Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

পুলিশকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশে সতর্কতার অনুরোধ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আংশিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ঢালাও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আজ শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ শত বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী আহ্বানে সাড়া দিয়ে তৎকালীন পুলিশের বাঙালি সদস্যরা আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেই থেকে শুরু। অদ্যাবধি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা যে কোনো সংকট ও প্রয়োজনে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিতেও কখনো কুন্ঠাবোধ করেননি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশে এক সময় উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের নগ্ন থাবায় দেশবাসী চরম উৎকণ্ঠিত ছিলেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছিল চরমপন্থী সন্ত্রাসের জনপদ। বাংলাদেশ পুলিশ এই জনপদকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। একইভাবে, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে বাংলাদেশে গড়ে উঠা উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশ পুলিশ দেশবাসীর সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে। উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়; যে কোনো মানবসৃষ্ট কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে কখনো পিছপা হয়নি। করোনা অতিমারিকালে বাংলাদেশ পুলিশের অকুতোভয় বীর সদস্যরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে, জীবনের মায়া তুচ্ছ করে জনগণের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে সেবার মানসিকতা নিয়ে মানবিক পুলিশ হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন বাস্তবায়নের পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে, শুধু তাই নয়, মানুষের বাসায় ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দিয়েছে। মানবতার চরম বিপর্যয়ের সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যখন লাশ ফেলে প্রিয়জনরা চলে গেছে, তখন লাশের দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। করোনাকালে জনগণের সেবায় ১০৯ জন পুলিশ সদস্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তবুও পুলিশ সদস্যরা জনগণকে সেবা দেওয়া থেকে পিছপা হননি, তারা নিজের দায়িত্ববোধে ছিলেন অবিচল। করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ সেবার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অত্যন্ত বিরল।

স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী চক্র কর্তৃক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যেমন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও পেট্রোল বোমাবাজদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে পুলিশের সফলতার কারণে উক্ত গোষ্ঠী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে প্রতিপক্ষ বিবেচনায় প্রতিনিয়তই পুলিশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সমালোচনায় লিপ্ত। স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী চক্র তাদের দোসর বিদেশে পলাতক সাইবার সন্ত্রাসী কর্তৃক ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের চরিত্র হননে ব্যস্ত। তাদেরই অনুকরণে ইদানিং কোন কোন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্য সম্পর্কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মানহানিকর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে, যা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার হীন উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের রিপোর্টের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোন তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই। তথ্যসূত্রবিহীন বাস্তবতা বিবর্জিত অতি কথিত এ ধরনের রিপোর্টে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যদের মনোবল ক্ষুন্নের পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। পলাতক সাইবার সন্ত্রাসীদের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার ভূমিকাকে জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করে পুলিশকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য কতিপয় মিডিয়া অত্যন্ত সচেতনভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এক ধরনের কুৎসিত প্রচার যজ্ঞে শামিল হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এছাড়াও কোনো কোনো মিডিয়া হাউজ ব্যক্তিগত আক্রোশ ও নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় কোনো কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করছেন, যা সাংবাদিকতার নীতিমালা বিরোধী।

এমতাবস্থায়, কি কারণে, কার উদ্দেশ্য হাসিল এবং কার ম্যানডেট বাস্তবায়নের জন্য কতিপয় মিডিয়া বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের কুৎসা রটনায় লিপ্ত- সেই প্রশ্ন উত্থাপন করা অযৌক্তিক নয়।

পুলিশ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয় না। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। গণমাধ্যম কর্তৃক গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা বরাবরই স্বাগত জানাই। কিন্তু গণমাধ্যমে কোন খন্ডিত বা আংশিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ করতে চাই। গণমাধ্যমে কোনো ঘটনার সামগ্রিক চিত্র উঠে আসুক, সত্য উন্মোচিত হোক। গণমাধ্যমের রিপোর্ট হোক সত্যাশ্রয়ী ও বস্তুনিষ্ঠ। নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশে পাঠকের কাছে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করি। অথচ কোনো এক রহস্যময় কারণে এক শ্রেণির মিডিয়া অতি সুকৌশলে বাংলাদেশ পুলিশকে বিতর্কিত করে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় মেতেছে, যা সৎ সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধকারী অপসাংবাদিকতারই নামান্তর বলে পরিগণিত।

