Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

অবিক্রীত রয়ে গেলো সাড়ে ২৩ লাখ পশু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

এবার কোরবানি ঈদে সারা দেশে মোট ১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ২২৮ গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি এবার ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৯টি পশু অবিক্রীত থেকে গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট পশু মজুত ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি পশু।

এতে বলা হ‌য়ে‌ছে, এবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম পশু বিক্রি হয়েছে। এ বছর ঢাকায় ২৫ লাখ ২০ হাজার, চট্টগ্রামে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার আর রাজশাহীতে ২৩ লাখ পশু বিক্রি হয়। গত বছর কোরবানি ঈদে ৯৪ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি পশু বিক্রি হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতবছর কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। এর মধ্যে ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি পশু কোরবানি হয়েছে, অর্থাৎ ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫২১টি পশু অবিক্রীত ছিল। আর ২০২২ সালে সারাদেশে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি পশু কোরবানি হয়েছিল।

এত পশু অবিক্রীত থাকায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারি ও ব্যাপারীরা। খামারিদের মধ্যে যারা বড় গরু বাজারে এনেছিলেন, তার অধিকাংশই অবিক্রীত রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা। চড়া দামের খাবার খাইয়ে, ব্যাংক ঋণ নিয়ে যারা খামার করেছেন, তাদের অনেকের অবস্থা করুণ। খামার পরিচালনার দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোই এখন তাদের জন্য কঠিন হবে। ভারত-মিয়ানমার থেকে এবার অবৈধ পথে গরু আসায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন এলাকার খামারি ও মৌসুমি পশু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। সেই তুলনায় বড় গরুর ক্রেতা ছিলেন খুবই কম।

এবার কোরবানি ঈদে সারা দেশে মোট ১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ২২৮ গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি এবার ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৯টি পশু অবিক্রীত থেকে গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট পশু মজুত ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি পশু।

এতে বলা হ‌য়ে‌ছে, এবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম পশু বিক্রি হয়েছে। এ বছর ঢাকায় ২৫ লাখ ২০ হাজার, চট্টগ্রামে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার আর রাজশাহীতে ২৩ লাখ পশু বিক্রি হয়। গত বছর কোরবানি ঈদে ৯৪ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি পশু বিক্রি হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতবছর কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। এর মধ্যে ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি পশু কোরবানি হয়েছে, অর্থাৎ ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫২১টি পশু অবিক্রীত ছিল। আর ২০২২ সালে সারাদেশে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি পশু কোরবানি হয়েছিল।

এত পশু অবিক্রীত থাকায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারি ও ব্যাপারীরা। খামারিদের মধ্যে যারা বড় গরু বাজারে এনেছিলেন, তার অধিকাংশই অবিক্রীত রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা। চড়া দামের খাবার খাইয়ে, ব্যাংক ঋণ নিয়ে যারা খামার করেছেন, তাদের অনেকের অবস্থা করুণ। খামার পরিচালনার দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোই এখন তাদের জন্য কঠিন হবে। ভারত-মিয়ানমার থেকে এবার অবৈধ পথে গরু আসায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন এলাকার খামারি ও মৌসুমি পশু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। সেই তুলনায় বড় গরুর ক্রেতা ছিলেন খুবই কম।


আরও খবর



নওগাঁয় পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাপ সহ পালানো আসামীকে ফের আটক

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁর পোরশা থানা পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাপ পড়া অবস্থায় পালিয়ে যাবার মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যেই আলম আলী (৩৫) নামে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন মহাদেবপুর থানা পুলিশ। আটককৃত আলম আলী নওগাঁ

জেলার পোরশা উপজেলা সদরের নীতপুর বাঙ্গালপাড়া এলাকার সোহরাব আলীর ছেলে। বুধবার ১০ জুলাই পূর্বরাত ৩টারদিকে মহাদেবপুর উপজেলার হাতুড় ইউনিয়ন এর মহিষবাথান এলাকায় অভিযান চালিয়ে থেকে তাকে আটক করেন মহাদেবপুর থানা পুলিশ।


