Logo
শিরোনাম

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

শিক্ষাবিদ  অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী.. ঃ

মানুষ খুব বিস্ময়কর। তার থেকে বড় বিস্ময়কর হলো মানুষকে বোঝা। মানুষ কেবল জিততেই চায়, হারতে চায় না। কে-কিভাবে-কখন-কাকে পা ধরে টেনে নামিয়ে নিজে উপরে উঠবে- এ নিয়ে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। জিততে হলে যে হারতে হয় মানুষ তা বুঝতে পারে না। এক একটা পরাজয়ের পিছনে এক একটা জয় লুকিয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে সে চেতনাবোধ হারিয়ে যায়। মানুষ এতটাই জেতার নেশায় বুদ হয়ে থাকে যে তার ভিতরের সম্ভাবনাময় শক্তিগুলো ক্রমশ লোপ পেতে থাকে। 

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়। পরাজয় মানুষকে বন্ধু-শত্রু চিনিয়ে দেয়। অদৃশ্য কুশীলবদের পর্দার পিছন থেকে টেনে বের করে সামনে নিয়ে আসে। পরাজয় থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। সে শিক্ষা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায় ও পরবর্তী পরিকল্পনা এবং কৌশল নিতে সহায়তা করে। এক একটা পরাজয় এক একটা নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়। সে অভিজ্ঞতা মানুষের শক্তি হয়। মানুষের মধ্যে এক অলৌকিক শক্তি তৈরি করে। 

মানুষের খেলার পিছনের খেলা, তারও পিছনের খেলার হাতগুলো দেখতে পায়। মুখোশের ভিতরের মুখটা তখন কঠিন সত্য হয়ে বেরিয়ে আসে। সে মুখ মানুষের মুখ নয়। কোন এক বিশ্বাসঘাতক বুনো বিড়ালের মুখ হয়। 

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এ পি জে আব্দুল কালাম বলেছেন, সফলতার গল্প পড়ো না, কারণ তা থেকে তুমি শুধু গল্পটাই পাবে। ব্যর্থতার গল্প পড়ো, তাহলে সফল হওয়ার কিছু উপায় পাবে। এই মহামূল্যবান বাণীটি কতজন উপলব্ধি করার ক্ষমতা রাখে- তা কে জানে। হয়তো সবাই, কিন্তু অভিনয়টাই যে এখন মানুষের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে। রঙ্গমঞ্চে এভাবে প্রতিদিন মানুষের আত্মার মৃত্যু ঘটছে। আর দেহটা সে মৃত্যুর ভার গ্রহণ করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ছে হয়তোবা। মানুষ যখন পরাজিত হয় তখন সুসময়ের মানুষেরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। 

এভাবে পরাজয় মানুষের মধ্যে একাকীত্বের অভিজ্ঞতা তৈরি করে | এই একাকীত্ব মানুষের দৃষ্টির গভীরতা বাড়ায়। এই সময়টাতে মানুষ অকৃতজ্ঞ মানুষদের চিনতে পারে। মানুষ সব সময় জয় আর সফলতার পূজারী হয়। কিন্তু সে জয় আর সফলতা কতটা সার্থক সেটা কখনো বিবেচনায় আনে না। এর  ফলে ব্যক্তির চেয়ে জয় মানুষের কাছে বেশি প্রাধান্য পায়। এভাবে জয়ে আসক্ত মানুষেরা নিজেদের ব্যক্তিত্বের বিনাশ ঘটায়। কখনো নিজেরা শক্ত মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়াতে পারে না। এটাকে মানুষের প্যারাসাইট বা পরজীবী চরিত্র বলা যেতে পারে। জীবনানন্দের অদ্ভুত আঁধার এক কবিতাটির কথা মনে পড়ে গেলো। 

তিনি বলেছেন, 

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই

পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি

এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়

মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

কবিতাটি সে মানুষদের চেনাচ্ছে যারা নিজেদের স্বার্থে পরাজয়কে মানতে না পেরে জয়ের অনিশ্চিত গন্তব্যে পাড়ি জমিয়েছে। হয়তো তারা এটাকে জয় ভাবছে, কিন্তু মিছেমিছি এই জয় তাদের কপালে প্রতিদিন পরাজয়ের কলঙ্ক এঁকে দিচ্ছে। জয়ের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে সুবিধাবাদী পরাজিত মানুষেরা। যাদের কোনো নিজেদের বিচার বিবেচনার শক্তি নেই। 

