Logo
শিরোনাম

সাইবার ক্রাইম আসলে কী ? যেভাবে প্রতিকার পাবেন

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ |

Image

মফিজুর রহমান, অ্যাডিশনাল সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ :

সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ কাকে বলে? তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে যে অপরাধসমূহ সংঘটিত হয় তাকে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম বলে।

প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বিশ্বের অপার জ্ঞানভাণ্ডারকে উন্মুক্ত করে দিয়ে যেমন অভাবনীয় উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করেছে তেমনি ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে নানাবিধ অপরাধ কৌশল উদ্ভাবনের ফলে 'নেটওয়ার্কভিত্তিক অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম'-এর মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায়ই ঘটা সাইবার অপরাধসমূহের মধ্যে রয়েছে আইডি হ্যাকিং, উগ্র ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য/অডিও/ভিডিও প্রচার, ফেইক অ্যাকাউন্ট তৈরি, সাইবার বুলিং বা হ্যারাসমেন্ট, প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ও গ্যাম্বলিং ইত্যাদি। তাই অনলাইনে সুরক্ষিত থাকতে হলে আমাদের সাধারণ কিছু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অনলাইনে নিরাপদ থাকার জন্য সাধারণ সতর্কতা

ব্যক্তিগত ফোন/ল্যাপটপ বা অন্য যে কোনো পাবলিক ডিভাইসে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহারের পর যথাযথভাবে লগআউট হতে হবে।

আপনার পরিচিতজনের বিপদের কথা জানিয়ে ই-মেইল অথবা মেসেজ আসলে আগে যাচাই করুন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

লটারি/মূল্য হ্রাস বা কোনো আকর্ষণীয় সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব দিয়ে কোনো লিঙ্ক প্রেরণ করা হলে সেই লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে, ই-মেইলে বা ইনবক্সে প্রেরিত কোনো অপরিচিত এ্যাটাচমেন্ট ওপেন করা যাবে না।

অপরিচিত কাউকে ফ্রেন্ডস লিস্টে এ্যাড করা যাবে না। অনলাইনে পরিচিত হওয়া কোনো ব্যক্তি কোনো স্থানে দেখা করতে চাইলে তা এড়িয়ে চলতে হবে।

নিজের ব্যবহৃত পুরোনো ফোন/ল্যাপটপ অন্য কারও ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দেওয়ার সময় নিজের সকল ব্যক্তিগত তথ্য ভালোভাবে ডিলিট করতে হবে।

সকল সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের সিকিউরিটি অপশনে থাকা প্রাইভেসি সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের এ্যাকসেস সবার কাছে দেওয়া যাবে না।

একই পাসওয়ার্ড একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের জন্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

লগ-ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন। এমনভাবে সংরক্ষণ করুন যেন অন্য কেউ সহজেই তা খুঁজে বের করতে না পারে।

অপরিচিত কারও সাথে অনলাইনে চ্যাট করা, ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা বা কোনো সম্পর্কে জড়ানো নিরাপদ নয়। ব্যক্তিগত কোনো মূহুর্তের ছবি কোনো ডিভাইসে সংরক্ষণ করা যাবে না।

সাইবার বুলিংয়ের উদ্দেশ্যে কেউ আপত্তিকর মেসেজ পাঠালে তার উত্তর না দিয়ে বা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে স্ক্রিনশট নিতে হবে এবং পুলিশের সহযোগিতা চাইতে হবে।

“Google Yourself" গুগলে নিজের নাম সার্চ দিয়ে দেখতে হবে আপত্তিকরভাবে কোথাও নিজের নাম বা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে কি না।

কোনো একাউন্ট থেকে বিব্রতকর ছবি বা মেসেজ পাঠানো হলে সে একাউন্ট ব্লক করে দিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে বা অন্যের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

সঠিকভাবে যাচাই না করে কোনো ধরনের গুজব বা মিথ্যা তথ্য শেয়ার করা যাবে না।

ব্যবহার্য সকল ডিভাইসে ভালো মানের এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিনিয়ত bank statement লক্ষ্য করবেন, যদি আপনি লক্ষ্য করেন কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত transaction হচ্ছে অতিসত্বর ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান।

আপনি যে বিষয় সম্পর্কে জানেন না অর্থাৎ অজানা উৎস থেকে কিছু ডাউনলোড করবেন না।

প্রতিনিয়ত আপনার সফটওয়্যার আপডেট রাখুন।

কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রবেশের আগে আপনি বৈধ ওয়েবসাইটে রয়েছেন কি না তা পরীক্ষা করে দেখুন।