সংশিষ্ট সুত্র জানান, একটি মাদক মামলায় আলম আলী দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী। বিজ্ঞ আদালতের ওয়ারেন্টমূলে গত সোমবার দিনগত রাতে পোরশা থানা পুলিশ আলম আলীকে আটক করেন এবং মঙ্গলবার ৯ জুলাই দুপুরে যাত্রীবাহী একটি বাস যোগে তাকে নওগাঁ কোর্টে নিয়ে যাবার জন্য রওনা দেন পোরশা থানা পুলিশ। যাওয়ার পথে বাসটি মহাদেবপুর উপজেলা সদর বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছলে আসামী আলম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার অজুহাতে পুলিশের কাছ থেকে এক হাতের হ্যান্ডকাপ খুলে নেওয়ার পর অপর হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো অবস্থায় কৌশলে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরই পালিয়ে যাওয়া আসামীকে ফের আটক করার জন্য ঘটনার পর থেকেই সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। এক পর্যায়ে ঘটনার দিনগত রাতে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন, (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ও এসআই

জাহিদ মহাদেবপুর উপজেলার মহিষবাথান এলাকায় অভিযান চালিয়ে

পালিয়ে যাওয়া আসামী আলম আলীকে আটক করতে সক্ষম হোন। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন জানান, বুধবার সকালে তাকে নওগাঁ কোর্টে পাঠানো হয়।


আরও খবর



আত্রাইয়ে বন্যার আগেই একাধীক পাকা সড়ক ধ্বসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪ |

Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :

নওগাঁর আত্রাইয়ে আত্রাই-সিংড়া বাঁধ কাম পাকা সড়কের ডুবাই নামকস্থানে এবং আত্রাই-বান্দায়খাড়া বাঁধ কাম পাকা সড়কের লালুয়া নামকস্থানে ধ্বসে গেছে। এতে উপজেলা সদরের সাথে সদরের পূর্বা ল এবং পশ্চিমা অ লের বাসিন্দারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছেন। এলাকাবাসী বলছেন এখনো বন্যার পানির চাপ শুরুই হয়নি,এর মধ্যেই যেখানে সেখানে বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যাচ্ছে। ফলে ভরপুর বন্যা হলে বাড়ী-ঘর রক্ষায় চিন্তিত হয়ে পরেছেন এলাকাবাসী। এদিকে সড়ক ধ্বসে যাবার খবর পেয়ে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি,নওগাঁ জেলা প্রশাসক,নওগাঁর পাউবির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ঠরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বৈঠাখালি গ্রামের জয়নুলসহ স্থানীয়রা জানান, একটানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির কারনে নদ-নদীতে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো নদীতে সেরকম পানির চাপ শুরু হয়নি। তার পরেও বৃহস্পতিবার রাতে আত্রাই থেকে নাটোরের সিংড়ার সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়কের শিকারপুর এলাকায় গুড় নদীর বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন শুক্রবার ধ্বসে যাওয়া সড়ক মেরামত করে। এর পর শুক্রবার রাতে ওই ভাঙ্গনের প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বদিকে বৈঠাখালির ডুবাই নামক ¯øুইচগেট সংলগ্ন স্থানে পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে ওই সড়কে যানবাহনসহ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া শনিবার সকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম এলাকায় আত্রাই-বান্দাইখাড়া সড়কের লালুয়া নামকস্থানে বাঁধ কাম পাকা সড়ক ধ্বসে যায়। এতে উপজেলা সদরের সাথে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লালুয়া গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন,সড়কের নিচ দিয়ে আগে থেকেই সামান্য করে পানি বের হতো। শনিবার সকালে হঠাৎ করেই পাকা সড়ক ধ্বসে পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। 