তবুও এতো সব আঁধারের মাঝে আশার বাণী কান পেতে শুনতে হয়। নিজের মুখের ভিতরের মুখ দেখতে হয়। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে তার  দিওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী উপন্যাসে বলেছেন, ‘মানুষ পরাজিত হওয়ার জন্য তৈরি হয়নি। মানুষকে ধ্বংস করা যায় কিন্তু পরাজিত করা যায় না।’ মানুষ কখনো পরাজিত হয় না। মানুষকে পরাজিত করার চেষ্টা  হয়তো চলে। ছদ্মবেশে কিংবা প্রকাশ্যে। যারা এই চেষ্টাটা চালায় তারা জয়কে ভয় পায়। নিজেরা পরাজিত হয়, সেটা বুঝতে না পেরে অন্যের পরাজয়ের উৎসবে মেতে উঠে। 

জয় ঠেকাতে মানুষকে খুন করে যারা জয়ের আনন্দে মেতে উঠে তারা নিজেরা পরাজিত হয়। কখনো নিজের কাছে, কখনো বিবেকের  কাছে, কখনো সময় আর প্রকৃতির কাছে। একটা প্রবাদবাক্য আছে ‘মিথ্যা তখনই জিতে যায় যখন সত্যি বলা লোক গুলো চুপ থাকে।’ কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষ সত্যকে বুকে চেপে নিরপেক্ষতা ও সুবিধাবাদিতার আশ্রয় নেয় বলে অনেক সময় মিথ্যার জয়টা মানুষ দেখে কিন্তু পরাজিত সত্য জানে যা মানুষ জয় দেখছে তা একধরণের দীর্ঘমেয়াদের পরাজয়। 

সত্য কখনো ঘুমিয়ে থাকেনা। মিথ্যার জয়ে সত্য সাময়িক লজ্জিত হয়, অভিমান করে কিন্তু ভেঙে পড়েনা। একটা কথা সময় মনে রাখা দরকার তা হলো অনেক পরাজয়ে ত্যাগ থাকে আবার অনেক জয়ে স্বার্থ থাকে। তবে ত্যাগ কখনো স্বার্থের চেয়ে বড় হতে পারেনা। প্রতিটা জয় কতটা অর্থ থেকে প্রভাবমুক্ত তাও ভেবে দেখা দরকার। 

অবৈধ অর্থ আর সম্পদের কাছে জয় যখন পরাজিত হয় তখন তিলে তিলে গড়ে উঠা স্বপ্নের মৃত্যু হয়। এ মৃত্যু মানুষের মৃত্যু নয়- এ মৃত্যু সভ্যতার, এ মৃত্যু একবিন্দু আবেগের। তারপরও মাঝ রাস্তায় এসে চিৎকার করে একজন নিখুঁত মানুষ এসে চিৎকার করে বলে উঠুক, জয় হোক মানুষের,  .পরাজয় ঘটুক অমানুষদের। ঘুরে দাঁড়াক মানুষ।

 ঘুরে দাঁড়াক সময়। আর বলে উঠুক আবেগের মন, শেকড়ের ছন্দপতন, সব সময় জিততে যেওনা, মাঝে মঝে হারতে হয়। তুমি হারলে মানুষ বুঝবে তুমি তাদের জন্য কত মূল্যবান ছিলে। তুমি নিজে হেরে অন্যকে জিতিয়ে দাও। এই পরাজয়ে গ্লানি নেই, মহাত্যাগ, মহত্ব ও মর্মবাণী আছে। মনে রেখো সব পরাজয়, পরাজয় নয়।


আরও খবর



ইটনায় ০১ কেজি গাঁজাসহ আটক একজন

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

মোঃ মুজাহিদ সরকার, কিশোরগঞ্জ :

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড়হাটি থেকে এক কেজি গাঁজা সহ একজন কে আটক করেছে ইটনা থানা পুলিশ। 

০৭ সেপ্টেম্বর রোজ বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর ইউনিয়নের বড়হাটির মৃত সাফির উদ্দিন ছেলে মোঃ রেনু মিয়া(৩৬) এর বসতঘর থেকে গাঁজা সহ আটক করা হয়। উক্ত মাদক উদ্ধারে ইটনা থানার এসআই লূৎফর রহমানের নেতৃত্বে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন এএসআই জুয়েল খান, এএসআই মেরাজ হোসেন। 

ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল ইসলাম মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ইটনা থানার পুলিশ সর্বদাই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে এবং যাহার মূল্য অনুমান ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা। ইটনা থানায় মামলা করা হয়েছে যার নং-০২, ধারা- ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮। মাদকসহ আটককৃত ব্যক্তিকে আগামীকাল কোর্টে পাঠানো হবে।


