Logo
শিরোনাম

পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়

প্রকাশিত:রবিবার ২১ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ০৫ জুন ২০২৩ | ৯৬জন দেখেছেন

Image

চার পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম না কমলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বর্তমান দাম অস্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেঁয়াজের কেজি সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা হতে পারে

রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব বলেন কথা বলেন তিনি কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দ্রুত ভারত থেকে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে পেঁয়াজ আমদানি করা হলে ৪৫ টাকার নিচে চলে আসবে বলে জানান তিনি বলেন, এবছর গেলো বছরের চেয়ে লাখ টন পেঁয়াজ কম উৎপাদন হলেও, পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ আছে গত কয়েকদিন বাজার পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়


আরও খবর



রাস্তার ধারে পরেছিলো যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

প্রকাশিত:শনিবার ২০ মে ২০23 | হালনাগাদ:শুক্রবার ০২ জুন 2০২3 | ১০৯জন দেখেছেন

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :

বগুড়ায় রাস্তার ধারে পড়ে থাকা এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার সকালে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট অন্তে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহটি উদ্ধার করেন।

হত্যাকান্ডের শিকার যুবক সাইদুল ইসলাম ওরফে রাজিব (২৫) পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। তিনি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বেলাই কারুন্ডা পাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেন ওরফে সাধো'র ছেলে। 

মৃতদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মনঞ্জুরুল আলম।

শনিবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন এর বেলাই মোলামগাড়ী মাঠে (রাস্তার ধারে) যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেন স্থানিয়রা। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট অন্তে ময়না তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করেন পুলিশ।

হত্যাকান্ডের শিকার যুবকের স্ত্রী শাকিলা আক্তার সাংবাদিকদের  জানান, আমার স্বামী গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টারদিকে বাড়ি থেকে গ্রিলের কাজ করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। কিন্তু রাতেও স্বামী বাড়িতে না ফেরায় স্বামীর মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন দিয়ে যোগাযোগ এর চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ কল ঢোকেনি। এরিমাঝে রাত পেরোতেই আজ সকাল সারে ৬টারদিকে লোকজন আমাকে জানায় যে আমার স্বামীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে হত্যাকারিরা। আমি প্রসাশনের কাছে আমার স্বামী হত্যার ন্যায় বিচার চাই। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, যুবক সাইদুল নেশায় আসক্ত ছিলেন। তবে নেশা করানিয়ে ঝামেলা না অপর কোন কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে সেটা প্রশাসন উদর্ঘাটন পূর্বক জড়ীতদের যেন আইনের আওতায় আনেন। 

পুলিশ সুত্র জানায়, ঘটনাস্থল গ্রামের কাচা রাস্তায় যুবকের মৃতদেহ পড়ে ছিলো এবং প্রাথমিক সুরতহাল তদন্তে নিহত যুবকের পাজর ও কাঁধে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ পরে থাকার খবর পেয়ে বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও 

সিআইডি'র ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাটি উদর্ঘাটনে কাজ করছে।  এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মনঞ্জুরুল আলম আরো বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং আইনানুগ কার্যক্রম পক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



বাজারে অসহায় ক্রেতা

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ জুন ২০২৩ | ১১৯জন দেখেছেন

Image

বাজারে সাধ্যের বাইরে সবকিছুর দাম। ফলে অস্বস্তি বাড়ছে ক্রেতাদের মধ্যে। এ অবস্থায় অর্থ সাশ্রয়ে খুচরা বাজার থেকে সরাসরি পাইকারি বাজারে চলে যাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বেশির ভাগ ক্রেতা বলছেন, টাকা বাঁচাতে তারা এখন পাইকারি বাজারেই ভিড় করছেন। কিন্তু তাতেও লাভ হচ্ছে না। কারণ, পাইকারি বাজারে সব সবজির দামই বেশি। পাইকারি বাজারে শুধু আলু ৩০ টাকায় এবং লেবু এক ডজন ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া বাজারের সব ধরনের সবজি ৬০ টাকার ওপরে, যা খুচরাপর্যায়ে গিয়ে আরো বেড়ে যাচ্ছে। এদিকে, বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংস, দেশি ও ব্রয়লার মুরগি এবং ডিমের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মাংসের সঙ্গে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের দামও। ফলে আমিষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ফলে আমরা সব জায়গাতেই অসহায়।

