পুর-জহয়পুরহাট সড়ক উন্নয়নের কাজ, নওগাঁ-আত্রাই-নাটোর মহাসড়কের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ, পিএমপি প্রোগ্রামের আওতায় এনায়েতপুর-মহাদেবপুর-পাটাকাটাহাট-মান্দা সড়কের উন্নয়ন কাজ, নওহাটামোড় চৌমাসিয়া, আব্দুল জলিল পার্ক এবং বশিপুর মোড়ে ইন্টারসেকশন নির্মাণ কাজ, পত্নীতলা-সাপাহার-পোরশা-রহনপুর সড়কের ওভারলেকরণ উন্নয়নের কাজ ও নওগাঁ সড়ক বিভাগাধীন ৩টি আঞ্চলিক ও ৩টি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ কাজ। 

নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের অধীনে পুরো দেশের সঙ্গে নওগাঁর সড়ক ব্যবস্থায় আধুনিকতা ও উন্নয়নের যে ছোঁয়া স্পর্শ করেছে তা বিগত সময়ের কোন সরকারের আমলেই করা হয়নি। বিশেষ করে আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীর উপর নির্মিত সেতু, নওগাঁ থেকে রাজশাহী যাওয়ার মহাসড়ক নতুন করে করে নির্মাণ, ঐতিহাসিক পাহাড়পুর মহাসড়কটি নতুন করে নির্মাণ ও বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে থাকা নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজ নতুন করে শুরু করাসহ সবগুলো প্রকল্পই নওগাঁকে দেশের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে নতুন করে আধুনিকমানের উন্নয়নের মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যার ফলে পুরো নওগাঁর লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। এই সব নতুন করে নির্মাণ হওয়া সড়কের আশেপাশের অঞ্চলের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বদলে গেছে। এই সড়কগুলোকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের যার কারণে এই সব অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাপনেও এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। 

তিনি আরো জানান, আমরা চেস্টা করেছি সরকারের গৃহিত মিশন ও ভিশনকে শতভাগ সফল করতে এই প্রকল্পগুলোকে যথাযথ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার। তবে বিশেষ কিছু কারণে অনেক প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা না গেলেও সেগুলোও আমরা যথাযথ পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে শেষ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে প্রবেশের লক্ষ্যে নওগাঁ সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সব সময় সকল প্রকল্পগুলোকে সঠিক সময়ে ও সঠিক তদারকির মাধ্যমে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে চেস্টা অব্যাহত রেখেছি। আগামীতেও নওগাঁর সড়ক বিভাগের এমন কর্মতৎপড়তা অব্যাহত থাকবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদি। 

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের কোন বিকল্প নেই। এমন কোন খাত নেই যেখানে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া স্পর্শ করেনি। বিগত জোট সরকারের আমলে এই অঞ্চলে সর্বহারা নামক সন্ত্রাসীরা দিনে-দুপুরে মানুষকে গলা কেটে হত্যা করতো। যার কারণে পুরো দেশসহ বিশ্বের কাছে নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯সালে সরকার গঠনের পরই এই রক্তাক্ত জনপদে বইতে শুরু করে শান্তি সুবাতাস। প্রধানমন্ত্রী কঠোর হাতে সর্বহারা ও জেএমবিকে দমন করেন। 

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কথা বলে শেষ করা যাবে না। তবে বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকা নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ২২কিমি কালীগঞ্জ সড়কের নতুন পাকাকরণের কাজ ও আত্রাই নদীর উপর নির্মাণ করা আত্রাই সেতু আধুনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই দুই উপজেলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট পাল্টে দিয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একাডেমিক ভবনগুলো এলাকার মানুষদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অগ্রনি ভূমিকা রাখছে। তাই দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, গৃহিত মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামীতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের কোন বিকল্প নেই। 


