Logo
শিরোনাম
শবে বরাত পালন মুসলিম জাতিকে একতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ৫৭ তম খোশরোজ শরীফ ও মইনীয়া যুব ফোরামের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন বাঙালি সাংস্কৃতিতে মাইজভাণ্ডারী ত্বরীকার সাথে সম্পর্ক রয়েছে সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবীতে প্রতীকী লাশ নিয়ে হানিফ বাংলাদেশীর মিছিল লক্ষ্মীপুরে কৃষক কাশেম হত্যা: স্ত্রী, শ্বশুরসহ গ্রেপ্তার ৫ কুমিল্লা সিটি’র উপনির্বাচন: মেয়র পদে প্রতীক বরাদ্দ অবৈধ মজুদকারীরা দেশের শত্রু : খাদ্যমন্ত্রী ফতুল্লায় সিগারেট খাওয়ার প্রতিবাদ করায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা বকশীগঞ্জে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নোবিপ্রবিতে সিএসটিই এলামনাই এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন

র‌্যাবের অভিযানে পাঁচ শত পিছ ইয়াবা সহ দু'জন গ্রেফতার

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


র‌্যাবের অভিযান- ৫শ' ৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৫ পিস বুপ্রেনরফিন ইঞ্জেকশনসহ দু'জন মাদক কারবারি গ্রেফতার।

সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদক কে র‌্যাব জানায়, 

র‌্যাব-৫, সিপিসি-৩, জয়পুরহাট ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোঃ মোস্তফা জামান, আর্টিলারি এর নেতৃত্বে রবিবার ২০ নভেম্বর দিনগত রাতে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানাধীন সেনাপট্টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৫শ' ৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৫ পিস, বুপ্রেনরফিন ইঞ্জেকশন, ১ টি মোটর সাইকেল, ২ টি মোবাইল ফোন ও নগদ ২ হাজার ৬শ' ৫০ টাকা সহ দু'জন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারিরা হলেন, জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাট বাজার এলাকার মৃত আলী হোসেন এর ছেলে জামাল হোসেন (৫০) ও আব্দুর রহমান শেখ এর ছেলে শেখ রানা (৩০)।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা দীর্ঘদিন যাবৎ নেশা জাতীয় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফিন ইঞ্জেকশন অবৈধভাবে সংগ্রহ করে অভিনব কায়দায় জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবী ও মাদক কারবারীদের নিকট সরবরাহ করে আসছিল বলে শিকার করেছেন। 

এব্যাপারে গ্রেফতারকৃত দু'জনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুসারে মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব।


আরও খবর



নওগাঁর সংগ্রামী নারী মরিয়ম নারীদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরনা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

অতিথি পাখির কলরব, পানির কলকল শব্দ আর দূর থেকে ভেসে আসা মাঝির গানে নওগাঁ জেলা সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী বিলে এক অন্যবদ্য প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য ফোটে উঠেছে। নওগাঁ শহর থেকে ২৫কিলোমিটার দূরে প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হাঁসাইগাড়ী বিল অবস্থিত। প্রতি নিয়তই বিভিন্ন স্থান থেকে বিলের সৌন্দর্য্য দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে। সেই হাসাই গাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেঠো পথের প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হয়ে উঠেছেন অদম্য নারী সংগ্রামী মরিয়ম আক্তারী। হাসাইগাড়ি গ্রামের শাহাদত হোসেন এর স্ত্রী মরিয়ম আক্তারী'র দু' ছেলে। বড় ছেলে পড়ালেখা শেষ করে বেসরকারী একটি কোম্পানীতে চাকরী করছেন আর ছোট ছেলে ডিপ্লোমায় পড়ালেখা করছে। 

নারী সংগ্রামী মরিয়ম আক্তারী জানান ছোট বেলা থেকেই দূরন্ত প্রকৃতির সঙ্গে গ্রামের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছেন সব সময়। তিনি ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট। ছোট বেলা থেকেই পরোপকারী অন্যের কষ্ট দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারতেন না। চঞ্চল ছোট সেই মেয়েটি কে এখন সবাই গ্রামের এক সংগ্রামী নারী হিসেবে চেনে। পুরো পরিবারের সহযোগিতা নিয়ে তিনি গরীব-দুঃখিদের পাশে থেকে সব সময় নিজের সাধ্যমতো সহযোগিতা করে আসছেন। পিছিয়ে পড়া নারীদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে আসছেন বছরের পর বছর। নওগাঁ সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি ইউপির অপরাজিতা সদস্য মরিয়ম অপরাজিতা প্রশিক্ষণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং নিজেকে অধিদপ্তরের লাইভস্টক প্রভাইডর হিসেবে নিজ ইউনিয়নে গোবাদী পশু পালনে সহায়তা করছেন। 