ডুবাই ধ্বসে যাওয়া সড়ক দেখতে আসা আব্দুর রশিদ,হামিদুর রহমান এবং সফিকুল ইসলাম বলেন,এখনো নদীতে পানির চাপ শুরু হয়নি। সামান্য পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধের নিকট বর্তি আসতেই একাধিক স্থানে ধ্বসে গেলো। তাহলে ভরপুর বন্যা হলে তো আমাদের বাড়ী-ঘর থাকবেনা। আসন্ন মৌসুমে বন্যা হলে কিভাবে বাড়ী-ঘর রক্ষা করবেন তা নিয়ে চরম চিন্তিত হয়ে পরেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।তবে এখনই বাঁধ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ঠদের অনুরোধ জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

এদিকে হঠাৎ করেই একাধীক পাকা সড়ক ধ্বসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি এ্যাড: ওমর ফারুক সুমন,নওগাঁ জেলা প্রশাসক গোলাম মাওলা,নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান,আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানান,শনিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত আত্রাই নদী আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বিপদ সিমার ১৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। 

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান বলেন,দীর্ঘ দিন আগের নির্মিত বাঁধ কাম পাকা সড়ক ইঁদুরে এবং শেয়ালে গর্ত করে নষ্ট করে ফেলেছে। ফলে পানি আসার সাথে সাথেই সড়কের নিচ দিয়ে পানি পার হয়ে ধ্বসে যাচ্ছে। ধ্বসে যাওয়া স্থানগুলো মেরামতের কাজ চলছে। আসা করছি দ্রæতই চলাচল স্বাভাবিক হবে। এছাড়া বাঁধকাম পাকা সড়কে সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।


আরও খবর



রাজনৈতিক মৃত্যু ফাঁদে গাজীপুর-৩ আসনে আ.লীগের একাংশের রাজনীতি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image
সদরুল আইন :১৯৯১-২০১৮ ইং গাজীপুর -৩ আসনে আ'লীগের রাজনীতির জীবন্ত কীংবদন্তি ছিলেন এ্যাড রহমত আলী।

প্রখর বুদ্ধিমত্তা আর কেন্দ্রিয় শক্ত লবিং ও ব্যক্তি পরিচিতি দিয়ে তিনি আ.লীগের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতায় পরিনত করেছিলেন নিজেকে।পাশাপাশি শক্ত হাতে গাজীপুর-৩ আসনকে প্রায় ৩০ বছর নিজের করে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

যদিও তার রাজনীতি,নিজ আসন ধরে রাখা,আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, পারিবারিক বলয় তৈরি,প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হতে না দেওয়াসহ বহুবিধ অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।তারপরও তিনি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শ্রীপুরের সিংহ পূরুষ।

                     বার্ধক্যজনিত  কারনে নানা অসুস্থতায় ২০১৪ সালের পরে পিতার আসনে পরবর্তি এমপি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতির মাঠ চষে বেড়ান তার পুত্র জামিল হাসান দুর্জয়।

              ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারি জামিল হাসান দুর্জয়ের রাজনৈতিক পড়াশোনা, কোরআন হাদিস ও সমসাময়িক রাজনৈতিক জ্ঞান ছিল প্রখর।তার উদ্দিপ্ত বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্ধৃতি, রাজনীতির বিজ্ঞ মহলে ছিল প্রশংসিত ও সমাদৃত।

                   অনেকেরই ধারনা ছিল নন্দিত এমপি,আ'লীগের নীতি নির্ধারক এ্যাড রহমত আলীর পর শ্রীপুরের রাজনীতির দৃশ্যপটে আসবেন তার পুত্র জামিল হাসান দুর্জয়।

                 কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বহু নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে পালাপদল ঘটে এই আসনের আ'লীগের রাজনৈতিক অভিযাত্রায়।পিতার দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি পুত্র।পিতার আদর্শকে ব্যবহার করলেও ধারন করতে পারেননি তিনি  ব্যক্তি জীবনে।