আরও খবর



কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংবর্ধনা

প্রকাশিত:বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

কুমিল্লা ব্যুরো ঃ

টেলিভিশন সাংবাদিকতায় অবদান রাখায় টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংবর্ধনা দিয়েছে কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম।

কুমিল্লা নগরের একটি রেস্তোরায় এ সংবর্ধনার  আয়োজন করা হয়। 

সংবর্ধনাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন—বাংলাদেশ টেলিভিশেন সাবেক জেলা প্রতিনিধি মু,মিজানুর রহমান চৌধুরী,বিটিভির জাহাঙ্গীর আলম রতন, এটিএনবাংলা ও এটিএন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার খায়রুল আহসান মানিক,আরটিভির স্টাফরিপোর্টার গোলাম কিবরিয়া,ভোরের কাগজ,দেশটিভির এম ফিরোজ মিয়া,যুমনা টিভির ব্যুরো প্রধান খোকন চৌধুরী, সময় টিভির বাহার রায়হান, নিউজটোয়েন্টিফোরের হুমাযুন কবির জীবন, ডিবিসির নাসির উদ্দিন,চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জাহিদুর রহমান,বাংলাটিভির আরিফুর রহমান,আনন্দটিভির সৈয়দ আহসান হাবীব পাখী,এসএ টিভির আনোয়ার হোসেন,দেশটিভির সুমন কবিরসহ ১৭জন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা সিটিকর্পোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত।

মেয়র তারঁ বক্তব্যে কুমিল্লার উন্নয়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি  একাত্তর টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী এনামুল হক ফারুক।অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক  ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির জীবন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন, কুমিল্লা ক্লাবের সহ-সভাপতি আলী মুনসুর ফারুক, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র হাবিবুর আল আমিন সাদি, ধনুয়াখলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শামীম হায়দার, অনুষ্ঠান শেষে টেলিভিশন ক্যামেরাপার্সনদের কে শুভেচ্ছা উপহার দেয়া হয়। 

সাংবাদিকদের উদ্বুদ্ধ করতে টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করতেই এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।


আরও খবর



ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনে এগিয়ে আসে। (সূরা রা’দ : ১১)

নবী করীম (সা) বলেন, আমাকে সচ্চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের নিমিত্তেই প্রেরণ করা হয়েছে।

মানব জীবনে আখলাকের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ তার মনের আলোকেই সম্পাদিত হয়। দার্শনিক ঈমাম গাজ্জালীর মতে-যেমন গুণাবলী মানব মনে জাগরুক থাকে তারই প্রতিফলন তার বাহ্যিক কাজ-কর্মে প্রকাশিত হয়। এর আলোকে বলা যায় মানুষের কোনো কাজই তার মূল চিন্তা-চেতনা বহির্ভূত নয়। এ জন্যই যুগে যুগে সংস্কারকরা মানুষের সংশোধন ও পবিত্র জীবন যাপনের পন্থা হিসেবে তাদের আত্মার পরিশুদ্ধি ও মূল্যবোধের জ্ঞান প্রথমেই শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের উন্নতি-অবনতি, উত্থান-পতন, মান-সম্মান ইত্যাদি সব কিছুই তাদের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপরই নির্ভর করে।

উত্তম চরিত্র ইসলামী শিক্ষার অন্যতম একটি কোর্স হিসেবে পরিগণিত করা হয়। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা সমগ্র মানব সমাজের চারিত্রিক উন্নয়নে প্রচুর নির্দেশনা বিদ্যমান। মূলত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য এ চরিত্রের আলোকেই হয়ে থাকে।

আখলাকের মাধ্যমেই মানুষ মনুষ্যত্বের চূড়ান্ত মানে উন্নীত হতে পারে। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন-বিধান। এ বিধানের পরিপূর্ণতার জন্য তাতে উন্নত চরিত্রের বিধান থাকা আবশ্যক।

তাই ইসলামে আখলাকুল হাসানাহ্ তথা উত্তম চরিত্রের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে। পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের নিমিত্তে আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রসূলদের প্রেরণ করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী (সা) কে প্রেরণের অন্যতম কারণ সচ্চরিত্রের বিকাশ সাধন। একদা জনৈক ব্যক্তি রসূল (সা) কে দ্বীনের সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বলেন, উত্তম চরিত্র। এ কথা দ্বারা বুঝা যায়, সচ্চরিত্রতা বা উত্তম চরিত্র দ্বীনের অন্যতম একটি রুকন, যা ব্যতীত দ্বীনের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না, যেমন হজ্ব সম্পর্কে রাসূলের বাণী- হজ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন হচ্ছে আরাফায় অবস্থান করা যা ব্যতীত হজ্ব আদায় হয় না, তেমনি সচ্চরিত্রতা ব্যতীত দ্বীন ও পরিপূর্ণ হয় না।