আরও খবর



মানবতার আরেক নাম, ডা. ফেরদৌস খন্দকার

প্রকাশিত:Monday ৩০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকার।নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করলে অনেক চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ রাখেন। কিন্তু সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন ডা. ফেরদৌস। দুঃসময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ডা. ফেরদৌস। চেম্বার খোলা রেখে করোনা আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছেন। মনস্থির করলেন নিজের মাতৃভূমিতে এসে নিজেকে বিলিয়ে দিবেন দেশের মানুষের স্বার্থে।

শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন (ইউএসএ) ইনক'র সভাপতি মানবিক মানুষ ডা. ফেরদৌস খন্দকার , তার মুল লক্ষ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলকে বিশ্ব বাসির কাছে পরিচিত করে দেওয়া এবং স্কুল কলেজ এর ছাত্র, ছাত্রীদের মাঝে তার মূল্যায়ন গড়ে তোলা তিনি বলেন দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত- একটি পক্ষ স্বাধীনতার পক্ষে আর একটি স্বাধীনতা বিরোধী, তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশ, জন্মভূমি এবং স্বাধীনতার পক্ষে থাকবে নাকি ভুল সিদ্ধান্ত নিবে। 

শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ শাখার নামে তিনি দেশে বিদেশে নানা রকম মানব কল্যাণ মূলক কাজ করে থাকেন ডাঃ ফেরদৌস খন্দকার ।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. ফেরদৌস খন্দকার। জন্মগ্রহণ করেছেন কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বারে। বাবা ফয়েজ আহমেদ খন্দকার বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। মা আনোয়ারা বেগম খন্দকার গৃহিনী। তিন ভাইবোনের মধ্যে ডা. ফেরদৌস বড়।
ডাক্তার ফেরদৌসের মায়ের পরিবার দেবিদ্বারের পাশের মুরাদনগরের কেষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার নানা সামরিক বাহিনীতে অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন। সহজ-সরল মানুষ। উনার ছয় ছেলে, এক মেয়ে। তার প্রথম ছেলে খুরশিদ আনোয়ার সাহেব, উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ওই সময় সেই এলাকার মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার ছিলেন তিনি। পরে ফার্মাসিস্ট হয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন। দ্বিতীয় জনও মুক্তিযোদ্ধা, অ্যাকাউন্টেন্ট।
ছোটবেলা থেকেই স্বেচ্ছাসেবী কাজ করতে পছন্দ করতেন ডাক্তার ফেরদৌস। গ্রামে এবং নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা স্বেচ্ছাসেবী কাজের সাথে জড়িত ছিলেন এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।  তিনি ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্নিশিপসহ মেডিসিনে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তারপর পরিবার সহ পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানকার নিউইয়র্ক মেডিকেল কলেজ থেকে প্রশিক্ষণসহ চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ধীরে ধীরে বাংলাদেশিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ডাক্তার ফেরদৌস। পাশাপাশি জীবন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। 

 ডাক্তার ফেরদৌস কোন কাজকেই ছোট মনে করেননি। একসময় আমেরিকায় ট্যাক্সি ক্যাব চালিয়েছেন।   এমনও অনেক দিন গেছে টানা ১৯ ঘন্টা তিনি ট্যাক্সি চালিয়েছেন।  দশজন সাধারণ অভিবাসীর মতই তিনি ঘুরেছিলেন এই শহরে ভাগ্যের অন্বষনে। যুক্তরাষ্ট্রে ডাক্তারী পেশার জন্য প্রাকটিস সনদ পরিক্ষার খরচ যুগিয়েছিলেন এবং শেষ দিকে এসে যখন এই ডাক্তারী অফিসটি ভাড়া নিয়েছিলেন, সেটার ভাড়া আর কর্মচারীদের বেতন তুলে চলতেন।


লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য নিজের পরিশ্রম আর অধ্যবসায়কে বেছে নিয়েছেন ডাক্তার ফেরদৌস। নিজের পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ডাক্তার ফেরদৌস হয়ে উঠলেন সফলদের একজন। 
তিনি জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ততম ৩৭ স্ট্রিটে ওয়েস্টার্ন কেয়ার মেডিকেল কেয়ার পিসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সমমনাদের নিয়ে। সেখানে দেশি বিদেশি ৭ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বসেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মূর্তমান বিশ্বস্ততার প্রতিক হয়ে উঠলেন ডাক্তার ফেরদৌস।