রাজধানীর পাইকারি সবজির আড়ত কারওয়ান বাজারের এর সঙ্গে খিলগাঁও রেলগেট বাজার, গোড়ান বাজার, মেরাদিয়া হাটের মতো স্থানীয় পর্যায়ের খুচরা বাজার ঘুরে দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। কিন্তু খুচরা বাজারে সেই করলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকায়। পাইকারি বাজারে ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, যা খুচরাপর্যায়ে ৬০ টাকা। পাইকারিতে পটোলের কেজি ৩৫-৪০ টাকা, যা খুচরা পর্যায়ে ৮০ টাকা। পাইকারিতে টমেটোর কেজি ৩০ টাকা, যা খুচরা পর্যায়ে ৬০ টাকা। পাইকারিতে চিচিঙ্গার কেজি ৩৫-৪০ টাকা, যা খুচরায় ৮০ টাকা। আকারভেদে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত, যা খুচরা বাজারে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে লেবুর ডজন (১২ পিস) ২০-৩০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন মো. সোহাগ। মা এবং ভাইসহ থাকেন শাহীনবাগে। মা তাকে বাসার জন্য বাজার করতে পাঠিয়েছেন। নিয়মিত তার বড় ভাই বাজার করতে আসেন। মায়ের অনুরোধে বাজারে গিয়ে সবজির দাম শুনে মাথা ঘুরছিল তার। হাতে যে বাজারের তালিকা ছিল, তার মধ্যে বেশ কটি পণ্য কেনা বাকি ছিল। কিন্তু টাকায় কুলায়নি! দাম বেশি হওয়ায় ও পকেটে হিসাবের বাড়তি টাকা না থাকায় কিছু পণ্য বাদ রেখেই বাজার থেকে বাসায় ফিরছেন। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে এসেছি। খুচরা বাজারে সবকিছুর দাম বেশি, তাই কম দামের কথা চিন্তা করে বাসার কাছে হওয়ায় কারওয়ান বাজারে আসা। কিন্তু এখানেও দাম অনেক! টাকায় টান পড়ায় প্রয়োজনের সবকিছু কেনা হয়নি। আগে দুই হাজার টাকার মধ্যে পাইকারি বাজার থেকে সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যেত। এখন দাম বাড়ায় এই অল্প টাকায় প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সোহাগের মতো অবস্থা অধিকাংশ ক্রেতার। সাধ্যের মধ্যে ভরছে না তাদের বাজারের ব্যাগ।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা ফোরকান আহমেদ বলেন, ঈদের পর সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে সবজির গাড়ি কম আসছে। পাশাপাশি লেবার খরচও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। যে কারণে পাইকারি বাজারে সবজির দাম বাড়তি।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ফুলকপি, লাউ প্রতি পিস ৮০ টাকায়, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু কমের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে লেবু ৩০ টাকা হালি এবং আলু প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা। এ ছাড়া দাম বেড়ে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ধনেপাতার দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।

পাশাপাশি ঢেঁড়স, শসা, টমেটো, চালকুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬৫-৭০ টাকায়। ঝিঙে, ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, পটোল, কাঁচা, পেপে, প্রতি কেজি ৮০ টাকা। করলা, গাজর, লতি, প্রতি কেজি ১০০ টাকা। কাঁকরোল ১২০ টাকা কেজি। কচুরমুখি প্রতি কেজি ১৪০ টাকা।

খিলগাঁও রেলগেট বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা ফজলে রাব্বি বলেন, বাজারে এখন বেচাকেনা কম। মানুষের কাছে টাকাপয়সা নেই। আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতাম, এখন সেখানে ৩০ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারি না। লাভ করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়ে যায়। কারণ মালের দাম তো বাড়তি।

এদিকে, বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংস, দেশি ও ব্রয়লার মুরগি এবং ডিমের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মাংসের সঙ্গে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের দামও। ফলে আমিষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে প্রতি কেজি গরুর মাংস গত এক বছর আগেও ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মতো। এক বছরে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে গরুর মাংস বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে যা ৮০০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

টিসিবির হিসাবে, বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ২১৫ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও এ দামে বিক্রি হচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে। এক বছরের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়।

খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫ টাকা এবং হাঁসের ডিমের হালি ৭০ টাকা। অন্যদিকে খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এক বছরে পণ্যটির ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দাম বেড়েছে, যা এক বছর আগেও বিক্রি হতো ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়। তবে মাংসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে নানা যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন বিক্রেতারা। বলছেন, বর্তমানে সবকিছুর দামই বেড়েছে। গো-খাদ্য ও পোলট্রি ফিডের দাম বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম। ফলে খরচও আগের থেকে অনেক বেড়েছে। তাই মাংসের দামও বাড়তি।

 


আরও খবর



শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ জুন ২০২৩ | ৯৫জন দেখেছেন

Image

আজ ১৭ মে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৩ তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কোলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালরাতে নর ঘাতকরা ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এসময় বিদেশে থাকায় আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতক গোষ্ঠী।

বাঙালি জাতির জীবনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। ঠিক এমনি ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করা হয় জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যার হাতে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বকে ভয় পায় ঘাতক গোষ্ঠী। খুনি সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে না দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় স্বদেশভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন শেষে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিও সেদিন লাখ লাখ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার অমর স্লোগান, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব; ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে আমরা আছি তোমার সাথেশেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।

