Logo
শিরোনাম

নওগাঁয় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ জন, ১১ জন আহত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ এপ্রিল ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার 

নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের মহাদেবপুর উপজেলাধীন পিড়ামোড় নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক সহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এদূর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো ১১ জন।

মর্মান্তিক এসড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকাল পনে ৩ টারদিকে। 

নিহত দু'জন হলেন, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়ন এর জয়পুরডাঙ্গাপাড়া (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মৃত সমসের আলীর ছেলে ও পিকআপ চালক হারুন অর রশিদ হারুন ওরফে বাঘা (৪৬) ও পিকআপ এর যাত্রী বগুড়া জেলার দুপচাচিয়া উপজেলার সারপুকুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৬০)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্প্রতিবার বিকাল পনে ৩ টারদিকে মহাদেবপুর থেকে ঢাকা গামী (বগুড়া 'ন' ১১-১৫৫৪) নম্বর পিকআপ ঘটনাস্থলে পৌছালে এসময় নওগাঁ থেকে দিনাজপুরগামী 

(ঢাকা মেট্রো 'ব' ১৫-৪৭০৩) নম্বর দ্বীন ইসলাম পরিবহন নামে যাত্রীবাহীবাস অপর একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দূর্ঘটনাস্থলে পিকআপ এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এসময় দূর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত মহাদেবপুর উপজেলার বিশিষ্ঠ ধান ব্যবসায়ী সাহজান ওরফে জামান স্থানিয়দের সহযোগীতায় গুরুতর আহত ৮ জনকে উদ্ধার পূর্বক নিজস্ব প্রাইভেটকার যোগে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। দূর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানিয় চৌমাশিয়া নওহাটামোড় ফাঁড়ি পুলিশ ও মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত দূর্ঘটনাস্থলে পৌছে পিকআপ এর সামনে আটকে পড়া চালকের মৃতদেহ উদ্ধার সহ আহত ৩-৪জনকে উদ্ধার পূর্বক চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক মজিবর রহমানকে মৃত ঘোষনা করেন। 

আহতদের মধ্যে আরও ৫/৬ জনের অবস্থা আশংকাজনক এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ইতি মধ্যেই ২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অন্যান্য গুরুতর আহতদের স্বজনরা এখনো হাসপাতালে না আসায় তাদের এখানেই (নওগাঁ সদর হাসপাতালে) ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ রাকিব হোসেন।

দূর্ঘটনায় ২ জন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ প্রতিবেদককে জানান, খবর পেয়ে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ দূর্ঘটনাস্থলে এসেছি। তিনি আরো জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের খবর পেয়ে ইতি মধ্যেই মহাদেবপুর সার্কেল (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) জনাব জয়ব্রত পাল সহ জেলার উদ্ধতন কর্মকর্তা দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। এব্যাপারে আইনানুগ পক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 


আরও খবর



বাংলাদেশ সীমান্তের রাখাইদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহর মংডু ছাড়ার জন্য বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান। রাজ্যটি নিয়ন্ত্রণে নিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াই চলছে সংগঠনটির সশস্ত্র শাখা আরাকান আর্মির (এএ)।

রোববার ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান জানায়, মংডু টাউনশিপের অবশিষ্ট জান্তা ঘাঁটিগুলো ঘেরাও করা হয়েছে। শহরটিকে সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তাদের অপারেশনের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করেছে। তারা এখন জান্তার অবশিষ্ট শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো দখল করতে চায়। এ কারণেই তারা সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

মংডু শহর দখল করার এই পদক্ষেপের আগে গত মে মাসে আরাকান আর্মি বুথিডাং শহর পুরোপুরি দখল করে নেয়।

এএ বলছে, তারা জুন মাসের ১ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে মংডুতে আরও ১০টি জান্তা ঘাঁটি দখল করেছে। এরমধ্যে তিনটি বর্ডার গার্ড ফোর্সের সদর দফতর এবং একটি সেনা ঘাঁটি। তাদের দাবি, সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর বেস কমান্ডার কর্নেল তাইজার হতেইসহ ২০০ জনেরও বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে একজন সামরিক বিশ্লেষক সম্প্রতি দ্য ইরাবতীকে বলেছেন, মংডুর পর রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে হবে আরাকান আর্মির পরবর্তী টার্গেট।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক সরকারের প্রধানও তিনি।

জান্তা ক্ষমতায় আসার পরই বিক্ষোভ শুরু হয় মিয়ানমারে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জান্তার বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালীভাবে নামে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। এরপর থেকেই বিভিন্ন গোষ্ঠীর হাতে ঘাঁটি ও সেনা হারাচ্ছে মিয়ানমার জান্তা।


আরও খবর



অন্যের এনআইডি দিয়ে ট্রেনের টিকেট অগ্রীম কেটে নিয়েছে কালোবাজারিরা!