ভিপিএন ব্যতীত এনক্রিপ্ট না করা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করবেন না।

পর্ন সাইটগুলোতে এমন ভাইরাস রয়েছে যা আপনার ফোন / কম্পিউটারে হ্যাক করতে পারে এবং আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল তথ্যে অ্যাক্সেস পেতে পারে। তাই এই সাইটগুলোতে যাওয়া খুবই তথ্য সম্পর্কিত ঝুঁকি থাকে।

আপনার মোবাইল নম্বর সামাজিক মিডিয়া বা সন্দেহজনক বা অজানা ওয়েবসাইটগুলোতে শেয়ার করবেন না।

ফোন থেকে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ডিলিট করে ফেলুন।

আপনার ডিভাইসটি বিক্রি করার আগে আপনার সংবেদনশীল অ্যাপ্লিকেশনগুলো এবং ফোনটিকে ফরম্যাট করে নিন।

ফেসবুক একাউন্টের নিরাপত্তা বিধানে করণীয়

সহজে অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য যেমন: জন্ম তারিখ, নিজের নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ইত্যাদি পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

Capital letter, small letter, number & symbol মিলিয়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। পাসওয়ার্ডকে অনেকটা টুথব্রাশের মতো ব্যবহার করতে হবে- আমরা যেমন একটি ভালো টুথব্রাশ বেছে নেই, কারও সাথে তা শেয়ার করি না এবং অন্তত তিন মাস পর পর তা পরিবর্তন করি, ঠিক একইভাবে পাসওয়ার্ড কারও সাথে শেয়ার করা যাবে না এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা পরিবর্তন করতে হবে।

Two factor authentication অপশন চালু রাখতে হবে (ফেসবুকের সেটিংস থেকে Security & login > use two-factor authentication এ গিয়ে মোবাইল নম্বর কিংবা ই-মেইল যুক্ত করতে হবে) অন্য কেউ লগইন করতে চাইলেও এই ই-মেইলে বা মোবাইল নম্বরে আসা কোড জানতে পারবে না বিধায় সুরক্ষিত থাকা যাবে।

জন্ম তারিখ, ফোন নম্বরসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত রাখা যাবে না। এতে বিভিন্ন রকমের হয়রানি ও প্রতারণা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সহজ হবে।

ফেসবুকের ক্ষেত্রে Trusted Contact-এ ৩ থেকে ৫ জন বিশ্বস্ত ফেসবুক বন্ধুকে যুক্ত রাখতে হবে। এর ফলে আইডি হ্যাক হয়ে গেলেও তা উদ্ধার করা সহজ হবে।

ফেসবুকের Privacy Settings অপশনটি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রোফাইল লক করে রাখতে হবে।

স্ট্যাটাস বা ব্যক্তিগত ছবি প্রাইভেসি নিশ্চিত করে শেয়ার করতে হবে। ফেসবুকে নিজের জীবনাচরণ যত বেশি উন্মুক্ত হবে তত বেশি ঝুঁকি থাকবে।

ফেসবুক একাউন্ট খোলার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাম ও জন্ম তারিখ ব্যবহার করতে হবে। এতে আইডি হ্যাক হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে।

অপরিচিত কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট না করা উত্তম। অথবা একসেপ্ট করার পূর্বে যাচাই করা বা সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ।

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হলে করণীয়

প্রথমেই http://www.facebook.com/hacked লিঙ্কে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর “Someone else got into my account without my permission”- এ ক্লিক করতে হবে। হ্যাক হওয়া একাউন্টটির তথ্য চাওয়া হলে সেখানে উল্লেখ করা ২টি অপশনের (ই-মেইল বা ফোন নম্বর) যে কোনো একটির ইনফরমেশন দিতে হবে।

এরপর “My account is compromised” এ ক্লিক করতে হবে। হ্যাক হওয়া একাউন্টটির তথ্য চাওয়া হলে সেখানে উল্লেখ করা ২টি অপশনের (ই-মেইল বা ফোন নম্বর) যে কোনো একটির ইনফরমেশন দিতে হবে।

প্রদত্ত তথ্য সঠিক হলে প্রকৃত একাউন্টটিই দেখাবে এবং বর্তমান অথবা পুরাতন পাসওয়ার্ড চাইবে; এখানে পুরাতন পাসওয়ার্ডটি দিয়ে “Continue” করতে হবে।

