Logo
শিরোনাম

নওগাঁয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রকাশিত:Saturday ০৫ November ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রির্পোটারঃ


নওগাঁয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরের দায়ের করা মামলায় মোস্তফা কামাল সরকার ওরফে রিভেন মাস্টার নামে জামাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার পূর্ব মধ্যরাতে নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার চককালু গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সকালে এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ কৌতুহল নিয়ে ছুটে যায় ঐ বাড়িতে। পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফতাব উদ্দিন, থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজীসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর পূর্বে জয়পুরহাট সদরের বাঁশকাটা গ্রামের আবু বক্করের মেয়ে রেশমা খাতুনকে (৩০) বিয়ে করে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আবুল কালাম সরকারের ছেলে শিশু দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও আলমপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোস্তফা কামাল সরকার ওরফে রিভেন (৪০)। বিয়ের পর এক সন্তানের জননী রেশমাকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়শ মারপিট করে আসছিলেন স্বামী মোস্তফা কামাল রিভেন। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১ টারদিকে রেশমা খাতুন স্ট্রোক করেছে বলে রেশমার বাবার বাড়িতে খবর দিলে শ্বশুর আবু বক্কর দ্রুত মেয়ের বাড়ি এসে তাকে মৃত দেখতে পান এবং গৃহবধুর মাথায় ও মুখমন্ডলে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হলে জামাই মোস্তফা কামাল সরকার ওরফে রিভেনকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে জামাই মোস্তফা জানায়, তার স্ত্রী আত্নহত্যা করেছে। কিন্তু তাতেও শ্বশুর আবু বক্কর বিশ্বাস করতে না পেরে থানায় মামলা দায়ের করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে স্বামী মোস্তফা কামালকে গ্রেফতার করেন।

মৃত গৃহবধুর ভাইয়ের স্ত্রী আসমা খাতুন জানান, ৪ লাখ টাকা যৌতুক চুক্তিতে বিয়ের পরেই ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আবারও টাকার জন্য তার ননদকে মার-ধর করতো বলে আমার ননদ রেশমা প্রায়ই আমার কাছে বলতো।

এদিকে সাড়ে ৪ বছরের শিশুও জন্মদাতা বাবাকে বিশ্বাস করতে পারছে না, খুনের জন্য দায়ি করছে বাবাকেই। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে খুন হওয়া গৃহবধু রেশমার বাবা আবু বক্কর বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ধামইরহাট থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজী জানান, বাদী কর্তৃক খুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসামীকে গ্রেফতার করে ঐ দিনই বিকেলে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত পূর্বক প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান ওসি।


আরও খবর



ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উপ-নির্বাচন

আবু আসিফের নিখোঁজ নাটক

প্রকাশিত:Monday ৩০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উপ-নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ দুদিন যাবত নিখোঁজ আছেন বলে পরিবারের অভিযোগের পরের দিন ঘটনার নতুন মোড় নিয়েছে। ইতোমধ্যে একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নেসা তার এক কর্মচারি মিঠুকে ফোন করে আসিফকে কাপড় চোপড় নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলছে। এই ঘটনার দুইদিন পর সাংবাদিকদের কাছে আবু আসিফের স্ত্রী অভিযোগ করেন যে আসিফকে পাওয়া যাচ্ছে না। এনিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছা অভিযোগ করেন তার স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২  আসনে উপ-নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদকে দু’দিন যাবত পাওয়া যাচ্ছে না। এসময় তিনি আরো বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে আসিফকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি কোথায় এবং কী অবস্থায় আছে তা বুঝতে পারছি না। প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে পুলিশ এসে অযথা তল্লাশি করে হয়রানি করছে। বাড়ির সামনেও কিছু পুলিশ আসা যাওয়া করছে। তাদের ভয়ে আমি নিজেই পালিয়ে ছিলাম। আজকের মধ্যে খোঁজ না পেলে রাতেই একটা কিছু করবো। এসময় তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করবেন বলেও জানান।

এই ঘটনার পর রবিবার রাতে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নেসার একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে মেহেরুন্নেসা মিঠু নামের এক কর্মচারীকে কল করে তার স্যার আসিফ কোথায় আছেন জানতে চায়। পরে মিঠু বলেন স্যার বাসায়। পরে তাকে সব জামা কাপড় দিয়ে তাড়াতাড়ি বাহির করে দে । কেউ যেন না জানে সে কোথায় গেছে। তাড়াতাড়ি বাসার ক্যামেরা অফ করে দে। স্যার যাওয়ার ১০ মিনিট পরে ক্যামেরা অন করতে বলেন মেহেরুন্নেসা।


আরও খবর



নওগাঁর আত্রাইয়ে ভুট্টা চাষে ঝুকেছেন কৃষকরা

প্রকাশিত:Tuesday ১০ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :


খরচ কম, ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুকেছেন কৃষকরা।

দেশের উত্তর জনপদ নওগাঁর আত্রাইয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টার বাম্পার ফলনে আশাবাদী উপজেলার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

