Logo
শিরোনাম
গাঁজা বহনকারী ট্রাকের ধাক্কায় একজন নিহত

র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে ৪ জন আটক

প্রকাশিত:Saturday ০৩ December ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


নওগাঁয় গাঁজা বহনকারী ট্রাকের ধাক্কায় একজন বাই-সাইকেল আরোহী নিহতের ঘটনায় অভিযান পরিচালনা করে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ঘাতক ট্রাক চালক ও মাদক কারবারীকে আটক করেছে র‌্যাব।

প্রতিবেদককে সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব-৫, সিপিসি-২, নাটোর কাম্প থেকে জানানো হয়, গত শুক্রবার ২ ডিসেম্বর মাদক (গাঁজা) বহনকারী "ঢাকা মেট্রো-ড-১৪-৮৭১৪" নম্বরের একটি বেপরোয়া গতীর ট্রাক নওগাঁর বদলগাছী অভিমুখে যাওয়ার পথে নওগাঁ জেলা সদর  উপজেলার বরুনকান্দি মোড় নামক স্থানে এক বাই-সাইকেল আরোহীকে ধাক্কাদিয়ে ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায় মাদক কারবারী চালক ও হেলপাড়। বাই-সাইকেল আরোহীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিলে জখম গুরুতর হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রাজশাহীতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত বাই-সাইকেল আরোহী হলেন, নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার হরিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মোজাম্মেল হক বাবু (৪৮)। এঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে মাদক কারবারী ও বহনকারী ঘাতক ট্রাকের চালক জাকির হোসেন (২৫) ও হেলপার আমির হামজা (২৩) ট্রাকটি নিয়ে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর এলাকায় পৌছে ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে থাকা কতিপয় মাদক কারবারীরা ট্রাক থেকে গাঁজা সরানো কালে খবর পেয়ে ও জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় এর দিক-নির্দেশনায় বদলগাছী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে অভিযান চালিয়ে ১৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার সহ ট্রাকটি জব্দ ও দু'জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন এবং মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন।

উপরোক্ত ঘটনায় র‌্যাব-৫, রাজশাহী ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পরবর্তীতে র‌্যাব-৫, সিপিসি-২, নাটোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বিশেষ গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারে মাদক বহনকারী ঘাতক ট্রাক চালক ও মাদক ব্যবসায়ী নাটোর রেলষ্টেশনে অবস্থান করছে। এরপর র‌্যাব-৫, সিপিসি-২, নাটোর কাম্পের একটি চৌকস অভিযানিক দল শনিবার ৩ ডিসেম্বর সকাল সারে ৭ টায় কোম্পানী অধিনায়ক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন এবং কোম্পানী উপ-অধিনায়ক ও সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে নাটোর রেলষ্টেশন থেকে তাদের দু'জনকে আটক করেন বলে নিশ্চিত করে র‌্যাব। আটককৃত জাকির হোসেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ধামগড় গ্রামের ইয়ার হোসেন এর ছেলে এবং আমির হামজা মুরাদনগর উপজেলার গকুল নগর গ্রামের আবুল খায়ের এর ছেলে। সংবাদ লেখাকালে আইনানুগ পদক্ষেপ বা গ্রেফতারকৃতদের পুলিশে হস্তান্তর পক্রিয়া চলছে বলেও প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে র‌্যাব।


আরও খবর



রাজবাড়ীতে অসহায় ১৬ শত নারীকে কম্বল ও চিকিৎসা সেবা প্রদান

প্রকাশিত:Monday ১৬ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : দেশের সব চেয়ে বড় যৌনপল্লি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া (পূর্বপাড়ায়) অসহায় ১৬শত নারীকে কম্বল ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার ( ১৬ জানুয়ারী ) বিকেলে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় অসহায় নারীদের কম্বল বিতরন ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা আয়োজন করেন উত্তরন ফাউন্ডেশন।

কম্বল বিতরন ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাহউদ্দিন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) স্বপন কুমার দাস, উত্তরন ফাউন্ডেশনের সদস্য তানিয়া হক শোভা, পূর্বপাড়ার অসহায় নারী ঐক্য সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমুর বেগম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দেশের সব চেয়ে বড় যৌনপল্লি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পূর্বপাড়ায় অসহায় ১৬ শত নারীকে কম্বল তুলে দেন আগত অতিথিরা। 