হ্যাকার যদি ই-মেইল এ্যাড্রেস পরিবর্তন করে না থাকে তাহলে আগের ই-মেইলে রিকভারি অপশন পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে হ্যাকড ফেসবুক একাউন্ট উদ্ধার করা সম্ভব।

হ্যাকার যদি ই-মেইল এ্যাড্রেস, ফোন নম্বরসহ লগইনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পরিবর্তন করে থাকে তাহলে, Need another way to authenticate? > Submit a request to Facebook এ ক্লিক করলে ফেসবুক প্রোফাইলটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও আইডি সরবরাহের ফর্ম পূরণের মাধ্যমে হ্যাকড ফেসবুক এ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা সম্ভব।

গোপনীয় বা ব্যক্তিগত কন্টেন্ট ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হলে করণীয়

কারও কোনো গোপনীয় বা ব্যক্তিগত কন্টেন্ট ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। এক্ষেত্রে যা করণীয়:

যে পোস্টের মাধ্যমে গোপনীয় বা ব্যক্তিগত কন্টেন্ট ফেসবুকে শেয়ার করা হয়েছে সে পোস্টের ডানদিকে রিপোর্ট করার অপশনে গিয়ে Find support or report post এ ক্লিক করতে হবে।

অপশনে থাকা বিভিন্ন ইস্যু যেমন - Fake news, violence, harassment ইত্যাদির মধ্য থেকে উপযুক্ত বিষয়টি নির্বাচন করতে হবে।

ভুক্তভোগী নিজে কিংবা তাঁর ফেসবুক বন্ধুরা Me/My friends থেকে উপযুক্ত অপশনটি নির্বাচন করে মিথ্যা বা মানহানিকর পোস্টটির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট পোস্টটির সম্পূর্ণ লিঙ্কসহ স্ক্রিনশট নিয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে যা পরবর্তীতে যেকোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে।

গোপনীয় বা ব্যক্তিগত কনটেন্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে হয়রানি কিংবা বিড়ম্বনার শিকার হলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ থানা পুলিশকে অবহিত করতে হবে এবং পুলিশের কোনো সাইবার ইউনিটকে অবহিত করতে হবে।

সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে প্রাথমিকভাবে থানায় অভিযোগ করা যেতে পারে; অথবা আইনজীবীর সহায়তা নিয়ে সরাসরি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা যেতে পারে। (দেশের একমাত্র সাইবার ট্রাইব্যুনাল ঢাকায়)। পাশাপাশি নিম্নবর্ণিত যে কোনো হেল্প ডেস্কের সহযোগিতা নেওয়া যাবে:

১। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, ৩৬, মিন্টো রোড, রমনা, ঢাকা। হেল্পডেস্ক নম্বর: ০১৭৬৯৬৯১৫২২। ই-মেইল: [email protected]

২। সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডি, ফোন: ০১৩২০০১০১৪৮ ই-মেইল: https://cid.gov.bd/

৩। ফেসবুক পেইজ-পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (পিসিএসডব্লিউ)। ফোন নম্বর: ০১৩২০০০০৮৮৮ ই-মেইল: [email protected]

৪। হ্যালো সিটি এ্যাপস (ডাউনলোড ফ্রম গুগল প্লে স্টোর)

৫। রিপোর্ট টু র‍্যাব এ্যাপস (ডাউনলোড ফ্রম গুগল প্লে স্টোর)

৬। পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন যেতে পারে

৭। এছাড়াও নিম্নোক্ত পেইজে সংযুক্ত থাকা যেতে পারে-

facebook.com/cyberctdmp, facebook.com/dmpdhaka, facebook.com/cpccidbdpolice



আরও খবর



তিন মাস ধরে দুবাইয়ের হিমঘরে পরে আছে রাণীনগরের মিন্টুর মরদেহ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ |

Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ)  :

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার এনায়েতপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত্যু জামাল জোয়ারদারের ছেলে মিন্টু হোসেন। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে আর দশজনের মতো পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে থাকার আসায় তিন বছর আগে দুবাই পারি জমান তিনি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সেখানে হাসপাতালের হিম ঘরে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে পরে রয়েছে মরদেহ। কিন্তু অর্থ সংকটের কারনে মিন্টুর মরদেহ দেশে ফেরাতে পারছেননা স্বজনরা। ফলে একদিকে স্বজন হারানোর শোক অন্যদিকে অর্থাভাবে মরদেহ আনতে পারার বেদনা পরিবারকে যেন ঘোর হতাশার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