সে দিন বিকেল সাড়ে চারটায় আকাশে যখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি দেখা যায় তখন সকল নিয়ন্ত্রণ আর অনুরোধ আবেদন অগ্রাহ্য করে হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বিমানটি অবতরণ করে। জনতা একেবারেই বিমানের কাছে চলে যায়। বহু চেষ্টার পর জনতার শ্রোতকে কিছুটা সরিয়ে ট্রাকটি ককপিটের দরজার একেবারে সামনে নেয়া হয়। এই সময়ে শেখ হাসিনা ভেতর থেকে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন।

বেলা ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা সিঁড়ি দিয়ে ট্রাকে নেমে আসেন। কুর্মিটোলা থেকে শেখ হাসিনার শেরেবাংলা নগরে এসে পৌঁছতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা। এ সময় ঝড় বৃষ্টিতে নগর জীবন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাট স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখন এখানে অপেক্ষা করে কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরে বাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।

তিনি আরও বলেছিলেন, আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর যখন প্রবঞ্চক বিশ্বাসঘাতক খুনি দেশদ্রোহীরা প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলেছিল আমাদের জাতীয় জীবন যখন জাতিদ্রোহীদের অত্যাচারের প্রচন্ড দাবদাহে বিপর্যস্ত তখন শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল শ্রাবণের বারিধারার মতো পাহাড় সমান বাঁধা জয়ের অনন্ত অনুপ্রেরণা। সে দিন বঙ্গবন্ধু কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অশ্রু-বারিসিক্ত জন্মভূমিতে সঙ্কটজয়ের বীজ রোপিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত অগ্নিশপথের রৌদ্রালোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল বাঙালি জাতি।

ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তাঁর অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনো কিছুই তাঁকে তাঁর পথ থেকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু । শত প্রতিকূলতাতেও হতোদ্যম হননি কখনো। বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বার বার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন, আবির্ভূত হয়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা রূপে।

আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরের নরঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন এবং রায় কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এক সময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতো সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তালাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, মেধা, দক্ষতা ও গুণাবলিতে সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপন কর্ম মহিমায় হয়ে উঠেছেন-নব পর্যায়ের বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা; হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি। বিশ্ব রাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রভা-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়া দেশ-জাতি জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে বিশ্বনন্দিত নেতা। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা নীলকণ্ঠ পাখি মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তমানবী। তিমির হননের অভিযাত্রী মানবতার মা, আত্মশক্তি-সমৃদ্ধ সত্য-সাধক। প্রগতি-উন্নয়ন শান্তি ও সমৃদ্ধির সুনির্মল-মোহনা। এক কথায় বলতে গেলে সাগর সমান অর্জনে সমৃদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৪২ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের এ পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিলনা ছিল কণ্ঠকাপূর্ণ ও বিপদসংকুল। গণমানুষের মুক্তির লক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাঁকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। জনগণের ভালবাসায় অভিষিক্ত হয়ে টানা তৃতীয় বারসহ চতুর্থ বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তখন এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়ন করেছেন বহুমাত্রিক উদ্যোগ। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি অগাধ প্রেম এবং অক্ষয় ভালোবাসাই হলো তাঁর রাজনৈতিক শক্তি। 


আরও খবর



অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রাখতে চেষ্টা করছি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ জুন ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ জুন ২০২৩ | ৫৯জন দেখেছেন

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও সরকার দেশের অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। বুধবার (৩১ মে) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চট্টগ্রাম-১১ আসনের আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা অতিমারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে মন্দাভাব, মূল্যস্ফীতি ও অস্থিরতা দেখা দেয় এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তা মোকাবিলা করে সরকার দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত করোনাপূর্ব উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। করোনার তীব্র সংকটের মধ্যেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ; যা ওই সময়ে বিশ্বের মধ্যে ছিল অন্যতম সর্বোচ্চ।

তিনি জানান, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে আরো বেড়ে ৭ দশমিক ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এ সময় অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত রাখতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সরকারি ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও কৃষি খাতে ভর্তুকি প্রদান, রপ্তানি প্রণোদনা, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, মুদ্রানীতি ইত্যাদি।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেনের প্রশ্নের জবাবে নিত্যপণ্যে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সরকারের কার্যক্রমগুলোর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে এবং দারিদ্র্য মানুষ এতে উপকৃত হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে সেপ্টেম্বর ২০২৩ এবং সব কাজ সম্পন্ন করে জুন-২০২৪ এ ভাঙ্গা থেকে যশোর অংশের রেল চলাচল চালু করা সম্ভব হবে।

সংরক্ষিত আসনের এমপি খ. মমতা লাভলীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ লাখ ৫৫ হাজার পরিবারকে ১৩৪ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