গণমাধ্যমের এ ধরনের একপেশে আচরণ সাধারণ পাঠকের সঙ্গে প্রতারণারই শামিল। এ ধরনের অপসাংবাদিকতা বাংলাদেশ পুলিশের সৎ, নিষ্ঠাবান, পেশাদার ও দেশপ্রেমিক সদস্যদের মনোবল ধ্বংসের অপপ্রয়াস বলে প্রতীয়মান হয়, যা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করা এবং দেশবিরোধী চক্রান্তের অপকৌশল কিনা তা বিবেচনার দাবি রাখে। ফলে, পুলিশি সেবাপ্রত্যাশী মানুষ তথা দেশ ও জাতি সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না । বাংলাদেশ পুলিশ কখনোই গণমাধ্যমের কাছে এ ধরনের অপেশাদারী সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করেনা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা চাই, সমাজের সবার ন্যায়সংগত অধিকার সুনিশ্চিত হোক, সমাজ থেকে বঞ্চনা দূর হোক, মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক। আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মর্যাদায় আলোকিত প্রাঙ্গণে উপনীত হোক।

বাংলাদেশ পুলিশ কখনোই গণমাধ্যমের কাছে এ ধরনের অপেশাদারী সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করেনা। আমরা চাই, সমাজের সকলের ন্যায়সংগত অধিকার সুনিশ্চিত হোক, সমাজ থেকে বঞ্চনা দূর হোক, মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক। আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মর্যাদায় আলোকিত প্রাঙ্গণে উপনীত হোক।

জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে কোনো ধরনের রিপোর্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর সর্তকতা অবলম্বন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্যও আমরা সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। উপরের বক্তব্যটি যথাযথভাবে প্রকাশ বা প্রচারের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

 


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




দিবাকরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়ম

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image
মোঃ আবু সুফিয়ান মুক্তার - জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:


জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার দিবাকরপুর উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নেওয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 রবিবার সকাল ১০’টা থেকে ১১’টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের সামনে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেন অভিভাবক ও এলাকার সাধারন মানুষ।

 মানববন্ধন থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য একরামুল হক সহ একাধিক অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আইনুল হক ইফসির বিরুদ্ধে নতুন কমিটি গঠন ও বিদ্যালয়ের নানান অনিয়মের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। এসময় তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, তিনি প্রধান শিক্ষক হিসাবে প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের না জানিয়ে এককভাবে সবকিছু করছেন। প্রতিবাদকারিরা বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষে প্রধান শিক্ষক সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষর প্রতি অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ আইনুল হক ইফসি বলেন, সরকারি বিধি অনুসরন করেই আগামীতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য এডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে মাত্র।

আরও খবর



বশেমুরবিপ্রবির আবাসিক হলগুলো যেন ময়লার ভাগাড়

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

ছিপু মোল্লা - বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি::

বৈষম্যমূলক সর্বজনীন পেনশন প্রতাহারের দাবিতে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(বশেমুরবিপ্রবি) কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শৌচাগার গুলোতে ময়লার ভাগাড় জমে আছে। শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারছেনা শৌচাগারগুলো। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও সমাধান করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পর্যাপ্ত পরিমান লোকবলের অভাবে এমন হচ্ছে বলে জানা যায়।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যমূলক সর্বজনীন পেনশন প্রতাহারের দাবিতে সারাদেশের ন্যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যায় বশেমুরবিপ্রবি কর্মচারী সমিতি। এতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেনা কর্মচারীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শৌচাগারগুলোতে ময়লার ভাগাড় জমে আছে। শিক্ষার্থীরা জরুরি মুহূর্ত্যে শৌচাগারগুলো ব্যবহার করতে পারছেনা। এমনকি শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, ১০-১৫দিন পর পর শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করা হয়। এতে দীর্ঘদিন জমে থাকা ময়লা থেকে কটা গন্ধ বের হয়। পাঠদানে মনযোগ দিতে পারছেনা আবাসিক শিক্ষার্থীরা।