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

বিডি টুডে ডিজিটাল ডেস্ক:


ঈদের সময় কালোবাজারি করতে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে টিকিট কেটেছিল একটি চক্র। এরপর সেই টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে তারা।


শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশনের প্লাটফর্মে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর।  



তিনি বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৩ এমন দুটি চক্রের ১২ জনকে আটক করেছে। এরমধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বেসরকারি ট্রেনের বিক্রয় প্রতিনিধিও রয়েছেন। এসব কালোবাজারিরা আগামী ১০ দিনের প্রায় ৫০০ টিকিট কেটে রেখেছেন।’


সোহেল ও আরিফুল নামে দুইটি চক্র ঠাকুরগাঁও ও ঢাকা থেকে কালোবাজারি পরিচালনা করতেন বলেও জানান তিনি।  


ফিরোজ কবীর জানান, গতকাল রাতে তারা অভিযান পরিচালনা করেন। ঢাকা থেকে ১০ জনকে আটক করেন। আর দুইজনকে ঠাকুরগাঁও থেকে আটক করা হয়েছে। 


ফিরোজ কবীর বলেন, ‘আমরা গত রাতে অভিযান শুরু করি। এটি চলমান অভিযান ছিল। এটা দুই থেকে তিন ধাপে পরিচালনা করা হয়। ঢাকার কমলাপুর ও আশেপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ 


তিনি বলেন, ‘এখানে দুই ধরনের চক্র রয়েছে। এক ধরনের চক্র অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হলে তা ভুয়া জাতীয় পরিচয় পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে কেটে রাখতো। পরে ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করে। সফটকপি পাঠিয়ে দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে টাকা বুঝে নেয়।’  


তিনি বলেন, ‘এমন চক্রের দুজনকে মৌচাক মোড়ের আশেপাশের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। এদের একজনের নাম মানিক ও আরেকজনের নাম বকুল। এদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি মানিক মূলত সোহেল নামে একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থানকারী আবু, রায়হান ও আনিস নামে আরও একজনের সঙ্গে কালোবাজারি ব্যবসায় আসে। 


তাদের থেকে আগামী ১০ দিনের টিকিট পাওয়া যায়। এগুলোর হার্ডকপি ও সফট কপি রয়েছে। এরমধ্যে দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেসের টিকিটের দাম তিন হাজার টাকা করে বিক্রি করছে।’


ফিরোজ কবীর বলেন, ‘মানিক ও বকুলের মাধ্যমে আনিস ও রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায়হান একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে। সেখানে ভুয়া সিম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনেকগুলো টিকিট কেটে নেন। 


এদের বড় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। সেখানে চাহিদা ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়।’ 


তিনি বলেন, ‘রায়হান ও আনিস টিকিট পাঠাতেন সোহেল ও মানিকের কাছে৷ আর মানিক ও বকুল ফেসবুক পেইজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করতেন।’  


এই সিও জানান, ‘কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারী করেন আরিফুল ইসলাম। তিনিও একটি চক্র চালান। 


বেসরকারি ট্রেনের বুকিং সহকারী হলেও তার থেকে সরকারি ট্রেনের টিকিট পাওয়া গেছে। তিনি অনেকদিন ধরেই এগুলো করে আসছিলেন।’


আরও খবর



টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরছেন নরেন্দ্র মোদি

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

বিডি টু ডে ডিজিটাল ডেস্ক:

টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরছেন নরেন্দ্র মোদি।
ভারতে লোকসভা নির্বাচেনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। শনিবার (০১ জুন) সপ্তম ধাপে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সমাপ্ত হয়েছে।

আগামী ৪ জুন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবে দেশটির নির্বাচন কমিশন। তবে এরইমধ্যে বুথফেরত ফলাফল ঘোষণা করেছে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, এবার হ্যাটট্রিক করতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নির্বাচনে দেশটির বড় দুটি জোটের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। এ দুটি হলো ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ এবং কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট।


বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবার ভোটের ৩৫৩ থেকে ৩৮৩ আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেতে পারে ১৫২ আসন থেকে ১৮২ আসন। ভারতের কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ২৭২ আসন।

তাই ম্যাজিক সংখ্যা থেকেও বিজেপির আসন প্রাপ্তির সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি বলে আভাস দিচ্ছে একাধিক সমীক্ষা।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় সমীক্ষক সংস্থা সি ভোটার, এবিপি আনন্দের যৌথ বুথ ফেরত মত বলছে, বিজেপি এবার এককভাবে ৩১৫ আসন পাবে। আর কংগ্রেস পাবে ৭৪টি আসন।

শনিবার (১ জুন) সাত দফার ভোট গ্রহণের শেষ দফা ভোট পর্ব শেষ হতেই এক এক করে দেশটির গণমাধ্যম গুলো বুথ ফেরত ফলাফল প্রকাশ করতে শুরু করে। আর সেখানে এমন আভাস পেয়ে কার্যত খুশি মোদির দল।

তবে এটাও সত্যি যে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪০০ আসনের বেশি আসন পেয়ে বিজেপি সরকার গড়বে বলে যে দাবি করেছিলেন- সেই দাবি কিন্তু বুথ ফেরত সমীক্ষার আভাস পুরোপুরে খারিজ করে দিয়েছে।