তিনি আরো জানান, ইতো মধ্যেই তিনি  প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সরকারী সহায়তা উন্নত পশু পালনের জন্য ১৪০টি পরিবারে নূন্যতম ৩ হাজার ৪শ' টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত এক কালীন অনুদান প্রদান করেছেন। ৬শ' ১০ টি পরিবারের কৃমিমুক্ত গোবাদি পশু পালনে কৃমির ঔষধ বিনামূলে বিতরন করেছেন এবং ৩শ' জন কৃষকের নাম তালিকা ভুক্ত করেছেন যাদের আগামী এপ্রিল-২০২৪ থেকে উন্নত প্রযুক্তিতে গরু পালনের প্রশিক্ষণ প্রদাণ করবেন। তিনি প্রতিটি ওর্য়াডে নারীদের একটি করে টিম করে দিয়েছে প্রশিক্ষণের জন্য যাতে করে কোনো নারীই বেকার না থাকে। তিনি চেষ্টা করছেন গ্রামের মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে। তিনি শুধু প্রণোদনায় নয় প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারী আইনী সহায়তা, বাল্যবিয়ে, মাদক, মহামারি করোনা ভাইরাস সচেতনতা বিষয়ক উঠান বৈঠক করে থাকেন। দূর-দূরান্তে প্রতিদিন পথ হেটে চলেছে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য।  

মরিয়ম আক্তারীর স্বপ্ন সম-অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাচনে সাধারণ আসন থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করবেন বলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। একটি সমতার সমাজ যেখানে, ব্যবধান থাকবে না নারী আর পুরুষের মাঝে, নারীদের কাজে সহায়তা করবে পুরুষ উভয়ে মিলে-মিশে গড়বে এমন এক সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন মরিয়ম আক্তারীর হৃদয়ে। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সিঁড়ি। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীকে অর্থনৈতিক সাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।

নওগাঁ জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আবু তালেব জানান মরিয়ম সমাজের সকল নারীর জন্য একটি অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তাকে দেখলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস মনে জন্ম নেয়। তাই জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে সব সময় মরিয়মকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। আগামীতেও মরিয়মদের মতো এগিয়ে যাওয়া নারীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত থাকবে। 


আরও খবর



একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে জাতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার প্রথম প্রহরে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ বাজানো হয়।

এর আগে রাত ১১টা ৫১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে এসে পৌঁছলে তাকে অভ্যর্থনা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন মিনার অঙ্গনে উপস্থিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাবি ভিসি তাকে অভ্যর্থনা জানান।


আরও খবর



জ্যামে দূর্বিষহ জনজীবন,বাড়ছে ক্যানসার ঝুঁকি

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

রাজধানীর যানজটপূর্ণ ব্যস্ত সাতটি সড়ক বাড়াচ্ছে ক্যানসারের ঝুঁকি। এসব সড়কে জটে আটকেপড়া যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়ায় রয়েছে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার উপাদান, যা শ্বাসের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করছে। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে ফুসফুসসহ অন্যান্য ক্যানসারের। বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে যে সাতটি এলাকার সড়ককে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- মতিঝিল, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, ফার্মগেট, এলিফ্যান্ট রোড, টিএসসি ও গাবতলী।

ঢাকায় যানবাহনের নির্গত ধোঁয়ায় মিশ্রিত পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বনের বিস্তার এবং বিভিন্ন বয়সীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও এর প্রতিকার শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী স্প্রিংগার ন্যাচারের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল কথা হয় ওই গবেষক দলের প্রধান ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি আমাদের সময়কে জানান, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসযন্ত্রের ক্যানসারে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন এসব সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী প্রাপ্তবয়স্করা।

গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীতে ৪৬-৬৪ শতাংশ পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বন (অপরিশোধিত তেল পুড়ে তৈরি হওয়া রাসায়নিক) নির্গত হয় যানবাহনের ধোঁয়া থেকে। বিশেষ করে ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে এ ধরনের রাসায়নিক বেশি নির্গত হয়। এ ধোঁয়ায় রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর কার্সিনোজেনিক (ক্যানসার সৃষ্টিকারী) বেনজো এ পাইরিন। বেনজো এ পাইরিনযুক্ত এ ধোঁয়া দীর্ঘদিন গ্রহণের ফলে মানব শরীরের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত, পরিবর্তিত হয় এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

ড. মনিরুজ্জামান বলেন, যানজটের কারণে রাজধানীর বায়ুতে দূষণকারী কণার সংখ্যা বাড়ছে। আমরা রাজধানীর সাতটি সবচেয়ে ব্যস্ত সড়ক থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৮৪টি নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাটি করেছি। শীত এবং বর্ষা দুই সিজনেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্যাম্পলগুলো আমরা দেশের মানুষের গড় উচ্চতা (৫-৬ ফিট) অনুযায়ী খোলা জায়গায় রেখেছি। গবেষণায় আমরা সদ্যোজাত শিশু (০-১ বছর), হাঁটতে শেখা শিশু (১-৬ বছর), কিশোর (১২-১৮ বছর) ও প্রাপ্তবয়স্কদের (১৮-৭০ বছর) স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিমাণ পৃথকভাবে নির্ণয় করেছি।

গবেষণার ফল থেকে জানা যায়, রাজধানীর সাতটি সড়কের বায়ুতে ধাতু এবং উচ্চমাত্রার ক্যানসার সৃষ্টিকারী বেনজো এ পাইরিনের মতো পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বনের। রাজধানীর ব্যস্ততম এসব সড়কে বেনজো এ পাইরিনের গড় পরিমাণ ৩১-১৪৫ এনজি/মি৩। যেখানে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত স্বাভাবিক মাত্রা ১ এনজি/মি৩।

গবেষকরা বলছেন, এ গ্যাস দ্বারা দূষিত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে থাকলে এসব গ্যাস রক্তে মিশে যায় এবং ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি করে। ফুসফুসের রোগ যেমন হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ, ইন্টারস্টিসিয়াল লাঙ ডিজিজের প্রবণতা বেড়ে যায়। যা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রবেশ করতে থাকলে শ্বাসযন্ত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

গবেষণা প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যিনি শীতে প্রতিনিয়ত এসব সড়কে যাতায়াত করেন তিনি দৈনিক গড়ে ৯.৭০-১১.২ মাইক্রোগ্রাম বেনজো এ পাইরিনের মতো পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বন গ্রহণ করছেন। শীতকালে এই শোষণের মাত্রা ২.৩-২.৭ গুণ বেড়ে যায়। যার ১.২২ মিউগ্রাম সরাসরি পিএম ২.৫ শোষণের মাধ্যমে ব্যক্তির এ্যালভিওলাইয়ে (ফুসফুসের ছোট থলি) জমা হচ্ছে। যা পরে রক্ত সরবরাহের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গে।

যানবাহন ঘটিত এমন স্বাস্থ্য সমস্যাকে উদ্বেগের বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গবেষণায় পাওয়া সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যও গবেষণার উদ্বোগ নিতে হবে আর যানবাহনগুলোকে আনতে হবে বিশেষ মনিটরিংয়ের আওতায়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, যানবাহনের নির্গত ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ এবং ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বর্তমানে খুবই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, এ সংকট নিরসনে যানবাহনের ফিটনেস চেক করা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ে জোর দিতে হবে। যেসব যানবাহন অতিরিক্ত দূষণের কারণ, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই জনস্বাস্থ্যবিদ মনে করেন, দেশের জনগণের সুস্বাস্থ্যই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশকে নগরায়নের ফলে ঢাকা শহরে বায়ুদূষণঘটিত পরিবেশগত পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে যানযট রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা। ২০২১ সালে গ্লোবাল লাইভিবিলিটি ইনডেক্সের করা তালিকায় সবচেয়ে কম বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে ৪ নম্বরে ছিল ঢাকা। যানজট বৃদ্ধির কারণে বায়ুর খারাপ মান এর অন্যতম কারণ।


আরও খবর

ফুটপাতের চাঁদার টাকা খায় কারা ?

সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বায়ুদূষণে নীরবে ধুঁকছে ঢাকা

শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রাণীনগরের আবাদপুকুর হাটের জরাজীর্ণ অবস্থা

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ):

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাট থেকে প্রতিবছর কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে সেই হাটের জরাজীর্ণ অবস্থা। বছরের পর বছর বরাদ্দকৃত নির্ধারিত অর্থের সঠিক ব্যবহার না করায় আবাদপুকুর হাটের এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের মধ্যে কেনা-বেচা করতে হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। দ্রুত এই জনগুরুত্বপূর্ণ ধান ও পশুর হাটটিকে আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সূত্রে জানা গেছে যে, রাণীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম ধান ও পশুর হাট হচ্ছে আবাদপুকুর হাট। সেই হাটে মাছ-মাংস ও সবজি বিক্রেতাদের জন্য কয়েকটি শেড নির্মাণ করে দেওয়া হলেও বর্তমানে এই হাটের মাছ ও মাংশ পট্টির শেডগুলোর টিন মরিচায় নষ্ট হয়ে গেছে। কোনটির টিন ঝড়ে উড়ে গেছে। হাট-বাজারে ঢুকলেই ক্রেতা-বিক্রেতার ভোগান্তির শেষ থাকে না। হাটের শেডগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। কোথাও টিনের চালা ভেঙে পড়ে আছে, আবার কোথাও টিনের চালা নেই। ব্যবসায়ীরা পলিথিন টাঙিয়ে ব্যবসা করছে। বর্তমানে হাটের শেডগুলোর জরাজীর্ন অবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে ভিজে আর শুষ্ক মৌসুমে রোদে পুড়ে কেনা-বেছা করতে হয় ব্যবসায়ীদের। সপ্তাহের রবিবার ও বুধবার হাটবার। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোয় বসে বাজার। এছাড়াও হাটে একটি ব্যবহারযোগ্য গণশৌচাগার না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় আগতদের। হাটে চলাচলের জন্য রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য খারাপ ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্ভোগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। অথচ গত ২০২২সালে এই হাটটির ইজারা মূল্য ছিলো ৮২লাখ টাকা, যা ভ্যাট ও অন্যান্য খাত মিলে সরকার এই হাট থেকে সরকার রাজস্ব হিসেবে কোটি টাকা আয় করে আসছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রতিবছর সরকারি ইজারা মূল্যের শতকরা ১৫শতাংশ অর্থ হাটের সংস্কার, মেরামত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজে ব্যয় করার নিয়ম। হাটের সার্বিক অবকাঠামোগত কাজে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিক ভাবে লাগানোর দাবী সংশ্লিষ্টদের।

মাংস ব্যবসায়ী রশিদুল শেখ বলেন, বংশগতভাবে হাটে মাংসের ব্যবসা কনে আসছি। এখানে সাতজন মাংস ব্যবসায়ী আছে। বর্ষায় বৃষ্টি শুরু হলে মাংস ভিজে যায়। অথচ আমরা ঠিকমতো হাটের টোল দিয়ে থাকি। তার মতে হাটে আসা মুরগী ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একই কথা বলেন। 

হাট ইজারাদার হেলাল উদ্দিন হেলু মেম্বার বলেন, বর্তমানে হাটের শেডগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। কোথাও টিনের চালা ভেঙে পড়ে আছে, আবার কোথাও টিনের চালা নেই। ব্যবসায়ীরা পলিথিন টাঙিয়ে ব্যবসা করছে। উপজেলা প্রশাসনের নিকট বিগত কয়েক বছরের হাটের ইজারা থেকে বরাদ্দকৃত যে পরিমাণ অর্থ জমে আছে সেই অর্থাদিয়েও হাটের আধুনিকায়নের কাজ করা সম্ভব। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইচ্ছে করলেই হাটের এমন বেহাল দশা থেকে আমাদেরকে মুক্ত করতে পারেন।

উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন জানান, গতবছর তৎকালীন ইউএনও শাহাদাত হুসেইন স্যারের নির্দেশক্রমে উপজেলার সকল হাট ও বাজারের আধুনিকায়নের কাজের জরিপ সম্পন্ন করে জমা দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি বদলী হওয়ার কারণে পরবর্তিতে আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এই বাবদ অর্থ ইউএনও স্যারের নিজস্ব এ্যাকাউন্টে জমা থাকে এবং সেই অর্থ খরচের বিষয়ে একমাত্র তিনিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তাই এই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।