উত্তম চরিত্র হল পরকালে মুক্তির উপায়, ইসলামের অপরিহার্য ফরজ তথা নামাজ-রোযা পালন করা সত্তে¡ও পরকালে জাহান্নাম থেকে নাজাত ও জান্নাত লাভের জন্য আখলাক তথা উত্তম চরিত্রের কোনো বিকল্প নেই।

জনৈক ব্যক্তি রসূল (সা)-কে উত্তম ঈমানদার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে যে অধিক চরিত্রবান সেই উত্তম’। উত্তম চরিত্র দ্বারা মু’মিনরা কিয়ামতে রাসূল (সা)-এর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে সবাই এক রকম হবে না।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা) বলেন, ‘কিয়ামতের দিবস তোমাদের মধ্যে আমার নিকট বেশি পছন্দনীয় ও অবস্থানের ক্ষেত্রে অধিক নিকটবর্তী হবে তোমাদের মধ্যে যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী’। সৎ চরিত্রের অধিকারীর আমলনামাও ভারী হবে।

এ প্রসঙ্গে রসূল বলেন, ‘কিয়ামতের মাঠে হিসেব-নিকাশের সময় ’আ­ল্লাহ ভীতি ও চরিত্রতার গুণ’ মু’মিনের আমলনামাকে ভারী করবে।

রাসূল (সা)-এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেন, তিনি নিজে গুণাহমুক্ত হয়েও নিজের চরিত্র সুন্দর করার তৌফিক অর্জনের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন। যেমন তিনি দোয়ায় বলতেন, আল্লাহ তুমি আমার গঠন-আকৃতি সুন্দর করেছ, আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দাও।

আল্লাহ তায়ালা রসূল (সা) এর উত্তম চরিত্রের প্রশংসাও করেছেন, তিনি বলেন, ‘আপনি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত’। (সুরা কলম : ৪)

আয়াতে মহান আল্লাহ কর্তৃক রসূল (সা)-এর আখলাকের প্রশংসা করেছেন। পবিত্র কুরআনের প্রচুর আয়াতে আখলাকের বিবরণ ও চরিত্রবানদের প্রশংসার বাণী উদ্ধৃত হয়েছে, মাক্কী ও মাদানী উভয় সূরাগুলোতে আখলাকের নির্দেশ বেশি থাকায় এর গুরুত্বেরও আধিক্য বুঝা যায়, যা থেকে কোনো মুসলিমের দূরে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তার রাসূল (সা)-এর উত্তম চরিতে চরিত্রবান করুন।

আমিন


আরও খবর

শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে

বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




সিদ্ধিরগঞ্জে একই পরিবারের চার জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ সেপ্টেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

ইসলাম ধর্মের আচার অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় বিধি বিধান নিয়ম কানুন ভালো লাগা এবং ইসলাম শান্তির ধর্ম, আর এ ধর্মে রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণকর জীবনব্যবস্থা এমন আত্ম-উপলব্ধি থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একই পরিবারের চার জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। 

কোর্ট হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তারা শুক্রবার (২ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জের জেলেপাড়া পুল সংলগ্ন হজরত শাহজালাল (রহঃ) জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা কামরুজ্জামান নকশাবন্দীর হাতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জুম্মা নামাজের পূর্বে কলেমা পড়েন। 

জানাগেছে, সুবল চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কোর্ট হলফনামার মাধ্যমে স্বপরিবারে নাম পরিবর্তন করে মো. রফিকুল আলম, স্ত্রী লক্ষী রানী দাস এর স্থলে মরিয়ম বেগম, মেয়ে অরদ্ধা দাস এর স্থলে আয়েশা আক্তার ও ছেলে  লিয়ন দাস এর স্থলে মো. বায়েজিদ নাম রেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। 

মো. রফিকুল আলম বলেন, ইসলাম হলো শান্তির বাণী। ইসলাম রয়েছে আল্লাহর অনেক রহমত। তাই আমি হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি আমার সাথে ও আমার পরিবারের সদস্যরাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সকলের নিকট সহযোগিতা কামনা করছি।


আরও খবর



পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ জন নিহত

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ |
Image

পঞ্চগড়ে বোদা উপজেলায় করোতোয়া নদীতে নৌকা ডুবে নারী শিশুসহ অন্তত ২৪ জন মারা গেছেন। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক নিখোঁজ রয়েছে বলেছে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আওলিয়া ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বোদা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কুমার রায় ২৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় আরও অন্তত ৬০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম।


আরও খবর

এবার ৩২ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২