চলতি সংসদের সদস্য ও নন্দিত চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুতে সর্বসম্মত শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদ। সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে চলতি সংসদের রেকর্ড সংখ্যক সদস্যের মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, চলতি সংসদে আমরা এত সংখ্যক সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি যা অতীতে কখনো ঘটেনি।

বুধবার (৩১ মে) বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আসাদুজ্জামান নূর, হাবীব হাসান ও মেহের আফরোজ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নায়ক ফারুককে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফারুক ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে ছাত্রজীবনে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছেন। দুঃখজনক হচ্ছে, আমরা একে একে সব মুক্তিযোদ্ধাদের হারিয়ে ফেলছি। তিনি এভাবে চলে যাবেন তা কখনো ভাবিনি। আল্লাহ পরিবারকে এই শোক সইবার ক্ষমতা দিক।

গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কেবল রাজনীতি নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক জগতে তার অবদান রয়েছে। তার মৃত্যু সংস্কৃতি অঙ্গনে বিরাট ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে আমরা সাংস্কৃতিক কর্মীদের পাশে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন তার নাম নিতেই কেউ সাহস পাচ্ছিলেন না। তখন সাংস্কৃতিক কর্মীরা এগিয়ে এসেছিলেন। স্বাধীনতার চেতনাকে সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ফারুক ভূমিকা রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর দাদি সায়েরা খাতুন ১৯৭৪ সালের ৩১ মে মৃত্যুবরণ করেছিলেন উল্লেখ করে এ দিন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবার কাছে তার (দাদির) জন্য দোয়া কামনা করে বলেন, আমার দাদি জন্ম দিয়েছিলেন আমার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি এনে দিয়েছেন আমাদের স্বাধীনতা। এজন্যই আজকে আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি।

আলোচনা শেষে আকবর হোসেন পাঠানসহ মৃত্যুবরণকারীদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী। পরে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।

এদিকে সংসদে গৃহীত প্রস্তাবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. কবীর হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কথাশিল্পী সমরেশ মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান, ভাষাসৈনিক এম এ ওয়াদুদের সহধর্মিণী ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির মা রহিমা ওয়াদুদ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েেেছ। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে মিয়ানমারে হতাহত, বাংলাদেশে আহত এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।

 


আরও খবর

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় তেজ

রবিবার ০৪ জুন ২০২৩




দিঘলিয়ায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে

সারোয়ার খান কলেজ-এর ১৫ বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

প্রকাশিত:শনিবার ২০ মে ২০23 | হালনাগাদ:সোমবার ০৫ জুন ২০২৩ | ৭৭জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রী কলেজ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ প্রতিষ্ঠানটি দিঘলিয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ, এ কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আলতাফ হোসেন শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষসহ ১৫ টি বিষয় শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রি কলেজের এ সাফল্যে কলেজ ও এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। কৃতি শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে সংবর্ধনার।  সাফল্যের নজির রেখে আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রী কলেজ আবারও প্রমাণ করেছে যে উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে তরাই সেরা।

গতকাল ও গত পরশু, দিঘলিয়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের উপলক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

কলেজ পর্যায়ে সরকারি এম এ মজিদ কলেজ সহ পাঁচটি কলেজ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিচারকদের বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রথম স্থান লাভ করে আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রী কলেজ। কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আলতাফ হোসেন শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষের হিসেবে মনোনীত হন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তারা হলেন: শ্রেষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষক ডক্টর পারভিন সুলতানা, শ্রেষ্ঠ রোভার শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম, শ্রেষ্ঠ রেঞ্জার শিক্ষক অধ্যাপক  ডক্টর পারভীন সুলতানা, শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি শিক্ষক প্রভাষক মোঃ ফয়সাল আহাম্মেদ।  শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তারা হলেন- শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার তোহা, হামদ/ নাতে প্রথম হয়েছেন মোসাম্মৎ জান্নাতি, বাংলা কবিতা আবৃত্তিতে মোসাম্মৎ জান্নাতি, শ্রেষ্ঠ রোভার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি টিপু সুলতান, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত প্রথম নিবেদিত কর্মকার। এছাড়া শ্রেষ্ঠ রোভার গ্রুপ ও শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি গ্রুপ এর কৃতিত্ব অর্জন করেছে আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ।

কলেজে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য অধ্যক্ষ মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, কলেজ পরিচালনার পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি বিশিষ্ট প্রকৌশলী শেখ মুনির আহমেদের এর বুদ্ধিদীপ্ত দিকনির্দেশনা ,সার্বক্ষণিক তদারকি , কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক কর্মচারী ছাত্র-ছাত্রী ,অভিভাবক বৃন্দ , বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, আজগর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী হাওলাদার সহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ফরহাদ হোসেন সহ সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সর্বোপরি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমরা এর সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সাফল্যের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।আমরা আবারো প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে এই উপজেলার কলেজ পর্যায়ে আমরাই সেরা।


আরও খবর