 

একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলাদেশী, ভারতীয় এবং পাকিস্থানী নাগরিকদের মধ্যে যথেষ্ট খ্যাতি কুড়িয়েছেন । নিউইয়র্কের অলাভজনক সংস্থা দি অপটিমিস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। রোগিদের আস্থা আর তাদের প্রতি সেবাকে আরো বিস্তৃত করতে নতুন একটি মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন ফেরদৌস খন্দকার। জ্যাকসান হাইটস এর ৭০-৩৮ ব্রডওয়েতে এই চিকিৎসা কেন্দ্রটি অবস্থিত। মানুষজন বিক্ষিপ্তভাবে এদিক সেদিক না গিয়ে যাতে এক ছাদের নিছে সেবা পায় সেজন্যই তার এই প্রচেষ্টা। 

 

ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখার পাশাপাশি, ফেসবুক এবং ইউটিউবে নিয়মিত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষকে রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি চান মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞানের পরিধি বিস্তার হোক।
বিদেশে থাকলেও স্বদেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করলেন। মেডিকেলের শিক্ষার্থী হিসেবে সেনাবাহিনীর বৃত্তি পেয়েছিলেন। অর্থ-বিত্তে সাফল্যে পৌঁছার শুরুতেই তিনি সেই বৃত্তি ফেরত দিয়েছেন। নানাভাবে তাঁর দায় পরিশোধের উদ্যোগের কথা জানালেন। নিজের অর্থ ব্যয়ে গ্রামে হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম করছেন। এসব কাজ করতে গিয়ে নানা বাধাবিপত্তির মোকাবিলা করেছেন।

বছরে অন্তত চারবার দেশে আসেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। নিজের এলাকার জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার তাড়না থেকেই আসেন তিনি। অর্থনৈতিকভাবে বেশ সফল হলেও ভ্রমণের সময় বাড়তি ব্যয় করেন না। বেঁচে যাওয়া সেই অর্থ বরং মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন। 


আরও খবর



প্রশ্নফাঁসে ১০ বছর কারাদণ্ডের আইন পাস

প্রকাশিত:Tuesday ১৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Monday ০৬ February ২০২৩ |
Image

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন-২০২৩ বিল’জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে কোনো পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন-২০২৩ বিল’পাস হয়। এছাড়া ভুয়া পরিচয়ে অংশ নিলে ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদ একটি বিল পাস হয়েছে।

আইনে সরকারি চাকরির পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধ ও তার সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার্থী না হয়েও নিজেকে পরীক্ষার্থী হিসেবে হাজির করলে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে বা অন্য কোনো ব্যক্তির নামে বা কোনো কল্পিত নামে পরীক্ষায় অংশ নিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

এর আগে বিলটির ওপর আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো হয় এবং সংশোধনীগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। তবে জাতীয় পার্টির এমপি ফখরুল ইমামের একটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

১৯৭৭ সালে প্রণীত বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন এ আইন প্রণীত হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্ডিন্যান্সের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন এমনভাবে বহাল থাকবে, যেন এটি নতুন আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একজন সভাপতি এবং ছয় থেকে সর্বোচ্চ ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হবে। কমিশন প্রজাতন্ত্রের জনবল নিয়োগের উদ্দেশে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান সাপেক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি ও শর্তাবলি নির্ধারণ করতে পারবে।

বিলে প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে পরীক্ষার জন্য প্রণীত কোনো প্রশ্ন সংবলিত কাগজ বা তথ্য, পরীক্ষার জন্য প্রণীত হয়েছে বলে মিথ্যা ধারণাদায়ক কোনো প্রশ্ন সংবলিত কাগজ বা তথ্য অথবা পরীক্ষার জন্য প্রণীত প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে বলে বিবেচিত হওয়ার অভিপ্রায়ে কোনো প্রশ্ন সংবলিত কাগজ বা তথ্য যেকোনো উপায়ে ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণ করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। এ অপরাধ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হবে।


