Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

পা দিয়ে লিখেই এসএসসিতে গোল্ডেন প্লাস পেয়েছে মানিক

প্রকাশিত:সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

উত্তম কুমার মোহন্ত,ফুলবাড়ী ঃ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমানের ছেলে মানিক মিয়া। বিধাতার একি নির্মম পরিহাস জন্ম প্রতিবন্ধী দুই হাত বিহীন ঠোঁট কাটা মানিককে দুনিয়াতে অদম্য মেধাবী করে পাঠিয়েছেন দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য। 

দু হাত না থাকলেও পরাশুনায় পিছিয়ে নেই তার ইচ্ছা শক্তি সাধারণ ছাত্র, ছাত্রীদের চেয়ে অনন্য ২০১৬সালে ফুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি গোল্ডেন প্লাস ২০২০ সালে জছিমিয়া মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি জিপিএ ৫ মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২২ সালেও এসএসসিতে গোল্ডেন প্লাস পেয়ে গোটা উপজেলায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মানিক।এজন্য মানিকের গর্ভধারিণী মহীয়সী নারী মোছাঃ মরিয়ম বেগমের অবদান অনস্বীকার্য। মা মরিয়ম একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা বটে এই জন্য কবির ভাষায় বলতে হয় একজন শিক্ষিত মা উপহার দিতে পারে ভবিষ্যৎ একটি শিক্ষিত জাতি।

মেধাবী মানিকের কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, আপনাদের দোয়ায় আমি এইচএসসি ভর্তি পরীক্ষায় জন্য ভালোভাবে প্রস্তূতি নিয়ে ঢাকা নটরডেম কলেজে ভর্তি হতে চাই এবং আমার স্বপ্ন বুয়েটে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার পরতে এবং ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা আপনারা দোয়া করবেন আমি যেন আমার স্বপ্ন পূরন করতে পারি।

এব্যাপারে মানিকের বাবা মিজানুর রহমান ও 

মা মরিয়ম বেগম বলেন,মহান আল্লাহতালার রহমতে আমাদের ঘরে দুই ছেলে সন্তান দিয়েছেন বড় ছেলে মানিক ছোট ফাহিম ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পরে। মানিকের জন্ম থেকে দুটি হাত নেই ঠোঁট কাটা তা আমাদের মনে হয়না মানিক যেন আমাদের মানিকেই ছোট বেলা থেকেই আমরা তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস শেখাই।সমাজের অনেক সুস্থ স্বাভাবিক ছেলে মেয়েদের পরা শুনার মেধার চেয়ে আল্লাহ রহমতে আমাদের মানিকের পরা শুনার মেধা বুদ্ধি অনেক বেশি সবাই আমাদের মানিকের জন্য দোয়া করবেন তার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবার ইচ্ছা যেন আল্লাহতায়ালা পুরণ করেন। 


আরও খবর

আজ থেকে এক মাস বন্ধ সব কোচিং সেন্টার

মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




লাগামহীন সবজির বাজার

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

ভরা মৌসুমে বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকার পরেও ফের লাগামহীন সবজির দাম। ৬০ টাকার নিচে তেমন কোনো সবজি নেই বললেই চলে। মৌসুম শুরু হলেও কিছুতেই কমছে না আলুর দাম। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে মুরগি ও পেঁয়াজের দাম।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লম্বা বেগুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, গোল বেগুন ৮০-৯০ টাকা, ফুলকপি ৪০-৫০ পিস, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা, শিম ৮০-১০০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৭০-৮০ টাকা মান ও সাইজভেদে লাউ ৭০-১০০ টাকা, শসা ৫০-৬০, মূলা ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা গেল সপ্তাহজুড়ে কিছুটা কমে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়াও শাকের মধ্যে সরিষা শাক আঁটি ১৫ টাকা, ডাটা শাক ১৫ টাকা, মূলার শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০-৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে দোকানের তুলনায় ভ্যানে কিংবা ফুটপাতের দোকানগুলোতে প্রত্যেক সবজির দাম ৫-১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে প্রচুর নতুন আলু ও পেঁয়াজের সরবরাহ প্রচুর থাকলেও কমছে না দাম। ভরা মৌসুমেও হলেন্ডের আলু ৫০-৫৫ টাকা, দেশি আলু ৭০-৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকা, রসুন ২৬০-২৮০ টাকা, আদা ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে অস্বস্তি রয়েই গেছে মাছ-মাংসের বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লা মুরগির দাম ১০ টাকা কমলেও বিক্রি হচ্ছে ১৯০-১৯৫ টাকা কেজি। সোনালি ৩০০-৩৩০ টাকা। আবারও গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকায় দাম উঠেছে।

মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২০০-২২০ ও পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। যা গেল সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয়েছে। অন্য মাছের মধ্যে মাঝারি ও বড় আকারের চাষের রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের দাম প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়াও ৬০০ টাকার নিচে নেই পাবদা, টেংরা, কই, বোয়াল, চিতল, আইড় ও ইলিশ মাছ। মাছ যত বড় তার দাম ততো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

 


আরও খবর

চড়া দাম অধিকাংশ পণ্যের

শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রামগড় উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি সভাপতি নিজাম সম্পাদক মোশারফ

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন রানা

রামগড়(খাগড়াছড়ি)

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ই ফেব্রুয়ারী) রামগড় পুরাতন সোনালী ব্যাংকের ৩য় তলায় রামগড় উপজেলা প্রেস ক্লাবের কার্যালয়ে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে উৎসব মূখর পরিবেশে ভোটের মধ্যে দিয়ে এই কমিটির নির্বাচিত করা হয়। 

কার্যনির্বাহী পরিষদের আট সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ভোটাভোটির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি মো.নিজাম উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয় দৈনিক দেশ বাংলা পত্রিকার রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন, সহ-সভাপতি দৈনিক নয়া বাংলা পত্রিকার রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি মো.শাহাদাত হোসেন কিরন ,

সহ-সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি মো.মাসুদ রানা, অর্থ সম্পাদক দৈনিক মানবাধিকার ক্রাইমবার্তা পত্রিকার রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি মো.সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক দি বাংলাদেশ টুডে ও আলোকিত পাহাড় পত্রিকার রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন রানা, প্রচার তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক সমাচার পত্রিকার রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম এবং সম্মানিত সদস্য হিসেবে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি শেখ মহিউদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন।


আরও খবর



মিয়ানমারে বিদ্রোহীরা আরও শক্তিশালী হচ্ছে

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

১. বিদ্রোহী তৎপরতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পরিস্থিতিতে আপাতত না পড়লেও মিয়ানমার বর্তমানে একটি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে
২. মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ১৪ জানুয়ারি দেশটির চিন রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর পালেতোয়া দখল করে নেয়। শহরটি বাংলাদেশ সীমান্তের পূর্বদিকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর এর উত্তরে রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত


৩. পালেতোয়া দখলের পর উত্তর-পূর্ব অঞ্চলজুড়ে দেশটির জাতিগত সংখ্যালঘুদের ৩টি সুসজ্জিত মিলিশিয়া বাহিনীজোট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বড় সমন্বিত আক্রমণও পরিচালনা করে। অপারেশন ১০২৭ নামে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর এসব অভিযানের মুখে ক্রমেই সব রণাঙ্গনে পিয়ীয়ে পড়ছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
৪. ১২ জানুয়ারি যুদ্ধরত আরাকান আর্মিসহ অন্যান্য পক্ষগুলোর মধ্যে চীনের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার মাত্র দুই দিন পরে পালেতোয়ার দখল হাতছাড়া হয় জান্তার। বলা বাহুল্য, চুক্তির প্রভাব কেবল চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে বলেই ধারণা করা হয়েয়ীল।
৫. বিদ্রোহী তৎপরতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পরিস্থিতিতে আপাতত না পড়লেও মিয়ানমার বর্তমানে একটি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
৬. বেসামরিক নাগরিক এবং আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক দ্বারা গঠিত সশস্ত্র প্রতিরোধের নতুন রূপ ইতোমধ্যেই অস্থির মিয়ানমারের জন্য নতুন করে বৃহত্তর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে থাকা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য এর অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে তাদের ফেরার সম্ভাবনার কী হবে এখন।
৭. অপারেশন ১০২৭ চীনের সীমান্তবর্তী উত্তর শান রাজ্যে শুরু হয়। এমএনডিএএ, তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি আরাকান আর্মির থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের বিদ্রোহী সৈন্যরা দাবি করেছে, প্রদেশে এখন পর্যন্ত তারা শত শত সামরিক ফাঁড়ি এবং বেশ কয়েকটি শহর সীমান্ত প্রবেশদ্বার দখল করেছে।
৮. মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঠিক আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো জান্তা সৈন্যদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। ওই সংঘাতের পর বিদ্রোহীরা সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তর দখল করে চীনা সীমান্তের কাছে অবস্থিত লাউকাই নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
৯. যদিও যুদ্ধবিরতি চুক্তির অর্থ হচ্ছে চীনা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিদ্রোহীদের অগ্রগতি বন্ধ হয়ে যাবে, বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধবিরতি কতদিন ধরে বহাল থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন। কারণ অতীতে ধরনের কয়েক ডজন চুক্তি শেষ পর্যন্ত ভেঙে গিয়েয়ীল।
১০. বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে এখন নতুন প্রশ্ন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির জান্তার জন্য শেষের শুরু কি না। তবে এরকম কোনো সিদ্ধান্তে আসার সময় এখনো আসেনি।
১১. যুদ্ধবিরতি মূলত উত্তর-পূর্ব মিয়ানমারের চীন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জন্য প্রযোজ্য। এটা দেশের বাকি অংশে যেখানে বিদ্রোহ চলছে, সেখানকার জন্য খুব কমই প্রাসঙ্গিক, তিনি বলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অভ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের বিআইপিএসএস সভাপতি মেজর জেনারেল অব এএনএম মুনিরুজ্জামান।
১২. ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স দাবি করছে, এটি ২৫টি সামরিক চৌকি, এক ডজন শহর এবং চীন মিয়ানমারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যের অংশ ৫টি প্রধান সীমান্ত ক্রসিং দখল করেছে, তিনি বলেন।
১৩. এই যুদ্ধবিরতি কতদিন বহাল থাকে সেটাই দেখার বিষয়। কারণ যুদ্ধবিরতির সম্মতি আগেও য়ীল, কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চীন বিশেষভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে যাতে বাণিজ্য পথ খুলে দেওয়া হয় এবং সীমান্তের কাছে বসবাসকারী চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া যায়, বলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিআইআইএসএস নামক একটি সরকারি থিংক ট্যাংকের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়ীত্ব পালন করা মুনিরুজ্জামান।
১৪. মুনিরুজ্জামান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মায়ানমারের রাখাইন চিন রাজ্যে বিদ্রোহী দলগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তি অর্জন করেছে। সামরিক বাহিনীর তুলনায় তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
১৫. এই পরিস্থিতিতে সামরিক জান্তা ভেঙে পড়বে বলেও বিশ্বাস করেন না তিনি। আমার মনে হয়না তা হবে। প্রথমত, মধ্য মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এখনো জান্তার নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয়ত, জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো মধ্য মিয়ানমার দখলে নিতে আগ্রহী নয়, তাদের স্বার্থ নিহিত রয়েছে তাদের রাজ্যের ক্ষমতা সম্পদের মধ্যে, মুনিরুজ্জামান বলেন। সুতরাং, নতুন করে শক্তিশালী হলেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীসমূহ খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারবে না, বলেন তিনি।
১৬. গত বছরের শেষের দিকে জানা যায়, ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হবে। তবে তা আর পরে কখনও হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার সম্পর্কিত একটি সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে টিবিএসকে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন উদ্যোগ একটু মন্থর হয়েছে।
১৭. ডিসেম্বরের আগেই প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা য়ীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইন ফিরে যাওয়া নিরাপদ হবে না। আমরা খবর পাচ্ছি, রাখাইনের অন্তত ৬০ শতাংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, বলেন ওই কর্মকর্তা।