আবাসিক হলগুলো ঘুরে দেখা যায়, ছেলেদের জন্য তিনটি এবং মেয়েদের জন্য দুইটি আবাসিক হলে সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের অংশ হিসেবে শৌচাগারগুলোতে টাইলস, সাবান রাখার পাত্র এবং পানির নতুন ট্যাব লাগানো হয়েছে। কিন্তু শৌচাগারে সাবান অথবা লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ ও টিস্যুর ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ব্যবহৃত টিস্যু যত্রতত্র পড়ে আছে। যার উপর পোকা নড়াচড়া করছে। বেশিরভাগ শৌচাগারেই সাবান ও  টিস্যুর ব্যবস্থা নেই। নেই টিস্যু ফেলার পর্যাপ্ত ঝুঁড়ি। নষ্ট হওয়ার খাবার ফেলানোর ড্রামগুলো যেন পঁচাগলা ডাস্টবিন। এগুলো থেকে ছড়াচ্ছে পঁচাগলা দূর্গন্ধ। গণরুমের পাশে শৌচাগারগুলো থাকায় ডাস্টবিনের পঁচাগলা গন্ধে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পরিষ্কারের অভাবে ভিতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। প্রশ্রাবখানার অবস্থা আরো ভয়াবহ। কটা গন্ধে অব্যবহৃত হয়ে পড়েছে এগুলো। হলগুলোর প্রায় সব কয়টিতে একই রকম অবস্থা দেখা গিয়েছে।


একাডেমিক ভবন এবং প্রশাসনিক ভবনের চিত্রও একই। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে কমন শৌচাগার ব্যবহার করে থাকেন। কিছু শৌচাগারে পানি আছে কিন্তু বদনা নেই। আবার কয়েকটিতে বদনা আছে তো পানি নেই। এমনকি বেশিরভাগ শৌচাগারে পানি এবং বদনা কোনোটাই নেই। নেই স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি মেয়েদের জন্য আলাদা কোনো শৌচাগারের ব্যবস্থা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বিজয় দিবস হলের আবাসিক শিক্ষার্থী টনি বলেন, ঈদের আগে শৌচাগারগুলো একবার পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রায় ১মাস হতে চললো এখনো পরিষ্কার করার কোনো নামগন্ধ নেই। আমরা এগুলো ব্যবহার করতে পারছিনা। আমাদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেই। মামাদেরকে কয়েকবার জানানো হয়েছে কিন্তু তারা কর্মবিরতির অযুহাত দিয়ে কাজ করছেনা। রিতিমত আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা বেশিদিন টিকতে পারবনা। 


স্বাধীনতা দিবস হলের গণরুমের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার মনে হচ্ছেনা আমি একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। শৌচাগারের দুর্গন্ধে রিতিমত আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে জানিনা। একাডেমিক ভবনের শৌচাগারগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।


একাডেমিক ভবনের শৌচাগার নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হয় পরিষ্কারকদের সুপারভাইজার মিলন সমাদ্দারের সাথে। মিলন বলেন, প্রতিটি আবাসিক হলের শৌচাগার অনেকগুলো। কিন্তু প্রতি হলের জন্য আমার লোকবল মাত্র ২জন। একজন সরকারি আরেকজন মজুরি ভিত্তিক। এই দুইজন দিয়ে প্রতিদিন শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বলেন, আমার লোকবল প্রয়োজন। প্রশাসনকে এবিষয়ে অনেকবার অবগত করেছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমি কি করবো বলেন! শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে কথা শোনায়। কিন্তু আমরাতো চেষ্টা করতেছি।


কর্মবিরতি নিয়ে মিলন বলেন, কর্মবিরতির সময় কর্মবিরতি চলবে। একজন কর্মবিরতি পালন করলে আরেকজন কাজ করবে। এভাবেই চালিয়ে নিতে হবে। না'হয় শিক্ষার্থীরা শৌচাগারগুলো ব্যবহার করতে পারবেনা। আগামীকাল থেকে আমি লোকজন পাঠিয়ে শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করিয়ে দিব।


আরও খবর



জয়পুরহাটের পাঁচবিবির নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায়, স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

মোঃ আবু সুফিয়ান মুক্তার - জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি::



জয়পুরহাট পাঁচবিবির নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীসহ তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বতীয় আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাড.উদয় সিংহ।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো, পাঁচবিবি উপজেলার বড়পুকুরিয়া গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে সানাউল,তার স্ত্রী লতিফা বেগম ও  ছেলে ফিরোজ হোসেন।

মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায় পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের সঙ্গে আসামিদের জমি বন্ধকের টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি সকালে নুরুল ইসলামের সঙ্গে আসামিদের কথা কাটাকাটি হয়,এক পর্যায়ে আসামিরা নুরুল ইসলামের মাথায় কোদাল দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থা আরও অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ও তারপরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মৃত্যু বরণ করে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে পরের দিন পাঁচবিবি থানায় মামলা করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত এ রায় দেন।