মিন্টুর মামা আব্দুল মতিন জানান,মিন্টুর স্ত্রী-দুই মেয়ে নিয়ে সংসার ছিল। মাথাগোঁজার ঠাই ছাড়া আর কোন সম্পদ নেই তার। শ্রমীকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো মিন্টু। এরই মধ্যে স্বপ্ন জাগে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাল চলার। গত ২০২১সালে ধার-দেনা করে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ করে দুবাই যান মিন্টু। সেখানে যে কোম্পানীর ভিসায় গিয়েছিলেন সেই কোম্পানীতে কাজ না থাকায় অন্যত্র চলে যান মিন্টু। কিন্তু কোম্পানীর লোকজন পাসপোর্ট আটকে দেয়ায় অবৈধ হয়ে পরেন। তার পর থেকে অনেক চেষ্টা করেও পাসপোর্ট-ভিসা হাতে পাননি। ফলে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করলেও সুষ্ঠু বেতন পায়নি। এরই মধ্যে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরলে দুবাইয়ের আজমানস্থ খলিফা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ফেব্রæয়ারী মারা যান মিন্টু। এর পর মৃত্যুর খবর এপর্যন্ত পরিবারের লোকজন জানতে না পারলেও গত ১০মে এক স্বজনের মাধ্যমে মিন্টুর মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার। এর পর থেকে তার মরদেহ দেশে ফেরাতে নানা চেষ্টা করছেন পরিবারের লোকজন। আব্দুল মতিন জানান, কোম্পানীর আওতায় থাকলে কোম্পানীর খরচে তার মরদেহ দেশে আসতো। কিন্তু অবৈধ থাকার কারনে নিজ খরচে মরদেহ দেশে আনতে হচ্ছে। এতে প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যায় হবে। যা পরিবারের পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই মিন্টুর মরদেহ দেশে ফেরাতে সমাজের বিত্তবানদের নিকট আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। নগদ একাউন্ট নাম্বার- ০১৭৩৫ ১৯১৭৭৩(স্ত্রী),বিকাশ একাউন্ট নাম্বার-০১৭৮৩ ৮৪০৭৪৪(মামা)।


আরও খবর



আরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ৩০ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ |

Image

বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তুমুল সংঘাত চলছে দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর। শিগগিরই দেশটিতে চলমান এ গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপার থেকে আরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলেও।

জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী মে মাসেই মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে টেকনাফে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যদের অনুপ্রবেশের ঘটনাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার সীমান্তে যুদ্ধাবস্থার কারণে সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য হয়েছে। ফলে সন্ত্রাসী দল বা গোষ্ঠী আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যবহার করতে পারে। মিয়ানমারের পাশাপাশি আরাকান আর্মি বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলেও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে। সেইসঙ্গে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান পণ্যের সরবরাহ আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোটের সঙ্গে দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর লড়াই চলছে বেশ কয়েক মাস ধরে। আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াইয়ে পর্যুদস্ত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও বিজিপির পাঁচ শতাধিক সদস্য। এর মধ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩৩০ জন সেনা ও বিজিপি সদস্যকে জাহাজে করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর সবশেষ গত ২৫ এপ্রিল নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের ২৮৮ সেনা ও বিজিপি সদস্যকে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মোট ৯ লাখ ৯ হাজার ২০৭ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালি বর্ধিত ক্যাম্পে রয়েছে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ জন। অন্যান্য ক্যাম্পে রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩৪ জন রোহিঙ্গা। এর বাইরে ৬ হাজার ৮২৭ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে হোস্ট কমিউনিটি তথা কক্সবাজারের স্থানীয় বাংলাদেশি সমাজের সঙ্গে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংসদীয় কমিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনীকে আরও সচেতন ও সতর্ক থেকে কাজ করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া মাদক নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কঠোরভাবে কিশোর গ্যাং দমন করার সুপারিশ করেছে কমিটি।


আরও খবর



রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুড়ে গেছে ৫ শতাধিক ঘর

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ |

Image

কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী ১৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী। এতে প্রায় ৫ শতাধিক শেড পুড়ে গেছে দাবি করলেও উপজেলা প্রশাসন বলছে, আগুন নিয়ন্ত্রণের পর তারা ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। বিকেলের দিকে জানা যাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।