১৮. তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারাও মিয়ানমারে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করতে সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের একটি দূতাবাস এবং রাখাইনে একটি কনস্যুলার সার্ভিস রয়েছে।
১৯. মিয়ানমারের যুদ্ধ পরিস্থিতি চীন, জাপান ভারতের মতো দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তাই তারাও সেখানে যুদ্ধ বন্ধ করার চেষ্টা করছে, সংঘাতের অবসান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারে আভাস দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঠিক একদিন আগে বলেয়ীলেন কর্মকর্তা।
২০. কিন্তু রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যের কাছাকায়ী অবস্থিত চিন রাজ্যের পালেতোয়া বিদ্রোহীদের দখলের পর যুদ্ধবিরতির সুবাদে প্রত্যাশিত স্থিতিশীল পরিস্থিতির আশা সামান্যই অবশিষ্ট থাকে। আরাকান আর্মি সাবেক আরাকান প্রদেশ নামে পরিচিত রাখাইনেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থিতিশীল পরিস্থিতিও রোহিঙ্গাদের জন্য তেমন কিছু করতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
২১. সামরিক জান্তার প্রত্যাবাসনে কোনো প্রকৃত আগ্রহ নেই। হয়তে তারা কিছু প্রতীকী প্রত্যাবাসন দেখাবে। সর্বোচ্চ এটুকুই তারা করতে পারে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান টিবিএসকে বলেন। মিয়ানমারের সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হবে না বলেও ধারণা তার।
২২. মিয়ানমারের স্বাধীনতার বছর ১৯৪৮ সাল থেকে দেশটিতে বিদ্রোহ চলছে। সংঘাতটি মূলত জাতিগত দ্বন্দ্ব থেকেই, যেখানে কয়েক ডজন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে। কিন্তু ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীকালে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসভাবে দমনপীড়ন চালানোর পর বিদ্রোহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২৩. ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করা সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট, শান স্টেট আর্মি সাউথ অ্যান্ড নর্থ, আরাকান আর্মি, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজেশন, মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট, কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি, মন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি।
২৪. প্রত্যাবাসন নিয়ে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আগ্রহের অভাব রয়েছে এটি তাদের জন্য মুহূর্তে অগ্রাধিকার নয়। দলের মধ্যে আরাকান আর্মি রয়েছে, যেটি ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হবে, বলেন শাহাব এনাম।
২৫. অধ্যাপক বলেন, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতা এবং রাজনীতিবিদদের দ্বারা গঠিত নির্বাসিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের অংশ তার স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। স্বীকৃতিকে উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করেন তিনি।
২৬. তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন ইস্যুকে কেবল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ভুল। প্রত্যাবাসনকে শুধু দ্বিপাক্ষিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় না এটিকে বহুস্তরী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া, বলেন তিনি।
২৭. তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মনোযোগ কেবল সামরিক সরকারের দিকেই নয়, ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট তথা জাতীয় ঐক্য সরকার এবং আরাকান আর্মিসহ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দিকেও থাকা উচিত। রোহিঙ্গা রাখাইন জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত করে শাহাব এনাম বলেন, প্রত্যাবাসন অর্থবহ হওয়ার জন্য এই ব্যবধান কমাতে হবে। রাখাইন-রোহিঙ্গা সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আরেকটি প্রভাবক যা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে, তিনি ব্যাখ্যা করেন।
২৮. মিয়ানমারে চলমান বিদ্রোহী তৎপরতা জান্তাকে দুর্বল করতে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি অর্থবহ গণতান্ত্রিক সরকার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুটির প্রতিটি স্তরের সঙ্গে জড়িত থাকতে হবে, অধ্যাপক শাহাব এনাম বলেন।
২৯. চীন, ভারত এবং রাশিয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাতমাদোর সম্পর্কের সুবাদে উদ্ভূত শক্তি-ভারসাম্যের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সুবিধাজনক অবস্থান বিবেচনা করে বিআইপিএসএসের সভাপতি মুনিরুজ্জামানও নিকট ভবিষ্যতে কোনো অর্থবহ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা দেখছেন না। তিনি মনে করেন না, বাংলাদেশ সরকার মুহূর্তে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিদ্রোহী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে।
৩০. এর আগে শরণার্থী বিশেষজ্ঞ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক . নাসির উদ্দীন গত বছরের কার্যকর না হওয়া প্রত্যাবাসন পরিকল্পনাটিকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করেননি। এমনকি যদি প্রতি বছর পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাও প্রত্যাবাসন করা হয়, এক মিলিয়নেরও বেশি শরণার্থীর মিয়ানমারে ফিরে যেতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় লাগবে, তিনি উল্লেখ করেন।
৩১. অধ্যাপক নাসির উদ্দীন আরও বলেন, শরণার্থীদের জন্য বিদেশি অনুদান রেশন কমার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা সম্প্রতি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য বেশ আগ্রহী য়ীল। কিন্তু মিয়ানমারে তীব্র সংঘাতের অর্থ হচ্ছে তারা ফেরত যাওয়া নিয়ে