আত্রাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৪শ' ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার চেয়ে অধিক জমিতে ভুট্টার চাষ করেছেন কৃষকরা। এবার ভুট্টা চাষে উপজেলার কৃষকরা বেশি ঝুকে পড়ছেন। ভুট্টা চাষে খরচ কম অথচ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ওয়াজেদ আলী প্রামানিক বলেন, এলাকার যেসব জমিতে আগে বোরোচাষ করা হতো সেই জমিগুলোতেই আমরা এবার ভুট্টা চাষ করছি। বোরো চাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। অথচ যখন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয় তখন ধানের বাজারে ধস নামে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই উঠে না। কিন্তু ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও অনেক বেশি থাকে। এ জন্য আমরা ভুট্টা চাষে এবার ঝুকে পড়েছি। উপজেলার চৌড়বাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, একই কথা। 

আমাদের এলাকা আলু চাষের জন্য দীর্ঘদিন থেকে বিখ্যাত। উপজেলার সিংহভাগ আলু আমাদের এলাকায় উৎপন্ন হয়ে থাকে। মৌসুমের শেষ দিকে আলুর দাম বাড়লেও এর মুনাফা কৃষকরা পায়নি। মুনাফা পেয়েছে মজুতদাররা। তাই এবার ভুট্টা চাষ করছি। আশা করি ফলনও বাম্পার হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে কষ্ট সার্থক হবে।

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেরামত আলী বলেন, এলাকার কৃষকরা যাতে যথাযথভাবে স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের কাছে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে ভুট্টাকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমান ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাউছার হোসেন জানান, সব ধরনের ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষ করে বীজ, সার ও তেল এর জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এবার ভুট্টার ফলন বাম্পার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আরও খবর



নওগাঁয় স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ভেঙ্গে পুকুর-গর্ভে

প্রকাশিত:Monday ২৩ January 20২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হচ্ছে মিরাট গ্রাম। মিরাট গ্রামে ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মিরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর এক পাশে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত মিরাট উচ্চ বিদ্যালয়। এই দুই বিদ্যালয়ের যাতায়াতের জন্য মাঝে রয়েছে একটি রাস্তা। যে রাস্তাদিয়ে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী সহ গ্রামবাসীরা প্রতিনিয়তই চলাচল করেন। কিন্তু দীঘদিন যাবত ঢালাই করা রাস্তাটি ভেঙ্গে পুকুর-গর্ভে বিলীন হলেও তা মেরামত করার প্রতি দৃষ্টি নেই কর্তৃপক্ষের।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি নির্মাণ করার ৪ মাস পর যদি ভেঙ্গে যায় তাহলে কি পরিমাণ নিম্ম মানের কাজ করা হয়েছিলো তা বোঝা যায়। প্রতিদিনই শিক্ষার্থীসহ শত শত গ্রামের বাসিন্দাদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে পায়ে হেটে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। এতে করে প্রতিনিয়তই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মিরাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন বলেন, আনুমানিক দেড়বছর আগে এই রাস্তাটি তৈরি করে উপজেলা এলজিইডি বিভাগ। পুকুরপাড়ে পালাসাইড না দিয়ে শুধুমাত্র কয়েকটি পিলারের সঙ্গে ইটের গাঁথুনির উপর ঢালাই দিয়ে নির্মাণ করা হয় জনগুরুত্বপূর্ন এই রাস্তাটি। নির্মাণের প্রায় ৪মাস পরই ইটের গাঁথুনি আর পিলার পুকুরগর্ভে ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে রাস্তাটির ৪ ভাগের ৩ ভাগই ভেঙ্গে পুকুরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সামান্য একটু অংশের উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে চলাচল করতে গেলেই পা পিছলে পুকুরের মধ্যে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ইতিমধ্যেই স্কুলে চলাচল করার সময় শিশুসহ অনেক শিক্ষার্থী মনের অজান্তে পুকুরে পড়ে ঘটেছে দুর্ঘটনা। তাই অতিদ্রুত দীর্ঘস্থায়ীভাবে এই রাস্তাটি মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। 

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি এই উপজেলাতে নতুন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত এই রাস্তাটিকে মেরামত কিংবা সংস্কার করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।


আরও খবর



নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রকাশিত:Wednesday ২৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো নেপাল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে দেশটিতে আঘাত হানে এ ভূকম্পন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯ ।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পের রেশ ছিল প্রায় ২৫ সেকেন্ড। আতঙ্কিত মানুষজন বাড়ি-ঘর ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। তবে এখন পর্যন্ত এতে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল জুমলা শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের প্রভাব সুদূর দিল্লিতেও অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। 


আরও খবর



অনুমোদন ছাড়া ঢাকায় চলছে বাস

প্রকাশিত:Saturday ০৪ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

রুট পারমিট ছাড়া বাস চালানো অবৈধ। তারপরও রুট পারমিট ছাড়াই রাজধানীতে চলছে দুই সহস্রাধিক বাস। এতে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। কোনো অদৃশ্য অনুমোদনে এসব বাস চলছে কি না তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অন্যদিকে আবার রুট পারমিট না পেয়ে বিভিন্ন কোম্পানি নতুন বাস নামাতে পারছে। এতে গণপরিবহন সংকটও কাটছে না। উল্টো সড়কে বেড়েছে বিশৃঙ্খলা।