কম্বল বিতরন শেষে উত্তরন ফাউন্ডেশনের সদস্য তানিয়া হক শোভা বলেন, উত্তরন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমানের নীজ উদ্যোগে উত্তরন ফাউন্ডেশন সব সময় অসহায়, পিছিয়ে পড়া, বেদে, যৌনকর্মী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আামীতেও এর ধারা অব্যাহত থাকবে। 

পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আগত দশ সদস্যের একটি টিম দিন ব্যপী চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষুধ বিতরন করেন।


আরও খবর



লালমনিরহাটে গণতন্ত্রী পার্টির কম্বল বিতরণ

প্রকাশিত:Saturday ০৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি,লালমনিরহাট :


উত্তর জনপদের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে শৈত্য প্রবাহের দরুন কাবু হওয়া এই জেলার বিভিন্ন স্থানে গণতন্ত্রী পার্টির পক্ষ থেকে ধরলা নদী তীরবর্তী সহ চরাঞ্চল সহ সদর পৌরসভার শীতার্ত কিছু সংখ্যক মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করে।  

এসময় উপস্থিত ছিলেন,জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সংগ্রামী জননেতা উত্তম কুমার রায় লড়াই। তিনি এসকল মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে,বুমকা,ইটাপোতা ও পৌর এলাকার থানা পাড়ায় কেন্দ্র থেকে প্রেরিত ৪০ ও এই নেতার ব্যক্তিগত  তহবিল থেকে ৬১ টি মোট ১০১ টি মানসম্মত কম্বল বিতরণ করেন।


আরও খবর



সার ও বীজের দাম বাড়বে না : কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত:Saturday ০৪ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

কৃষি উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখা ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের কোনোরকম দাম বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী  ড. মো. আবদুর রাজ্জাক।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নীতি হলো যে কোনো মূল্যে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা ও খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা। সেজন্য বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে যত কষ্টই হোক সরকার বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়াবে না। অন্যান্য খাতে যে নীতিই নেয়া হোক না কেন, কৃষি খাতে বিশাল ভর্তুকি প্রদানসহ সব সহযোগিতামূলক নীতি অব্যাহত থাকবে। কৃষি উৎপাদন টেকসই করতে যা যা করা দরকার, তা অব্যাহত থাকবে।

সাভারের ব্র্যাক সিডিএম মিলনায়তনে সার্কভুক্ত দেশসমূহে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, আমনে বাম্পার ফলন হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে। দেশে দুর্ভিক্ষ হবে না, ইনশাল্লাহ, এ গ্যারান্টি দিতে পারি। ফসলের গবেষণা ও সম্প্রসারণের মধ্যে বিরাট ফাঁক রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গবেষক/বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত জাত যেটি গবেষণা পর্যায়ে বিঘায় ৮ মণ উৎপাদন হয়, সেটি সম্প্রসারণের পর কৃষক পর্যায়ে দেখা যায় উৎপাদন হয় বিঘায় ৩-৪ মণ। এটি কেন হবে, এই বিশাল ফারাক কমিয়ে আনতে হবে।

বিভিন্ন ফসলের উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি খুবই ধীরে সম্প্রসারণ বা কৃষকের কাছে পৌঁছে। আমাদের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ধান, সরিষাসহ অনেক ফসলের কতগুলো উন্নত উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন। এদের মধ্যে লবণসহিষ্ণু জাতও রয়েছে। কিন্তু এগুলো মাঠে কৃষকের কাছে যাচ্ছে খুবই দেরিতে। এত দেরিতে মাঠে যাওয়ার কারণ কী, তা সম্প্রসারণকর্মীদের খুঁজে বের করতে হবে। সম্প্রসারণকর্মীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।


আরও খবর

সুখবর নেই বাজারে

Saturday ০৪ February ২০২৩




জেলেদের আয়ের সবটাই যাচ্ছে দশমিনার দাদন ব্যবসায়ীদের পকেটে

প্রকাশিত:Monday ০৯ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Thursday ০২ February 2০২3 |
Image

নাঈম হােসেন দশমিনা পটুয়াখালী :


পটুাখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গর তীরবর্তী গ্রামগুলোর জেলেরা হতদরিদ্র। জীবিকার প্রয়োজনে দাদন ব্যবসায়ীদের লাল খাতায় লিখিয়ে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় তাঁদের। জেলেদের কষ্টের আয়ের প্রায় সবটাই চলে যায় দাদন ব্যবসায়ীদের পকেটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর বাঁশবাড়িয়া বগী খালগোড়া, বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট, আমবাড়িয়া, হাজিরহাট তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অবস্থিত। গোলখালী, সৈয়দ জাফর, কাঁলারানী, আউলিয়াপুর, পাতারচর পাগলাবাজার, সেন্টার বাজার, পাগলা বাজার, বউ বাজার, শাহজালাল বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীরে অবস্থিত। দয়াময়ী খালের পাশে রণগোপালদী হাট, সুতাবাড়িয়া খালের পাশে আলীপুর হাট ও দশমিনা সদর বাজারে রয়েছে শতাধিক মাছের গদি। গদি মালিকরা সাধারণ জেলেদের দাদন দিয়ে থাকে।

মানতা জেলে হজু, বাদশা, হামেলা, স্থানীয় জেলে নজরুল, ইব্রাহিম ও আনোয়ার জানায়, জেলেরা যে পরিমাণ টাকা দাদন নেন, প্রতিদিন সেই টাকার ১৫ শতাংশ দাদন ব্যবসায়ীদের দিতে হয়। পাশাপাশি জেলেদের নিজ নিজ দাদন ব্যবসায়ীর গদিতে (আরতে) এনে মৌখিক নিলামে মাছ বিক্রি করতে হয়। আর নিলামে ওঠার আগেই জেলেদের মজুত মাছের এক-দশমাংশ গদিদার সরিয়ে রাখেন। সরিয়ে ফেলা মাছ পরে আবার নিলামে তুলে বিক্রি করা হয়। আর সবটাই লিখে রাখা হয় লাল খাতায়। একবার এক গদি থেকে দাদন নিয়ে কোন জেলে পরিশোধ করতে পানেনি নিজ আয়ে। এক গদির দেনা মিটাতে পাত পাততে হয় আরেক গদিতে। 

চরবোরহান গ্রামের বশার মাঝি বলেন, গদিতে প্রথমে মাছ, এরপর নগদ টাকা কেটে নেন। এভাবে মাছ বিক্রির অর্ধেক টাকা তাঁদের পকেটে চলে যায়। এ কারণে দিনরাত পরিশ্রম করেও আমাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে।

বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট বাজারের গদি মালিক মিরা খাঁ জানায়, গদি থেকে দাদন নিয়ে জালের সাভার করে নদীতে মাছ ধরেন। জেলেদের জালের সাভার করতে অনেক টাকার দরকার হয়। জেলেরা এত টাকা জোগার করে জালের সাভার করতে পারেনা বলে দাদন নিতে বাধ্য হয়। 

সেন্টার বাজার গদি মালিক মোঃ ফরহাদ খলিফা জানায়, জেলেরা আমাদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে মাছ ধরেন। আমরা কাউকে জোর করে দাদনের টাকা দিই না। জেলেরা গরিব। নিজেদের প্রয়োজনে আমাদের কাছে এসে তাঁরা টাকা নেন। সারা দেশের মতো একই নিয়মে আমরা জেলেদের কাছ থেকে মাছ ও টাকা আদায় করি।’

এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেও জেলেদের দাদন ব্যবসা থেকে দূরে রাখতে পারিনি। সরকারিভাবে জেলেদের জন্য সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করা হলে হয়তো দাদন ব্যবসা বন্ধ হবে।


আরও খবর



অনুমোদন ছাড়া ঢাকায় চলছে বাস

প্রকাশিত:Saturday ০৪ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Saturday ০৪ February ২০২৩ |
Image

রুট পারমিট ছাড়া বাস চালানো অবৈধ। তারপরও রুট পারমিট ছাড়াই রাজধানীতে চলছে দুই সহস্রাধিক বাস। এতে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। কোনো অদৃশ্য অনুমোদনে এসব বাস চলছে কি না তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অন্যদিকে আবার রুট পারমিট না পেয়ে বিভিন্ন কোম্পানি নতুন বাস নামাতে পারছে। এতে গণপরিবহন সংকটও কাটছে না। উল্টো সড়কে বেড়েছে বিশৃঙ্খলা।

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি বলছে, অবৈধভাবে নগরীতে বাস চালানোর সুযোগ নেই। অবৈধ সব যানবাহন বন্ধ করা হবে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বলছে, রুট পারমিট ছাড়া চলাচল নিষিদ্ধ, অভিযানে এসব বাস ডাম্পিং করা হবে।