শুক্রবার (২৪ মে) বেলা ১১ টার পর থাইংখালী ১৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি অফিস থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে পৌনে ১ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে একাধিক টিম কাজ করে।

রোহিঙ্গারা জানান, একটি অফিস থেকে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া দেখা যায়। এরপর মুহূর্তর মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে মানুষের প্রাণহানি না ঘটলে রোহিঙ্গাদের সহায় সম্বল পুড়ে গেছে। শুধু রোহিঙ্গাদের ঘর নয়, বেশকিছু দোকানপাটও পুড়ে গেছে।

উখিয়া উপজেলা ইউএনও তানভীর হোসেন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে কাজ চলছে। তবে কোন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।


আরও খবর



বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন জায়েদ খান

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ |

Image



বিনোদন ডেস্ক:


ঢাকাই সিনেমার আলোচিত-সমালোচিত নায়ক জায়েদ খান। বিভিন্ন সময় নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। 


এই তারকার বিয়ে নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ভক্তদের। বেশ কয়েকবারই তিনি জানিয়ছেন, অসংখ্য নারী ভক্ত নাকি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।


সম্প্রতি বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে জায়েদের। তবে তার বিয়ের খবর সত্যি হলে মন ভাঙবে অনেক নারীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জায়েদের বিয়ের খবরটি জানিয়েছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। আর এতেই শোরগোল নেটদুনিয়ায়।


ফেসবুকে জায়েদের সঙ্গে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন জয়। ক্যাপশনে অভিনেতা লিখেছেন, অসাধারণ পরিবর্তন। মুগ্ধ আমি। জায়েদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে।


ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে জায়েদের বিয়ের খবর। এরপরই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন অনেকেই। কারও মতে, প্রবাসী এক নারীকে বিয়ে করেছেন। 


আবার কারও মতে, এক চিত্রনায়িকাই হয়েছেন তার ঘরনি। অনেকেই আবার বিষয়টিকে ‘মজা’ হিসেবে নিয়েছেন।


বিয়ষটির সত্যতা জানতে চাইলে জায়েদ বলেন, ধুর! ফাঁকা আওয়াজ। বিয়ে করিনি। আর বিয়ে করলে সেটা আপনারা অবশ্যই জানতেন। জয় ভাই, মজা করেই সেই স্ট্যাটাস দিয়েছে। তার কাজই আলোচনায় থাকা।


প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন জায়েদ। অংশ নিচ্ছেন স্টেজ পারফরম্যান্সে। মে মাসের শেষ সপ্তাহেই লন্ডনে শো আছে তার।


 এ ছাড়া ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার করা একটি বিজ্ঞাপনও রয়েছে বেশ আলোচনায়।


আরও খবর



শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এতিমখানায় খাবার দেবে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ |

Image

ডিজিটাল ডেস্কঃ


আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ১৭ মে (শুক্রবার) দেশের বিভিন্ন এতিমখানায় খাবার বিতরণ করবে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি। 



বুধবার (১৫ মে) আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুর ১টায় তেজগাঁও ‘রহমতে আলম ইসলাম মিশন এতিমখানা’য় সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে সুষম খাবার বিতরণ করা হবে। 


এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।



এছাড়াও ওইদিন রাজধানী ঢাকায় আজিমপুর সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা, মোহাম্মদপুর সলিমুল্লাহ রোডস্থ এতিমখানা, সোবহানবাগ মসজিদ সংলগ্ন এতিমখানা, বাড্ডা বেরাইদ রহিম উল্লাহ এতিমখানায় এতিম অসহায়দের মাঝে খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। 



একই সঙ্গে সিলেট হযরত শাহজালালের (র.) মাজার সংলগ্ন এতিমখানা এবং চট্টগ্রাম হযরত শাহ আমানতের (রহ) মাজার সংলগ্ন এতিমখানা ও গরীব উল্লাহ শাহের (রহ) মাজার সংলগ্ন এতিমখানাতেও খাবার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।


এছাড়াও ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্যদের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে অবস্থিত এতিমখানাগুলোতে সুষম খাবার পরিবেশন করা হবে।



পরের দিন শনিবার (১৮ মে) দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের কদম মোবারক এতিমখানায় সুষম খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।


আরও খবর