একাদশ সংসদে নতুন মুখ হিসেবে ৩০ বছর পর এমপি হতে পারেন জেলা আ'লীগের নন্দিত প্রিয় মুখ ইকবাল হোসেন সবুজ।কিন্তু কেন্দ্রিয় লবিং থেকে দুরে সরে যাওয়া,অন্তরালে ঝুট ব্যবসায় জড়িয়ে থাকায় অভিযুক্ত থাকা,পরিবারের অন্তত দুই সদস্য শিল্প কলকারখানা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বনে যাওয়া,অতি পান্ডিত্য এবং তার পাশে থাকা বিপুল জনগোষ্টিকে আশাহত করা বিশেষ করে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সঠিক লোকদের পদায়ন করতে না পারায় তার বিশাল জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামে এবং তিনিও ছিটকে পড়েন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলিয় মনোনয়ন থেকে।

স্বতন্ত্র নির্বাচন করে কাঙ্খিত ভোট পেলেও এমপি হতে পারেননি তিনি।ক্ষমতার ঘুড়ির লাটাই চলে যায় এড রহমত আলীর কন্যা একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসির হাতে।তিনি বর্তমানে গাজীপুর-৩ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

                 জামিল হাসান দুর্জয় নমিনেশন না পাওয়ার পেছনে ছিল শ্রীপুরের ঘৃণিত কিছু মানুষের অপরাজনীতি,তারা ছিলেন দুর্জয়ের শীর্ষ সুবিধাভোগী উপদেষ্টা।এদের বেশিরভাগ এখনো তার পাশেই রয়েছেন।

এরা নিজেদের স্বার্থের প্রয়োজনে দুর্জয়কে রাজনৈতিকভাবে শুধু পথেই বসায়নি, এ্যাড রহমত আলী পরিবারকে করেছে চরম বিতর্কিত।এই চক্রের বলয়ে এখনো এই পরিবারের একাংশ বন্দি।

             এ্যাড রহমত আলী ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ইকবাল হোসেন সবুজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায়ে আব্দুল জলিলকে মনোনয়ন দিয়ে একটি বিতর্কিত ফলাফলের মাধ্যমে যে বিজয়ের হাসি হেসেছিলেন সেদিন, তা তার রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ ভুল ছিল বলে মনে করেন এই এলাকার রাজনীতি সচেতন মহল।সেদিন সেই ভুলটি তিনি না করলে হয়ত শ্রীপুরের রাজনীতির ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হত।

               অন্যদিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত উপজেলা নির্বাচনে এমপি হওয়ার আশা আপাতত ত্যাগ করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এড জামিল হাসান দুর্জয়।শপথও নিয়েছেন।তার চেয়ারম্যান হওয়ার নেপথ্যে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাকরিও হারিয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

গত উপজেলা নির্বাচনে পেশীশক্তির দাপট ছিল চোখে পড়ার মত।দ্বি-শক্তির চরম উত্থানের সামনে দাড়িয়েও ঈর্ষনীয় ভোট পেয়ে চমকে দেন আব্দুল জলিল।এই উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পাদপীঠে আবার ফিরে আসেন এড রহমত আলী পরিবার।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইকবাল হোসেন সবুজ ক্ষমতায় আসার পর ঈর্ষণীয় জনজোয়ার দেখে এখানকার মানুষের ধারনা ছিল অন্তত ৩/৪ মেয়াদ এই আসনে এমপি সবুজের কাছ থেকে টিকেট ছিনিয়ে নেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব হবে না।বাস্তবে এমপি সবুজ ঝরে গেছেন এক মেয়াদ পরেই, তার নিজের অদুরদর্শিতার চোরাবালিতে,যা জনগনের প্রত্যাশিত ছিল না।

 অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, উপজেলা নির্বাচনের ভুলের খেসারত বর্তমান সাংসদ ইকবাল হোসেন সবুজকে  দিতে হয়েছে ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচনে  তার রাজনীতির চলার পথে।