দেশটির অধিকাংশ সমীক্ষক সংস্থার আভাস বলছে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানে বিজেপি তাদের অবস্থান ধরে রাখবে। অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের কেরালাও বিজেপি এবার খাতা খুলতে পারে। একই সঙ্গে মমতার রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূলের চেয়ে বেশি আসন প্রাপ্তির সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে সমীক্ষা।

দেশটির তিনটি বড় সমীক্ষক সংস্থা সি ভোটার, অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া, টুডেজ টানক্য-এর সমীক্ষার গড় হিসেব করলে মমতার রাজ্যে মোদির দল এবার ২৫টিরও বেশি আসন পেতে পারে।

আর তৃণমূলের ঝুলিতে যেতে পারে ১৫টি আসন। ৪২ আসনের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি গেলবার ১৮টি আসন, তৃণমূল ২২ টি আর কংগ্রেস ২টা আসন পেয়েছিল। সে হিসেবে তৃণমূল এবার ৭টি আসন হারাতে চলেছে।


আরও খবর



তদন্তাধীন মামলায় গণমাধ্যমে বিবৃতি বন্ধে আইনি নোটিশ

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

আনার হত্যাকাণ্ডসহ সব তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের আগে গণমাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন না করা সংক্রান্ত হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সরকারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠান আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

নোটিশে বলা হয়েছে, ঝিনাইদাহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়ে নিখোঁজ হন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যে ঘটনা টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত। তার মরদেহ সম্পূর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ইলেকট্রনিক, প্রেস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিয়েল টাইম আপডেট প্রচার করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করছে। সময়ে সময়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনার হালনাগাদ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করছে। সাংবাদিকরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নানান ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করছেন। এমন প্রেক্ষিত বিবেচনায় গণমাধ্যমের সামনে কর্তৃপক্ষ উত্তর দিচ্ছেন। ছোটো-খাটো অনেক বিষয় উঠে আসছে। লাইভ সম্প্রচার হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম পছন্দ অনুযায়ী হেডলাইন করছে। ফ্রিল্যান্সাররা খণ্ডাংশ উল্লেখ করে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচার করছেন। এ বিষয়ে হরেক-রকম বিভ্রান্তিও তৈরি হচ্ছে।

অতীতেও তদন্তনাধীন চাঞ্চল্যকর ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। তন্মধ্যে বুয়েটছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ড, ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ড, ফেনীর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকরাম হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য।

এই সংক্রান্তে আমাদের হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বনাম রাষ্ট্র (৩৯ বিএলডি ৪৭০) মামলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

ওই রায়ের বলা হয়, এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা খুবই সংগত হবে যে, ইদানীং প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় যে, বিভিন্ন আলোচিত অপরাধের তদন্ত চলাকালীন সময়ে পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পূর্বেই বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা অনেকসময় মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অমর্যাদাকর এবং অনুমোদনযোগ্য এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত সম্পর্কে অতি উৎসাহ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে ব্রিফিং করা হয়ে থাকে।

আমাদের সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতে একজন অভিযুক্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত না হচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না যে, তিনি প্রকৃত অপরাধী বা তার দ্বারাই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে। গণমাধ্যমের সামনে গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সংগত নয় যে, তার মর্যাদা ও সম্মানহানি হয় এবং তদন্ত চলাকালে অর্থাৎ পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের পূর্বে গণমাধ্যমে গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তি বা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে এমন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন সমীচীন নয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বিতর্ক বা প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

রায়ে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থাপনের পূর্বেই গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন এবং কোনো মামলার তদন্ত চলাকালীন সময়ে তদন্ত বিষয়ে কতটুকু তথ্য গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা সমীচীন হবে সে সর্ম্পকে একটি নীতিমালা অতি দ্রুততার সঙ্গে প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয়। এই নীতিমালা প্রণয়ন ও যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ/সুরক্ষা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মহাপরিদর্শক, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া গেল।

সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের ঘোষিত রায় সবার জন্য বাধ্যকর। ফলশ্রুতিতে হাইকোর্ট বিভাগের উল্লেখিত রায় সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য অবশ্য পালনীয়।

এমন পরিস্থিতিতে আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডসহ সব তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ আইনি প্রতিকার চাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


আরও খবর



মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

বিডি টু ডে রিপোর্ট:


ভারতের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত যাচ্ছেন। আগামীকাল (৭ জুন) তার ভারতের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। 


এর আগে বুধবার রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান।


বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।


ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ’র বিজয়ের পরপরেই অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


তার অভিনন্দনের জবাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার (৫ জুন) এক্স হ‌্যা‌ন্ডে‌লে (টুইটার) এক পো‌স্টে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।


নরেন্দ্র মো‌দি লিখেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার আন্তরিক শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, যা গত এক দশকে অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 


আমি আমাদের জনকেন্দ্রিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।


অন্যদিকে এদিন নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে আমি ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য আপনাকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে চাই।


প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন বিরল তৃতীয় মেয়াদে নতুন করে জনগণের রায় নিয়ে মোদির এ নবযাত্রায় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সব ক্ষেত্রেই অব্যাহত থাকবে।


আরও খবর