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি বলছে, অবৈধভাবে নগরীতে বাস চালানোর সুযোগ নেই। অবৈধ সব যানবাহন বন্ধ করা হবে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বলছে, রুট পারমিট ছাড়া চলাচল নিষিদ্ধ, অভিযানে এসব বাস ডাম্পিং করা হবে।

সম্প্রতি দিয়াবাড়ী-সদরঘাট পর্যন্ত চালু হয়েছে নতুন এসি সার্ভিস আকাশ পরিবহন। আগে এফ আরপরিবহন নামে দারুসসালাম-সদরঘাট পর্যন্ত এ বাসগুলো চলত। রাতারাতি কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে রুট পারমিট ছাড়াই ৩০টির বেশি বাস চালানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া নেওয়ারও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। অর্থাৎ দুই কিলোমিটার গেলেও একজন যাত্রীকে ৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কোম্পানির দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল করলে ধরেন গোপাল নামে এক ব্যক্তি। রুট পারমিট ছাড়াই কীভাবে বাস পরিচালনা করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোম্পানির কেউ নই। পরিবহন মালিক সমিতি এসব বাস পরিচালনা করে। আমি দেখাশোনা ও মেরামতের দায়িত্বে নিয়োজিত। তাহলে অভিযোগের জন্য আপনার নম্বর বাসে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলব না।

সাইনবোর্ড-জিরানী বাজার রুটের স্বাচ্ছন্দ্যপরিবহনও স্বাচ্ছন্দ্যেই চলছে রুট পারমিট ছাড়া। এই পরিবহনের অধীনে বাস চালাতে দৈনিক কোম্পানিকে গেট পাস বা জিপি বাবদ দিতে হয় ৯০০ টাকা। সবকটি বাস থেকে মাসে চাঁদা আদায় হয় প্রায় ১৯ লাখ টাকা। জানা গেছে, স্বাচ্ছন্দ্য পরিবহনের অধীনে ৭০টির বেশি বাস রয়েছে। এর অন্তত ৬০টির সংশ্লিষ্ট পথে চলাচল করার রুট পারমিট নেই। ২০১৬ সালে কোম্পানিটি চালু হওয়ার সময় মাত্র ১০টি বাসের রুট পারমিট নিয়েছিল। করোনার আগে এটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৯ সালের পর রুট পারমিট অনুমোদনের জন্য কোনো সভা হয়নি। রাইদা পরিবহনের বেশকিছু বাসের রুট পারমিট না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রুট পারমিট ছাড়াই কীভাবে বাস চলছে। জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, আকাশ পরিবহন নতুন নয়, পুরনো কোম্পানি। প্রায় চার বছর ধরে রুট পারমিট বন্ধ থাকায় নতুন করে রুট পারমিট নেওয়া যাচ্ছে না। আবেদন করেও রুট পারমিট মিলছে না। তাই অনেক পরিবহন এখন রুট পারমিট ছাড়াই বাস চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যানজট রোধে নতুন বাস কোম্পানি অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি তা বহাল রেখেছে। বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ১৭তম সভায় রুট পারমিটহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ওই সভা শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছিলেন, রাজধানীতে ১ হাজার ৬৪৬টি গাড়ি রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করছে। এসব বাসের বিরুদ্ধে করপোরেশন, পুলিশ, বিআরটিএকে নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হবে। রুট পারমিট ছাড়া কোনো বাসকে আমরা চলতে দেব না।

ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গত বছরের অক্টোবরে নতুন করে গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার। দুই বছরের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পরপর একবার সভা করে কার্যবিবরণী বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানোর কথা; কিন্তু কমিটি কার্যত তেমন কোনো কাজই করতে পারছে না।

এ কমিটির সদস্য হানিফ খোকন। তিনি বলেন, বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি নতুন বাস রুট অনুমোদন না দেওয়ায় ঢাকা মেট্রোর যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিআরটিএর কাছে সুপারিশ পাঠাতে পারছে না।

তিনি বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি মানুষ যাতায়াত করে। অথচ গণপরিবহন সংকট চরমে। বড় বাস ও মিনিবাসের রুট পারমিট না দেওয়ায় অনেক কোম্পানি নামতে পারছে না। ফলে পরিবহন সংকট থেকেই যাচ্ছে। আমরা আশা করব সরকার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, রুট পারমিট ছাড়া কোনো বাস চলার কথা নয়। যদি চলে তাহলে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ধরে ডাম্পিং করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই। কারণ রুট পারমিট ছাড়া বাস চালানো একেবারেই নিষিদ্ধ।

রিুট পারমিট ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির বাসের নাম জানানোর পর বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, সবকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত করব। তারা কীভাবে চলছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। অনেক সময় বিভিন্ন কোম্পানির বাস অনুমোদিত রুট অমান্য করে অন্য রুটে চলতে দেখা যায়। সেগুলোর বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিই।

 


আরও খবর