                 এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর শ্রীপুরের মানুষ ভেবেছিল এখানকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেল এ্যাড রহমত আলী পরিবার ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি হওয়ার মধ্য দিয়ে।

বাস্তবে তা হয়নি।সংরক্ষিত মহিলা আসনে অপ্রত্যাশিতভাবে এ্যাড রহমত আলী তণয়া অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসীকে এমপি করার মধ্য দিয়ে সঙ্কটময় অবস্থা থেকে শ্রীপুরের রাজনীতিতে ফিরে আসেন এ্যাড রহমত আলী পরিবার।

অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও কৃষক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নির্বাচিত করে আর এক ধাপ এগিয়ে দেওয়ায় তিনি '২৩ সালে দলিয় মনোনয়ন পেয়ে বিজিত হয়ে এমপি ও মন্ত্রীত্বের অমিয় সুধায় সিক্ত হয়ে জীবনের চরম প্রাপ্তিটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ছোট বোন এই আসনের এমপি,মন্ত্রী,বড় ভাই সদ্য নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান।ইকবাল হোসেন সবুজ কেন্দ্রিয় নেতিবাচক অভিযোগের বৃত্ত ভেঙে আবার কি ক্ষমতার পাদপ্রদ্বীপে জ্বলে উঠতে পারবেন?জনগনের বাধভাঙা জোয়ারের মহানায়ক হয়ে আবার কি জাতির দৃষ্টি আর্কর্ষনের নায়ক হয়ে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি আর কখনো সক্ষম হবেন না।কারন হিসেবে বলছেন, তিনি তার সততার ইমেজ হারিয়েছেন কেন্দ্র ও জনগনের চোখে।বিশ্বাস, আস্থা ও জননপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে জনগনের তার প্রতি।এসব কারনে রাজনীতির মাঠে থাকলেও তিনি কেন্দ্র ও জনগনের চোখে ইমেজ ফিরিয়ে আনতে হয়ত আর সক্ষম হবেন না।

অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে এখন এখানকার রাজনীতির দন্ডমূন্ডের কর্তা হবেন এড জামিল হাসান দুর্জয় এতে সন্দেহ নেই।এখানকার মিল ইন্ডাস্ট্রিসহ অর্থনৈতিক জোনগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন তিনি।কমিটিগুলো হবে তার নিজের মত করে।তবে তার পাশে থাকবে ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসার বিশাল চক্র।প্রকৃত ত্যাগী দলিয় ব্যক্তিরা তার কাছে পাত্তা পাবেন না।এসবের দায়ভার বহন করতে হবে অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপিকে।

এখানকার রাজনীতি, ব্যবসা কুক্ষিগত করে রাখতে গিয়ে সৃষ্টি হবে বঞ্চিত মানুষের কাফেলা।সৃষ্টি হবে জনরোষ।আর এসব বঞ্চিত মানুষের কাফেলার একাংশ মিলিত হবে ইকবাল হোসেন সবুজের রাজনীতিতে এবং এর বেশিরভাগ অংশ মিলিত হবে শ্রীপুরের পৌর মেয়র আনিছুর রহমান ও সদ্য পরাজিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বিএ'র মঞ্চে।

এদের সমন্বয়ে এক সময় এখানে আত্মপ্রকাশ ঘটবে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি।আর সেই শক্তির মঞ্চেই ২৯ সালে রচিত হবে মনোনয়নে পরিবর্তনের নতুন ইতিহাস।কারন সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্ব নানাবিধ বিতর্কে জড়িয়ে জনপ্রিয়তা হারাবে।কেন্দ্রে বিতর্কিত হবে।জনগন ক্ষুব্ধ হবে।উন্নয়ন বঞ্চিত হবে।ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক পদ হারাবে।উত্তাল জনজোয়ার সৃষ্টি হবে প্রার্থি পরিবর্তনের দাবি নিয়ে।আর সেই প্রেক্ষাপটে আসবে এমপি হওয়া দুই পরিবারের বাইরে তৃতীয় শক্তির অভ্যূদ্বয়।

এদিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এমপি সবুজের যে সমস্ত শীর্ষ নেতা পদ ধরে রাখতে, ব্যবসা ঠিক রাখতে এবং পরবর্তি কমিটি গঠন হলে যাতে চেয়ারটা ঠিক থাকে মনে করে নেতা পরিবর্তন করেছিলেন তাদের কেউ আর ক্ষমতার পাদপ্রদ্বীপে থাকবেন না।সময়ের প্রয়োজনে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা তাদের ব্যবহার করলেও এখন ছুঁড়ে ফেলার সময় সমাগত।তাদের রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে।শুধু নামের পাশে যোগ হবে সাবেক শব্দটি।

আরও খবর



রাণীনগর থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ককে অবাঞ্চিত ঘোষনা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

রাণীনগর, নওগাঁ প্রতিনিধি::


নওগাঁর রাণীনগর থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোসারব হোসেনকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হয়েছে। থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ন আহ্বায়ককে অব্যাহতি এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অনুমোদনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে থানা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির অব্যাহতি পাওয়া আহ্বায়ক রুকুনুজ্জামান খান রুকু। 


সংবাদ সম্মেলনে রুকু বলেন উপজেলা বিএনপির আমি এবং ১নং যুগ্ন আহবায়ক ও আহবায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ উপজেলার ৭২টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডসহ ৮টি ইউনিয়ন বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গত মাসের ২৭তারিখে অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন কমিটি বহাল রেখে বাঁকী ৪টি ইউনিয়ন কমিটিতে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের পছন্দের লোক না থাকায় বিধি ও গঠনতন্ত্র বহির্ভূত ভাবে বাতিল করে জেলা বিএনপি। এছাড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্যদের উপেক্ষা করে উল্লেখিত কমিটি পূর্ণ গঠন করে।এতে রাজনৈতিক পরিক্ষীত মেধাবী,যোগ্য ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদেরকে বাদ রেখে অযোগ্য ও আওয়ামীলীগের ডামী নির্বাচনে সহায়তাকারী ব্যাক্তিদের পদ-পদবী প্রদান করেছে। 


ফলে দলের জন্য আগামী আন্দোলন সংগ্রামকে দুর্বল করবে। সুতরাং এই নিয়ম বহির্ভূত কমিটি প্রত্যাখান করে সেই সাথে আওয়ামীলীগের চর ও এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী নিয়ম বহির্ভূত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোসারব হোসেনকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করছি। 


সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটির অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ন আহ্বায়ক আতিকুজ্জামান জাপান (ভি.পি),আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মেজবাউল হক লিটন,মাহমুদুল হাসান মধু,থানা কৃষকদলের সভাপতি আব্দুল মতিন,থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক ইউসুফ খাঁন,থানা সৈনিক দলের সভাপতি পাভেল রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।


ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোসারব হোসেন বলেন,বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আহ্বায়ক রুকুনুজ্জামান খাঁন রুকু ও ১নং যুগ্ন আহ্বায়ক আতিকুজ্জামান জাপানকে জেলা বিএনপি তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আমাকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছেন। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি। এছাড়া অব্যাহতি পাওয়া আহ্বায়ক এবং যুগ্ন আহ্বায়ক আমাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করতে পারেননা। 


তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন,অব্যাহতি পাওয়া অহ্বায়ক ও যুগ্ন আহ্বায়ক দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে অফিসে ঢুকে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমি এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে জেলা বিএনপিতে অভিযোগ দায়ের করব। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুকুনুজ্জামান খাঁন রুকু বলেন,আমাদের দলীয় কার্যালয়ের চাবি আমাদের কাছেই ছিল। এখানে তালা ভাঙ্গার কোন ঘটনা ঘটেনি। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশ এর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 