সম্প্রতি দিয়াবাড়ী-সদরঘাট পর্যন্ত চালু হয়েছে নতুন এসি সার্ভিস আকাশ পরিবহন। আগে এফ আরপরিবহন নামে দারুসসালাম-সদরঘাট পর্যন্ত এ বাসগুলো চলত। রাতারাতি কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে রুট পারমিট ছাড়াই ৩০টির বেশি বাস চালানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়া নেওয়ারও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। অর্থাৎ দুই কিলোমিটার গেলেও একজন যাত্রীকে ৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কোম্পানির দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল করলে ধরেন গোপাল নামে এক ব্যক্তি। রুট পারমিট ছাড়াই কীভাবে বাস পরিচালনা করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোম্পানির কেউ নই। পরিবহন মালিক সমিতি এসব বাস পরিচালনা করে। আমি দেখাশোনা ও মেরামতের দায়িত্বে নিয়োজিত। তাহলে অভিযোগের জন্য আপনার নম্বর বাসে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলব না।

সাইনবোর্ড-জিরানী বাজার রুটের স্বাচ্ছন্দ্যপরিবহনও স্বাচ্ছন্দ্যেই চলছে রুট পারমিট ছাড়া। এই পরিবহনের অধীনে বাস চালাতে দৈনিক কোম্পানিকে গেট পাস বা জিপি বাবদ দিতে হয় ৯০০ টাকা। সবকটি বাস থেকে মাসে চাঁদা আদায় হয় প্রায় ১৯ লাখ টাকা। জানা গেছে, স্বাচ্ছন্দ্য পরিবহনের অধীনে ৭০টির বেশি বাস রয়েছে। এর অন্তত ৬০টির সংশ্লিষ্ট পথে চলাচল করার রুট পারমিট নেই। ২০১৬ সালে কোম্পানিটি চালু হওয়ার সময় মাত্র ১০টি বাসের রুট পারমিট নিয়েছিল। করোনার আগে এটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৯ সালের পর রুট পারমিট অনুমোদনের জন্য কোনো সভা হয়নি। রাইদা পরিবহনের বেশকিছু বাসের রুট পারমিট না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রুট পারমিট ছাড়াই কীভাবে বাস চলছে। জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, আকাশ পরিবহন নতুন নয়, পুরনো কোম্পানি। প্রায় চার বছর ধরে রুট পারমিট বন্ধ থাকায় নতুন করে রুট পারমিট নেওয়া যাচ্ছে না। আবেদন করেও রুট পারমিট মিলছে না। তাই অনেক পরিবহন এখন রুট পারমিট ছাড়াই বাস চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যানজট রোধে নতুন বাস কোম্পানি অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি তা বহাল রেখেছে। বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ১৭তম সভায় রুট পারমিটহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ওই সভা শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছিলেন, রাজধানীতে ১ হাজার ৬৪৬টি গাড়ি রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করছে। এসব বাসের বিরুদ্ধে করপোরেশন, পুলিশ, বিআরটিএকে নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হবে। রুট পারমিট ছাড়া কোনো বাসকে আমরা চলতে দেব না।

ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গত বছরের অক্টোবরে নতুন করে গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার। দুই বছরের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পরপর একবার সভা করে কার্যবিবরণী বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানোর কথা; কিন্তু কমিটি কার্যত তেমন কোনো কাজই করতে পারছে না।

এ কমিটির সদস্য হানিফ খোকন। তিনি বলেন, বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি নতুন বাস রুট অনুমোদন না দেওয়ায় ঢাকা মেট্রোর যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিআরটিএর কাছে সুপারিশ পাঠাতে পারছে না।

তিনি বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি মানুষ যাতায়াত করে। অথচ গণপরিবহন সংকট চরমে। বড় বাস ও মিনিবাসের রুট পারমিট না দেওয়ায় অনেক কোম্পানি নামতে পারছে না। ফলে পরিবহন সংকট থেকেই যাচ্ছে। আমরা আশা করব সরকার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, রুট পারমিট ছাড়া কোনো বাস চলার কথা নয়। যদি চলে তাহলে মোবাইল কোর্টের অভিযানে ধরে ডাম্পিং করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই। কারণ রুট পারমিট ছাড়া বাস চালানো একেবারেই নিষিদ্ধ।

রিুট পারমিট ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির বাসের নাম জানানোর পর বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, সবকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত করব। তারা কীভাবে চলছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। অনেক সময় বিভিন্ন কোম্পানির বাস অনুমোদিত রুট অমান্য করে অন্য রুটে চলতে দেখা যায়। সেগুলোর বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিই।

 


আরও খবর