আরও খবর



তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলি চলছে, বাংলাদেশে নিহত ২

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ |

Image

মিয়ানমার থেকে উড়ে আসা একটি মর্টারশেল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জলপাইতলী গ্রামের ব্যবসায়ী বাদশা মিয়ার বাড়ির রান্না ঘরের ছাদে পড়ে।

এতে নিহত হয়েছেন বাদশা মিয়ার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৫২) এবং এক রোহিঙ্গা শ্রমিক। এছাড়া এক শিশুও আহত হয়েছে মিয়ানমার আসা মর্টারশেলে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ৩টার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামের এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তের পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে অবস্থান বিরাজ করছে। এলাকাবাসী আতঙ্কজনক অবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) দখলে থাকা সর্বশেষ তিনটি ক্যাম্পের মধ্যে তুমব্রু রাইট ক্যাম্প ইতোমধ্যেই দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এই ক্যাম্প থেকে সর্বমোট ৭১ জন বিজেপি সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাকিদের অনেকেই পালিয়ে বিভিন্ন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে এবং মাঝেমধ্যেই এক-দুজন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অন্যরা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দখলে যাওয়া ক্যাম্পটি পুনরুদ্ধারে মিয়ানমার থেকে হেলিকপ্টার এসে গোলাবর্ষণ করছে ওই ক্যাম্পে থাকা আরাকান আর্মির অবস্থানের ওপর।

এছাড়াও তুমব্রু লেফট ক্যাম্প হতে ২৪ জন এ পর্যন্ত পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা বিজিপির মোট সদস্য সংখ্যা ৯৫। ওই ক্যাম্পের আরো শতাধিক সদস্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী ব্রিজের ওপারে মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটলে তারা যেকোনো সময় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে।

এছাড়াও বিজেপির ডেকুবুনিয়া ক্যাম্পটি মূলত একটি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার পর্যায়ের সামরিক অবস্থান। এর অবস্থান বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরে।

কিন্তু সীমান্ত পথে ব্যাটেলিয়ান হেডকোয়ার্টারে কোনো প্রকার লজিস্টিক সাপোর্ট পাঠানোর মতো অবস্থা মিয়ানমার সরকারের নেই। সেখানে সড়কপথে যোগাযোগের সকল রাস্তা আরাকান আর্মি বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় ডেকোবুনিয়া ক্যাম্পটি আরাকান আর্মির প্রবল আক্রমণের মুখে কতক্ষণ টিকতে পারে সেটি দেখার বিষয়।

এদিকে বাংলাদেশ সীমান্তের ২৪-২৬ পিলারের ওপাশে আতঙ্কিত শতাধিক বার্মিজ চাকমা সদস্য জড়ো হয়েছে। তারা যেকোনো সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ইতোমধ্যেই ওই এলাকায় পাহারা জোরদার করেছে। অনুপ্রবেশের সময় রোহিঙ্গা পরিবার আটক

বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলির পর এবার কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী এবং টেকনাফে হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়েছে। সোমবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় উলুবনিয়া সীমান্ত থেকে এক রোহিঙ্গা পরিবারকে আটক করেছে বিজিবি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, স্থলপথে গোলাগুলির সাথে হেলিকপ্টার থেকেও ছোঁড়া হচ্ছে গুলি। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্রোহীদের দখল করে নেয়া অঞ্চল উদ্ধার করতে হামলা চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। সীমান্তজুড়ে তীব্র গোলাগুলিতে আতঙ্কে ঘর-বাড়ি ছেড়েছে স্থানীয়রা।

এদিকে বেলা ১১টার দিকে মিয়ানমার থেকে উলুবনিয়া সীমান্ত পার হয়ে একটি রোহিঙ্গা পরিবার বাংলাদেশে ঢুকে পড়লে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে। স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও তাদের সাথে তিন শিশু রয়েছে।

হোয়াইক্যং উলুবনিয়া এলাকার জালাল আহমেদ বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিয়ানমারের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলি এবং বোমার শব্দ শুনতে পাই। ভয়ে সীমান্ত থেকে লোকজন সরে যাচ্ছে। অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

ঘুমধুম এলাকার আশরাফুল ইসলাম বলেন, গতকাল ব্যাপক গোলাগুলিতে তিনটি গ্রামের লোকজন এলাকাছাড়া হয়েছে। সকাল থেকে আবারো গোলাগুলি চলছে।


আরও খবর