উল্লেখ্য,অনিয়ম ও দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে গত ২৮জুন রাণীনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১নং যুগ্ন আহ্বায়ক আতিকুজ্জামান জাপান (ভি.পি)কে এবং ৮জুলাই আহ্বায়ক রুকুনুজ্জামান খাঁন রুকুকে পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে নওগাঁ জেলা বিএনপি। সেই সাথে গত ৮জুলাই কমিটির ২নং যুগ্ন আহ্বায়ক মোসারব হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।




আরও খবর



নওগাঁর ৩ জন সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত ৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার-ই রয়েছেন ৩ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বুধবার সৌদির স্থানীয় সময় বিকেল ৫টারদিকে আগুনে নিহতের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা। মৃত্যুর খবর পাবার পর থেকে ওই তিনজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবারে চলছে শোকের মাতব।

নিহতরা ৩ জন হলেন,  নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তেজনন্দি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), শিকারপুর গ্রামের সাহাদ আলীর ছেলে এনামুল হোসেন (২৫) ও দিঘা স্কুলপাড়া গ্রামের কবেজ আলীর ছেলে শুকবর রহমান (৪০)।

নিহত ফারুকের ভাতিজা পিন্টু আলী বলেন, চাচা ফারুক হোসেন গার্মেন্টসে কাজ করতেন। প্রায় ৬ বছর আগে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে যান তিনি। কিন্তু যাবার পর থেকেই সেখানে নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। প্রায় ৮ মাস হচ্ছে স্থায়ীভাবে সোফা তৈরির কারখানায় কাজে যোগদান করেছেন। এরই মধ্যে বুধবার রাত ১০টা নাগাদ মোবাইল ফোনে জানতে পারেন কারখানায় আগুনে ফারুক নিহত হয়েছেন। একই

উপজেলার দিঘা গ্রামের নিহত শুকবর আলীর জামাই বিদ্যুত হোসেন বলেন, তার শ্বশুড় কৃষি শ্রমীক ছিলেন। গত আড়াই বছর আগে একমাত্র সম্বল ১১শতক জায়গা বিক্রি করে তার সাথে ধার-দেনার টাকায় তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এখন পর্যন্ত ধার-দেনার টাকা শোধ করতে পারেন নি। শুকবরের দুই ছেলে এক মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে শামিম হোসেন প্রতিবন্ধি। তার মাথা গোঁজার একমাত্র বাড়ির তিন শতক জায়গা ছাড়া আর কোন জমি নেই। কিভাবে শ্বাশুড়ী, শ্যালোকদের নিয়ে চলবেন তা নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন। শ্বশুর শুকবর আলীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। শিকারপুর গ্রামের নিহত যুবক এনামুলের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এনামুল গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। অনেকটা সুখের আসায় ঘর বাঁধতে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে যান। সেখান থেকে কেবলমাত্র রোজগারের টাকায় ধার-দেনা শোধ করে ইটের বাড়ি নির্মান করছেন। বাড়ির কাজ শেষ হলে আগামী বছর দেশে এসে বিয়ে করার কথা ছিলো। কিন্তু সেটা তার ভাগ্যে জুটলোনা। বুধবার রাত অনুমান সাড়ে ১০ টারদিকে আগুনে পুরে মারা যাবার খবর আসে। তখন থেকেই একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে বাবা-মা পাথর হয়ে পড়েছেন। কিছুতেই যেন তাদেরকে বুঝ দিয়ে থামানো যাচ্ছেনা। নিহতদের তিন পরিবার থেকেই দ্রুত মৃতদেহ দেশে আনতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। এব্যাপারে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, সৌদি আরবে আগুনে পুরে ৩ জন নিহতের খবর পেয়েছি। তাদের পরিবারের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। এছাড়া নিহতদের লাশ দেশে ফেরাতে এবং সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা থাকলে তা সহায়তা করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।


আরও খবর