আরও খবর



মোরেলগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৈন্যদশা শিক্ষার্থী ৮ শিক্ষক ২

প্রকাশিত:Thursday ০২ February 2০২3 | হালনাগাদ:Tuesday ০৭ February ২০২৩ |
Image

এম. পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে দৈন্যদশা। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা। ছুটি না নিয়ে অনেকেই থাকছেন অনুপস্থিত। পরেরদিন হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দেখানো হচ্ছে নিয়মিত হাজিরা। সময়ের প্রতি তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামাফিক আসছেন বিদ্যালয়ে। কোথাও কোথাও প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানছেনা সহকারী শিক্ষকেরা। নৈশপ্রহরী পদে অনেকেই মাসের পর  মাস বিদ্যালয়ে না এসেও পার করছেন দিন। সরেজমিনে এরকম একটি বিদ্যালয়ের ৩টি শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থী রয়েছে জন ৮। ৫টি পদে কর্মরত শিক্ষক ৫জন থাকলেও উপস্থিত রয়েছে ২জন। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নেই কোন নজরদারি। প্রথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যবহৃত হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে। কাজে আসছেনা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্থ বরাদ্দ। দায়সারাভাবে ক্লাসে পাঠ দিয়ে কোনমতে দিন পার করছেন একাধিকরা।

 উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের ২৩১ নং ঠাকুরনতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি ১৯৯০ সালে স্থাপিত। মঙ্গলবার সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী হাজিরা খাতায় ১১৪ জন। উপস্থিতি রয়েছে ৩টি শ্রেণীকক্ষে মাত্র ৮ জন শিক্ষার্থী। এদের পাঠদান দিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক ফাতিমা আক্তার ও শান্তনু তাফালী ২ শিক্ষক। ৩য় শ্রেণীতে উপস্থিত ১ জন মাত্র শিক্ষার্থী মারিয়া সুলতানা, চতুর্থ ৪ জন ও ৫ম শ্রেনীতে ৩ জন। একটি  শ্রেণী কক্ষে ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলতে দেখা গেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক আকলিমা খানম রয়েছেন অফিসিয়াল কাজে উপজেলা সদরে। সহকারী শিক্ষিকা পপি সুলতানা ছুটি না নিয়েও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। আরেকজন সহকারী শিক্ষিকা খায়রুন্নাহার রয়েছেন ৩ দিনের ছুটিতে। বিদ্যালয়টিতে সরকারীভাবে ক্ষুদ্র মেরামত, ¯িøপ, প্রাক- প্রাথমিক, করোনা সহায়তা সহ একাধিক বরাদ্দ, পুরাতন ভবনের সামনেই নির্মিত হচ্ছে নতুন স্কুল ভবন। এতসব বরাদ্দ পেয়েও হয়নি পরিবর্তন, মানোন্নয়নও হয়নি শিক্ষা ব্যবস্থার। শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে কমছে।

   এ সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা খানম মুঠোফোনে জানান, তিনি অফিসিয়াল কাজে উপজেলা সদরে যাবার কথা ছিলো। শারীরিক অসুস্থতার কারনে বাড়ীতে রয়েছে। একজন সহকারী শিক্ষক রয়েছে ৩দিনের ছুটিতে, সহকারী শিক্ষক পপি সুলতানার অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেননা।

   উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি সদ্য মাত্র এ উপজেলায় যোগদান করেছেন। আগামী ১৩ ফেব্রæয়ারি শিক্ষকদের মাসিক সভার পর বিদ্যালয়ের বিদ্যমান অনিয়ম ও সমস্যাগুলোর পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন।  

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম তারেক সুলতান বলেন, উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান হালহকিকত এভাবে চলতে পারেনা। তিনি নিজেও একটি বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ১৯ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিত পেয়েছেন। এ অবস্থার পরিবর্তন ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে শিক্ষা অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  


আরও খবর