আরও খবর



লালমনিরহাট পৌরসভার ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪ |

Image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:


লালমনিরহাট পৌরসভার আধুনিক ও জনকল্যাণমূথী স্মাট পৌরসভা রুপান্তে লক্ষ্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা অনুষ্ঠিত হয়েছে । 



শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টায় পৌরসভা কার্যালয়ের তৃতীয় তলার হল রুমে ৪৮ কোটি ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন পৌর মেয়র রেজাউল করিম স্বপন।


নতুন মোট আয় ধরা হয়েছে ৪৮,৭৮,২৩,৫১১/- টাকা, এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আয় ১৩,৪৪,৯৫,৭০৮/- টাকা, পানি শাখা হতে আয় ৬৩,৩০,৩৫৬/- টাকা, উন্নয়ন বাস্তবায়ন খাতে প্রাপ্তি ৩৪,৬৯,৯৭,৪৪৭/- টাকা। উক্ত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭,০০,৯০,০০০/- টাকা এবং প্রস্তাবিত উদ্বৃত্ত ধরা হয়েছে ১,৭৭,৩৩,৫১১/- টাকা। 


পৌর মেয়র রেজাউল করিম স্বপ্ন বলেন, এবারের বাজেটে জনগণের উপর কোনরুপ কর বৃদ্ধি না করেই জনকল্যানমুখী বাজেট করা হয়েছে। উক্ত বাজেট বাস্তবায়ন হলে আমরা আমাদের পৌর এলাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট ও উন্নত অবকাঠামো সমৃদ্ধ পৌরসভা গঠনে একধাপ এগিয়ে যাবে।

 তিনি উল্লেখযোগ্যভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, মশক নিধন, বেওয়ারিশ লাশ দাফন, বৃক্ষরোপণ, ক্লাব ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতি, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন, মাদক/তামাক জাতীয় দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, রাস্তাঘাট ও রোড ডিভাইডার সৌন্দর্য বর্ধন, কঠিন ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছেন। বিশেষ করে শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা সহ গোলীর রাস্তা, ড্রেন মেরামত ও সংস্কার খাতে ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন। এছাড়া তিনি আধুনিক বহুতল বিশিষ্ট পৌর ভবন নির্মাণে প্রায় ৫ কোটি টাকা কাজ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন চূড়ান্ত রয়েছে।    


এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌরসভার সকল কাউন্সিলর ও কর্মকতা,কর্মচারীগণ ও সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



তিনটি বন্দুক সহ সম্রাট বাহিনীর সদস্য ইমন গ্রেফতার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

রাজবাড়ী প্রতিনিধি :

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউপির পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে  সন্ত্রাসী সম্রাট বাহিনীর সদস্য ইমন মন্ডল (১৯) কে ৩ টি বন্দুক সহ গ্রেফতার করেছে পাংশা মডেল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে  নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ।

ইমন ওই এলাকার মনিরুল ইসলাম ওরফে জিন্নার ছেলে।


পাংশা মডেল থানা ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বুধবার এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানান, আমদের সাব-ইনেস্পেক্টর তারিকুল ইসলামের কাছে আসা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা রাতে পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের কলিমহর পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি। এবং ভারতে পালিয়ে থাকা শির্ষ সন্ত্রাসী সম্রাট বাহিনীর সদস্য ইমন মন্ডলকে আটক করি। 


ওইখানেই তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাস্বাবাদ করলে সে তার বাড়ীর উত্তর পার্শ্বে পশ্চিম কোনায় তার চাচা নাসির উদ্দিন মন্ডলের পুকুর চালায় নিয়ে যায়। এরপর সে পুকুর চালায় ঘাসের মধ্য থেকে প্লাষ্টিকের ব্যাগের মধ্যে থাকা সম্রাট বাহিনীর তিনটি সচল একনালা বন্দুক বের করে দেয়। অস্ত্রগুলো সম্রাট বাহিনীই তার কাছে দিয়েছে বলে সে জানায়। তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ স্যারের দিক নির্দেশনায় আমরা পাংশা থানা পুলিশ মাদক কারবারি ও অবৈধ অস্ত্রধারী সহ সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়োমিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এ অভিযান চলমান থাকবে।

ইমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আরও খবর